দোহারে জাতীয় শোক দিবস পালিত

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে দোহার উপজেলা প্রশাসন। সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ, বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন।

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এম.পি।

ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান বলেন, বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিরঞ্জীব, তার চেতনা অবিনশ্বর। জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্রকে জয় করে বিশ্বে একটি উন্নয়নশীল জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র।

নবাবগঞ্জে জাতীয় শোক দিবস পালন

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত ও দোয়ার মাধ্যমে শোক দিবস পালন শুরু হয়। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শোক র‌্যালি করেন। র‌্যালি শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এছাড়া নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, কৃষকলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

 

পরে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ওয়াছেক মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ঢাকা-১ আসনের এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম সালাউদ্দিন মনজু।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, ভাইস চেয়ারম্যান তাবির হোসেন খান পাভেল।

 

অনুষ্ঠানে সাবেক গণপরিষদ সদস্য সুবেদ আলী টিপু, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রাজিবুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ স¤পাদক মো. জালাল উদ্দিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ্ মো. আবু বকর ছিদ্দিক সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

দোহারে এই প্রথম ডিজিটাল বাইক সার্ভিস সেন্টার উদ্ভোদন

বৃহস্পতিবার ( ১৩ আগষ্ট) বিকেলে দোহার উপজেলার দক্ষিণ জয়পাড়া গাংপাড় সেন্টার ছিফ রেষ্টুরেন্ট সংলগ্ন মোটরসাইকেলের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে মটরসাইকেলের ফোম ওয়াশ সহ যাবতীয় মটর বাইকের সার্ভিসিং এর কার্যক্রম নিয়ে ডক্টর বাইকের প্রতিষ্ঠান শুভ উদ্বোধন করেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মো.আলমগীর হোসেন।

সে সময় তিনি বলেন, আমাদের দোহারে অনেক মোটরসাইকেল আছে যারা এখনো লাইসেন্স করে নাই এবং টানা মোটরসাইকেল চালায়। তাদের এই কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং প্রাপ্ত বয়স না হলে মোটরসাইকেল চালাবেন না। আর এই কারনেই দোহারে প্রায় মোটরসাইকেল দূর্ঘটনা ঘটে তাই যারা মোটরসাইকেল চালাবেন তারা সতরর্ক ভাবে মটরবাইক চালাবেন।

দোহার পৌরসভার পাঁচ জন বন্ধুর মিলে যাত্রা শুরু করলো ‘ডক্টর বাইক’ নামে এই প্রতিষ্ঠানটি। এই উদ্যাক্তারদের মধ্যে রয়েছেন পাপেল মাহমুদ নিজাম, প্রান্ত দাস, সাব্বির হোসেন পাপ্পু ,শাহাদাত হোসেন নিঝু ও ফয়সাল আহমেদ তালুকদার (পিয়াস)।

ডক্টর বাইকের প্রতিষ্ঠানটি থেকে বলা হয়, আমরাই এই প্রথম দোহার-নবাবগঞ্জে মটরসাইকেল সার্ভিসিং এর ক্ষেত্রে আমরা অত্যাধুনিক সব সরঞ্জাম ও অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে মোটরবাইক সার্ভিস করো। তাই আমরা বিশ্বাস করি দোহার-নবাবগঞ্জের সেরা মটরসাইকেল সার্ভিসিং সেবা দিতে পারবো গ্রাহকদের।

সে সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, দোহার পৌরসভার প্রকৌশলী মশিউর রহমান,নুজরুল ইসলাম খান,সাবেক ছাত্র নেতা সাজ্জাদ হোসেন সুরুজ, দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক উদয় হুসাইন, পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান সাদ্দাম, জয়পাড়া কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পান্নু চোকদার,সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান শান্ত, জয়পাড়া কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক শিহাব-উর-রহমান শিকদার সহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।

জয়পাড়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

দোহার উপজেলায় হরিসভার মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আজ বুধবার এই সব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ। সে সময় তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সারাদেশে দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। করোনা সময় যেমন আমরা ত্রাণ বিতরণ করেছি তারি ধারাবাহিকতায় আমরা সারাদেশে বন্যা প্লাবিত এলাকায় ধারাবাহিক ভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।

এই ত্রাণ বিতরণ এর সার্বিক তত্বাবধায়ন করেন দোহার উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বাসার চোকদার।

সে সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামীলীগ নেতা মুহাম্মদ আব্দুস সালাম, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা শেখ রুনু,সদস্য আব্দুল কুদ্দুস,দোহার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: রায়হান বেপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার চোকদার, আইন বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসনে, প্রচার সম্পাদক কামরুল হাসান,দোহার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য ইউসুফ চোকদার , মো.মিশু,ইয়াসিন,সাইদুল রহমান,সম্রাট মৃধা,মারুফ চৌধুরী, কুসুমহাটি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইয়ার খান,রায়পাড়া ইউনিয়নের সভাপতি মনির হোসেন,বিলাসপুর ইউনিয়ন স্বেচচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুল খালেক, দোহার উপজেলা হিন্দু-বৈদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিহির কান্তি রায়,ঢাকা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সম্পাদক আশিষ কুমার, দোহার উপজেলা ছাত্র যুবক ঐক্য পরিষদের সদস্য সজল সরকার,যুগ্ম-সম্পাদক সাগর সাহা প্রমুখ।

দোহারে বন্যার পানিতে এলজিইডি’র নতুন রাস্তা ভেঙ্গে খানখান

এবারের আগাম বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে দোহারের অধিকাংশ অঞ্চল। বিশেষ করে পদ্মা তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বন্যা ধারন করেছিল ভয়ানক রুপ।এসব এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে গিয়েছিলো অধিকাংশ এলজিইডি’র তেরী করা রাস্তা।এখন পানি নেমে গেলেও ক্ষতবিক্ষত রাস্তাগুলো এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে বন্যার স্মৃতি। তেমনি একটি রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি চোখে পড়ারমত।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চরকুশাই দেওভোগ প্রইমারী স্কুল থেকে করিম বেপারী মনসুর সড়কটি।জানা যায়,সড়কটি নিমার্ন কাজের আদেশ দেন এলজিইডি কতৃপক্ষ।গ্রেটার ঢাকা ইনফ্রাকচারার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায়(জিপিডি-৩) ৬০০ মিটার নতুন রাস্তার কার্যাদেশ পান মের্সাস এশিয়ান ট্রাফিক টেকনোলজিস লিমিটেড।নির্ধারিত সময়ে কাজটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ করলেও আগাম বন্যার পানিতে সড়কটি ডুবে যায়।এক পর্যায়ে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে তা লোকায়লে প্রবেশকালে বানের পানিতে সড়কটির ৮০ ভাগই ভেঙ্গে যায়।শুধু তাই নয় সড়কের পাশের একাধিক পাকা বাড়িঘর বানের পানিতে ভেঙ্গে খানখান হয়ে যায়।বর্তমানে সড়কটির বিভিন্নস্থানে ভেঙ্গে খানাখন্দ হয়ে পড়ে রয়েছে।

দোহারে বন্যার পানিতে এলজিইডি’র নতুন রাস্তা ভেঙ্গে খানখান

স্থানীয় সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানের নির্দেশে জয়পাড়া থেকে কার্তিকপুর মৈনট ঘাট যাওয়ার এক মাত্র বাইপাস রাস্তা উপজেলার চর-লটাখোলা হয়ে মাহমুদপুর দিয়ে সরাসরি মৈনটঘাটে পৌছুতে যে রাস্তাটি ছিলো সেটাও বানের বানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে রয়েছে।স্থানীয়দেও সাথে আলাপকালে জানা যায়,এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করে থাকে।এছাড়াও ট্রাক,মাইক্রোবাস,সিনজি,রিক্সা,অটো,ভ্যান,মটরসাইকেল চালক ও আরোহীরা দুর্বিষহ নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।এসব এলাকার মানুষ যাতায়াত,কাচাবাজার ও হাটবাজার করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।এছাড়াও উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মৌড়া-ধিৎপুর,সাইনপুকুর এলাকার রাস্তার ও একই দশা।নারিশা ইউনিয়নের নারিশা বাজার,নারিশা ইউনিয়ন পরিষদ র্সংলগ্ন সড়ক,নারিশা চৈতাবাতর সড়ক,মেঘুলা হাট-বাজারের রাস্তা।সুতারপাড়া ইউনিয়নের মধুরচর,কাজিরচর,দোহার পুরী এলাকার রাস্তা।বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর,বিলাশপুর,হাজারবিঘা।কার্তিকপুর এলাকার মৈনটঘাট,হরিচন্ডি,প্রানকুন্ড এলাকার সবমিলিয়ে প্রায় দশ কিলোমিটার এলজিইডি’র পাকা রাস্তা ভেঙ্গে গেছে।

 

