দোহার পৌরসভা উন্নয়ন পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

0

দোহার পৌরসভার উন্নয়ন পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে পৌরসভার সভাকক্ষে  এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব আব্দুর রহিম মিয়ার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, অনেক সমস্যার পর পৌরসভার সীমানা জটিলতার সমাধান করা হয়েছে। কিছু জায়গা কমানো হয়েছে আবার কিছু জায়গা বাড়ানো হয়েছে। ইউনিয়নের নির্বাচনের সাথে পৌর নির্বাচন শেষ করতে করার জন্য  চেষ্টা করছেন সালমান এফ রহমান। হয়তো আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। আমাদের সালমান এফ রহমান পৌরসভা নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান নিয়েছে এই প্লানটি বাস্তবায়ন হলে দোহার পৌরসভা বদলে যাবে।

পৌরসভার কাউন্সিলদের উদ্দেশ্য তিনি জানান, আমি আপনাদের সাথে সালমান এফ রহমানের একটি মিটিংয়ের ব্যবস্থা করে দিব। প্রয়োজনে তাকে আমি সরাসরি নিয়ে আসবো আর যদি সেটি না হয়। তাহলে অনলাইনের মাধ্যমে আমি মিটিংয়ের ব্যবস্থা করবো পৌর মেয়রকে নিয়ে।

পৌর প্রকৌশলী মশিউর রহমানের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি জানান, আজকে এই আলোচনা সভায় দোহার পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন দোহার পৌর প্রকৌশলী মশিউর রহমান, সচিব নাসরিন জাহান, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দ।

দোহার পৌরসভার রাস্তার বেহাল দশা

0

দোহার পৌরসভাটি প্রথম শ্রেনীর হলেও রাস্তার অবস্থা দেখলে সেটা মনে হয় না যে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। পৌরসভার মেইন রাস্তাটি ঠিক থাকলেও ভিতরের রাস্তা গুলো যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে অনেক দিন ধরে। কিন্তু রাস্তা মেরামত এর কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হচ্ছে পৌরসভার পক্ষ থেকে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোহার পৌরসভার পাশের ওয়াল ঘেসে পৌরসভার পিছন দিয়ে বাদুড়কান্দা পর্যন্ত রাস্তাটি এখনো ইটের সলিংই রয়ে গেছে। বর্ষার সময় এই রাস্তা মাঝের কিছু অংশে পানি জমে থাকে আর এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় ঐ স্থানের বাসিন্দাদের।

পৌরসভা থেকে ৫০মিটার দূরে খারাকান্দা সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজে ধীরগতির কারনে রাস্তাটির কাজ ছয় মাসেও শেষ হয়নি। এ কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী হাজারো মানুষ। এতে করে ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। ড্রেনের কারনে ভাঙা সড়কে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টির জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পৌরসভাকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয় খারাকান্দার স্থানীয় বাসিন্দা আফছানা আক্তার বলেন, আমরা অনেক দিন ধরে এই সমস্যার মধ্যে রয়েছি। দীর্ঘ দিন ধরে এই রাস্তাটি কাজ বন্ধ রয়েছে। ড্রেনের জন্য খুরে রাখা রাস্তায় আমার বাসার এক অংশ ভেঙে পরে গিয়েছে। এখন আমার ঘর যদি পুরোটাই পরে যায় তাহলে এর দায়ভার কে নিবে। আমার বাসা তখন কে ঠিক করে দিবে। সে জন্য আমি চাই আমাদের এই রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করা হক।

 অন্য দিকে এই রাস্তাটি ব্রিজ পার হলেই আবেদ আলী মেম্বার বাড়ি থেকে কুটির বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় বেহাল দশা। মাঝের কিছু অংশ ঢাকা জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থয়েনে করেন।

এবিষয়ে দোহার পৌরসভা প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, এটি জেলা পরিষদ করেছে তারা আমাদের না জানিয়ে এই রাস্তাটি করেছে। এটা বিষয় আমরা কিছু জানি না।

ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারনে অন্য দিকে দক্ষিণ জয়পাড়া গাং পাড় থেকে খারাকান্দা পশু হাসপাতাল পর্যন্ত দীর্ঘ দিন ধরে এই রাস্তাটিও পরে আছে। নেই কাজের গতিশীলতা।

জয়পাড়া রতন চত্বর থেকে প্রেসক্লাব ভবন হয়ে রাস্তাটি আর সিসি ঢালাই হয়ে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকে। আর সেই বন্ধ থাকা রাস্তায় জয়পাড়া বাজারের হোটেল ও রেস্তোরাঁ ময়লা ফেলে তৈরি করছে ময়লার ভাগাড়। এই ময়লার দূর্গন্ধে এই রাস্তায় চলাচল হয়ে পড়েছে প্রায় অসম্ভব।

এবিষয়ে ডাঃ জসীমউদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি আমার নিজ অর্থয়নে এই রাস্তাটি মেরামত করছি। এতে আমার প্রায় ৩০-৫০ হাজার টাকা খরচ যাবে। আমি এই রাস্তাটি করার কারন আমার হাসপাতালের চাপ কমানোর জন্য। এই রাস্তাটি বন্ধ থাকার কারনে জনগণ হাসপাতালে ভিতর দিয়ে যাতায়েত করতো।  জনগণ যদি এদিক দিয়ে যাতায়াতের ফলে করোনায় আক্রান্ত না হয় সে জন্য আমি এই বিকল্প রাস্তাটি নিজ উদ্যোগে মেরামত করার পরিকল্পনা করি। এই রাস্তার উপর যে ময়লা ফেলা হয় তাতে আমাদের ও রোগীর সমস্যা হয়। আর এ বিষয় নিয়ে আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালী ১৪.৬.২১ তারিখ একটি দরখাস্ত পাঠাই।  এরপর আমি এমপি মহোদয় সালমান এফ রহমানকে বিষয় টা জানাই। পরে পৌরসভাকে বললে তারা জানায়, ময়লা পরিস্কারের ব্যাপারে তারা চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ময়লা ফেলার কোন জায়গা না পাওয়া সেটি এখন সম্ভব হচ্ছে না। আমি এই রাস্তাটি পাশে থাকা আমাদের হাসপাতালে ওয়ালে লাইট এর ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি যাতে রাতেও জনগণ এই রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করতে পারে।

জয়পাড়া লটাখোলা বাজারে ভিতরের রাস্তায়ও বেহাল দশা একটু পানি হলেই বা বৃষ্টি নামলেই কাঁদা হয়ে যায় রাস্তাটি। অন্য দিকে করম আলীর মোর থেকে লটাখোলা ব্রিজ পর্যন্ত এই রাস্তাটিও বেহাল দশা।  এবিষয়ে আল আমিন হোসেনসহ ঐ স্থানের বাসিন্দারা জানায়, এই রাস্তাটি দিয়ে চার পাঁচ গ্রামের মানুষেরা যাতায়াতে করে। অল্প একটু বৃষ্টি হলেই  রাস্তাটিতে হাটু পানি জমে থাকে আর এতে করে মাঝে মাঝে ঘটে দূর্ঘটনা আর রাস্তাটি খোরা খোরা ভাঙ্গা অবস্থায় রয়েছে তাই বৃষ্টি ছাড়াও রিকশা বা অটো নিয়ে যেতে দূর্ভোগ পোহাতে হয় আমাদের।

অন্য দিকে ঘোনার সাবেক ৫নং ওয়ার্ডের রাস্তাটি গত কয়েক বছর আগে ভেঙে গেলেও তা এখনো ঠিক করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে পরে আছে পৌরসভার ভিতরে থেকেও আমরা কোন সুবিধা পাচ্ছি না। এই রাস্তাটি ভাঙার কারনে আমাদের অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরে যেতে হয়।

