জার্মানের বায়ার্ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি হলেন মিয়া সোহেল

0

শরিফ হাসান, news39.net: দোহার উপজেলার জয়পাড়ার কৃতি সন্তান, জয়পাড়া পাইলট স্কুলের ব্যাচ -২০০০ এর সদস্য সোহেল মিয়া জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখ শহরের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সেখানে একজন বিশিষ্ট হোটেল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

বৃহস্পতিবার জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখ শহরের একটি রেস্টুরেন্টে স্বরাষ্টমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপির গণ সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে জার্মান আওয়ামী লীগের সভাপতি বসিরুল আলম চৌধুরী সাবু ও সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী চৌধুরী সাক্ষরিত প্যাডে আগামী ৩ বছরের জন্য নতুন এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এতে রাশেল মাহমুদকে সভাপতি ও মো. সোহেল মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

মো. সোহেল মিয়া দোহার উপজেলার জয়পাড়া থানার মোড় এলাকার হারুন উর রশিদ ওরফে হারুন মেম্বারের বড় ছেলে।

উল্লেখ্য, মিয়া সোহেল জয়পাড়া পাইলট স্কুলের ব্যাচ – ২০০০ এর একজন সক্রিয় সদস্য এবং news39.net এর একজন শুভাকাঙ্ক্ষী।

দুই বছরে শিক্ষার্থীদের পাহাড় সমান ক্ষতি পোষাবে কিভাবে ?

0

করোনায় প্রায় ১৭ মাস ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো। যা ব্যাপক ক্ষতি করেছে শিক্ষার্থীদের। কিন্তু এই ক্ষতি পোষাতে দীর্ঘ মেয়াদী সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের।

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপুমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, HSC এবং  SSC শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়মিত হবে।  ১ম,২য়,৩য় এবং ৪র্থ শ্রেণীর ক্লাস সপ্তাহে এক দিন হবে। প্রতি ক্লাস হবে ৩-৪  ঘন্টা করে। মাস্ক পরে সকলকে শ্রেণী কক্ষে যেতে হবে।  মানতে হবে স্বাস্থবিধি, সামাজিক দূরত্ব। কারো বাসায় করোনা রোগী থাকলে তাকে স্কুলে আসতে হবে না।

প্রশ্ন উঠছে এসব নির্দেশনা বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের পালন করাতে পারবে কিনা?

শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগুলো মোটাদাগের। ক্ষতিগুলো এক বছরেও মূল্যায়ন করা যায়নি। পড়াশোনার বাইরে চলে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেগুলো মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা ও পরীক্ষা ঘিরে। এগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব তা এখন প্রশ্ন?

শিক্ষাবিদগণ বলেছেন – শিক্ষার এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে হলে দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম নিউজ৩৯ কে বলেন,  শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কতটুকু তা পরিমাপ করা কঠিন। তবে সামান্য কিছু পড়িয়ে পরীক্ষা নিলে দীর্ঘ মেয়াদী এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দোহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শামিম বলেন, সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে তা পালন করা কষ্টসাধ্য। কেননা আমাদের বিদ্যালয় গুলোর অবস্থা নাজুক। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নেই পর্যাপ্ত ক্লাসরুম। স্বাস্থবিধি মেনে পাঠদান সম্ভব নয়।

কার্তিকপুর  উচ্চবিদ্যালয়ের  সিনিয়র শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বিভিন্ন দিকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের জন্য দরকার নিয়মিত পাঠদান। করোনার প্রভাব ব্যাপকভাবে তাদের উপর পরেছে। প্রভাব কাটাতে হলে তাদের নিয়মিত চর্চা প্রয়োজন ।

জেএসসিতে এবারও অটোপাস

0

চলতি বছরের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না। অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়ন করেও ফল প্রকাশ করাও বাস্তবসম্মত নয়।  তাই বাধ্য হয়েই এই পরীক্ষার্থীদের অটোপাস দেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ দুই পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার প্রস্তুতিই নেয়নি। এই পরীক্ষার্থীদের অটোপাস দেওয়ার পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

গতকাল রোববার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হবে। যদি মনে হয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে তাহলে পরীক্ষাগুলো নেওয়া হবে।

কিন্তু শিক্ষা বোর্ডগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার তেমন কোন প্রস্তুতিই নেওয়া হয়নি। এসব পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন হলেও ফরম পূরণ হয়নি। এ পরীক্ষার জন্য কোন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন তৈরির বিষয়েও কোন প্রস্তুতি হয়নি। এখন সেপ্টেম্বর চলছে। নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ছাপা হয়েছে। কিন্তু জেএসসি ও জেডিসির ফরমই পূরণ করার উদ্যোগ নেই। প্রশ্ন ছাপা তো আরেক ধাপ পরের কথা।

গত বছরও জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের তথ্য নিয়ে তাদের সনদ দেওয়া হয়েছে। সেভাবেই এবারও জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার্থীদের সনদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচছুক একটি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেছেন, ‘জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না। এখন এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না। ’

শিক্ষকতা থেকে ‘লন্ড্রি ম্যান’

করোনার কবলে পড়ে অনেকের জীবনে এসেছে ছন্দপতন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কেউ কেউ জীবিকার জন্য আঁকড়ে ধরছেন নতুন পথ। তেমনই একজন দোহার উপজেলার মধুপ্রভাতী কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আবদুর রহমান। লকডাউনের এই সময়ে তিনি ‘লন্ড্রি ম্যান’ নামে নতুন প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়েছেন।

গত বছর করোনা মহামারি শুরু হলে আবদুর রহমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বসে না থেকে কিছু একটা করার চিন্তা তাঁর মাথায় আসে। সেই চিন্তা থেকে তিনি গতবছরের ৮.৯.২০ সাল থেকে চালু করেন লন্ড্রি ম্যান নামে পোশাক ইস্ত্রি করার ব্যবসা। আশে পাশের বাসা থেকে পোশাক এনে ইস্ত্রি করেতে দেন জয়পাড়া এলাকার লোক জন।

আবদুর রহমান নতুন ব্যবসা শুরুর আগে তেমন কোন প্রচারণা চালানি। তরপরও তার দোকানে একের পর এক অর্ডার আসতে থাকে। বাড়তে থাকে তার প্রতি মানুষের আস্থা।

তবে আবদুর রহমান এমন উদ্যোগের শুরুটা সহজ ছিল না। প্রথম আপত্তি আসে পরিবার থেকেই। স্ত্রী আপত্তি তোলেন। কিন্তু আবদুর রহমান ছিলেন অদম্য। তাঁর কাছে কাজের কোনো ছোট–বড় নেই।

আবদুর রহমান বলেন, ‘আমি কোনো কাজকে ছোট করে দেখি না। কাজ তো কাজই। আমার পরিবারের লোকজন লন্ড্রি ব্যবসা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু আমি মনে করি এই ব্যবসা একদিন বড় করতে পারলে তাঁরাই গর্ব করবেন। আমি ভালোবাসা দিয়ে কাজটা করে যেতে চাই।’

আবদুর রহমানের লন্ড্রি সেবা পেয়ে খুশি গ্রাহকেরা। স্থানীয় বাসিন্দা কবির নামে একজন বলেন, আবদুর রহমান কাপড় ইস্ত্রি করা খুব সুন্দর। তিনি যত্ন সহকারে খুব ভাল ভাবে কাপড় ইস্ত্রি করে। তাই আমরা তার দোকানে কাপড় ইস্ত্রি করতে দেই।

অন্য আরেক গ্রাহক শাহাবুদ্দিন জানান, আগে আমরা কাপড় ইস্ত্রি করতে জয়পাড়া বাজারে যেতে হত সে জন্য কিছু টা সময়ে প্রয়োজন হত। কিন্তু এখন বাসার পাশে ইস্ত্রি দোকান হওয়াতে যে সময় কম লাগে তেমনি জয়পাড়া ও যেতে হয় না আবার বাসার পাশে হওয়া যখন খুশি তখনই কাপড় ইস্ত্রি করতে দিতে পারি।

