যমদূত ট্রাক ও মাহেন্দ্রের আতংকে দোহারবাসী

শরিফ হাসান, স্টাফ রিপোর্টার; নিউজ৩৯ঃ নেই ফিটনেস, নেই লাইসেন্স, না আছে চালকের, না আছে গাড়ির, চলছে বেপরোয়া, করে না আইন বা প্রশাসনের পরোয়া, এর নাম যমদূত মাহেন্দ্র বা বালুর ট্রাক বা ট্রলি। দোহারে করোনা মহামারিতে চলছে ইট-বালু – মাটির রমরমা ব্যবসা। আবাদি কৃষি রেকর্ডি জমি থেকে শুরু করে সরকারি জমির মাটিও বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। দোহার উপজেলার নারিশা, মুকসুদপুর ইউনিয়নে প্রায় প্রতিটি গ্রামে যেদিকে চোখ যায় শুধু মাটিকাটা আর ভরাট! আর রাস্তায় আছে যমদূত বালু বা মাটির ট্রাক ও মাহেন্দ্র। এছাড়া টানছে ইট, সিমেন্ট, বোল্ডার ব্লক।

আগে যেখানে মাটি কাটা ও ভরাট হতো শ্রমিক কিংবা ড্রেজারে, এখন তা হচ্ছে ট্রাক ও মাহেন্দ্রে। দোহার উপজেলা প্রশাসন মাঝে মাঝেই ড্রাজারে হানা দেয় ভূমিদস্যু ও মাটিখোরদের ধরতে। প্রায়শই করা হচ্ছে জেল-জরিমানা। কিন্তু এতেও থেমে নেই তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড।

এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রধান অংশ রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ানো কয়েকশত ফিটনেসবিহীন, লাইসেন্সবিহীন ট্রাক ও মাহেদ্র! এ যেন সাক্ষাৎ যমদূত। গত ৩ বছরে মুকসুদপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫ জন মারা গিয়েছে মাহিন্দ্রের চাপায়। বার বার দিনে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিলেও, এসব ভারি যানবাহন চলছে অবাধে। কিসের যেন এক অদৃশ্য বল তাদের পিছনে!

দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুবলী বাজার ও মৌড়া গ্রামের রাস্তাগুলোও অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন ট্রাক মাহেন্দ্রের দখলে। চালকদের কারো নেই কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিটি রাস্তায়।

মাটি, বালি, খোয়া, ইটাসহ যেকোন মালামাল পৌঁছে দিচ্ছে যেকোন গন্তব্যে। মালামাল বহনকালে মালের উপরে ঢাকনা বা ত্রিপোল ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও তা মানছেনা যমদূত এই দানবরা। এই কারণে রাস্তায় বাড়ছে দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। রাস্তা হয়ে উঠছে অন্যান্য যানবাহনের জন্য চলাচলের অনুপযোগী।

দোহার উপজেলার দুবলী গ্রামে সর্বত্র ফসলি জমির মাটি কেটে সড়ক পথে উন্মুক্তভাবে তা বহন করে চলেছে মাহেন্দ্র গুলো। এদের কারণে মুকসুদপুর ইউনিয়নের দুবলী, মৌড়া গ্রামের বিভিন্ন রাস্তার শাখা, প্রশাখায় চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম আতংকে মাহেন্দ্র বা ইট-বালুর ট্রাক মানেই দূর্ঘটনা, মৃত্য। এমন আতংকে সবাই।

এসব গাড়ির বড় আকারের চাকা, গতি ও বেপরোয়া ভর্তি করে আপলোড করার কারণে আশপাশের ঘর-বাড়ি, দোকান আর গাছপালাও এখন ধুলায় ছেয়ে গেছে। চলাচলের সময় ধুলার জন্য কিছুই দেখা যায় না। এমনকি শ্বাস নিতেও কষ্ট হয় চালক ও যাত্রীদের।

অনেক সময় বহনকারী বালি, মাটি ও ইটের ছোট্ট কণা পিছনে বা সাইডে অন্যচালক ও যাত্রীদের চোখে পড়ে সড়ক দূর্ঘটনায় অনেকে আহতও হচ্ছে।

এই নিয়ে মাঝে মাঝেই অন্যযাত্রী ও চালকদের সাথে হাতাহাতি হচ্ছে মাহেন্দ্র, ট্রাক চালক ও মালিকদের।

