দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জসিম করোনায় আক্রান্ত

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। নিজের মাঝে করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর গত ১৪ তারিখে তিনি তার স্যাম্পল ঢাকায় পাঠান। ২০ জুন বিকালে তিনি তার কোভিড-১৯ পজেটিভ রিপোর্ট পেয়েছেন। তিনি সুস্থ আছেন এবং তিনি নিজ বাড়ীতে আইসোলশনে থাকছেন।

দোহার উপজেলার করোনা যুদ্ধের অন্যতম এই সৈনিক দোহারে করোনা মোকাবেলায় ছুটে বেড়িয়েছেন দোহার উপজেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। করোনা রোগী শনাক্ত ও তাদের ঔষধপত্র পৌছে দেয়ার মতো বিভিন্ন কাজে তিনি ছিলেন একবারে সামনের সারিতে। খোজ খবর নিয়েছেন করোনা আক্রান্ত বিভিন্ন রোগীদের। সেই তিনিই এখন করোনা আক্রান্ত।

করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে অগত্যা আমি ও আক্রান্ত। সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছি। আল্লাহ আমার সহায়। ফয়সালা মহান আরশের অধিপতি আল্লাহর হাতে। তবে রোগে আক্রান্ত হয়ে আমি অনুতপ্ত বা বিরক্ত নই। জাহান্নামের আগুন থেকে যেন বাঁচতে পারি। সেই রহমত চাই আল্লাহর কাছে, যিনি আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি করেছেন। তবে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর আমার আপন জনেরা আমার সাথে প্রতারণা করে নাই। আমি হতাশ নই। আইসোলেশনে থেকে আমার কর্মসূচি চালিয়ে যাব ইনশাল্লাহ। আগামী ৫ ই জুলাই পর্যন্ত সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত।

নিউজ৩৯ পরিবারের পক্ষ থেকে এই করোনা যোদ্ধার আশু সুস্থতা কামনা করছি।

দোহারে পদ্মা বাঁধের ক্ষতি করে বালু উত্তোলনে বেপরোয়া অসাধুরা

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন যাবত পদ্মা নদীতে বালু লুটের মহতসবে মেতেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ক্রমাগত ভাবে এই বালু লুটের কারনে এই অঞ্চলে পদ্মা তীরবর্তী এলাকা ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। এই অপরিকল্পিত বালু উত্তলন চলমান থাকলে দোহার উপজেলায় সরকারিভাবে নদী শাষনের জন্য সাড়ে ১৬শ কোটি টাকার বাধ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় জনসাধারন।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার মৈনট, মাহমুদপুর, সুন্দরীপাড়া, বাহ্রাঘাট, নারিশা, মেঘুলা, বিলাশপুর, নয়াবাড়ি, মাহমুদপুর, মুকসুদপুর এলাকার সিন্ডেকেট বালুদস্যুর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে চলছে পদ্মায় বালু উত্তলন। তাদের অনুগত লোকেরা পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন ১৫-১৬টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তলন করলেও সেটা দেখার কেউ নেই। মাঝে মাঝে প্রশাসন পদ্মা নদীর শাখা নদীতে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করলেও মুল নদীতে কোন অভিযান পরিচালনা করে না। ফলে বন্ধ হচ্ছে না মুল নদী থেকে বালু উত্তলন। অপর দিকে পদ্মাইয় বিশাল বালু মহল থাকলেও তা ইজারা দিতে পারছে না প্রশাসন। এতে সরকার যেমন রাজস্ব রাহাচ্ছে ঠিক তেমনি ভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তলনের ফলে কৃষি জমি হারিয়ে যাচ্ছে পদ্মা নদী গর্ভে।

দোহার উপজেলার সীমান্তে পদ্মা নদীর বাহ্রাঘাট, সুন্দরীপাড়া, মৈনট, নয়াবাড়ি, বিলাশপুর, সুতারপাড়া, মেঘুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন, নারিশা ডাকবাংলো সংলগ্ন শিপইয়ার্ড এলাকায় বিশাল এলাকাজুড়ে বালু উত্তলন করে বিক্রি করছে সিন্ডিকেট বালু দস্যুরা।

নারিশা ডাকবাংলো শিপইয়ার্ড এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, দোহারকে পদ্মার গ্রাস থেকে রক্ষা করার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান। তিনি এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি বাধ নির্মানের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে প্রভাবশালী একতি চক্র সিন্ডিকেট করে এই উন্নয়ন কাজকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য বালু কাটছে, যা খুব দুঃখজনক। তিনি বালু উত্তলন বন্ধে এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সরজমিনে দোহারের পদ্মানদীতে ঘুরে দেখা গেছে প্রায় ২০টি পয়েন্টে বালু দস্যুরা বালু উত্তলন করে দুই হাতে টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে এই বালু উত্তলনের ফলে বিলাশপুর, নয়াবাড়ি, মাহমুদপুর, মুকসুদপুর, নারিশা ইউনিয়নের মানুষ ভাঙ্গন আতংকে দিন কাটাচ্ছে।

এই ব্যাপারে দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, খোজ নেয়া হচ্ছে। খোজ নেয়া হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তরুনদের ভাবনা: গুটিকয়েক মানুষ সচেতন হলেও বেশিরভাগ মানুষই অসচেতন

Covid 19 কে কিছু সংখ্যক মানুষ সচেতনতার চোখে দেখলেও বেশির ভাগ মানুষ এই ভাইরাস নিয়ে কোনো চিন্তা করছে না। এর ফলাফল নিয়ে মাথা না ঘামিয়েই যেমনভাবে মন চায় তেমনভাবেই চলাফেরা করছে। বর্তমানে এর অবস্থা খুবই ভয়াবহ। ধীরে ধীরে কিন্তু ভয়াবহ রূপে বাড়তেছে। পড়াশোনার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তেছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা অনলাইনে পড়ালেখা করলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা পিছিয়ে যাচ্ছে, ফলাফল তাই ভয়াবহ হতে পারে। ফলে চাকরি ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে ভবিষ্যতে বেকারত্ব আরোও বাড়তে পারে। দোহার নবাবগঞ্জ এ করোনার প্রভাব খুবই ভয়াবহ হবে। জানি না কী হতে যাচ্ছে। কারণ গুটিকয়েক মানুষ সচেতন হলেও বেশিরভাগ মানুষই অসচেতন।

কাজী তাজরীন অর্পা
ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
বলমন্তচর, নবাবগঞ্জ, ঢাকা।

করোনা ভাইরাসের থাবায় আক্রান্ত গোটা বিশ্ব। সর্বত্র আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা। বাংলাদেশে গত ৩-৪ মাসে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। এরইমধ্যে দোহার-নবাবগঞ্জে প্রতিনিয়ত করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে । অপ্রয়োজনীয় আড্ডাও জমায়েত এখনো বন্ধ হয়নি। বাজার দোকানপাটগুলোতে কোন ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে না। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘকাল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ ভয়ংকর পরিস্থিতিতে তারা মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতে বেকারত্বের হার বাড়বে বলেও আশা করা যাচ্ছে। যদি দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষ এখনো সচেতন না হয় তবে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যা এক ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে। এই সময় বাড়িতে কিছুটা একঘেয়েমি লাগতেই পারে। এক্ষেত্রে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করে বই পড়ুন, যার যার ধর্মীয় পাঠে ব্যস্ত থাকুন, পরিবারকে সময় দিন, প্রচুর পানি পান করুন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন আপনার সচেতনতার কারণে বেঁচে যেতে পারে আপনার পরিবার ও প্রিয়জনদের জীবন।

সুমাইয়া রহমান
অর্থনীতি বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
গালিমপুর, নবাবগঞ্জ, ঢাকা।

দোহারে – নবাবগঞ্জে নার্সিং ইন্সটিটিউট হবে: স্বাস্থ্য সচিব

মু, তারেক রাজীব, নিউজ৩৯: দোহারে-নবাবগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান সৃষ্টিও বিদেশে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের পরিকল্পনা থেকে দোহার – নবাবগঞ্জে খুব শীঘ্রই একটি নার্সিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। এবছরই দ্রুতসময়ে এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে। ঢাকা-১ আসনের সাংসদ, সালমান এফ রহমান বিষয়টি অবগত আছেন। বুধবার অগ্রসর দোহার-নবাবগঞ্জ আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্যসচিব আলী নুর এসব কথা বলেন । নবাবগঞ্জের সন্তান আলী নূর আরো বলেন, দোহার নবাবগঞ্জের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে নূন্যতম ২/৩টি করে হাই ফ্লো ন্যাসাল ক্যানোলা অক্সিজেন সিলিন্ডার দ্রুততম সময়ে করোনা আক্রান্ত সংকটজনক রোগীদের জন্য দেয়া হবে। এছাড়া দোহার-নবাবগঞ্জে আলাদা পিসিআর মেশিন স্থাপন করা যায় কিনা সে ব্যাপারেও তিনি উদ্যোগী হবেন বলে জানান।

মতবিনিময় সভায় দোহার নবাবগঞ্জের কৃতিসন্তান বর্তমান সময়ের ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা সিনিয়র চিকিৎসকরা এলাকাবাসীকে কিভাবে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া যায় সে বিষয়ে নানা কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তারা প্রতিদিন অনলাইনের মাধ্যমে পরামর্শমূলক স্বাস্থ্য টিপস ও টেলিমেডিসিন সেবা প্রদান করবেন সিরিয়ার বেশ কয়েকজন চিকিৎসক জানান।

দোহার-নবাবগঞ্জের সম্মিলিত ও সার্বজনীন প্লাটফর্ম ‘অগ্রসর দোহার-নবাবগঞ্জের’ সাথে মতবিনিময়কালে বেসরকারি টিভি চ্যানেল একাত্তর’৭১ এর হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদ ও নিউজ৩৯ এর সম্পাদক তারেক রাজীবের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই তথ্য জানান। তারেক রাজীবের অপর এক আবেদন প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ, একটি কারিগরি বা ইঞ্জিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্যও তিনি ও মাননীয় সাংসদ উদ্যোগী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে দোহার-নবাবগঞ্জের কৃতি সন্তানদের নিয়ে সকল দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি প্লাটফর্ম “অগ্রসর দোহার –নবাবগঞ্জ।” করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ‘আমাদের করণীয়’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশবরেণ্য সাংবাদিক শাকিল আহমেদ, সিনিয়র রিপোর্টার লাবণ্য ভূইয়া, আদালত প্রতিবেদক রাশিম মোল্লা ও খ্যাতিমান চিকিৎসক আহমাদুল হক খান সুমনের সঞ্চালনায় নিয়মিত অনলাইনে জুম মিটিং হচ্ছে। এতে দোহার-নবাবগঞ্জসহ, দেশ এবং বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা দোহার-নবাবগঞ্জেরর কৃতি সন্তানরাও যুক্ত হচ্ছেন। খুব শীঘ্রই দোহার-নবাবগঞ্জবাসীর জন্য টেলিমিডিসিনসহ বিভিন্ন সেবা নিয়ে হাজির হচ্ছে ‘অগ্রসর দোহার-নবাবগঞ্জ’।

তরুনদের ভাবনা: করোনা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় সচেতনতা

করোনা ভাইরাস,যার পোশাকি নাম কোভিড -১৯। রোগটিকে এখন বিশ্ব মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। পৃথিবীতে আগেও এরকম মহামারীর দেখা মিলেছিলো এবং তা থেকে পরিত্রাণও পাওয়া গিয়েছে। অভিযোজন একটি প্রাকৃতিক নিয়ম যেটা বলতে জীবের বর্তমান দশা এবং অভিযোজন পরিচালনাকারী স্বক্রিয় বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া উভয়কেই বোঝায়।

কিন্তু কোভিড-১৯ বর্তমান রুপ যেন পাল্টে দিয়েছে স্বাভাবিক পৃথিবীর চিত্র। সংক্রামক এই ব্যাধিটি খুব সহজেই মানুষ থেকে মানুষে স্থানান্তর হতে পারে।এমনকি বাতাসের মাধ্যমেও ছড়াতে সক্ষম।

ভাইরাসটি থেকে বাঁচতে হলে চাই সচেতনতা। সামাজিক দুরুত্ব, পরিস্কার পরিছন্নতা সহ নানাবিধ ব্যবস্থা। অন্যান্য দেশের বর্তমান করোনা ভাইরাস এর বর্তমান পরিস্থিতির  দিকে লক্ষ করি দেখা যাবে তারা সফলতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কিসের মাধ্যমে?  কোনো মেডিসিন বা টিকা?  না, উত্তর একটাই সচেতনতা।

তাই সবাইকে সচেতনতার আওতায় আসতে হবে নিজেকে অভিযোজনের সক্ষম করতে হবে।যেহেতু মহামারী টির কোনো নির্দিষ্ট ভেক্সিন আবিষ্কার হয়নি সবাইকে অবশ্যই নিজ নিজ ধর্মানুসারে প্রার্থনা করতে হবে।

রিয়া আক্তার
প্রানিবিদ্যা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
নবাবগঞ্জ, ঢাকা

কোঠাবাড়ি কলেজে দোহার উপজেলা যুবলীগের বৃক্ষরোপন

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার নবতম উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোঠাবাড়ি কলেজে বৃক্ষরোপন করেছে দোহার উপজেলা যুবলীগ। ২০ জুন শনিবার সকাল ১০টার সময় যুবলীগের বৃক্ষরোপন শুরু হয়। এই সময় কোঠাবাড়ি কলেজ চত্ত্বরে ২০০ টি বৃক্ষরোপণ করে দোহার উপজেলা যুবলীগ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকি  উপলক্ষে এই বৃক্ষরোপণ অভিযান হাতে নিয়েছে দোহার উপজেলা যুবলীগ।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে চলছে যুবলীগ। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার দোহারের নবতম উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোঠাবাড়ি কলেজের ক্যাম্পাসে ২০০ গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নেয় দোহার উপজেলা যুবলীগ। নব প্রতিষ্ঠিত এই কলেজের ক্যাম্পাসে ২০০ বনজ গাছের চারা নিজেরা উপস্থিত থেকে রোপন করে যুবলীগ।

উপজেলা যুবলীগের বৃক্ষরোপনে ঢাকা জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ার সালাউদ্দিন দরানী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য যুবলীগ সব সময় প্রস্তুত। এই করোনা পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেছেন তা বিশ্বের মডেল। দোহার উপজেলা যুবলীগ সব সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যেকোন নির্দেশ পালনে সদা প্রস্তুত।

দোহার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ নির্বাচিত ভিপি আলমাস উদ্দিন তার বক্ত্যবে বলেন, কেন্দ্র ঘোষীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে দোহার উপজেলা যুবলীগ সব সময় কর্ম তৎপর। দোহার উপজেলা যুবলীগ যেকোন সময়, যেকোন প্রয়োজনে শেখ হাসিনার নির্দেশ পালনে সদা প্রস্তুত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবার্ষিকি উপলক্ষে কেন্দ্র ঘোষিত এই কর্মসূচিতে কোঠাবাড়ি কলেজকে আমরা বেছে নেই কারন এই নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একসময় ছাত্রছাত্রীর কোলাহলে ভরে উঠবে এবং তখন এই গাছগুলো এই কলেজের সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি করবে ঠিক একই ভাবে কলেজের অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ় করতে সহায়তা করবে।

কোঠাবাড়ি কলেজে দোহার উপজেলা যুবলীগের  বৃক্ষরোপনকোঠাবারি কলেজের এই বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ, কোঠাবাড়ি কলেজের পরিচালনা পরিষদ, দোহার উপজেলা যুবলীগ নেতা জুলহাস, কালাম বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদের মন্ডলসহ দোহার উপজেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।

দোহারে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে আমরা সবাই একযোগে কাজ করছি: ডা. জসিমউদ্দিন

প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে দোহারের করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত ও তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন একযোগে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। নিউজ৩৯-কে ফোনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন।

সারা দেশের মতো দোহারও করোনা সংক্রমিত একটি অঞ্চল। এই উপজেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনাভাইরাস সংক্রমনের সংখ্যা। সংক্রমনের হার কমানোর জন্য দোহার উপজেলা প্রশাসন নিচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ ঠিক একই ভাবে করোনা আক্রান্ত ও সম্ভাব্য করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য উপজেলা প্রশাসন নিচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা বিষয়ে নিউজ৩৯ কথা বলে ডা. জসিমউদ্দিনের সাথে। তার সাথে কথায় বের হয়ে আসে উপজেলার করোনা পরিস্থিতির বিভিন্ন অজানা বিষয়।

ডা. জসিমউদ্দিন বলেন, আমরা প্রতিদিনই করোনা পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দোহার উপজেলায় যত করোনা রোগী এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে তাদের প্রতিটি ব্যক্তির সাথে আমি নিজে কথা বলি। তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও তাদের সামাজিক অবস্থার খোজ খবর নেই, রাত ২ টা বা ৩ টা নেই। কোন করোনা রোগী আমাকে ফোন দিলে আমি তার সাথে সরাসরি কথা বলি। তার যাবতীয় খোঁজ খবর ও ঔষুধ বিনামূল্যে পুলিশ বাহিনীর সাহায্যে তাদের বাসায় পৌছে দেয়া হয়। যা শুধু সম্ভব হয়েছে এমপি মহাদয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানের জন্য। এমপি মহোদয়ের জন্য আমরা করোনার ঔষুধ বিনামূল্যে তাদের বাসায় পৌছে দিতে পেরেছি অথচ অনেকেই বলে বেড়ায় আমরা কোন কাজই করছি না।

তিনি আরো বলেন, করোনা রোগীদের সমাজে যে চোখে দেখা হয় তা অত্যন্ত দুঃখজনক। করোনা আক্রান্ত রোগীকে এক প্রকার একঘরে করে ফেলা হয়। অনেক সময় দেখা গেছে রোগীর বাসায় বাজারটুকু পর্যন্ত নেই। তখন পুলিশের সহায়তায় তাদের বাজার করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয় অথচ অনেকে বলে প্রশাসন নাকি কোন কাজ করছে না! কিন্তু করোনাভাইরাসের স্যাম্পল সংগ্রহের জন্য কোন স্থানকে নির্বাচন করা হলে সেই স্থানে স্যাম্পল সংগ্রহে বাধা পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। তখন এরা কোন কথা বলে নি। কিন্তু এখন প্রশাসনের ভুল ধরতে তারা এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে।

করোনার রেজাল্ট আসতে দেরি হওয়া নিয়ে ডা জসিম উদ্দিন বলেন, এটা তো আসলে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা নমুনা সংগ্রহের সাথে সাথেই তা ঢাকায় পাঠিয়ে দেই। ইভেন রেজাল্ট যাতে তারাতারি আসে সেই জন্য আমরা এক্সেল সিটটা পর্যন্ত করে দেই। তারপরও দেরি হয়। এটা তো আর আমাদের হাতে নেই। আমাদের দেশটা ছোট কিন্তু জনসংখ্যা অত্যাধিক। তাই চাপের কারনে রেজাল্ট আসতে দেরি হয় কিন্তু এর দায় তো উপজেলা প্রশাসনের নয়।

দোহারে করোনা পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা ও মৃত্যুহার নিয়ে বলেন, দোহারে সামগ্রীকভাবে করোনাভাইরাসে মৃত্যুহার অত্যান্ত কম। যারা মারা গেছেন তাদের আমরা চিকিৎসা পর্যন্ত করার সুযোগ পাই নি। এর মাঝে কিডনী সংক্রান্ত জটিলতায় একজন মারা গেছেন, আরেক জন মারা গেছেন ঢাকায় কোন চিকিৎসা গ্রহনের আগেই। শুধু ৮০তম আক্রান্ত আব্দুর রহমানের ক্ষেত্রে আমরা চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছিলাম। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েও ছিলাম। কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু সামগ্রীক অবস্থা যদি দেখেন তাহলে আপনি দেখতে পাবেন এই উপজেলায় সুস্থ্যতার হার অনেক বেশি। ইতিমধ্যে ১৯৯ জনের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ১০৮ জন। তাই ভয় নয়, নিয়মতান্ত্রিক আচরণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই করোনাকে আমরা পরাজিত করতে পারব।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ করোনায় আক্রান্ত

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তার করোনাভাইরাসের রিপোর্টে পজিটিভ আসে।

শুক্রবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম ডেইলি বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, “স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ তিন-চারদিন আগে ঠাণ্ডা জ্বর ও কাশি ছিলো। পরবর্তীতে করোনা পরীক্ষা করার পরে তার করোনা পজিটিভ আসে।”

বর্তমানে তিনি বাসায় আইসোলেশনে আছেন এবং ভালো রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “গত দুই-তিন দিন ধরে জ্বর অনুভব করছিলাম। এরপর করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করতে নমুনা দেই। বৃহস্পতিবার রাতে রিপোর্ট পেলাম। রিপোর্টে করোনা পজিটিভ এসেছে। তবে এখন আমি বড় ধরনের সমস্যা অনুভব করছি না। বাসায়ই আছি। আমি সবার কাছে দোয়া চাই যাতে দ্রুত ভালো হয়ে উঠতে পারি।”

নিউজ৩৯.নেট-এর উপদেষ্টা হিসেবে পত্রিকা তার দ্রুত আরোগ্য ও কল্যাণ কামনা করছে।

তরুনদের ভাবনা: করোনা মানেই মৃত্যু নয়

বর্তমানে পুরো পৃথিবীর মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম নোভেল করোনা ভাইরাস বা কোভিড -১৯। এই ক্ষুদ্র সত্ত্বার ভাইরাসটি আজ বিশালদেহী মানুষকে ধরাশায়ী করতে সক্ষম। মধ্য চীনের উহান থেকে ছড়ানো এই ভাইরাস আজ বৈশ্বিক মহামারীতে পরিণত হয়েছে। স্প্যানিস ভাষায় করোনা শব্দের অর্থ মুকুট। এই ভাইরাসটি পৃথিবীর প্রায় সাড়ে ৩ লাখের বেশি মানুষকে মৃত্যুর মুকুট পড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এই করোনা মানেই মৃত্যু নয়। এখন পর্যন্ত সুস্থতার হার প্রায় ৫০ ভাগ।

করোনাভাইরাসের প্রধান লক্ষণ হচ্ছে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাঁশি। কিন্তু চিন্তার বিষয় এই যে সম্প্রতি আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৪০ ভাগ লোকের কোনো উপসর্গই লক্ষ করা যায় নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা ভাইরাসের প্রধান প্রতিষেধক হচ্ছে, ঘরে অবস্থান করা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। কিন্তু মানুষ এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে কোনো প্রটেকশন ছাড়াই রাস্তায় বের হচ্ছে।

দোহার – নবাবগঞ্জের মানুষের বেশি বেহাল দশা পরিলক্ষিত। তারা লকডাউন মানতেই চাইছেন না৷ ইতোমধ্যে দুই উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ৪০০ এর অধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। যাইহোক আল্লাহ রহমতে একদিন আমরা এই করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাবো এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবো।

আব্দুল আহাদ আকন্দ্
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
লটাখোলা, জয়পাড়া, দোহার, ঢাকা

করোনায় আক্রান্ত নুরুল ইসলাম বাবুল

বাংলাদেশের অন্যতম বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। নুরুল ইসলাম বাবুলের স্ত্রী জাতীয় পার্টির ম‌নোনয়‌নে নির্বা‌চিত সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নুরুল ইসলাম বাবুল বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

নুরুল ইসলাম বাবুলের স্ত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, এর আগে দুইবার তার করোনা টেস্ট করা হয়েছিল। কিন্তু তখন নেগেটিভ এসেছিল। গত পরশু তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, সেখানে তিনি বমি করেছেন। পরে ক‌রোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা নেয়া হয়। ১৭ জুন, বুধবার তা পজেটিভ এসেছে। এখন তিনি হাসপাতালে আছেন। তার জন্য আপনারা দোয়া করবেন। ডাক্তাররা বলেছেন, কিডনিতে ইনফেকশন হয়েছে।

উ‌ল্লেখ্য, যমুনা গ্রুপ বাংলাদেশে বৃহৎ শিল্প গ্রুপগুলোর একটি। বস্ত্র, রাসায়নিক, চামড়া, মোটর সাইকেল, ইলেকট্রনিক্স, বেভারেজ, টয়লেট্রিজ উৎপাদন ও বাজারজাত করে এই গ্রুপটি।  এছাড়া যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের মালিকানাও রয়েছে এই গ্রুপের।