নবাবগঞ্জে করোনায় ১ নারীর মৃত্যু

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শংকর গমেজ স্ত্রী টিনা আনাস্থিয়া গমেজ (৩৫)এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায় শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মৃত নারী খ্রীষ্টানহাটি কেড়ানি বাড়ির শংকর গমেজ কেড়ানীর স্ত্রী।

শনিবার (১৭ই এপ্রিল) সকালে নবাবগঞ্জ উপজেলা কোভিড-১৯ সৎকার টিমের অন্যতম সদস্য অনুপম দত্ত নিপুর নেতৃত্বাধীন দল মরদেহ গ্রহন করেন। পরে বক্সনগর পুরাতন কবরস্থানে মরদেহ সমাধিস্থ করা হয়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রক) ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ জানান, ঢাকায় টিনা আনাস্থিয়া গমেজ (৩৫) করোনা আক্রান্ত হয়ে ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

দোহারে লকডাউন ও স্বাস্থবিধি না মানায় অর্থদন্ড 

সারাদেশ যখন লকডাউন পালন করায় ব্যস্ত ঠিক তখনই দোহারে লকডাউনের ৪র্থ দিনে ও অভিযান পরিচালনা করেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ১৪ই এপ্রিল হতে আগামী ২০শে এপ্রিল পর্যন্ত সরকার কতৃক ঘোষিত লকডাউন দেওয়া হয়েছে পুরো দেশ।

সে লক্ষ্যে আজ ১৭ই এপ্রিল শনিবার সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত মাঠে ছিল দোহার উপজেলা প্রশাসন ও দোহার থানা পুলিশ প্রশাসন। শনিবার (১৭ই এপ্রিল) দোহারের জয়পাড়া বাজার, মেঘুলা বাজার,থানার মোড়, রতন চত্বর ও লটাখোলা করম আলীর মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এ সময় রাস্তায় অবস্থানরত পথচারিদের রাস্তায় বেড় হওয়ার কারণ জিজেসা সহ সরকার ঘোষিত লকডাউন না মানায় সংক্রামন রোগ ২০১৮ এর ২৪ধারায় ৬টি মামলায় ৯শত টাকা। দন্ডবিধি ১৮৬০এর ১৮৬ ধারা ৩টি মামলায় ৬ হাজার টাকা।

মাদক দ্রব্য নিঃআঃ ২০১৮ এর ১টি একটি মামলায় ৫হাজার টাকা। মোট ১০টি মামলা ও ১০ দোকানদার ও ব্যক্তি কে ১১হাজার ৯শত টাকা জরিমানা করেন দোহার উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র।

এসময় সকলের সহযোগিতায় অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান দোহার উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। এসময় সার্বিকভাবে সহযোগীতায় ছিলেন দোহার থানা পুলিশ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল।

কারওয়ান বাজারে সৌদি এয়ারলাইনসের সামনে বিক্ষোভ

0

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সৌদি এয়ারলাইনসের কাউন্টারের সামনে বিক্ষোভ করছেন শতাধিক যাত্রী। কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের বেশির ভাগই সৌদি আরবে অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। সৌদিতে ফেরার জন্য তাঁরা বিভিন্ন তারিখে টিকিট কেটে রেখেছিলেন। ফ্লাইটের দিন পার হয়ে যাওয়ায় ও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসার কারণে তাঁরা বিক্ষোভ করছেন।

আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীরা কারওয়ান বাজার মোড় ঘেরাও করেন। তাঁরা সৌদি এয়ারলাইনসের গেট বন্ধ পান। পরে এয়ারলাইনসের কাউন্টারের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শরীয়তপুর থেকে এসেছেন মামুন তালুকদার। তাঁর সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট আজ রাত দুইটার দিকে। তিনি ১২ হাজার টাকা খরচ করে ঢাকায় এসেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, সৌদি এয়ারলাইনস কোনো মেসেজ দেয়নি। কর্মস্থলে যেতে পারব কি না সে তথ্য পাচ্ছি না। ঢাকায় থাকারও জায়গা নেই।

অভিবাসী শ্রমিক রফিকুল ব্যাপারী মাদারীপুর থেকে এসেছেন। তাঁরও আজ রাত দুইটার ফ্লাইটে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা। তিনি বললেন, ‘ট্রাভেল এজেন্সি আমাদের সৌদি এয়ারলাইনসে খোঁজ নিতে বলেছে। এখানে এসে আমরা কোনো তথ্য পাইনি। ভিসার মেয়াদ আছে দুই দিন। যেতে না পারলে দায়ভার সরকার নেবে?’