আবদুর রহমান জানান গত সাত মাসে তাঁর নিয়মিত গ্রাহকের সংখ্যা ৫০-৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। ভালো সাড়া পাচ্ছেন। তাঁর এই উদ্যোগ নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী। তিনি আরো জানান, সরকার ১২ তারিখ থেকে স্কুল খুলে দিবে বলেছে। আমি স্কুলের পাশাপাশি এই লন্ডির দোকানেও চালাবো। তবে তখন আমি এখানে সময় দিব স্কুল শেষে। আমি আমার এই ব্যবসা ধরে রাখবো সে জন্য আমি দোকানে কিছু মুদি মালামাল ও খাতাও রেখেছি বিক্রির জন্য।

আবদুর রহমান লন্ড্রি ম্যানের দোকান দোহার জয়পাড়া ভোকেশনাল রোডের মোড়ে। প্রতিটি পোশাক ইস্ত্রি করতে নেন সাত থেকে বারো টাকা।

একবার বিদ্রোহী হলে আর নৌকা পাবেন না

0

স্থানীয় পর্যায়ের যেকোনও নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীকে ঠেকাতে হিমশিম খেতে হয় কেন্দ্রীয় নেতাদের। এ কারণে এবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। একবার বিদ্রোহী প্রার্থী হলে ওই নেতাকে আর কখনই নৌকা প্রতীক দেওয়া হবে না। আজীবনের জন্য দলীয় পদ থেকে অব্যাহতিও দেওয়া হবে তাকে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযম বলেন, ‘এর আগে বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের প্রশ্রয়দাতাদের বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে ক্ষমা করা হয়েছে। যার কারণে পরে লাগাম টানা সম্ভব হয়নি। তবে এমনটা আর হবে না।’

দোহার পৌরসভার সীমানা গেজেট প্রকাশঃ অক্টোবরে নির্বাচনের সম্ভাবনা

শরিফ হাসান, স্টাফ রিপোর্টার, news39.net: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে দোহার পৌরসভার নতুন সীমানার গেজেট প্রকাশ হয়েছে। ২২শে অগাস্ট, রোববার, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো ফারুক হোসেনের স্বাক্ষরিত গেজেটটি প্রকাশিত হয়। দোহার পৌরসভার সীমানা জটিলতা নিরসনে এবং নতুন গেজেট প্রকাশ হওয়ায় পৌরবাসী ঢাকা -১ সাংসদ সালমান এফ রহমান ও দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর হোসেনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, এস, আর, ও নং ২৮৫-আইন/২০২১। যেহেতু স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৮নং আইন) এর ধারা ৪ এর উপ-ধারা (৪) এর দফা (1) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নিম্ন তফসিলভুক্ত এলাকাসমূহকে ঢাকা জেলার দোহার পৌরসভা হইতে বহির্ভূত করিবার উদ্দেশ্যে পৌরসভার পৌর এলাকার সীমানা পরিবর্তন সম্প্রসারণ ও সংকোচন) বিধিমালা, ২০১৬, অতঃপর উচ্চ বিধিমালা বলিয়া উল্লিখিত এর বিধি ৭ এর উপ-বিধি (১) এর বিধান মোতাবেক সরকার দোহার পৌরসভার সীমানা সংকোচন সম্পর্কে উক্ত এলাকার পরিষদের নিকট হইতে পরামর্শ বা আপত্তি আহ্বান করিয়া একটি বিজ্ঞপ্তি জারির জন্য ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা প্রদান করিয়াছিল; এবং
যেহেতু উক্ত নির্দেশ অনুযায়ী ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক উক্ত বিধিমালার বিধি (৭) এর উপ বিধি (২) ও (৩) এর বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া উপ-বিধি (৪) এর বিধান অনুযায়ী নিম্ন তফসিলভুক্ত এলাকাসমূহকে ঢাকা জেলার দোহার পৌরসভার সীমানা বহির্ভূত করিয়া উচ্চ পৌরসভার সীমানা সংকোচন করিবার পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করিয়াছেন।

