আক্কাচ উদ্দিন মোল্লার পৃষ্ঠপোষকতায় নবাবগঞ্জে বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠিত

উসমান গ্রুপ অব কোম্পানী ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আক্কাচ উদ্দিন মোল্লার সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের কান্দাবাড়িল্যা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হলো বৃদ্ধাশ্রম সম্মান সাহাবী ওল্ড কেয়ার হোম। দোহার-নবাবগঞ্জসহ সারা বাংলাদেশের অবহেলিত যেকোন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সম্মান জনক পূর্নবাসনের উদ্দেশ্যে এই বৃদ্ধাশ্রম চালু করা হয়েছে। ১ জুলাই বুধবার এই বৃদ্ধাশ্রমের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

 

সারা জীবনের অর্থ দিয়ে, নিজের প্ররিশ্রমের টাকা দিয়ে, নিজে না খেয়ে সন্তানদের মানুষ করে অনেক বাবা-মা পাননা সন্তানদের কাছ থেকে প্রাপ্য সম্মান। তাদের কথা চিন্তা করে নবাবগঞ্জের পশ্চিম এলাকার গর্ব,অগনিত মানবসেবামূলক উন্নয়ন কাজের স্বপ্নদ্রষ্টা, সফল উদ্যোক্তা আক্কাচ উদ্দিন মোল্লা প্রতিষ্ঠা করেছেন এই বৃদ্ধাশ্রম। শুধু দোহার-নবাবগঞ্জ না, সারা দেশের অসহায় বৃদ্ধ মা-বাবা ও সন্তানহীন বৃদ্ধ লোকদের জন্য খোলা থাকবে এই বৃদ্ধাশ্রম। অসহায় বৃদ্ধ বাবা- মা’ দের শেষ জীবনের অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান,বিনোদন,ধর্মীয় শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবাসহ সব ধরনের সেবার ব্যবস্থা থাকবে এই বৃদ্ধাশ্রমে।

 

 

এই সময় আক্কাচ উদ্দিন মোল্লা বলেন, শুধু বৃদ্ধ নয়, তিনি যুবকদের জন্যও কিছু করতে চান। চাকরির অভাবের এই সময় তিনি যুবকদের করতে চান স্বাবলম্বী। এই লক্ষে তিনি নবাবগঞ্জে একটি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং জনমানুষের সেবার জন্য প্রতিষ্ঠা করতে চান একটি হাসপাতাল। এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে তিনি সহযোগীতা চান সকলের।

 

 

আক্কাচ উদ্দিন মোল্লার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে তিনি ইতিমধ্যে চাকুরির ব্যবস্থা করেছেন নবাবগঞ্জের কয়েকশ শিক্ষিত যুবকের। শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রতিবছর বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার ৫০০ মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে তাদের লেখাপড়ার পথকে আরও সহজ করে দিচ্ছেন  এই মানুষটি। নবাবগঞ্জের পশ্চিম অঞ্চলকে তিনি গড়ে তুলতে চান স্বনির্ভর অঞ্চল হিসাবে।

তরুণদের ভাবনা: আমরা মৃত্যু ঝুকি ঘাড়ে করে ঘুরে বেরাচ্ছি

প্রথম যখন শুনলাম তখন সুদূর চীনে তার অবস্থান। তারপর ধীরে ধীরে সে একটি একটি দেশে তান্ডব চালিয়ে অতপর চলে আসলো বাংলাদেশে। এরপর একটি একটি উপজেলা ইউনিয়ন করতে করতে একসময় আমার ইউনিয়ন পর্যন্তও পৌছে গেলো। সারা বিশ্বের এবং আমাদের দেশের অনেক জ্ঞানী-গুণি বিখ্যাত মানুষকে কেড়ে নিয়ে চলে এলো আত্মীয়-স্বজনদের আওতার মধ্যে। যদিও নিজ এলাকা এখনো মুক্ত আছে তবে এখন আসলে অবচেতন মনে অপেক্ষায় আছি কোনদিন যেনো শুনবো আমার পাশের বাড়ি বা আমি নিজেই এটিতে আক্রান্ত।  কিন্তু বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এইটাই সত্যি যে সুদূর চীনে অবস্থান কালেও যতখানি সাবধানতা বাঙ্গালী অবলম্বন করেছে ধীরে ধীরে এখন তার ছিটেফোঁটা ও নাই। যদিও এখন আমরা ঘাড়ের উপর আমাদের মৃত্যু ঝুকি নিয়ে চলছি।

