দোহারে নতুন ইউএনও হিসেবে আসছে ফিরোজ মাহমুদ

ঢাকার দোহারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করছেন ফিরোজ মাহমুদ নাঈম। বর্তমান দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবার গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(এডিসি) হিসেবে পদোন্নতি হয়েছে।

তাই নতুন করে দোহারের দায়িত্ব নিতে আসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফিরোজ আহমেদ নাঈম। তিনি ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এপ্লাইড ম্যাথমেটিক্স এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১২ সালে তিনি অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৩ সালে ৩১ তম বিসিএস এ উত্তীর্ণ হন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ২০১৯ সালের এপ্রিল তিনি মানিকগঞ্জের শিবালয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

সর্বশেষ গত ৪ জুন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের স্বাক্ষরিত অনুলিপিতে তাকে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের আদেশ জারি করা হয়।

আফরোজা আক্তার রিবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা। যিনি দীর্ঘ সময় দোহার উপজেলার একজন নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে  আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন অষ্টগ্রামের আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের কলিমপুর গ্রামের সেই আফরোজা আক্তার রিবা।

গত বৃহস্পতিবার (জুন ৪) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। আফরোজা আক্তার রিবা এর আগে ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হয়েছেন।

২০১৮ সালের ৫ই মার্চ দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। দোহার উপজেলায় প্রথম কোনো নারী কর্মকর্তা হিসেবে এই পদে যোগদান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আফরোজা আক্তার রিবা ২০০০ সালে এসএসসি ও ২০০২ সালে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ২৯তম বিসিএস-এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। দোহারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি ভূমি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনে সহকারি কমিশনার সহ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে উপজেলা প্রশাসনিক চিত্র পাল্টে যেতে থাকে। প্রশাসনের সুষ্ঠ তত্ত্বাবধান ও উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছেন তিনি।

তিনি যোগদানের পর, ইউএনও মেধাবৃত্তি, শেখ রাসেল প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ড ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু করেন। বাল্যবিয়ে বন্ধ, মেয়েদের যৌন নির্যাতন বন্ধ, মাদকসেবীদের ভ্রাম্যমাণ দণ্ড ও সর্বশেষ করোনা সংকটকালে দোহারকে একজন মায়ের মত আগলে রেখেছ উপজেলাবাসীর মন জয় করে নিয়েছেন তিনি।

বিশেষ করে ইলিশ সংরক্ষণে নিয়মিত নদীতে টহল, জেলেদের বিভিন্ন দন্ড ও মাছ শিকারী সিন্ডিকেট উৎখাতে তিনি অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন।

নদীভাঙন পরিবারের পাশেও ছিলেন তিনি। আশ্রায়ন প্রকল্পে নিয়মিত সহায়তা, বস্ত্র বিতরণসহ শিক্ষাক্ষেত্রে নানা পদক্ষেপেও তার ভূমিকা অপরিসীম।

নবাবগঞ্জে বিয়ে পড়িয়ে দেয়ার কথা বলে গণধর্ষণ

আল আমিন ডিশ লাইনম্যান। নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের সেলিম খানের ছেলে। কাজ করে ডিশ ব্যবসায়ির কর্মচারী হিসেবে। নবাবগঞ্জ উপজেলার গরীবপুর গ্রামের কাউসারের বাসায় ভাড়া থাকে সে। এলাকায় ডিশের কাজ করার কারণে পরিচয় হয় শিকারীপাড়া ইউনিয়নের পাঞ্জিপহরী গ্রামের চানু মিয়ার মেয়ের সাথে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে। ভূক্তভোগী মেয়েটির পরিবার ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা যায়, মেয়ের থেকে বার বার বিয়ের কথা বললে, আল-আমিন  অস্বীকার করে। জানা যায়, ভুক্তভোগী মেয়েটি সঠিক বিচারের প্রত্যাশায় শিকারী পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলিমোর রহমান খান পিয়ারাকে অবহিত করেন বলে জানা যায়।

ইতঃমধ্যে বিষয়টি শিকারীপাড়া ইউনিয়নের হাগ্রাদী গ্রামের মৃত কালাম মোল্লার ছেলে রফিক মোল্লা (৫০) বিষয়টি সম্পর্কে জানারপর ভূক্তভোগী মেয়েটিকে বিয়ে করিয়ে দেয়া ও বিচার পাইয়ে দেবার আশ্বাস দেয় বলে জানান তার স্বজনেরা। এদিকে রফিক মোল্লা তার সাথে একই গ্রামের কাজী লুৎফর রহমানের ছেলে কাজী আলীম(৩৮)ও গরীবপুর গ্রামের আইজুদ্দিনকে (৫০) সাথে নিয়ে হাগ্রাদী গ্রামের মৃত কাজী সফিউদ্দিনের বাড়িতে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি রুম ভাড়া করে। সেখানে তারা তিনজন মিলে কথা বলার কথা বলে ভুক্তভোগী মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। কয়েকদিন পর ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে পড়লে এলাকায় হৈচৈ পড়ে যায়। রফিক মোল্লাও ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তোরজোড় শুরু করে।

এই ব্যাপারে শিকারীপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি  মোজাম্মেল হক টিপু নিউজ৩৯কে বলেন, শিকারীপাড়া ইউনিয়নে এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। চেয়ারম্যানের প্রশ্রয়ে এই ধরনের ঘটনা এর আগেও দুই তিনবার ঘটেছে এবং তিনি কোন ব্যবস্থা না নিয়েই এদের ছাড়িয়ে এনেছেন। ডিশ কর্মচারী আল আমিন, হাগ্রাদী গ্রামের রফিক মোল্লা, কাজী আলিম ও আইজুদ্দিন এরা এই ধরনের অপকর্ম আগেও অনেক করেছে কিন্তু প্রতিবারই চেয়ারম্যান আলীমোর রহমান পিয়ারা এদের ছাড়িয়ে এনে রক্ষা করেছে।

তিনি আরও বলেন, এরআগে রফিক মোল্লাকে মেয়েঘটিত কেলেঙ্কারীতে হাতে নাতে ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বাদল মিয়া তাকে পুলিশে দেয় । কিন্তু চেয়ারম্যান নিজে বারুয়াখালী তদন্ত কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। তাছাড়া ডিসের কর্মচারী আল আমিন এর আগেও এই ধরনের ঘটনার সাথে যুক্ত ছিল। আমার এলাকা থেকে এসব কারণে আমি আল-আমিনকে বিতারিত করি। পরবর্তীতে পান্জিপূহরী এলাকায় আশ্রয় নেয়। আর রফিক মোল্লা, কাজী আলিম ও আইজুদ্দিন এরা তো চেয়ারম্যানের কাছের লোক। আর এরা যেখানে আছে সেখানে চেয়ারম্যান কিছুই জানবে না সেটা তো হতে পারে না।

এই ব্যাপারে শিকারীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলিমোর রহমান পিয়ারা নিউজ৩৯কে বলেন, তিনি এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তার কাছে বিচার চাইতে কেউ আসেননি এবং তিনিও কাউকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিকারীপাড়া ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, ঘটনাটা শিকারীপাড়ার সবাই জানে কিন্তু ভয়ে কিছু প্রকাশ করতে চায় না।

সরেজমিনে অনেকের সাথে কথা হলে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে রফিক মোল্লার ব্যাপারে বলেন, রফিক মোল্লার এমন ঘটনা নতুন কোন বিষয় নয়। গত আট বছর আগে গ্রামের একজনের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। গত বছর একই গ্রামের আব্দুল হাই এর বাড়িতে তার অনুপস্থিতিতে রাতে স্ত্রীর সাথে কু-বাসনা নিয়ে গেলে হাঠাৎ সে বাসায় আসলে ধরা পরে যায় এবং ব্যাপক মারধর করে পুলিশ সোপর্দ করে। একদিন বারুয়াখালী তদন্ত কেন্দ্রে আটক অবস্থায় থাকে। শেষে শিকারীপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাকে তদন্ত কেন্দ্র থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে বলে জানা যায়। গত ১৫ দিন পূ্র্বে একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের সাথে তার স্ত্রীর ঝগড়া হয় এবং মারধর করার কারণে স্ত্রীর সাথে কথা বলে মিমাংসা করে দেয়ার কথা বলে এক রাত তার সাথে যাপন করে।

গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলে, সে যে চেয়ারম্যানের খাস লোক, তাই সে যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে। কেউ কিছুই বলতে সাহস পায় না। এমন কোন খারাপ কাজ নেই যা সে করছে না। এই ঘটনাটি পরে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা বাদল মিয়া জানতে পারলে তিনি মেয়ের পক্ষে বিচার প্রার্থী হন। এদিকে চেয়ারম্যান বিচার বিলম্ব করার জন্য চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অনেকের দাবি রফিক মোল্লার কারণে এলাকার বদনাম হয়ে যাচ্ছে। সকলেই তার শাস্তি দাবি করছেন।

নিজ বাসায় কোয়ারেণ্টাইনে আছেন নবাবগঞ্জের সন্তান স্বাস্থ্য সচিব আলি নুর

নিজ বাসাতেই কোয়ারেন্টাইনে আছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর। কদিন আগে আক্রান্ত হয়েছিলেন জ্বর-সর্দিতে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের উপসর্গের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় পরীক্ষাও করেছেন। ফলাফল এসেছে কোভিড-১৯ নেগেটিভ। তবে তিনি নিজে আক্রান্ত না হলেও পরিবারের এক সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাই সতর্কতার জন্য কোয়ারেন্টাইন মানছেন তিনি।

ঢাকা টাইমসের সঙ্গে আলাপে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা সচিব মো. আলী নূর বলেন, ‘আমি অসুস্থ আছি। কিন্তু করোনা আক্রান্ত নই। এমনিতেই ঠাণ্ডা-জ্বর। বাসাতেই আছি। কোয়ারেন্টাইনে আছি। কারণ আমার পরিবারের একজন সদস্য আক্রান্ত। ভয়ের কোনো কারণ নেই। তিনিও ভালো হয়ে উঠছেন।’

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই জানিয়ে সরকারের এই সচিব বলেন, ‘আমাদের সকলেরই সচেতন থাকা উচিত। আমার কারণে কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব হিসেবে যোগদেন মো. আলী নূর। এর আগে তিনি সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৯৮৬ (অষ্টম) ব্যাচের একজন কর্মকর্তা।

১৯৮৯ সালে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি সহকারী কমিশনার, এনডিসি (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর), আরডিসি (রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর), উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (নন-ক্যাডার), মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি-এর পরিচালক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মো. আলী নূর ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই মেয়ের বাবা।

তরুনদের ভাবনাঃ সচেতনতা ও করোনার সাথে মানিয়ে নেয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই

কভিড-১৯ এর ইতিহাস কয়েকমাস এর হলেও এই ভাইরাস এর তথ্য এখন পৃথিবীর কারও- ই অজানা নয়। বর্তমানে এর ব্যাপক ভয়াবহতা থাকলেও একজন তরুন হিসেবে এই কভিড-১৯ কে আমি ভয়ানক কিছু মনে করছি না। আসলে আমরা নিজেরাই এটাকে দিন দিন ভয়ানক করে তুলছি। কেননা বাংলাদেশে মৃত্যুর ১.৩৫%(প্রায়), অর্থাৎ ১০০ তে ১জন+ মারা যাচ্ছে তবুও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত কারন সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাই করোনায় বেশি মারা যাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দোহার-নবাবগঞ্জ করোনা কূপে পরিণত হচ্ছে। প্রশাসন তাদের রুটিন ডিউটি পালন করছে ঠিকই কিন্তু স্থানীয় অঞ্চলের মানুষ কিন্তু স্বাস্থ্য বিধি মেনে কেউই চলাফেরা করছে না। লকডাউন তুলে দেওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতে নিজেরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখাই একমাত্র উপায় বলে মনে করছি। পরিবার, সমাজ ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতন অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নিজেদের পরিবার, সমাজ ও এলাকা সুরক্ষায় কাজ করবে। বাড়ি থেকে বের হতে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি স্বচ্ছল ব্যক্তিরা সীমিত আয়ের পরিবারের পাশে থাকবে।

দোহার-নবাবগঞ্জ- কেরানীগঞ্জ এর কথাই যদি বলি, এই অঞ্চলে রুটিন অনুযায়ী সরকারি টেলিভিশন থেকে শ্রেনীর পাঠে অংশ নেওয়ার মানসিকতা খুবই কম, নিজে যতটুকু প্রত্যক্ষ করেছি এই সময়টাতে স্কুলের বাচ্চারা অবকাশ যাবন করছে। টেলিভিশন/ইউটিউব, খেলাধুলা খাওয়া আর ঘুমই যেন তাদের নিত্যনৈমিত্তিক রুটিন হয়ে দাড়িয়েছে। আর এতে করে বাচ্চাদের পড়াশুনা করার মানসিকতাও দিন দিন লোপ পাচ্ছে। এ ক্ষেত্র আমার আহ্বান হলো বর্তমানে পাবলিক বাস এ যেমন প্রতি দুজনের আসনে একজন যাত্রী বসে চলাচল করছে তেমন শর্তে স্কুল গুলো খুলে দেওয়া যেতে পারে, শিক্ষার্থীরা মুখে মাস্ক ব্যবহার করে স্কুলে আসবে, সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে শ্রেনীকক্ষে প্রবেশ করে প্রতি বেঞ্চ এ একজন বা দূরত্ব বজায় রেখে সর্বোচ্চ দুজন বসে পাঠ গ্রহন করবে। শিক্ষক ও অভিভাবকরা এক্ষেত্রে বাচ্চাদের গাইড করতে পারে।

পরিশেষে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে নিউজ৩৯ এর মাধ্যমে শেয়ার করতে চাই, বাংলাদেশের জনসংখ্যার হিসেবে করোনা সনাক্তকরন এর পরীক্ষা খুবই কম। দোহার-নবাবগঞ্জ এ দেখেছি নমুনা পাঠানোর পরেও কারও রিপোর্ট পেতে ১৭দিন পর্যন্ত সময় লেগেছে। এবং করোনা সনাক্তও হয়েছে কিন্তু তত দিন এ সে ব্যক্তি হয়তো অনেককেই সংক্রমিত করে ফেলেছে। লকডাউন খুলে দেওয়ার পর আমি দোহার-নবাবগঞ্জ এর বাইরে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দেখেছি অনেক সচেতন তরুনরা আছে যাদের নিজেদের শরীরে জ্বর,গলাব্যাথা, পাতলা পায়খানা অথবা করোনার সামান্য কোন লক্ষন অনুভব করা মাত্রই তারা তাদের কর্মস্থল ত্যাগ করে সেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাই এ যাচ্ছে, এবং একাকী থাকছে। নাপা বা প্যানাসিটামল সেবন করছে, গরম পানির সাথে লেবু, লবঙ্গ, দারুচিনির মিশ্রন বা রং চা বানিয়ে বার বার সেবন করছে। এবং অনেকেই ভাল ফলাফল পাচ্ছে। আমি চাকুরীসূত্রে কয়েকদিন পূর্বে নোয়াখালী এসেছি, করোনার কোন উপসর্গ না থাকলেও এখানে পৌছে কর্মস্থল এ যোগদান না করে কিছুদের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইন এ আছি। তাই আমি মনে করি কোন এলাকায় প্রবেশ করলে বা নিজেদের মধ্যে করোনার কোন উপসর্গ অনুভব করলে সেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইন এ থাকার প্র্যাকটিসটা তৈরি করা খুব বেশি জরুরী। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের সুরক্ষায় নিজেদেরই দায়িত্ব নেওয়া ছাড়া বিকল্প কোন পন্থা আমার চোখে পরছে না।

ধন্যবাদ-

কাজী জিয়াদ

ট্রেইনি এ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার

আইএফআইসি ব্যাংক।

নবাবগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৫৮

নবাবগঞ্জে নতুন করে ৬ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ব্যাক্তিরা নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী, বান্দুরা, কলাকোপা, কৈলাইল ও চুরাইন ইউনিয়নের বাসিন্দা। ৩০ মে পাঠানো ৬১ জনের নমুনার মাঝে এই ৬ জনকে শনাক্ত করা হয়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডা হরগোবিন্দ সরকার অনুপ নিউজ৩৯কে জানান ৩০ মে নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ৬১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়।  এই ৩১ জনের মাঝে ৬ জনের করোনা পজেটিভ রেজাল্ট এসেছে। নতুন করে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহ বিভিন্ন বিষয়ে ক্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিজ বাড়িতেই আইসোলেশনে রাখা হবে।

দোহারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা শতক ছাড়ালো

ঢাকা জেলার প্রবাসী অধ্যুষিত দোহার উপজেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা শতক ছাড়িয়েছে। নতুন করে ১৩ জন আক্রান্ত হওয়ায় এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১০৪ জন।

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা জসিমউদ্দিন নিউজ৩৯কে জানান ১ জুন ৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়।  এই ৩০ জনের মাঝে ১৩ জনের করোনা পজেটিভ রেজাল্ট এসেছে। নতুন করে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহ বিভিন্ন বিষয়ে ক্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিজ বাড়িতেই আইসোলেশনে রাখা হবে। আক্রান্তরা দক্ষিন শিমুলিয়া, মুকসুদপুর, ঝনকি ও জয়পাড়ার বাসিন্দা।

উল্লেখ্য যে, দোহার উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হওয়া ১০৪ জনের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন। সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন ৩২ জন। মৃত্যুবরণ করা দুইজনের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী।

মৃতদেহ থেকে করোনা ছড়ায় নাঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

মৃতদেহ থেকে করোনা ছড়ায় না বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তারা বলেছে যে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার তিন ঘণ্টা পর ওই মৃতদেহে আর ভাইরাসটির কোন কার্যকারিতা থাকে না। ফলে মৃতদেহ থেকে এই ভাইরাস ছড়ানোর কোন আশঙ্কা নেই বলে জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, “মৃতদেহ দাফন বা সৎকার করতে তিন চার ঘণ্টা সময় লেগেই যায়। তিন ঘণ্টা পরে আর মৃতদেহে এই ভাইরাসের কার্যকারিতা থাকে না।”

ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী মৃতদেহের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বডি ব্যাগ বা সেটা না পাওয়া গেলে পলিথিনে মুড়ে স্থানান্তর করা যায়। মৃতদেহ দাফন বা শেষকৃত্যের জন্য নির্ধারিত কবরস্থান বা পারিবারিকভাবে নির্ধারিত স্থানে দাফন ও শেষকৃত্য করা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, সংস্থাটি বলেছে যে, এখনো পর্যন্ত এটা প্রমাণিত হয়নি যে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির দেহ থেকে সুস্থ কোন ব্যক্তির মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়ায়।

নবাবগঞ্জে মসজিদের ঈমামরা পেল সরকারি প্রণোদনা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় মসজিদের ঈমামদের মাঝে সরকারি প্রণোদনা বিতরণ করা হয়। উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের ৪০৭ টি মসজিদের ঈমামের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে প্রণোদনা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

গত ২জুন নবাবগঞ্জ  উপজেলার আব্দুল ওয়াসেক মিলনায়তনে ১০৫ জন ঈমামের মাঝে প্রণোদনা উপহার হিসেবে নগদ ৫ হাজার করে টাকা বিতরণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের আরো ৩০২ টি মসজিদের ঈমামের মাঝে এই উপহার প্রদান করা হবে ।

 করোনা সংকটকালে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এই প্রণোদনা দেওয়া হয়।

প্রণোদনা উপহার পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান মসজিদের ঈমামগণ।

করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু; পাভেলের নেতৃত্বে রাতে দাফন

করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নয়নশ্রী ইউনিয়নে ব্রেন স্টোক করে এক ব্যক্তি মৃত্যুবরন করে। ওই ব্যক্তির মধ্যে করোনা উপসর্গ থাকায় লাশের কাছে যায়নি কেউ। মৃত ব্যক্তির মধ্যে করোনার উপসর্গ ছিল বলে জানায় তার পরিবার। এমনকি করোনার ভয়ে পরিবার ও বংশের কেউ কাছে আসেনি বলে জানা যায়।

করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু

 

গতকাল(৩জুন) নবাবগঞ্জে উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের ঐ ব্যক্তি মারা যান। করোনার ভয়ে লাশ দাফনে কেউ এগিয়ে না আসায় এগিয়ে আসেন নবাবগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তাবির হোসেন খান পাভেল। তার নেতৃত্বে দলের বাকি সদস্যদের নিয়ে রাত ১২ টার দিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন কার্য সম্পন্ন করেন তিনি।

তাবির হোসেন খান পাভেলের নেতৃত্বে এই নিয়ে নবাবগঞ্জ  টিমের পঞ্চম জানাজা সম্পন্ন হল।