করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন খন্দকার আবু আশফাক

করোনা থেকে সুস্থতা লাভ করেছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের দুই বারের চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক। নিউজ৩৯কে নিজের সুস্থতার ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন খন্দকার আবু আশফাক। ২৩ জুন ফিরতি টেস্টে তার করোনা নেগেটিভ রেজাল্ট এসেছে।

জুনের প্রথম সপ্তাহের দিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন এই বিএনপি নেতা। করোনা ভাইরাসে খন্দকার আবু আশফাকের আক্রান্ত হওয়ার খবর মুহুর্তেই মাধ্যমে পৌছে যায় জন মানুষের কাছে। সম্পুর্ন বাসায় হোম আইসোলেশন পালন করে করোনা মুক্ত হন খন্দকার আবু আশফাক। তার শারীরিক কোন জটিলতা প্রকাশ না পেলেও তিনি হোম আইসোলেশনের মাধ্যমে সুস্থ হন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সাধারন মানুষের তার প্রতি ভালবাসায় তিনি নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন এবং সবার প্রতি নিজের ভালবাসার কথা জানিয়েছেন। তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের প্রতি বলেছেন, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই এই ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তিনি অতি দ্রুত এই মহামারীর কবল থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর প্রতি প্রার্থনার কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন।

তরুণদের ভাবনা: কেমন আছো দোহার

আজ হঠাৎ খুব মনে পড়ছে আমার প্রিয় দোহারের কথা। এই জনপদ তো থাকবার কথা চির উৎফুল্ল; যেখানে ধানক্ষেতের আইল ধরে চলবে কৃষকের দল, পদ্মায় পাল তুলে ছুটে চলবে জেলেদের নৌকা, আমার ভাইবোনেরা ব্যস্ত হয়ে পড়বে প্রতিটা সকালে স্কুল-কলেজের উদ্দেশে। হঠাৎ কী এক প্রলয়ঙ্কারী রোগ এসে জেঁকে বসলো কালো মেঘ হয়ে প্রিয় নীলচে আকাশে। আমাদের জীবনের চেয়ে প্রিয় দোহারের বুকটা ছেয়ে ফেললো বিষন্নতায়। দেখতে দেখতে দোহারে আজ তেরই জুন পর্যন্ত এই কোভিড নাইনটিন ব্যাধিতে আক্রান্ত হলো ১৫৭ জন। এর শেষ কোথায় গিয়ে হবে তা অজানা। সংখ্যাটা কতোর কোটায় গিয়ে ঠেকবার সম্ভাবণা আছে তা একটু ভেবে দেখতে গিয়ে বুকটা শিউরে উঠলো। সংক্রমণ প্রতিদিন যেভাবে বাড়ছে তার থেকে রেহাই কে পাবে বলা মুশকিল।

আমার মা, বাবা, পরিবারের সবাইকে নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত। চিন্তিত আমার মতো সবাই, যারা প্রবাসে থাকেন। প্রিয় মাতৃভূমিকে ছেড়ে পরের দেশে দিনের পর দিন যাদের জন্য কাটাই, তারাই যখন এমন বিপদের সম্মুখীন হয়ে পড়ে, আমাদের আর্তনাদের পাল্লাটা বড় ভারী হয়ে যায় তখন। গত দু’দিন আগেও মার সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে মা কান্নাকাটি শুরু করে দিলো। অস্ফুট স্বরে মা বলছিলো “আমাগো নিয়া চিন্তা কইরো না, তুমি সাবধানে থাইকো বাজান”। আমার গলা আঁটকে যাচ্ছিলো। জোয়ারের মতো চোখ ভরে আসছিলো প্রবল জলে। মা বোঝার আগেই ফোনটা কেঁটে দিলাম।

প্রবাসে শত কষ্টের মাঝে থেকেও যখন আমরা শুনি প্রিয় মানুষেরা ভালো আছে, ভালো আছে প্রিয় দোহার, শত কষ্ট নিমিষেই যেন মলিন হয়ে যায়। আমরা আবার নতুন উদ্যমে আরেকটা নতুন কর্মদিবস শুরু করি। কিন্তু এই কোভিড নাইনটিন প্যান্ডেমিক শুরু হবার পর থেকে আমরা ভালো নেই। দোহারের প্রতিজন প্রবাসী ভাইয়ের কাছে জিজ্ঞেস করুন তাদের হৃদয়ে কতোটা রক্তক্ষরণ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতকিছুর পরেও আমরা আশার আলো খুঁজে পাই যেখানে, সেটা হচ্ছে আমাদের দোহারের প্রিয় যুবসমাজ।

ফেইসবুকে এত এত আর্তনাদ আর বিষন্নতার ফাঁকে যখন দেখি দোহারের যুবকেরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে আমাদের মা-বাবা, ভাই-বোনকে এই করোনা তান্ডবের হাত থেকে রক্ষা করতে, যখন দেখি আমার নদীপাড়ের সর্বহারা মানুষের পাশে ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে ওরা খাবার নিয়ে দাঁড়ায়, যখন দেখি রোদবৃষ্টি উপেক্ষা করে ওরা বাজারে বাজারে গিয়ে মানুষকে সচেতন করবার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়, সত্যি তখন গর্বে বুকটা ভরে যায়। আমার অবর্তমানে আমার পরিবারকে বাঁচানোর জন্য আমার এতজন ভাইকে যেই দোহারের মাটি জন্ম দিতে পারে, সেই দোহারের একজন নগণ্য নাগরিক হিসেবে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে সবার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি দোহারের প্রিয় যুব-শক্তির কাছে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য৷

শেষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দু’টো কথা আউড়ে যাই-

আশার আলোকে
জ্বলুক প্রাণের তারা,
আগামী কালের
প্রদোষ-আঁধারে
ফেলুক কিরণধারা।

লেখক:

সোহাগ সকাল
দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী

নবাবগঞ্জে কমেছে সংক্রমণের হার, বেড়েছে সুস্থতার হার

করোনা সংক্রমণের জন্য রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার কিছুদিন পরেই নবাবগঞ্জে করোনা রোগী সনাক্ত করা হয়। এরপর নবাবগঞ্জে ব্যাপক হারে বাড়তে শুরু করোনা সংক্রমণ। কিন্তু এর মধ্যে আশার কথা হল গত কয়েকদিন যাবৎ নবাবগঞ্জে কমতে শুরু করেছে সংক্রমণ। এবং একই সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে সুস্থতার হার। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উপজেলায় ১৬৬৪ টি নমুনা পরিক্ষার বিপরীতে মোট করোনা আক্রান্ত ২৫৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১২৭ জন, মৃত্যুবরন করেছে ৪ জন এবং চিকিৎসাধীন আছেন ১২৭ জন।

গত মঙ্গলবার(২৩ জুন) ৪৩ জনের নমুনা পরিক্ষার ফলাফলে মাত্র ৩ জন সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং গতকাল( ২৪ জুন) ২৯ টি নমুনার মধ্যে মাত্র একজন সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সংক্রমণের হার কম ও সুস্থতার হার বেড়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে নবাবগঞ্জ বাসীর জন্য সুখবর বলে জানিয়েছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার(রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ।

তিনি জানান, বেশ কিছুদিন যাবৎ নবাবগঞ্জে করোনা সংক্রমণের হার কমে এসেছে। সাধারণ মানুষ যদি নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তাহলে অচিরেই এ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

দোহারে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরেকজনের মৃত্যু

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত বাছের দেওয়ান জয়পাড়া বাজারের লুঙ্গি ও ফার্নিচার ব্যবসায়ী। তার বাড়ি জয়পাড়ার সাহেব বাজারের ব্রিজ সংলগ্ন রাইপাড়া ইউনিয়নে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাছের দেওয়ান বেশ কিছুদিন ধরেই জ্বর, ঠান্ডা-কাশি, শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। করোনা উপসর্গ থাকার কারনে তিনি কিছুদিন আগে তার নমুনা দিয়ে এসেছিলেন কিন্তু তার কোন রেজাল্ট এখনো আসে নি। ধীরে ধীরে তার স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়তে থাকে অপরদিকে রেজাল্ট না আসার কারনে তিনি কোন চিকিৎসাও গ্রহন করতে পারেন নি। এর মাঝে তার শ্বাস কষ্ট শুরু হলে ৩০০০০ টাকা দিয়ে তিনি একটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থাও করেন। কিন্তু তারপরও কিছু হয় নি।  বুধবার সন্ধ্যা থেকে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে এবং রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে বাছের দেওয়ানের বয়স হয়েছিল ৬০ বছর।

 

আমি করোনায় আতংকিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুক্তি পেয়েছিঃ নাফিস আহমেদ সুমন

নাফিস আহমেদ সুমন। দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের ব্যাক্তিগত সহকারী। সম্প্রতি আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনায়। এখন পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে, নিয়মিত অফিস করছেন। কিভাবেই বা তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। কিভাবে সে সময় তিনি কাটিয়েছেন? কি কি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছেন? আর কিভাবেই বা তিনি সুস্থ্য হলেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কথা বলেছেন নিউজ৩৯ এর সাথে। নিউজ৩৯ এর পক্ষ থেকে তার সাথে কথা বলেছেন নিউজ৩৯ এর স্টাফ রিপোর্টার শরিফ হাসান।

প্রশ্নঃ সুমন ভাই, আপনি কিভাবে করোনা আক্রান্ত হলেন –
নাফিস আহমেদ সুমনঃ আমি দোহার উপজেলায় চাকু‌রি ক‌রি। সাধারণ মানু‌ষের জন্য কাজ কর‌তে হয়। প্র‌তি‌দিন অনেক মানুষ আসে। সামা‌জিক দুরত্ব মে‌নে চ‌লে‌ কাজ ক‌রে‌ছি। আস‌লে ক‌রোনা ভাইরাস‌টি হ‌চ্ছে অদৃশ্য। কার শরী‌রে অবস্থান ক‌রে আছে এটা বুঝা মুশ‌কিল। আর যি‌নি বহন কর‌ছেন তি‌নি য‌দি শা‌রি‌রিকভা‌বে অসুস্থ হন তাহ‌লে হয়ত ‌কিছুটা অনুমান করা যায়। আর কিভা‌বে কার মাধ্য‌মে যে আক্রান্ত হলাম এটা বলা অসম্ভবই।

প্রশ্নঃ আক্রান্ত হ‌য়ে‌ছেন কিভা‌বে বুঝ‌তে পারলেন-
নাফিস আহমেদ সুমনঃ ঈদের পর‌দিন হঠাৎ গরম ঠান্ডা লে‌গে গি‌য়ে‌ছিল। নাক দি‌য়ে পা‌নি পড়‌তে শুরু ক‌রলো। সা‌থে জ্বর, ঠান্ডা আর প্রচন্ড মাথা ব্যাথা কর‌তে থা‌কে। আমি নরমা‌লি নাপা আর হিসটা‌সিন খেয়ে নি‌য়ে‌ছিলাম। পর‌দিন খাবা‌রের স্বাদ চ‌লে গি‌য়ে‌ছিল। তখ‌নো বু‌ঝি‌নি এটা কেন হ‌চ্ছে। সা‌থে সা‌থে ইন্টার‌নে‌টে সার্চ ক‌রে দেখ‌তে পাই যে ক‌রোনায় মু‌খের স্বাদ চ‌লে যায় এমন উপসর্গ আছেই।

কিন্তু আমি তখ‌নো পাত্তাই দেইনি, ধ‌রে নি‌য়ে‌ছিলাম ঠান্ডার কার‌নে এমন হ‌য়ে‌ছে। পাশাপা‌শি আমি শা‌রিরীকভা‌বে দুর্বল হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছিলাম। প্রেসার আর ডা‌য়ে‌বে‌টিক মে‌পে দে‌খি ডা‌য়ে‌বে‌টিক ক‌মে ২.৫। আমি নরমা‌লি দু‌টি দিন অসুস্থ ছিলাম। তারপর অনেকটা সুস্থ হই। এরপর ২জুন ক‌রোনার স্যাম্পল ‌দেই। আর ৫ জুন শুক্রবার রাত সা‌ড়ে দশটায় নি‌শ্চিত হই আমি ক‌রোনা প‌জে‌টিভ।

প্রশ্ন: যখন জানলেন আপনি করোনা পজিটিভ তখন কেমন অনুভূতি হয়েছিলো। সাথে সাথে কি কি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
নাফিস আহমেদ সুমনঃ আমি বাসায় রা‌তের খাবার খে‌য়ে ল্যাপট‌পে নাটক দেখ‌তে‌ছিলাম। হঠাৎ স্বাস্থ্যকম‌প্লেক্স থে‌কে ফোন আসে। জানায় আমার রেজাল্ট প‌জে‌টিভ। আমি থম‌কে গি‌য়ে‌ছিলাম। ভাব‌ছিলাম ভুল হ‌চ্ছে কোথাও। কি কর‌বো মাথায় কিছু কাজ কর‌তে‌ছিল না। আমা‌র ১১ মা‌সের বাবুটার কি হ‌বে? আমার বাবা মা তা‌দের কি হ‌বে? সমাজ বিষয়টা কিভা‌বে নি‌বে, আমি এখন কি কর‌বো? এমন ভাব‌তে ভাব‌তে আমার পু‌রো শরীর কাপ‌তে‌ছিল। আমি অনেকক্ষণ চুপচাপ দরজায় হেলান দি‌য়ে ব‌সে রইলাম।

বউকে জানালাম ও সা‌থে সা‌থে কান্না শুরু ক‌রে দিল। মে‌য়ে মানুষ এম‌নি‌তেই ঘাব‌ড়ে যায় তাড়াতা‌ড়ি। আস‌লে সিদ্ধান্ত নি‌তে পার‌ছিলাম না কি কর‌বো। সত্য বল‌তে সিদ্ধান্ত নিলাম ঘ‌রেই আলাদা থাক‌বো আর কাউকে জানা‌বো না। সিদ্ধান্তটা স‌ঠিক কিনা ভা‌বি‌নি। প‌রিবার‌কে আর আমার বাবু‌কে সেফ কর‌তে হ‌বে এমন ভয় আমা‌কে পে‌য়ে ব‌সে‌ছিল। আমি শারীরীকভা‌বে সুস্থ ছিলাম, কিন্তু ম‌নোবলটা ভেঙ্গে যা‌চ্ছিল। সব এলো‌মে‌লো লাগ‌তে‌ছিল।

প্রশ্নঃ বর্তমানে আপনার শারীরিক অবস্থার কথা বলেন-
নাফিস আহমেদ সুমনঃ ৬জুন শ‌নিবার হ‌তে আমি ঔষধ খাওয়া শুরু ক‌রি। ডাক্তা‌রের পরামর্শে বে‌ক্সিম‌কোর ইভেরা-১২ পাচ‌দি‌নের কোর্স আর ঘ‌রে নি‌জেই প্রাকৃ‌তিক চি‌কিৎসা শুরু ক‌রি। বর্তমা‌নে আমি আলহামদু‌লিল্লাহ ভাল আছি।

প্রশ্নঃ শারীরিক ভাবে কি কি সমস্যা বা যন্ত্রণা অনুভব করছেন। কি কি কষ্ট হয় করোনার কারণে।
নাফিস আহমেদ সুমনঃ ক‌রোনায় মুলত ঠান্ডা জ্বর কা‌শি হা‌চি শ্বাস কষ্ট গলা ব্যাথা এ ধর‌নের উপসর্গ হয়। স্বাদ গন্ধ চ‌লে যায় আর প্রচন্ড মাথা ব্যাথাও হয়। প্রথম‌দি‌কে আমার শরীরে জ্বর আসে, সা‌থে ঠান্ডা স্ব‌র্দি। শরীর অনেক দুর্বল ছিল। খাবা‌রের কোন স্বাদ গন্ধ ছিল না। প্রচন্ড মাথা ব্যাথা কর‌তো কপা‌লের দি‌কে।

প্রশ্নঃ ডাক্তার আপনাকে পরামর্শ অনুযায়ী চলছেন কি না?
নাফিস আহমেদ সুমনঃ ডাক্তার এর পরামর্শ নি‌য়ে চল‌তে হ‌বে। যে‌হেতু ক‌রোনার জন্য তেমন কোন ভাল চি‌কিৎসা এখ‌নো আসে‌নি সে‌হেতু কিছু প্র‌য়োজনীয় ঔষধ নিয়ম ক‌রে খাওয়া আর ন্যাচারা‌লি ট্রিট‌মেন্ট গ্রহন করতে হ‌য়। নিয়‌মিত গরম পা‌নি খাওয়া, আদা, রসুন, কা‌লো‌জিরা, লবঙ্গ, দার‌চি‌নি, এলাচ, তেজপাতা, লেবু এগু‌লা মিক্সড ক‌রে গরম পা‌নির ভাপ নি‌তে হ‌বে।

প্রশ্নঃ আপনার পরিবার বা আশে পাশের থেকে কি কোন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
নাফিস আহমেদ সুমনঃ মূলত এ বিষয়টায় সবাই কষ্ট পায়। কারন ক‌রোনা আক্রান্ত ব্যা‌ক্তি সবার কা‌ছে ভ‌য়ের আত‌ঙ্কের। কেউ চায়না অসুস্থ হ‌তে। যার কার‌নে আক্রান্ত ব্যা‌ক্তি একা হ‌য়ে প‌ড়ে। প‌রিবার সমাজ সব কিছু থে‌কে আলাদা জীবন যাপন কর‌তে হয়, যেটা মানুষ হি‌সে‌বে খুবই ক‌ষ্টের। প্র‌তিকূল অবস্থাটা আস‌লে ভয় থে‌কেই আসে। আক্রান্ত হ‌লে নি‌জের যুদ্ধ নি‌জে কর‌তে হয়। তাই সাহস আর ম‌নোবল সব সময় ধ‌রে রে‌খে এগু‌তে হয়। আমি আমার প‌রিবা‌রের সা‌পোর্ট পে‌য়ে‌ছি, তারা আমা‌কে মান‌ষিকভা‌বে সা‌পোর্ট ক‌রে‌ছে যেন ভেঙ্গে না প‌রি।

প্রশ্নঃ পরিবারের ও আশেপাশের লোকজন আপনাকে কি ধরনের সমর্থন বা সহযোগিতা করেছেন।
নাফিস আহমেদ সুমনঃ আপ‌নি যখন একা তখন আপনার আপনজন‌দের আপ‌নি অনুভব কর‌বেন। যখন তারা আপনা‌কে সাহস দি‌বে আপ‌নি এম‌নি‌তেই অর্ধেক সুস্থ বোধ কর‌বেন।

আমার সম্মা‌নিত স্যার উপ‌জেলা চেয়ারম্যান মো: আলমগীর হো‌সেন প্র‌তি‌দিন আমার ও আমার প‌রিবা‌রের খোজ নি‌য়ে‌ছেন। আমার অফিসের সবাই, আমার উপ‌জেলার প্রিয় স্যাররা সহ সকল প্রিয় নেতাক‌র্মিরা নিয়‌মিত খোজ খবর নি‌য়ে‌ছেন সাহস দি‌য়ে‌ছেন। এটা সব‌চে‌য়ে ভাল লাগার বিষয় যখন নি‌জে‌কে আর একা ম‌নে হয় না। সবার ভালবাসা পে‌য়ে আল্লাহর রহম‌তে আমি এম‌নি‌তেই সুস্থ হ‌য়ে গে‌ছি।

প্রশ্নঃ কি কি চিকিৎসা নিচ্ছেন, কি কি ধরনের খাবার খাচ্ছেন?
নাফিস আহমেদ সুমনঃ চি‌কিৎসা মুলত উপসর্গ দে‌খে দে‌খে হয় আর রোগ প্র‌তি‌রোধ ক্ষমতা কম হ‌লে চি‌কিৎসা পদ্ধ‌তিটাও অন্য রকম হয়। আল্লাহর রহম‌তে আমি শুধুমাত্র বে‌ক্সিম‌কো এর ইভেরা১২ পাচ‌দিন নি‌য়ে‌ছি। খাবা‌রের বিষয়টা এ সময় খুব খেয়াল রাখা জরুরি। শরীর দুর্বল থা‌কে। বে‌শি বে‌শি ভিটা‌মিন সি জাতীয় খাবার খাওয়ার চেস্টা ক‌রে‌ছি, তরল খাবার খে‌য়ে‌ছি বে‌শি। গলা শুকনা রাখা যা‌বেনা এটাই মূল টা‌র্গেট।

প্রশ্নঃ কিভাবে প্রতিদিনের সময় পার করছেন
নাফিস আহমেদ সুমনঃ এ সময়টা যে কিভা‌বে পার কর‌তে হ‌বে তার কোন অগ্রীম প‌রিকল্পনা কা‌রো থা‌কেনা। সারা‌দিন শু‌য়ে ব‌সে থাকাটাও সম্ভব না। নামায পড়া, ল্যাপট‌পে নাটক দেখা, মোবাইলে। গেম খেলা, নিউজ পড়া। আমিক দু‌রে থে‌কে প‌রিবা‌রের সবার সা‌থে নিয়‌মিত কথা ব‌লে‌ছি।

প্রশ্নঃ সুস্থ যারা আছে তাদের ব্যাপারে আপনার কি পরামর্শ?
নাফিস আহমেদ সুমনঃ সুস্থতা আল্লাহর বড় নিয়ামত। অসুস্থ হ‌লেও আল্লাহ হেফাজত ক‌রেন। ভয় না পে‌য়ে ক‌রোনা প্র‌তি‌রোধ করার চেষ্টা কর‌তে হ‌বে। সামা‌জিক দুরত্ব অবশ্যই বজায় রাখ‌তে হ‌বে। স্বাস্থ্য বি‌ধি মে‌নে জীবন যাপন করার সময় এসে গে‌ছে। ঔষ‌ধের উপর ভরসা না রে‌খে শা‌রি‌রিক সক্ষমতা বৃ‌দ্ধি করার দি‌কে নজর দি‌তে হ‌বে। নিয়‌মিত গরম পা‌নি পান কর‌তে হ‌বে। ঠান্ডা যে‌হেতু মূল সমস্যা সে‌হেতু ঠান্ডা জাতীয় সকল খাবার প‌রিহার কর‌তে হ‌বে। ‌অসুস্থ বোধ কর‌লে সা‌থে সা‌থে প‌রিবার ও সক‌লের থে‌কে আলাদা থাক‌তে হ‌বে। স‌চেতনতা বৃ‌দ্ধি আর ম‌নোবল চাঙা রাখ‌তে হ‌বে। নি‌জে সুস্থ থাকুন প‌রিবা‌রের সবাইকেধ সুস্থ রাখুন সমা‌জের সবাইকে সুস্থ রাখার চেস্টা করুন। দেশকে ক‌রোনা নামক মহামা‌রি থে‌কে বাচা‌তে অবদান রাখুন।

দোহারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে অভিযান ও মাস্ক বিতরণ: ১৩ জনকে অর্থদন্ড

করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি শেষে আসতে আসতে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে লকডাউন খুলে দিয়ে শুরু হয়েছে চলাচল। খুলেছে মার্কেট, দোকান-পাট। কিন্তু সবখানে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। নাগরিকদের মধ্যে মাস্ক, গ্লাভস পরার প্রবণতাও খুবই কম। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার (২৪ জুন) দোহার উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সামাজিক দুরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্য বিধি মানাতে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও বিনামূল্যে মাস্ক বিতরন করা হয়। নূন্যতম স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করার অপরাধে ১৩ জন কে ১৩টি মামলায় পাঁচ হাজার আটশত টাকা অর্থদন্ড প্রদান ও সতর্ক করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আফরোজা আক্তার রিবা এর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এই মাস্ক গুলো বিতরন করা হয়।

সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতেই দোহার উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এজন্য সবাইকে করোনা সংক্রমণ থেকে বাচঁতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়।

এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মানুষকে বাঁচাতে এবং সচেতন করতে আর যারা অকারনে ঘুরা ফেরা করছে তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সে সময় তাকে দোহার থানা পুলিশ প্রশাসন সহযোগিতা করেন।

তরুনদের ভাবনাঃ মনের করোনা

সারা বিশ্ব যখন স্থবির মানুষের জীবনাচরণের পরিবর্তন ঘটেছে। আমি যখন লিখছি তখন সারা পৃথিবীর অবস্থা একদম থমথমে পরিবেশ বিস্তার করছে মানুষের নিত্যদিনের ব্যস্ততার ছেড়ে তারা ঘরবন্দি আছে। বলতে চাই এই জায়গার একটু পরিবর্তন দরকার আমরা পরিবারের সাথে সবচেয়ে ভালো সময় কাটাচ্ছি এটা চিন্তা করা দরকার আমাদের,  আমরা চাইলেও আমাদের সেই সময় গুলো পরিবারের সাথে কাটাতে পারতাম না অনেক সময় অনেক ব্যস্ততার ভিড়ে। আমরা আমাদের মানসিক চাপ বাড়াতে অনেক বেশি বেশি করোনা ,করোনা করছি কিন্তু আপনি নিজেও জানতে পারছেন না যে আপনার ব্রেনের মস্তিষ্ক এটাকে ভয়ংকরভাবে গ্রহণ করে ফেলছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে শুধু ৭১ শতাংশ মানুষ মানসিক রোগে ভুগছে(বিআইডিএস) বার্ষিক গবেষণায় তার মানে দেশের মানসিক চাপের রোগী দিন দিন বেড়েই চলছে আর বর্তমান পরিস্থিতিতে তো আরও শোচনীয় অবস্থা আমাদের জন্য মনোবিজ্ঞানীদের মতে করোনা কালে এই পরিস্থিতিতে আমাদের মানসিক চাপ বেড়ে যাবে এবং আমাদের এর ফলে শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে পাশাপাশি। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমতে পারে বিভিন্ন গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে যে আতঙ্কিত হলে মানুষের শারীরিক বিভিন্ন ক্ষতি হয় যেমন; মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পায়, এমনকি মানুষের অতি আতঙ্কের ফলে স্বাভাবিক মৃত্যুর কারণও হতে পারে পাশাপাশি মানুষের নানা সমস্যা হতে পারে চিকিৎসকরা বলে থাকেন এই ব্যাপারে covid-19 আমাদের ভেতরের মানসিক চাপ ভয় তৈরি করে। আমাদের যখনই চাপের মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখনই আমাদের মস্তিষ্ক বডি শরীরের কিছু নিউরন কেমিক্যাল মবিলাইজড হয় যার ফলে, আমাদের ইন্টার্নাল অর্গান সিস্টেম যেমন: ফুসফুস, লিভার, কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয় করোনায় যেহেতু প্রথমে ফুসফুসের উপর প্রভাব পড়ে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস নিতে পারে না এবং আস্তে আস্তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সেই ক্ষেত্রে আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারি মানসিক সুস্থতা কতটা জরুরি যারা মানসিকভাবে শক্ত এবং সুখী তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি এবং এই ক্ষেত্রে আমাদের মানসিক প্রশান্তির আজ অবধি যতো  রোগী সুস্থতার খবর পাওয়া যায় তারা তাদের চিকিৎসার পাশাপাশি মনের দিকে অনেকটাই বেশি করে জোর দিয়েছে এবং তারা সফল হয়েছে করোনা যুদ্ধে পৃথিবীতে প্রচুর কাজ চলছে ভ্যাকসিন তৈরীর আমি মনে করি মনের জোরে করনা কে জয় করা সম্ভব। আমরা এগিয়ে যাব আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবনের সফলতা আনতে পারবো।  আবারো দেখবো সামনের দিকের পৃথিবী তাইতো বলি আমাদের মনের জোরকে কাজে লাগাতে হবে আমাদের এই যুদ্ধ থেকে মুক্তি পেতে হলে মনের জোরে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন মানসিক ভাবে সুস্থ থাকা।

মিনহাজ রহমান

ভ্রমণ ও আপ্যায়ন ব্যবস্থাপনা বিভাগ

আপডেট কলেজ

মধুরচর, দোহার, ঢাকা।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আমরা কাজ করে যাচ্ছিঃ নাসিরউদ্দিন আহমেদ ঝিলু

সারা দেশের মতো নবাবগঞ্জ উপজেলাতেও প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ইতিমধ্যে নবাবগঞ্জ উপজেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা চিহ্নিত হয়েছে ২৫৪ জন। নবাবগঞ্জে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে নিউজ৩৯ এর সাথে খোলামেলা আলোচনা হয় নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমেদ ঝিলুর সাথে। তিনি বলেছেন নবাবগঞ্জ উপজেলার করোনা পরিস্থিতি ও জনপ্রতিনিধিদের দায় দায়িত্ব নিয়ে। ফোনে নিউজ৩৯ এর পক্ষে কথা বলেছেন নিউজ৩৯ এর চিফ নিউজ রিপোর্টার আছিফুর রহমান সজল।
করোনা পরিস্থিতি যখন ধীরে ধীরে ভয়াবহ আকার ধারন করছে এবং একের পর এক রাজনীতিবিদ, শিল্পপতিরা বিদেশে পারি জমাচ্ছেন সেই মুহুর্তে একেবারে প্রথম থেকেই নবাবগঞ্জের মানুষের সাথে আছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ ঝিলু। প্রথম থেকেই নবাবগঞ্জের করোনা পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ করে গেছেন নিরন্তন।
করনা ভাইরাস যখন বাংলাদেশে প্রথম চিহ্নিত হলো তখন থেকেই নবাবগঞ্জেই আছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ ঝিলু। নবাবগঞ্জে ১ম করোনা রোগী চিহ্নিত হওয়া থেকে শুরু করে ২৫৪তম রোগী চিহ্নিত হওয়া পর্যন্ত তিনি নবাবগঞ্জেই অবস্থান করছেন। তার সাথে করোনা পরিস্থিতির শুরুর দিকের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি শুরু থেকেই আমরা নবাবগঞ্জকে করোনা মুক্ত রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে গেছি। যখন প্রথম লক ডাউনের সিদ্ধান্ত হয় তখন থেকেই আমরা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কথা অনুযায়ী কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করে গেছি। কিন্তু মানুষ তো পুরোপুরি সচেতন না। আমরা শত চেষ্টা করেও ঢাকা-গাজিপুর-নারায়নগঞ্জ থেকে মানুষের স্রোত ফেরাতে পারি নি। আমরা যতই চেষ্টা করেছি লক ডাউনের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে কিন্তু সেটা করতে পারি নি মানুষের সচেতনার অভাবে। মানুষ রাতের অন্ধকারে, পালিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরেছে যেটা মানুষ সচেতন না হলে রোধ করা সম্ভব হয় নি। তাছাড়া প্রবাসী যারা বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন তারাও প্রোপার কোন গাইডেন্স না মানার কারনে নবাবগঞ্জে আজ করোনায় ২৫৪ জন আক্রান্ত। তবে আমি কারো দোষ দিবো না।
করোনা পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে নাসিরউদ্দিন আহমেদ ঝিলু বলেন, দেখেন এখন আপনি যদি হিসাব করেন তাহলে নবাবগঞ্জে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আছে। আমরা এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। সরকারের বিধি বিধান অনুযায়ী আমরা করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। নবাবগঞ্জে প্রথমে ৪টা পর্যন্ত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার কথা বলা হলেও এখন দেখেন আমরা করোনা রোধ করার জন্য সেটা ২টা পর্যন্ত করে দিছি। এখন দেখেন মানুষ কিন্তু এখন অনেক কম বাইরে বের হয়। এই সচেতনতা আরো আগে থেকে মানুষের মাঝে থাকলে এখন নবাবগঞ্জে সংক্রমনের হার অনেক কম থাকতো। তাছাড়া আপনি দেখতে পাবেন নবাবগঞ্জ অনেক আক্রান্ত হলেও এই অঞ্চলের মানুষের সুস্থতার হার কিন্তু অনেক বেশি। মানুষ নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম পালন করেই সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া লক ডাউন ও করোনা আক্রান্ত পরিবারের মাঝে সরকারি ঔষুধও আমরা ফ্রি পৌছে দিচ্ছি। সব মিলিয়ে এখন পরিস্থিতি তুলনামুলকভাবে ভাল। তাছাড়া এখন আল্লাহর উপর ভরশা করা ছাড়া আসলে আমাদের আর কোন উপায় নাই। আমাদের এখন একটাই প্রার্থনা আল্লাহ যাতে অতি দ্রুত এই মহামারীর অবসান ঘটান।
নবাবগঞ্জে করোনা পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু বলেন, দেখেন মানুষ কিন্তু এখন আইন অনুযায়ী যতটুকু চলাচল করা সম্ভব সেটা করছে। আমরা করোনা সংক্রমন রোধে এখন ৪টার জায়গায় ২টা পর্যন্ত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছি। মানুষ কিন্তু সেটা মেনে চলছে। মানুষের মাঝে এখন সচেতনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া লক ডাউনের সময় আমরা কিন্তু সরকারি ত্রানের সুষ্ঠ বিতরন করেছি। কিছু কিছু জায়গায় অনিয়ম হয়েছে সেটা কিন্তু আমরা সাথেই সাথেই প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিয়েছি। তাছাড়া করোনা আক্রান্ত রোগী নিয়মিত খোজ খবর কিন্তু প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা নিয়মিতভাবে নিচ্ছি। তাদের বাসায় আমরা সরকারি ঔষুধ পর্যন্ত আমরা পৌছে দিচ্ছি। করোনা আক্রন্ত পরিবার ও লকডাউনে থাকা কোন পরিবার যদি আমাদের কাছে খাদ্য সামগ্রীর জন্য ফোন করে সেটাও আমরা তাদের বাসায় পৌছে দিচ্ছি। আমরা উপজেলা প্রশাসন থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌছে দেয়ার জন্য।

দোহারে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ৭ জনকে অর্থদন্ড

করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি শেষে আসত আসতে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে লকডাউন খুলে দিয়ে শুরু হয়েছে চলাচল। খুলেছে মার্কেট, দোকান-পাট। কিন্তু সবখানে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। নাগরিকদের মধ্যে মাস্ক, গ্লাভস পরার প্রবণতাও খুবই কম। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) দোহার উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সামাজিক দুরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্য বিধি মানাতে, মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে মোবাইল কোর্ট ও বিনামূল্যে মাস্ক বিতরন করা হয়। নূন্যতম স্বাস্থ্যবিধি না মান্য করার অপরাধে ৭ জন কে ৭টি মামলায় এক হাজার আটশত টাকা অর্থদন্ড প্রদান ও সতর্ক করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আফরোজা আক্তার রিবা এর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এই মাস্ক গুলো বিতরন করা হয়।

সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতেই দোহার উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এজন্য সবাইকে করোনা সংক্রমণ থেকে বাচঁতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়। সে সময় জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মানুষকে বাঁচাতে এবং সচেতন করতে আর যারা অকারনে ঘুরা ফিরা করছে তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সে সময় তাকে দোহার থানা পুলিশের এএসআই আমিনুলসহ সদস্যগণ সহযোগিতা করেন।

দোহার করোনার উপসর্গে প্রবাসীর মৃত্যু

ঢাকার দোহার উপজেলায় মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর মাহমুদপুর গ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে মো. মাজেদ মোল্লা (৪৫) নামে এক প্রবাসী মৃত্যুবরণ করেছে। রোববার সন্ধ্যায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত মো. মাজেদ মোল্লা ওই গ্রামের মৃত মধু মোল্লার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত কয়েকদিন যাবৎ মো. মাজেদ মোল্লা জ্বর, ঠান্ডা ও কাশির সাথে ফুসফুসের সমস্যা জনিত রোগে ভুগছিলেন। শনিবার তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন।

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. কাজী মো. ওমর ফারুক জানান, দুইদিন আগে তিনি নিজে থেকে করোনা টেস্টের জন্য নমুনা দিয়ে ছিলেন। নমুনা রিপোর্ট পেলে জানা যাবে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না।