একদিকে করোনা অন্যদিকে বন্যা’র আঘাতে দিশাহারা দেশের মানুষ

শরিফ হাসান,নিউজ৩৯: এক কঠিন বাস্তবতার মধ্যে দেশব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে এবারের কোরবানীর ঈদ। যখন দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে দিশাহারা দেশের মানুষ। তখনই যেন মরার উপর খাড়ার ঘা !  দেশের ৩১টি জেলায় বন্যার হানা । এছাড়া রাজধানীর আশেপাশের নতুন নতুন এলাকাও প্লাবিত হয়ে শঙ্কাজনক অবস্থার সৃষ্টি করেছে।

সারা দেশের প্রায় ১০লাখ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করে চলেছে।অনেকেই বন্যার পানিতে বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বাঁধ কিংবা আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় ঘরের চালা ও গাছের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন।

দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ বেড়েছে। ত্রাণের জন্য সর্বত্র হাহাকার বেড়েই চলছে।শিশুখাদ্যের সংকট চরমে।যেসব এলাকায় সরকারি ত্রাণ পৌঁছেছে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।কেউ না খেয়ে থাকবেনা বলা হলেও বাস্তবতা হচ্ছে যে, অনেক এলাকায় এখনো পৌঁছায়নি ত্রাণ।

এখন পর্যন্ত বন্যায় প্রায় অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তিস্তাপাড়, আত্রাই, যমুনা,মেঘনা ও পদ্মাপাড়ের মানুষরা চরম কষ্টে আছেন।

এদিকে দুই যুগেরও বেশি সময় পর এ বছরের বন্যা স্থায়ী রূপ ধারণ করায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়েছে ও বাড়ছে।

এদিকে যমুনা ও পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,বসতঘরসহ ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ মুহূর্তেই সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়ছেন।

একদিকে করোনা অন্যদিকে বন্যা- এই দু’টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ একসঙ্গে আঘাত হানায় মানুষ দিশাহারা।

যদিও বন্যাকবলিত মানুষদের সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। তবে সেগুলো পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে অন্যান্য সময়ে বিভিন্ন এনজিও ও রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠনকে বানভাসিদের জন্য কাজ করতে দেখা গেলেও এ বছর তাদের মাঠে দেখা যায়নি।

আসলেই এমন এক কঠিন বাস্তবতার মধ্যে এবার দেশবাসিকে কোরবানীর ঈদ পালন করতে হচ্ছে।যখন বাংলাদেশ জুড়ে করোনার অতিমহামারীতে লাখ লাখ লোক আক্রান্ত ও হাজার হাজার লোক মৃত্যুকে আলিঙ্গণ করছে।এবং গোট দেশের জনজীবন ও অর্থনীতি বির্যস্ত ও বিপন্ন।এমন অবস্থার প্রেক্ষাপটে দেশের সব এলাকার অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

আসলে ভোগ নয় ত্যাগের নিদর্শন দেখানোর এখনই সময়।এই সময় একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রমাণ করতে হবে মানুষের কল্যাণে ব্যয় করাটাই সবচেয়ে বড় কোরবাণী।

বানভাসিদের পাশে জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার ছাত্রলীগ।।

রান্না করা খাবার নিয়ে বানভাসী মানুষের হাতে তুলে দিলেন জয়পাড়া কলেজ ছাএলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল রহমান শান্ত। গতকাল দুপুরে দোহার উপজেলার কাঠালিঘাটা নিজ গ্রামে প্রায় ১০০ বন্যার্তের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন তিনি।
এসময় আবদুল রহমান শান্ত বলেন, একদিকে করোনার ভয়াবহতা, অন্যদিকে বন্যার মতো ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এমন অবস্থায় আয়ের অভাবে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে দেশের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত আর দরিদ্র পরিবার। এমন দুঃসময়ে এইসব অসহায় পরিবারের পাশে দাড়ানোর ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা চালায় আমিসহ জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের উদ্যোগে গতকাল কাঠালীঘাটার বন্যার্ত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরন করেছি। আমি এই খাবার দুই দিন পর আবার ২য় দফায় বিতরন করো এবং এটি চলমান থাকবে সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আমি আমার গ্রামের বানভাসিদের পাশে থাকতে পারি।

