দোহারে এবার আগুন সন্ত্রাসীকে গণধোলাই

0

news39.net; শরিফ হাসানঃ দোহার উপজেলায় বেগুন চুরি করে বিক্রির সময় আগুন সন্ত্রাসী নামে পরিচিত ফাহাদ (২৩) কে আটক করে গণধোলাই দিয়েছে এলাকাবাসী। সে নিয়মিত দোহারের সোনার বাংলা গ্রামে আগুন দিতো। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সোনারবাংলা গ্রামে এঘটনা ঘটে। এরআগে সোনারবাংলা গ্রামের দশ বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর সম্প্রতি তিনি জেল থেকে ছাড়া পান।

আটককৃত ফাহাদ উপজেলার বটিয়া বালুর মাঠ এলাকার মইফল পরমানিকের ছেলে। এরআগে ফাহাদ সোনারবাংলা গ্রামে থাকতো।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনার বাংলা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে তিন সপ্তাহ জেল খেটে গত বুধবার জামিনে বের হয় ফাহাদ। রোববার সকাল ৬টায় স্থানীয় সাহেব আলীর বাড়ি থেকে ঝাকা ভর্তি বেগুন চুরি করে থানার মোড়ে বিক্রি করতে আনেন। পরে থানার মোড় থেকে সাহেব আলী তাকে ধরে সোনার বাংলা গ্রামে নিয়ে যায়। এসময় উত্তেজিত এলাকাবাসী তাকে গণধোলাই দিয়ে দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ফাহাদ বিভিন্ন বাড়িতে চুরি ও নানা অপকর্মের সাথে জড়িত বলে জানান এলাকাবাসী।

দোহার থানার এসআই মাসুম লাভলু জানান, আমরা হাসপাতালে গিয়ে ফাহাদকে দেখেছি। সে চুরি করেছে কিনা বিষয়টা খোঁজ নিয়ে দেখবো। এর আগে একটি মামলায় জামিনে ছিল সে।

দোহার-নবাবগঞ্জবাসীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি মেহেনাজ মান্নানের 

দোহার-নবাবগঞ্জবাসীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা মরহুম আব্দুল মান্নানের কন্যা ব্যারিস্টার মেহেনাজ মান্নান। শুক্রবার শুক্রবার ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ নির্বাচনী এলাকায় জনগণ ও দলীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে গণসংযোগের সময় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

এ সময় তার সঙ্গে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আগলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবেদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ভি পি হারুন উর রশিদ উসমানি, গালিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তপন মোল্লা, আব্দুল আওয়াল আকন্দ, রফিকুল ইসলাম রফিক, কবির হোসেন, মাসুম বাবুলসহ অন্য নেতাকর্মীরা ছিলেন।

নবাবগঞ্জে বস্তাবন্দি অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় হাত পা বাঁধা বস্তাবন্দি অবস্থায় নিশা আক্তার(১৬) নামে এক কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের নুরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় কিশোরীর নানা আব্দুল মালেক বেপারী নবাবগঞ্জ থানায় পাঁচ জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল মালেক বেপারীদের সাথে প্রতিবেশী আত্মীয় আছমা আক্তার গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। গত বুধবার(১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে আব্দুল মালেক বেপারীর নাতনী নিশা আক্তারের সাথে প্রতিবেশী আছমা আক্তারের সাথে কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে আছমা তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করে ও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে নিশা তার নানার বাসা থেকে বের হয়ে পাশের ঘরে কলম আনতে গেলে আছমাসহ আরও বেশ কয়েকজন পেছন থেকে তার মুখ চেপে ধরে আছমাদের বাড়ির রান্না ঘরের পেছনে নিয়ে হাত পা বেঁধে এলোপাথারী মারধর করে একটি বস্তার ভেতর ভরে রাখে।
এদিকে নাতনীকে না পেয়ে আব্দুল মালেক বেপারীসহ তার পরিবারের সবাই বাড়ীর চারপাশে খোঁজাখুজি করতে থাকে। পরে রাত আটটার দিকে আছমাদের বাড়ির রান্না ঘরের পেছন থেকে হাত পা বাঁধা রক্তাক্ত অবস্থায় একটি বস্তা থেকে নিশাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এ ঘটনার সাথে জড়িত উল্লেখ করে সামসুন্নাহার (৫০), সালমা আক্তার (২৫), আছমা আক্তার (২৮), সেলিম আহমেদ (৫৫) ও চায়না আক্তার (৪৫) কে আসামি করে নিশার নানা আব্দুল মালেক বেপারী নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে অভিযুক্তদের বাড়ি ঘটনাস্থল নুরনগরে গিয়ে চায়না আক্তারকে ছাড়া অন্য কাউকেই সেইসময় বাড়ীতে পাওয়া যায়নি। এসময় চায়না আক্তার জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বে আমাদের ফাঁসাতে এমন ঘটনা সাজানো হয়েছে।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম শেখ জানান, আহত অবস্থায় নিশা নামের একটি মেয়েকে উদ্ধারের খবর পেয়েছি। এই ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে, মামলা প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

