মেম্বার পদে বিজয়ী দাদার জন্য ফুল আনতে গিয়ে নাতির মৃত্যু

আব্দুর রাহিম, স্পেশাল করোসপন্ডেণ্ট, news39.net: সোমবার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন নির্বাচনে দাদা মেম্বার পদে বিজয় লাভ করায়, দাদার জন্য ফুল আনতে গিয়ে রোড এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে নাতি।

নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান লেবন বিজয় লাভ করে। এই খবর শুনে, আনন্দে উল্লোসিত হয়ে তার নাতি মোহাম্মদ নাঈম (২৩) রোড এক্সিডেন্টে মৃত্যু বরণ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা news39.net কে জানান, বিকেলে দাদার বিজয়ী হওয়ার সংবাদ শুনে, নাতি নাঈম দিঘীরপাড় খালপাড় ক্লাবের সামনে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বৈদ্যুতিক খাম্বায় সজোরে আঘাত করে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে হাসপাতালে নিলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এতে এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আমাদের একটাই পরিচয় আমরা শেখ হাসিনার কর্মি – নির্মল রঞ্জন গুহ

শরিফ হাসান ও মো আল-আমিন, স্টাফ রিপোর্টার, news39.net: আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচন উপলক্ষে
দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী তৈয়বুর রহমান তরুণের নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় নয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এই উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন। এসময় বক্তারা নয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তৈয়বুর রহমান তরুণকে নৌকায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহবান জানান।

ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ বলেন, আমরাদের এমপি সালমান এফ রহমান সবসময় দোহার ও নবাবগঞ্জের নির্বাচন মনিটরিং করছেন। তিনি চান নির্বাচনে নৌকাকে জয়ী করে শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে। নৌকাকে পাশ করারনোর জন্যই সালমান এফ রহমান যোগ্য প্রার্থীর হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন। নয়াবাড়ি ইউনিয়নে পদ্মার যে ভাংগন হতো তা তিনি বাঁধ দিয়ে রক্ষা করেছেন। তাই আপনারা আগামী ইউপি নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, আমার নিজের ভাইও নির্বাচনে প্রার্থী ছিলো। কিন্তু সে নৌকা পায়নি। কিন্তু আমাদের সকলেরই মার্কা নৌকা। আমি যখন আমার ভাইয়ের জন্য নির্বাচনী উঠান বৈঠক করেছি, তখনও বলেছি নৌকা যার স্বেচ্ছাসেবকলীগ তার। আর আমাদের একটাই পরিচয় আমরা শেখ হাসিনার কর্মি। আমি নেতা না, আমি শেখ হাসিনার একজন কর্মী। আর আজ আমি সালমান এফ রহমানের কল্যাণেই স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হয়েছি। আজকে আমরা নয়াবাড়িতে আওয়ামীলীগের সকল সংগঠন একত্রিত হয়েছি। আমরা সবাই নৌকার হয়ে কাজ করবো। আর আগামী ইউপি নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তা প্রমাণ করবো।

দোহার উপজেলার চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, নৌকার প্রার্থী তৈবুর রহমান তরুণ আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে অনেক কষ্ট করেছে। আওয়ামীলীগের বিপদে যারা নৌকার পক্ষে কাজ করছেন সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের এমপি আচারণবিধির জন্য আসতে পারেননি। তবে, সবসময় তিনি খোঁজ খবর রাখছেন। আজ সালমান এফ রহমানের কল্যাণেই দোহারকে তিনি নদীভাঙ্গা থেকে রক্ষা করেছে। তিনি দোহার এবং নবাবগঞ্জ উপজেলাকে আদর্শ মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলার জন্য নিত্য-নতুন পরিকল্পনা করছেন। নয়াবাড়ি ইউনিয়নবাসী বিগত আন্দোলন – সংগ্রামে যে পরীক্ষা দিয়েছে, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সবাইকে বলছি কেউ আইন হাতে তুলে নিবেন না। সবাই আগামী ৩১ জানুয়ারি ইউপি নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে সালমান এফ রহমানের হাতকে শক্তিশালী করবেন। আপনারা যদি নৌকার প্রার্থীকে বিজয় করেন, তাহলে তিনি নয়াবাড়ি ইউনিয়নকে আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবেন।