কেনো এতো অবহেলা? আমার উপলব্ধির উপরে ভর করে আমি কয়েকটি কারন  ধারনা করি।

১/ মনোবিজ্ঞান/সাইকোলজিক্যালঃ মানুষের ক্ষেত্রে তার সাইকোলজির মজার একটি ব্যাপার হচ্ছে যে সে একবার কিছুতে অভ্যস্ত হয়ে পরলে তারপর সেটাকে আর তার কিছু মনে হয় না। যেমন দেখবেন নিয়মিত ডায়েবেটিস টেস্ট করা মানুষরা সুই এর আচরে তেমন ব্যাথা পায় না। অর্থাৎ একই যায়গায় একই সমপরিমাণ আঘাত নিয়মিত হলে একসময় সয়ে যায়। আসলে আমাদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আমরা ভয় পেয়েছি প্রথমে কিন্তু যেহেতু এখনো আমাদের দেশে ভয়ংকর রূপের মহামারী শুরু হয় নি তাই এখন আমরা এটিকে আর কিছু মনেই করছি না।  এই গুন আমাদের বাঙ্গালী জাতির একটু বেশিই। আমরা শুরু শুরুতে যতটা ভয় পেতাম এখন আর তার বিন্দু পরিমাণ পাই না। তার কারন? ধীরে ধিরে মানুষ এখন এটিতে অভ্যস্ত হয়ে এটিকে এখন আর কিছু মনেই করছে না। তারা এটিকে অবহেলা করছে এখন। তাই স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দুরত্বের বালাই আমাদের মাঝে আর নেই।

২/ পূর্বলব্ধ অভিজ্ঞতাঃ পূর্বলব্ধ অভিজ্ঞতা বলতে আমি বুঝাতে চাচ্ছি যে। সাধারণ জনগন এখন এটিকে কলেরা, জন্ডিস, যক্ষা, প্লেগ, বসন্ত ইত্যাদি যেসব রোগে গ্রামের পর গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত সেইরকম তুলনা করছে। তাদের মতে পূর্বেও মানুষ এগুলোকে এমনই ভয় পেত। তখনও এগুলোর চিকিৎসা বা ঔষধ ছিলো না।  তবুও মানুষ তো বেচে ছিলো। এখন এগুলো সাধারণ রোগ হিসাবে ধরা হয়। তাদের ধারনা এটিও একটি বা দুটি প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তারপর নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তাই আমাদের এটির সাথে মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে। কোনো সামাজিক দুরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধির দরকার নেই। এটাকে আসলে গোয়ার্তমি বলবো নাকি অসচেতনতা ঠিক বুঝতে পারছি না।

৩/ অর্থনৈতিকঃ ক্ষুধার জ্বালা সেই বুঝে যে অনাহারে দিন কাটিয়েছে। দুর্ভিক্ষে মানুষ মানুষ খেয়ে ফেলেছে এমন নজিরও আছে। আমরা নিম্ন অর্থনীতির দেশ সব থেকেও কিছুই নেই। ব্যাপারটাই এমন। তাই ব্যাপারটা এমন দাড়িয়েছে যে শুধু মুখে মুখেই অনেক কিছু পেয়েছে জনগন কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ব্যক্তি আর সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সারাদেশ জুড়ে দেওয়া হয়েছে যথা সাধ্য। কিন্তু আমাদের সব কিছু বন্ধ মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত।  ৩ মাস বন্ধ ছিলো সব। সব মিলিয়ে একটি পরিবার হয়তো ১/১.৫ মাসের খাবার পেয়েছে কিন্তু বাকি ১.৫ মাস সে বা তার পরিবার কি করবে? কিভাবে তারা বেচে আছে? ক্ষুধার জ্বালার কাছে আসলে এইসব ভাইরাস এর ভয় তুচ্ছ, অতি তুচ্ছ। এদেশের মানুষ ক্ষুধার যন্ত্রণার সাথে পরিচিত করোনার যন্ত্রণার সাথে না। তাই ক্ষুধার ভয়েই তারা ঘরে থাকতে চায় না।