হত্যা নাকি আত্মহত্যাঃ নবাবগঞ্জে কাকলীর মৃত্যুতে ধূম্রজাল

ঢাকার নবাবগঞ্জে কাকলী আক্তার (২০) আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই বিষয় নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, ঘটনাটি গত ৫ সেপ্টেম্বর (রবিবার) উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের বক্তারনগর গ্রামের। নিহত কাকলীর বাবার পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে কাকলীর স্বামী ও তার পরিবার পলাতক রয়েছেন।

কাকলীর মা ফিরোজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি ওরা আমার মেয়েকে খুন করেছে। ওর ঘাড় ভাঙা ছিল গলা ফুলা ছিলো। ওর মুখে কোন বিষাক্ত জিনিসের গন্ধ আমি পাই নাই। যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে সব সময় মারধর করতো। ওরাই আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। ওরা যদি অপরাধি না হয় তবে কেন পালিয়ে রয়েছে। আমি আমার মেয়ের খুনের বিচার চাই।

তিনি আরো জানান, দুই বছর আগে শিকারীপাড়া ইউনিয়নের বক্তারনগর গ্রামের আব্দুল রাজ্জাকের সাথে তার মেয়ে কাকলীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বণালংকার ও আসবাবপত্র সহ যৌতুক হিসেবে নগদ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও জামাই আমার মেয়ে টাকার জন্য চাপ দিতো। বাধ্য হয়ে মেয়ের সুখের জন্য কিছুদিন আগে আরো ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তবুও জামাই ও তার পরিবারের লোকজনক আমার মেয়ের উপর নির্যাতন করতো।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টায় মেয়ে আমাকে ফোনে জানায় ওকে একা রেখে স্বামী গান শুনতে গেছে। পরে রাত ১টার দিকে জামাই ফোন দিয়ে আমাকে বলে সকালে এসে আমি যেন মেয়েকে নিয়ে যাই। কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করলে সে কোন উত্তর দেয়নি। পরে ভোর ৩টা ২১ মিনিটে জামাই বাড়ির থেকে আমাকে জানায় কাকলীর অবস্থা ভাল না, হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এরপর তাদের সাথে আর যোগাযোগ করতে পারিনি। সকালে মেয়ের বাড়িতে গিয়ে দেখি ঘরের বারান্দায় মেয়ের লাশ রেখে ওরা সব পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে রবিবার দুপুরে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান।

কাকলীর দাদি লালবানু বেগম বলেন, আমার নাতিন যদি বিষ খাইতো ওরা ফোন দিয়ে কইতে পারতো। ওরা কয় নাই, উল্টে লাশ রাইখে পলায়ে গেছে। যাইয়া দেহি একটা মানুষও নাই লাশের কাছে। ওরাই মাইরা পলাইয়া গেছে। আমি বিচার চাই, যারা হত্যা করছে ওগো যেন উচিত বিচার অয়।

এলাকাবাসী জানান, বউ হিসেবে কাকলী অনেক ভাল ছিল। কাকলী অসুস্থ হওয়ার পর রাজ্জাকের বন্ধু বাবু’র অটোতে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বাবু অনেক কিছু জানে, কিন্ত কিছু বলেনি। পুলিশ ওকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেই মৃত্যুর রহস্য বের হয়ে যাবে।

নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম শেখ জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সুতারপাড়ায় হাত-পা বাঁধা পরিচ্ছন্নতা কর্মীর লাশ উদ্ধার

0

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের হলের বাজার থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নুরুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে দোহার থানা পুলিশ। নুরুল ইসলাম সুতারপাড়া হলের বাজারের পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসাবে কর্মরত ছিল। নিহত নুরুল ইসলাম পূর্ব সুতারপাড়া এলাকার চাঁন মিয়ার ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর বেলা হলের বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা মাছের আড়তের পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সে দীর্ঘদিন যাবৎ এই বাজারে পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে কাজ করতো । বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা মাছের আড়তের পাশে জিআই তার দিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা তাকে চিহ্নিত করে সে হলের বাজারের পরিচ্ছন্নকর্মী নুরুল ইসলাম।

পরে গ্রাম পুলিশ ও বাজারের ব্যবসায়ীরা দোহার থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল জানান, সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

নবাবগঞ্জে নিজ ঘরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

মোঃ ফয়সাল, স্টাফ রিপোর্টার, news39.net: ঢাকার জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নবাবগঞ্জের সমসাবাদ গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। যুবকের নাম রামকৃষ্ণ সাহা অন্তু। বয়স ২৫ বছর। সে একজন বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাবা স্থানীয় নবাবগঞ্জ বাজারের মিঠাই ব্যাবসায়ী।

প্রতিদিনের মতো নিজ কর্মস্থল থেকে ফিরে গোসল করে ঘরে এসেছিলো অন্তু। টিনের ঘরে বারান্দায় জিয়াই তার টানানো ছিলো কাপর শুকানোর জন্য। কিন্তু জিয়াই তারটি বিদ্যুতায়িত হয়ে গিয়েছিল। তারটি ইলেক্ট্রিক লাইনের সাথে সংযুক্ত হয়েছিলো। গোসল করে ভেজা গামছা শোকাতে দেওয়া মাত্র তার ছিড়ে তার হাতে পেচিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বাড়ির লোকজন দ্রুত তাকে ছাড়িয়ে ফেললোও বাচানো যায় নি অন্তুকে।
হাসপাতালে নেওয়ার সময়কালে পথিমধ্যে অন্তুর মৃত্যু ঘটে।

ডেণ্টাল ভর্তি পরীক্ষায় সারাদেশে ২য় দোহারের আরিফ রেদোয়ান

হাসান বিন আমজাদ, স্পেশাল রিপোর্টার, news39.net: সারাদেশে ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় স্থান পেয়েছেন দোহারের কৃতি সন্তান আরিফ রেদোয়ান। সে দোহারের মইতপাড়া নিবাসী সিরাজুল ইসলাম এর সন্তান। সম্পূর্ণ নাম আরিফুল ইসলাম রেদোয়ান। “ডেন্টাল মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় সে জাতীয় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন। ৫৩০০৪ জনের মধ্যে ৯৪.২৫ নম্বর পেয়ে সারা বাংলাদেশের জাতীয় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।

ছোটবেলা থেকেই রেদোয়ান মেধাবী ও পরিশ্রমী ছিল। এ পর্যন্ত সকল বোর্ড পরীক্ষায় গোল্ডেন এ+ পেয়ে এসেছে। তাছাড়াও পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি,অষ্টম শ্রেণির জে.এস.সি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং এস.এস.সি পরীক্ষায় সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছিল।

রেদোয়ান বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ ও দোহারের সনামধন্য স্কুল ড্যাফোডিলস্ হাই স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থী ছিলেন।
news39.net এর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আল্লাহ তাকে মানব সেবার জন্য কবুল করুন।

দোহারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ বন্ধ

0

দোহারে ১৩ বছরের কিশোরীকে বিয়ে করতে গিয়ে প্রশাসনের হাতে ধরা পরলেন ডা. আরিফুর রহমান(৩৮) পেশায় তিনি এমবিবিএস চিকিৎসক। এই চিকিৎসক নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে এরই মধ্যে তিনটি বিয়ে করেছেন। গতকাল শুক্রবার রাতে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে বিয়ে করতে গিয়ে ধরা পরেন আরিফুর রহমান। এই ঘটনাটি ঘটেছে দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের ঘাড়মোড়া গ্রামে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এ এফএম ফিরোজ মাহমুদ বলেন, আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে যাই। তখন বাল্যবিবাহ সংঘটনের অপরাধে পাত্রকে(৩৮) ৬ মাসের কারাদন্ড এবং নাবালিকার পিতাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড আরোপ করি। সে সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা কামালসহ আরো অনেকে।

দোহার থানার ওসি (তদন্ত) মাসুদুর রহমান জানান, শুক্রবার রাতে উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের ঘারমোড়া গ্রামে একটি বাল্যবিবাহ হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে বর আরিফুর রহমানকে আটক করে। আরিফুর রহমানকে আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানাযায় সে পেশায় একজন চিকিৎসক। ২০০৬ সালে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মিটর্ফোড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাশ করেন তিনি। শনিবার দুপুরে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয় ওই চিকিৎসকে।

সাজাপ্রাপ্ত ডা. মো. আরিফুর রহমান বরিশাল সদর উপজেলার মো. সিয়ামের ছেলে।

দোহারে ৪৯৮৬ জন পেলেন দ্বিতীয় ডোজ

দোহারে ৮ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় শনিবার  একযোগে চলেছে করোনাভাইরাসের গণটিকাদানের দ্বিতীয় ডোজ। শনিবার উপজেলা ৪ হাজার ৯৮৬ জনকে সিনোফারমার দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে উপজেলায় শুরু হয় গণটিকাদান। এ কার্যক্রম চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত।  সকালের দিকে টিকা নিতে আসাদের ভিড় কিছুটা লক্ষ্য করা যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমে যায়।

অন্য দিকে নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রও অনেকেই প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ সিনোফারমার টিকা নিতে ভিড় দেখা গিয়েছে।

শনিবার উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা পর্যায়ের টিকাকেন্দ্রে ৯ টি ও নিয়মিত ২ টি বুথের মাধ্যমে সিনোফারমার টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। এর আগে গত ৭ আগস্ট তাদের প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছিল।

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জসিমউদদীন  বলেন, ‘আজকে দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে মোট ৪ হাজার ৯৮৬ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩০৬ পুরুষ ও ২ হাজার ৬৮০ জন নারী। দোহার উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফএম ফিরোজ মাহমুদ নাঈম ও আমি দোহারের  অনেকগুলো টিকাকেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই আমরা সফলতার সঙ্গে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে সক্ষম হয়েছি।

ডা. জসিমউদদীন বলেন, ‘গত মাসে ৫ হাজার ৫৯২ জনকে সিনোফারমার প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছেলের সংখ্যা ছিল ২৬৮৪  জন এবং মেয়েদের সংখ্যা ছিল ২৯০৮ জন। সবাই দ্বিতীয় ডোজের জন্য আগেই এসএমএস পেয়েছিলেন।

আর তাছাড়া আজকে নিয়মিত টিকা কেন্দ্র থেকে সিনোফারমার প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে ১০৪৩ জন  ও দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে ৬৫৫ জন এবং এস্টজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ ভেকসিন নিয়েছে ১০ জন।