আর রাস্তা ঘাটের ক্ষতিতো হচ্ছেন। নতুন নতুন রাস্তাগুলোও দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে, পিচ ঢালাই উঠে যাচ্ছে, ইট ও মাটির রাস্তাগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে এদের কারণে। রাস্তায় মাটি পড়ে ধুলোর সৃষ্টি হচ্ছে।

আর সে মাটিতে সামান্য পানি পড়লেই রাস্তা হয়ে উঠে আরও ভয়ংকর। মাটি পানি মিস্রিত কাঁদায় দুই চাকার চালক যাত্রীরা পিচলে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হচ্ছে অহরহ।

এদের মালিক ও ঠিকাদাররা শক্তিশালী হওয়ায় জনসাধারণ এদের সামনে অসহায়। অনেকে অভিযোগ করলেও, প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না কেউই। ধুলোবালির সাথে যুদ্ধ করেই চলতে হচ্ছে তাদের।
ফলে শ্বাসকষ্ঠ, চুলকানি, হাঁপানিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।

চিকিৎসকদের মতে, শ্বাসনালী দিয়ে এসব ধুলোবালি প্রবেশের কারণে ফুসফুসের ক্যান্সারের মতো জটিল রোগও হতে পারে মানুষের।

স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াসীম ও অন্য অন্যরা জানান, আমরা দুবলী বাসি এই মহেন্দ্র কারনে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছি। তাছাড়া জয়পাড়া থেকে আসার সয়ম আমাদের দুবলী বাজারে টুকার দুটি রাস্তাছিল তার মধ্যে একটি রাস্তা মাহেন্দ্রা চলাচলের ফলে ভেঙে যায়। আর সেই জন্য রাস্তাটি এখন চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পরছে। তার কারনে তারা বিকল্প রাস্তা ধরেছে এ রাস্তাটিও ভেঙে গেলে আমাদের চলাচলের জন্য অনেক সমস্যা হবে। তাই আমরা আপনাদের মাধ্যমে দোহার প্রশাসনকে জানাতে চাই যে কৃষি জমি থেকে মাটিকাটা বন্ধ করে আমাদের দুবলী বাজার ও মৌড়া গ্রামকে যাতে তারা রক্ষা করে।

এ বিষয় দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্রের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা আপনাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি এই বিষয় আমরা ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো। আর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আমরা সেই পদক্ষেপ নিব।

এলাকাবাসীর দাবি, এর বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে জনসাধারণের জানমাল রক্ষার্থে এগিয়ে আসবে দোহার উপজেলা প্রশাসন। তাদের মতে, উপর মহলের সঠিক একটি সিদ্ধান্তই বদলে দিতে পারে দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের দুবলী ও মৌড়ার পরিবেশ।

দোহারে মসজিদ নির্মাণে ইঞ্জিনিয়ার মেহবুবের অনুদান

ঢাকার দোহার উপজেলায় দোহার এমদাদিয়া ( সুলতান খাঁ) মসজিদের উন্নয়ন কাজের জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবির।

শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) বাদ আসর দোাহর উপজেলার দোহার ঘাটা গ্রামের ‘দোহার এমদাদিয়া (সুলতাল খাঁ) জামে মসজিদে এ অনুদান দেয়া হয়।

এসময় মেহবুব কবির বলেন, আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমি দান করে থাকি। ইতোমধ্যে আমি দোহার উপজেলার বেশ কয়েকটি মসজিদের উন্নয়ন কাজে অংশগ্রহন করেছি। আমি সবার কাছে দোয়া চাই, ভবিষ্যতে যেন দোহার উপজেলার মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোর উন্নয়ন কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারি।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন- মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন, দোহার উপজেলা সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো. মহিউদ্দিন, মো. ইউনুস মোল্লা, নূর ইসলাম মোল্লা, মুজিবর পত্তনদার, আব্দুল খালেক, ইকলাস মোল্লা, আক্কাস দেওয়ান, মো. ইকবাল হোসাইন, আব্দুস সোবহান খান-সহ আরও অনেকে।

