বর্ণিল আয়োজনে দোহার-নবাবগঞ্জে বিজয় দিবস উদযাপিত

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপোধ্বনির মধ্যদিয়ে বিজয় দিবস পালন শুরু হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ্য অর্পন করেন, দোহার- নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও আওয়ামীলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, মহিলালীগ, শ্রমিকলীগ, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অঙ্গ ও সামাজিক সাস্কৃতিক সংগঠন, প্রেসক্লাব, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা।

দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল ৮ঃ৩০ টায় দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বিজয় শোভাযাত্রা বের করে। এরপর ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-১ আসনের এমপি সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান।

এসময় সালমান এফ রহমান বলেন, প্রথমে তিনি দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাবাসীকে সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান। বিজয়ের মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হওয়ায়, আমাদের আরেকটি বিজয় অর্জন হলো

সালমান এফ রহমান এমপি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর সকল স্বপ্নকে একের পর এক বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাহউদ্দীন মনজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক মিজানুর রহমান ভূইয়া কিসমত, সাবেক সাংসদ ও সাবেক গণপরিষদ সদস্য আবু মোহাম্মদ সুবিদ আলী টিপু, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবু বকর সিদ্দিক আবু, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিবুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যন তাবির হোসেন খান পাভেল, আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন, নবাবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম শেখ, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নূর আলম, উপজেলা শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি প্রমুখ।

অন্য দিকে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ নাইমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রজ্জব আলী মোল্লা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা কামাল, ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন সোহাগ প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারাবিশ্বে আজ বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাড়িয়েছে – অধ্যক্ষ জালাল হোসেন

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দোহারের পদ্মা সরকারি কলেজে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল এর আয়োজন করা হয়।

সোমবার (১৪ই ডিসেম্বর) সকাল ৮ ঘটিকায় পদ্মা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জালাল হোসেনের সভাপতিত্বে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর কালো ব্যাজ ধারন করা হয়। পরবর্তীতে আলোচনা সভায় জাতির সূর্য সন্তানদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।

এ সময় উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতি ও পদ্মা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জালাল হোসেন বলেন, বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষে ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাতের আধারে আমাদের দেশের মেধাবীদের হত্যা করে। তিনি আরো বলেন, হত্যা করলেও তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। তারা বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে পারেনি। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সুনাম আজ সারা বিশ্বব্যাপী।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পদ্মা সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জিল্লুর রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামাল পাশা, ইসলামের ইতিহাস ও সংষ্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লুৎফর রহমান হাওলাদার, বাংলা বিভাগের প্রভাষক মশিউর রহমান, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এমারত হোসেন ইমরান, অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ, উচ্চতর গনিত বিভাগের প্রভাষক মোতাহার হোসেন, ইংরেজি বিভাগের তারেক রাজীব, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আলমগীর হোসেন, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মাসুদ রানা, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শাহিনুর রহমান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মোঃ সেলিম, সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক মোঃ দাউদ সহ আরো অনেকে। শিক্ষার্থীদের জন্য সমগ্র প্রোগ্রামটি অনলাইনে সম্প্রচার করা হয় GPC online পেজে।

আলোচনা সভা শেষে দোয়া অনুষ্ঠান ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

নবাবগঞ্জে অস্ত্র গুলি ও গাঁজা-সহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় একটি রিভালবার ২ রাউন্ড গুলি ও ১শ’ গ্রাম গাঁজা-সহ শহিদুল ইসলাম (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে নবাবগঞ্জ সার্কেল মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। রোববার টিকরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত শহিদুল ইসলাম নবাবগঞ্জ উপজেলার টিকরপুর গ্রামের মীর চাঁনের ছেলে।

নবাবগঞ্জ সার্কেলের মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, রোববার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার টিকরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শহিদুল ইসলামকে রিভালবার, গুলি ও মাদক-সহ আটক করতে সক্ষম হই। তার বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় মাদক ও অস্ত্র মামলা করা হয়েছে। শহিদুল দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক বিক্রি করে আসছে। সোমবার সকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অপর দিকে, একই দিন সকালে উপজেলার নয়াকান্দা এলাকা থেকে মো. মোস্তফা (৫৫) নামে আরো এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মো. মোস্তফার কাছ থেকে ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে। অাটককৃত মো. মোস্তফার বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের প্রতিবাদ সভা ও সমাবেশ