ঘটনাস্থলের আশপাশে পুলিশ রয়েছে। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে ভেতরে নিয়ে যান।

আব্দুর রউফ মোল্লা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত

 

ঢাকা দোহার উপজেলার কৃতি সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ মোল্লা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেন দেওয়ান আওলাদ হোসেন। এছাড়া বাদুর রউফ মোল্লা বেক্সিমকো গ্রুপের একজন পরিচালকও।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সাংসদ জননেতা সালমান ফজলুর রহমান এমপির বিশ্বস্ত সহযোগী আব্দুর রউফ মোল্লা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিজ বাসাতেই আইসোলেশনে আছেন বলে জানা যায়।  তিনি তার আশু  রোগমুক্তির জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

দোহারে লকডাউন মানাতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত

সারাদেশ যখন লকডাউন পালন করায় ব্যস্ত ঠিক তখনই দোহারে লকডাউনের প্রথম দিনে ও অভিযান পরিচালনা করেন।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মাএা বেড়ে যাওয়ায় ১৪ই এপ্রিল হতে আগামী ২০শে এপ্রিল পর্যন্ত সরকার কতৃক ঘোষিত লকডাউন দেওয়া হয়েছে পুরো দেশে। সে লক্ষ্যে আজ ১৪ই এপ্রিল বুধবার সকাল হতে বিকাল পর্যন্ত মাঠে ছিল দোহার উপজেলা প্রশাসন ও দোহার থানা পুলিশ প্রশাসন।

বুধবার (১৪ই এপ্রিল) দোহারের জয়পাড়া বাজার, থানার মোড়, রতন চত্বর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এ সময় রাস্তায় অবস্থানরত পথচারিদের রাস্তায় বেড় হওয়ার কারণ জিজেসা সহ সরকার ঘোষিত লকডাউন না মানায় ৭টি মামলা ও ৭ দোকানদার কে ৩হাজার ৩শত টাকা জরিমানা করেন দোহার উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র।

দোহারবাসীর সকলের সহযোগিতায় লকডাউন চলছে। বিকাল ৩টা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোহার উপজেলায় লকডাউন কার্যক্রমকে বাস্তবায়ন করতে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ। এ সময় সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় জরিমানা আরোপ করা হয়।

এসময় সকলের সহযোগিতায় অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ।

এসময় সার্বিকভাবে সহযোগীতায় ছিলেন দোহার থানা পুলিশ র্ফোস

উপজেলা, স্বাস্থ্য ও থানা প্রশাসনকে মাস্ক-পিপিই দিলেন ইফতেখার হৃদয়

আল-আমিন,স্টাফ রিপোর্টার, news39.net: দোহার-নবাবগঞ্জের সাংসদ জনাব সালমান এফ রহমানের নির্দেশনায় তার আস্থাভাজন ও ভাতিজা ইফতেখার আহমেদ হৃদয় মিয়ার পক্ষ থেকে দোহার উপজেলা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পুলিশ প্রশাসনকে মাস্ক, পিপিইসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ উপহার দেয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ই এপ্রিল) দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ নাইমের কার্যালয়ে এসব মাস্ক, পিপিইসহ সুরক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

নিউজ৩৯ কে ইফতেখার আহমেদ হৃদয় বলেন, এই ধরনের সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করোনার সম্মুখসারী যোদ্ধাদের জন্য অব্যাহত থাকবে। সবাই ঘরে থাকুন, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন। আপনাদের এমপি সালমান এফ রহমান আপনাদের পাশে আছেন। তিনি সার্বক্ষণিক দোহার-নবাবগঞ্জের খোজ খবর রাখছেন।

মহামারী করোনার ভাইরাসের সংক্রমণের মাত্রা অত্যাধিক বেড়ে যাওয়াতে প্রতি দিনই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে সে সাথে মৃত্যুর হার বেড়ে চলছে।গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা দেশে একদিনে ভাইরাসটিতে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৯৮৭ জনে। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৫ হাজার ১৮৫ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৩ হাজার ১৭০ জন।

সারাদেশে করোনা সংক্রমণ মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রথম দফায় মানুষের চলাচল ও কার্যক্রমে বিধি-নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর আজ ১৪ এপ্রিল (বুধবার) থেকে সরকার আটদিনের জন্য চলাচলে বিধি-নিষেধ তথা কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ, উপজেলা সহকারী (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ জসিমউদদীন, ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ গিয়াসউদ্দিন সোহাগ ও মুকসুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ এর সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রুবেল।

দোহারে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন পালিত হচ্ছে

সারাদেশে করোনা সংক্রমণ মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রথম দফায় মানুষের চলাচল ও কার্যক্রমে বিধি-নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর আজ ১৪ এপ্রিল (বুধবার) থেকে সরকার আটদিনের জন্য চলাচলে বিধি-নিষেধ তথা কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

বুধবার সকালে জয়পাড়া বাজার এলাকায় ঘুরে লক্ষ করা যায় অনেক দোকানীরাই তাদের দোকান পাট বন্ধ রেখে বাসায় অবস্থান করছে।
সচেতন মহলের অনেক দোকানীই সরকারের এই কার্যক্রম তথা কঠিন লক ডাউন কে সাধুবাদ জানাচ্ছে।
কেননা মহামারী করোনার ভাইরাসের সংক্রমণের মাত্রা অত্যাধিক বেড়ে যাওয়াতে প্রতি দিনই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে সে সাথে মৃত্যুর হার বেড়ে চলছে।
সরকার ঘোষিত কঠিন লক ডাউন পরিস্থিতির মানতে সাধারণ জনগণ রাস্তায়, মার্কেটে গণজমায়েত না করলে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটবে না বলে অনেকে জানিয়েছেন।
আবার সে নির্দেশ মানছে না অনেক দোকানীরাই।
তারা দোকানের একটি সাটার খুলে রেখে বেচা বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে এমন দৃশ্য ও চোখে পড়েছে।
সরকার ঘোষিত নির্দেশনা গুলো হলোঃ-

নির্দেশনাগুলো হলো:
১. সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থলবন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

২. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৩. সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না।

৪. শিল্প-কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

৫. আইন-শৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন-কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণবিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।

৬. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসাসেবা, মরদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়ত করা যাবে।

৭. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে।

৮. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

৯. বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষি শ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে‌।

১০. সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লেখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।

১১. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বল প্রয়োগ করবেন।

১২. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমা ও তারাবি নামাজের জামাতের বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করবে।

১২. উপর্যুক্ত নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ প্রয়োজনে সম্পূরক নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

গত বছরের শেষে এবং এ বছরের শেষে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমে যেতে থাকলেও মার্চ থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। এরপর গত ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে সাত দিনের লকডাউন বা বিধি-নিষেধ জারি করে সরকার। জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে অফিস চালু রেখে এ বিধি-নিষেধের মেয়াদ ১১ এপ্রিল রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে। এ নিয়ে গত ৪ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর তা ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

কিন্তু বিধি-নিষেধ শুরু হলে গণপরিবহনের অভাবে যাত্রীদের দুর্ভোগের মধ্যে বিক্ষোভের মুখে ৭ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে গণপরিবহন চালু রাখার অনুমতি দেয়। তবে শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় তাদেরও আন্দোলনের মধ্যে ৯ থেকে ১৩ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়ে ৮ এপ্র্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ দেখা যাওয়ায় ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ২৬ মার্চ থেকে কঠোর লকডাউন বা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার মধ্যে আবারও বেড়ে যায় করোনা সংক্রমণ। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও বন্ধ রয়েছে।