এসময় নয়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মো. বিল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক গীতিকার হাসান মতিউর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সদস্য জয়নাল আবেদীন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাখাওয়াত হোসেন নান্নু, নয়াবাড়ি ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তৈয়বুর রহমান তরুণ-সহ আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নয়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদ মিয়া।

দোহারে আচরণবিধি মানছে না প্রার্থীরা

আগামী ৩১ জানুয়ারি ৬ষ্ঠ ধাপে দোহার উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় এসব ইউনিয়নে জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা।

এলাকা জুড়ে আওয়মী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও দলটির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে নির্বাচনি এলাকা। তবে এ ক্ষেত্রে মানা হচ্ছেনা নির্বাচন অফিসের দেওয়া বিধি নিষেধ। এমনকি বিধি নিষেধ প্রয়োগে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্টদের তৎপরতাও চোখে পড়েনি।

দোহার উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন গুলো ঘুরে দেখা যায়, কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের তারা দিচ্ছেন নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি। প্রার্থীদের ব্যানার পোষ্টারে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। নিয়মের তোয়াক্কা না করেই চলছে প্রচারণা। নির্বাচন কমিশনের আইন রয়েছে প্রার্থীদের পোষ্টার রশি দিয়ে টানানোর কথা। কিন্তু সেটা কেউই মানছে না। স্কুলের দেওয়াল, চায়ের দোকানে, ঘরের দরজায় স্টিকার, বিদ্যুৎ খুটিতে, অটোরিকশায় স্টিকার প্রার্থীদের পোষ্টার লাগানো হয়েছে। তবে প্রার্থীদের দাবি তারা আচরণ বিধি মেনেই পোষ্টার লাগাচ্ছেন।

আচরণ বিধি সম্পর্কে ঢাকা জেলা প্রসাশক মোঃ শহিদুল ইসলাম গত ১৫ জানুয়ারি দোহারের পাঁচটি ইউনিয়নের সকল চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের নিয়ে একটি আলোচনা করেন। সেখানে তিনি প্রার্থীদের বলেন, নির্বাচনের পোষ্টার রশি দিয়ে টানাতে হবে। স্টিকার বা আঠা দিয়ে পোস্টার লাগানো যাবে না। বিধিনিষেধর কারনে ৫০ জনের বেশি লোক নিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালানো যাবে না। স্কুল কলেজে বা কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত কুসুমহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাদের মণ্ডল বলেন, আমরা যখন লোকদের পোস্টার দিয়েছি; তখন আমরা না করে দিয়েছি আঠা দিয়ে যাতে পোষ্টার না লাগায়। কিন্তু ছোট বাচ্চারা না বুঝে একটা দুইটা জায়গায় তারা আঠা দিয়ে পোষ্টার লাগিয়েছে। স্টিকারের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু আমি না প্রতেকে ইউনিয়নে সবাই স্টিকার লাগাচ্ছে।

দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের মেম্বার পদপ্রার্থী শাওন ইসলাম বাদশাহ জানান, তিনি নিয়ম মেনেই ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। পোস্টার বিষয় জনতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ল্যামনেটিং করা পোস্টার সব নামিয়ে ফেলেছি। কিন্তু বাংলাবাজারে কিছু পোস্টার আছে সে গুলোও নামিয়ে ফেলবো।

থানার মোড়ের অটোরিকশাচালক জুয়েল শেখ বলেন, ‘আমরা যাত্রী নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করি। আর যে সময় যার সামনে পড়ি সেই আমাদের অটোরিকশায় তাঁদের স্টিকার লাগিয়ে দেয় এবং যাত্রীদের ভোট দিতে বলেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুসুমহাটি ইউনিয়নের এক চা দোকানি বলেন, ‘এইখানে একেক সময় একেকজন আইসা ভোট চায়। সে সময় তাঁরা তাঁদের মার্কার লিফলেট হাতে দিয়ে ভোট চান অথবা দোকানে স্টিকার লাগিয়ে দিয়ে যান। এমন করেই তাঁদের পোস্টার দিয়ে দোকান ভরে রেখেছেন। এখন আমি কী করতাম? আমি কি তাঁদের কইছি আমার দোকানে পোস্টার লাগাতে? আমি এখানে কয়েক কাপ চা বেইচ্চা খাই! প্রার্থীদের ধারণা চায়ের দোকানে লোকজন বসে আড্ডা দেয়। সে জন্য তাঁরা চায়ের দোকানে বসে থাকা লোকের কাছে ভোট চান আর পোস্টার-স্টিকার লাগিয়ে দিয়ে যান।’

জানা যায়, দোহার উপজেলার ৫ ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রাথী রয়েছে ৩৪ জন, মেম্বার প্রার্থী রয়েছে ১৫৪ জন এবং সংরক্ষিত আসনে ৪৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছে।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা মো.রেজাউল ইসলাম জানান, আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে দুইজন প্রার্থীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এপর্যন্ত। এরপর আর কোন মোবাইল কোট পরিচালনা করা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনী কাজ নিয়ে ব্যস্ততা থাকার কারনে আর কোন মোবাইল কোট পরিচালনা করা হয়নি।

দোহারে পৌরটোলের প্রতিবাদে মোটরচালকদের বিক্ষোভ

শরিফ হাসান, স্টাফ রিপোর্টার, news39.net: ঢাকা জেলার দোহার উপজেলাস্থ দোহার পৌরসভায় পৌরটোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজীর অভিযোগে আওয়ামী মটর চালকলীগের মানববন্ধন ও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে । অন্যদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর পদক্ষেপ বলে মনে করছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত জয়পাড়া কলেজ রোড এবং উপজেলা মেইন রোডে এই মানব বন্ধন ও কর্মসূচি পালন করে আওয়ামী মটরচালক লীগ।

বিক্ষোভ মিছিলটি দোহার উপজেলা প্রদক্ষিণকালে দোহার থানার ওসি মোস্তফা কামাল আশ্বাস দেন তাদের এই বিষয় টি দেখবেন। এসময় সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে তিনি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন।

বিক্ষোভকারীরা জানান, দোহার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে চাঁদা তুলছে। তারা চাঁদা তুলতে গিয়ে আমাদের লোকজনের গায়ে হাত তুলছে। আমরা দিন আনি, দিন খাই। আমাদের পেটে লাথি দিচ্ছে। সরকারের জন্য আমরা জীবনবাজী রেখে মিছিল মিটিং করি। আর এখন আমাদের উপরই চাদাবাজী করা হচ্ছে। আর এই চাদার ভাগ প্রভাবশালী একজন রাজনৈতিক নেতা এবং বাজার কমিটির একজন প্রভাবশালী ব্যাক্তি পৌরসভার সাথে যোগসাজশে তুলছে। সব টাকা পৌরফান্ডে জমা হচ্ছে না বলেও তারা অভিযোগ করেন।

অটোরিকশা চালক বাচ্চু মোল্লা(৩০) জানান, পৌরসভার চাঁদার নামে টোল আদায়কারী লোক আমার কাছে গতকাল সোমবার ওয়ান ব্যাংকের সামনে থেকে টাকা চায়। আমি বলি, টাকা কেন দিব? আমি টাকা দিতে পারবো না। একথা বলার সাথে সাথে তারা আমাকে মারধর করে। শুধু আমি না আরো একজনকেও তারা এমন মারধর করেছে টাকার জন্য। এখন আমাদের দাবি আমরা চুরি করে খাই না রোজগার করে খাই। আর যদি যানজটের জন্য লোক রাখা হয় তাহলে ট্রাফিক পুলিশ রাখা হোক।

এবিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী মটরচালক লীগ দোহার উপজেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিপন শিকদার বলেন, আমরা কামাই করে খাই। আমরা কেনো তাদেরকে টাকা দিব? প্রয়োজনে একটা বার্ষিক লাইসেন্স ফি নিক। তারা প্রতিদিন আমাদের কাছে থেকে প্রতি অটোরিকশা বাবদ বিশ টাকা করে নেয়। এভাবে তারা অন্যায়ভবে টাকা আদায় করে। সে জন্য আমরা এই বিক্ষোভ করি। যানজট নিরসন করতে হয়, তাহলে ট্রাফিক পুলিশ রাখুক।

শিপন শিকদার আরও বলেন,আমরা আজকে দোহার উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলতে এসেছি। তারা আমাদের থেকে দুই দিনের সময় নিয়েছে। এই দুই দিনের মধ্যে যদি আমাদের দাবি না মেনে নেয়, তাহলে আমরা গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিব এবং কোন গাড়ির চাকা আর ঘুরবে না।

এসময় বিক্ষোভকারীরা উপজেলার মেইনরোডসহ বিভিন্ন পয়েন্ট কোন অটোরিকশা ও সিএনজি ঢুকতে দেয়নি। যে অটোরিকশা চালকরা যাত্রী নিয়ে এসেছিল, তাদেরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে ফিরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। সে সময় জনসাধারণের ব্যাপক বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়।

দোহার পৌরসভার প্রকৌশলী মশিউর রহমান news39.net কে বলেন, মোটরচালকদের থেকে ২ দিনের সময় নেয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা সাংসদ সালমান এফ রহমানকে জানিয়েছি। তার নির্দেশনা অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে জনগণ আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট। কারণ এখন মেইনরোডে জ্যাম হয় না। এছাড়া, কোন চালক যাত্রী জিম্মি করে রাখতে পারছে না। এতে, স্ট্যান্ডে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হয়েছে।

এবিষয়ে দোহার থানা ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, আজকে আমাদের আইনশৃঙ্খলা মিটিং ছিল। আমরা এ বিষয়ে সমাধান করতে, দুই দিনের সময় নিয়েছি। বিষয়টি দুই দিনপর তাদেরকে জানাবো। আমরা এমপি মহোদয় সালমান এফ রহমান এর সাথে কথা বলবো এবং পরে সমাধান জানাবো।

দোহারে হিজড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে বিনামূল্যে স্ট্রিট ফুড কার্ট বিতরণ

ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া রতন চত্বর এলাকায় জীবনমান উন্নয়নের নিমিত্তে কর্মসংস্থান কর্মসূচীর অংশ হিসেবে উত্তরণ ফাউন্ডেশন কর্তৃক হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে বিনামূল্যে স্ট্রিট ফুড কার্ট বিতরণ করা হয়েছে। ২২ জানুয়ারি (শনিবার) বিকেলে এ ফুড কার্ড বিতরণ করা হয়।

উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ৩য় লিঙ্গের ১ম ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম রিতু চেয়ারম্যান ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন,কালীগঞ্জ,জিনাইদহ। উদ্ভোধন অনুষ্ঠানে সমাজ কর্মী ও উত্তোরণ ফাউন্ডেশনের ভলান্টিয়ার ডক্টর এবিএম আসিফ কিবরিয়া বলেন, উত্তোরণ ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য বাংলাদেশের কোন ৩য় লিঙ্গের মানুষকে যেনো আর পথে পথে ঘুরে বেড়াতে না হয় এজন্য আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ। তারা যেনো পারে নিজেরা উদ্যোক্তা হয়ে অন্য পাচজনের মত উঠে দাড়াতে।তিনি আরো জানান দোহারের এই ফুড ভ্যানটি উত্তোরণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও হাবিবুর রহমান, ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ তার অর্থায়নে হচ্ছে। দোহারে আরো কয়েকটি শাখা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।\

বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী- বেদে ও হিজড়া সম্প্রদায়ের মানবেতর জীবনের মানবিক উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা তৈরি, পুনর্বাসন ও মানুষ হিসেবে তাদের সামাজিক মর্যাদা সমুন্নত করতে- উলেখিত দুই জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে “মানবতার ফেরিওয়ালা’ খ্যাত জনাব হাবিবুর রহমান, ডিআইজি মহোদয়, ঢাকা রেঞ্জ, বাংলাদেশ পুলিশ এর সার্বিক দিক-নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে, উত্তরণ ফাউন্ডেশন এর নিয়মিত সামাজিক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে, তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) জনগোষ্ঠীর মধ্যে পঞ্চম স্ট্রিট ফুড কার্ট বা ফুটপাথে খাবারের দোকান নিম্নোক্ত সময় ও স্থানে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে৷

উল্লেখ্য যে, নিজের মৌলিক পুলিশিং পেশার পাশাপাশি জনাব হাবিবুর রহমান এর প্রদানকৃত সার্বিক দিক-নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে- উত্তরণ ফাউন্ডেশন সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনমান উন্নয়নের জন্য কর্মকান্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে।

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ বিদেশি চিকিৎসক

শরিফ হাসান, স্টাফ রিপোর্টার, news39.net: দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই সপ্তাহের ইন্টার্ণশীপ করার জন্য পনের জন সদ্য পাশকৃত চিকিৎসক এসেছেন৷
এদের মধ্যে নেপালের সাত জন, কুয়েতের একজন এবং বাংলাদেশী ডাক্তার সাতসহ মোট ১৫জন রয়েছেন। উল্ল্যেখ ভূটানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্র ছিলেন।

শনিবার সকাল দশটায় আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের কমিউনিটি বেইজড প্রশিক্ষনের জন্য তারা দোহার উপজেলাকে বাছাই করেছেন। এখানে তারা দুই সপ্তাহের জন্য ইন্টার্ণি করবেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তৃণমূল পর্যায়ে রোগ, রোগতত্ব, চিকিৎসাসেবা এবং চিকিৎসা অবকাঠামোর সাথে তারা অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান লাভ করবেন।

শনিবার সকালে এসব ইন্টার্নিদেরকে ফুলদিয়ে শুভেচ্ছা জানান ডাঃ মোঃ জসীম উদ্দিন।

তিনি জানান, দোহার উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই সপ্তাহের ইন্টার্ণ করার জন্য পনের জন্য ডাক্তার এসেছে। এর মধ্যে নেপালের ডাক্তার সাত জন, কুয়েতের ডাক্তার একজন এবং বাংলাদেশী ডাক্তার সাত জন। তারা আমাদের দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই দুই সপ্তাহ থাকবে তারা এই দুই সপ্তাহে জানবে যে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিকি ধরনের সেবা দেওয়া হয়।

আরও উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিক্যাল অফিসার ওমর ফারুক, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার হানিফ মোরশেদী, কৃষি কর্মকর্তা ইয়াকুব মামুনসহ প্রমুখ।

কোঠাবাড়ি কলেজ হবে দোহারের নবযুগের সূচনাঃ সুন্দরীপাড়া বিদ্যালয়ে আলোচকবৃন্দ

মোঃ আল-আমিন, স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ৩৯.নেটঃ ঢাকার দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২২ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠিত কোঠাবাড়ি কলেজ হবে নবাবগঞ্জ ও দোহারবাসীর নতুন যুগের সূচনা। এটি হবে পরিকল্পিত শিক্ষা জোন।

শনিবার সকাল ১০ টায় সুন্দরীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার ম্যাক সোহেলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এড্যাভোকেট রমজান আলী শিকদার – প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও আহ্বায়ক কোঠাবাড়ি কলেজ।

রমজান আলী শিকদার বলেন, আমরা এই পশ্চিম অঞ্চলের জন্য দুটি বিদ্যালয় একসাথে করি। তার মধ্যে সুন্দরীপাড়া বিদ্যালয়ের পাশের হার এ বছর ৯০ শতাংশ। আমরা এই পশ্চিম অঞ্চলের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য একটা কলেজ করেছি যেটি কোঠাবাড়ি কলেজ। আমাদের এই কোঠাবাড়ি কলেজে আমরা দক্ষ শিক্ষকগনকে নিয়োগ দিয়েছি। যাতে করে ছাত্র ছাত্রীদের ভাল করে পড়াশোনা হয় সে জন্য। আমরা আশা করি এখান থেকে যারা এসএসসিতে পাশ করবে তারা আমাদের কোঠাবাড়ি কলেজে ভর্তি হবে। আমরা যখন কলেজ করি তখন কেউ আসেনি কলেজের জন্য সাহায্য করতে।

তিনি আরো বলেন, এভাবেই আমরা আমাদের এই পশ্চিম অঞ্চলকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। যাতে করে আমরা পশ্চিম অঞ্চলের লোক আর অবহেলা না থাকি সে জন্য।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্বে বক্তব্য ইঞ্জিনিয়ার এম এ খান সোহেল বলেন, সুস্থ দেহের সুস্থ মন আর এ জন্যই আমায় খেলার প্রয়োজন। আমাদের উদ্দেশ্য যাতে আমাদের এই বিদ্যালয় থেকে আগামীতে ১০০ শতাংশ ছাত্র ছাত্রী পাশ করে। আমরা এই বিদ্যালয়ের ভবন গুলো আরো উন্নত করতে চেষ্টা করবো।

সে সময় উপস্থিত ছিলেন, আলহাজ্ব মোঃ মহসিন উদ্দিন আহমেদ (দিপু) বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, কোঠাবাড়ি কলেজ, মোঃ জাফর ইকবাল লাবলু বিশিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, কোঠাবাড়ী কলেজ, প্রকৌশলী মোঃ আওলাদ হোসেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী,শাহ্ সজীব চিশতী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী,মোঃ তারিকুল ইসলাম (সম্রাট চিশতী) অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক প্রমুখ।

নবাবগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। নির্বাচন আচরণ বিধি অমান্য করায় এবং সড়ক পরিবহন আইন ও সংক্রমন রোগ (প্রতিরোধ,নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এই সময় ১৬টি মামলা দিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বুধবার উপজেলার বক্সনগর গালিমপুর ইউনিয়নের বাজার ও আন্ধার কোঠা এলাকায় এবং বৃহস্পতিবার আগলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দুইদিনে নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৪ জনকে, সড়ক ও পরিবহন আইন অমান্য করার দায়ে ১০ জনকে এবং সংক্রমন রোগ (প্রতিরোধ,নিয়ন্ত্রণ, নির্মূল) আইন অমান্য করায় ২ জনকে জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অরুণ কৃষ্ণ পাল।

অরুণ কৃষ্ণ পাল বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। অন্যথায় আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা সম্পর্কে সচেতন করা হয়।

নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত দোহার উপজেলার পরিবেশ

ঢাকার দোহার উপজেলায় ষষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ৩১ জানুয়ারি ৫টি ইউনিয়নে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত হচ্ছে দোহার উপজেলার পরিবেশ। নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের গাড়ি ভাঙচুর, কর্মীদের মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ওপর। তেমনি গত সোমবার এমপির মুকসুদপুর ইউনিয়নে দুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা মার্কা মোঃ আঃ হালিমের গাড়িতে হামলা ও ভাংচুর এর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

অন্য দিকে নয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যানের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে। গতকাল ১৫ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে নয়াবাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আন্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এনিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান শামীম আহাম্মেদ হান্নান সংবাদ সম্মেলন করেছে অন্য দিকে নয়াবাড়ি ইউনিয়নের নৌকা সমর্থকেরা শামীম আহাম্মেদ হান্নান এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম আহমদ হান্নান জানান, তিনি উপজেলা পরিষদের মিটিং শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নয়াবাড়ী ইউনিয়নের আন্তা এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তৈয়বুর রহমান তরুণ ও তাঁর লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে।

অভিযুক্ত তৈয়বুর রহমান তরুণ বলেন, ‘ আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা। আন্তা গ্রামে ক্যাম্প করতে গেলে তারা আমার ওপর হামলা চালায়।’

মুকসুদপুর ইউনিয়নেরস্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আঃ হালিম জানান, আমি একজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। সকলের যেমন নির্বাচনে প্রচারণা করার অধিকার আছে ঠিক তেমনি আমারও আছে। কিন্তু নির্বাচন প্রচারনার ক্ষেত্রে আমার পোস্টার ব্যানার হ্যান্ডবিল লাগাতে দিচ্ছে না বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব অধ্যাপক এমএ হান্নান খানের কর্মীরা। গত সোমবার দুপুরে আমার ভাই ও ছেলে পোষ্টার লাগাতে গেলে হঠাৎ করে প্রায় ৫০ টার মত মটরসাইকেল এসে মুকসুদপুর বেকারীর সামনে আমার হাজার হাজার পোষ্টার নষ্ট করে দেয় হান্নান চেয়ারম্যান এর সর্মথকরা এবং নির্বাচনে প্রচারনার গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে ফেলে। সেই সাথে আমার ছোট ভাই অস্ট্রেলিয়ান সিটিজেন প্রবাসী আব্দুল করিমকে কিল,ঘুসি,লাত্থি দিয়ে তাকে মারে। ঘটনাস্থলে এএসআই আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন তার সামনেই আমার গাড়ি ভাঙচুর করে এবং আমার ভাইকে লিক, ঘুসি, মেরেছে। এএসআই আতিকুর রহমান ফিরাতে চেষ্টা করেছে কিন্তু সে একা থাকায় সে তাদের সাথে পেরে উঠেনি।

তিনি আরো বলেন, এই মুকসুদপুর ইউনিয়নে দেশের চার সুযোগ্য লোক আছে, সাবেক তত্বাবধান সরকারের উপদেষ্টা ড. এ আর খান,বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারেষ্টার নাজমুল হুদা। তাদের এই ইউনিয়নে যদি ভাংচুর এর ঘটনা ঘটে তাহলে তাদের সম্মান কোথায় থাকবে। সে জন্য আমি বর্তমান এমপি সালমান এফ রহমানের কাছে সুষ্ঠ নির্বাচন চাচ্ছি।

এ বিষয়ে মুকসুদপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএ হান্নান এর সাথে কয়েক বার মুঠোফোনে (01715-506152) যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি বার বার ফোন কেটে দিয়েছে।

দোহার থানার ফুলতলা ফাঁড়ির এএসআই আতিকুর রহমান বলেন, আমাদের থানায় মিটিং ছিল শেষ করে যাওয়ার পথে দেখি পথে গ্যান্জাম। এই গ্যান্জাম দেখে আমি গাড়ি থেকে নেমে দেখি ঝগড়া করছে দুই প্রার্থীর লোক পরে তাদের দুই পক্ষকে সরিয়ে দেই। পরে ছোট একটা ছেলে না বুঝে লুকিং গ্লাসে বাড়ি দিয়ে গাড়ির লুকিং গ্লাস ভেঙে ফেলে পরে আমি তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেই। মামলা বা অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি একটি ছোট ঘটনা থানায় মামলা বা অভিযোগের মত কোন কিছু না।

নির্বাচন নিয়ে নয়াবাড়ি ইউনিয়নের আম্তা গ্রামের আছিয়া ও সোনাবন বলেন, এতদিন আমরা শান্তিতে ছিলাম এখন নির্বাচন এসে মারামারি শুরু হয়েছে। আমরা চাই সুষ্ঠ নির্বাচন আর এই সুষ্ঠ নির্বাচন হলে আমরা আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে পারবো। তাই আমাদের দাবি সরকারের কাছে যাতে তারা সুষ্ঠ নির্বাচন দেয়।

ওয়াজেদ উদ্দিন বেপারী ও মজিদ মাদবর বলেন, আমরা চাই এই নির্বাচনে সুষ্ঠু ভাবে ভোট দিতে। আমরা কেন্দ্রে গিয়ে যাতে সুষ্ঠ আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারি এটাই আমাদের চাওয়া।

নির্বাচনী মাঠ সম্পর্কে দোহার উপজেলার নির্বাচনী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, এখন আমাদের দোহারে নির্বাচনী মাঠ ভাল আছে। তবে মাঝে একটু সমস্যা ছিল এখন তা ঠিক হয়ে গিয়েছে। তবে আমরা নয়াবাড়ি ও বিলাশপুর হাই রেড জোনে রেখেছি। আর এই দুই ইউনিয়নে নির্বাচনের দিন আমাদের স্পেশাল ফোস থাকবে।

এবিষয়ে দোহার থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলপন, এখনো নির্বাচনের মাঠ ভাল আছে। বিলাশপুর ইউনিয়নের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিলাশপুরে এখনো কোন রকম সমস্যা হয়নি তবে মাঝে নয়াবাড়ি একটু সমস্যা হয়ছিল। এখন সব প্রার্থীরা তাদের প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে শান্তিপূর্ণ ভাবে।

যন্ত্রাইলে নূর আলমের নির্বাচনী গাড়িতে হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইলে ইউনিয়নের ভাওয়াইলা গ্রামে স্বতন্ত্র ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নূর আলমের নির্বাচনী প্রচার কাজে নিয়োজিত গাড়িতে হামলা করা হয়েছে। এ সময় গাড়ি ভাংচুর ও চালককে মারধর করা হয়। বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান পদপ্রাথী একেএম মনিরুজ্জামান তুহিনের কর্মী বাহিনী শামীম মির্জা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী এ হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেন আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নূর আলম। অভিযোগের সত্যতা জানতে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. তুহিনকে ফোন করা হলে তিনি এ প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ করেননি। আনারস প্রতিকের নূর আলম বলেন, নির্বাচনী প্রচার কালে আমার অটো গাড়ির ড্রাইভারকে মেরে আহত করা হয়েছে। গাড়ি ও মাইক ভাংচুর করা হয়। আমি আমাদের অভিভাবক মাননীয় এমপি মহোদয় জনাব সালমান এফ রহমান সহ নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একইসঙ্গে, হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, আগামী ৩১শে জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যন্ত্রাইল ইউনিয়নে নৌকার প্রাথী মো. তুহিন ও আনারস প্রতীকের নূর আলমের সঙ্গে ভোটের লড়াই হবে।