বৃষ্টিতে ধসে পড়ছে নবনির্মিত সড়ক, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

মাহমুদুল হাসান সুমন : ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় দোহার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ জয়পাড়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় হাই মিয়া মসজিদ থেকে নাসিরের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি সম্প্রতি বি.এফ.এস (বিটুমিনাস ফ্লেক্সিবল সারফেস) পদ্ধতিতে নির্মাণ করা হয়। গত ৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সড়কটির শুভ উদ্বোধন করেন দোহার পৌরসভার প্রশাসক জনাব মোঃ মাঈদুল ইসলাম।

প্রায় ৯ লাখ ১০ হাজার ৩৭৮ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সড়কটি উদ্বোধনের কিছুদিনের মধ্যেই বৃষ্টির কারণে দুটি স্থানে দেবে গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এতে করে সড়কটি দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ কাজ বা যথাযথ তদারকির অভাবের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত সড়কটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানান, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

এদিকে দোহার পৌরসভার পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

নিখোঁজের পর সন্ধান মিলল স্কুলছাত্রী মালিহার

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওলিয়াবাদ এলাকায় নিখোঁজ হওয়া স্কুলছাত্রী মালিহাকে অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। আউলিয়াবাদ প্রাইমারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুর রহমান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, পারিবারিক সমস্যার কারণে মালিহা কার্তিকপুর প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি থাকলেও সে আউলিয়াবাদ প্রাইমারি বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস করত। তার দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তার দাদী।

রবিবার দুপুরে মালিহা স্কুলে না এসে একটি ব্যাগে কয়েকটি জামাকাপড় নিয়ে অটোরিকশায় করে কার্তিকপুর প্রাইমারি স্কুলে চলে যায়, যেখানে সে তার বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল।

এদিকে, তার নিখোঁজের সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। পরে মালিহা নিজেও বুঝতে পারে যে বাড়ি থেকে এভাবে চলে আসা তার ভুল হয়েছে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা কার্তিকপুরে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

প্রধান শিক্ষক তৌহিদুর রহমান খান জানান, তিনি বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে পাঠিয়ে মালিহার নিরাপদে বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্ডিয়ান কোবরা (গোখরা) সাপের বিস্তার: ডব্লিউএসআরটিবিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় Indian Cobra (গোখরা/খৈয়া সাপ)-এর বিস্তৃত উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে একটি সাম্প্রতিক মানচিত্রে। এতে দেখা যায়, দেশের অধিকাংশ জেলাতেই এই বিষধর সাপের উপস্থিতির রেকর্ড রয়েছে।

মানচিত্রটি প্রকাশ করেছে Wildlife & Snake Rescue Team in Bangladesh (WSRTBD)। সর্বশেষ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ জেলায় গোখরা সাপের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।

বিশেষ করে গ্রামীণ পরিবেশ, কৃষিজমি এবং মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে এই সাপ বেশি দেখা যায় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ইঁদুরসহ ছোট প্রাণীর প্রাচুর্য থাকায় এসব এলাকায় গোখরা সহজে বসবাস করে।

অন্যদিকে, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জেলায় এখনো তুলনামূলকভাবে কম রেকর্ড পাওয়া গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সাপের অনুপস্থিতি নয়; বরং তথ্য সংগ্রহের সীমাবদ্ধতার কারণেও এমনটা হতে পারে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোখরা সাপ অত্যন্ত বিষধর হওয়ায় সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকা জরুরি। সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দলের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসস্থল ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যের প্রাপ্যতা সাপের বিস্তৃতিতে প্রভাব ফেলছে। ফলে মানুষের সঙ্গে সাপের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।

এদিকে বর্তমানে দেশে বজ্রপাত, ভারী বৃষ্টি ও সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃষ্টির পানি বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতার কারণে সাপ তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে উঁচু ও শুষ্ক স্থানে—যেমন বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আশ্রয়কেন্দ্রে—ঢুকে পড়তে পারে। এতে মানুষের সঙ্গে সাপের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ করা কৃষকদের যেমন সতর্ক থাকতে হয়, তেমনি বন্যা পরিস্থিতিতে ঘরের ভেতরেও সাপ ঢোকার ঝুঁকি থাকে। তাই রাতে চলাচলের সময় আলো ব্যবহার, পানি জমে থাকা স্থান এড়িয়ে চলা এবং ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

#WSRTBD

দোহার-নবাবগঞ্জ ছাত্রকল্যাণ পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর নতুন কমিটি ঘোষণা।

ডেস্ক রিপোর্টঃ শনিবার  দোহার-নবাবগঞ্জ ছাত্রকল্যাণ পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর আগামী ১ বছরের জন্য নতুন কমিটি ঘোষনা করা হয়। উক্ত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয় শক্তি বিশ্বাস তৃষা। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয় অভি ঘোষ।

দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে গড়ে উঠা ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘দোহার-নবাবগঞ্জ ছাত্রকল্যাণ পরিষদ’।সংগঠনটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক একটি সামাজিক সংগঠন। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি প্ল্যাটফর্ম। সংগঠনটির নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ভর্তি পরীক্ষায় সহায়তামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, বিভিন্ন সামাজিক সহযোগিতা, ইফতার মাহফিল, শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রাম, আনন্দ ভ্রমণ ইত্যাদি। এই সংগঠনের মাধ্যমে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয়, তেমনি সামাজিক সচেতনতামূলক কাজে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং একটি আলোকিত সমাজ গঠনে ‘দোহার-নবাবগঞ্জ ছাত্রকল্যাণ পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ এক অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

উক্ত কমিটির সহ-সভাপতি: সপ্লব খান, সুমাইয়া মেহরিন, ইসরাত জাহান ইসা, রুনা ইসলাম, নাজলীন ইসলাম আশা, নিপা বিনতে ইউনুস, তাসমিয়া তাহসিন, আফ্রিন সুলতানা,জেরিন নেহা, তামিম ইকবাল, আমেনা আক্তার।

যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক: অন্তর বেপারী, সিমিন কবির, সুমাইয়া আক্তার, সানজিদা মিম, মাহাফুজ হিমেল, মাহামুদা মিম।

সাংগঠনিক সম্পাদক:  সিয়াম হোসেন,  ইসরাত জেরিম, সামিয়া আক্তার, ইশপিতা আহমেদ। কোষাধ্যক্ষ: জিহাদ হোসেন। প্রচার সম্পাদক: রাবিয়া আক্তার, উপ-প্রচার সম্পাদক: স্বীকৃতি মন্ডল। দপ্তর সম্পাদক: শাকিলা আক্তার। পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক: মীর রামিম হোসেন, উপ-পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক: মারুফ হাসান। আইন বিষয়ক সম্পাদক: রাফিদ আহমেদ। সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক: মহিমা আক্তার। আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক: নুসরাত জাহান ঐশী। ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক: রাফাজ হাসান রাইয়ান। তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক: প্রান্ত সূত্রধর। আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক: আয়েশা সিদ্দিকা তামিম। ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক: অবনী রহমান। সদস্য: সানজিদা আক্তার, সায়েদা আক্তার মিনহা, তাইবা আক্তার তৃনা, এশা আক্তার, নেশমা তিন্নি।

আড়িয়াল বিল এলাকায় কৃষকদের সতর্কবার্তা: চলতি বছরে বজ্রপাতে ৭২ জনের মৃত্যু, বাঁচার উপায় জানালো এসএসটিএফ

ডেস্ক রিপোর্টঃ দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে কৃষকদের সুরক্ষায় তিনটি নির্দেশনা পালনের পরামর্শ দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএফ)।

নির্দেশনাগুলো হলো খোলা আকাশের নিচে কাজ করার সময় আকাশে কালো মেঘ দেখলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, বৃষ্টির সময় কোনো অবস্থাতেই গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং মাঠে কাজের সময় পায়ে জুতা ব্যবহার করা।

শনিবার (২ মে) এসএসটিএফ-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংগঠনটির তথ্যমতে, দেশে বজ্রপাতে মারা যাওয়াদের মধ্যে বেশিরভাগই কৃষক। সর্বশেষ গত ২৬ এপ্রিল বজ্রপাতে ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই মাঠে কর্মরত কৃষক।

মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার মুন্সিগঞ্জের আড়িয়াল বিল এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে শতাধিক কৃষকের মাঝে বজ্রপাত বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে এসএসটিএফ। এ সময় কৃষকদের নিরাপদ থাকার বিভিন্ন কৌশলও শেখানো হয়।

এসএসটিএফ-এর একাধিক প্রতিনিধি দল মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান ও ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে এসব পরামর্শ প্রদান করে। এ সময় কৃষকদের মাঝে কোমল পানীয়, শরবত ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়।

সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা, গবেষণা সেলের প্রধান আব্দুল আলীম এবং যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ জরুরি। পাশাপাশি মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত নিয়মিত বজ্রপাত বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানান তিনি।

আড়িয়াল বিল এলাকায় কৃষকদের সতর্কতা ও সচেতনতা সভা, বজ্রপাতে মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর উপায় আলোচনা।.

যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং গ্রামাঞ্চলে নির্বিচারে বড় গাছ কেটে ফেলার কারণে বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়ছে। গাছের নিচে আশ্রয় না নিয়ে পাকা স্থাপনায় আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

দোহারের কৃতি সন্তান ইউএনও মারলিজের মানবিকতায় নতুন জীবন পেল পিতৃপরিচয়হীন সেই শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ৩৯: জন্মের মুহূর্ত থেকেই ছিল চরম অনিশ্চয়তা। না ছিল মায়ের স্থায়ী ঠিকানা, না ছিল নিরাপদ আশ্রয়—এমনকি ছিল না কোনো পিতৃ-পরিচয়। মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভবঘুরে নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সেই নবজাতক যখন অন্ধকারের মুখোমুখি, ঠিক তখনই মানবিকতার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ালেন দোহারের কৃতি সন্তান ও কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ।

পদ্মা সরকারি কলেজের সাবেক এই শিক্ষার্থীর এমন মানবিক উদ্যোগ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছে।

এই ব্যাপারে পদ্মা সরকারি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক আব্দুল জলিল বলেন, দোহারের মাটি ও মানুষের সন্তান শামীমা আফরোজ মারলিজ তাঁর কর্মস্থলে যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আমাদের পুরো ঢাকা জেলার জন্য গর্বের। পদ্মা সরকারি কলেজের প্রাক্তন এই শিক্ষার্থীর পেশাদারিত্ব ও মানবিক বোধ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাংগাইলে কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের রাস্তার পাশে দীর্ঘ দিন ধরে দিনযাপন করছিলেন এক অসহায় ভবঘুরে নারী। সেখানেই তিনি এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দেয় চরম অনিশ্চয়তা। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান ইউএনও শামীমা আফরোজ মারলিজ। তিনি সরেজমিনে নবজাতকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। শিশুটির অসহায়ত্বের কথা শুনে বেশ কয়েকজন নিঃসন্তান দম্পতি তাকে লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে একটি উপযুক্ত দম্পতিকে শিশুটির অভিভাবক হিসেবে মনোনীত করা হয়।

আইনি প্রক্রিয়া ও অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে নবজাতকটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরকালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ইউএনও শামীমা আফরোজ নিজে পরম মমতায় শিশুটিকে কোলে তুলে দেন নতুন মা-বাবার হাতে। উপস্থিত জনতা দোহারের এই কৃতি সন্তানের এমন সংবেদনশীল আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অল্পের জন্য রক্ষা: ঢাকাগামী নগর পরিবহন বাস খাদে, বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেল

নিজস্ব সংবাদদাতা: শনিবার (২ মে) ঢাকাগামী একটি ‘নগর পরিবহন’ বাস জাহানারাবাদ ও বরিবরখোলার মাঝামাঝি স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার নিচে পড়ে যায়। এতে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশ দিয়ে নিচে নেমে যায়। দুর্ঘটনাটি ভয়াবহ হতে পারত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
তবে সৌভাগ্যক্রমে বাসের যাত্রী ও আশপাশের পথচারীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করেন।
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা। আল্লাহর অশেষ রহমতে বড় একটি বিপদ থেকে রক্ষা পেলেন সবাই।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দোহারের সায়েম বিজয়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক, দোহার: এশিয়ার বৃহত্তম বার ‘ঢাকা আইনজীবী সমিতির  ২০২৬-২০২৭ সেশনের কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে বিপুল ভোটে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন দোহারের কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম সায়েম।

গত ২৯ ও ৩০শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তিনি বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। উল্লেখ্য, ঢাকা আইনজীবী সমিতির দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম দোহার এলাকার কোনো প্রতিনিধি নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। তিনি বর্তমানে সরকারের সহকারী জিপি (এজিপি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে সায়েম তার প্যানেল থেকে সদস্য পদে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জয়ী হন। তার এই বিজয়ে দোহারের সাধারণ জনগণ এবং আইনি অঙ্গনে খুশির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে।

হজ হোক ইবাদতে পূর্ণ: আদব ও করণীয় নিয়ে আলেমদের পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক: হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। এটি কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একজন মুসলমানের আত্মিক উন্নয়ন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। তাই হজের সফরকে সফল ও কবুলযোগ্য করতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদব ও করণীয় মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন আলেমরা।

তাঁরা বলেন, হজের প্রতিটি আমলের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা (ইখলাস) ও স্মরণ। মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফাসহ প্রতিটি স্থানে ইবাদতের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। এজন্য প্রতিটি কাজ শুরুর আগে নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা এবং মনোযোগ ধরে রাখা প্রয়োজন।

আলেমদের মতে, হজ কবুল হওয়ার জন্য নবী করিম (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী প্রতিটি আমল সম্পন্ন করা অপরিহার্য। ইহরাম বাঁধা থেকে শুরু করে তাওয়াফ, সাঈ ও পাথর নিক্ষেপ—সব ক্ষেত্রেই সুন্নাহর যথাযথ অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি সফরের ক্লান্তি বা ভিড়ের কারণে নামাজে অবহেলা করা যাবে না। যথাসময়ে নামাজ আদায় করা হজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হজের সফরে ধৈর্য ধারণ ও সহনশীলতা প্রদর্শন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ভিড়, গরম ও নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও হাসিমুখে সবর করা একজন হাজির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণ। এ ছাড়া গুনাহ, ঝগড়া-বিবাদ, গিবত ও পরনিন্দা থেকে বিরত থাকার জন্যও তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সহযাত্রীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং সম্মান প্রদর্শন হজের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। খরচের ক্ষেত্রে উদারতা দেখানো হলেও অপচয় বা কৃপণতা পরিহার করতে হবে।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পবিত্র কাবার সামনে দাঁড়িয়ে ইবাদতের পরিবর্তে সেলফি তোলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকা হজের আধ্যাত্মিকতা নষ্ট করে দেয় বলে মত দিয়েছেন আলেমরা।

এ ছাড়া পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, টয়লেট ব্যবহারে সচেতনতা, মতভেদে জড়ানো থেকে বিরত থাকা এবং অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়িয়ে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, হজ জীবনে একবারই আসে। তাই এই মূল্যবান সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই হওয়া উচিত প্রতিটি হাজির প্রধান লক্ষ্য।

মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দোহারের সন্তান  দেলোয়ার হোসাইনের অনন্য সাফল্য

ডেস্ক রিপোর্টঃ সৌদি আরবের সুপ্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব মদিনা’র ৬২তম সমাবর্তনে কৃতিত্বের সাথে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন সা’দী। গত ২৭ এপ্রিল (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে এই ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই মহিমান্বিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের সাথে সা’দী তার সনদ গ্রহণ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আকিদা ও দাওয়াহ’ বিভাগ থেকে অত্যন্ত সফলতার সাথে তার স্নাতক (অনার্স) সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ সাধনা ও কঠোর পরিশ্রমের এই স্বীকৃতিকে তার জ্ঞানচর্চার পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কৃতী এই শিক্ষার্থী ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মেঘুলা এলাকার মধুর চর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তার পিতার নাম আব্দুল আজিজ এবং মাতার নাম আলেয়া বেগম। সন্তানের এই বিশ্বজয়ী সাফল্যে তারা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছেন। উল্লেখ্য, দেলোয়ার হোসাইন সা’দী দোহার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নুর-এ-আলম ঝিলুর ছোট জামাতা।

সা’দীর এই সাফল্যে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। সমাবর্তন শেষে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি তার এই অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

“আল্লাহ তাআলা যেন আমার অর্জিত এই জ্ঞানকে দ্বীন ও মানবতার কল্যাণে বিলিয়ে দেওয়ার তাওফিক দান করেন।” — মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন সা’দী

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর ভিড়ে একজন বাংলাদেশি হিসেবে মদিনার পুণ্যভূমি থেকে এই একাডেমিক স্বীকৃতি অর্জন দেশের জন্যও গৌরবের। তিনি আগামী দিনে ইসলামের সঠিক দাওয়াহ প্রচার ও সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে উৎসর্গ করতে সকলের দোয়া কামনা করেছেন।