চিকিৎসাধীন করোনা রোগী লাখ ছাড়াল

0

দেশে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর মধ্যে সুস্থ হওয়া ও মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বাদ দিলে দেশে গতকাল মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ১২৮ জন। দেড় মাস আগেও দেশে চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ৪০ হাজার।

এদিকে করোনায় দেশে মৃত্যু কমছেই না। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত আরও ৬৯ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে। গত মার্চ মাসে মোট ৬৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আর চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৩ দিনে মারা গেছে ৮৪৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ২৮ জন।

দেশে গত মার্চ থেকে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। দৈনিক শনাক্ত ও মৃত্যুতে নিয়মিত রেকর্ড হচ্ছে। পরিস্থিতি সামলাতে আজ বুধবার থেকে সারা দেশে আট দিনের ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ দিয়েছে সরকার। এর আগে গত এক সপ্তাহ ধরে ঢিলেঢালা লকডাউন চলেছে। এই লকডাউনের ফল এখনো দেখা যায়নি।

চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করায় করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালেও চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীদের জন্য সাধারণ শয্যা ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সংকট দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাজধানীর ২৭টি হাসপাতালে মাত্র ৮টি আইসিইউ শয্যা ফাঁকা ছিল। আর ৪ হাজার ১৭৬টি সাধারণ শয্যার মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ৩ হাজার ৫৪৯টি শয্যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাজধানীর মাত্র ১৭টি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীর তথ্য দিচ্ছে। এই তালিকার বাইরেও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে এখন অনেক করোনা রোগী চিকিৎসাধীন। তাদের হিসাব দিচ্ছে না অধিদপ্তর। এসব তথ্য যুক্ত করলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা অনেক বাড়বে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর মধ্যে ৬ হাজার ১৪২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকি ৯৫ হাজার ৯৮৬ জন বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ বাড়িতে থাকা বিপুলসংখ্যক রোগীর নিয়মিত ফলোআপ করছে না। ঢাকায় সবচেয়ে বেশি রোগী, তাঁদেরও ঠিকমতো ফলোআপ হচ্ছে না। বাড়িতে থাকা রোগীরা কেমন আছেন, কী ওষুধ খাচ্ছেন এগুলো জানতে হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশ দিতে হবে স্থানীয়ভাবে যেন পরিকল্পনা করে রোগীদের ফলোআপ করা হয় এবং সেই তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেড় মাসের ব্যবধানে দেশে চিকিৎসাধীন করোনা রোগী বেড়েছে ৬১ হাজার ৫৪০ জন। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৮৬ হাজার ৬৯০ জনের। বিপরীতে এই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৪১ হাজার ২৮ জন।

গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন মাস শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে এসেছিল। কিন্তু গত মার্চ থেকে দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে শুরু করার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে।

পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস শুরু থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনাবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য দিয়ে আসছে। গতকাল সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডোমিটারসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সংক্রমণ শনাক্তের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম। তবে চিকিৎসাধীন রোগীর দিক থেকে বাংলাদেশ ২৩তম স্থানে।

১৪ দিন ধরে দেশে দৈনিক ৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এর মধ্যে ৬ এপ্রিল থেকে দৈনিক ৬০-এর ওপরে মৃত্যু হচ্ছে। গত সোমবার তা ৮০ ছাড়িয়েছিল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, তীব্র উপসর্গ থাকা ব্যক্তির মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। তবে গত বছরের চেয়ে এবার তীব্র উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেশি। এবার কম সময়ে ফুসফুস আক্রান্ত হচ্ছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।

কোনো দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকে বোঝা যায়। তার একটি হলো রোগী শনাক্তের হার। টানা দুই সপ্তাহের বেশি রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে রোগী শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাসের বেশি সময় পরে গত ১৮ মার্চ শনাক্তের হার ১০ শতাংশ ছাড়ায়। চলতি মাসের অধিকাংশ দিনই শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ঘরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩২ হাজার ৯৫৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। গতকাল পর্যন্ত মোট ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৮৫ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৮৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬৬ জন।

দোহারে গরমে বেড়েছে তালপাখার কদর

0

এই গরমে তালপাতার পাখার বাতাসে গাঁ জুড়িয়ে যায়। গরম তাড়াতে যার জুড়ি মেলা ভার। গরম যত বৃদ্ধি পাচ্ছে ঢাকার দোহারে তালপাখার কদরও ততো বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে দেশজুড়ে চৈত্রসংক্রান্তি ও পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে রংবেরঙের পাখার চাহিদা বৃদ্ধি তো আছেই।
এই তালপাখা বিক্রি সম্পর্কে আব্দুল কাদের জানান, ভাই হানিফ ও বাবা আবু সাঈদকে নিয়ে ভ্যানে করে দোহারের বিভিন্ন স্থানে তালপাখা বিক্রি করেন তিনি। যেহেতু গরম বেড়েছে তাই তালপাতার পাখা ও পাটির চাহিদাও বেশি। হাত তৈরি তালপাতার পাখা ও পাটিগুলো তারা কুরিয়ারের মাধ্যমে নওগা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আনেছে।দোহার এপর্যন্ত তারা প্রায় ৩৫ হাজার পাখা এবং ৪০ হাজার পাটি বিক্রি করেছেন বলেন। চাহিদা থাকায় প্রতিদিনই কুরিয়ারে মধ্যেমে তালপাখার পাখা আনতে হচ্ছে। সেই সাথে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে রংবেরঙের পাখার চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা ভাল বলে জানান আব্দুল কাদের। তবে করোনার কারনে সামনের দিনগুলো জনিয়ে চিন্তিত তারা।

পাখা বিক্রেতা আব্দুল কাদেরের বাবা আবু সাঈদ জানান, দেশে কাজ কাম কম। শীতের দিনে দিনমজুরের কাম করে সংসার চালাই। আর যেহেতু এখন গরমে হাতপাখার চাহিদা বেশী থাকে তাই প্রতিবার দোহারে চলে আসি হাতপাখা বিক্রি করার জন্য । এবারও তাই দুই ছেলেকে নিয়ে দোহারে এসেছি হাতপাখা বিক্রি করতে।

ফেরি করে দোকান করা সামাদ বলেন, আমি দোহারের বিভিন্ন স্থানে হাতপাখা, মাস্ক, বাচ্চাদের ফুলদানি ইত্যাদি বিক্রি করি। এসে আমরা সামান্য কিছু টাকা রোজকার হয় সেই টাকা দিয়েই আমি চলি। আমি প্রতি পিচ পাখা পাইকারি দরে ২৫ থেকে ২৯ টাকায় কিনে আনি । যা খুচরা বাজারে বিক্রি করি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। এতেই বুঝা যায় গরমের সাথে সাথে তালপাতার পাখার কদর কিছু টা বেড়েছে।

দোহারে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ৫টার পর প্রশাসনের অভিযান 

মহামারী করোনার পরিস্থিতি সরকার ঘোষিত লক ডাউন পরিস্থিতি সফল করতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। সরকার ঘোষিত লক ডাউন পরিস্থিতির মাঝে সকাল ৯ টা হতে বিকেল ৫ টার পর্যন্ত সকল ধরণের শপিং মল এবং সমস্ত দোকান খোলা থাকবে। এর বাহিরে শুধু জরুরী আওতায় ঔষধের দোকান ও কাঁচামালের দোকান খোলা থাকবে।

রবিবার (১১ই এপ্রিল) বিকেল ৬ টায় উপজেলার মেঘুলা বাজার, নারিশা বাজার, মুকসুদপুর বাজার, ফুলতলা বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র।

এ সময় সরকারি নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দায়ে ৭টি দোকান মালিক কে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এ সময় সহকারী কমিশনার ভূমি জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, সরকার ঘোষিত লকডাউন পরিস্থিতি এবং সরকার ঘোষিত শপিং মল মালিক গণদের নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত দোকান খুলে রাখার নিয়ম কে কার্যক্রর করতে আমরা উপজেলা প্রশাসন মাঠে আছি এবং সকল বিষয় গুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে যাব।

তিনি আরো বলেন,আপনারা সকলে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন, নিজে বাচুন এবং অপর কে বাঁচতে সহযোগিতা করুন।