এবিষয়ে দোহার পৌরসভা মেয়র আলহাজ্ব আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা করনে যে রাস্তাগুলো পরে আছে সে গুলো পাইপ ড্রেন হওয়ার পর কাজ শুরু করবো আমরা। পৌরসভার পাশ দিয়ে রাস্তাটি বিষয় জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এই রাস্তাটি করতে দেরি হবে আর আমরা মূল রাস্তাই ঠিক করতে পারতেছি না বাইপাস সড়ক কিভাবে ঠিক করবো। আমি চাইলেই তো সব রাস্তা কাজ একসাথে করতে পারবো না। তবে ধীরে ধীরে সব রাস্তা মেরামত করা হবে।

একটি ব্রিজের অপেক্ষায়  

যুগের পর যুগ ধরে একটি ব্রিজের অপেক্ষায় দিন পার করছে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের বাহেরচর ও শিকারীপাড়া ইউনিয়নের  হাগ্রাদী গরীবপুর, নয়াডাঙ্গী ও চরবাগুরী গ্রামের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। ব্রিজের অভাবে এখনো নবাবগঞ্জের শিকারীপাড়া ও বারুয়াখালি ইউনিয়নের সাধারন মানুষ এখনো ব্যবহার করছে নৌকা। ফলে একদিকে যেমন দূর্ভোগে দুই ইউনিয়নবাসী অপরদিকে যাতায়াত ব্যবস্থাও উন্নত হচ্ছে না দুটি ইউনিয়নের।

শিকরীপাড়া ইউনিয়ন ও বারুয়াখালী ইউনিয়নকে পৃথক করছে ইছামতি নদী। একপাড়ে বারুয়াখালী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রাম অন্যপাড়ে হাগ্রাদী ও গরীবপুর গ্রাম।  কারো হয়তো জীবনের স্বপ্ন ছিল কোন একদিন এখানে ব্রিজ হবে এবং তারা এই ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করবেন।  কিন্তু তাদের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেছে। এই গ্রামগুলোর সাধারণ মানুষ বছরেন পর বছর নৌকায় পাড় হয়ে বারুয়াখালী হাট করতেন। এখনো তাদের কাঙ্ক্ষিত ব্রিজটি সম্পন্ন হয়নি।

নদীর ওপারে যদি একবার নৌকা চলে যায় এবারে আসার জন্য কখনো কখনো আধা ঘন্টা বা এক ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। কখন আসবে পারাপারের নৌকা। স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ জনগণ বাজার করতে নদীর এপার থেকে ওপারে যাতায়াত করে থাকেন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য। বাহেরচর গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা নদী পাড় হয়ে হাগ্রাদী গ্রামের দুইটি কিন্ডারগার্ডেন স্কুল, শিকারীপাড়ায় একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে। শিশু শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড় হতে হয়।  নদীর দু’পাড়ের ঢাল অনেক উঁচু। মানুষের নদী থেকে উপরে উঠতে অনেক কষ্ট করতে হয়। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের কষ্ট হয়  অনেক বেশি। এলাকার মানুষের অনেক আবেদনের পরও কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। কবে হবে তাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন কবে পাবে একটি ব্রিজ যেখান দিয়ে অবাধে চলাচল করবে তারা অপেক্ষা করতে হবে না নৌকার জন্য ঝুঁকি থাকবেনা শিশুদের ছোট ছোট কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের।

আলাউদ্দিন নামের একজন কাঁচামালের ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন সকালে মাথায় কাঁচামালের বোঝা নদী পাড় হয়ে হাগ্রাদী বাজারে যাই, অনেক কষ্ট হয় আমাদের।

হাগ্রাদী গ্রামের বাসিন্দা সাহেদ আলী বলেন, আমার বাপ দাদারা নদী পাড় হয়ে বারুয়াখালী হাটে যেত আমরাও এখন দাদা হয়েছি কিন্তু একটি ব্রিজ পাইনি। দুই ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থান হওয়াতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নজর পড়েনি কখনো বা গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না।

তবে বারুয়াখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নতুন উদীয়মান আওয়ামী লীগ নেতা জনাব এম এ বারী বাবুল মোল্লা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে ইছামতী নদীতে ব্রিজটি করে দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছেন। জনসাধারণ সরকারের প্রতি দাবী করে দ্রুত ব্রিজটি করে দেয়ার অনুরোধ করেন।

দোহারে চায়না জাল জব্দ

0

দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ চায়না জাল জব্দ করা হয়েছে। জয়পাড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেছে দোহার উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দুই হাজার তিনশত মিটার জাল জব্দ করা হয় এবং জাল বিক্রিতাদের সর্তক করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়পাড়া বাজারের কয়েকটি দোকানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফজলে রাব্বি।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব জাল বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীদেরকে সর্তক করা হয়েছে। পরে জব্দ করা জালগুলো দোহার উপজেলায় রাখা হয়েছে আগামীকাল এগুলো ধ্বংস লরা হবে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সে সময় উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজেলা মৎস্য কর্মকতা মোছাঃ লুৎফুন্নাহার এবং ভ্রাম্যমান আদালতের সহযোগিতা করেন দোহার থানা পুলিশ।

দোহারে সর্বনিম্ন করোনা সনাক্ত

0

দোহারে নতুন করে আরও ১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৩৭জনে।

বুধবার সকাল ৬ টা ২৩ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন,সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ) উপজেলা থেকে ১৯ টি নমুনা পাঠানো হয়। এ থেকে ১ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি উপজেলার পশ্চিম নূরপুর এলাকার বাসিন্দা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ১৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ১৩৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৩৮ জন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে।

ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে বাসায় থেকে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ১৩৮ জন। এ ছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিৎসাধীন অবস্থায় আছে।

তিনি করোনা টিকা সম্পর্কে বলেন,দোহারের নিয়মিত টিকা দান কেন্দ্র থেকে সিনোফারমার ৭৫৭ জনকে প্রথম ডোজ এবং সিনোফারমার দ্বিতীয় ডোজ ৫৬৮ জনকে দেওয়া হয়েছে। এস্ট্রোজেনিকার প্রথম ডোজ ৮৮ ও দ্বিতীয় ডোজ ২ জনকে দেওয়া হয়েছে।

জয়পাড়ায় মোবাইলের দোকানে চুরি

0

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার জয়পাড়া পূর্ব বাজারের অথৈই টেলিকমে চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার পর কোন এক সময়ে এই চুরির ঘটনা সংঘটিত হয় বলে জানিয়েছেন দোকান মালিক জামাল হোসেন।

জানা যায়, প্রতিদিনের মতোই কাল রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান দোকান মালিক জামাল হোসেন। আজ সকালে এসে সে দেখতে পান দোকানে নতুন তালা। পরে তালা ভেঙ্গে দেখতে পারেন তার দোকানে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় তার প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল ও নগদ ৫০ হাজার টাকা খোয়া গেছে।

সিসি টিভি ক্যামেরা থাকলেও ফুটেজ ঘোলা থাকার কারনে এর থেকে কোন তথ্য আদায় করতে পারেন নি দোকান মালিক জামাল হোসেন। পরে তথ্য উদঘাটনের সিসি টিভি ফুটেজ আইটি এক্সপার্টদের কাছে নিয়ে গেলে তারা সিসি টিভি ক্যামেরায় সমস্যা থাকার কারনে ভিডিও আসে নি বলে উল্লেখ করেন।

জয়পাড়া বাজার সমিতির সেক্রাটারি জুলহাস উদ্দিন জানান, আমি এখন চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আছেন। দোহারে এসে পুরো ব্যাপারটা জেনে আমি মন্তব্য করতে পারবো।

এ বিষয়ে দোহার থানার এস আই ইব্রাহিম শেখ নিউজ৩৯কে জানান, মালিক জিডি করেছে। আমরা অতি দ্রুত অপরাধী গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি।

হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় পাখি দোয়েল

0

এক সময় মাঠে-ঘাটে, গাছে গাছে জাতীয় পাখি দোয়েলের বিচরণ চোখে পড়ত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্য অনেক পাখির মতো হারিয়ে যাচ্ছে দোয়েলও। পরিবেশ দূষণ, নির্বিচারে গাছ কাটা, জমিতে কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার, পাখির বিচরণ ক্ষেত্র ও খাদ্য সংকট পাখি বিলুপ্তির কারণ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন প্রজন্মের কাছে অচেনাই রয়ে যাবে এসব পাখি।

কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললে তাঁরা বলেন, এক সময় দোয়েল, কোকিলসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির পাখি গ্রামাঞ্চলের বিলে-ঝিলে, ঝোপে-ঝাড়ে, গাছের ডালে, বাগানে কিংবা বাড়ির আঙিনায় আসত। পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙত অনেকের। কিন্তু এখন আর শোনা যায় না পাখির কিচিরমিচির।

টিয়া, ঘুঘু, কাক, মাছরাঙা, ইত্যাদি পাখি বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেলেও জাতীয় পাখি দোয়েল তেমন এখন আর মানুষের চোখে পড়ে না।

দোহার উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের আলমাছ বলেন, দোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্ম ওই পাখি দেখতে পায় না। আগে পাখির ডাক শুনে কিচিরমিচির শব্দে সকালে ঘুম ভাঙ্গত এখন সেই পাখির কিচিরমিচির ডাক শুনা দুষ্কর হয়ে পরেছে। বাড়ির উঠানে ও দেখা যেতে জাতীয় পাখি দোয়েল। এখন সেই পাখির দেখা মিলতে গেলে খুঁজে বের করতে হয়।

জয়পাড়া কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ রাসেল বলেন, ‘যেসব পাখির ডাক ও সুর মানুষকে মুগ্ধ করত, সেই পাখিই হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষ করে দোয়েল পাখির এখন আর দেখাই মিলছে না।’

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোসাঃ শামীম নাহার এর কাছে জানতে চাই তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমাদের মধ্যে না এটা বন বিভাগের দায়িত্বে।

পরে বনকর্মকর্তা আব্দুল মুমিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা বন বিভাগে কাজ করি আমরা বন নিয়ে থাকি। এ বিষয়ের প্রাণী সম্পদ বিভাগের সাথে কথা বলুন। পূনরায় তার সাথে কথা বলেলে তিনি বলেন, আমরা শুধু  ট্রিটম্যন্টের কাজ করি। তাই দোয়েল হারিয়ে যাচ্ছে সে বিষয় আমি কিছু বলতে পারতেছি না।

মহিলা আওয়ামিলীগের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বে শেখ আনার কলি পুতুল

0

বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দদের ৮টি বিভাগের দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিয় কমিটি গঠিত হওয়ার পর থেকে প্রতিটি নেতা কর্মী মাননীয় প্রধানমনন্ত্রী দেশরতা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এছাড়াও মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সংগঠনকে শক্তিশালী করবার লক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করে যাচ্ছে। তারই আলোকে আগমী ২০২৪ইং এর শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন ওয়ার্ড, থানা, উপজেলা, জেলা, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগকে নির্বাচন মূখী ও শক্তিশালি করার লক্ষে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ ও সাংগঠনিক সম্পাদকের নেতৃত্বে সম্পাদক মন্ডলী ও সদস্যদের সমন্বয়ে সাংগঠনিক ৮টি বিভাগে ৮টি টিম গঠিত করা হয়েছে। সাংগঠনিক টিমের সকলকে তাদের কর্মকান্ড সঠিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় সংগঠন থেকে এও জানানো হয় কোন টিমের কর্মকান্ডে স্থবিরতা ও ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হইলে সংগঠনের স্বার্থে সাংগঠনিক টিমের পরিবর্তন আনা হবে।

ঢাকা বিভাগের দোহারের শেখ আনার কলি পুতুল সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পেয়েছেন। আর কামরুন্নেসা মান্নান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের। কমিটির অন্য অন্যরা হলেন ডা. সেলিনা আক্তার সমাজকল্যাণ সম্পাদক বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ,তাহেরা পারভিন কোষাধ্যক্ষ বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ, আয়েশা আক্তার সদস্য বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ,রাজিয়া আমিন সদস্য বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ, অধ্যাপিকা ড: শিরিন বেগম সদস্য বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ,ইসরাত জাহান স্মৃতি সদস্য বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ, মেহজাবিন আরা সদস্য বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি আলহাজ্ব সাফিয়া খাতুন সভাপতি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগ ও মাহমুদা বেগম সাধারণ সম্পাদ বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের সাক্ষরিত প্যাডে এই নয় জনকে নিয়ে ঢাকা বিভাগের কমিটি ঘসনা করা হয়।

চায়না দোয়াইর: মৎস সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য নতুন হুমকি

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে মৎস শিকারের জন্য নতুন এক ধরণের জালের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে, যা নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের মত মিহি ও হালকা, এবং এই জাল একবারে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে মাছ ধরতে সক্ষম। জেলেদের অনেকে এই জাল ব্যবহার করে খুশী। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন যে এ জাল মাছসহ জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য কারেন্ট জালের চাইতেও ক্ষতিকর। নতুন এই জালের পরিচিতি চায়না দুয়ারী নামে।

শুরুর দিকে মূলত পদ্মা নদীর তীর ধরে এই জালের ব্যবহার হলেও এখন সারা দেশেই, বিশেষত বড় নদীর ধারে, চায়না দুয়ারী জাল ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ; মানিকগঞ্জের হরিরামপুর, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এই জাল।

চায়না দুয়ারী জাল কী?

এটিকে জাল হিসেবে বর্ণনা করা হলেও মৎস বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে চায়না দুয়ারী মূলত মাছ ধরার এক ধরণের ফাঁদ। এই জালের বুননে একটি গিঁঠ থেকে আরেকটি গিঁঠের দূরত্ব খুব কম, যে কারণে এতে মাছ একবার ঢুকলে আর বের হতে পারে না। একে চায়না জাল, ম্যাজিক জাল এবং ঢলুক জাল নামেও ডাকা হয়।

রাজশাহী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলক কুমার সাহা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে মাছ ধরার জালের ‘মেস-সাইজ’ অর্থাৎ জালে একেকটি গিঁঠের দূরত্বের অনুমোদিত পরিমাপ উল্লেখ আছে এবং এই মাপটি সাড়ে চার সেন্টিমিটার। জালের ‘মেস-সাইজ’ এর চেয়ে কম হলে, সেটি দেশের আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ। “এই কারণে বাংলাদেশে কারেন্ট জাল নিষিদ্ধ, ঠিক একই কারণে চায়না দুয়ারীও নিষিদ্ধ,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন এই মৎস কর্মকর্তা।

তবে এক্ষেত্রে একটি ফাঁক থেকে যাচ্ছে। মি. সাহা নিশ্চিত করেছেন যে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জালের তালিকায় চায়না দুয়ারীর উল্লেখ নাই, যদিও আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি নিষিদ্ধ। “সেই সুযোগটিই অনেক জেলে নিচ্ছেন।”

নাম চায়না দুয়ারী বলা হলেও এই জাল উৎপাদিত হয় বাংলাদেশেই। তবে জালের সুতা সূক্ষ্ম আর মিহি বলে অনেকের ধারণা এ সুতা চীন থেকে আমদানি করা হয়। জালের দুই মাথা খোলা বলে একে দুয়ারী বলা হয়।

কেমন দেখতে চায়না দুয়ারী জাল?

মান এবং দৈর্ঘ্য ভেদে চায়না দুয়ারীর আকার নির্ধারিত হয়। সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে এই জাল। প্রস্থ হবে এক থেকে দেড় ফুট, আর এর গিঁঠ হবে খুবই ক্ষুদ্র। লোহার চারকোনা রড দিয়ে অনেকগুলো ফ্রেম বানানো হয় জালের মধ্যে দেয়ার জন্য, এবং প্রয়োজন অনুসারে জালের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী রডের ফ্রেমের সংখ্যা নির্ধারিত হয়। এটি নদীর একেবারে তলদেশ পর্যন্ত যায় এবং তলদেশের মাটির সাথে মিশে থাকে। ফলে কোন মাছ একবার জালে ঢুকলে আর বের হতে পারে না। আর এই জাল এত সূক্ষ্ম যে ছোট ছোট জাতের মাছ, এমনকি মাছের ডিমও অনেক সময় উঠে আসে। দৈর্ঘ্য এবং মান অনুযায়ী একটি চায়না দুয়ারীর দাম সাড়ে তিন হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে জেলে ও মৎস বিভাগের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে।

কারেন্ট জালের সাথে পার্থক্য কী?

রাজশাহী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মি. সাহা বলেছেন, চায়না দুয়ারীর জালের কারণে নদীতে মাছের বিচরণ কঠিন হয়ে গেছে। আর সেক্ষেত্রে কারেন্ট জালের চাইতেও বিপজ্জনক চায়না দুয়ারী। দুইটি জালের মধ্যে সাদৃশ্য যেমন আছে, তেমনই কিছু পার্থক্যও আছে। যেমন, কারেন্ট জাল নদীর মাঝখানে আড়াআড়ি পাতা হয়। কিন্তু চায়না দুয়ারী নদীর কম গভীর অংশে পাতা হয়। দুইটি জালই হালকা ও মিহি বুননের হলেও চায়না দুয়ারী ছোট ফাঁসবিশিষ্ট, যা কপাটের মত কাজ করে। এতে মাছসহ যেকোন জলজ প্রাণী একবার ঢুকে পড়লে জালের মুখ বন্ধ হয়ে যায়।

কেন জেলেদের মধ্যে জনপ্রিয়?

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার একজন জেলের সঙ্গে চায়না দুয়ারী জাল সম্পর্কে কথা হয় বিবিসি বাংলার। তিনি জানালেন যে জেলেদের মধ্যেই চায়না দুয়ারী জাল বেশ জনপ্রিয় এবং কারেন্ট জালকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর এই জালের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন ওই এলাকার অনেক জেলে।

“এক রাতে এই জালে যে পরিমাণ মাছ উঠে তা অন্য কোন জালে উঠে না, সেই তুলনায় পরিশ্রম তেমন করতে হয় না,” চায়না দুয়ারী ব্যবহারের কারণ সম্পর্কে বলছিলেন এই জেলে। “সেই তুলনায় পরিশ্রম তেমন করতে হয় না। আর নদীর গভীরেও বেশি যেতে হয় না। এর চেয়ে সুবিধা আর কিছুতে নাই।” কিন্তু বাজারে প্রচলিত অনেক জালের তুলনায় এই জালের দাম বেশি, তাই এখনও অনেক জেলেই আবার চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করছেন না। তবে গোয়ালন্দের এই জেলে জানাচ্ছেন যে নিষিদ্ধ জেনেও সেখানকার জেলে সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই এই জাল কিনতে চায়।

তিনি অবশ্য দাবি করেন, এ জালে ধরা পড়া অনেক মাছই তারা বিক্রি করার আগেই নদীতে ছেড়ে দেন। তবে তিনি এও স্বীকার করেন যে ছেড়ে দেয়া ওইসব মাছ সব সময় বাঁচে না।

কেন বিপজ্জনক এই জাল?

যেহেতু এই জালে একবার ধরা পড়লে আর বের হতে পারে না, তাই অনেক বিপন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী মারা পড়ে। সেগুলো আর ওইসব প্রাণীর বংশ বৃদ্ধিতে কোন ভূমিকা রাখতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই কারণে জলজ জীববৈচিত্র্য নষ্ট হবার আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎসবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বিজয়া পাল বলেন, যে প্রক্রিয়ায় চায়না দুয়ারী দিয়ে মাছ ধরা হয়, তার কারণে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দুই ধরণের ক্ষতিই হয়। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, নদীতে চায়না দুয়ারী জাল একবার পাতা হলে তাতে মাছ, মাছের বাচ্চা বা পোনা, এবং এমনকি মাছের ডিমও উঠে আসে। আবার যত মাছ ধরা পড়ে তার সবই ‘টার্গেটেড’ মাছ নয়। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “বাজারে চাহিদা নেই, এমন অনেক মাছ ধরা পড়ে। সেগুলো জেলেরা ফেলে দেয়, কিন্তু সেগুলো বেশিরভাগ সময় আর বাঁচে না। “এর মানে হচ্ছে, এই মাছগুলো আর বংশবৃদ্ধি করতে পারলো না। এর মধ্যে হয়তো অনেক মাছ আছে, যা বিপন্ন প্রজাতির।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে ১০০’র বেশি দেশি প্রজাতির মাছ বাজার থেকে ‘প্রায় নেই’ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, উন্মুক্ত জলাশয়ে জন্মানো প্রতিটি মাছকে একবার ডিম ছাড়া ও বাচ্চা ফুটানোর সুযোগ দিতে হবে। তার আগে মাছের পোনা ধরা আইনত দণ্ডনীয় একটি অপরাধ।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা অলক সাহা জানান যে বিভিন্ন সময় জেলেদের এই জাল ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা হয়, তবে তা সত্ত্বেও অনেকেই নিয়ম মানতে চায় না। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে মাঝেমধ্যে কারেন্ট জালের সাথে চায়না দুয়ারী জাল আটক করে ধ্বংস করা হলেও এর ব্যবহার দিনে দিনে বেড়েই চলছে।

