দোহারে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ইউএনও কে বিদায়ী সংবর্ধনা

দোহার উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা ঢাকার গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া গত (৪ জুন ) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। তারি ধারাবাহিকতায় দোহার প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা সোমবার সকালে ইউএনও’র কার্যালয়ে উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবাকে এই সন্মাননা প্রদান করেন।
উপজেলা সুত্রে থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৫ই মার্চ দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দোহার উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন আফরোজা আক্তার রিবা। তিনিই ছিলেন দোহারের প্রথম নারী কর্মকর্তা । তার সৎভাব ও কর্ম দক্ষতায় পাল্টে গেছে দোহার উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সার্বিক চিত্র তিনি দোহারকে তার সন্তানের মত আগলিয়ে রেখেছে, উপজেলার প্রতিটি দফতরের কর্মকান্ডে ফিরে এসেছে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। তার উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছেন পদ্মা নদীর ইলিশ রক্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীতে দিন রাত অভিযান পরিচালনা করা। দোহারে তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে শেখ রাসেল প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা । এ ছাড়া দোহারের বিভিন্ন বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে রাখতে তার অভিযান ছিল ধারাবাহিক।উপজেলার হতদরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাড়িঁয়ে সকল প্রকার সেবা প্রদান করেন তিনি। লকডাউনের সময়েও তিনি দোহারে প্রবাসীদের হোম কোয়ান্টাম নিশ্চিত করেছে এবং নিয়মিত পুরু দোহারে রাত দিন নিরলস ভাবে কাজ করেছে। বিভিন্ন কর্মদক্ষতার কারনে উপজেলা পর্যায়ে ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। উল্লেখ যোগ্য গত (৪জুন ) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়ার সহকারি সচিব এ সংক্রান্ত আদেশ জারিতে গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন আফরোজা আক্তার রিবা।
আফরোজা আক্তার রিবা’র জন্ম হয় নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার গোতাশিয়া গ্রামে। তার বাবা মোঃ শহিদ উল্লাহ ভুঁইয়া ও মাতা লুৎফুন্নাহার। তিনি গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি নরসিংদীর হাড়িসাংগার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে এসএসসি, রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ থেকে ২০০২ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। পড়াশোনা শেষ করে ২৯তম বিসিএস-এর মাধ্যমে তিনি সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন।
আফরোজা আক্তার রিবা দোহার প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেন, করোনার এই সময়ে দোহার উপজেলার জন্য প্রচুর কাজ করেছি। নিজের জীবনের পরোয়া করিনি। এই পদোন্নতি আমাকে আরো বেশি কাজ করার সুযোগ করে দিল। আমি যেন এই দেশের কল্যানে দেশের মানুষের জন্য সব সময় কাজ করে যেতে পারি । এ সময় সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
সে সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র,ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশনের মহা-ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ,দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক রজ্জব আলী মোল্লা,দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুল হাসান,সম্পাদক মাহবুবুর রহমান টিপু,ঢাকা প্রেসক্লাবের কার্যকরী সদস্য অলি আহম্মেদ, সহ-সম্পাদক শেখ সোহেল রানা,অর্থ সম্পাদক মো.শাহজাহান,দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকার উপ-সম্পাদক আবুল হাসেম ফকির,সাপ্তাহিক নববাংলা পত্রিকার সহ-সম্পাদক কাজী জোবায়ের আহম্মেদ,একুশের মিডিয়া ও দোহার বার্তার বিশেষ প্রতিনিধি জাকির হোসেন,খবর ৩২ডট.কম অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক মোস্তফা কুদ্দুস, প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মহিদুল ইসলাম পলাশ সহ আরো অনেকে।

দোহার-নবাবগঞ্জে হবে স্বাস্থ্যসেবার হেলথ কার্ড-সার্ভিস ও নার্সিং ইন্সটিটিউট – সালমান এফ রহমান এমপি

তারেক রাজীব, news39.net: প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এমপি বলেছেন, দোহার-নবাবগঞ্জের প্রধান সমস্যা স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি ঘটাতে শীঘ্রয়ই এখানে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবার হেলথ কার্ড সার্ভিস চালু করা হবে। একইসাথ নবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক মানের নার্সিং ইনস্টিটিউট করা হবে। যেখান থেকে দক্ষ নারী নার্সের পাশাপাশি পুরুষ নার্স বের করে আনা হবে। কারণ সারা পৃথিবীতে নারীদের পাশাপাশি পুরুষ নার্সদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে অগ্রসর দোহার-নবাবগঞ্জ টেলিমেডিসিন সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান এ কথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জে একটি বিশ্বমানের নার্সিং ইন্সটিটিউশনের সুখবর এবছরই দোহার-নবাবগঞ্জবাসী ইনশাল্লাহ পাবেন। একইসাথে এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা স্বাস্থ্যখাত উল্ল্যেখ করে তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশে রুপান্তর করেছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে এখন ডাটাবেস সেণ্টার চলে গিয়েছে। আমার পরিকল্পনা দোহার-নবাবগঞ্জকে দ্রুত মডেল হিসেবে এই ফাইবার অপটিক্সের মাধ্যমে কমিনিউটি ক্লিনিক হইয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সসহ একটি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ডাটাবেসের আওতায় নিয়ে আসা। যেখান থেকে একজন রোগী স্বল্পমূল্যের মাসিক ফি দিয়ে হেলথ কার্ডের মাধ্যমে নিজ উপজেলা বা ঢাকাসহ প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবেন। একইসাথে ডাক্তারও রোগীর সকল মেডিকেল রেকর্ড দেখে সেবা দিবেন। এটিকে এগিয়ে নিতে আমি দ্রুত কাজ করছি। এসব কাজে অগ্রসর দোহার-নবাবগঞ্জ পাশে থেকে সহায়তা করবে, পরামর্শ দিবে বলে মনে করি।

দোহার –নবাবগঞ্জে আমাদের প্রথম লক্ষ্য করোনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। সারাদেশে লকডাউনের প্রায় দেড় মাস পর্যন্ত করোনামুক্ত ছিলো দোহার-নবাবগঞ্জ। আমি দোহার-নবাবগঞ্জে প্রবেশের প্রায় ১১/১২টি স্থলপথ ও ৪/৫টি যে নৌপথ ছিলো সেগুলো আমি প্রশাসন ও পুলিশের মাধ্যমে লকডাউন করি। প্রত্যেক প্রবেশ পথে থার্মাল স্ক্যানার বসানো হয়েছিলো। কিন্ত তা সংক্রমিত হলো। কিভাবে? রাতের আধারে পায়ে হেটে নারায়ণগঞ্জ থেকে মানুষ দোহারে প্রবেশ করলো। আর নারায়গঞ্জ থেকে তাবলীগ জামাতের একটি গ্রুপ দোহার-নবাবগঞ্জে ফেরত আসলো। তবে, আল্লাহর রহমতে দোহার-নবাবগঞ্জে সংক্রমণ হার কম। আর মৃত্যু হারও কম। তবে সারাদেশেই মৃত্যু হার কম।

তিনি আরও বলেন, মানুষকে সচেতন হতে। আজ অগ্রসর দোহার নবাবগঞ্জের এই কার্যক্রমকে আমি স্বাগত জানাই। আর এই টেলিমেডিসিন সেবার উদ্বোধনের দিন আমি আপনাদের বলতে চাই, অগ্রসর দোহার-নবাবগঞ্জে প্লাটফর্ম থেকে এই চিকিৎসার সেবার পাশাপাশি তারা যেন সকলের কাছে সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়। আমি নিজে ৩ মাস বের হইনা, কাউকে বাসায় আসতেও বলিনা। সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পড়তে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জীবনকে নিরাপদ করে জীবন বাচানোর স্বার্থে জীবিকা উপার্জন করতে হবে।

তিনি স্থানীয় উপজেলা ও স্বাস্থ্য প্রশাশনের দাবীর প্রেক্ষিতে অনলাইনে মিটিং এ উপস্থিত স্বাস্থ্য সচিব আলী নুরকে পিসিআর মেশিন ক্রয়, ল্যাব স্থাপন করতে উদ্যোগ নিতে বলেন। একইসাথে ঢাকায় যে কোন ল্যাবকে দোহার-নবাবগঞ্জের জন্য ডেডিকেটেদ করা যায় কিনা সেটাও দেখবেন বলে সবাইকে আশ্বস্থ করেন। এছারা আইসোলেশন সেণ্টার আছে, সেটা কিভাবে কার্যকরী করা যায় সে ব্যাপারে সেই ব্যাপারে ২ উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিভাগকে উদ্যোগী হতে বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেন নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম সালাউদ্দিন মনজু, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার, প্রথম আলো বন্ধুসভার প্রধান উপদেষ্টা  সাইদুজ্জামান রওশন, এশিয়ান টিভির সিনিয়র রিপোর্টার লাবণ্য ভূঁইয়া, নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইমলাম, দোহার উপজেলা স্বস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো.জসিম,   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আহমাদুল হাসান খান সুমন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার,  দোহার নবাবগঞ্জ পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি আনিসুর রহমান খান, ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া, ডা. শ্যামলাল পাল,  ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা  শাহজাহান সিকদার , ডা. মেসবাহ উদ্দিন ও সেভ দ্য সোসাইটি এন্ড থান্ডার স্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা, দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেণ্টের তারেক রাজীব।  অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন  দোহার নবাবগঞ্জের কৃতি সন্তান প্রকৌশলী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক, দুই  বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের  নেতৃবৃন্দ।

মেঘুলায় ধরা পড়লো মিঠা পানির ডলফিন; পরে পদ্মায় অবমুক্ত

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার পদ্মা নদীর মেঘুলা এলাকায় জেলেদের জালে ধরা পরে দুইটি মিঠা পানির ডলফিন। স্থানীয় ভাবে যা শুশক হিসাবে পরিচিত। পদ্মার নদীর মেঘুলা অংশে ধরা পড়ে এই ডলফিন দুটি। বাচ্চা এই ডলফিন দুটি পরে পদ্মা নদীতে অবমুক্ত করা হয়।

 

সোমবার সকালে পদ্মা নদীর মেঘুলা অংশে ধরা পড়ে মিঠা পানির এই ডলফিন দুটি। জেলেদের মাছ ধরার ভেশালে আটকা পড়ে এক সময়ে পদ্মায় অবাধে ঘুরে বেড়ানো এই মিঠা পানির ডলফিন দুটি। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এই ডলফিন এখন পদ্মা নদীতে দেখা যায় না বললেই চলে। জেলে ও সাধারন মানুষের অবাধ হত্যার শিকার এই ডলফিন এখন দেখা যায় না বললেই চলে। এই সময় মানবিক আচরনের একটা উদাহরন রেখে গেলো মেঘুলা অংশের বাসিন্দারা। ডলফিন দুটিকে ভেশাল থেকে উদ্ধার করে জেলেরা। তারপর এই ডলফিনের বাচ্চা দুটিকে আবার মুক্ত করে দেয়া হয় পদ্মা নদীর অংশে।

তরুনদের ভাবনাঃ সামনে আসছে কঠিন সময়

covid-19 কে পৃথিবীর ইতিহাসে এক ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী হিসেবে দেখছি। পৃথিবীর ইতিহাসে ছাপ রেখে যাওয়া পূর্বের ভাইরাস গুলো কোন দেশ বা জাতিকে কেন্দ্র করে ছিল। কিন্তু সেইসব দেশ বা জাতি covid-19 এর মতো ভয়াবহতার শিকার হয় নি। তবে এমনো হয়েছে নানা যুগের নানা পরিস্থিতির বিবর্তনে অনেক জাতিই বিভিন্ন মহামারী অথবা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু এই covid-19 বিশ্বব্যাপী এর প্রভাব সৃষ্টি করেছে। তাই হয়তো বিশ্ব ধ্বংস হবে না, তবে এমন ভাবেই পঙ্গু হবে যা থেকে সুস্থ হতে বেশ বেগ পেতে হবে। আর সচেতনতার অভাব থাকলে বিশ্বের সেই পঙ্গু রূপ কল্পনার বাহিরে চলে যেতে পারে। covid-19 এর বর্তমান পরিস্থিতি দেখে শঙ্কা ছাড়া আর কিছুই মনে আসছে না। কারণ আগেই যদি বাংলাদেশের কথা বলি অধিকাংশ মানুষ বুঝতেই চাচ্ছে না covid-19 কতটা মারাত্মক ভাইরাস। অনেকে মজাও নিচ্ছে এই বিষয় নিয়ে। অধিকাংশই অসচেতনভাবে স্বাভাবিক চলাচল করছে কোন নিয়মকানুন ছাড়া। সতর্কতার ছিটে ফোঁটা নেই অনেকের মধ্যেই। যা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া covid-19 গোটা বিশ্বেই মহামারী আকারে বিস্তার লাভ করায় নানাদিক থেকেই পরিস্থিতি হুমকির মুখে পরছে। অর্থনৈতিক দিক দিয়েও বিশ্বকে covid-19 এর প্রকোপে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। covid-19 আমাদের পড়াশোনার উপর খারাপ প্রভাব ফেলছে। কারণ প্রায় সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই এই ভাইরাসের জন্য দেওয়া লকডাউনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরেছে। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থীই পড়ার মনোযোগ থেকে দূরে সরে গেছে। এতে করে নিয়মিত পড়ার রুটিনে অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে, দেখা দিচ্ছে পড়াশোনার প্রতি একপ্রকার অনিহা। এইভাবেই আরও বেশ কিছুদিন চলতে থাকার পর যদি পড়ালেখার কার্যক্রম শুরুও হয় এই বিশাল ব্যাবধানকে আগের পর্যায়ে আনতে হয়তো নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। covid-19 এর ভয়াবহতার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দ্রুত চালু করার বিষয়টিও সঠিক বলে মনে করছি না। কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমন এক জায়গা যেখানে সচেতন হয়ে, সামাজিক দুরুত্বে থাকা সম্ভব নয়। তবে পড়াশোনা বহাল রাখতে অনলাইন ক্লাসের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অনিহা সেই ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করছে। দোহার – নবাবগঞ্জে covid-19 এর ভবিষ্যৎ ফলাফল সত্যিই খুব ভয়ানক চিত্রই চোখের সামনে তুলে ধরছে। লকডাউনের প্রথম দিকে দোহার- নবাবগঞ্জ ফাঁকা থাকলেও এখন দেখে মনেই হবে না এক মহামারীর কবলে আমরা আছি। ঈদের সময়েই শুধু নয় প্রতিদিন-ই উপচে পরা ভীড়। সেই আগের মতোই। দিন দিন covid-19 এ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও অধিকাংশ মানুষেরই কোন মাথা ব্যাথা নেই। এমন কি যারা পজিটিভ তাদের মধ্যেও বলতে শুনেছি কোন সিমটম নেই ডাক্তার টাকা খাওয়ার জন্য পজিটিভ বলেছে। এমনকি বেশ কিছু দোকানদার আক্রান্ত হয়ে লকডাউন করে দিয়েছে দোকান এরপরেও অন্য দোকানদারকে বলতে শুনেছি, কোথায়?? এমন হলে শুনতাম না? এতো আক্রান্ত হইছে বলে তারা কোথায়? দেখলাম না তো কাউকে?” এইসব দেখে শুনে নবাবগঞ্জের বাসিন্দা হিসেবে খুবই শঙ্কায় আছি। তাই দোহার – নবাবগঞ্জ এর ভবিষ্যৎ ফলাফল বলতে পারাটা অনিশ্চিত…..

নীলাম্বরী শাহরিয়া

বাংলা বিভাগ

দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ

টুকনিকান্ডা, কলাকোপা, নবাবগঞ্জ, ঢাকা।

কোভিড রুগীর বাসায় চিকিৎসার একটি পূর্নাংগ নির্দেশনা

“করোনা ভাইরাস”একবিংশ শতাব্দির এক নতুন চ্যালেঞ্জ। সারাবিশ্ব এখন ব্যাস্ত করোনা ভাইরাস মোকাবিলায়। বিশ্বের সকল প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র যারা সকল দিক থেকে রোল মডেল হিসাবে ভূমিকা রাখছে তারাও আজ হিমশিম খাচ্ছে এই ভাইরাস মোকাবিলায়। স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা সামাল দিতে পারছেনা এই ভাইরাসে আক্রান্তদের সেবা দিতে। বিশ্বের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে এই করোনা ভাইরাস ইতিমধ্যে কমিউনিটিতে ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। ব্যাপকভাবে আক্রান্তের কারনে হাসপাতালগুলো রুগী জায়গা দিতে পারছেনা। ফলে হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে রুগী মারা যাচ্ছে রাস্তায়, বাসায় বা অপ্রত্যাশিত কোন জায়গায়। দায়ী করছি হাসপাতালকে, স্বাস্থ্যকর্মীকে সরকারকে। আসলে কি তাই। আসলে এই ভাইরাসকে না জানা,চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে ভূল ধারনা, সময়মত সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারা, সর্বোপরি ভয় আমাদের এই পরিণতিতে নিয়ে এসেছে। করোনা থেকে বাচতে হলে করোনাকে নিয়েই বাঁচতে হবে। ভয় পেয়ে এর থেকে বাঁচা যাবেনা । এই ধারনা থেকেই আমরা নিয়ে এসেছি হসপিটালইন হোমপ্রোজেক্ট।

করোনা ভাইরাস কি?

করোনা ভাইরাস, সেই সকল ভাইরাস পরিবারের সদস্য যারা আমাদের স্বাভাবিক ঠান্ডা কাশি থেকে শুরু করে SARS( Severe Acute Respiratory Syndrome) ও MERS(Middle East Respiratory Syndrome) করে থাকে। এই ভাইরাস পরিবারের সর্বশেষ আবিষ্কৃত সদস্য হচ্ছে কোভিড ১৯ যেটা মানব দেহে আগে কখনো আগে দেখা যায় নাই।

কারা এই ভাইরাসের সংক্রমনের ঝুঁকিতে আছেন?

১। প্রথঃমত সবাই,কারন এই ভাইরাস আগে মানব     দেহে সংক্রমন হয় নাই।

২। সংকটপূর্ণ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাক্তি যেমন   এইডস,ক্যান্সারের রুগী,জন্ম থেকে হরমন স্বল্পতার   রুগী, যাদের জীবন ধারনের জন্য স্টেরয়েড   অপরিহার্য ।

৩। কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাক্তি যেমন   বয়স্ক, গর্ভবতী মা , লিভার ও কিডনী সমস্যাগ্রস্থ   রুগী।

৪। যারা বেশি বেশি ভাইরাসে সংস্পর্শে আসছে   যেমন চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী,পুলিশ, সংবাদ কর্মী ।

ভাইরাসটি কোথায় কতক্ষণ জীবিত থেকে ছড়াতে পারে ?

এসব পদার্থ থেকে সংক্রমণ রোধে করনীয় কি?

১। অফিস আদালতে বা চাকুরী ক্ষেত্রে ব্যবহৃত   পোশাক বাসায় প্রবেশের সাথে সাথে সাবান বা   ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে দিন বা পোশাকগুলো   একটি  ব্যাগে দুই দিন পর্যন্ত রেখে দিন ।

২। বাহিরে ব্যবহৃত বেল্ট, ধাতব পয়সা, আংটি, ঘড়ি   ও অন্যান্য ধাতব পদার্থ একটি ব্যাগে তিন দিন   পর্যন্ত সংরক্ষিত রেখে ব্যবহার করুন।

৩। প্যাকেট বা কার্টুন আদান -প্রদানে সতর্ক থাকুন।   স্পর্শ লাগার পর দ্রুত হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।

৪। টাকা লেনদেনে যারা জড়িত তাদের খুব সতর্ক   থাকতে হবে । বাহিরের টাকা চার দিন পর্যন্ত   আলাদা জায়গায় রেখে পরে ব্যাবহার করুন।

৫। বাহিরে বার হলে মাস্ক ব্যাবহার করুন। মাথায়   পাতলা ক্যাপ ব্যাবহার করুন। বাসায় প্রবেশের  পূর্বে এগুলো ঢাকনা যুক্ত বিনে ফেলে দিন।

মাস্ক ব্যাবহারের সাধারণ নিয়ম?

১। কাপড়ের মাস্ক ব্যাবহার থেকে বিরত থাকুন।

২। এক দিনের জন্য একটি সার্জিক্যাল মাস্ক   ব্যবহার  করুন। মাস্কের বাহিরের বা ভিতরের অংশ   স্পর্শ করবেন না । দুই পাশের ব্যান্ড ধরে মাস্ক   পড়ুন  এবং খোলার ক্ষেত্রে ব্যান্ড ধরে খুলুন।

৩। যারা কে এন -৯৫ বা এন-৯৫ মাস্ক ব্যাবহার   করতে চান এবং পুনরায় ব্যাবহার করতে চান,তারা   ছয় টি মাস্ক ব্যাবহার করবেন। প্রথম থেকে ৬ষ্ঠ   দিন  পর্যন্ত পর পর ছয়টি মাস্ক ব্যাবহারের পর ছয়টি কাগজের ব্যাগে সংরক্ষণ করুন। সপ্তম দিনে প্রথম দিনের মাস্ক ব্যাবহার করতে পারবেন। এভাবে দুই মাস পর্যন্ত ব্যাবহার করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই খোলা ও মাস্ক পরার ক্ষেত্রে ২ এর নিয়ম মেনে চলতে হবে।

কোভিড ১৯এর উপসর্গ বা লক্ষন গুলো কি কি ?

১।  জ্বর

২।  কাশি

৩।  তীব্র মাথাব্যথা

 ৪।  ঘ্রান শক্তি লোপ পাওয়া

৫।  শ্বাস কষ্ট

৬।  আস্বাভাবিক দুর্বল লাগা বা কাজে আগ্রহ   হারানো ।

৭।  ডায়রিয়া

৮।  স্কিনের বিভিন্ন জায়গায় ঘা হওয়া

উপসর্গ দেখা দিলে কি করব?

উপরে উল্লেখিত উপসর্গ দেখা দিলে সাথে সাথে আইসোলেশনে যান। আইসোলেশনে যাবার ব্যাবস্থা না থাকলে বাসায় মাস্ক ব্যাবহার করুন। কিছু সময় পর পর হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। বাচ্চা ও বয়স্কদের থেকে দূরে থাকুন। আপনার কাপড় আলাদা রাখুন। মুখে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকুন। যে সকল মায়েরা বাচ্চাদের দুধ খাওয়ান তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের উপসর্গ দেখা দিলে বাচ্চা ধরার আগে বা দুধ খাওয়ানোর পূর্বে হাত ধুয়ে নিন ও মুখে মাস্ক পরে নিন। বাচ্চাদের খাওয়ার পাত্রগুলো ধরার আগে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।

আইসোলেশনের প্রয়োজনীয় জিনিস

১.  ইলেক্ট্রিক কেটলি

২. কাপ, গ্লাস, প্লেইট

৩. টি ব্যাগ

৪. ছুরি

৫. যে কোন মিনারেল ওয়াটার,১/২লিটার ও ৫     লিটার সাইজ

৬. মধু

৭. কালিজিরা

৮.  আদা

৯.  চিনি

১০. লবন্গ

১১. লেবু

১২. লবণ

১৩ মাল্টা, কমলা, আপেল এবং অন্য সিজোনাল   ফ্রুটস

১৪. প্লাস্টিক / পলি ব্যাগ

১৫. স্যান্ডেল

১৬. টিস্যু

 ১৭. হাদিস, কুরআন, সাহিত্য বই

১৮ মোবাইল, চার্জার , ল্যাপটপ, মাল্টিপ্লাগ

১৯. এক্সট্রা কাপড়, টাওয়েল,

২০. সাবান –লাক্স, চাকা, ডিটারজেন্ট

২১. সিভিট ফোরট ট্যাব্লেট, ভিটামিন ডি — যদি   খেয়ে না থাকে।

২২. প্যারাসিটামল, এন্টিহিস্টামিন, ইনহেলার,   পিপিআই, Zinc tablet (pep-2)

২৩. ভিনেগার– গারগল করার জন্য

২৪. এরোসল,

২৫. শুকনো খাবার– মুড়ি, চিড়া, কলা, খেজুর

২৬. আয়না, কাচি

২৭. mask, gloves, hand sanitizer

২৮. মগ, বালতি

২৯. pulseoxymeter

৩০. খাবার স্যালাইন ১০ প্যাকেট।

আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় সাধারণ চিকিৎসা

জ্বরের জন্য Tab. Napa extend 1+1+1

কাশির জন্য Tab. Fenadin 120 mg 0+0+1 15 days Tab. Monas 10 mg (যারা শ্বাস কষ্টের জন্য পূর্বে থেকে খেয়ে আসছেন। ) 0+0+1 15 days

 

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য

Tab. Vasco / ceevit 1+0+1 15 days Tab. Xinc/ Pep 1+0+1 15 days Cap. Vital D 20000 IU 0+0+1 5 days

সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যেস যা আইসোলেশনে করে উপকার পাওয়া যাবে

 ১।  হালকা গরম পানিতে লবন দিয়ে গড়্গড়া করা।   হালকা গরম ভিনেগার দিয়েও গড়্গড়া করা যায়   দিনে ৩-৪ বার

২।  আদা, রং চা চিনি ছাড়া প্রয়োজন মত।

৩।  গরম পানির ভাব নেয়া দিনে ২-৩ বার।

৪।  মধু, লেবুর হালকা গরম পানি পান করা।

৫।  অতিরিক্ত গরম পানি অনেক সময় গলার ক্ষতি   করতে পারে। সেক্ষেত্রে হালকা কাশিতে রক্ত   আসতে পারে।

৬।  ব্রিদিং এক্সারসাইজ করা, বড় করে শ্বাস নিয়ে   ৫   সেকেন্ড ধরে রাখা, এরপর ছাড়া। এভাবে ৫   বার শ্বাস নিয়ে ৬ষ্ঠ বারে শ্বাস নিয়ে দুটি কাশি দেয়া । এভাবে দিনে ৪-৫ বার করার অভ্যাস করা ।

৭।  ঘরের সাধারন ব্যায়াম করা। অধিকক্ষণ শুয়ে   না  থাকা। নিজের ঘর নিজে পরিস্কার করা ।

৮।  সাহস রাখা,আশাহত না হওয়া, বেশি বেশি   এবাদত করা বা নামাজ পড়। কোরআন   তেলাওয়াত করা।

কোভিড ১৯ টেস্ট পজিটিভ আসলে করনীয়

কোভিড নিয়ে বিশ্বের বড় বড় দেশে চিকিৎসার যে পদ্ধতি চলছে সব জায়গায়ই এখন আক্রান্তের পরপরই বাসায় চিকিৎসাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। স্যোসাল মিডিয়ায় অনেক আলোচনা এসেছে বিভিন্ন দেশের আইসিইউ বিশেষজ্ঞদের। যারা এই বিষয়ে চোখ রাখছেন তারা আশা করি খেয়াল করেছেন। মহামারীর এই সময়ে যখন কেউ আক্রান্ত হয় তখন কে বড় কে ছোট খুব বেশি পার্থক্য থাকে না। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন। ধনী- গরিবের পার্থক্য এখানে খুবই কম থাকে। আর হাসপাতালে যখন বেড খালি থাকবেনা তখন আপনি আমি কেউ ই আলাদা কোন হিসাব করতে পারব না। সুতরাং এই সময়ে প্যানিক হলে আপনারই বিপদ। এবার মূল কথায় আসি। কোভিড আক্রান্ত হলে প্রথমেই যে বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে। সাহস হারানো যাবে না। আপনি আমি জানি যে আক্রান্তের খুবই সামান্য ৫-৭% হাসপাতালে যাওয়া লাগে। আর তাদের মধ্যে ১-২% আইসিইউ এর দরকার হতে পারে। তাই আপনি আমি সাহস হারালে কেমনে চলবে। সাহস রাখুন।

স্বল্প মধ্যম উপসর্গের জন্য বাসায় চিকিৎসা পদ্ধতিঃ

  • স্বল্প উপসর্গ সম্পন্ন অবস্থায় সাধারণত কোন চিকিৎসা দরকার হয়না যদি কোন অতিরিক্ত ঝুকির লক্ষন না থাকে।
  • জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল Tab. Napa extend1+1+1
  • ঠান্ডা বা হালকা কাশির জন্য Tab. Fenofex 120mg/Tab. Fenadin 0+0+1
  • যাদের পূর্বে থেকেই এলার্জি সমস্যা আছে এবং Monteleukast 10 mg ব্যাবহার করে আসছেন তারা এটা দিনে ১ টি করে চালাতে পারেন।
  • Tab. Zimax 500mg /Tab. Tridosil 500 mg ১ টি করে সকালে ও রাত্রে ৭ দিন অথবা Cap Doxicap 100mg ১ টি করে সকালে ও রাত্রে ৭ দিন। একই সাথে দুটি এন্টিবায়োটিক খাওয়ার দরকার নেই।
  • Tab.Scabo 6mg / Tab Ivera 6mg এর দুটি ট্যাবলেট একসাথে একবারের জন্য।
  • যারা শ্বাস কষ্টের জন্য Inhaler ব্যাবহার করে আসছেন । তারা যথারীতি তা ব্যাবহার করে যাবেন আগের নিয়মে। তবে এখন Sapcer নামক একটি যন্ত্র আছে সেটি ব্যাবহার করে Inhaler নিতে হবে।
  • যাদের কাশি আছে এবং উপরের চিকিৎসায় যাচ্ছে না তারা Bexitrol F 50/100 অথবা Ticamet 100 Inhaler দিনে দুইবার করে ব্যাবহার করতে পারেন।
  • নেবুলাইজেশন কোন ক্রমেই ব্যাবহার করা যাবেনা । এতে ঘরের অন্য সদস্য আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকগুন বেড়ে যায়।
  • প্রচুর পরিমান পানি বা তরল খাবার খাওয়া যেতে পারে।
  • শর্করা জাতীয় খাবার কম খেয়ে টক জাতিয় ফল বেশী খাওয়া যেতে পারে।
  • হালকা গরম পানিতে লবন দিয়ে গড়্গড়া করা। হালকা গরম ভিনেগার দিয়েও গড়্গড়া করা যায় দিনে ৩-৪ বার
  • আদা, রং চা চিনি ছাড়া প্রয়োজন মত।
  • গরম পানির ভাব নেয়া দিনে ২-৩ বার।
  • মধু, লেবুর হালকা গরম পানি পান করা।
  • ঘরে অধিকক্ষণ শুয়ে না থেকে হালকা ব্যায়াম করুন।
  • ব্রিদিং এক্সারসাইজ করুন।

 

কোভিড ১৯ পজিটিভ রুগী বাসায় কিভাবে ফলোআপ করবে দরকারী জিনিস

১।  প্রেসার মাপার যন্ত্র।

২।  পালস অক্সিমিটার

৩।  থার্মোমিটার

৪।  ইনহেলার নেয়ার জন্য একটি ভালো মানের   স্পেসার।

৫।  স্মার্ট ফোন।

ফোনে সেবা গ্রহনের পূর্বে যে সকল তথ্য হাতে নিয়ে নিবেন?

১. লক্ষন

২. বয়স

৩. পূর্বে কোন ডায়াবেটিস , প্রেশার বা শ্বাস কষ্ট   আছে কিনা

৪. পেশা কি

৫. পরিবারের কোন সদস্যের কোন রোগ আছে   কিনা।

৬. ক্যান্সারের রোগ আছে কিনা।

৭. আপনার প্রেশার

৮. পালস অক্সিমিটারের রিডিং

৯.থার্মোমিটারে জ্বর কত।

 

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নীরিক্ষাঃ

  1. CBC
  2. CRP
  3. Random Blood sugar, if diabetic then Fasting, 2 hours after breakfast blood sugar, HbA1c
  4. Liver function test- SGPT, S. Albumin
  5. Renal function test- S. Creatinine, Urine R/E, eGFR 6. CXR

বাসায় পালস অক্সিমিটারের সাহায্যে মনিটরিংও অক্সিজেনের ব্যাবহারঃ

 বাসায় Pulse Oxymeterরাখুন Spo2 90-92 পর্যন্ত বাসায় অনায়াসে অক্সিজেন সিলিন্ডার এর সাহায্যে উন্নতি করা সম্ভব। Pulse Oxymeter এর রিডিং ৯০ বা নিচে নেমে গেলে অক্সিজেন নিন। অক্সিজেন নেয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে মিটারের দুই দাগ পর্যন্ত অক্সিজেন নিন এবং ১০-২০ মিনিট দেখুন রিডিং ৯০ এর উপরে উঠে কিনা। এভাবে রিডিং ৯৮-১০০ পর্যন্ত অক্সিজেন বাড়াতে থাকুন ১০ -২০ মিনিট পরপর । যে দাগে এসে স্যাচুরেশন ৯৮-১০০ থাকে সেটাতে মিটার ঠিক রাখুন। এভাবে ১-২ ঘন্টা অক্সিজেন নিন। পরবর্তী আধা ঘন্টা ব্রিদিং এক্সারসাইজ করুন, উপুড় হয়ে শ্বাস নিন, ডান কাতে বা বাম কাতে শ্বাস নিন।

অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যাবহারঃ

অক্সিজেন সিলিন্ডার সঠিক ভাবে ব্যাবহার না করতে পারলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে আবার এর অপচয়ও হতে পারে।

  1. অক্সিজেন সিলিন্ডার এরসাথে একটি নীল বা সবুজ রং এর ফ্লোমিটার থাকে সেটি বাম হাতের দিকে রেখে এবং একটি চাকতির মত বাটন আছে সেটি ডানহাতে রেখে সোজা করে দাড় করান।
  2. প্রথমেই ডানহাতের বড় চাকতি অংশটি ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরান। একটু শক্তি প্রয়োগ করা দরকার হতে পারে। মাঝখানের বড় মিটার দেখুন সেটি নড়ে কিনা বা ১০০০ বা ১৫০০০ বা ২০০০ দাগে উঠে কিনা।
  3. এবার সবুজ বা নীল একটি বাটন আছে বাম হাতের অংশে সেটি ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরান। সেখানে ১ থেকে ১৫ দাগ পর্যন্ত দাগ আছে । ভেতরের সাদা বলটির নিচের অংশের সাথে দাগ মিলান।
  4. প্রথমে সাদা বলটি দুই দাগে নিয়ে দেখুন ১০-১৫ মিনিট। তারপর ধিরেধিরে বাড়ান । পালস অক্সিমিটারের রিডিং ৯৯ হলে আর অতিরিক্ত অক্সিজেন দরকার নেই। সেই দাগেই নীল বা সবুজ বাটন স্থির রাখুন।
  5. ছবিতে দেখানো পদ্ধতিতে মাস্ক বা ন্যাজালক্যনুলা ফিট করুন।

ব্রিদিং এক্সারসাইজঃ

বুক ফুলিয়ে শ্বাস নিন এবং ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে পাঁচবার করুন । ৬ষ্ঠ বার বুকফুলিয়ে শ্বাস নিয়ে দুটি কাশি দিয়ে ছেড়ে দিন। এভাবে দিনে একাধিকবার করার চেষ্টা করুন।

 

প্রন পজিশন বা উপুড় হয়ে শ্বাস নেয়াঃ

উপুড় হয়ে বুকের দুই পাশে দুটো বালিশ দিয়ে শ্বাস নেয়ার অভ্যাস করুন দিনে ১ ঘন্টা অথবা আধা ঘন্টা করে তিন বার। উপুড় হয়ে শ্বাস নিতে না পারলে ডান কাতে বা বাম কাতে শ্বাস নিন আধা ঘন্টা করে। প্রতি ক্ষেত্রেই pulse oxymeter এর রিডিং খেয়াল করুন বৃদ্ধি পায় কিনা। মনে রাখতে হবে অধিক সময় অক্সিজেন নেয়াও খারাপ হতে পারে। আপনার শ্বাস নেয়ার মাংশ পেশীগুলো সচল রাখতে হালকা ব্যায়াম করুন। বাসায় প্রতি ২ ঘন্টা পরপর শুধুমাত্র আপনার জন্য ব্যবহৃত থার্মোমিটারে জ্বর মাপবেন এবং কাগজে লিখে রাখবেন। আর অন্যান্য যে সাধারণ কিছু অভ্যাসের কথা বললাম সেগুলো আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু উন্নতি এনে দিতে পারে যদিও শক্তিশালী কোন গবেষণা নেই।

বাসায় পালস অক্সিমিটার না থাকলে কিভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস এর খারাপ হওয়া ফলো আপ করবেনঃ

রথ (ROTH) স্কোরের মাধ্যমে আপনি জেনে নিতে পারেন আপনার শ্বাস প্রশ্বাস ভালো আছে না কি হাসপাতালে যেতে হবে। একবার শ্বাস নিয়ে ১ থেকে ৩০ পর্যন্ত গুনে যান । স্টপ ওয়াচের মাধ্যমে দেখে নিতে পারেন। আপনি যদি ৯ এর বেশি গুনতে না পারেন অথবা ৫ সেকেন্ডের বেশি সময় গুনতে না পারেন তাহলে খারাপ । আপনাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখার ক্ষেত্রে সতর্কতাঃ

বাসায় একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার কোভিড চিকিৎসার জন্য খুবই সহায়ক । আবার অক্সিজেন সিলিন্ডার সতর্কতার সাথে ব্যাবহার না করলে মারাত্নক খারাপ অবস্থা হতে পারে।

১। অবশ্যই সিলিন্ডার রান্না ঘর থেকে দূরে রাখতে   হবে।

২। যে ঘরে সিলিন্ডার থাকবে সেখানে কোন   অবস্থায়  ধূমপান করা যাবেনা।

৩। কোন ধরনের মশার কয়েল জ্বালানো যাবেনা।

৪। যে কোন ধরনের দায্য পদার্থ থেকে দূরে রাখতে   হবে।

হাসপাতালে কি হচ্ছে আর আপনি যেয়ে কি পাবেনঃ

হাসপাতালে প্রথমত অক্সিজেন দিয়েই রাখা হয়। কাছে কোন সাহায্যকারী পাবেন না, আপনি যেই হোন। সাধারণ সেবা এখানে ব্যাহত, কি কারনে এটা ব্যাহত সেটা আপনি আমি ভালোই জানি। আর মৃত্যু ভয় সব জায়গায়ই কাজ করে। পরীক্ষা নিরীক্ষা দেরিতে হচ্ছে স্টাফ স্বল্পতা, আরো অনেক যৌক্তিক কারনে। সেক্ষেত্রে আপনার মানসিক অবস্থা দূর্বল হয়ে যায়। আপনার নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা হারাতে থাকেন। মানসিক অবস্থা অটুট রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালে যা অতিরিক্ত করা হবে একটি ক্যানুলা । এই রোগের আপডেটেড চিকিতসায় ব্যবহৃত হওয়া কিছু ওষুধ antibiotics, low Molecular wt heparin, fluid. Ramdesivir, Tocilizumab, etc.যেটাও বাসায় করা সম্ভব দক্ষ চিকিৎসকের সাথে ফোনে পরামর্শ করে। বরং সাধারণ বিষয় বা অভ্যাস গুলো যা আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি এনে দিতে পারে সেটা হাসপাতালে পালন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

কখন হাসপাতালে যাবেন?

১. মারাত্মক দুর্বল হয়ে গেলে

২ .জ্বর বেড়ে যাচ্ছে বা নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে।

৩.  মারাত্নক ডায়রিয়া হলে ।

৪. শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে বা পালস অক্সিমিটারের   রিডিং অক্সিজেনসহ ৯০ এর নিচে চলে গেলে।

৫. বুকে মারাত্নক চাপ বা ব্যথা অনুভব করলে।

৬.  মুখ বা জিহবা নীল হয়ে গেলে। এই পর্যায়ে সাধারণত খুব কম রুগিই পাওয়া যায়।

আইসিইউ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনাঃ

আইসিইউ তে যে খুব বেশি কিছু করা যায় সেটা ভাবা ভূল। আইসিইউ স্বল্পতা, অপ্রতুল চিকিৎসক স্টাফ, যন্ত্রপাতির অভাব, জনবল সংকট, পরিক্ষা করানোর ঘাটতি, সব মিলিয়ে আইসিইউ তে আমাদের কিছু করার থাকে না। অনেকেই মনে করেন একটা আইসিইউ বেড কত সুবিধা এনে দিতে পারে। উন্নত দেশগুলোতে এত এত সুবিধা থাকা সত্বেও খুব কম সংখ্যক রুগীকে ফেরাতে পারছে। আমাদের এই অবস্থায় বেশি আশা করা যায় না। সাহস রাখুন, মনোবল অটুট রাখুন। আক্রান্ত হওয়ার আগেই সতর্ক থাকুন, বাসায় থাকুন। ইনশা আল্লাহ আমাকে, আপনাকে আল্লাহই রক্ষা করবেন। মহান আল্লাহ সকলকে এই মহামারীর হাত থেকে রক্ষা করুন।

ডাঃ মোহাম্মদ আহাদ হোসেন

কনসালটেন্ট কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা

কাল উদ্বোধন অগ্রসর দোহার-নবাবগঞ্জের টেলিমেডিসিন সেবা

সারা দেশের মতো ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ইতিমধ্যে দোহারে আক্রান্তের সংখ্যা ২১১ জন ও নবাবগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৫৪ জন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অগ্রসর দোহার-নবাবগঞ্জের করোনা আক্রান্ত রোগী ও অসুস্থদের সেবা দেয়ার জন্য কাল মঙ্গলবার উদ্ভোধন হবে টেলিমেডিসিন সেবা। আর এই টেলিমেডিসিন সেবা কার্যক্রমের উদ্ভোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর। অনলাইনে এই টেলিমেডিসিন সেবার কার্যক্রম উদ্ভোধন হবে। অনুষ্ঠানটি অগ্রসর দোহার নবাবগঞ্জের ফেসবুক পেজ ও নিউজ৩৯ এর ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

নবাবগঞ্জের ডা. ফাহিমা আফরোজ করোনা আক্রান্ত

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ফাহিমা আফরোজ করোনা আক্রান্ত। তিনি শুরু থেকেই হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা প্রদান করে আসছিলেন। তিনি এখন ঢাকার নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন। নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা কন্ট্রোল কর্নারের ফোকাল পার্সন ড. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ড. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ বলেন, মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ফাহিমা আফরোজ ছাড়াও আমাদের আরও একজন চিকিৎসক ও দুজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডা. ফাহিমা আফরোজ বলেন, করোনার শুরু থেকেই ভয় কে জয় করে সতর্কতার সাথে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ ও জরুরী বিভাগের সেবা দিয়েছে। হঠাৎ গত ৫জুন গা গা গরম দেখা দেয়। পরের দিন তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ওষুধ সেবন করি। ৮ ও ৯ জুন অফিস করি। ১০ জুন জ্বর না কমায় স্যাম্পল দেই। ১৭ জুন রিপোর্ট আসে আমার করোনা পজেটিভ। ইতিমধ্যে আমার দুই ছেলে, একজনের বয়স ৬ মাস আরেকজনের বয়স সারে তিন বছর। ইতোমধ্যে স্বামী শ্বশুর-শাশুড়ি মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তাদের টেস্ট করতে দেয়া হয়েছে।

করোনা আক্রান্ত ডা. ফাহিমা আফরোজ সকলের দোয়া কামনা করে বলেন বলেন, চিকিৎসকের ধর্মে হচ্ছে রোগীকে সুস্থ করে তোলা। তাই করোনার এই দুঃসময়ে মানুষজনকে সেবা দেয়ার জন্য আবার ফ্রন্ট লাইন যোদ্ধা হিসেবে ফিরতে চাই।

উল্লেখ্য, ডা. ফাহিমা আফরোজ এর রোগমুক্তি কামনা করেছেন অগ্রসর দোহার-নবাবগঞ্জ, সেভ দ্য সোসাইটি এন্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম, দোহার-নবাবগঞ্জ পেশাজীবী পরিষদ, একুশে ব্লাড ডোনার্স ক্লাব ও নিউজ৩৯।

দোহারে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ৩১ জনকে জরিমানা

করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি শেষে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে শুরু হয়েছে  চলাচল। খুলেছে মার্কেট, দোকান-পাট। কিন্তু সবখানে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। নাগরিকদের মধ্যে মাস্ক, গ্লাভস পরার প্রবণতাও খুবই কম। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার (২১ জুন) দোহার উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সামাজিক দুরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্য বিধি মানাতে এবং নির্ধারিত সময়ে দোকান খোলা রাখায় মোবাইল কোর্ট ও জনসচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। নূন্যতম স্বাস্থ্যবিধি না মান্য করার অপরাধে ৩১ জন কে১৭টি মামলায় ছয় হাজার চারশত টাকা  অর্থদন্ড প্রদান ও সতর্ক করা হয়।

সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতেই দোহার উপজেলা প্রশাসনের  মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এজন্য সবাইকে করোনা সংক্রমণ থেকে বাচঁতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়।

সে সময়  জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র  সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মানুষকে বাঁচাতে এবং সচেতন করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সে সময় তাকে  দোহার থানা পুলিশের এ এস আই তুহিন সহ পুলিশ সদস্যগন সহযোগিতা করেন।

ডাক্তার হত্যার প্রতিবাদে দোহার-নবাবগঞ্জের ডাক্তারদের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত

বাগেরহাট ম্যাটস এর অধ্যক্ষ ও বিএমএ এর আজীবন সদস্য ডা. আব্দুর রকিব খানের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে বিচারের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে   দোহার নবাবগঞ্জ শাখা  বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের এক  প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ  নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে  চিকিৎসকগণ কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেন। ২১ জুন রবিবার দুপুরে দোহার ও নবাবগঞ্জ  মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন আয়োজনে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় ।

এ সময়  প্রতিবাদ থেকে হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের আওতায় এনে বিচারের জোর দাবি জানানো হয়। এ সময় দোহার ও নবাবগঞ্জ  হাসপাতালের কনসালটেন্ট বৃন্দ সহ অন্যান্য চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে,গত ১৬ জুন সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন ডা. আব্দুর রকিব খান।

আওয়ামী লীগের ৭১ বছর: যেভাবে জন্ম হয়েছিল দলটির

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের অভ্যুদ্যয়ের সাথে যেই দলটি সরাসরিভাবে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের মাটি ও রক্তের সাথে মিশে থাকা এই রাজনৈতিক দলের আজ ৭১ তম জন্ম দিন।

বিবিসি বাংলায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় এই দলের জন্মের ইতিহাস।

১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন বিকালে ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে গঠিত হয় নতুন একটি রাজনৈতিক দল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরবর্তীতে সেই দলের নাম পরিবর্তন হয়ে হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

যেভাবে গঠিত হয়েছিল আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের উত্থান নিয়ে একটি বই লিখেছেন লেখক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহিউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলছেন, ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান হওয়ার পরে ঢাকায় মুসলিম লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন মাওলানা আকরাম খান এবং খাজা নাজিমুদ্দিন।

সোহরাওয়ার্দী-আবুল হাশেম নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের অনুসারী যে প্রোগ্রেসিভ [উদারপন্থী) নেতারা ছিলেন, তারা তখন সেখানে নিজেদের অবহেলিত মনে করছিলেন। তখন তারা মোঘলটুলিতে ১৫০ নম্বর বাড়িতে একটি কর্মী শিবির স্থাপন করেছিলেন। সেখানে তারা একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার কথা চিন্তা করছিলেন। কলকাতা থেকে এসে শেখ মুজিবুর রহমান তাদের সাথে যুক্ত হন।

তখন টাঙ্গাইলে প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ পদত্যাগ করার কারণে শূন্য হওয়া একটি উপনির্বাচনে দুই দফায় মুসলিম লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছিলেন মওলানা ভাসানী এবং শামসুল হক। কিন্তু তাদের দুজনের নির্বাচনী ফলাফলই অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

তখন তারাও এসে এই মুসলিম কর্মীদের সঙ্গে মিলে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করার কথা ভাবতে শুরু করেন। তারা একটি সভা ডাকেন। সেই সভা ডাকার প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী আর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ইয়ার মোহাম্মদ খান।

কিন্তু সেই সভা করার জন্য কোন অডিটোরিয়াম পাওয়া যাচ্ছিলো না। তখন কে এম দাস লেনের কাজী হুমায়ুন রশীদ তার মালিকানাধীন রোজ গার্ডেনে সভা করার আহবান জানান।

সেখানেই ২৩শে জুন বিকালে আড়াইশো-তিনশো লোকের উপস্থিতিতে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রস্তাব অনুযায়ী সেই দলের নামকরণ করা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’।

সেই সঙ্গে পুরো পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সংগঠনের নাম রাখা হয় ‘নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’, যার সভাপতি হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

আওয়ামী লীগের ৭১ বছর

যারা ছিলেন নবগঠিত রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে

নতুন দল গঠনের পর মওলানা ভাসানীকে দায়িত্ব দেয়া হয় একটি নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করার জন্য। তিনি অন্যদের সাথে পরামর্শ করে একটি কমিটি ঘোষণা করেন।

সেই নতুন কমিটির সভাপতি হলে মওলানা ভাসানী। সহ-সভাপতি হলেন আতাউর রহমান খান, আলী আমজাদ খান, আহমেদ আলী খান, শাখাওয়াত হোসেন ও আবদুস সালাম খান।

সাধারণ সম্পাদক হলেন শামসুল হক।

ট্রেজারার হন ইয়ার মোহাম্মদ খান, যার মালিকানাধীন রোজ গার্ডেনে প্রথম সভার আয়োজন হয়।

শেখ মুজিবুর রহমান তখন কারাগারে আটক থাকলেও তাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

এভাবেই প্রথম ৪০ জনের কমিটি গঠিত হয়। তবে পরবর্তীতে তাদের অনেকে আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকেন নি।

পরের দিন, ২৪শে জুন আরমানিটোলা ময়দানে একটি জনসভা ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন মুসলিম লীগের কর্মীরা সেই সভায় হামলা করেছিলেন।

লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, ”অলি আহাদের বইতে একটি ভাষ্য পাওয়া যায় যে, রোজ গার্ডেনের সভায় কিছুক্ষণের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন এ কে ফজলুল হক। তিনি তখন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেল ছিলেন (বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল পদ)। কিন্তু সরকারি পদে থাকার কারণে তিনি কিছুক্ষণ পরেই সেখান থেকে চলে যান।”

দলের নামের পরিবর্তন

লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, ”দলের নামের সঙ্গে মুসলিম শব্দটি থাকায় পরবর্তীতে কেউ কেউ আপত্তি করছিলেন। এ নিয়ে দলে বেশ একটি বিরোধ তৈরি হয়েছিল, যে মুসলিম শব্দটি থাকবে নাকি থাকবে না।”

তখন হিন্দু এবং মুসলিম আসনে আলাদাভাবে নির্বাচন হতো। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় একটা সমঝোতা হয়েছিল যে, এই দলটি একটি অসাম্প্রদায়িক দল হবে। ওই নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন পায় যুক্তফ্রন্ট, যা পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সঙ্গে কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল, পাকিস্তান খেলাফত পার্টি আর নেজামে ইসলামী পার্টির সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল। আওয়ামী মুসলিম লীগ পেয়েছিল ১৪৩টি আসন।

যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

”যদিও মওলানা ভাসানী দলকে অসাম্প্রদায়িক করতে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়ার জন্য জোর দিচ্ছিলেন, কিন্তু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী চাইছিলেন যে মুসলিম শব্দটি থাকুন। কারণ তার ভয় ছিল, এটা বাদ হলে পশ্চিম পাকিস্তানে জনপ্রিয়তা কমে যাবে,” বলছেন মি. আহমদ।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর ১৯৫৫ আওয়ামী মুসলিম লীগে যে কাউন্সিল হয়, সেখানে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়া হয়। ফলে অমুসলিমরাও এই দলে যোগ দেয়ার সুযোগ পান।

তবে পূর্ব পাকিস্তান শব্দ দুইটি বাদ পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে।

বাংলাদেশে স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর থেকে প্রবাসী সরকারের সব কাগজপত্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নাম ব্যবহার হতে শুরু করে।

আওয়ামী লীগের প্রথম ভাঙন

মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, ” ১৯৫২ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক অসুস্থ হয়ে পড়লে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান শেখ মুজিবুর রহমান। পরের বছর ঢাকার মুকুল সিনেমা হলে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্মেলনে তাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।”

পরবর্তীতে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

তবে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে মত-পার্থক্যের কারণে ১৯৫৭ সালে এই রাজনৈতিক দলটিতে ভাঙন দেখা দেয়।

লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, ”তখন আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের সরকারে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের কয়েকটি সামরিক চুক্তি হয়। সিয়াটো এবং সেন্টো সামরিক জোটে পাকিস্তান সদস্য ছিল।”

“মওলানা ভাসানী এবং দলের মধ্যে থাকা বামপন্থীরা চাপ দিচ্ছিলেন যাতে আওয়ামী লীগ মার্কিন সামরিক জোট থেকে বেরিয়ে আসে। সোহরাওয়াদীকে মার্কিন চুক্তির সমর্থক বলে মনে করা হতো।”

পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি বাতিলের দাবি করছিলেন মওলানা ভাসানী, কিন্তু তাতে রাজি হননি প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী।

ওই বিরোধের একটা পর্যায়ে এসে টাঙ্গাইলের কাগমারিতে দলের যে সম্মেলন হয়, সেখানে মওলানা ভাসানীর প্রস্তাবটি ভোটাভুটিতে হেরে যায়। এরপর ১৮ই মার্চ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মওলানা ভাসানী।

সেই বছর ২৫শে জুলাই তিনি ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন। আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে অনেক নেতা তার নতুন দলে যোগ দেন, যাদের মধ্যে ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইয়ার মোহাম্মদ খানও।

তখন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ। সাধারণ সম্পাদক হিসাবে থাকেন শেখ মুজিবুর রহমান।

আওয়ামী লীগের ৭১ বছর

বর্তমান আওয়ামী লীগ

১৯৬৪ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগ আবার পুনর্গঠন করা হয়।

লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, ”আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার জন্য তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে অনুরোধ করেছিলেন শেখ মুজিব। কিন্তু মানিক মিয়া তাতে রাজি হননি, কারণ তিনি লেখালেখি নিয়ে থাকতে চেয়েছিলেন। জাস্টিস মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামের সাবেক একজন মন্ত্রীকেও অনুরোধ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনিও সভাপতির দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। ”

”তখন ১৯৬৪ সালের কাউন্সিল সভায় মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশকে পুরোপুরি সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক থেকে যান।”

”কিন্তু ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচী ঘোষণা করার পর মাওলানা তর্কবাগীশসহ অনেকেই তার বিরোধিতা করেন।”

”ওই বছর মার্চ মাসে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল মিটিংয়ে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ। যারা ছয় দফার বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের অনেক নেতাই আওয়ামী লীগ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।”

সেই নেতৃত্বের হাত ধরেই বাংলাদেশ পরবর্তীতে স্বাধীন হয়, বলছেন মি. আহমেদ।