“জাতির পিতার সম্মান, রাখবো মোরা অম্লান” এই শ্লোগানকে ধারণ করে আজ প্রতিবাদ সভা ও সমাবেশ করেছে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। শনিবার নবাবগঞ্জ উপজেলা সভাকক্ষে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

শনিবার বেলা ১২টায় উপজেলা ফটক থেকে র‌্যালি বের হয়ে কায়কোবাদ চত্তর ঘুরে ফিরে আসে র‍্যালিটি। পরে উপজেলার ওয়াছেক মিলনায়তনে কুষ্টিয়ায় ব্ঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ভাস্কর্য ভাংঙ্গার প্রতিবাদে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাবাবগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন ঝিলু।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দীন মঞ্জুর সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাজিবুল ইসলাম অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দোহার সার্কেলের এএসপি জহিরুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ উপজেলার মেডিকেল অফিসার ডা.হরগোবিন্দ সরকার অনুপ, নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইন চার্জ শেখ সিরাজুল ইসলাম লিটু, উপজেলা প্রকৌশলী তরুন কুমার বৈদ্য, কৃষি কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃসিদ্দিকুর রহমান ও নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মরত কর্মকর্তা – কর্মচারীবৃন্দ।

দোহারে করোনা প্রতিরোধে ইঞ্জিনিয়ার মেহবুবের দশ হাজার মাস্ক বিতরণ

শনিবার দোহারে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পথচারী, রিক্সা, ইজিবাইক চালক ও সাধারণ মানুষের মাঝে প্রায় দশ হাজার মাস্ক বিতরণ করেছেন গ্র্যাজুয়েট এসোসিশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবির। তিনি দোহার উপজেলার পল্লীবাজার, মুকসুদপুর, ফুলতলা, মধুরখোলা-মইতপাড়া, নারিশা ও মেঘুলা বাজারে মাস্ক বিতরণ করেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে গ্র্যাজুয়েট এসোসিয়েশন অফ দোহারের উদ্যোগে এবং সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবিরের নেতৃত্বে বিভিন্ন গাড়ি চালক, পথচারী এবং বাজার ব্যবসায়ীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেছেন।

মাস্ক বিতরণকালে মেহবুব কবির বলেন, দেশে ভ্যাকসিন আসতে এখনো অনেক দেরি। তাই সারাদেশে না পারি, কমপক্ষে আমার দোহার উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে করোনা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছি। যতদিন দেশে করোনা ভাইরাস থাকবে, ততোদিন গ্র্যাজুয়েট এসোসিশন অফ দোহার সকলের পাশে থাকবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জনসাধারণ সহ গ্র্যাজুয়েট এসোসিশনের বিভিন্ন সদস্যবৃন্দ।

দোহারে উপজেলা প্রশাসনের প্রতিবাদ সভা ও সমাবেশ

‘জাতির পিতার সম্মান, রাখবো মোরা অম্লান।’ এই শ্লোগানকে ধারন করে, কুষ্টিয়ায় ব্ঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ভাস্কর্য ভাংঙ্গার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা ও সমাবেশ করেছে দোহার উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার, ১২ই ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্রের সঞ্চালনায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ নাইমের সভাপতিত্বে উপজেলায় কর্মরত প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা – কর্মচারীবৃন্দের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ নাইম বলেন, জাতির পিতা মানে বাংলাদেশ। তার অসম্মান মানে, বাংলাদেশের অস্তিত্ব সংকট। তাই আমরা পিতার এই সম্মান রাখবো অম্লান। যে কোন প্রকার অপচেষ্টা, প্রশাসন নস্যাৎ করে দিবে। এই ব্যাপারে তিনি প্রজাতন্ত্রের সকলের সজাগ সতর্ক থাকতে বলেন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। এই দেশ আমরা পেয়েছি, বংগবন্ধুর নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগে। আজ দেশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঠিক দিক নির্দেশনায় যখন উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় মহাসড়কে, তখন দেশবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র সক্রিয়। তারা অপচেষ্টায় লিপ্ত। জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাংগার মাধ্যমে আজ তা প্রমাণিত। আজ জনগণ ও প্রশাসন একসাথে এই অপচেষ্টা রুখে দিবে। আমরা আমাদের সতর্কতা, সেবা এবং দায়িত্বশীলতা দিয়ে জাতির পিতার সম্মান, রাখিবো অম্লান।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.জসিম উদ্দিন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রাকিব হাসান, জয়পাড়া কলেজের অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, জয়পাড়া পাইলট সরকারি মডেলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক, উপজেলা উপ-প্রকৌশলী হানিফ মুর্শিদী ও দোহার উপজেলায় কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী, শিক্ষকবৃন্দ।

দোহারে আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে জমি দখল

দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের বটিয়া গ্রামে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছেন আব্দুস সালাম নামে একজন। ইতিপূর্বে তিনি বিভিন্ন জমি অবৈধভাবে দখল করেছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এসময় তিনি বালু ভরাট করে ইমারত নির্মাণের চেষ্টা চালান।

মামলার বাদী ও জমির মালিকানা দাবীদার রিকশাচালক আব্দুর রহম আলী দেওয়ান জানান, স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতা, পুলিশ প্রশাসনের শরনাপন্ন হয়েও বিচার পাইনি। অবশেষে আমি কোর্টের দারস্থ হই। এরপর উক্ত সম্পত্তিতে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত জমিতে স্থগিতাদেশ জারী করেন। যা দোহার আদালত এর ফৌ: কা: ১৪৫ ও কোট পিটিশন মামলা নং-২০৫/২০২০ ইং,প্রসেস নং-৯৫৬ তাং-০৭/১২/২০২০।

শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার থেকে উপজেলার বটিয়া সড়কের পাশে ডোবা ও নিচু জমি যাহার তফশিল মৌজা-জয়পাড়া, আর এস খতিয়ান ৫১৯,আর এস দাগ-২৩১৭ ও ২৩১৯।মোট নয় শতাংশ জমিতে উভয় পক্ষ স্ব-স্ব অবস্থান বজায় রেখে শান্তি-শৃঙ্খলা রাখতে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। উক্ত নির্দেশনা অমান্য করে বালু ভরাট ও ইমারত নির্মাণ করতেছেন প্রভাবশালী আব্দুস সালাম।

এবিষয়ে মামলার বাদী রহম আলী দেওয়ান জানান, আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে জয়পাড়া বটিয়ায় প্রধান সড়কের পাশে বিরোধকৃত সম্পত্তিতে ভরাট করছেন বিবাদীরা। তিনি আরোও বলেন, আদালতে ফৌজদারি কা:বি:১৪৫ ধারায় মামলা রুজু করেছেন গত সোমবার। ফলে নির্ধারীত জমিতে সব ধরনের কর্মকান্ড বন্ধ রাখতে আদালতের নিদের্শনা রয়েছে। এরপরেও কিভাবে ডোবা ভরাটসহ জমিতে মাটি ফেলা এবং ইমারত নির্মাণ করছে তা আমি বুঝতে পারছিনা। আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বিবাদীরা জবর-দখল করে তার শেষ সম্বল জমিটুকু ছিনিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টিতে প্রয়োজনীয় ভুমিকা রাখতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

এবিষয়ে আব্দুস সালামের সাথে যোগায়োগ করলে তিনি বলেন, এটি আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি। আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে মাটি ভরাট করছি এতে দোষের কি? আদালত দলিলপত্র নিয়ে উভয় পক্ষকে আগামী ফেব্রয়ারী মাসের দুই তারিখে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন।এরমধ্যে জমিতে মাটি ভরাট ও স্থাপনা করে দখল নিশ্চিত করবো।

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই মনির হোসেন জানান,আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দখলদার আব্দুস সালামকে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি ভরাট ও স্থাপনা নির্মান করতে দেখেছি।এ সময়ে তাদেরকে সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে দোহার থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো.মোস্তফা কামাল জানান, উভয় পক্ষকেই শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে সকল ধরনের দখল কর্মকান্ড বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এরপরও যদি কেউ আইন অমান্য করেন, তাহলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধূমপান বিরোধী নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগে এতো অনিহা কেন?

দুই হাজার পাঁচ সনে বাংলাদেশে ধূমপান বিরোধী নিয়ন্ত্রণ আইনের খসরা করা হয়। যাহা ধূমপান ও ‘তামাকজাত দ্রব্য ব্যাবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ নামে অভিহিত। এই আইনে তামাকের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে “ ‘তামাক’ অর্থ কোন নিকোটিনা টাবাকাম বা নিকোটিনা রাসটিকার শ্রেণিভুক্ত উদ্ভিদ বা এতদসম্পর্কিত অন্য কোন উদ্ভিদ বা উহাদের কোন পাতা বা ফসল, শিকড়, ডাল বা উহার কোন অংশ বা অংশ বিশেষ।”
ধূমপান কাহাকে বলা হবে সে বিষয়ও সংজ্ঞায়িত করেছেন এখানে “ ‘ধূমপান’ অর্থ কোন তামাকজাত দ্রব্যের ধোঁয়া শ্বাসের সহিত টানিয়া নেওয়া বা বাহির করা, এবং কোন প্রজ্বলিত তামাকজাত দ্রব্য ধারণ
করা বা নিয়ন্ত্রণ করাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।”

এইসব কর্ম কেউ পাবলিক প্লেসে করলে তার ‘শাস্তির
বিধান রাখা হয়েছে অনধিক তিনশত টাকাএবং উক্ত অপরাধ কেউ দ্বিতীয়বার সংঘটন করিলে তিনি পর্যায়- ক্রমিকভাবে উক্ত শাস্তির দ্বিগুণ দিতে ব্যাধ্য’।

এবার দেখাযাক আমাদের পাবলিক প্লেসের ধূমপানের অবস্থা। ২০২০ সনের ১৫ ই মার্চে রংপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে “অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট(এসিডি) নামক এক সংস্থা। রংপুর শহরের পাবলিক প্লেসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রতিপালনে বর্তমান অবস্থা যাচাই” শীর্ষক অনুষ্ঠানে তাদের জড়িপের ফলাফল তুলে ধরেন। তারা চারটি স্থানে জড়িপ চালিয়েছেন। সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ সেবা কেন্দ্র, হোটেল ও রেষ্টুরেন্ট। সব কয়টিরই ভয়ংকর চিত্র ফুটে উঠেছে। ‘৯৬ ভাগ সরকারি অফিস ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে, ৯৯ ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৯১ ভাগ স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, ৯৬ ভাগ হোটেল ও রেষ্টুরেন্টে দেদারসে লঙ্ঘিত হচ্ছে এই আইন’।(সূত্র: বার্তা২৪.কম, রংপুর) এর ধারবাহিতা যদি দেশব্যাপী হয় তাহলে শঙ্কিত না হয়ে আর উপায় নেই।

কতটা ভয়াবহ চিত্র ভাবা যায়। অনন্য স্থানের কথা না হয় বাদই দেওয়া হইলো। সরকারি অফিস আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিত্র যদি এতোটা প্রলয়ঙ্কারী হয় তাহলে “ধূমপান বিরোধী নিয়ন্ত্রণ আইন” করে লাভ কি?

আরো আতঙ্কের তথ্য তুলে ধরেছেন “ক্যাম্পেইন ফর ক্লিন এয়ার” নামক একটি সংগঠন। ২০১৯ সালে
বিভিন্ন কিশোর ও তরুণদের উপর জড়িপ করে তাদের উন্নতিতে রীতিমত ভিমরি খাওয়ার উপক্রম। ‘২০১৮ সালের ৫৭ শতাংশ থেকে ১১ শতাংশ বেড়ে ৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে কিশোর ধূমপায়ীদের অবস্থান’। ভাবা যায় আমাদের শিশু কিশোরদের অবস্থা। তারা কতটা বিপদগামি। শুধু ‘আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী প্রতিবছর বাংলাদেশে তামাক সেবনজনিত কারণে মৃত্যু ঘটে ৫৭ হাজার মানুষের’।

অথচ তামাক বিরোধী নিয়ন্ত্রণ আইনে স্পষ্টত উল্লেখ করা হয়েছে ‘১৮ বছরের নিচে কারো কাছে তামাক বিক্রি করা নিষিদ্ধ’। এবং কোন কিশোরকে বিক্রি বা বিতরণ কাজেও নিয়োজিত করতে পারবে না। যদি কেউ এই আইনের লঙ্ঘন করে তার শাস্তি ৫ হাজার টাকার অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাবে আমাদের প্রতিটা স্থানের চিত্র ভয়ানক ভয়াবহ। এই ভয়াবহতা থেকে রেহাই পেতে হলে আইনের সঠিক প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধূমপান বিরোধী সচেতনতামূলক লিফলেট খুঁজে পাওয়া অনেকটাই ধুষ্কর ব্যাপার। সরকারি অফিস- গুলো তো সবকিছুর আওতার বাহিরে। তারাই সব নিতিনির্ধারক, আইন ব্যাবহারের উর্ধ্বে। এক্ষেত্রে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান গুলো সফলতার পরিচয় দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট স্থান ব্যাতীত কেউ ধূমপান করার দুঃসাহস দেখানোর স্পর্ধা কারো নাই। কিছুদিন আগেও সরকারি অফিসের চেয়ারে বসে সিগারেট ফুকার দৃশ্য কারো চোখ এড়ায়নি। কিছু কিছু দৃশ্য থাকে চোখ ধাঁধানো। কিন্তু সেই দৃশ্যেও উৎকৃষ্টতার অভাব থাকে না। তেমনই একটা দৃশ্য অফিসে বসে সিগারেট সেবন করা। তবে এসব দৃশ্য কিন্তু নৈতিকতার স্খলনের পর্যায়েই পরে। সবশেষে এতটুকু বলা যায় আইন তৈরিতে বাধ্যবাধকতা না রেখে আইন প্রয়োগের বাধ্যবাধকতায় নজর দেয়া অতীব জরুরী।

-আবুল বাশার-

কুসুমহাটি ইউনিয়নের মেধাবী ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ

দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নে লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-৩) এর আওতায় ১০ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ১২টায় ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গরীব মেধাবী ছাত্রীদের মাঝে ২০টি বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।
কুসুমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের বাস্তবায়নে কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কুসুমহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন আজাদের তত্বাবধানে বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন। এই সময় শিলাকোঠা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫টি, সুন্দরীপাড়া জুনিয়র হাই স্কুলে ৫টি ও কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০টি মোট২০টি বাইসাইকেল ছাত্রীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। অর্থায়নে এলজিএসপি-০৩ (২০১৮-২০১৯) বাস্তবায়নকাল ২০২০-২০২১প্রকল্পিত ব্যয় ১,৭৫,৪৭৫টাকা।

দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে স্বল্প সম্পদের সুষম বন্টনের কারণে আজ এলজিএসপির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া সরকারের উদ্যোগে প্রতি বছরের শুরুতেই সারাদেশের সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে নতুন বই বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ছাত্রীরা ইভটিজিং থেকে রক্ষা পাবে এবং সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারবে। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক ছাত্রীদের নিকট বাইসাইকেল পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ.এম ফিরোজ মাহমুদ, আরো উপস্থিত ছিলেন, কুসুমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সহ তিনটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ।

দোহার মাহমুদপুর আশ্রয়নে শীতবস্ত্র বিতরণ

ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়ন ১০ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে আশ্রয়ন প্রকল্পে ২৫০ টি পরিবারের মাঝে শীত বস্তু বিতরণ করা হয়েছে। দোহার উপজেলার নির্বাহী অফিসার এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদের সভাপতিত্বে শেখ রাসেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গনে শীতার্ত হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে এই সকল শীত বস্তু (কম্বল) বিতরণ করা হয়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার বর্তমান করোনা প্রাদুর্ভাবের আগে থেকেই শীতার্তদের মাঝে শীত বস্তু বিতরণের প্রস্তুতি গ্রহন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা মাহমুদপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের শীতার্তদের শীত নিবারনের জন্য কম্বল নিয়ে এসেছি। আমরা এই কম্বল বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা রাখি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও চীফ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ আল সাঈদ, মাহমুদ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফারজানা আক্তার, চর মোহাম্মদ পুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুজন বিশ্বাস, মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল কাশেম (মেম্বার), শেখ রাসেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিলা আক্তার।