স্কুলে খুলে দেয়ায় যেন ঈদের আনন্দ

শরিফ হাসান, news39.net: ৫৪৫ দিন পর স্কুল-কলেজ খুলেছে। এ যেন শিক্ষার্থীদের ঈদ আনন্দ। দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছিলো শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস এবং প্রচন্ড ভীড়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছিলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রাণন্তকরণ প্রয়াস। মাদ্রাসাগুলো ছিলো তূলনামূলক বেশি পরিচ্ছন্ন। দোহার – নবাবগঞ্জ উপজেলায় উৎসবের আমেজে শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ব্যাতিক্রম ছিলো না দোহারের ঐতিহ্যবাহী জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও শেখ রাসেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকবৃন্দ, নবাবগঞ্জ পাইলট স্কুল, বান্দুরা হলিক্রস স্কুল। তবে, নবাবগঞ্জ কলেজে স্নাতক পরীক্ষার্থীদের ছিলো কিছুটা উস্মা প্রকাশ। বেঞ্চ ও ক্লাসরুম ছিলো কিছুটা অপরিচ্ছন্ন। শিক্ষার্থীদের সাথে সাথে শিক্ষকদের মধ্যে দেখা গেছে দারুণ উচ্ছ্বাস।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই দোহারের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে স্কুল ও কলেজে ভিতরে টুকতে দিয়েছে। শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের আগে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাইনে দাঁড়ায়, তারপর শিক্ষকেরা তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করানো হয়। দীর্ঘদিন পর স্কুলে আসতে পেরে খুব আনন্দিত হয়েছে শিক্ষার্থীরা। প্রিয় বিদয়ালয়ের শিক্ষকদের, বন্ধুদের দেখে শিক্ষার্থীরাও ছিল সবাই খুশি ।

জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক জানান। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ প্রতিটি বেঞ্চে শারিরিক দুরুত্ব বজায় রেখে ২ জন করে শিক্ষার্থী বসানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষকেরা করোনার সচেতনতামূলক সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এই বিদ্যালয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণিকক্ষে বসানো হয়েছে। মাস্ক পরা, হাত ধৌত করা, শারিরিক দুরুত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে বিদ্যালয়ে হান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হয়েছে । সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই সশরীরে ক্লাস শুরু করা হয়েছে।

শেখ রাসেল প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকা নীলা আক্তার বলেন, আজকে একটি সুদীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটেছে স্কুল খুলে দেওয়া। শত শত ছাত্র/ ছাত্রীর স্বস্তির নিঃশ্বাস। প্রানহীন শিক্ষাঙ্গনে, প্রানের ছোয়া পেয়েছে।

জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চাম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ান জাসির বলেন, অনেক দিন পর স্কুল খুলেছে বন্ধুদের সাথে খেলা করেছি। বন্ধুদের সাথে দেখা হয়েছে তাই খুব ভাল লাগতেছে।
আমাদের স্যারেরা আগে থেকেই আমাদের স্কুলের ব্যাঞ্চ গুলো পরিষ্কার করে রেখেছে। আমারা সবাই মাস্ক পরে বিদ্যালয়ে ক্লাস করেছি। আমরা চাই আমাদের স্কুল খুলা থাকবে।

জয়পাড়া কলেজের ড্রিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শিউলি আক্তার বলেন, আজ থেকে স্কুল ও কলেজ খুলে দিয়েছে। আমরা কলেজ খোলার প্রথম দিনই আমরা পরীক্ষা দিলাম। আমরা আজকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে পরীক্ষা দিয়েছি। আজকে আমাদের হল রুমে ২১ জন পরিক্ষা দিয়েছি।তবে খুব ভাল লেগেছে অনেক দিন পর কলেজে বন্ধুদের সাথে দেখা হল এক সাথে পরীক্ষাও দিলাম।

নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন বলেন, অনেক দিন পর স্কুলে এসে খুব আনন্দ লাগছে। এটা অনেকটা ঈদের মতো। প্রিয় স্কুল ক্যাম্পাস, শিক্ষক এবং বন্ধুদের পেয়ে খুব ভাল লাগছে। মানসিকভাবে আমাদের করোনার ভয় কেটে গিয়েছে। আমরা পড়ালেখায় নতুন উদ্যম ফিরে পাবো ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই স্কুল খোলা থাকুক সারা বছর।

নবাবগঞ্জ কলেজে স্নাতক পরীক্ষার্থী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জয়পাড়া কলেজের শিক্ষার্থী বলেন, পরিবেশ ভালো ছিলো। কিন্তু পরীক্ষার হলগুলো ছিলো তুলনামূলক অপরিস্কার। এই জায়গায় আরও মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন।