দোহারে মলমপার্টির এক সদস্য আটক

ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনটঘাট থেকে মলমপার্টির এক সদস্য হুমায়ুন কবির কে আটক করেছে চর মাহমুদপুর ফাঁড়ির পুলিশ। বুধবার ২৭শে জানুয়ারি সকালে হুমায়ুন কবির পিতাঃ চান মিয়া ভূইয়া। তার বাড়ি কুমিল্লার কচুয়া উপজেলার কালুরচর গ্রামে।

এসময় প্রত্যক্ষদর্শী মামুন মন্ডল জানান, মঙ্গলবার রাতে তিনি ওমান থেকে বাংলাদেশে এসেছে। বুধবার সকালে ভাই রজ্জব মন্ডল নিয়ে গুলিস্তান থেকে যমুনা পরিবহনের পৃথক দুইটি সিটে বসে দোহারের মৈনটঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে থেকে তারা ফরিদপুরের চরভাদ্রশন যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বাসে মলম পার্টির সদস্যরা তার ভাই রজ্জব মন্ডলকে অজ্ঞান করে তার ব্যবহৃত মোবাইল ও হাতে থাকা স্বর্ণের আংটি নিয়ে যায়। বাসটি মৈনটঘাটে পৌছালে বাসে থাকায় যাত্রীরা রজ্জব মন্ডলকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়।

এসময় মলম পার্টির সদস্য হুমায়ুন কবির দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ায় সময় স্থানীয়রা তাকে ধরে পুলিশের কাছে সোর্পদ করে। তবে তার সঙ্গে থাকা মলম পার্টির আরো ৪ সদস্য পালিয়ে গেছে বলে জানান হুমায়ূন কবির।

অচেতন অবস্থায় রজ্জব মন্ডলকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে।

এসময় চর মাহমুদপুর ফাড়ির পুলিশ ইনচার্জ সুজন বিশ্বাস জানান ঘটনাটি থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।

দোহার উপজেলায় মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ঢাকার দোহার মঙ্গলবার ২৫শে জানুয়ারি  সকাল ১১টায় উপজেলায় মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলার চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে সুবিধাজনক স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ম্যুরাল নির্মাণের বিষয়ে স্থানীয়  সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে ৪৬.০০.০০০০.০৪৬.১৬.০১০.১৯.-১৭৬ স্মারকমূলে ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে একখানা পত্র পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সেই সাথে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল RFQM এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন এবং এর ব্যয় উপজেলা রাজস্ব তহবিল হতে নির্বাহ করা হবে।

এছাড়াও ২০১৯-২০ অর্থবছরের ADB ও উন্নয়ন তহবিল হতে বাস্তবায়িত প্রকল্প হতে জলাবদ্ধ দূরীকর ও সাতভিটা, মইতপাড়া রুইহা গ্রামের ইরিধান চকের পানি নিরূপনের জন্য সাতভিটা মালেকের বাড়ী নিকট হতে রুই জলিল মোল্লার বাড়ীর নিকট পর্যন্ত RCC ড্রেন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ড্রেনটি হতে পূর্ণাঙ সুফল পাওয়ার জন্য এর দৈর্ঘ্য ৪৫০ মিটার এর স্থানে ৪৯০ মিটার করতে হবে। উল্লেখ্য যে চুক্তিমূল্য অপরিবর্তিত থাকবে এর জন্য অনুমোদিত প্রাক্কলন Recast করা হবে।

বর্তমানে প্রায় সকল ধরনের সভা অনলাইন প্লাটর্ফমে সম্পাদিত হচ্ছে অর্থাৎ জুম এবং ভিডিও কনফারেন্সিং। যা পরিচালনায় ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, স্কীন, সাউন্ড সিস্টেম, ইন্টারনেট মডেম প্রয়োজন; যা আমাদের উপজেলা পরিষদে নেই। যে কোন ধরনের সরকারি অনুষ্ঠান হলেই অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে এ ধরনের সামগ্রী অন্যত্র হতে সরবরাহ করতে হয়। প্রায় সকল উপজেলাতেই এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। এমতাবস্থায়, বিধি মোতাবেক উপজেলা রাজস্ব তহবিল হতে এ সামগ্রীগুলো ক্রয় করার ব্যপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন ১০০ (একশ) শয্যায় উন্নীত হবে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বহি:বিভাগের টিকেট কাউন্টার বাহিরে স্থাপন করা হয়েছে। উক্ত স্থাপনা (টিকেট কাউন্টার) সংস্কার এবং কাউন্টার থেকে বহি:বিভাগ পর্যন্ত রেইনশেড নির্মাণ করা প্রয়োজন। এছাড়াও তিনি আরও জানান, এম আর ক্যাম্পেইন ৩১ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত চলমান থাকায় সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

মৎস কর্মকর্তা কর্তৃক একটি বিল দাখিল করা হয়েছে। জাতীয় কর্মসূচী বাস্তাবায়নের ফলে উপজেলা মৎস কর্মকর্তার দাখিলকৃত খরচের টাকা উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভার সিদ্ধন্তুক্রমে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল হতে পরিশোধ করা যেতে পারে বলে তিনি সভায় প্রস্তাব পেশ করেন।

দোহার উপজেলার নির্বাহী অফিসার এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ নাইম উক্ত অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, ঢাকার রাজস্ব শাখার ১০ডিসেম্বর ২০২০ খ্রি: তারিখের০৫.৪১.৩০০০.০০৯.৯৯.০৩৯.১৯.৭৪৮ নং স্মারক মূলে মহামারী করোনা ভাইরাস ও ভয়াবহ বন্যায় বাংলা ১৪২৬ ও ১৪২৭ বঙ্গাব্দের সর্বমােট ৬৮ (আটঘটি) দিন যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ১। চরভদ্রাসন-মৈনট, আন্ত:জেলা ফেরীঘাট- ১,২০,২০,০০০/- (এক কোটি বিশ লক্ষ বিশ হাজার) টাকা যাহার ইজারাদার জনাব নুরুল ইসলাম পাটনী। এবং ২। পিয়াজখালী বাঁশতলা-নারিশা জোয়ার সদরপুর ফরিদপুরে ২৯,৫০,০০০/- (উনত্রিশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা যাহার ইজারাদার জনাব মো: রাহাতুজ্জামান। তাহারা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন মর্মে পত্রে পাওয়া যায়। বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনাপূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহন করা যেতে পারে। তিনি আরও জানান, মা ইলিশ কার্যক্রম রক্ষার্থে ২২ (বাইশ) দিন ব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা | হয় তাতে সরকারি বরাদ্দ ছাড়াও অতিরিক্ত =৭৫,০০০/- (পঁচাত্তর হাজার) টাকা বেশি খরচ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরও জানান যে, ২৪ ঘন্টাই সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাকে ব্যস্ত থাকতে হয় তাই তার সান্ধ্যকালীন অফিসটি কাজের উপযোগী থাকা অত্যন্ত জরুরী। সান্ধ্যকালীন কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নে অফিস মেরামত সংস্কার করা অতীব জরুরী। এ বিষয়ে বিগত ২৪ অক্টোবর ২০১৯ তারিখ স্মারকনং-৪৬.০০,০০০০,০৪৬.২৬.০৬৩,১৪-৯০৪; মুলে স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে একটি পত্র পাওয়া গেছে। সে মোতাবেক প্রাক্কলিত অর্থ উপজেলা পরিষদ রাজস্ব তহবিল হতে বায়ের সদয় প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিনিয়র সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা। বরাবর পত্র পাঠানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ জানান, প্রায় ৩৪ কি:মি পদ্মা দোহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। | মাননীয় সংসদ হাজার হাজার কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দ দিয়ে দোহারকে নদী ভাঙার হাত থেকে রক্ষার্থে চেষ্টা করছেন। সুষ্ঠু নীতিমালার মধ্য দিয়ে ড্রেজার চলতে পারে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার অফিসারগন, ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয়, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

দোহারে ধরা পড়লো ৩ফুট লম্বা মাগুর মাছ

ঢাকার দোহারে উত্তর চর জয়পাড়া  দেওয়ান বাড়ির ডোবায় প্রায় ৬ কেজি ওজনের ৩ ফুট লম্বা মাগুর মাছ ধরা পড়েছে। সোমবার ২৫শে জানুয়ারি দুপুরে ডোবার পুকুরের পানি নিষ্কাশন করলে নানান ধরনের মাছের সাথে ৩ফুট লম্বা এই মাগুর মাছটি ধরা পরে।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায় এই পুকুরটিতে ৫থেকে ৬ বছরের মত কোন মাছ ধরা হয়নি তবে গত মাস তিনেক আগে মাছ ছাড়া হয়েছিল।  তারা আরো জানান পুকুরটি কুচুরি পানায় ভর্তি ছিলো। সেই সাথে পানিও শুকিয়ে যাচ্ছিলো তাই মাছ ধরার উদ্দেশে পুকুরের পানি নিষ্কাসন করে দেওয়ান বাড়ির লোকজন শখের বসে মাছ ধরতে গেলেই তাদের হাতে ধরা পড়ে ৬ কেজি ওজনের এই মাগুর মাছ।

