দোহারে প্রশাসনের অভিযানে কারেন্ট জালসহ ৫ জেলে আটক

ঢাকার দোহার উপজেলার পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে দোহার উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। সেসময় একলক্ষ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয় সেই সাথে প্রায় ৩০ কেজি ইলিশ মাছসহ ৫ জেলেকে আটক করা হয়েছে ।

গতমঙ্গলবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোহার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মুস্তাফিজুর রহমান ও মৎস্য কর্মকর্তা লুৎফুরনাহার এর নেতৃত্বে পদ্মা নদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সেসময় দোহার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা পাচজন জেলেকে আটক করেছি ইলিশ মাছ ধরার অপরাধে পরে জব্দকৃত ৩০ কেজী ইলিশ স্থানীয় একটি এতিম খানায় বিতরণ করা হয়েছে এবং কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
তিনি আরো বলেন, আমরা জুলহাস শেখ,মুসলেম,তোতা বেপারি,আঃ কাদের নামে চারজনেকে সাত দিনের জেল ও ছকেল উদ্দিনকে এক হাজার টাকা জরিমানা করি। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

দোহারে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হলেন রাজু আহাম্মেদ রাজিব

ঢাকার দোহার উপজেলা আসন্ন ৩নং রাইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের প্রতিক বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে সময় ৯ নং ওর্য়াডের রাজু আহাম্মেদ রাজিবের প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন।

গতমঙ্গলবার সকাল ১০ টা সময় উপজেলার সভা কক্ষে নির্বাচন অফিসার মোঃ রেজাউল ইসলাম রাজু আহাম্মেদ রাজিবকে মেম্বার পদে বিজয়ী ঘোষনা করেন।

এ সময় কাঠালীঘাটার সর্বস্তরের জনগণের শতশত মানুষের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। রাজু আহম্মেদ রাজিব মেম্বার হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে আনন্দের উল্লাসের চিত্র ফুটে উঠেছে।

নব-নির্বাচিত মেম্বার রাজু আহম্মেদ রাজিব বলেন, আধুনিক সমাজ উন্নয়নে,মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ও মানুষের কল্যাণের আমি সর্বদা কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ। আমি ওয়াদা করবো নাহ কাজ করে আমি দেখিয়ে দিবো রাইপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের উন্নয়ন। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন।

জমি সংক্রান্ত বিরোধে দোহারে যুবক খুন

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ ঢাকার দোহার উপজেলার পালামগঞ্জ বাজার এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় আহত সাজু মন্ডল (২৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ির মদিনা মেডিকেল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মঙ্গলবার সকালে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহত সাজু মন্ডল উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়নের লক্ষিপ্রসাদ গ্রামের নুরু মন্ডলের ছেলে। সে পালামগঞ্জ বাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী ছিলেন।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পালামগঞ্জ কবরস্থানের পাশে মিলন শিকদারের জায়গায় দোকান উঠাতে গেলে বিলেরপাড় এলাকার আব্দুল হাকিম (আমিন) বাঁধা দেয়। ১২ অক্টোবর বুধবার সকালে সেখানে দুপক্ষের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ হচ্ছিল। সেখানে বাজারের ব্যবসায়ী সাজু মন্ডল ও আনোয়ার হোসেন মন্ডল উপস্থিত ছিল। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিলেপাড় গ্রামের আব্দুল হাকিম আমিনের নেতৃত্বে বিলেরপাড়ের ফজল খানের ছেলে নান্টু, মধ্যলটাখোলার রহমআলীর ছেলে সোহাগ, লটাখোলা এলাকার জিল্লু মিয়ার ছেলে রবিউল, বিলেরপাড় এলাকার কামালসহ আরও কয়েকজন অর্তকিত হামলা করে সাজু মন্ডল ও আনোয়ার মন্ডলকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে। আহতরা চিকিৎসা নিতে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানে গিয়েও আব্দুল হাকিমের বাহিনী দ্বিতীয় দফায় মারধর করে গুরুতর আহত করে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুত্বর আহত সাজুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অবস্থার আরও অবনতি হলে যাত্রাবাড়ির মদিনা মেডিকেল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজু মারা যায়।

এবিষয়ে মিলন শিকদার বলেন, পালামগঞ্জ কবরস্থান সংলগ্ন বড় ইকরাশী মৌজার ১৪৫৯ আরএস দাগের ২৭ শতাংশ জমি আমাদের পরিবারের রেকর্ডীয় সম্পত্তি। সেখানে দোকানঘর তুলতে গেলে বিলেরপাড়ের হাকিম বাধা দেয়। হাকিমের দাবি এই জমি তিনি লীজ সূত্রে মালিক। গত ১২ অক্টোবর বুধবার দুপক্ষের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ হচ্ছিল। বাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী সাজু ও তার ভাই আনোয়ার চাউল নিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে আব্দুল হাকিম ওরফে হাকিম আমিনের নির্দেশে তার ভাড়াটিয়া বাহিনী আমাদের উপর আক্রমণের চেষ্টা করলে আনোয়ার ও সাজু এগিয়ে আসলে তাদেরকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আমি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ হত্যাকান্ডের বিচার চাই।