দোহারে চাঁদাবাজী করতে গিয়ে সাংবাদিক আটক

0

দোহার উপজেলায় মুকসুদপুর ইউনিয়নে গোড়াবন এলাকায় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে উপজেলার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সভাপতি মুশফিকুর রহমান লিমনের কাছে হাতেনাতে ধরা খেলেন এক ব্যক্তি। তিনি হলেন মোঃ হাবিবুর রহমান (২৬)। সে নারিশা ইউনিয়নের পশ্চিমচর গ্রামের আবুল কালামের সন্তান।

হাবিবুর রহমানের আইডিকার্ডে গোয়েন্দা বার্তা গণমাধ্যমের স্টাফ রিপোর্ট হিসাবে কাজ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া হাবিবুর রহমান বলেন তার সাথে আরো দুই জন ছিল। উম্মে হাবিবা সুমি ও জাকারিয়া সুলতানা কেয়া। তারা কোন পত্রিকার সাংবাদিক বা কাজ করে এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেনা বলেন।

জানা যায়, আলিফ এন্টারপ্রাইজের শেখ সজীব আহমেদ বলেন, হাবিবুর রহমান সহ তার সঙ্গীরা তাদের নম্বর থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে আমাকে বিভিন্ন সময় ফোন দিয়ে টাকা চায়। তারা মাঝে মাঝে এসে বলে আমি নাকি অবৈধ ভাবে ব্যবসা করছি, এ ব্যবসার কাজে ঝামেলা আছে। ঝামেলা মেটাতে সাংবাদিকদেরকে টাকা দিতে হবে। তাদের কথায় অসঙ্গতি দেখে আমি দোহার উপজেলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সভাপতি মুশফিকুর রহমান লিমন ভাইকে ফোন দেই। রোববার দুপুর ১২টার দিকে নারিশা ইউনিয়নের গোড়াবন এলাকা থেকে তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন মুশফিকুর রহমান লিমন।

এ বিষয়ে ঐস্থানের আরেক জন ব্যবসায়ী বলেন, ‘রোববার দুপুরে হাবিবুর রহমান আমার কাছে থেকে ৫০০ টাকা নিতে এলে আমি বিষয় টা সজিবকে জানাই। সজীব লিমন ভাইকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। তিনি আর আগেও আমাদের কাছে থেকে এসে টাকা নিয়েছে গাড়ি ভারা নাই বলে। তিনি নিজেকে পরিচয় দিতেন সে ঢাকা থেকে মাসে এক দুই বার আছে দূর্নীতি তদন্ত করতে। তার সাথে এসিল্যান্ডের সাথে সু সম্পর্ক তিনি লকডাউনের সময় এসিল্যান্ডের সাথে থাকতো ইত্যাদি কথা বলে আমাদের ভায় দেখাতেন।

এবিষয়ে দোহার থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, ফুলতলা ফার্ড়ি থেকে এএসআই এনামুল হাবিবুর রহমানকে আটক করে দোহার থানা নিয়ে আসে। পরে আটকৃত মো.হাবিবুর রহমানকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুসলেকায় ৩৮৫/৩৮৬ ধারা উল্লেখ করা হয়।