দোহারে ৩ মাদক সেবনকারী আটক

ঢাকার দোহার উপজেলায় ইয়াবা ও গাজা সেবনের দায়ে ৩ জনকে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। সাজা প্রাপ্ত তিন ব্যাক্তি হলেন মোঃ রাশেদ লস্কর (৪০) পিতাঃ মৃত নিয়ামত লস্কর, গ্রামঃ নাগেরকান্দা দোহার; মোঃ রনি(৩২) পিতাঃ মোঃ সালাম,নাগেরকান্দা  দোহার; বিল্লাল(৩৬) পিতাঃ মৃত ইমান আলি গ্রাম খারাকান্দা দোহার। দোহার উপজেলার খারাকান্দা থেকে তাদের ইয়াবা ও গাজা সেবন অবস্থায় হাতে নাতে ধরে দোহার উপজেলা পুলিশ।

বুধবার(২১শে এপ্রিল) দোহার উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রক ইনস্পেকটর মোঃ কবির হোসেনের নেতৃত্বে নাগেরকান্দা ও খারাকান্দা থেকে ইয়াবা ও গাজা সেবন অবস্থায় ৩ জনকে আটক করে।

দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ আদালতে  মোঃ রনি, কে হাজির করলে তাদের কে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১)১৬ ধারায় ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১শত টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিতসহ অনাদায়ে আরো ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত। মোঃ রাশেদ লস্কর (৪০) পিতাঃ মৃত নিয়ামত লস্কর,মোঃ বিল্লাল(৩৬) পিতাঃ মৃত ইমানআলী কে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১)২১ধারায় ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১শত টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করে অনাদায়ে আরো ৩দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দণ্ডিত করে।

দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, দোহারে মাদক দ্রব্য বহন, পরিবহন, সেবন, ব্যবসা সম্পূর্ণ রুপে নিষিদ্ধ। আমরা যদি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বা কোন গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কাউকে আটক করতে পারি তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির প্রদান করা হবে। এ ব্যাপারে কোন ছাড় নেই।

দোহার-নবাবগঞ্জে তাপমাত্রা উঠল ৩৭ ডিগ্রিতে

 

সারা দেশের মতো দোহারেও বয়ে চলছে তীব্র দাবদাহ। প্রতিদিনই তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দোহার-নবাবগঞ্জের পথ ঘাট। আগামীকাল বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও গরম কমার কোন লক্ষন আগামী এক সপ্তাহে নেই।

আজ দোহার ও নবাবগঞ্জে ৩৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা রয়েছে। তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রী হলেও গরমের তিব্রতা অনুভুত হচ্ছে ৪২ ডিগ্রি। বৃষ্টির কোন সম্ভাবনা আজ আর নেই। কাল দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে।

এই তীব্র গরমে রোজাদারা কষ্টের মাঝেও রোজা পালন করছে। অনেকেই আবার বলছে এ সময় কাল বৈশাখী ঝড় হয় কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত কোন ঝড়ের দেখা মিললোনা আর তার ফলে যেমন কৃষকের ধানের সমস্যা হচ্ছিলো তেমনি গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পরছে মানুষ জন।

দোহার প্রেসক্লাবের নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা

ঢাকা দোহার উপজেলা ঐতিহ্যবাহী দোহার প্রেসক্লাব ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন-২০২১ইং তফসিল ঘোষণার করা হয়েছে। শনিবার বিকালে প্রেসক্লাবের তিন সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি এই তফসীল ঘোষনা করে।

এই তফসিল অনুযায়ী সভাপতি একজন, সহ-সভাপতি একজন, সাধারণ সম্পাদক একজন, সহ-সাধারণ সম্পাদক একজন, সাংগঠনিক সম্পাদক একজন, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক একজন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।

এই তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের নির্ধারিত মূল্য ধরা হয়েছে সভাপতি পদে ২০০০/= (দুই হাজার) টাকা, সাধারণ সম্পাদক পদে ২০০০/= (দুই হাজার) টাকা, অন্যান্য সকল পদে ১০০০/= (এক হাজার) টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৪,২৫ ও ২৬ এপ্রিল  মনোনয়ন পত্র দেওয়া হবে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র পাওয়া যাবে।

আগামী ২৮,২৯, ও ৩০ এপ্রিল  সকাল ১০টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত এসব মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে। মনোনয়নপত্র বাছাই করে খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ৮ মে ও প্রতিক বরাদ্দ দেওয়া হবে। খসড়া প্রকাশের পর ৪ মে বিকাল পাঁচটার মধ্যে কোন প্রার্থী তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন।

