ঈদ উপহার বিতরণ by শান্তির অভিযাত্রী

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘শান্তির অভিযাত্রী ছাত্র ও সমাজকল্যাণ সংগঠন’। কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আয়োজন বা জনসমাগম না করে সংগঠনের সদস্যরা নিজ হাতে প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঈদ উপহার ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে মুকসুদপুরের উত্তর মৌড়া ধীৎপুর দুবলি এলাকার বিভিন্ন পাড়ায় ঘুরে ঘুরে এই সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত ঈদ সামগ্রীর মধ্যে ছিল সেমাই, চিনি, নুডুলস, ডাল, তেল সহ প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এই আয়োজন করি। বিত্তবানদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে এলে সমাজে কোনো মানুষই উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে না।”

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “অনেক মধ্যবিত্ত ও অভাবী মানুষ আছেন যারা লোকলজ্জার ভয়ে জনসম্মুখে সাহায্য নিতে পারেন না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রতিটি পরিবারের আত্মসম্মান বজায় রেখে তাদের দোরগোড়ায় উপহার পৌঁছে দেওয়ার। আমাদের এই মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

সংগঠনের একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ তরুণ সদস্য এই বিতরণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাদের এই উদ্যোগ স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

জাতীয় হাদিস প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে ওমরাহ ও দুইলক্ষ টাকা অর্থ পুরস্কার লাভ করেন দোহারের ফুরকান আহমাদ।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় হাদিস বিষয়ক প্রতিযোগিতা “হাদিস আমার ভালোবাসা” সিজন ৩ অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মোঃ ফুরকান আহমাদ। তিনি বাংলাবাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা ইমরান হোসাইনের ছোট ভাই। পূর্ব শিলাকোঠার কৃতি সন্তান।

সারা বাংলাদেশের হাজার হাজার প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করে চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা অর্জন করেন। এ সাফল্যের জন্য তাকে পবিত্র ওমরাহ ও ২ লক্ষ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১৭ মার্চ মঙ্গলবার ধানমন্ডি মসজিদুত তাকওয়ার সম্মানিত খতিব হাফেজ মুফতি সাইফুল ইসলাম তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। তাঁর এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সকলে তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের মাধ্যমে দেশের সুনাম বয়ে আনবেন।

দোহারে অসহায়দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ, পাশে “আলোর দিশারী ডি.এন. ফাউন্ডেশন”

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকার দোহার উপজেলায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (সকাল ১১টা) উপজেলার উত্তর চর লটাখোলা বায়তুন জামে মসজিদের মাঠে “আলোর দিশারি ডি.এন. ফাউন্ডেশন”-এর উদ্যোগে এ মানবিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও দোহার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. বায়েজিদ শেখ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোবারক হোসেন ভূইয়া রবিন মাস্টার।

এসময় প্রায় ১৭০টি অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে ডাল, চিনি, সেমাই, লুডুস, আলু ও পেঁয়াজ বিতরণ করা হয়। ঈদকে সামনে রেখে এ ধরনের সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আয়োজকরা জানান, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই তাদের এ উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

খাল খনন কর্মসূচিকে স্বাগত জানালো নবাবগঞ্জ রোইং ক্লাব ও নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর খাল পুনঃখননের কর্মসূচি গ্রহণ করায় সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে নবাবগঞ্জ রোইং ক্লাব ও নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি। খাল খননের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন নদীও খননের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
সোমবার এক বিবৃতিতে কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, খাল ও নদী বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এসব জলপথ পুনরুদ্ধার হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের মতো সাংস্কৃতিক আয়োজন আরও বিস্তৃত হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, খাল খননের মাধ্যমে জলপথ পুনরুজ্জীবিত হলে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হবে এবং হারিয়ে যেতে বসা নৌকা বাইচের ঐতিহ্য নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।

কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, খাল ও নদী আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেক খাল ভরাট ও দখলের কারণে নৌ চলাচল এবং নৌকা বাইচ আয়োজন কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে এসব জলপথ আবারও সচল হবে এবং নৌকা বাইচের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে নতুন করে গতি পাবে। ফসলের মাঠের উর্বরতাও বাড়বে।

তিনি বলেন, নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি গ্রামীণ মানুষের আনন্দ ও ঐতিহ্যের প্রতীক। তাই খাল খননের পাশাপাশি দেশের নদীগুলোও নিয়মিত খননের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এতে দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বার্তা প্রেরক

ইহসান আননূর

দপ্তর সম্পাদক

ঢাকার দোহারে তরুণীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা: তদন্তে নেমেছে পুলিশ

ক্রাইম রিপোর্টার, দোহার, news39.net: ঢাকা, বাংলাদেশ — ঢাকার অদূরে দোহার উপজেলায় ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার ভোররাতে উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের আন্তা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

নিহত মলি আক্তার ওই গ্রামের বাদশা বাবুর্চীর মেয়ে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত রাতে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি মলিকে ফোন করে কথা বলার জন্য বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে বাড়ির অদূরে একটি জঙ্গলে তাকে নিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ঘটনার সময় মলির আর্তচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

“আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”— আবু বক্কর, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দোহার থানা।

এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। মলির পরিবার এখন পর্যন্ত এই ঘটনার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা শত্রুতার কথা উল্লেখ করতে পারেনি।

পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

দোহারে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে উপকারভোগীদের মাঝে ফুটবল বিতরণ

ঢাকার দোহার উপজেলায় উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে উপকারভোগী সমিতি ও দলের সদস্যদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করা হয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১১টায় দোহার উপজেলার বিআরডিবি (BRDB) সভাকক্ষে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোঃ আব্দুস সাত্তার, সহকারী পল্লী উন্নয়ন অফিসার শেফালী ইয়াসমিন, জুনিয়র অফিসার মোঃ রাসেল, গ্রাম সংগঠক মোঃ আব্দুল খালেক, মাঠ সংগঠক অখিল কুমার বিশ্বাস, আসলাম সুমা, সাংবাদিক মোঃ আল আমিন হোসাইন ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছাত্র নেতা সোহেল বেপারী সহ অন্যান্যরা।

এসময় উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ফুটবল বিতরণের মাধ্যমে যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং গ্রামীণ পর্যায়ে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এ ধরনের সামাজিক ও ক্রীড়ামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপকারভোগী সমিতির সদস্যরা এই উদ্যোগের জন্য উপজেলা পরিষদ ও পল্লী উন্নয়ন অফিসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কুর্দি কারা? ইতিহাস ও পরিচয়

0

মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে এমন এক বিশাল জনপদ রয়েছে, যাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি এবং সুদীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও নেই কোনো নিজস্ব মানচিত্র বা সার্বভৌম রাষ্ট্র। তারা কুর্দি—বিশ্বের বৃহত্তম ‘রাষ্ট্রহীন’ জাতিগোষ্ঠী। তুরস্ক, ইরান, ইরাক এবং সিরিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে বিভক্ত এই জাতিটির জীবনগাথা যেমন বীরত্বের, তেমনি বঞ্চনার।

পরিচয় ও আদি নিবাস

কুর্দিরা মূলত একটি ইন্দো-ইউরোপীয় নৃগোষ্ঠী। তারা কোনোভাবেই আরব, তুর্কি বা পারস্য জাতিভুক্ত নয়। ঐতিহাসিকভাবে তারা ‘মেসোপটেমিয়া’র উত্তরাঞ্চল এবং জাগ্রোস পর্বতমালা সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে আসছে। এই ভৌগোলিক অঞ্চলটিকে ঐতিহাসিকভাবে ‘কুর্দিস্তান’ বলা হয়, যা বর্তমানে চারটি দেশের সীমান্তে বিভক্ত।

বিস্তৃতি: চার দেশে বিভক্ত এক প্রাণ

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি কুর্দি মানুষের বসবাস। তাদের ভৌগোলিক বিস্তৃতি মূলত চার ভাগে বিভক্ত:

১. তুরস্ক (উত্তর কুর্দিস্তান): এখানে কুর্দিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি (প্রায় ১.৫ থেকে ২ কোটি)।
২. ইরান (পূর্ব কুর্দিস্তান): দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে বিশাল এক কুর্দি জনগোষ্ঠী বাস করে।
৩. ইরাক (দক্ষিণ কুর্দিস্তান): সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর এখানে তারা একটি ‘স্বায়ত্তশাসিত’ অঞ্চল (KRG) গঠন করতে সক্ষম হয়েছে।
৪. সিরিয়া (পশ্চিম কুর্দিস্তান): উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় ‘রোজাতা’ নামে পরিচিত অঞ্চলে তারা বর্তমানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

ভাষা ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য

কুর্দিদের প্রধান ভাষা ‘কুর্দি’, যার রয়েছে শক্তিশালী সাহিত্যিক ভিত্তি। তবে ভৌগোলিক কারণে এর বেশ কিছু উপভাষা তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে কুর্মানজিসোরানি প্রধান। এছাড়া জাজাকি ও গোরানি নামের আরও কিছু আঞ্চলিক উপভাষাও রয়েছে।

ধর্মীয়ভাবে কুর্দিদের সিংহভাগ সুন্নি মুসলিম। বিশেষ করে শাফেয়ি মাজহাব অনুসরণকারী সুন্নির সংখ্যা বেশি। তবে তাদের মধ্যে শিয়া মুসলিম, আলবীয় এবং ইয়াজিদি ধর্মাবলম্বীদের অস্তিত্ব রয়েছে।

সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

কুর্দি সমাজ মূলত গোত্রভিত্তিক হলেও গত কয়েক দশকে সেখানে আধুনিক রাজনৈতিক চেতনার ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। কুর্দিদের সংস্কৃতি পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। রঙিন ঐতিহ্যবাহী পোশাক, লোকসঙ্গীত, নৃত্য এবং মৌখিক সাহিত্য তাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কুর্দিদের সবচেয়ে বড় উৎসব হলো নওরোজ, যা বসন্তের আগমনী উৎসব এবং নতুন বছরের সূচনা হিসেবে উদ্‌যাপিত হয়।

রাজনৈতিক সংকট: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২০ সালের ‘সেভ্রেস চুক্তিতে’ কুর্দিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে ‘লুজান চুক্তির’ মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই তারা তুরস্ক, ইরান ও সিরিয়ায় দমন-পীড়নের শিকার হয়ে আসছে। ইরাকে তারা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেলেও তুরস্ক ও সিরিয়ায় তাদের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চলছে।

রপর থেকেই বিভিন্ন দেশে কুর্দি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে ওঠে। তুরস্কে কুর্দি রাজনৈতিক আন্দোলনের একটি উল্লেখযোগ্য সংগঠন হলো Kurdistan Workers’ Party (PKK), যা বহু বছর ধরে তুর্কি সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত। তবে বর্তমানে সেখানে সরকারের সাথে চুক্তির পর শান্তি বিরাজ করছে।

অন্যদিকে ইরাকে কুর্দিরা তুলনামূলকভাবে বেশি রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন অর্জন করেছে। ২০০৩ সালের পর সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয় Kurdistan Regional Government (KRG), যা উত্তর ইরাকের একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন পরিচালনা করে।

সিরিয়ায় নতুন শার আল শারার সরকারও কুর্দিদের সাথে সমঝোতা, অধিকতর অধিকার দানের মাধ্যমে শান্তির দিকে যাচ্ছে।

ইতিহাসের পাতায় প্রমিনেন্ট কুর্দি ব্যক্তিত্ব

কুর্দি জাতি বিশ্বকে অনেক প্রভাবশালী নেতা ও চিন্তাবিদ উপহার দিয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন:

  • সালাহউদ্দিন আইয়ুবি: ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর এবং আইয়ুবীয় রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। ক্রুসেডারদের পরাজিত করে জেরুজালেম জয় করা এই মহান সেনাপতি ছিলেন জাতিগতভাবে একজন কুর্দি।

  • জালাল তালাবানি: আধুনিক ইরাকের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট। তিনি কুর্দিদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন নেতৃত্ব দিয়েছেন।

  • আবদুল্লাহ ওকালান: কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (PKK) প্রতিষ্ঠাতা। তুরস্কের কুর্দিদের রাজনৈতিক ও সশস্ত্র আন্দোলনের প্রধান তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে তিনি পরিচিত।

  • নাদিয়া মুরাদ: ইয়াজিদি কুর্দি মানবাধিকার কর্মী, যিনি আইএস (ISIS) এর বর্বরতার বিরুদ্ধে কথা বলে ২০১৮ সালে শান্তিতে নোবেল জয় করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে কুর্দিরা এখন এক অনিবার্য শক্তি। বিশেষ করে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস (ISIS) দমনে তাদের অসামান্য বীরত্ব বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। তবে নিজেদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র বা পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন আজও তাদের কাছে এক অমীমাংসিত অধ্যায় হয়েই রয়ে গেছে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মুজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

৫৬ বছর বয়সী মুজতবা খামেনি উত্তরসূরি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কখনো জনসমক্ষে আলোচনা করেননি। এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়, কারণ তাঁর এই দায়িত্বপ্রাপ্তি দেশটিতে একটি রাজবংশীয় শাসন ব্যবস্থা তৈরির ঝুঁকি তৈরি করবে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের আগের পাহলভি রাজতন্ত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মুজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছে এবং তাঁকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি খামেনির প্রতি তাদের ‘একনিষ্ঠ ও আজীবন আনুগত্য’ ঘোষণা করে জোর দিয়ে বলেছে, তারা তার সকল আদেশ পালন করতে এবং তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত থাকবে।

আইআরজিসি আরও যোগ করেছে যে, ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts) কর্তৃক খামেনির এই নির্বাচন ‘সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে ইসলামিক ব্যবস্থার গতিশীলতা থেমে থাকে না এবং বিপ্লব ও ইসলামিক ব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।’

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি তাদের সমর্থন ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী খামেনিকে ‘ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানী… ধর্মপ্রাণ এবং বিচক্ষণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা বলেছে, বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাকে নির্বাচিত করে তাদের ‘বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ’ দিয়েছে।

দোহারে তেলের পাম্পে প্রশাসনের নজরদারি, সরেজমিনে সহকারী কমিশনার (ভূমি)

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের সঠিক মূল্য ও পরিমাণে বিক্রি নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় একটি তেলের পাম্পে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিগবাত উল্লাহ।

রবিবার (৮ই মার্চ) উপজেলার একটি তেলের পাম্পে এ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় পাম্পে বিক্রি হওয়া পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের মূল্য তালিকা, মজুত পরিস্থিতি এবং নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়।
পরিদর্শনকালে পাম্পের ডিসপেন্সার মেশিন, মাপজোকের সঠিকতা এবং গ্রাহকদের সাথে আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় তদারকি করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। একই সাথে সংশ্লিষ্টদের সরকারি নির্দেশনা মেনে সঠিকভাবে তেল বিক্রির জন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবু বকর সিদ্দিকসহ থানা পুলিশের অন্যান্য সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, অতিরিক্ত দাম আদায় রোধ এবং সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

দোহারে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

ঢাকার দোহার উপজেলায় জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সোমা সুলতানা নামে এক নারী। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার থানার মোড় আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় একটি হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সোমা সুলতানা জানান, তিনি উপজেলার লটাখোলা এলাকার মৃত মো. গুঞ্জর আলীর মেয়ে। একটি কুচক্রী মহল জাল দলিল তৈরি করে তাদের জমি দাবি করছে এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে।
তিনি অভিযোগ করেন, দোহার লটাখোলা মৌজার এসএ ১১৯৩ ও আরএস ২৬৫০ দাগে ৫১ শতাংশ জমি চারটি সাফকবলা দলিল (নং ২২৫৩, ২২৬৯, ২২৭৪ ও ২২৭০) মাধ্যমে তার পিতা গুঞ্জর আলী ক্রয় করেন। পরে দোহার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৭৯/০৫ নামজারির মাধ্যমে জমির দাগ ৯৭৭/৮ নং জমি তাদের তিন বোনের নামে লিখে দেন। যার দলিল নম্বর ৩২৬৩ এবং তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১০।

পরবর্তীতে তারা তিন বোন জমির মালিক হয়ে নামজারি সম্পন্ন করেন। যার কেস নম্বর ১৩৭/১৭-১৮ এবং তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৭। তিনি বলেন, তাদের পিতা এবং তারা প্রায় ৪০ বছর ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।
কিন্তু বর্তমানে একটি কুচক্রী মহল জাল দলিল তৈরি করে মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ও জাহাঙ্গীর খন্দকার জমিটি নিজেদের দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযুক্তদের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা নামজারি নেই বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী।

সংবাদ সম্মেলনে সোমা সুলতানা বলেন, “যদি তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র থাকে, তাহলে তারা আমাদের সঙ্গে বসে আইনগতভাবে বিষয়টি সমাধান করুক। কিন্তু তা না করে তারা আমাদের হয়রানি করছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।”