নবাবগঞ্জে নমুন সংগ্রহে দুই টিমের কাজ করছে এক টিমঃ ডা হরগোবিন্দ

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহে দুই টিমের কাজ একাই করছে এক টিম। নবাবগঞ্জে করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহে দুই টিম এক সাথে কাজ শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে নমুনা সংগ্রহাকারী টিমের এক সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে আইসোলেশনে পাঠানো হয় সেই টিমের সদস্যদের। ফলে একটি মাত্র নমুনা সংগ্রহকারী টিম দিয়েই চলছে নবাবগঞ্জ করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ। টেকনিক্যাল লোকের সংখ্যা নির্দিষ্ট হওয়ায় নতুন করে কাউকে নিয়োগও দিতে পারছে না উপজেলা প্রশাসন।

এই ব্যাপারে নিউজ৩৯ কথা বলে নবাবগঞ্জ উপজেলা রোগ নিয়ন্ত্রন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ও করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডা হরগোবিন্দ সরকার অনুপের সাথে। নিউজ৩৯কে তিনি বলেন, দুই টিম কাজ করায় আমাদের উপর চাপ তুলনামুলক ভাবে কম ছিল। কিন্তু এক টিমের এক সদস্য করোনা আক্রান্ত হওয়ায় আমাদের একটা টিমকে হোম আইসোলেশনে নিতে হয়েছে। ফলে এক টিমের উপর দুই টিমের কাজের চাপ চেপে বসেছে। ফলে এই টিমটি বিশ্রামের সুযোগও পাচ্ছে না। আমরা যে নতুন কোন টিম তৈরি করবো, টেকনিক্যাল পারদর্শী লোকের অভাব ও নিয়মের কারনে সেটাও করতে পারছি না। এখন আসলে আমাদের কাছে আর কোন উপায় নেই। ঐ টিমের সদস্যরা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই এক টিম দিয়েই কাজ করে যেতে হবে।

করোনা সংক্রমন রোধে মসজিদের মাইকে যা ঘোষণা করাতে হবে

মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সোমবার (৮ জুন) ধর্ম মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে যে ১২ নির্দেশনা নিয়মিতভাবে মাইকে প্রচার করতে হবে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো: সাখাওয়াত হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে তা নিম্নরূপ।

১। আতঙ্কিত না হয়ে মহান আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং করোনা মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দোয়া করুন। অনুরূপভাবে অন্যান্য ধর্মের অনুসারী করোনা মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করুন।

২। কিছুক্ষণ পরপর সাবান ও পানি দিয়ে বিশ সেকেন্ড ধরে হাত পরিস্কার করুন এবং চলাফেরা ও সকল কাজে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন।

৩। ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পড়ুন, এবং চলাফেরা ও সকল কাজে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখুন।

৪। অপরিষ্কার হাতে নাক ও মুখ স্পর্শ করবেন না এবং যেখানে সেখানেকফ থুথু ও ময়লা আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকুন।

৫। হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু অথবা কাপড় ব্যবহার করুন বা বাহুর ভাঁজে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন।

৬। একান্ত জরুরী প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করুন।

৭।নিয়মিতভাবে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করুন।

৮। করোনাভাইরাস এর উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন, কোন প্রকার লুকোচুরি করবেন না। করোনাক্রান্ত অধিকাংশ রোগী চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে যান।

৯। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি মানবিক আচরণ করুন।

১০। নিয়মিত শরীরচর্চা অথবা শারীরিক পরিশ্রম করুন।

১১। গুজব রটাবেন না, গুজবে কান দেবেন না। গুজবে বিচলিত হবেন না।

১২। করোনা মহামারী সংক্রমণ রোধে সরকারের নির্দেশিত বিধি নিষেধ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে অবশ্যই অনুসরণ করুন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে দেশের সব মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাইক থেকে নিয়মিতভাবে ১২টি নির্দেশনা প্রচারের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ করা হলো।

নবাবগঞ্জে নতুন ৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে আরও ৯ রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।  নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ জানান, সোমবার রাত ১০টায় পাওয়া পরীক্ষার ফলাফলে নতুন ওই ৯ রোগী শনাক্তের বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন।

ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ জানান, বিভিন্ন বয়সী আক্রান্তরা উপজেলার কলাকোপা, শোল্লা, বাহ্রা, চুড়াইন ও একজন দোহার উপজেলার বাসিন্দা। এদের মধ্যে একজন নারী। এছাড়াও দোহারের ওই ব্যক্তি আমাদের মাধ্যমে পরীক্ষা করিয়েছেন। তাই তাকে আমাদের তালিকায় রাখা হয়েছে। নতুনদের নিয়ে এ উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৮২জন। নতুন আক্রান্তদের তাদের নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে জানান ডা. অনুপ।

উল্লেখ্য এ নিয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৮২ ও মৃত্যুবরণ করেছেন ৪জন।

তরুনদের ভাবনাঃ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে সামাজিক ও মানসিক শক্তি দিন

দিনে দিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বেড়ে যাওয়াটাই মনে হয় স্বাভাবিক। পৃথিবীর সব দেশেই ১জন, ৫ জন,১০০ জন এভাবে জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। আমাদের দেশেও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে বিভিন্ন দেশ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে সক্ষম হলেও, আমাদের দেশে এখনো বেড়েই যাচ্ছে। আর এর কারন আমার মনে হয় সামাজিক অসচেতনতা, দারিদ্রতা, মূর্খতা ও হেয়ালিপনা। যাইহোক, প্রথমে চীনে এ ভাইরাস দেখা দিলেও আজ বিশ্ব বিচরণ করে আমাদের উপজেলায় এমনকি আমার মহল্লায় ও আক্রান্তের সংখ্যা রয়েছে।

যেহেতু বিভিন্ন গবেষণায় এ ভাইরাস সারাজীবন থাকার ইঙ্গিত করছে, তাই আমাদের এর সাথে যুদ্ধ করেই বেচে থাকতে হবে। আর এ যুদ্ধে আমাদের অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে। যার ফলস্বরূপ করোনার লক্ষ্মণ (জ্বর ,শুকনা কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ,অতিরিক্ত দূর্বল হওয়া), কিভাবে ছড়ায়, সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরা ইত্যাদি বিষয়ে সর্বসাধারনে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।যদিও সবাই মনাছে না।

এবার আসি আমদের দোহার নবাবগঞ্জের কথায়। এ দুই উপজেলায় প্রবাসীর সংখ্যা বেশি, দেশের করোনার হটস্পট ঢাকা – নারায়নগঞ্জে খুব কাছে এবং দোহার নবাবগঞ্জের ধনীর দুলালেরা অপ্রয়োজনে মোটরসাইকেলে দলবেঁধে ঘুরে বেড়ানো সেই সাথে আড্ডা দেওয়ার প্রবনতা অনেক বেশি, তাই অন্যান্য জেলার চেয়েও দোহার নবাবগঞ্জে উপজেলায় কোভিড ১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। বেশি হওয়ার অন্য কারণ, আমি মনে করি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তৎপরতায় অধিক সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা। যত বেশি পরীক্ষা তত বেশি রোগী। তবে আমার ধারনা দোহার নবাবগঞ্জে রোগীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি । অনেকে সিম্পটম নিয়ে পরিক্ষা করাচ্ছেন না। কারণ আমাদের সামাজিক দৃষ্টি ভঙ্গি। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি বিভিন্নভাবে সামাজিক অবহেলার স্বীকার হয়।
করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে সামাজিক ও মানসিক শক্তি দিন। তাতে সবাই সিম্পটম দেখা দিলেই পরীক্ষায় আগ্রহী হবে। এতে সঠিক রোগী নির্নয় হয়ে, সঠিক চিকিৎসায় নিউজিল্যান্ডের ন্যায়, দোহার নবাবগঞ্জ সর্বপ্রথম বাংলাদেশের করোনা মুক্ত উপজেলা হবে বলে আমি আশা করি।

শাহিন হোসেন
সভাপতি
সে টুগেদার
কার্তিকপুর, দোহার, ঢাকা

করোনা সচেতনতায় দোহার-নবাবগঞ্জে চালু হচ্ছে টেলিমেডিসিন সেবা

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ৯ জুন সকালে IEDCR এক বিশেষ ট্রেনিং এর আয়োজন করা হয়। ঢাকা জেলার সকল উপজেলার করোনা ইউনিট ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এই ট্রেনিং সেশনে সার্বিকভাবে কিভাবে কোভিড -১৯ সাপোর্ট সিস্টেম কমিউনিটিতে কিভাবে এস্টাবলিশ করা যায়, সে ব্যাপারে আলোচনা হয়। টেলিমেডিসিন সেবা ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যাবহার করে কিভাবে শুরু করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।  এই ট্রেনিং সেশনে দোহার নবাবগন্জের কৃতি চিকিতসকদের  ১৩ জন যোগ দিয়েছেন !  এই সময় নবাবগঞ্জের বান্দুরা ও বাগমারায় কিভাবে আইসোলেশন সেন্টার গড়ে তোলা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা হয়। এই ট্রেনিং সেশনটি পরিচালনা করেন ডা সামসাদ রব্বানী খান। এই সময় অতি দ্রুত টেলিমেডিসিন সেবার আওতায় আনতে কারা কারা টেলিফোনে সময় দিবেন সেটার চুড়ান্ত তালিকা করার দায়িত্ব নেন ডাঃ মনিরুজ্জামান ও ডাঃ মেসবাহ।

সভায় ডাঃ শ্যামলাল পাল, ডাঃ মোহাম্মদ হোসেন, নবাবগঞ্জ ও দোহারের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধানসহ সকলেই তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ এবং সহযোগিতা প্রদানের সদিছছার কথা জানান।

পরিবহনের চাঁদাবাজি রুখতে দোহার থানা পুলিশের জরুরী সভা।

দোহারে উপজেলার পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে আজ (৯জুন) এক জরুরী সভা করেছে দোহার থানা পুলিশ প্রশাসন।

মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় দোহার থানা অডিটোরিয়ামে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দোহার থানা ভারপ্রার্প্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের। দোহার উপজেলার পরিবহন মালিক ও নেতৃবিন্দদের সাথে দোহারে পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে ও করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতা এবং যাত্রীদের মাঝে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে পরিচালনা করতে বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয় এই সভায়।

উল্লেখ্যযগ্য ঢাকা জেলা পুলিশের আওতাধীন থানা এলাকাগুলোর মহাসড়ক, আন্ত:সড়ক ও বিভিন্ন স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি বন্ধে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ ড.বেনজির আহমেদ(বিপিএম,বার) মহোদয়ের নির্দেশে ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান(বিপিএম,বার) সাহেবের পরোক্ষ সহযোগিতায় ও পুলিশ সুপার মো.মারুফ হোসেন সরদার (বিপিএম,পিপিএম,বার) নির্দেশমতে ইতোমধ্যে ঢাকা জেলার প্রতিটি থানায় চাঁদাবাজি বন্ধে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর এরি ধারাবাহিকতায় আজ দোহার থানায় অডিটোরিয়ামে এক জরুরী সভার আয়োজন করা হয়।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন (ওসি) বলেনঃ করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে আছে। তবুও সরকার গণপরিবহন চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। সেই ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। যাত্রি পরিবহনের পূর্বে গাড়িতে স্যানিটাইজার বা জীবাণুনাশ স্প্রে ছিটাতে হবে। যাত্রিদেরকে নামিয়ে আবারও স্যানিটাইজার বা জীবাণুনাশ স্প্রে ছিটিয়ে গাড়ি জীবানুমুক্ত করতে হবে। রাস্তায় বা কোন স্থানে চাঁদাবাজি ঘটনা ঘটলে পুলিশের লোকেরা বিষয়টি তদারকি করবে সে ক্ষেত্রে যুদি কোন পুলিশ এরসাথে জারিত থাকে বা অন্য কেউ সে সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপশি পরিবহন মালিক গ্রুপের নেতা ও শ্রমিক নেতাদের বিষয়টি তদারকির আহবান জানান তিনি।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন দোহার থানার ওসি(তদন্ত) কর্মকর্তা মো.আরাফাত রহমান,জয়পাড়া পরিবহনের সভাপতি আলমাছ উদ্দিন,নগর পরিবহনের সভাপতি জহির উদ্দিন,আরাম পরিবহন পরিচালনা কমিটির সদস্য মির্জা আজম,ডিএনকে পরিবহনের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব,আরাম পরিবহনের শ্রমিকনেতা জামাল হোসেন,শ্রমিকনেতা আব্দুর রশিদ,দোহার প্রেসক্লাবের সম্পাদক মাহবুবুর রহমান টিপু ও দোহার থানার অন্য অন্য সাংবাদিকবৃন্দরা।

তরুনদের ভাবনা: সচেতন না হলে বিপর্যয় আসছে দোহার-নবাবগঞ্জে

প্রথমেই বলব, বর্তমান বাংলাদেশ সহ বিশ্বের কোন দেশেই করোনা বা ক্যাভিড-১৯ এর অবস্থা ভাল নয়।সুস্থ রোগীদের আবারো নতুন করে সংক্রমিত হওয়ার খবর আমাদের অজানা নয়। বিগত শতাব্দীগুলোর মহামারীর সাথে তুলনা করলে এখন পর্যন্ত সার্ভিকভাবে করোনা বা ক্যাভিড-১৯ এর কে অপ্রতিরোধ্য এবং বিগত মহামারীর চেয়ে এই মহামারীতে অধিক মানুষ মারা যাবে অথবা আক্রান্ত হবে বলেই বিশ্বাস করি। বিংশ শতাব্দীর স্প্যানিশ ফ্লু এর সময় কাল হিসাব করলে দেখা যায়, সেই সময়টা ছিল ১ম বিশ্বযুদ্ধ এর সময়। পাশাপাশি তখন বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বর্তমান সময়ের মত আধুনিক ছিল না। কিন্তু এখন যুদ্ধ চলছে না, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা আজকে অন্য গ্রহে ভ্রমণ করার সক্ষমতা অর্জন করেলেও বিগত প্রায় ৬ মাসেও (ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত) আমরা এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি নি। এমনকি ক্যাভিড-১৯ ভাইরাসের উৎপত্তির ব্যপারেই এখনও দ্বিমত রয়ে গেছে।

করোনা ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি চিন্তা করলে গা শিউরে উঠে। পুরো পৃথিবী ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক ভাবে একটা সমস্যায় পড়ে গেছে। ইতোমধ্যেই তেলের দাম শূন্যের নিচে চলে গিয়েছে। বিভিন্ন দেশে থাকা বৈধ এবং অবৈধ সকল প্রকার প্রবাসীদের এক প্রকার জোর করেই দেশে পাঠানো হচ্ছে। আর যারা নিজ নিজ দেশ ফেরত যে পারছে না তারা মানবেতর জীবন যাপন এর সম্মুখীন হচ্ছে। আর বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রবাসীদের অনেক অবদান আছে। যদি এখন প্রবাসীরা কাজ করতে না পারে তবে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড অর্ধেক ভেঙ্গে যাবে।

বাংলাদেশ একটি কৃষি নির্ভর দেশ। বর্তমানের এই অবস্থায় দেশের কৃষকদের অবস্থা শোচনীয়। জমির ফসল জমিতেই পড়ে থাকলেও ফসল কাটার লোক পাচ্ছে না। যদিও কৃষকদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। তবে কৃষকরা তাদের নায্য মূল্য পাচ্ছে না বলে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। অনেক কৃষক মনের কষ্টে নিজের জমির ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে। তার প্রমাণ দেখা গেছে যশোরের ফুলের বাগানে। ফুল চাষীরা ফুলের নায্য দাম না পাওয়ায় এবং ফুলের বাজার ক্রেতা শূন্য থাকায় বাধ্য হয়েই নিজের গরু ছাগলকে ফুল খাওয়াচ্ছে।

একটি দেশের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার আর একটি রাস্তা হচ্ছে আমদানি এবং রপ্তানি করা। পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা অনেক ভাল। তবে এই নতুন পরিস্থিতিতে সব কিছু বন্ধ থাকায় আমাদের রপ্তানি শিল্প এখন অনেকটাই ঝুকিপূর্ণ হয়ে গেছে। প্রথমেই অর্থনৈতিক চিন্তা করার অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের দেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এইদেশে এখনও দৈনিক রোজগারে চলাচল করা মানুষের সংখ্যা অনেক ভাবে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে দেশের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দিনমজুর এবং ভাসমান মানুষ গুলোর জীবন ঝুকির মধ্যে রয়েছে। হয়ত আগামী কয়েক মাস/বছরের মধ্যেই পৃথিবী থেকে বিদায় হবে এই অভিশাপ। কিন্তু এই কোভিড-১৯ আজীবনের জন্যে অভিশাপ হয়ে থাকবে বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের জন্যে। স্কুল/কলেজ/ভার্সিটি বন্ধ থাকায় ভবিষ্যতে ভয়ানক এক সেশন জটে পড়বে এই দেশের শীক্ষার্থীরা। যদিও কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে online ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে, তবুও এই পদ্ধতি উন্নত নয়। কেননা একটি বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর পক্ষে প্রতিদিন এই ধরনের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করা সম্ভব হচ্ছে না প্রযুক্তির অভাবে। আজকে যদি উন্নত দেশ কানাডার দিকে তাকাই তাহইলে দেখা যাবে সেখানে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীদের সরকারের পক্ষ থেকে online কার্যক্রমে অংশ গ্রহনের জন্যে উপহার পাঠানো হয়েছে, যা বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক অবস্থার কথা চিন্তা করলে কোনভাবেই সম্ভব নয়।

দেশের অনেক বড় একটা জনসংখ্যা বেকার হয়ে যাবে যার জন্যে দায়ী থাকবে শুধুই কোভিড-১৯। আমাদের বর্তমান যুগের শিক্ষার্থীদের মাঝে সরকারি চাকরি করতে ইচ্ছুক এমন সংখ্যাই বেশি। তবে অনেকেই হয়ত সরকারি চাকরিতে আবেদনের যোগ্যতা হারাবে যতদিনে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে ততদিনে। অনেকেই বেসরকারি চাকরি করলেও তাদের চাকরি চলে যাবে শুধুমাত্র বেতন না দিতে পারায়। ফলে শিক্ষার্থীরা এক চরম হতাশায় পড়ে যাবে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা মাথা তুলে দাড়াতে সময় লাগবে।আর তার অন্যতম উদাহরণ এখন পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা(HSC) না হওয়া। অথচ বিগত বছর গুলোতে এই সময় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত থাকে।

করোনা/কোভিড-১৯ এর কারনে দেশের অন্যান্য উপজেলা গুলোর মধ্যে হয়ত দোহার নবাবগঞ্জ সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়বে। ঢাকা থেকে মাত্র কিছু কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই উপজেলার অধিকাংশ মানুষই প্রবাসী এবং ব্যাবসায়ী। তবে বর্তমানে প্রবাসীদের মধ্যে অনেকেই চাকুরিহীন অবস্থাতেই নিজ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং তাদের পক্ষে পরিবারের ভরণপোষণ দেয়াটাও কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। আর ব্যবসায়ীরা খুব একটা লাভবান হতে পারছে না। আবার, এই অঞ্চলে শিক্ষার হার যথেষ্ট কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মাঝে সচেতনার অভাব রয়েছে। করোনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গুলো গ্রহণ করতে তারা সবাই অনিচ্ছুক। ফলে ঢাকার অন্যান্য উপজেলার চেয়ে এই উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে হয়ত নদী ভাঙ্গনের স্বীকার এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে নেমে আসবে দারিদ্রতার অভিশাপ। পরিশেষে বলতে চাই, আমরা (মানুষরা) চাইলেই এই মহামারীকে নির্মূল করতে না পারলেও এর থেকে অন্তত পক্ষে নিজেদের রক্ষা করতে পারি শুধুমাত্র সচেতনতার মাধ্যমে। যদি আমরা প্রত্যেক মানুষ সচেতন হই তাহইলে হয়ত করোনা মোকাবেলা খুব সহজ হবে এবং এর দ্বারা অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পারিবারিক সবক্ষেত্রেই আমরা নিজেদের আবার প্রতিষ্ঠিত করতে পারব।

শফিকুর রহমান জয়
ব্যবস্থাপনা বিভাগ
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
বড় রাজপাড়া, কলাকোপা, নবাবগঞ্জ, ঢাকা

দোহারে নতুন করে ১৪ জন করোনায় আক্রান্ত

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় নতুন করে আরও ১৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ১২৯ জন।

সোমবার (৮ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন।

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, গত ৩ জুন পাঠানো ৩৮ জনের নমুনা থেকে ১৪ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। নতুন আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে ৩ জন ফুলতলা, ৩ জন নারিশা, ৩ জন দোহার, অন্যরা জয়পাড়া ও ঘোনা এলাকার বাসিন্দা।

দোহারে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৪০ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন।

করোনা আক্রান্ত কলাকোপার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যু

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তৈয়ব আহমেদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ সোমবার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা কন্ট্রোল কর্নারের ফোকাল পার্সন ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডা. অনুপ বলেন, গত ১৯মে তৈয়ব চেয়ারম্যানের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ২৩মে তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর ২৪মে তাকে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি আরো বলেন, তোয়েব চেয়ারম্যানের পরিবারের আরো কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত।

নবাবগঞ্জে নতুন ১৫ জন করোনা আক্রান্ত, মোট আক্রান্ত ১৭৩

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে আরও ১৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ১৭৩ জন।
রবিবার রাত ১২ টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার(রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ।

তিনি জানান গত ০২.০৬.২০ তারিখ মঙ্গলবার পাঠানো ৮৭ জনের নমুনা হতে ১৫ জনের করোনা শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা রয়েছে। নতুন করে করোনায় আক্রান্তরা উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর, বান্দুরা, কলাকোপা, আগলা, যন্ত্রাইল, চুড়াইনের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

সংক্রমনের ঝুঁকি এড়াতে আক্রান্তদের স্বজনদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মোট আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৫ জন এবং মৃত্যুবরন করেছে ৩ জন।