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ৮ মে ২০২১ ইং।  ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২১ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ মে। সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।

কেরানীগঞ্জে হেফাজত-পুলিশ সংঘর্ষ, আটক ১

ঢাকার কেরানীগঞ্জে পুলিশ ও হেফাজত ইসলামের সমর্থকদের  মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক হেফাজতকর্মী আটক এবং ৩ পুলিশ ও ১ পথচারীসহ ৪ জন আহতের খবর পাওয়া গিয়েছে। গত সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ইউনিয়নের মান্দাইল মাদ্রাসা ও তার আশেপাশে দুই থেকে তিন’শ হেফাজত নেতাকর্মী জড়ো হয়ে মিছিল বের করলে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ সময় হেফাজত কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে ৩ পুলিশ সদস্য ও ১ জন পথচারীসহ ৪ জন আহত হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে মাদ্রাসা থেকে মিছিল বের হয়নি। মিছিলকারীরা অধিকাংশ সাধারণ মানুষ। মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় মাদ্রাসা ছাত্রদের মিছিলে চোখে পরেনি। তাদের বেশ দেখে সবাইকে আমজনতা মনে হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী পুলিশ সুপার কেরানীগঞ্জ সার্কেল শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, হেফাজতের হামলার আশংকায় আগে থেকেই কেরানীগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিলো। আজ যোহরের নামাজ শেষে মান্দাইল মাদ্রাসা থেকে প্রায় ২/৩’শ হেফাজত কর্মী মিছিল নিয়ে পুলিশের উপর হামলা করে। এতে ৩ পুলিশ সদস্যসহ ৪ জন আহত হয়। এ সময় পুলিশ ১ হেফাজত কর্মীকে আটক করতে সক্ষম হয়। বাকিদের চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

দোহার প্রেসক্লাবের মাস্ক বিতরণ

ঢাকার দোহার উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে পথচারী ও যানবাহন চালকদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়া বাজারে মাস্ক বিতরণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সকলকে সচেতন করেন প্রেসক্লাবের সদস্যরা। পবিত্র রমজান মাস জুড়ে ১০ হাজার মাস্ক বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান সাংবাদিকরা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান টিপু, দোহার প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক তারেক রাজীব, সাংবাদিক অলি আহম্মদ, মোহাম্মদ শাহজাহান, শেখ সোহেল রানা, আবুল হাসেম ফকির, কাজী জোবায়ের আহমেদ, মো. সুজন হোসেন, মো. আসাদ মাহমুদ, শেখ জুবায়ের আহমেদ, শরীফ হাসান, মো. আল-আমিন, মাকসুমুল মুকিমসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সাংবাদিকরা।

দোহারে করোনা রোগীদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি

থামছেই না কোভিড১৯ আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা। দিন দিন বেরে চলছে এ রোগ। সাধারন মানুষ ও মানছেন না স্বাস্থবিধি ও সরকার ঘোষিত লকডাউন।  তাই আস্তে আস্তে সারাদেশে বেড়ে যাচ্ছে কোভিড ১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু।

সরকার নানান ধরনের নিয়মনিতি স্বাস্থবিধি ধারা অব্যাহত থাকলেও সারাদেশ ব্যাপী বাড়ছে কোভিড১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তারই ধারাবাহিতায় নতুন রুপে সাজিয়ে নিচ্ছে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দোহারের তৃতীয় তলায় কোভিড ১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড বানানো হয়েছে। তাই নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় টিকাদান কার্যক্রম নিচতলায় নিয়ে আসার জন্য সিদ্ধান্ত করা হয়েছে।

তাই আজ সকাল থেকে পুরুষ এবং মহিলা আলাদা কাউন্টার হবে। মহিলাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে কমিউনিটি ক্লিনিক কনারে এবং পুরুষদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে পুরুষদের পাশেই। ১০৯ নম্বর রুম অবজারভেশন রুম হবে। নতুন ভবনের টিকাদান কার্যক্রম দ্বিতীয় তলায় সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ।

সাময়িক অসুবিধার জন্য সকালের সহযোগিতা কামনা করছেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর কর্মকর্তা ডা.জসিম উদ্দিন।

দোহারে বৃষ্টিতে না হওয়ায়; খরায় পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন

ঢাকার দোহারে বিভিন্ন স্থানে এই মৌসুমে বাদাম চাষ হয়। গেলো বর্ষায় জমি পানির নিচে বেশিদিন থাকায় পলি পরে মাটিতে। তাই এই বছর বাদাম চাষ একটু বেশী হবে বলে আশাবাদী ছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু অনাবৃষ্টির কারণে তাদের আশা হতাশায় পরিণত হচ্ছে। তীব্র খরায় জমি পুড়ে বাদাম গাছের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

প্রতি বছর বৈশাখ মাস আসার আগেই কাল বৈশাখী ঝড়ের দেখা মিললেও এবারের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরার কারণে ফসল উৎপাদন কমার আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্ঠরা। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ঢাকার দোহার উপজেলার কৃষকেরা।

চলতি মৌসুমে দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ও বিলাশপুরের ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রায় ৬শত বিঘা জমিতে চাষ করা হয়েছে বাদাম। অপরদিকে বৃষ্টির দেখা না মেলায় আউশ ধান বপন করতে পারছেন না কৃষকেরা।

অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের বাদামগাছ শুকিয়ে যাওয়ায় কৃষকের মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিভে গেছে তাদের মুখের হাসি। গুনতে হবে আর্থিক ক্ষতি এমনটাই আশঙ্কা করছেন তারা।

মাহমুদপুর ইউনিয়নের বাদাম চাষি সিরাজ মোল্লা জানান, এ বছর প্রায় ১০ বিঘা জমিতে তিনি বাদাম চাষ করেছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় জমির সব বাদামগাছ শুকিয়ে গেছে। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে অনেক টাকা। এ অবস্থায় আমরা যদি সরকারি সাহায্য না পাই তাহলে আমরা আর উঠে দাঁড়াতে পারবোনা।

ঐ অঞ্চলের হালিম বেপারী চাষি জানান, সেচ দিয়ে বাদাম চাষ করায় যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে, বাদাম বিক্রি করে খরচের টাকাই তোলা সম্ভব হবে না। লাভ তো অনেক দূরের কথা।

এ ব্যাপারে মাহমুদপুর ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সোলাইমান দেওয়ান বলেন, অতি খড়ায় নষ্ট হচ্ছে কৃষকের ফসল। শুধু বাদাম নয় নষ্ট হচ্ছে বুরো ধানসহ আরও নানা ফসল।

দোহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুন ইয়াকুব বলেন, বৃষ্টির পানির বিকল্প নেই। আর এটা সম্পূূর্ণ প্রাকৃতিক বিষয়। খরার কারণে বাদামগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই এবার ফলন কম হতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক সরকারি আর্থিক কৃষি প্রনোদনা পাবে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি কিছু আর্থিক প্রনোদনা আউশ মৌসুমে আসবে। এ মুহূর্তে কৃষকদের শান্তনা দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই।

দোহারে ভারতীয় আতশবাজিসহ গ্রেপ্তার ১

ঢাকার দোহার উপজেলায় বিপুল পরিমানে বিস্ফোরক পদার্থ ভারতীয় আতশবাজিসহ মো. শাহীন শেখ (৩৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের বড় রামনাথপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃত শাহীন শেখ বিলাসপুর ইউনিয়নের বড় রামনাথপুর গ্রামের মৃত হালিম শেখের ছেলে।

শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-১১ সিপিসি-১ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবু ছালেহ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের বড় রামনাথপুর এলাকা থেকে বিস্ফোরক পদার্থ ভারতীয় আতশবাজিসহ শাহীনকে আটক করে র‌্যাব-১১। এসময় তার কাজ থেকে Green sparklers (৩৯০ প্যাকেট), KITKAT (৩০ প্যাকেট), GROUND CHAKKAR (৩০০ প্যাকেট), PARROT (২৫০ প্যাকেট), TUMPA ছোট (১০ প্যাকেট), TUMPA বড় (২০ প্যাকেট), JUG-MUG (৭৫ প্যাকেট), COBRRA Crackers (১৭ প্যাকেট), WUNDER KERZEN (৬২০ প্যাকেট) বিস্ফোরক পদার্থ ভারতীয় আতশবাজি উদ্ধার করা হয়।

পরে তার বিরুদ্ধে দোহার থানায় বিস্ফোরক পদার্থ মজুদ আইনে মামলা করে পুলিশে হস্তান্তর করে র‌্যাব।