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা প্রকৌশলী হানিফ মোহাম্মদ মুর্শিদী জানান,আম রাইতিমধ্যে প্রায় দশ কিলোমিটার ভাঙ্গা পাকা রাস্তা চিহ্নিত করেছি।এগুলো মেরামত করতে দ্রত তালিকা তৈরী করে ঊর্ধত্বন কতৃপক্ষকে জানানো হবে।এর মধ্যে নতুন রাস্তা দেওভোগ এলাকায় প্রায় ৬০০ মিটার নতুন রাস্তার কাজ চলছিলো।বানের পানিতে রাস্তাটির প্রায় ৫০ ভাগই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।দ্রুত রিপোর্ট তৈরী করে উর্ধত্বন কতৃপক্ষকে জানানো হবে।
দোহার,ঢাকা।

পানি নেমে গেছে কিন্তু রেখে গেছে ক্ষত

প্রতিদিনই কমছে পানি। ইতিমধ্যে পানি নেমে গেছে অনেক এলাকা থেকে। করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বন্যা আঘাত হেনেছে বাংলাদেশে। মানুষের দুঃখ দূরদশা যেন দরজার কড়া নেরেই যাচ্ছে।করোনা ভাইরাসের কারনে তারা ঘর বন্দি মত জীবন, তার মধ্য অতিরিক্ত বন্যায় বাড়ি ঘর রাস্তা ঘাট ডুবে যায়। মানুষের জীবন এখন থমকে যাওয়ার মত,News39 দোহারের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম ঘুরে দেখি ও মানুষের দুর্বিষহ হাহাকার উঠে আসে।

এবারের বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে দোহারের অধিকাংশ অঞ্চল বিশেষ করে পদ্মা তীরবর্তী এড়িয়া গুলোতে বন্যা ধারন করেছিল ভয়ানক রুপ। বন্যাত পানিতে ডুবে গিয়েছে অনেক রাস্তা। পানি নেমে গেলেও ক্ষতবিক্ষত রাস্তাগুলো এখনো বয়ে চলছে বন্যার স্মৃতি। মাহমুদপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর সহ চরলটাখোলা রাস্তা ভেঙ্গে খানাখন্দ হয়ে আছে,জয়পাড়া থেকে কার্তিকপুর মৈনট ঘাট যাওয়ার এক মাত্র বাইপাস রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে প্রায় দৈনিক হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করে,ট্রাক,মাইকো,সিনজি,রিক্সা,ভ্যান,মটর সাইকেল।দুর্বিষহ মানুষ গুলো অসহায় ও হতাশায় ভুগছে।তারা যাতায়াত ঠিক মত করতে পারছে না।কাচাবাজার ও হাটবাজার করতে কষ্ট করতে হয়। গাড়ি চালকরাও নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

চরলটাখোলা এক স্থায়ী বাসিন্দা মজম মাদবর বলেন,আমরা এলাকা বাসি খুব কষ্টের মধ্যে আছি, এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে,বন্যার পানিতে রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় আমরা যাতায়াত করতে পারছিনা,১০থেকে ১২ ধরে পানি নেমে গেলেও এলাকা বাসির জন্য কিছুই করছে না চেয়ারম্যান।

একজন অটো চালক রফিক বলেন,যান চলাচলের জন্য উপজেলা প্রশাসন কে অনুরোধ করেছেন যেন রাস্তা গুলো দুরত মেরামত করা হয়।

মাহমুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব তোফাজ্জল হোসেন বলেন,রাস্তা মেরামতের জন্য আবেদন করতেছি,কোথাও কোন বরাদ্দ না থাকায় মানুষের কষ্ট ও দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছ।তাই এখন সময়ের ব্যাপার,এই মহুর্তে করার মত কিছু নাই।

দোহারের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আপনি কি বিব্রত?

আপনি কি বিব্রত?
জ্বি!!
এমনটিই বলছিলেন পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা একজন সরকারি কর্মকর্তা মোঃ বেলাল হোসেন রাজু
গতকাল বিকেল ৫:৩০ তিনি সপরিবার দোহারের বাহ্রা ঘাট ” মিনি পতেঙ্গা ” ঘুরতে আসেন। ঈদ পরবর্তী সময়ে অনেক পর্যটক মিনি পতেঙ্গায় বিকেলের সূর্যাস্ত উপভোগ করতে আসেন। কিন্ত গত কয়েকদিন ধরে বখাটেদের উত্তপাত বেড়ে গেছে জায়গাটিতে।অল্প বয়সী কিছু যুবক পিকনিক নৌকা ভ্রমনের নাম করে সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করে। তারা বাহ্রা ঘাট হতে ধোয়াইর বাজার পর্যন্ত বার বার চক্রর দিতে থাকে নৌকাপথে। আর অশ্লীল অঙ্গ – ভঙ্গি প্রদর্শন করে ঘুরতে আসা অন্যান্য পর্যটকদের উদ্দ্যেশ্য করে। তাদের কারো কারো হাতে রয়েছে বিদেশি মদের বোতল। কেউ কেউ সেবন করছে নেশা জাতিয় দ্রব্য যা প্রত্যক্ষদর্শী অনেকই উল্লেখ করেছেন। এসকল কারনে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা খুবই বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পরেন।
এমতাবস্থায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পর্যটকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানটির সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে নিয়ে আসতে যাতে করে “মিনি পতেঙ্গা ” পর্যটন শিল্পের সম্ভবনা ব্যাহত না হয়। দর্শনার্থীরা জায়গাটিতে যেন সপরিবার উপভোগ করতে পারে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিবে।
মোঃ মিথুন হোসেন জয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ
সভাপতি
দোহার – নবাবগঞ্জ ছাত্রকল্যাণ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

নবাবগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় মটর সাইকেল চালক নিহত

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বিআরটিসি দোতালা বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে বাহার নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। আজ নবাবগঞ্জের টিকরপুরে এন মল্লিক পাম্পের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, টিকরপুর পাম্পের সামনে বিআরটিসি দোতালা বাসের সাথে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনা স্থলেই মটর সাইকেল চালক বাহার মৃত্যুবরন করেন। তার সাথে থাকা মটর সাইকেল মিস্ত্রি গুরুতর আহত অবস্থায় নবাবগঞ্জ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

গ্রামটিই জাঁকিয়ে রাখবে ইছামতিকে-

গ্রামের নাম বলমন্তচর। এক সময় অনেকের কাছে অজানা অচেনা গ্রামই মনে হতো। তবে আমার কাছে এই জনপদ পরিচিত ছিলো ছোট বেলা থেকেই- এটি আমার নানা বাড়ীর গ্রাম। গ্রামের মেঠো পথগুলো আর আগের মতো নেই। আজ সেই অচেনা অজানা অচেনা গ্রাম এখন দোহার নবাবগঞ্জ কেরানাীগঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দিত গ্রাম। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এই গ্রামের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুন সেই সময় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রকন করেন। ইছামতি তীরে গড়ে উঠা এই গ্রামটির অবকাঠামো বলতে ছোট একটি ক্লাবঘর , মসজিদ এবং খেলার মাঠ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিলো। তবে কবরস্থান এবং খেলার মাঠ প্রায় সময় নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়তো হতো।ছোট বেলায় খেলার মাঠের পাশেই এক পায়ে দাঁড়িয়ে ছিলো একটি তাল গাছ। প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ছিলো টিনের তৈরি। সেই সময় ইছামতি নদীতে লঞ্চের আওয়াজ শুনলেই এক দৌঁড়ে নদীর পারে চলে যেতাম লঞ্চ দেখতে। লঞ্চের ঢেউ খেয়ে খেয়ে সাতার কাটার স্মৃতি আজও মনে গেঁথে রয়েছে। অজানা সেই লঞ্চ এর গল্প আমাদের নিজ গ্রামে গিয়ে বলতে থাকতাম। যাই হোক গত ১০ বছরের মধ্যেই গ্রামটিকে সাঁজিয়ে নিজের মতো করে। প্রথমেই মসজিদ এবং মসজিদের মিনার তৈরিতে হাত দেন। ৩/৪ বছরের মধ্যে কাংখিত ডিজাইন অনুযায়ী মসজিদ ও মিনার তৈরির পরিসমাপ্তি ঘটান। এর পর ডিজাইন করেন কবরস্থানের। ইছামতির তীর ঘেষে গ্রামটির কবরস্থান ও মাঠকে ভাংঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। এই নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য নিজের সাথে সরকারের সহযোগীতাও কাজে লাগান। গত তিন বছরের মধ্যেই কবরস্থানও সুন্দর ডিজাইন করে কাজের সমাপ্তি ঘটান এই বছরেই। জরাজীর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও এখন দুতলা বিল্ডিং। অর্থাৎ ইছামতির পাশেই গড়ে উঠা এই মসজিদ, এই মিনার,, এই খেলার মাঠ, কবরস্থান, সরকারী প্রাথমিক নতুন ভাবে জেঁগে উঠেছে। আজ ইছামতি ছয় মাস জীবিত থাকলে বাকী সময় একটি বক্রাকারের খালের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। তথাপি এই গ্রামের মানুষগুলো সব সময আধুনিকতা গ্রহনের অভ্যস্ত- তা কাজের মাধ্যমে প্রমান করেছেন। ইছামতি নদী রক্ষার আন্দোলন এই গ্রাম থেকেই শুরু হয়েছিলো। জনাব মোতাহারুল ইসলাম খান- যিনি এই সংগঠনের সেক্রেটারী তাঁর হাত ধরেই আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনের পাশাপাশি নিজেদের গ্রামকেও সাঁজিয়েছেন ইছামতি পাশেই। দূর থেকে ইছামতির তীরে গড়ে উঠা গ্রামটি – পথিকের নজর কেঁড়ে নিচ্ছে।
স্বাধীনতার পর তৃতীয় প্রজন্মের হাতে গড়ে উঠছে এই অবকাঠামো। এই অবকাঠামোর যাত্রা শুরু হয় সুদীর্ঘকাল হতেই। অনেক ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে তৃতীয় প্রজন্মের হাত গড়ে উঠে কাংখিত গ্রামটি। এই গ্রামের একটি বড় বিষয় হলো এখানে শিক্ষার হার অন্যান্য গ্রামের চেয়ে বেশী। পাশাপাশি অনেক জ্ঞানী লোকের জন্মস্থান এই গ্রামে। সবচেয়ে বড় কথা এরা সকলেই সব সময় আধুনিক। এদের সব বয়সের মানুষগুলেই আধুনিক। একটি সমাজকে আধুনিক সমাজ বলা হবে তখন যখন ঐ সমাজের মানুষগুলো সামনের দিনগুলোতে কি ঘটবে তা দেখতে পান। স্বপ্ন সকলেই দেখতে পান না। দুই একজন মানুষ স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এক সাথে কাজ করেন সকলে। এই বলমন্তচর গ্রামের ক্ষেত্রেও তাই।পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে- তবেই উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে । আজ ইছামতিকে যারা মৃত বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছেন- তাদের কাছে বলমন্তচর নতুনভাবে জানান দিয়ে যাচ্ছেন- ইছামতি মারতে চাইলে এই গ্রাম ইছামতিকে বাঁচিয়ের রাখতে চায় দীর্ঘদিন। ইছামতির তীর ঘেষা গ্রামগুলো যদি বলমন্তচরের পথ অবলম্বন করে, আমার মনে হয়- এই ইছামতি আবার নতুনরুপে আর্বিভূত হবে। যেমনটি ইছমাতিকে ঘিরে নগর সভ্যতা গড়ে তুলেছিলেন জমিদারগণ। সেই সময় নদীকে কেন্দ্রে করেই অবকাঠামো গড়ে উঠেছিলো।স্কুল কলেজ, বাজার ঘাট ব্যবসা বানিজ্য সবকিছুই নদী তীর ঘেষে গড়ে উঠেছিলো। আজ বলমন্তচর গ্রাম নতুনভাবে ইছামতিকে জাঁকিয়ে তুলার ডাক দিয়েছেন- আসুন নদীকে নোংড়া নয় , এটিকে বাঁচিয়ে রেখে কিভাবে অবকাঠামো নদী পার দিয়ে গড়ে তোলা যায়- বলমন্তচর গ্রাম থেকে শিখে নেই। গাড়ীতে বসে বসে মিনারে থেকে যখন আজানের ধ্বানি ভেসে আসে – তখন মহা কবি কায়কোবাদের কথা মনে পড়ে যায।
মহা কবি আজ বেঁচে নেই- কিন্তু তাঁর শুনতে পাওয়া আজানের ধ্বনি আজ ছড়িয়ে পড়ছে নবাবগঞ্জের এক মাথা থেকে অপর মাথায়। তিনি হয়তো ইছামতির তীরে এমন গ্রাম আর এমন মিনারের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

দোহারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিনশ ছাড়িয়ে

প্রবাসী অধ্যুষীত ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিনশ ছাড়িয়েছে। ৬ আগস্ট ঢাকা থেকে আসা রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে দোহারে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ জন। এতে দোহারে সর্বমোট করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৫১ জন।

 

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন দোহারে সর্বমোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫১ জন। এর মাঝে করোনা থেকে সুস্থতা লাভ করেছেন ২৭২ জন। আইসোলেশনে আছেন সর্বমোট ৭১ জন। তিনজন আছেন হাসপাতালে ও ৬৮ জন বাড়িতে। কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৮ জন। এই পর্যন্ত দোহারে করোনা কাক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮ জন।