নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ৩৯: জন্মের মুহূর্ত থেকেই ছিল চরম অনিশ্চয়তা। না ছিল মায়ের স্থায়ী ঠিকানা, না ছিল নিরাপদ আশ্রয়—এমনকি ছিল না কোনো পিতৃ-পরিচয়। মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভবঘুরে নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সেই নবজাতক যখন অন্ধকারের মুখোমুখি, ঠিক তখনই মানবিকতার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ালেন দোহারের কৃতি সন্তান ও কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ।
পদ্মা সরকারি কলেজের সাবেক এই শিক্ষার্থীর এমন মানবিক উদ্যোগ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছে।
এই ব্যাপারে পদ্মা সরকারি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক আব্দুল জলিল বলেন, দোহারের মাটি ও মানুষের সন্তান শামীমা আফরোজ মারলিজ তাঁর কর্মস্থলে যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আমাদের পুরো ঢাকা জেলার জন্য গর্বের। পদ্মা সরকারি কলেজের প্রাক্তন এই শিক্ষার্থীর পেশাদারিত্ব ও মানবিক বোধ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাংগাইলে কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের রাস্তার পাশে দীর্ঘ দিন ধরে দিনযাপন করছিলেন এক অসহায় ভবঘুরে নারী। সেখানেই তিনি এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দেয় চরম অনিশ্চয়তা। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান ইউএনও শামীমা আফরোজ মারলিজ। তিনি সরেজমিনে নবজাতকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। শিশুটির অসহায়ত্বের কথা শুনে বেশ কয়েকজন নিঃসন্তান দম্পতি তাকে লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে একটি উপযুক্ত দম্পতিকে শিশুটির অভিভাবক হিসেবে মনোনীত করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া ও অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে নবজাতকটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরকালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ইউএনও শামীমা আফরোজ নিজে পরম মমতায় শিশুটিকে কোলে তুলে দেন নতুন মা-বাবার হাতে। উপস্থিত জনতা দোহারের এই কৃতি সন্তানের এমন সংবেদনশীল আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