আজ শেখ কামাল থাকলে, অলিম্পিকে স্বর্ণ পেতামঃ সালমান এফ রহমান

আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের ৭১তম জন্মদিন (আগস্ট ০৫)। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত ওয়েবিনারে স্মৃতিচারণা করেছেন আবাহনী ক্লাবের চেয়ারম্যান, শেখ কামালের বন্ধু বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান।

সালমান এফ রহমান বলেনঃ  করোনাকাল হওয়ায় এবার অবশ্য ক্লাব প্রাঙ্গণে কিছু করা যায়নি। ভার্চুয়ালি তাতে যোগ দিয়ে শুরুতে বন্ধু শেখ কামালকে নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেক বছর, আবাহনী প্রাঙ্গণে আমরা শেখ কামালের জন্মদিন পালন করি। করোনার কারণে এ বছর আমরা সেটা করতে পারিনি। আমরা তার জন্মদিন উদযাপন করতে চাই। কিন্তু শোকের মাসের কারণে সেটাকে আলোচনায় সীমিত রাখি।’

শেখ কামাল ছিলেন দূরদর্শী। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই অনেক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, গড়েছেনও। কামালকে সবাই চেনেন আবাহনী দিয়ে। কিন্তু তিনি আরেকটা সংগঠন স্পন্দনও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, স্পন্দনের মাধ্যমে যে মারফতি গান, রক গানের প্রচলন। তাতে কামালের দূরদর্শিতারই প্রমাণ হয় আজকে, এ ধরনের গান খুব জনপ্রিয় হয়ে গেছে। সেই সংগঠনটা এখন দ্বিতীয় প্রজন্মে গেছে।’

সংগঠন গড়লেও শেখ কামাল সব ধরনের খেলাতেই ছিলেন পারদর্শী। খেলতেন ক্রিকেটও। বন্ধুর সেই দিকটির কথাও উঠে এলো তার কথায়, ‘কামাল মাত্র ২৬ বছর জীবিত ছিলেন। আজাদের জন্য ক্রিকেট খেলেছিলেন, ফাস্ট বোলারও ছিলেন। ভালো বোলিং করতে পারতেন। বাস্কেটবলে নামি ক্লাবেও খেলতেন।’

এর পরেই তিনি আবাহনীর শুরুর দিককার কথা বলেন। কীভাবে ক্লাবটি গড়ে উঠলো মোহামেডান নামক বড় ক্লাব থাকার পরেও, ‘আমার মনে আছে কেন তিনি আবাহনী করতে চাইতেন। তখন ফুটবল ক্লাব একটাই ছিল-মোহামেডান। খেলার মান বাড়াতে প্রতিযোগিতার জন্যই মোহামেডানের মানের আরেকটা ক্লাব তিনি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। সে শুধু তৈরি-ই করেননি। এর ফলে আবাহনী-মোহামেডানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বছরের পর বছর রয়ে গেছে। ‘কামালের অনেক গুণ ছিল। দুটো জিনিস বলতেই হয়, শুধু খেলোয়াড়দের জন্যই না, অনেকের চাকরির জন্যও তদবির করতেন। সবাইকে সাহায্য করার অনুভূতি কাজ করতো। আমি সব সময়ই বলে এসেছি, যেটা নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হওয়ার পরেও শেখ কামাল বিভিন্ন প্রলোভনে পড়তেন না। এমনকি ভাবতেন না নিজের কথাও। বেশ কিছু ঘটনার উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান আরও বলেছেন, ‘ওই সময় নতুন দেশ, অনেক ব্যবসায়ীই আমার সামনে তাকে অনেক প্রস্তাব দিয়েছেন। কমিশনের লোভ দিয়েছেন। কিন্তু কেউ বলতে পারবে না কোনও কিছুর সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। আমরা কিন্তু এর পরে কত বড় বড় প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, তাদের পরিবারের ছেলেরা কী করেছেন, সবই জানি।’

আমি যখন একবার লন্ডন যাচ্ছিলাম, কামালকে বলেছিলাম তার জন্য কী আনবো? ওই সময় যে কেউ বলতো শার্ট আনো, কলম আনো। কিন্তু তিনি বললেন না, আমার আবাহনীর ছেলেদের জন্য কেডস আনতে হবে। জাপান যাচ্ছিলাম, তখন স্পন্দনের জন্য ইলেক্ট্রিক অর্গানও আনতে বলেছিলেন’’

এর পরেই তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন বর্তমান সরকারকে, ‘আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে। আজকে যে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুষ্ঠান করা হলো সেজন্য। যদি শেখ কামাল বেঁচে থাকতো, তাহলে সব চেয়ে বেশি খুশি হতো এই দেখে, যে আজ আমরা ক্রিকেটে অনেক নাম করে ফেলেছি। এটাই তার আসল স্বপ্ন ছিল। এমনকি কামাল বেঁচে থাকলে অলিম্পিকসেও পদক জিততে পারতাম।’

করোনার কারণে অনেক কিছুই বন্ধ হয়ে গেছে। ক্লাবের স্থাপনার কাজও স্থগিত হয়ে গেছে। এ নিয়ে সালমান এফ রহমান আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘নির্মাণ কাজ বন্ধ আছে। এখন কত তাড়াতাড়ি আবার চালু করতে পারি দেখি। তবে ডিজাইন সব কিছু চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আমরা শুরু করতে যাচ্ছিলাম, তখনই লকডাউন হয়ে গেলো। আশা করছি, আমরা আবার শুরু করতে পারবো ইনশাল্লাহ। কাজী নাবিল, পাপন ও অঞ্জনের সহযোগিতা নিয়ে ভবিষ্যতে আমরা আবার চ্যাম্পিয়নশিপও পেতে পারবো।’

আব্দুল মান্নানকে শেষ শ্রদ্ধা জানালো বিএনপি

দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নানের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি। বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তার কফিন রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আনা হয়।
সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল, নাসির উদ্দিন অসীম, মীর সরাফত আলী সপু, কায়সার কামাল, আবদুস সালাম আজাদ, রফিক শিকদার, ইশরাক হোসেন, খন্দকার আবু আশফাক, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকনসহ কয়েক’শ নেতাকর্মী অংশ নেন।

জানাজার পরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ সিনিয়র নেতারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে আব্দুল মান্নানের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তার কফিন দলীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। ঢাকা জেলাসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তার কফিনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

মরহুমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, আব্দুল মান্নান সাহেব শুধু দলের ভাইস চেয়ারম্যানই ছিলেন না, তিনি এদেশের একজন প্রতিথযশা মানুষ ছিলেন। তিনি মন্ত্রী ছিলেন, সংসদ সদস্য ছিলেন এবং অত্যন্ত যোগ্য একজন পুরুষ ছিলেন। আমার তার পাশে আসার যতটুকু সুযোগ হয়েছে-এরকম সৎ, এরকম আন্তরিক, এরকম নিষ্ঠাবান, এরকম যোগ্য মানুষকে রাজনীতিতে আমি খুব কম দেখেছি।

তিনি বলেন, আমার এখনো মনে আছে, তিনি যখন বাংলাদেশ বিমানের এমডি ছিলেন, পরবর্তিকালে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও ছিলেন তখন বাংলাদেশ বিমান প্রফিট করেছিলো এবং সেই প্রফিটের টাকা দিয়ে তিনি লন্ডনে বিমানের একটা স্থায়ী অফিস করেছিলেন। সব বকেয়া ঋণ পরিশোধ করেছিলেন। আব্দুল মান্নান ঢাকা জেলার সভাপতিরও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যু বিএনপির নেতাকর্মী বিশেষ করে ঢাকা জেলার নেতাকর্মীদের জন্য অনেক কষ্টের।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টায় বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগে এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আব্দুল মান্নান। তার বয়স হয়েছিলো ৭৮ বছর।

নয়াপল্টনে জানাজা শেষে আবদুল মান্নানের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ধানমন্ডিতে। যে এলাকায় তিনি দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করেছেন। সেই ধানমন্ডি ঈদগাহ মাঠে দুপুর ১২টায় তার জানাজা হয়। এরপর তার নিজ এলাকা নবাবগঞ্জের রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিকেল ৩টায় জানাজা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় বিকেল ৪টায় দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ মাঠে চতুর্থ জানাজার পর ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে তার স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্য্টন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন আব্দুল মান্নান। ঢাকা-২ আসনে (নবাবগঞ্জ- দোহার) ১৯৯১ সালে থেকে চার বার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশ বিমানের এমডি ছিলেন। তিনি পাকিস্তান সরকারের সিএসপি অফিসার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন।

মারা গেলেন নবাবগঞ্জের সাবেক সাংসদ আব্দুল মান্নান

৪ঠা আগষ্ট, ২০২০, মংগলবার সকালে ঢাকা – ২ আসনের চারবারের সাবেক সাংসদ, সাবেক বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী, ঢাকা জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি, বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস -চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান এভারকেয়ার হাসপাতালে (অ্যাপোলো) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯ঃ০০ টায় ইন্তেকাল করেছেন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৮ বছর। ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান তার একমাত্র কন্যা। বুধবার গালিমপুরে ইছামতী কলেজ মাঠে তার নামাযের জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে।

তার মৃত্যুতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মরহুমের মৃত্যুতে শোকসন্তোপ্ত পরিবারের প্রতি নিউজ৩৯ গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা যেন তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করেন, আমিন।

দোহারে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্ক বিতরণ

‘মাস্ক পড়ুন, সুরক্ষিত থাকুন’ স্লোগানে দোহারে লায়ন আব্দুস সালাম এর উদ্যোগে মেঘুলা বাজারে প্রায় আট শতাধিক মানুষের মাঝে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্ক বিতরণ করা হয়।

মঙ্গলবার বিকাল ৫ টায় দোহারের মেঘুলা বাজারে রিক্সাওয়ালা ও সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন লায়ন আব্দুস সালাম চৌধুরী। এসময় রিকশাওয়ালাদের মাঝে সেমাই ও টুপিও বিতরণ করা হয়।

আব্দুস সালাম চৌধুরী নিউজ৩৯ কে বলেন, আজ আমি আমার ব্যাক্তিগত ভাবে ৮৫০টি মাস্ক, সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে করোনা ভাইরাসের সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করার ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। আর সেই ধারাবাহিকতায় আজ দোহারের মেঘুলা বাজারে আমি রিকশা চালক ও সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক এবং রিকশা চালকদের মাঝে সেমাই ও টুপি বিতরণ করি।
ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

বিএনপির সাবেক সাংসদ আব্দুল মান্নান এখনো জীবিত আছেন

মংগলবার দুপুর ৩ টায় রাজধানীর এপোলো তথা ইভারকেয়ার হাসপাতালে আব্দুল মান্নানের একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান জানান, আমার বাবা এখনো জীবিত। তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। তিনি প্রেস রিলিজে বলেন, প্রেস রিলিজঃ বিএনপি নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা – ২ (নবাবগঞ্জ) সংসদীয় আসনের চারবারের নির্বাচিত সাবেক সাংসদ আব্দুল মান্নান লাইফ সাপোর্টে রাজধানীর এপোলো তথা ইভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি এখনো জীবিত আছেন। আগামী ৪৮ ঘণ্টা তার চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে তার সুস্থতার জন্য দুয়া কামনা করছি। – ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান আব্দুল মান্নান এর একমাত্র সন্তান।

‘সেনাবাহিনীর উদ্যোগে লঙ্গরখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দোহারে বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য পরিচালিত লঙ্গরখানায় উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করেছেন সেনাসদস্যরা। ঈদের আনন্দকে বন্যা দুর্গত মানুষের সাথে ভাগ করে নেয়ার লক্ষ্যে ঈদের তৃতীয় দিনে সেনা সদস্যদের দ্বারা এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কিছুদিন যাবৎ পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় নদী উপকূলবর্তী লোকজন বন্যা কবলিত হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছে। এই বন্যা কবলিত মানুষের জীবনের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকারি এবং ব্যক্তি উদ্যোগে দোহার উপজেলার বেশ কয়েকটি লঙ্গরখানা পরিচালিত হচ্ছে, যেগুলোতে বন্যাকবলিত মানুষজন তিনবেলা খাবার খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এই বন্যাকবলিত মানুষগুলোর জীবনে ঈদের আনন্দ নিয়ে আসার জন্য সেনা সদস্যরা ঈদের দিন থেকে কোরবানির মাংস বিতরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ কয়েকটি লঙ্গরখানায় কুরবানির মাংস রান্না করে বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে পরিবেশন করেন সেনা সদস্যরা। সেনাবাহিনীর এই অভাবনীয় উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

‘ঈদের দিনে বন্যাদুর্গতদের মাঝে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কোরবানির মাংস বিতরণ’

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দোহারের বন্যাদুর্গত মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে কোরবানির মাংস বিতরণ করেছেন সেনাসদস্যরা। ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কোরবানির মাংস বিতরণের এই আয়োজন করা হয়।

করোনা মহামারীর পাশাপাশি গত প্রায় এক মাস যাবৎ পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে বন্যা কবলিত হয়ে দোহার উপজেলার হাজার হাজার মানুষ অসহায় জীবন যাপন করছে। মানুষের জীবনের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গত কিছুদিন যাবৎ বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন সেনাসদস্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় ঈদের আনন্দ অসহায় দরিদ্র মানুষগুলোর সাথে ভাগ করে নিতে কোরবানির মাংস সাথে নিয়ে আজ সেনাসদস্যরা হাজির হয়েছিলেন দোহার উপজেলায়। উপজেলার প্রায় শতাধিক পরিবারের মধ্যে কোরবানির এই মাংস বিতরণ করা হয়। উপস্থিত সেনা সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের এই উদ্যোগ আগামী তিন দিন ধরে চলমান থাকবে।

বন্যা দুর্গত মানুষদের সহায়তা লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবনের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য সেনাবাহিনী কাজ করে যাবে বলে তারা আশাবাদী।

দোহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে কুরবানী

পারিবারিক তথ্যসূত্রে জানানো হয় দোহারের মুকসুদপুরে প্রায় ২০ মণ অর্থাৎ ৮০০ কেজি ওজনের একটি মহিষ কুরবানী করা হয়েছে। সাবেক জেলা ও দায়রা জজ এবং আইজিআর বাংলাদেশ ড.কে এম আব্দুল মান্নান খান এই কুরবানী করেন। এসময় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুকসুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি খান আব্দুল মান্নানের সদ্য প্রয়াত বড়ভাই মানিক খানের স্মরণে মহিষ টি কুরবানী করা হয়।পরবর্তীতে ১২০০ পরিবারের মাঝে মহিষের মাংস রান্না করে বিতরণ করা হয়।
দোহারে কুরবানিকৃত মহিষের মধ্যে এটাই ছিলো সবচেয়ে বিশাল আকৃতির।

এসময় উপস্থিত ছিলেন এম এ হান্নান খান চেয়ারম্যান মুকসুদপুর ইউনিয়ন, ট্যাক্সেস বার আইনজীবী সমিতির মহাসচিব কে এম আজিজুর রহমান বাবুল সহ আরও অনেকে।