৪/ সমাজের সমন্বয়হীনতাঃ সমন্বয়হীনতা বলতে আমি বোঝাতে চাচ্ছি আমাদের দেশের দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারে। যেমন এদেশের ধনী এবং উচ্চ মধ্যবিত্ত পর্যায়ের কোনো চিন্তা নেই। তাদের যথেষ্ট রয়েছে আর দরিদ্র শ্রেণীর মানুষেরা অন্যের সহায়তা পাচ্ছে কমবেশি। কিন্তু বড় সমস্যায় আছে নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত। তাদের না আছে অনেক সম্পদ না আছে জমা সঞ্চয়। তাছাড়াও তারা সাহায্য সহযোগিতা খুব কম পাচ্ছে কিংবা লজ্জায় সম্মানের কারনে নিতেও পারছে না। এই শ্রেণীর হয়ে পড়েছে দিশেহারা। এরা এখন জীবনের চেয়ে জীবিকা বড় করে দেখছে যেটি স্বাভাবিক বলেই মনে করেন তারা। আসলে তাদের আর কিছু যে করার ও নেই। মানুষের কাছে যা ছিলো সব কিছু দিয়েই এতোদিন আয় না করে চলেছে। এখন তো সেগুলোও শেষ। মানুষ এখন দিশেহারা বিভ্রান্ত কিভাবে কি করবে তা বুঝতে পারছে না! অর্থনৈতিক এই ধসের ধাক্কা সামাল দিয়ে উঠতে কতো সময় যে লাগবে তা এখন আর ধারণাও করা যাচ্ছে না।

৫/ অসচেতনতাঃ আসলে জাতি হিসাবে আমরা কখনোই সচেতন না। এটি আমাদের এই করোনা মহামারীকে অবহেলা করার অন্যতম কারন।  আমরা তো মনে করি আমরা করোনার চেয়েও শক্তিশালী। তাই আমাদের দেশে লকডাউনে দোকান খুলতে না পারায় শুকনো পুকুরে চা বিক্রি করা হয় এবং আড্ডা দেওয়া হয়। দেশে মানুষ অনাহারে মরলেও আমাদের ঈদ উদযাপন থেমে থাকতে পারে না। সে দেশে এখনো ভয়ংকর ভাবে মহামারী শুরু হয়নি এটি আল্লাহর অশেষ রহমতের নিদর্শন।

৬/ধর্মীয় কারনঃ প্রতিটি ধর্মের কিছু কিছু ভুল অপব্যাখ্যা বের করে একদল মানুষ এটি সম্পর্কে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ইসলামের একটি হাদিসের অর্ধেক নিয়ে অপব্যাখ্যা শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকেই। আর ধর্মভীরু মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে সচেতনতা নষ্ট করছে। এছাড়াও তারা তাওয়াক্কুল এরও অপব্যখ্যা করে মানুষকে ধর্মীয় গোমরাহির দিকে ঠেলে দিচ্ছে সাথে সাথে বিভ্রান্তি ও অসচেতনতা সৃষ্টি করছে।

তবে এগুলো বাংলাদেশ এর জন্য  “ট্রাম্প কার্ড” হয়ে যেতে পারে। কারন যেহেতু এ রোগের কোনো ভ্যাক্সিন এখনো নেই। তাই শরির নিজে থেকে এন্টিবডি তৈরি না করলে তার থেকে নিস্তার পাওয়া বড় কঠিন। আর এই জায়গাটি আমাদের মন্দের ভালো হয়ে ধরা দিলেও দিতে পারে। অর্থাৎ যেহেতু আমরা এখন আর এটিকে বড় জ্ঞান করছি না। তাই আমাদের মস্তিষ্ক আর এটিতে ভীত নয়। তাই ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করতে আমাদের মস্তিষ্ক এবং শরীর অবচেতন ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আসলে আমাদের তো উন্নত সব দেশের মতো অকল্পনীয় পরিমাণ রিজার্ভ নেই। তাই আমাদের জীবন জীবিকার নিশ্চয়তা এখন একমাত্র মহান রব্বুল আলামীন ব্যতীত কেউ নিবে না। আর তার জন্যই আমাদের এই ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে অথবা তার সাথে মানিয়ে নিয়েই জীবন জীবিকা চালিয়ে যেতে হবে যতদিন না ভ্যাক্সিন মানুষের হাতে চলে আসছে।

কিন্তু তবুও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করেই সব কিছু করতে হবে। মনে রাখতে হবে ভাইরাস খালি চোখের জন্য  অদৃশ্য তাই কে কখন কিভাবে আক্রান্ত হবো তার কোনো ঠিক নেই। নিজের ও নিজের পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমাদের সুরক্ষা আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।

পরম করুনাময় মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সহায় হোন। তার রহমত বর্ষন করে এই গজব তুলে নেওয়ার দোয়া করতে হবে সর্বদা। মনে রাখতে হবে। মহান সৃষ্টিকর্তা ব্যাতিত আসলে কারও কোনো সাধ্য নেই এখান থেকে মুক্তি পাবার। ইনশাল্লাহ রহমানির রাহিম তার রহমতের চাদরে আচ্ছদিত করে আমাদের সকলকে ক্ষমা করে দিবেন।

সাজিদ ইসলাম অর্ক
শিক্ষার্থী, জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
দোহার ঘাটা, দোহার, ঢাকা।

বিদায় নেয়ার আগে দুই ভিক্ষুকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে গেলেন আফরোজা আক্তার রিবা

দুইবছরেরও বেশি সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে সম্প্রতি পদন্নোতি পেয়ে গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নিযুক্ত হয়েছেন আফরোজা আক্তার রিবা।  আগামী সপ্তাহে দোহার ছেড়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে তাঁর। তবে বিদায়ের আগে নতুন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন এই মহীয়সী নারী। যাবার মূহুর্তেও দুই ভিক্ষুককে দোকান করে দিয়ে  দোহারে কর্মরত থাকাকালীন অসংখ্য ভাল কাজের অনসুরণীয় দৃষ্টান্তে তিনি নতুন পালক যুক্ত করে গেলেন। দুই ভিক্ষুককে স্থায়ী কর্মসংস্থানের একটি ব্যবস্থা করে দিয়ে গেলেন এই মহীয়সী নারী।

গত ২৯ জুন রোজ শনিবার দুপুরে দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নে আব্দুল মালেক (৬০) এবং মঙ্গল কারিগর ( ৫৫) নামে দুই অসহায় পরিবার কে একটি করে দুইজন কে দুটি  মুদি মালামাল সহ  দোকানের চাবি হস্তান্তর করেন। এই দুই জন দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের মধুরচর আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা।  ইউএনওর উদ্যোগে তারা দুজনই পেয়েছেন নতুনভাবে বেঁচে থাকার অবলম্বন।

ইউএনও আফরোজা আক্তার বলেন, ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান এমপির সহযোগিতা নিয়ে দোহার উপজেলার ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের একটা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলাম। তালিকাও হয়েছিল কিন্তু সেটা হয়ে উঠেনি। অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাদের একদিনের বেতনের টাকা তুলে নিজে উদ্যোগ নিয়ে ওই দুইজনকে দোকান করে মালামাল কিনে দিয়েছি। যাতে তারা ভিক্ষাবৃত্তি না করে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে মাথা তুলে বাঁচতে পারে।

দোহার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদায়ী ইউএনও কে শুভেচ্ছা

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা। যার নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড, প্রশাসনিক তৎপরতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় মন ছুয়ে গেছে দোহারের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে। তার এই সফল কর্মকান্ডের ফলে গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ১২ টায় সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, গাজীপুর ও বর্তমানে দায়িত্বরত ইউএনও দোহার উপজেলা, জনাব আফরোজা আক্তার রিবা’কে বিদায়ী সংবর্ধণা ও ফুলের শুভেচ্ছা জানান দোহার উপজেলা প্রশাসন।

সদ্য বিদায়ী ইউএনও ও পদন্নোতি প্রাপ্ত গাজীপুর জেলার এডিসি আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, দোহার উপজেলার মানুষ গুলো আমার স্বজনের মত। সব সময় আমার সহকর্মী ও দোহারবাসীর ভালবাসা পেয়েছি।

সে সময় বিদায়ী শুভেচ্ছা লগ্নে উপস্থিত ছিলেন ঃ দোহার উপজেলার চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, দোহার উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান সুজাহার বেপারী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বৃথী ও জ্যােতি বিকাশ চন্দ্র সহ দোহার উপজেলার প্রশাসন এর সর্ব স্তরের কর্মকর্তাগন।

সন্তানের মুখ না দেখেই করোনা ভাইরাসে কুয়েত প্রবাসীর মৃত্যু

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের সন্তান কুয়েত প্রবাসী আব্দুল বারেক কাজী(৪০) করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেছেন। তিনি কুয়েতে্র একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। তিনি শিকারীপাড়া ইউনিয়নের কাশেম কাজীর সন্তান।

করোনা মহামারীতে কুয়েতে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এই ভাইরাসে তার শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হলে তাকে কুয়েতের একতি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কুয়েতের সেই হাসপাতালে তিনি গত ১ মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। সেই হাসপাতালেই তিনি মারা যান। এই কোরবানীর ঈদে তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। ১২ বছরের বিবাহিত জীবনে তিনি দুই বছর আগে প্রথম সন্তানের পিতা হন। সেই সন্তানের মুখও তিনি দেখে যেতে পারলেন না।

নির্মল রঞ্জন গুহের সুস্থতা কামনায় নয়াবাড়িতে দোয়া মাহফিল

বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ সহ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সকলের রোগ মুক্তি কামনায় ঢাকার দোহারে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নয়াবাড়ি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের ধোয়াইর গ্রামের জয়নালের মোড়ে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। নয়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন খানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ শাখাওয়াত হোসেন নান্নু, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক তৈয়বুর রহমান তরুন, নয়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রশীদ কাজী, সাবেক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সেকান্দার হোসেন মোল্লাসহ নয়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিনামূল্যে করোনা পরিক্ষা সেবা বন্ধ, ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ

বন্ধ হতে যাচ্ছে দেশে বিনামূল্যে করোনা ভাইরাস(কোভিড-১৯) শনাক্তকরণ পরিক্ষা। বর্তমানে করোনা পরিক্ষার জন্য সর্বনিম্ন ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়।
এতদিন বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হলেও এবার সেটার ফি সর্বনিম্ন ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়েল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুথ থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা, বাসা থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকা এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, করোনা টেস্ট বাবদ আদায় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে (কোড-১-২৭১৫-০০০০-১৮৬৩) জমা করতে হবে।
বর্তমানে বিনামূল্যে টেষ্ট সুবিধা পাওয়ায় অনেকে কোনো উপসর্গ ছাড়াও পরিক্ষা করছে। এতে সরকারের পরিক্ষা কীটের সংকট দেখা দিচ্ছে। এছাড়াও পিপিও মাস্ক সহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তাই প্রয়োজন বিহীন পরিক্ষা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দোহারের এসি ল্যান্ড জ্যোতি বিকাশের পক্ষ থেকে বিদায়ী ইউএনও কে শুভেচ্ছা

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা। যার নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড, প্রশাসনিক তৎপরতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় মন ছুয়ে গেছে দোহারের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে। তার এই সফল কর্মকান্ডের ফলে গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন হয়েছে।
সোমবার(২৯ জুন) ১২ টায় সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, গাজীপুর ও বর্তমানে দায়িত্বরত ইউএনও দোহার উপজেলা, জনাব আফরোজা আক্তার রিবা’কে বিদায়ী সংবর্ধণা ও ফুলের শুভেচ্ছা জানান দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) জনাব জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। এ সময় সাথে ছিলেন দোহার উপজেলা প্রকৌশলী হানিফ মোহাম্মদ মূর্শিদী।
সদ্য বিদায়ী ইউএনও ও পদন্নোতি প্রাপ্ত গাজীপুর জেলার এডিসি আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, দোহার উপজেলার মানুষ গুলো আমার স্বজনের মত। সব সময় আমার সহকর্মী ও দোহারবাসীর ভালবাসা পেয়েছি।
বিদায়ী শুভেচ্ছা লগ্নে এসি ল্যান্ড জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, ইউএনও স্যারের পদোন্নতি হওয়ায় আমরা আনন্দিত। একই সাথে তার এই বিদায়ে আমরা ব্যথিত।

করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা জসিমউদ্দিন

মহামারী করোনা থেকে সুস্থতা লাভ করেছেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিমউদ্দিন।  জুন মাসের মাঝামাঝি সময় তিনি তার শরীরে করোনা লক্ষন দেখতে পান। এর পরিপ্রেক্ষিতে জুন মাসের ১৪ তারিখে তিনি তার স্যাম্পল ঢাকায় পাঠান। ২০ জুন বিকালে তিনি তার কোভিড-১৯ পজেটিভ রিপোর্ট পান। সেই হিসাবে জুন মাসের ২৮ তারিখে তার হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার মেয়াদ শেষ হয় এবং তিনি এখন তার মাঝে করোনার কোন লক্ষনও নেই। তিনি করোনা থেকে এই মুক্তি লাভে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানান এবং  তার জন্য যারা দোয়া করেছেন তাদের তিনি ধন্যবাদ প্রদান করেন।

নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে করোনা থেকে মুক্তি লাভে করায় তিনি লিখেন “মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ মেহেরবানীতে করোনা ভাইরাস সংক্রমন হতে আমি সুস্থ। ১৫ দিন আগে নমুনা পরীক্ষা দিয়ে পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর আইসোলেশন ছিলাম। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই মসজিদের ইমাম সাহেবদের যারা মসজিদে মসজিদে দোয়া পড়িয়েছেন, এলাকার শুভাকাঙ্খীদের এবং স্বজনদের, যারা মনোবল বাড়াতে সহযোগিতা করেছেন। আরো কৃতজ্ঞতা জানাই আমার বন্ধুদের,যারা আমার মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করে আমার পরিবার পরিজনকে কষ্ট দিয়েছেন।”

দোহারে করোনা মোকাবেলায় সামনের কাতারের অন্যতম একজন যোদ্ধা ডা. জসিম উদ্দিন। করোনা মহামারীর শুরু থেকেই তিনি করোনা প্রতিরোধে চষে বেড়িয়েছেন দোহারের প্রতিটি অঞ্চল। নিজে করোনা আক্রান্ত হয়েও উপজেলা হাসপাতালের পক্ষ থেকে করোনা আক্রান্তদের নিয়মিত খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

সদ্য বিদায়ী ইউএনওর সাথে নিউজ৩৯ ও ডিএনএসএমের বিদায়ী সাক্ষাৎ

সদ্য বিদায়ী দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবার সাথে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে নিউজ৩৯ ও দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট। আজ দুপুর সাড়ে বারোটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে তার সাথে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করা হয়।

সদ্য বিদায়ী দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবার সাথে বিদায়ীও সাক্ষাৎ করার জন্য আজ সাড়ে বারোটায় তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয় নিউজ৩৯ ও ডিএনএসএম। এই সময় আফরোজা আক্তার রিবার সাথে সোউজন্য মুলক আলাপ ও তার হাতে ফুল তুলে দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়। এই সময় আফরোজা আক্তার রিবা নিউজ৩৯ ও ডিএনএসএমের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন নিউজ৩৯ এর সম্পাদক ও ডিএনএসএমের সভাপতি তারেক রাজিব, ডিএনএসএমের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান সুমন, নিউজ৩৯ এর চিফ নিউজ রিপোর্টার ও ডিএনএসএমের দপ্তর সম্পাদক আছিফুর রহমান, নিউজ৩৯ এর স্টাফ রিপোর্টার জুবায়ের শরিফ, নিউজ৩৯ এর স্টাফ রিপোর্টার তৌহিদুল ইসলাম, নিউজ৩৯ এর স্টাফ রিপোর্টার আল আমিন, ডিএনএসএমের হাবিব, আজিম খান, আশিকুল গাজি, সেলিমসহ ডিএনএসএমের কর্মিরা।

সদ্য বিদায়ী ইউএনওর সাথে নিউজ৩৯ ও ডিএনএসএমের বিদায়ী সাক্ষাৎ

 

উল্লেখ্য আফরোজা আক্তার রিবা সদ্য পদোন্নতি পেয়ে গাজিপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন।