করোনা টিকাঃ নবাবগঞ্জ উপজেলায় লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পরলেন বৃদ্ধ

করোনা ভ্যাকসিন নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পরতে দেখা গেছে ৬০ উর্ধ্বো বয়সী একজনকে। নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে একসময় তিনি মাটিতে বসেই পড়েন। পুরুষদের দুইটি ও মহিলাদের দুইটি করে মোট চারটি লাইন করা হয়েছে শুধু রেজিষ্ট্রেশন চেক ও তালিকা করতে। এছাড়া করোনা টেস্ট করাতেও রয়েছে একটি লাইন।

কিন্তু একই স্থানে টিকা দেয়া হচ্ছে পুরুষ ও মহিলাদের। যা দেখতে যেমন খারাপ লাগছে তেমনি লজ্জিত মুখে মহিলারা টিকা গ্রহন করছেন। উচিত ছিল পুরুষ ও মহিলাদের দুইটি আলাদা রুম বা তাবু নির্ধারণ করা। তা না করে দায়সারাভাবে কোন রকম কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা। কেউ কেউ লাইন ভঙ্গ করে আগেই কাজ করিয়ে নেয়ার জন্য চেষ্টা করতে দেখা গেছে। ফলে বিশৃঙ্খলা লক্ষ করা গিয়েছে সব লাইনে। গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে টিকা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। কাউকে বুঝিয়ে কিছুই করা যাচ্ছে না। সবাই যেন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে কার আগে কে কাজ শেষ করতে পারে। বৃদ্ধদের অগ্রাধিকার দেয়া বা তাদের সেবা আগে নিশ্চিত করা আমাদের ভদ্রতারই পরিচয়।

হে ময়লা! তুমি কার? ডেংগুর না চিকুনগুনিয়ার?

0

শরিফ হাসান, আল আমিন, স্টাফ রিপোর্টার, news39.net: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা হলে, নিঃসন্দেহে দোহারের রাজধানী জয়পাড়া। আরও সংক্ষিপ্তকরে বললে, রতন ভাস্কর্য ও এর চারিপাশ। জয়পাড়া বাজার ও ব্যাংকপাড়া অনেকটা মতিঝিলের মতো। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের অদম্য ইচ্ছ্বা থাকে শহুর কেন্দ্রিক। হয়তো সেরকম ইচ্ছ্বা থেকে রতন ভাস্কর্য থেকে ৫০মিটারের মধ্যে গড়ে উঠেছে বিশাল আবর্জনার ভাগাড়। প্রশ্ন হচ্ছে, হে ময়লা! তুমি কার? ডেংগুর না চিকুনগুনিয়ার?

আপনি এই পথে চললে আপনাকে অবশ্যই নাকে-মুখে মাস্ক বা হাত দিতেই হবে। সুবিধে হলো, এই পথে কর্তাব্যাক্তিরা যাতায়াত করেন না। কেন্দ্র বলেই হয়তো পৌরসভার আবর্জনা এই কেন্দ্রীয় পয়েন্টেই ফেলে স্তূপ করা হচ্ছে। ফলে, মশা ও মাছির নিরাপদ চাষাবাদ হচ্ছে। এটি এখন মশার নিরাপদ অভয়স্থল। কিন্ত এই ময়লার দায়ভার কেউ নিতে চায় না। না পৌরসভা, না প্রশাসন। বলা চলে, অনেকটা চোখ বন্ধ করে চলা। এই বিষয়ে কোন কথা বললে খুব গরম পৌরসভা। আর প্রশাসন নিয়মিত মশার কামড় খেলেও যেহেতু দূর্গন্ধ নাকে যায়নি, তাই তাদের দেয়ালে ময়লা ফেলা হলেও, তারাও নির্বিকার। সমস্যা যতো সাধারণ জনগণের, আর সব দায়ভার যেন এমপি মহোদয়ের। তিনি বলবেন, তবেই না কিছু হবে।