মাছটি পেয়ে দেওয়ান বাড়ির থেকে খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা গ্রামে। এই খবর শুনে এলাকার মানুষ ছুটে আসে মাছটি এক পলক দেখার জন্য।

দোহারে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ঢাকার দোহারের মুকসুদপুর ইউনিয়নের এক ড্রেজার ব্যবসায়ী কে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার ২৫ জানুয়ারী সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ড্রেজার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানকে আটক করা হয়। মিজানুর রহমান পদ্মানদী হতে বালু উত্তোলন করার সময় হাতেনাতে তাকে আটক করা হয়। এই সময় প্রায় ২০০ মিটার পাইপ ধ্বংস করা হয়। মোবাইল কোটের মাধ্যমে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বালু ব্যবসায়ী মিজানুর কে।

এ সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ভূমি জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। তিনি বলেন,  আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতার করেন দোহার থানা পুলিশ ফোর্স।

দেশ হারালো তার আরেক রত্নকে, দোহার হারালো এক কীর্তিমানকে

একে একে চলে যাচ্ছেন দোহার নবাবগঞ্জের কীর্তিমানেরা৷ সোমবার ২৫শে জানুয়ারি,২০২১ রাত ৮ঃ০০ টায় আল্লাহর আহবানে সাড়া দিয়ে চলে গেলেন স্বাধীন বাংলাদেশের নৌবাহিনীর প্রথম প্রধান ক্যাপ্টেন নুরুল হক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। এসময় তার বয়স হয়েছিলো ৯৯ বছর৷
তিনি ছিলেন রায়পাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজ মিয়ার ভাগ্নে। এছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দু’দফায় তিনি নৌমন্ত্রী ছিলেন। দোহার নবাবগঞ্জে বিএনপির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠাতা তিনি।
ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার দোহার পৌরসভার নুরপুর গ্রামের (ভূঁইয়া বাড়ির) কৃতি সন্তান বাংলাদেশের প্রথম নৌপ্রধান ক্যাপ্টেন নুরুল হক। ১৯২২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার মা ছিলেন একজন রত্নগর্ভা। তিনি ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীর কমোডোর পদে থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে নবনির্বাচিত নৌবাহিনীকে নেতৃত্ব দেন। দেশ স্বাধীনের পর ৭ এপ্রিল ১৯৭২ সাল থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন।
নিউজ৩৯ পরিবার দোহারের এই কৃতি সন্তানের রুহের মাগফেরাত ও জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব কামনা করছে।

 দোহারে সরকারি জমি ও বসতবাড়ি পেলো ১৯৮টি অসহায়-দুঃস্থ পরিবার

ঢাকার দোহারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে উদ্ভোধন করলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল এর মাধ্যমে সরাসরি হস্তান্তর করলেন  জমি ও বসতবাড়ি পেলো অসহায়-দুঃস্থ পরিবার।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে মুজিব শতবর্ষ পালন করছে সরকার। বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জাতির পিতার উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমি ও গৃহহীন আট লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি পরিবারকে ঘর ও জমি দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শনিবার ২৩শে জানুয়ারি সকাল ১০টায় উদ্বোধনের পর পর্যায়ক্রমে এ তালিকার সবাই এই সুবিধা পাবে।

উপকারভোগীদের মধ্যে যাদের জমি আছে, তারা শুধু ঘর পাবে। যাদের জমি নেই, তারা ২ শতাংশ জমি পাবে (বন্দোবস্ত)। দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি ঘর তৈরিতে খরচ হচ্ছে ১লাখ ৭১ হাজার টাকা। সরকারের নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে এসব ঘর। রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট থাকছে। টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এই কাজ করছে। খাসজমিতে গুচ্ছ ভিত্তিতে এসব ঘর তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এসব ঘরের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘স্বপ্ননীড়’, কোথাও নামকরণ হচ্ছে ‘শতনীড়’, আবার কোথাও ‘মুজিব ভিলেজ’।

তার ই ধারাবাহিকতায় ঢাকার দোহারে ২৩৮ পরিবারকে ঘর দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের ন্যায় দোহার উপজেলায় জমি ও ঘর পেল ২৩৮ ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবার।

দোহার উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি গণভবন থেকে ঘর ও জমির মালিকানা কাগজের হস্তান্তর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দোহার উপজেলা নিবার্হী অফিসার এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদের সভাপতিত্বে বরাদ্ধ পাওয়া উপকারভোগীদের নিকট নতুন ঘরের চাবি ও কবুলিয়াত সনদ(দলিল) হস্তান্তর করেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আলমগীর হোসেন।

এ সময়ে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আলমগীর হোসেন বলেন,মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বরাদ্ধ পাওয়া প্রত্যেক পরিবার পাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুই শতক জমিসহ ১টি করে সেমি পাকাঘর। ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং রঙিন টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি দুইটি কক্ষের আবাসন। সাথে থাকছে একটি রান্নাঘর, টয়লেট ও সামনে খোলা বারান্দা। তিনি আরোও বলেন, ঢাকা-১ আসনের সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্ঠা সালমান এফ রহমান ব্যক্তিগতভাবে আরোও ৪০ জনকে ঘর উপহার দিচ্ছেন। এ নিয়ে দোহারে মোট ২৪০টি ঘরের কাজ চলমান।

ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেন‘মুজিববর্ষে আমাদের লক্ষ্য—একটি মানুষও ঠিকানাবিহীন থাকবে না, গৃহহারা থাকবে না। যতটুকু পারি, হয়তো আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে, তাই হয়তো সীমিত আকারে হলেও আমরা এই সহায়তা করে যাব।, ‘আমার খুব আকাঙ্ক্ষা ছিল, নিজ হাতে আপনাদের জমির দলিল তুলে দেই। কিন্তু সেটা পারলাম না এই করোনাভাইরাসের কারণে। আমি বিশ্বাস করি, যখন এই মানুষগুলো ঘরে থাকবে, আমার মা-বাবা যাঁরা সারা জীবন এই দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের আত্মা শান্তি পাবে। লাখো শহীদ রক্ত দিয়ে দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাঁদের আত্মা শান্তি পাবে।’

আশ্রয়ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘৬৬ হাজার ১৮৯টি ঘর আমরা দিচ্ছি। এই ৬৬ হাজার ঘর এত অল্প সময়ের মধ্যে করা অত সহজ কথা নয়। যারা প্রশাসনে আছেন, সরাসরি আপনারা এই ঘরগুলো তৈরি করেছেন বলেই এটা করা সম্ভব হয়েছে এবং মানসম্মত হয়েছে। এ জন্য আমি সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের সরকারি কর্মচারীরা যেভাবে সবসময় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন, এটা অতুলনীয়।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এদেশের কোনো শ্রেণির মানুষ কিন্তু বাদ যাচ্ছে না। বেদে শ্রেণিকে আমরা ঘর করে দিচ্ছি, তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। হিজড়াদের আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি, তাদেরও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দলিত শ্রেণি বা হরিজন শ্রেণি, তাদের ভালো মানের ফ্ল্যাট করে দিচ্ছি, চা শ্রমিকদের জন্য করেছি। প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের জন্য কাজ করে দিচ্ছি, যেন সবাই মানসম্মতভাবে বাঁচতে পারে।’

আরো এক লাখ ঘরের কাজ শিগগিরই শুরু হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুজিববর্ষে অনেক কর্মসূচি আমাদের ছিল, সেগুলো করোনার কারণে আমরা করতে পারিনি। করোনা আমাদের জন্য যেমন অভিশাপ নিয়ে এসেছে, তেমনই একদিকে আশীর্বাদও। কারণ আমরা একটি কাজের দিকেই নজর দিতে পেরেছি। আজ এটাই আমাদের বড় উৎসব যে গৃহহীন, ভূমিহীন মানুষকে আমরা ঘর দিতে পারলাম। এর চেয়ে বড় আর কোনো উৎসব বাংলাদেশে হতে পারে না।’

উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি ) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্রের সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ঢাকা জেলা প্রশাসক(সাবির্ক) মমিন উদ্দিন, ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন-সম্পাদক মাহবুবুর রহমান,ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশনের মহা-পরিচালক আব্দুর রউফ মোল্লা,উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাবুল, সাধারন-সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার,উপজেলা সাস্থ কর্মকর্তা ডা.জসিম উদ্দিন, মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনার কলি পুতুল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের মুক্তিযোদ্ধা রজ্জব আলী মোল্লা, এস এম মহিউদ্দিন,আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির আন্তজার্তিক বিষয়ক সদস্য সুরুজ আলম সুরুজ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, উপজেলার সকল কর্মকর্তা গন ও শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

দোহারে বঙ্গবন্ধুর মুর‍্যাল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

ঢাকার দোহার উপজেলায় মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‍্যাল নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২১শে জানুয়ারি সকাল ১০:৩০ টায় উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের অর্থায়নে উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন।

এসময় আলমগীর হোসেন বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারন করে তাদের জন্য আজকের দিনটি একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বঙ্গবন্ধুর এই ম্যুরালে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন। এছাড়া ম্যুরালটি দ্রুততার সাথে নির্মাণের সার্বিকভাবে তত্ত্বাবধায়ন করার জন্য তিনি ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানকে ধন্যবাদ জানান। পরে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকল শহিদদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া কামনা করা হয়।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ,  আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগসহ সকল আওয়ামীলীগের অংগ-সংগঠন সহ আরো অনেকেই।

পৌরসভার সীমানা সংক্রান্ত গেজেটটি মিথ্যাঃ দোহার উপজেলা প্রশাসন

গতকাল নিউজ৩৯সহ বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দোহার পৌরসভার সীমানা সংক্রান্ত একটি আলোচিত সংবাদ ভাইরাল হয়। কিন্ত দোহার পৌরসভার সীমানা সংক্রান্ত গেজেটটি মিথ্যা ও ভিত্তিহিন বলে মন্তব্য করেছেন দোহার উপজেলা এসিল্যান্ড জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র।

এসিল্যান্ড জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, উদ্দেশ্যমুলকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই গেজিটটি প্রকাশ করা হয়েছে আসলে যার কোন অস্বিত্বই নেই বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই রকম কোন গেজেট প্রকাশিত হয়নি। দোহার পৌরসভার একজন কাউন্সিলর উদ্দেশ্যমুলকভাবে এবং জনগনকে বিভ্রান্ত করে এই গেজেটটি অনলাইনে আপলোড করে। যার কোন সত্যতা নেই। দোহার পৌরসভার সেই কাউন্সিলরকে সতর্ক করা হয়েছে ও তার বিষয়ে মন্ত্রাণালয়ে অবহিত করা হয়েছে। গণমাধ্যমে এই ধরনের সংবাদের সত্যতা যাচাই না করে প্রকাশ করতে তিনি সতর্ক করেন।

উল্লেখ্য বিগত ২০ বছর ধরে নির্বাচনবিহীন দোহার পৌরসভার নির্বাচন আটকে রয়েছে শুধুমাত্র সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারনে। দুইবার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও শেষ মূহুর্তে এসে সীমানা সংক্রান্ত মামলার কারনে এই পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত হয়। সেই হিসাবে এই গেজেট পৌরসভার জনসাধারনের মনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

আওয়ামী লীগের উপ-কমিটিতে নবাবগঞ্জের মরিয়ম জালাল শিমু  

ঢাকার নবাবগঞ্জের রাজনীতিবিদ ও নবাবগঞ্জ উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মরিয়ম জালাল শিমু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মরিয়ম জালাল শিমু নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো.জালাল উদ্দিনের সহধর্মীনি। মরিয়ম জালাল শিমু এর আগেও রাজনৈতিক এ পদে দায়িত্বপালন করেছেন।

ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত মরিয়ম জালাল শিমু রাজনৈতিক জীবনে, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য, নবাবগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, অবিভক্ত ঢাকা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জনপ্রতিনিধির দায়িত্বও পালন করেছেন। নির্বাচিত হয়েছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে। দায়িত্ব পালন করে গেছেন সফল ভাবে।

এছাড়াও কর্মজীবনেও জড়িয়েছেন রাজনীতিতে। মহিলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেছেন। এছাড়া নবাবগঞ্জ আইডিয়াল মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করছেন। নারীদের উন্নয়নে গড়েছেন হাসনা-হেনা মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা।

মরিয়ম জালাল শিমু বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমার আদর্শ। তিনি আমার প্রেরণা। জাতির পিতার আদর্শ বুকে ধারন করি, লালন করি।

জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চাই। তার নির্দেশক্রমে আমাদের দোহার নবাবগঞ্জের অভিভাবক সালমান এফ রহমানের সহায়তায় আগামী দিনে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করে যাব।

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির সদস্য হলেন সুরুজ আলম

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির উপ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দোহারের সন্তান সুরুজ আলম সুরুজ। ১৭ জানুয়ারী ২০২১ তারিখে ঘোষনা কৃত এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন সুরুজ আলম সুরুজ। কমিটিতে সুরুজ আলম সুরুজসহ ২৫ জন সদস্য স্থান পেয়েছেন।

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় সুরুজ আলম সুরুজ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নিউজ৩৯ কে তিনি বলেন, দেশ ও জাতির সেবায় জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাতে অংশ নিতে পারায় তিনি কৃতজ্ঞ।

সুরুজ আলম সুরুজ দোহার উপজেলা ও ছাত্র রাজনীতিতে এক পরিচিত মুখ। ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে পথ চলা শুরু করা এই রাজনীতিবিদ ছিলেন ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক।  এছাড়া ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সহ-সম্পাদক।  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুরুজ আলম সুরুজ ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক পরিচিত মুখ।