সদ্য বিদায়ী ইউএনওর সাথে নিউজ৩৯ ও ডিএনএসএমের বিদায়ী সাক্ষাৎ

সদ্য বিদায়ী দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবার সাথে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে নিউজ৩৯ ও দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট। আজ দুপুর সাড়ে বারোটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে তার সাথে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করা হয়।

সদ্য বিদায়ী দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবার সাথে বিদায়ীও সাক্ষাৎ করার জন্য আজ সাড়ে বারোটায় তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয় নিউজ৩৯ ও ডিএনএসএম। এই সময় আফরোজা আক্তার রিবার সাথে সোউজন্য মুলক আলাপ ও তার হাতে ফুল তুলে দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়। এই সময় আফরোজা আক্তার রিবা নিউজ৩৯ ও ডিএনএসএমের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন নিউজ৩৯ এর সম্পাদক ও ডিএনএসএমের সভাপতি তারেক রাজিব, ডিএনএসএমের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান সুমন, নিউজ৩৯ এর চিফ নিউজ রিপোর্টার ও ডিএনএসএমের দপ্তর সম্পাদক আছিফুর রহমান, নিউজ৩৯ এর স্টাফ রিপোর্টার জুবায়ের শরিফ, নিউজ৩৯ এর স্টাফ রিপোর্টার তৌহিদুল ইসলাম, নিউজ৩৯ এর স্টাফ রিপোর্টার আল আমিন, ডিএনএসএমের হাবিব, আজিম খান, আশিকুল গাজি, সেলিমসহ ডিএনএসএমের কর্মিরা।

সদ্য বিদায়ী ইউএনওর সাথে নিউজ৩৯ ও ডিএনএসএমের বিদায়ী সাক্ষাৎ

 

উল্লেখ্য আফরোজা আক্তার রিবা সদ্য পদোন্নতি পেয়ে গাজিপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন।

জুলাইতে যাত্রী পরিবহনে সী ট্রাকঃ সেপ্টেম্বরে মৈনটে ফেরিঘাট উদ্বোধন

আসছে সেপ্টেম্বর মাসে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দোহারের মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাটে ফেরি চলাচল। যার ফলে  ঢাকা জেলা দক্ষিণের সাথে ফরিদপুর জেলার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। রবিবার সকালে নৌ-রুট পরিদর্শন শেষে এমনটা জানিয়েছেন বিআইডব্লিওটি এর একটি প্রতিনিধি দল।

ফরিদপুরের গোপালপুর ও দোহারের মৈনটঘাটে ফেরিচলাচলের জন্য নৌ-রুট এলাকা পরিদর্শন করেন  স্থানীয় সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী ওবিআইডব্লিওটি এর একটি প্রতিনিধি দল।

এছাড়াও ফেরি চলাচলের আগে গোপালপুর থেকে মৈনটে যাতায়াতের জন্য চালু হবে সি-ট্রাক।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন, সদরপুর এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এখানে ফেরি চালুর উদ্যোগ নেন। সড়ক ও জনপদ বিভাগের দুটি ফেরিও নিয়ে আসা হলে নানা জটিলতায় আর চালু করা যায়নি। পরে গতমাসে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এই রুটে ফেরি চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিআইডব্লিওটিএ’র চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক, প্রধান প্রকৌশলী মহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলামসহ ঊর্দ্ধতন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের একটি দল ঘাট ও নৌ-রুটটি পরিদর্শনে আসেন।

স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি গোপালপুর টু মৈনটে ফেরিচলাচলের উদ্যোগ নেন। পরে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় জরিপ করে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে এই রুটে ফেরি চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি জানান, আমার নির্বাচনী ওয়াদা ছিল চরভদ্রাসন, সদরপুরের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে গোপালপুর থেকে মৈনট নৌ-রুটে ফেরি চলাচলের জন্য ফেরিঘাট স্থাপন করা। এবং আগামী আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ফেরিচলাচল শুরু হবে। ওছাড়াও মানুষের কথা মাথায় রেখে ভোগান্তি ছাড়া যাতায়াতের সি-ট্রাক চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

দোহারে ঝনকিতে যুবকের উপর সন্ত্রাসী হামলা

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার ঝনকি গ্রামের রাতুল ভুইয়া নামক যুবককে কুপিয়ে আহত করেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসীর দল। আহত রাতুল ভুইয়া ঝনকি গ্রামের সোরহাব ভুইয়ার ছেলে। এই ঘটনায় আহত রাতুলের চাচা বাদী হয়ে ৫/৬ জনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার উত্তর শিমুলিয়া গ্রামের ঈমান আলী জামে মসজিদে এশার নামাজী সময় বাইরে পাকা রাস্তার উপর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আরাফাত ও লিয়ন হামলা করে। এই সময় রাতুল ভুইয়াকে তারা এলোপাথারি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। এই সময় রাতুল ভুইয়ার চিতকারে মসজিদের মুসুল্লিরা এগিয়ে আসলে আরাফাত,লিয়ন ও অন্যান্যরা মটর সাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রাতুলকে উদ্ধার করে দোহার উপজেরলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতুলকে ঢাকা প্রেরন করেন।

 

 

আহত রাতুলের বড় চাচা শহিদুল ইসলাম ভুইয়া নিউজ৩৯ কে বলেন, রাতুল খুলনার বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লান্টে কাজ করতো। করোনা মহামারীতে রাতুল বাড়ি ফেরত আসে। বৃহস্পতিবার উত্তর শিমুলিয়া নব নির্মিত পাকা ব্রিজের উপর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আরাফাত, লিয়নরা এলাকার বখাটে ছেলেপেলেদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলো। এমন সময় তারা এক মহিলাকে ইভটিজিং করলে রাতুল এর প্রতিবাদ করে। এই ঘটনার জের ধরে সেই দিন রাতেই দেশীয় অস্ত্রসহ এশার নামাজের পর রাতুলের অপেক্ষায় উত পেতে থাকে রাতুল ও লিয়নরা। এই সময় রাতুল ঐ পথ দিয়ে ফেরার পথে তার উপর হামলা করে সন্ত্রাসীরা।

 

 

এই বিষয়ে দোহার এস আই নাজমুল হক এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এই ঘটনার পর থেকে সন্ত্রাসীরা ঘর-বাড়ি তালা মেরে পালিয়েছে। তাদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।

বিনামূল্যে করোনার নমুনা পরীক্ষা বন্ধ হচ্ছে

সরকারি খরচে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মহামারি করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা বন্ধ হচ্ছে! নমুনা পরীক্ষার জন্য সরকার নির্ধারিত অংকের টাকা ফি-বাবদ গুনতে হবে। ইতোমধ্যে করোনা পরীক্ষার জন্য একটি ফি চালুর ব্যবস্থা (অর্থ বিভাগের সম্মতি-সাপেক্ষে) অনুমোদনের প্রস্তাব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হাসপাতাল অনুবিভাগ থেকে পেশ করা হয়েছে।

কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ফি ধারণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ব্যয়বহুল এ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার ফলে পরীক্ষাটির অনেক অপব্যবহার হচ্ছে। এই অপব্যবহার রোধে একটি মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

মহামারি করোনাভাইরাস শনাক্তে চলতি বছরের গত ২১ জানুয়ারি থেকে সরকারিভাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। শুরুর দিকে শুধু একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা করা হতো। সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যায়ক্রমে সরকারি বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। বর্তমানে ৬৬টি সরকারি ও বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে।

গতকাল ২৬ জুন পর্যন্ত সারাদেশের ল্যাবরেটরিতে ছয় লাখ ৯৬ হাজার ৯৪১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। মোট নমুনা পরীক্ষার সিংহভাগই হয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নমুনা পরীক্ষার জন্য তিন হাজার ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

সদ্য বিদায়ী ইউএনওকে জয়পাড়া কলেজের বিদায়ী সংবর্ধনা

সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, গাজীপুর ও বর্তমানে দায়িত্বরত ইউএনও দোহার উপজেলা, জনাব আফরোজা আক্তার রিবাকে জয়পাড়া কলেজের পক্ষ থেকে বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। এই সময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও কলেজের পক্ষ থেকে সৌজন্য উপহার দেয়া হয়। আজ রবিবার দুপুর ১২ ঘটিকায় জয়পাড়া কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, গভনিং বডির সদস্য জনাব মোক্তার হোসেন এবং জয়পাড়া কলেজের রোভার স্কাউট গ্রুপ এই বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেন।

জয়পাড়া কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন যে, মানুষ এবং সৎ প্রশাষক হিসাবে জনাব আফরোজা আক্তার রিবা জয়পাড়া কলেজ তথা দোহার বাসির মন জয় করেছেন। তার বিদায়ে আমরা ব্যথিত। তবে যেহেতু তাঁর পদন্নতি হযেছে সেহেতু আমরা আনন্দিত ও সার্বিক উন্নতি ও কল্যাণ কামনা করি।

তরুণদের ভাবনা: দরকার ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতা

ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতাই পারে আমাদের করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে। মার্চ মাসের ৮ তারিখে প্রথম করোনা ধরা পরে আমাদের দেশে। এর পর পার হলো চারটি মাস। মানুষ প্রথম দিকে সচেতন থাকলেও এখন অনেকটাই উদাসীন। এ যেন করোনায় আক্রান্তের হারের বিপরীত।

যখন করোনা সক্রমণ কম ছিল মানুষ সচেতন বেশি ছিল এখন সক্রমণ বেশি আর সচেতন কম। তাই ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যাবশ্যক। নিজে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং অপরকে এ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।  এখন অনেকেই বাসায় গিয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুচ্ছেন না।  স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। হেন্ড শেক অহেতুক ঘুরা ফেরা বেড়ে গেছে অনেক হারে। এর অন্যতম কারন এই দীর্ঘ সময়।

আসলে আবদ্ধ থাকতে আমরা অভ্যস্ত নই, বিশেষ করে দোহার মানেই বাইক নিয়ে ঘুরা ফেরা, যেটা দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। আমরা অনেকেই ঢাকা শহর ত্যাগ করে গ্রামে অবস্থান করছি যার ফলে যুবক সমাজ এখন একইসাথে। আমাদের উচিত অন্যকে সচেতন করার পাশাপাশি নিজে সচেতন থাকা।

দোহারে আক্রান্তের সংখ্যা ২২০। এই পরিস্থিতি কোন রূপ ধারন করবে তা অজানা। তাছাড়া  সরকার ঘোষিত লোকডাউন উঠিয়ে দেওয়ার ফলে আমাদের করোনার আতংক অনেকটাই কমে গিয়েছে। যার ফলে আমাদের সচেতনতা হ্রাস পেয়েছে যা করোনা সক্রমণ বৃদ্ধি করতে সহায়ক হচ্ছে। তাই আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে।

আমি আমাদের দোহারের প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাতে চাই তারা সকল কার্যাবলী সঠিক ভাবে পালন করছেন। আমদেরও তাদের সহায়তা করা উচিত তাদের নির্দেশনা পালনের মধ্য দিয়ে। সর্বদা এই দোয়া করি পৃথিবী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক, আমাদের প্রাণের দোহার ফিরে পাক সেই আমেজ, আবার হয়ে উঠুক আমাদের জীবন কর্মচঞ্চল।

মো: আরিফিন নয়ন
সুন্দরীপাড়া,
কুসুমহাটি,
দোহার, ঢাকা

ইছামতির বাঁচার আকুতি

রাশিম মোল্লা : ওগো তোমরা কে কোথায় আছো? সবাই কি ঘুমিয়ে আছো? নাকি জেগে জেগে ঘুমের ভান করছো? তোমরা কেউ কি আমার ডাক শুনছো না? তোমরা কি সকলেই বধির? বোবা হয়ে গেছো? আমি বড়ই তৃষ্ণার্ত, বড়ই ক্লান্ত, আমাকে একটু পানি দেবে? তিন যুগ পরে ঘুম থেকে জেগে তোমাদের ডাকছি……. কিন্তু তোমরা তো শুনছো না? কেন তোমরা আমার আর্তনাদ শুনছো না? আমার কি অপরাধ? দোহার-নবাবগঞ্জের কার্তিকপুরের ইছামতি নদীর এমন আর্তনাদ ফুটে উঠেছে দোহার গ্রাজুয়েট সোসাইটির সাবেক সভাপতি আইয়ুব আলীর ফেসবুক টাইমলাইনে।

ওহ! বুজেছি তোমরা আমার সাথে অভিমান করেছো। আশির দশকে  আমার একটি হাত কার্তিকপুরে বেঁধে দিয়েছো। কিছুদিন যেতে না যেতেই ধুলশুরায় মাথাটা আটকে দিলা। এরপর আমার তন্দ্রার সুযোগে ডান হাতটাও’ ৯৮ এর পরে কাশিয়াখালী বেরিবাধে আটকে দেয়া হলো। আহা! আমি যে আজ জেগেও মৃত। কথা বলতে পারছি না। কেউ আমার দিকে তাকিয়েও তাকায় না, দেখেও না দেখার ভান করছে!

হ্যাঁ আমার ভরা যৌবনে সকলেই আমার কাছে আসতো আমাকে আদর করতো, আমার বুকে পাল তুলে নৌকায় যাতায়াত করতো, জেলে বন্ধুরা মাছ শিকার করতো। সৌখিন মাছ স্বীকারীরা দোয়াইর পারন পেতে ডিমওয়ালা চিংড়ি ও বাইলা মাছ ধরতো, অনেকে ঝাকি জাল দিয়ে কার্তিক মাসে আমার বুক ঝাঝড়া করে রুই, কাতল, টাটকিনি, কই, শিং মাছ ধরতো………..। নববধুরা  কেরাই নৌকায় স্বামীর বাড়ী থেকে বাপের বাড়ী যেত। ভাদ্র মাসে জোতদার মহাজনরা নৌকা বাইচের আয়োজন করতো, কলাকোপা, বান্দুরার মহাজনরা গয়না নৌকায় ঢাকা থেকে মালামাল আনতো, প্রতিদিন কাচারী ঘাট, বান্দুরা, বারুয়াখালী থেকে লঞ্চগুলো আমার বুক চৌচির করে সদরঘাটে আসা যাওয়া করতো…… আহা আমার যে কত ভাল লাগতো। সবাই আমাকে ভোগ করলেও কেউ কিন্তু আমার অনুমতি নিত না। ওখানেই ছিলো আমার আনন্দ। আজকের এই অনাদর আমার ভাল লাগে না। আমি যে আবার পুরনো জীবনেই ফিরে যেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।  ইছামতির আকুতি কোথায় সালমান? কোথায় সালমা? কোথায় তোমরা? তোমরা যদি কার্তিকপুর, ধুলশুরা এবং কাশিয়াখালী বেরিবাঁধে স্লুইচ গেটের ব্যবস্থা করতে, তাহলে আমি আমার হারানো যৌবন ফিরে পেতাম………….. কারো কাছে জলের জন্য হাহাকার করতে হতো না। তোমাদের কি একটুও মায়া লাগে না? আমাকে বাঁচিয়ে রাখলে আমিও যে তোমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখবো।

সূত্র জানায়, এক সময় পদ্মার সাথে সংযোগ ছিলো কার্তিকপুরের ইছামতি নদীর। লঞ্চ, স্টিমার, বড় নৌকা যাতায়াত করতো। বড় বড় গয়নার নৌকা, নানান প্রকার পাল তোলা নৌকা পদ্ম নদী দিয়ে সহজেই কার্তিকপুরের ইছামতি নদী হয়ে ঢাকায় যাতায়াত কত। সড়ক পথের চেয়ে নৌবানিজ্য  আধিপত্ত ছিলো বেশি। কার্তিকপুরের এই স্পট ছাড়াও পদ্মা নদীর সাথে গালিমপুর, শ্রীনগর, লৌহজং,বোয়ালী- চেগারকোনা দিয়ে পদ্মার পানির সংযোগ ছিল। জোয়ারের সময় পানি আসতো, আবার ভাটার সময় কমে যেতো ইছামতির পানি। কালক্রমে অন্যান্য সংযোগ স্থলের মতো কার্তিকপুরও ইছামতি নদীর মাথায় বাঁধ দিয়ে পদ্মার সাথে ইছামতির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। দিনের পর দিন পানি কমতে কমতে ইছামতি আজ মরা খালে পরিণত হয়েছে। আশি দশকে ক্যাপিন্টন নুরুল হকের উদ্যোগে ইছামতি নদীর পূর্নজারণ পায়। কিন্তু সেই সংস্কার বেশি দিন ধরে রাখতে পারেনি। ময়লা আর্বজনা ফেলে ইছামতিকে ভরাট করতে থাকে।  ইছামতির সাথে সংযুক্ত বড় বড় হাওর, খাল বিল, চক এর সংযোগ খালগুলোর উপর রাস্তা নির্মানের ফলে পানির উৎস সংকোচিত হয়ে আসছে।

কাশিয়াখালি বেরিবাধ রক্ষা মঞ্চের এডমিন রানা ভাইয়া বলেন, ইছামতিকে বাঁচাতে কাশিয়াখালী বেরিবাঁধ স্পট ও কার্তিকপুর স্পটকে বিবেচনায় করছেন এর সাথে সংশ্লিষ্টগণ।  কাশিয়াখালী বেরিবাঁধ থেকে পদ্মা বেশ দূরে সরে গিয়েছে। ইহাছাড়া বাধটি নির্মানের ফলে  প্রায় ২০ বছর নানাভাবে পরিবর্তন হয়েছে। এই স্পটে সুইন্স গেট নির্মাট করা হলে অনেকগুলো বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। উল্লেখ্য  কাশিয়াখালী বেরিবাঁদে ছোট একটি  সুইন্স গেট রয়েছে। এর সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করেন এই সুইন্স গেট বর্ষা মৌসুমে পানি গতি বেশী থাকলেও শুস্ক মৌসুমে পানি থাকে না। অর্থাৎ বর্ষার তিন মাস এই সুইন্স গেট দিয়ে পানি পড়তে থাকে। বাকী সময় আর এই অঞ্চলটিতে পানি থাকে না।ইহাছাড়া খন্ডিত ইছামতির শেষ অংশে শুস্ক মৌসুমে পানি থাকে না। ঐ স্পটে পদ্মা নদীতেও পানিশূন্য হয়ে পড়ে।  এক সময় বোয়ালীর এই স্পটের সাথে পদ্মার সংযোগস্থল ছিলো। বর্তমানে পদ্মার এই অংশে চর জাগার ফলে মূল পদ্মা চলে গিয়েছে ধূলশুড়া ইউনিয়নের দিকে।  শুস্ক মৌসুমে ধূঁ ধূঁ পদ্মা বালু আর বালু ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। অর্থাৎ বর্ষার তিন মাস প্রচন্ত পানির চাপ থাকে। কিন্তু বাকী ৯ মাস পানিশূন্য হয়ে পড়ে।  সেইজন্য এই অঞ্চলটিতে সুইন্স গেট কোন উপকারে আসবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেনা। পক্ষান্তরে কার্তিক স্পটে পদ্মা নদী বেশী দূর না এবং এই স্পটে সবসময় পানি বিদ্যমান থাকে। এটিই হলো মূল পদ্মা। এই স্পটে সুইন্স গেট নির্মান করা হলে সাড়া বছর জুড়েই জোয়ার ভাটায় পানি আসা যাওয়া করতে পারবে। ফলে ইছামতির পানির নাব্যতা ফিরে পাবে। তাছাড়া এই অংশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমানও কম হবে বলে অনেকেই মনে করেন।

এদিকে এলাকাবাসী জানায়, ঢাকা -১ আসনের মাননীয় সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা জনাব সালমান এফ রহমানেরও প্রতিশ্রুতি ছিলো সুইন্স গেট নির্মানের। কার্তিকপুরে একটি সুইন্স গেট নির্মান করার সাথে যদি ইছামতিকে সংস্কার করে এর সংযোগ খালগুলো যদি উদ্ধার করা হয় তাহলে ফিরে পাবে ইছামতির প্রান। এর পাশাপাশি ময়লা আর্বজনা যাতে আর কেউ ফেলতে পারে সেইদিকে নজর দিতে হবে বেশী। আগামী দিনে ইছামতি সুরক্ষা করা একটি বিরাট চ্যালেন্জ। সেই দিক থেকে এই স্পটই হতে পারে সবচেয়ে বিবেচিত। প্রায় ৬৮ কিঃমিঃ দীর্ঘ এই নদীকে বাঁচাতে এর কোন বিকল্প নেই।

দোহারের বাজারে দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতি

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যে। দোহারের জযপাড়া বাজার, মেঘুলা বাজার, নারিশা বাজার, মুকসুদপুর বাজার, কার্তিকপুর বাজারে ঘুরে দেখা গেছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্যের উর্ধগতি। দোহারের অন্যতম বড় বাজার জয়পাড়া বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের লাগামহীন মূল্য। ক্রেতাদের নাগালের বাহিরেই চলে যাচ্ছে।

জয়পাড়া বাজারে সাপ্তাহিক দুটি হাট সহ প্রতিদিন নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য দ্রব্য বেচাকেনা হয়ে থাকে। সেই সুবাদে বিভিন্ন অঞল হতে দোহারের জয়পাড়া বাজারে ভির করে ক্রেতা বিক্রেতা। ক্রেতাদের চাহিদা সুযোগ নিয়ে ক্রমেই বিভিন্ন দ্রব্য মূল্যের দাম বেড়েই চলছে।যার ভোক্ত ভোগী সাধারন জনগন। মহামারী করোনা ভাইরাস কভিট ১৯ সংক্রমণের  ও বৃষ্টির কারনে কিছু দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতাগন। সেই সাথে মানছেননা ক্রেতা বিক্রেতা সামাজিক দূরত্ব যেখানে দোহার কে দেওয়া হয়েছে রেড জোন এবং অর্থনৈতিক অবস্থা মন্দা হওয়ায় ও শ্রমজীবীরা ঘরে বসে থাকায় কিনতে পারছে না চাহিদা মত পন্যদ্রব্য,প্রতি চালের বস্তায় মূল্য বৃদ্ধি ২০০টাকা,কাচামরি ৮০টাকা থেকে ১২০টাকা কেজিতে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, বেগুন ৫০টাকা কেজি, আদা ১৪০টাকা কেজি, হলুদ২৪০টাকা, শুকনামরিচ ২৮০টাকা কেজি, বেড়েই চলছে দ্রব্যমূল্যে দাম, সেই সাথে আলু, পিয়াজ, রসুন, পটল, তৈল, ডাল, মাংস দাম ঠিক থাকলেও বেড়েই চলছে অনেক পন্যদ্রব্যের মূল্য।

জয়পাড়া বাজারে সাপ্তাহিক হাটে হাজার হাজার মানুষের জন সমাগম হয়। সেই ভিড় ঢেলেই বাজার করছেন ক্রেতারা। নেই সামাজিক দুরত্বের কোন চিহ্ন। জয়পাড়া বাজারে আসা একজন দিনমজুর নিউজ৩৯৮কে বলেন, চাইলেও সামাজিক দুরত্ব মানা সম্ভব না। আর ঘরে বইসা থাকাও আমাদের পক্ষে সম্ভব না। করোনা আমাদের না মারলেও কাজ করতে না পারলে আমরা ক্ষুধাতেই মারা যাবো। আর বাজারের যেই অবস্থা, কোন কিছু কেনার উপায় নাই। আল্লাহর উপর ভরশা করা ছাড়া এখন আর কোন উপায় নাই।

দোহারে ইসলামাবাদ স্কুলের সভাপতি হলেন আলমগীর হোসেন

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনকে দোহারের ইসলামাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সবার দাবির প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এ দায়িত্ব নিতে সম্মতি প্রকাশ করেন আলমগীর হোসেন।

জানা যায়, নারিশা ইউনিয়নের প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইসলামাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় এলাকাবাসীর ও বিদ্যালয় জমিদাতা পরিবারের দাবীর মুখে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আলমগীর হোসেন সভাপতি’র দায়িত্ব নিতে সম্মতি দিয়েছেন। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় ইসলামাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।

এসময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এমপির হাত ধরে দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকতার ছোঁয়া পাবে। সে ধারবাহিকতায় তাঁর সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করে যাব।

নির্মল রঞ্জন গুহ সুস্থতার পথে; সকলের দোয়া প্রার্থনা

বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি ও দোহারের কৃতি সন্তান বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ এখন সুস্থতার পথে। ১৯ জুন তার করোনা পজেটিভ রেজাল্ট আসে। তিনি তার স্ত্রী আলো গুহেরও করোনা পজেটিভ আসে।

নিউজ৩৯ এর সাথে আলাপচারিতায় বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানান, তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে সুস্থ আছেন। তাদের মাঝে কোন ধরনের শারীরিক সমস্যা এখন পর্যন্ত দেখা যায় নি। প্রথম কয়েকদিন জ্বর থাকলেও এখন তা নেই। এছাড়া গতকাল তিনি একটি হাসপাতালে নিজের শারীরিক অবস্থার পরীক্ষা নিরিক্ষা করান। সেখানেও তার রেজাল্ট খুব ভাল এসেছে বলে তিনি নিউজ৩৯কে জানান। তিনি করোনা আক্রান্তেদের উদ্দেশ্যে বলেন, করোনাকে ভয় না পেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই রোগ থেকে মুক্তিলাভ করা সম্ভব। তিনি দোহারবাসীকে ডাক্তারের পরামর্শ ও নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ করেন এবং তার সুস্থতার জন্য দোহারবাসীর নিকট দোয়া প্রার্থনা করেন।

নিউজ৩৯.নেট-এর উপদেষ্টা হিসেবে পত্রিকা তার দ্রুত আরোগ্য ও কল্যাণ কামনা করছে।