যেহেতু সরকার উক্ত প্রতিবেদন বিবেচনা করিয়া নিম্ন তফসিলভুক্ত এলাকাসমূহকে ঢাকা জেলার দোহার পৌরসভার সীমানা বহির্ভূত করিয়া উক্ত পৌরসভার সীমানা সংকোচন করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে।

সেহেতু সরকার উক্ত বিধিমালার বিধি ৮ এর উপ-বিধি (৩) এর বিধান অনুযায়ী নিম্ন তফসিলভুক্ত এলাকাসমূহকে ঢাকা জেলার দোহার পৌরসভার সীমানা বহির্ভূত করিয়া উক্ত পৌরসভার সীমানা সংকোচন করিল, যথা—

ইউনিয়নের নামঃ রাইপাড়া+মাহমুদপুরঃ মৌজার নামঃ লটাখোলা মৌজা, জে এল নম্বর ৪৩ঃ

৭২৬-৮৬৭, ৮৬৯-৮৭০, ৮৭২-১০৫ ১৩৫৪-১৩৫৮, ১৩৬০, ১৩৭৫-১৩৮২ ১৩৮৭-১৩৮৯, ১৩৯১-১৩৯৩, ১৩৯৫

১-২৯৭ ২৯৯-৫২৩, ২০০১-২৪১৮, ২৪২০-২৪২৫ ২৪২৯-২৫২৭, ২৫৩০ ২৫৭৩ ২৫৭৬ ২৮৯৩ ২৮৯৬. ২৮৯৮, ২৮৯৯, ২৯০০-২৯১০ ২৯১২, ২৯১৫-২৯২৪, ২৯২৫, ২৯২৯

ইউনিয়নের নামঃ রাইপাড়াঃ মৌজার নামঃ খালপাড় মৌজা, জে এল নম্বর ৫৮ঃ

১-২৫৯ ২৬১-৩45 501 504, ৫২৯-৫৪১, ৫৫৭-৫৯৩, ৬১৩-৬৭৮ ৬৮০-৮৯২ ১৮১৫-১৮১৮, ২০০১ ২০২৩, ২০২৫, ২০২৭-২১৪৭, ২১৫০,

ইউনিয়নের নামঃ সুতারপাড়াঃ মৌজার নামঃ কাজিরচর মৌজা, জে এল নম্বর ৬২ঃ
২৮-২৯, ১১৭-১১৮, ১২১ ১২২, ১৩৮ ১৩৯, ১৪৪ ১৪৬-২৪৬ ২৫০-২৫২, ২৫৬-২৫৮, ২৬১ ২৬২ ২৬৪ ২৬৯ ২৭০ ২৭৪-২৭৮ 283-876, ৪৭৮-৪৮৩

ইউনিয়নের নামঃ সুতারপাড়াঃ মৌজার নামঃ সুতারপাড়া মৌজা, জে এল নম্বর ৬৩ঃ
১-৬৮৫, ৭০৪-১৫৪৭

সুতারপাড়া মধুররচর মৌজাঃ ২৪-৪৩৯

অবশেষে দীর্ঘ ২১ বছর পর হতে যাচ্ছে দোহার পৌরসভার নির্বাচন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবরের মাঝামাঝি হতে পারে দোহার পৌরসভার নির্বাচন। একইসাথে, মাহমুদপুর, রায়পাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নেও পর্যায়ক্রমে ৩ বার নির্বাচন হয়নি পৌরসভার সাথে সীমানা জটিলতার কারনে। এখন এই ৩টি ইউনিয়নেও নির্বাচনের দ্বার উন্মুক্ত হলো। গত ২৬ জুলাই,সোমবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১১৭তম সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সীমানা জটিলতার সমাধান হয়।

বর্তমান গেজেট অনুসারে, দোহার পৌরসভার আয়তন হবে ১৪.৩১ বর্গ কিলোমিটার; পূর্বে যা ছিলো ২১.১২ কি.মি। নতুন সীমানা অনুযায়ী সুতারপাড়া ইউনিয়ন থেকে ৪.০৫ বঃকিঃমিঃ, মাহমুদপুর ইউনিয়ন থেকে ১.৮৬ বঃকিঃমিঃ এবং রাইপাড়া ইউনিয়ন থেকে ০.৯৯ বঃকিঃমিঃ এলাকা বাদ যাবে। পূর্বে দোহার পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ছিলো ৭১হাজার ৩৬২ জন। পুরুষ ভোটার ৩৫,০২৪ জন (৪৯.০৮ %), মহিলা ভোটার ৩৬৩৩৮ জন (৫০.৯২ %)।

উল্লেখ্য, দোহার উপজেলার জয়পাড়া, রাইপাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নের আংশিক অংশ নিয়ে ২০০০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দোহার পৌরবাসীর ভোটাধিকারের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিলো দোহার পৌরসভা। এরপর দোহার পৌরসভার সীমানা জটিলতা নিয়ে সুবিধাবাদীদের কারণে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন মামলার কারণে দীর্ঘ ২১ বছরে দোহার পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত ছিল।

দোহারে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

দোহার উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও খামারিদের মাঝে মৎস্যচাষ উপকরণের জন্য মৎস্য খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ঃ৩০ মিনিটে দোহার উপজেলার বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে ২৯৩ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পরে মৎস্য খামারিদের মাঝে মৎস্য উপকরণ তুলে দেন দোহার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মোসাঃ লুৎফুন্নাহার, উপজেলা সিনিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মাসুদুর রহমান প্রমুখ।

নবাবগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে কালিগঙ্গা নদীর ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের পূর্ব মেলেং গ্রামের যুবসমাজ বাঁশের বেড়াদিয়ে কালিগঙ্গা নদী ভাঙন প্রতিরোধক সৃষ্টি করেছেন। সোমবার সকালে পূর্ব মেলেং গ্রামের নদী তীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকায় তারা বাঁধ নির্মান করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, হাফেজ মাওলানা হাবিবুর রহমান নবাবগঞ্জী জানান, পদ্মানদীর সংযোগ কালিগঙ্গা নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে করাল স্রোত দেখা দিয়েছে।
এতে করে গত কয়েকদিনে নবাবগঞ্জের কৈলাইল ইউনিয়নের পূর্ব মেলেং গ্রামের খোকন মিয়া, বিমল মন্ডল, নরেশ মন্ডল, কান্দন, গুলজার, রেজেক, রাইশা, নুরু মিয়া, জুলহাস, কামরুল, জাহাঙ্গীরের বসতবাড়িতে ভাঙন লেগেছে। সোমবার পূর্ব মেলেং গ্রামের যুবকরা বাঁশের বেষ্টনী তৈরি করে স্রোতের গতি কমিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন।
এলাকা বাসির আশা সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।

ঘুরে আসলাম কিশোরগঞ্জের শহীদি মসজিদ

0

আমি যখনই কিশোরগঞ্জ শহরে কোন কাজে আসি তখনই প্রথম মনে হয় শহীদি মসজিদের কথা। যতবার এখানে এসেছি এই মসজিদে নামাজ আদায় করার চেষ্টা করেছি। আজ আপনাদের এই ঐতিহাসিক মসজিদ সম্পর্কে অবহিত করতে চেষ্টা করছি।

শহীদী মসজিদ (আরবি: شهيدي مسجد‎‎) কিশোরগঞ্জ জেলার এক ঐতিহাসিক আধুনিক স্থাপত্য। দেশ বিখ্যাত পাগলা মসজিদের পর জেলাটিতে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় মসজিদ হলো শহীদী মসজিদ। ঐতিহাসিক মসজিদটি জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। তাছাড়া দেশের বৃহত্তম ঈদগাহ ময়দান – ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান এই মসজিদের কাছেই অবস্থিত। তিন তলা ভবন বিশিষ্ট মসজিদটির উপরে রয়েছে ৫ তলা সমান সুউচ্চ বিশাল এক মিনার। পাগলা মসজিদ এর পর সবচেয়ে বেশি মুসল্লি হয় এই মসজিদে। প্রতি সপ্তাহে জুমার দিন শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন জুমার নামাজ আদায় করতে ছুটে আসে। শোলাকিয়া ঈদগাহর‌‌‌‌‌‌‌ মত অনেক সময় মুসল্লিদের রাস্তার পাশে নামাজ পড়তে দেখা যায়।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত আধুনিক স্থাপত্যের এক ঐতিহাসিক নিদনিদর্শন ‘শহীদী মসজিদ’। এ মসজিদটি এ অঞ্চলের ইতিহাসের এক বিরল নিদর্শন। মসজিদটির নাম ‘শহীদী মসজিদ’ এ নামকরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহলের অন্ত নেই। মূল শহরের প্রাণকেন্দ্রে মসজিদটির অবস্থান। শহীদী মসজিদের ইতিহাস খুব পুরনো না হলেও এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

ঘুরে আসলাম কিশোরগঞ্জের শহীদি মসজিদ

মসজিদটিকে আধুনিকরূপে নির্মাণের ক্ষেত্রে যিনি অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি হলেন হযরত মাওলানা আতাহার আলী (রহঃ)। মাওলানা আতাহার আলী পুরান থানার এ মসজিদে আসেন ১৯৩৮ সালে। মসজিদের নির্মাণ সমাপ্তির পর তিনি ১৩৬৪ বাংলা সনের ৮ই কার্তিক মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে এক অভূতপূর্ব বিশাল সুউচ্চ পাঁচতলা মিনারের ভিত্তি স্থাপন করেন। এরপরই মসজিদটি ঐতিহাসিক মসজিদে রূপান্তরিত হয় এবং নামকরণ করা হয় ‘শহীদী মসজিদ’ নামে।

শহীদী মসজিদের প্রতিষ্ঠার পেছনে একটি রক্তস্নাত ঘটনা এতদ্‌ঞ্চলের মুসলিম সমপ্রদায়কে এখনো আলোড়িত এবং উদ্বেলিত করে তুলে। খুব একটা বেশি দিন আগের কথা নয়।

১৯৪০ সালের ঘটনা। প্রখ্যাত আলেম হযরত মাওলানা আতহার আলীর হাতে সবে মসজিদটির সংস্কার শুরু হয়েছে। প্রথানুযায়ী হিন্দু সমপ্রদায় প্রতিবছরের মতো সে বছরও এ মসজিদের সামনের সদর রাস্তা দিয়ে দূর্গাপূজা শেষে তাদের বিগ্রহ মিছিল বাজনা বাজিয়ে নিতে চায়। মুসলিম সম্প্রদায় এতে বাদ সাধে। তাদের দাবি, অন্তত এ পথে বিগ্রহ নেয়া হলেও মসজিদের সামনে এসে বাদ্য-বাজনা বাজানো চলবে না। কিন্ত উভয়ই নিজস্ব অবস্থানে অটল থাকে। কোন ছাড় দিতে নারাজ। নির্দিষ্ট সময় যতোই এগিয়ে আসতে থাকলো ততোই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বৃটিশ সরকার এলাকায় গুর্খা সৈন্য মোতায়েন করে। রাত ৮টায় চরম মুহুর্ত ঘনিয়ে আসে এবং সৈন্যদের গুলিতে লুটিয়ে পড়েন ৪ জন মসজিদের মুসল্লি এ বিয়োগান্ত ঘটনার খবর সারাদেশে মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন মুসলিম ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। ইসলামের জন্য নিহত হলে তাদের বলা হয় শহীদ।

সেই থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরানথানার এ মসজিদটি শহীদী মসজিদ নামে প্রতিষ্ঠা পায়। এই ঘটনায় যারা শহীদ হন তারা হলেন- আছির উদ্দিন, মানিক মিয়া, কালার বাপ ও নেহাল মিয়া। শহীদী মসজিদটি ক্রমশই প্রসারতা, খ্যাতি ও মর্যাদা লাভ করছে।

ঘুরে আসলাম কিশোরগঞ্জের শহীদি মসজিদ

মসজিদটি বাহির থেকে দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি এর ভিতরটা আরো মনোমুগ্ধকর। চমৎকার সাজানো গুছানো এই শহীদি মসজিদ। প্রতিটি পিলারে সাজানো আছে পাঠাকদের জন্য কুরআন হাদিসের বই। মসজিদের বাইরের অংশটি সব সময় সকরের জন্য উন্মুক্ত থাকে। অনেকে সেখানে নামাজ পরে আড্ডায় বসে পরেন। অনেকে বিশ্রাম নেয়। যদি কখনো কিশোরগঞ্জ আসতে হয় অবশ্যই এই মসজিদ আপনাকে কাছে ডাকবে। স্মরণ থাকবে আজীবন।

লেখকঃ মুস্তাক আহমেদ
শিকারিপাড়া, নবাবগঞ্জ

দোহারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি; পানিবন্দি হাজারো মানুষ

দোহার উপজেলার কয়েদিন ধরে পদ্মা নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় সাধারণ মানুষের  মধ্যে  দুর্ভোগ ও  হতাশা  প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই থেকে নতুন নতুন এলাকায়ও পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। মৌসুমে ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পানির ঢলে ইতোমধ্যে দোহার উপজেলার মাহমুদপুর, বিলাশপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি এসব এলাকার স্থানীয় মানুষ বন্যার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সে সাথে সাপেরও উপদ্রব দেখা দিচ্ছে।

তাদের দাবি দোহার একটি নদী ভাঙ্গা এলাকা পানি হলেই নদী ভাঙ্গা শুরু হয়। তাছাড়া সর্বগ্রাসী পদ্মা নদী প্রতি বছর বর্ষার সময় তাদের বসতবাড়ি, চাষের জমিসহ হাট-বাজার, মসজিদ, মন্দির, সড়ক সেতু গিলে খাচ্ছে। সে জন্য তারা এই নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচতে নদীর বাঁধ নির্মাণ চাচ্ছে সরকারের কাছে।

সরেজমিন গিয়ে দোহার উপজেলার দেখা যায় মেঘুলা কলেজ, মধুরচর, হরিচন্ডি, কুতুবপুর, রাধানগরসহ বিলাশপুর, মাহমুদপুর, নারিশা, মুকসুদপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন পার করছে। এসব এলাকার নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলোতে পদ্মার পানি ইতোমধ্যে প্রবেশ করেছে।

এসব এলাকার বেশ কিছু বাড়ি উঠানসহ অনেক ঘরেও পানি প্রবেশ করেছে। এতে পরিবার-পরিজন ও হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল নিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েছেন।

এভাবে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে, দুই-এক দিনের মধ্যে আরও অনেক নতুন নতুন এলাকা পদ্মার পানিতে প্লাবিত হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফএম ফিরোজ মাহমুদ বলেন,আমরা পানিবন্দী এলাকা গুলো ঘুরে দেখেছি। পানিবন্দি অবস্থায় যাতে অসুবিধা না হয় সে জন্য আমরা তাদের থাকার জন্য থাকার আশ্রয় কেন্দ্র ঠিক করে রেখেছি। প্লাবিত গ্রামের হতদরিদ্র মানুষদের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে মাধ্যমে ত্রাণের বিষয়ে কথা বলেছি। আতি দ্রুত তাদের মাঝে আমরা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করবো।