মশার স্তূপ যেখানে, সেখানে চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন। অনেকেই এই পথে চলাফেরা করেন। বিশেষ করে, দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিছনে মাঝিবাড়ীর তথা পৌরসভা ৫নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ জনগণের যাতায়াত এই পথে। পাঠকেরা আবর্জনা কেন কেন্দ্রীয় পয়েন্টে ফেলা হচ্ছে, সেটার লোকেশন দেখলেই বুঝবেন। ভাগাড়ের সামনে রতন ভাস্কর্য, জয়পাড়া সরকারী মডেল স্কুল, কেন্দ্রীয় শ্মশান ঘাট ও বেগম আয়েশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পিছনে (১০ফিটের মধ্যে) দোহার প্রেসক্লাব, সরকারী টেলিফোন অফিস, আনসার ভিডিপি অফিস ও দোহার উপজেলা পশু হাসপাতাল, আর উত্তরে দোহার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ এবং দক্ষিণে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই আবর্জনা স্তুপের সামনেই রয়েছে জয়পাড়া পরিবহনের বাস স্ট্যান্ড ও কিছু চায়ের দোকান। এখন পাঠক আপনারাই বলেন, ময়লার পাশেই এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, তাই এখন বিস্ময়কর!! কিছুটা সমস্যা যে কারো হয়নি, তা কিন্তু নয়। দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডাক্তার জসিম কিন্তু কিছু প্রচেষ্টা চালিয়েছেন নিজ অর্থায়নে।

ছোটবেলায় পড়েছিলেন, ঈশ্বর গুপ্তের বিখ্যাত কবিতা- রাতে মশা, দিনে মাছি, এই নিয়ে কলকতা আছি। দোহারের প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়ার অবস্থাও একইরকম। নতুন করে, ডেঙ্গু আতংক বিরাজ করছে ঢাকাসহ সারাদেশে। আর দোহারে এই আবর্জনার স্তূপ হয়ে উঠেছে ডেংগু মশার নিরাপদ প্রজনন স্থান। সকলের আশংকা এইখান থেকে করোনা ও ডেংগুবিস্তার হতে পারে। একইসাথে চিকুনগুনিয়া বিস্তারের সম্ভাবনাও রয়েছে। ইতঃমধ্যে নবাবগঞ্জ উপজেলায় করোনা এবং ডেংগু আক্রান্ত এক রোগীকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। কিন্ত সকল কতৃপক্ষই দায় এড়াতে চায়। এখন প্রশ্ন, আবর্জনা তুমি কার? সবশেষ, এই দায়ভার যেন জনসাধারণের। এমপি সালমান এফ রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া যেন এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ নেই।

এছাড়া, নিয়মিতভাবে, রেণ্ট-কারের চালক ও জয়পাড়া পরিবহনের ড্রাইভারদের, হেল্পারদের মূত্রবিসর্জন আবর্জনার এই পরিবেশকে করেছে আরও পূতিদূর্গন্ধময়। ফলে, চলাচলের জন্য এই রাস্তাটি হয়ে উঠছে অনুপযোগী।

দোহার পৌরসভার প্রকৌশলী মশিউর রহমান। মশিউর রহমানের বার বার বদলীর আদেশ অজানা কারণে স্থগিত হয়। সকল উন্নয়ন কার্যক্রমে তার তত্বাবধায়নে হয়। তিনি news39.net কে বলেন, এই ময়লার সরানোর কোন জায়গা নাই। পৌরসভার বাইরে কাজিরচরে আমরা জায়গা পাবো। সেখানে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে ময়লা সরিয়ে নিবো।

এভাবে চলছে দোহার পৌরসভার নাগরিক সেবা। কথা বেশি বললে, অনেক বিরক্তিভাব দেখানো হয় কর্তাব্যাক্তিদের পক্ষ থেকে। এছাড়া, তথ্যসেবা দিবে চরম গড়িমসিতো আছেই।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ মাহমুদ নাঈম বলেন, বিষয়টি আমি পৌরসভাকে বলবো, অতিদ্রুত ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে নিতে।

নাম প্রকাশ না করার সত্ত্বে স্থানীয় চা’এর দোকানী বলেন, আর নিছে ময়লা সরায়ে। এসব নিয়ে তাগো মাথা ব্যাথা নাই। আমাগোও সইয়া গেছে। এরকম জায়গায় সবার চোখে সামনে যদি এইকাম ঘটে, তারপরও তারা চোখে না দেখে , তাইলে কিছু করার নাই। যেদিন সালমান রহমান দেইখা, ঠেলা দিবো, সেদিন বুঝবো। তার আগে না।

তাই, দোহার পৌরসভাবাসীর প্রশ্নঃ হে ময়লা! তুমি কার? কবেই বা তুমি দূরীভূত হবে? মানুষ ফেলবে একটু স্বস্তির নিঃশাস !!

দোহারে নতুন করে করোনা শনাক্ত- ৭১ : মোট আক্রান্ত-২,৫৩৬

ঢাকার দোহার উপজেলায় নতুন করে আরও ৭১ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ উপজেলায় করোনা শনাক্তের হার ৫৮.২০%। এ নিয়ে দোহার উপজেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মোট ২ হাজার ৫ শত ৩৬ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ৩৩ জন। দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন করোনা শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সোমবার(১৬ আগস্ট) দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন জানান, গত ৫ ও ৭ আগস্ট ঢাকায় পাঠানো ১২২ জনের নমুনা থেকে নতুন করে আরও ৭১ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়া ৭১ জনের চিকিৎসা-সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে আক্রান্তর স্বজনদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ নিয়ে দোহার উপজেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মোট ২ হাজার ৫ শত ৩৬ জন। এ উপজেলায় করোনা শনাক্তের হার ৫৮.২০%। এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ৩৩ জন।

দোহারে বিলাতি গাবের হালি ষাট টাকা

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়িতে গাছে গাছে ঝুলছে বিলাতি গাব। দোহারের বিভিন্ন বাজার গুলোতেও বিক্রি হচ্ছে সেই বিলাতি গাব। মূলত এটি একটি মৌসুমি ফল আর এখনই গাবের মৌসুম। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে এই মৌসুমি ফল। এই ফল খেতে খুব মিষ্টি ও সুস্বাদু। রয়েছে নানাবিধ স্বাস্থ্য গুণ। দামও সাইজ ভেদে কমবেশি অনেকেই পরিবারের জন্য ক্রয় করে থাকে এই ফল। পূর্বের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এই গাবের চাহিদা ও উৎপাদন।

সুগন্ধীযুক্ত গাঢ় লাল এই ফল দেখতে তো আকর্ষণীয় বটেই খেতেও ভীষণ মজা! বিলাতি গাব নামে বিলাতি তো বটেই এর আদি নিবাসও আমাদের দেশের বাইরে! বিলাতি গাবের আদি নিবাস ফিলিপাইনে। কিন্তু এর স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণের কারণে প্রায় সারা বিশ্বেই এর চাষ হয়। বিলাতি গাবের ইংরেজি নাম Malobo। একে Korean mango বা Velvet-apple নামেও ডাকা হয়। কারণ এটি দেখতে অনেকটা লাল আপেলের মতোই এবং এর গা মখমলের মতো মসৃণ ! বিলাতি গাবের বৈজ্ঞানিক নাম Diospyros balncoi। এটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের চিরসবুজ বৃক্ষ।

বিলাতি গাব গাছ আকারে মাঝারি, লম্বায় ১০-৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে গাছে ফুল ফোটে এবং জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যায়। কাঁচা ফল হালকা সবুজ বা বাদামি হয়। ফল পাকলে উজ্জ্বল বাদামি বা গাঢ় লালবর্ণ ধারণ করে। পাকা ফলের ভেতরটা সাদা এবং মাখনের মতো নরম। পাকা ফল সুগন্ধী এবং বেশ লোভনীয়। বিলাতি গাব ফল হিসেবে খাবার পাশাপাশি এটা দিয়ে জুস, ডেজার্ট, ফ্রুটকেক, ক্রিম ইত্যাদিও তৈরি করা হয়। এ ফলের পুষ্টিগুণও ব্যাপক। পাকা বিলাতি গাবের প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য অংশে রয়েছে – খাদ্যশক্তি- ৫০৪ কিলোক্যালরি জলীয় অংশ- ৮৩.০-৮৪.৩ গ্রাম আমিষ- ২.৮ গ্রাম চর্বি- ০.২ গ্রাম শর্করা- ১১.৮ গ্রাম খাদ্যআঁশ- ১.৮ গ্রাম চিনি- ১১.৪৭ গ্রাম ক্যালসিয়াম- ৪৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন এ- ৩৫ আইইউ ফসফরাস- ১৮ মিলিগ্রাম আয়রন- ০.৬ মিলিগ্রাম থায়ামিন- ০.০২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি- ১৮ মিলিগ্রাম সোডিয়াম- ১১০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম- ৩০৩ মিলিগ্রাম।

উপজেলার কার্তিকপুর বাজারে বিলাতি গাব কিনতে আসা মিঠুন বলেন, বিলাতি গাবে অনেক পুষ্টি রয়েছে। খেতেও সুস্বাদু তাই এই বাজারে এসেছি গাব কিনতে। তবে বাজারে এসে মনে হচ্ছে গাবের দামটা একটু বেশী।

উপজেলার জয়পাড়া বাজারের বিলাতি গাব বিক্রেতা শেখ ফালু বলেন, আগে মানুষ এই ফল খুবই কম পছন্দ করতো কারন তখন মানুষ এই ফলের পুষ্টিমান সম্পর্কে জানতো না। তবে মানুষ অনেক স্বাস্থ্য সচেতন হয়েছে। মানূষ এখন পুষ্টিকর ফলমূল বেশি পছন্দ করে। তাই বর্তমানে এই ফলের চাহিদার সাথে সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে গাবের দাম। বর্তমানে এক হালি গাব আকারভেদে ২০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেকেই প্রতিদিন নিজের পরিবারের জন্য কিনে নিচ্ছে বিলাতি গাব।

জাতীয় শোক দিবসে দোহারে পুলিশের পক্ষ থেকে কুরআন শরীফ বিতরণ

দোহার উপজেলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে দোহারবাসী। সকাল ৯:৩০ মিনিটে  উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন করেন দোহার থানা পুলিশ।

রোববার (১৫ আগস্ট) সকাল ৯:৩০ মিনিটে দোহার থানা ওসি মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে দোহার থানা পুলিশ সদস্যরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর দোহার থানা পুলিশের উদ্যগে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে কুরআন তিলাওয়াত, কুরআন শরীফ বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, দোহার থানা তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান, দোহার থানা সেকেন্ড অফিসার রাকিবুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন সুরুজ  প্রমুখ।

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। রোববার বিকাল ৪:৩০ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভা কক্ষে এ অনুষ্ঠানে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ রিফুয়েলিং করতে নগদ আরো ৪ লাখ টাকা হস্তান্তর করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা, ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানের নিজস্ব অর্থায়নে দেওয়া হয়। তিনি তার ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এসব অক্সিজেন সরবরাহ করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগ এতে সহযোগিতা করেন।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফএম ফিরোজ মাহমুদ নাঈম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন।  বিশেষ অতিথি ছিলেন ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ মোল্লা।

প্রধান অতিথি বক্তব্যে আলমগীর হোসেন বলেন, আমাদের এমপি সাহেব দোহার ও নবাবগঞ্জ এর জনগনের চিন্তা করে এই অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা করেছে। যাতে করোনা রোগী অক্সিজেনের অভাবে না মারা যায়। দোহারে যখন করোনা রোগী ভতির জন্য আইসিইউ দরকার ছিল তখনও আমাদের এমপি সালমান এফ রহমান সেই আইসিইউর ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফএম ফিরোজ মাহমুদ নাঈম বলেন, আমরা প্রসাশনের পক্ষ থেকে দোহারের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। জনগণ সচেতন না হলে করোনা ভয়াবহ হতে পারে। দোহারে মানুষের ভাগ্য অত্যন্ত ভাল যে সালমান এফ রহমানের মত একজন সাংসদ সদস্য পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জসীমউদ্দিন,দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ফজলুর রহমান (ফজলু ),দোহার থানা তদন্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্য সুরুজ আলম সুরুজ,দোহার প্রেসক্লাবে সাবেক আহ্বায়ক তারেক রাজিব, ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন সোহাগ প্রমুখ ।

স্বাস্থ্যবিধি না মানায় দোহারে সাত জনকে জরিমানা

0

ঢাকার দোহারে মাস্ক পরিধান না করায় ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ৭ জনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বির নেতৃত্বে দোহারের জয়পাড়া কলেজ মোড় থেকে ওয়ান ব্যাংক মোড় পর্যন্ত মাস্ক পরিধানে বিষয়  নিশ্চিত করতে এ মোবাইল কোট চালানো হয়।

জানা গেছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মাস্ক পরিধান না করায় ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে জয়পাড়া কলেজ মোড় ও জয়পাড়া ওয়ান ব্যাংক মোড় স্বাস্থ্য বিধি অমান্য করার দায়ে ৭ জনেক ভ্রাম্যমাণ আদালত ৭ টি মামলায় ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

সে সময় ফজলে রাব্বি জানান, অদ্য দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজার মোড় ও ওয়ান ব্যাংক মোড় এলাকায় উপজেলার পক্ষ থেকে ১০০ মাস্ক বিতরণ এবং স্বাস্থ্যবিধি  প্রতিপালনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে সাধারণ জনগণের উদাসীনতা কোভিড পরিস্থিতিতে ঝুকিপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি জয়পাড়া বাজারে ফুটপাত দখল মুক্ত করা হয়। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জন সাধারণের মাঝে মাস্ক পরিধানের জন্য  মাঠে কাজ করছেন দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি ও দোহার থানার পুলিশ।

মাদক সেবনের দায়ে ১ জনকে জেল–জরিমানা

0

দোহারে মাদক সেবনের দায়ে শেখ মজনু (৪০)কে  আটক করেছে পুলিশ। পরে পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে জেল–জরিমানা করেছেন। এ সময় তাকে তিন মাসের জেল ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। শনিবার এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বি।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার সকাল ৮:৩০ মিনিটে  দোহার থানা–পুলিশের বিট নং-১১ এএসআই মোঃ জাহিদ হাসান দোহারের রায়পাড়া ইউনিয়নের রায়পাড়া স্কুল মাঠ থেকে তাকে গাঁজা সেবন অবস্থায় আটক করেন।

আজ শনিবার  সকাল দশটায় তাকে দোহার উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বির ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা ও তিন মাসের জেল দেন। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি রায়পাড়া ইউনিয়নের কফিলউদ্দিন এর ছেলে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বি বলেন, ‘মাদক সেবনের দায়ে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন–২০১৮ এর ৯ ধারার ১ উপধারার “গ” ক্রমিক অনুসারে শাস্তি দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরো বলেন, ‘দোহার উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। মাদকবিরোধী এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

দোহার প্রেসক্লাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত

শরিফ হাসান ও মোঃ আল-আমিন, news39.net: রবিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গবন্ধুর ৪৬ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষে দোহার প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং প্রায় ৫০০ খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, ‘১৫ই আগস্ট বাঙ্গালি জাতির শোকের দিন। এই দিনে বিপদগামীদের কারণে বাংলাদেশ গড়ার কারিগর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানসহ তার স্বপরিবারকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করা। খুনিদের কারণে তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ এই দিনে শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার কাজ তারই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং ঢাকা -১ সাংসদ সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছি। অচিরেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ সোনার বাংলা হিসাবে পরিচিতি পাবে। আর দোহার নবাবগঞ্জ হবে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা।

দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন শিকদার বলেন, ‘আগস্ট বাঙালি জাতির নিকট বেদনাদায়ক একটি মাস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবেচেয়ে নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। বুলেটের আঘাতে স্তব্ধ করে দেওয়া হয় বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মুক্তি সংগ্রামের দ্ব্যর্থহীন বজ্রকণ্ঠ। দেশের বাইরে অবস্থান করার কারণে সেদিন প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুইকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। আজ আবার বঙ্গবন্ধু ২ কন্যার নেতৃত্বে আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মানে এগিয়ে গিয়েছি। বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে দাড়িয়েছি।

দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুল হাসান বলেন, ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির কাছে শুধু শোক দিবস নয়, বাঙালি জাতির শক্তি সঞ্চয়েরও দিন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আদর্শিক লড়াই ও সুদক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে সমগ্র জাতির শোককে আজ শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন। শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, নিরলস পরিশ্রম ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে করোনা মহামারির সময়েও বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন দোহার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সানী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফজলুল হক, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্য সুরুজ আলম সুরুজ, ঢাকা জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ও নারিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানি, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন সোহাগ, দোহার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলমাস উদ্দিন, ঢাকা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শফিকুল ইসলাম সেণ্টু, দোহার থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানসহ দোহার প্রেসক্লাবের সকল সাংবাদিকসহ অন্যান্য ব্যাক্তিবর্গ।

দোহারে জাতীয় শোক দিবস পালিত

দোহার উপজেলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে দোহার উপজেলা প্রশাসন। সকাল ৯টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন করেন উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা পরিষদ, পদ্মা সরকারি কলেজ, উপজেলা আওয়ামী লীগ, দোহার থানা পুলিশ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবলীগ,কৃষকলীগ
ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সকাল দশটায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনলাইন পদ্ধতিতে শিশু- কিশোরদের জন্য চিত্রাংকণ ও রচনা প্রতিযোগিতা, জাতীয় শোক দিবসের সাথে সংগতিপূর্ণ কবিতা পাঠ, চিত্র প্রদর্শন, হাম ও নাত প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।

এরপর সকাল ১১ঃ৩০ মিনিটে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলায় চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলার চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের হৃদয়ে অমর। তার চেতনা ও আদর্শ বাংগালীর চিরকালের পাথেয়। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে, আজ তিনি বিশ্বে একটি উন্নয়নশীল জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

আলোচনা শেষে রচনা প্রতিযোগী ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিরদের হাতে পুরুষ্কার তুলে দেওয়া হয়। এরপর উপজেলা মসজিদে বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের জন্য দোয়া করা হয়।

দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন উপজেলা নির্বচনী কমিশনার মো রেজাউল করিম।