নিহত সাজুর বড়ভাই আনোয়ার হোসেন মন্ডল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, চাউল নিয়ে বাজার থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। আব্দুল হাকিম ওরফে হাকিম আমিনের নির্দেশে তার ভাড়াটিয়া বাহিনী মিলন ভাইয়ের উপর আক্রমণের চেষ্টা করলে আমরা এগিয়ে যাই এবং ‘কেনো তার জমিতে দোকান উঠাতে দেয়া হবে না’ এবিষয়ে জানতে চাওয়ায় হাকিমের নির্দেশে তার লোকজন আমাদের দুই ভাইয়ের উপর অমানবিকভাবে হামলা করে। গুরুত্বর আহত ভাইয়ের চিকিৎসায় হাসপাতালে গেলে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে আবারও হামলা চালায়। সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে মদিনা মেডিকেল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার ভাই সাজু মারা যায়। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার সকালে লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসলাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। আসামীদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে।

দোহারে নৌপুলিশের অভিযানে কারেন্ট জালসহ ৭ জেলে আটক

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ ঢাকার দোহার উপজেলার পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে থেকে কুতুবপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি অভিযান পরিচালনা করে। সেসময় বিপুল পরিমাণে কারেন্ট জাল জব্দ করা হয় সেই সাথে প্রায় ৪০ কেজি ইলিশ মাছসহ ৭ জেলেকে আটক করা হয়েছে ।

গতকাল রোববার মধ্যরাত থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ঢাকা অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নের্তৃত্বে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুমিনুর রহমান, এসআই জহিরুল ইসলাম ও এএসআই রুবেল মোল্লাসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পদ্মা নদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সেসময় ঢাকা অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা সাতজন জেলেকে আটক করেছি ইলিশ মাছ ধরার অপরাধে পরে জব্দকৃত ইলিশ স্থানীয় একটি এতিম খানায় বিতরণ করা হয়েছে এবং কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। তবে আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

দোহারে সাংবাদিক শরিফ হাসানের উপর বর্বরোচিত হামলা

0

ঢাকা জেলার দোহারে জয়পাড়া কলেজে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিক শরীফ হাসান ছাত্রলীগের কিছু নেতা- কর্মীর হামলার শিকার হয়েছে দৈনিক আজকের পত্রিকার দোহার প্রতিনিধি এবং news39.net এর স্টাফ রিপোর্টার শরীফ হাসান মিয়া।

আহত শরীফ হাসান দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় উপজেলার জয়পাড়া কলেজের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এই ব্যাপারে দোহার থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মহল থেকে এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। 

আহত সাংবাদিক শরীফ হাসান হামলার বিষয়ে বলেন, ‘জয়পাড়া কলেজে সংঘর্ষ এর সংবাদ সংগ্রহ করতে কলেজ গেটে যাই। কলেজের বাহিরে ঢাকা – দোহার সড়কে দাড়িয়ে ছবি তোলার সময় আহমেদ ঈশান এবং অমিত পালসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী আমাকে মারধর করে এবং আমার বুকে লাথি মারে। এসময় তারা আমার মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনার বিষয়ে দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। ঘটনার সঙ্গে যদি ছাত্রলীগের কোনো কর্মী জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, কোনো একজনের অপরাধের দায় সংগঠন গ্রহণ করবে না। আর শরিফ আমাদের অনেক প্রিয় কাছের ছোট ভাই। ’ 

এ ঘটনায় দোহার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সানি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারাই এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ 

এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে সাংবাদিককে দেখতে পুলিশ পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ 

জয়পাড়া কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান শান্ত বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিক হিসেবে চিনতে না পারায় কিছু কর্মী হাত তোলায় আমি দ্রুত সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শরিফ ভাইকে সেভ করি। ঘটনার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রশমিত করেন। এবং পরবর্তীতে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সাংবাদিক শরিফ হাসানকে দেখতে যান এবং তার মোবাইল উদ্ধার করে ফেরত দেন। এছাড়া অভিযুক্ত কয়েকজনকে নিয়ে তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করান।

দোহারে তিন ইউপিতে নৌকার মাঝি হলেন যারা

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ ঢাকা দোহার উপজেলার রায়পাড়া, সুতারপাড়া, মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী আগামী ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষ্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকে জন্য মনোনয়ন পত্র দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্যালয় ধানমন্ডি৩২ নম্বরে এক বৈঠকে এই প্রার্থীদের চুড়ান্ত দেওয়া হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া সাক্ষরিত এক প্যাডে এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নৌকা প্রতিকের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।

মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পত্র দেওয়া হয়েছে আইয়ুব আলীকে,
সুতারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পত্র দেওয়া হয়েছে শেখ নাসির উদ্দীনকে, রায়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পত্র দেওয়া হয়েছে মোঃ আমজাদ হোসেনকে।

দোহারে তিন ইউপিতে নৌকার মাঝি হলেন যারা

ঢাকা দোহার উপজেলার রায়পাড়া, সুতারপাড়া, মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী আগামী ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষ্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকে জন্য মনোনয়ন পত্র দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্যালয় ধানমন্ডি৩২ নম্বরে এক বৈঠকে এই প্রার্থীদের চুড়ান্ত দেওয়া হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া সাক্ষরিত এক প্যাডে এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নৌকা প্রতিকের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।

মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পত্র দেওয়া হয়েছে আইয়ুব আলীকে,
সুতারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পত্র দেওয়া হয়েছে শেখ নাসির উদ্দীনকে, রায়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পত্র দেওয়া হয়েছে মোঃ আমজাদ হোসেনকে।

দোহারে স্বেচ্ছাসেবকলীগের পক্ষ থেকে বস্ত্র বিতান

0

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকার দোহার উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবকলীগের পক্ষ থেকে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার জয়পাড়া লটাখোলা চরজয়পাড়া সার্বজনীন মন্দিরে ৫০ টি পরিবারের মাঝে এ বস্ত্ৰ বিতরণ করা হয়।

বস্র বিতানের সময় বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের সহধর্মিণী
বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেছেন ধর্ম যার যার উৎসব সবার। হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান এই শারদীয়া দূর্গা উৎসব। এবার আমাদের দোহার উপজেলায় ৪০ টি মন্দিরে পূজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের সহধর্মিণী আলো গুহ, নির্মল রঞ্জন গুহের ছোট ছেলে আঞ্জন গুহ,ঢাকা জেলা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহবুব বেপারি, সহ সভাপতি শফিকুল ইসলাম তালুকদার, দোহার উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অমিতাভ পাল অপুসহ আরো অনেকে।

দোহারে মা ইলিশ রক্ষায় টাস্কফোর্স কমিটির প্রস্তুতি সভা

আগামী ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে উপজেলা প্রশাসনের টাস্কফোর্স কমিটির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩ অক্টোবর ( রবিবার) উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মোবাশ্বের আলম এর সভাপতিত্বে ভ্যাচ্যুয়াল মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর হোসেন।

আলমগীর হোসেন বলেন, অতীতে এত ইলিশ উৎপাদন হয়নি ‘সরকারের নানাবিধ উদ্যোগে করনে ইলিশ এখন গ্রাম-গঞ্জে পাওয়া যাচ্ছে। দেশের মানুষ ইলিশ খেতে পারছে। সেই সাথে ইলিশ রপ্তানিও করা যাচ্ছে।’
প্রজননস্থলে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের করা হলে ইলিশের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে ধরনের পরিবেশ ইলিশ ডিম দেয়ার জন্য উপযুক্ত, অনেক সময় ভারী যানবাহন চলাচল,যানবাহনের পোড়া মবিল নির্গত হওয়া,ময়লা-আবর্জনা নির্গত হওয়ায় কারণে ইলিশের প্রজনন পরিবেশ নষ্ট হয়। ফলে ইলিশ ওই অঞ্চলে থাকে না। এ জন্য আমাদের এই বিষয় গুলোও খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন ইলিশের প্রজনন মৌসুমে যেন কোন অসাধু চক্র ইলিশ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি না করতে পারে সে দিকে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম এর সন্চলনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদ চোকদার, নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, দোহার থানা তদন্ত কর্মকর্তা আজহারুল, উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ আল সাইদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার রহিমা বেগম, কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মামুন ইয়াকুব,মৎস্য কর্মকর্তা মোছাঃ লুৎফুর নাহার উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা,মোঃ মাহবুবুল হাসান প্রমুখ।

কালিগঙ্গা নদীতে হেইয়ো রে হইয়ো চ্যাম্পিয়ন সোনার বাংলা , রানার্সআপ নাফিজ নাঈম

কালিগঙ্গা নদীতে গ্রাম বাংলার শত বছরের ঐতিহ্যে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নবাবগঞ্জ উপজেলার দত্তখন্ডের ডা. শাহীনের সোনার বাংলা চ্যাম্পিয়ন ও একই উপজেলার হাসনাবাদের মো. কামাল হোসেনের নাফিজ নাইম এক্সপ্রেস রানার্সআপ হয়েছে। এছাড়া, শ্রীনগর আলমপুরের সামাদ দেওয়ানের মামা ভাগিনা তয় স্থান অর্জন করে।
পরে শোল্লা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান তুহিনুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং শহীদুল ইসলাম শহীদের সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মিজানুর রহমান কিসমত এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন মো. কামাল হোসেন, নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা, ক্রিড়া সম্পাদক দুলাল দেওয়ান, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সদস্য মোশাররফ হোসেন, খান বাড়ি নৌকার মালিক জিপু খান, আব্দুল খালেক নৌকার মালিক শেখ তুষার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

চ্যান্পিয়ন অর্জনকারী সোনার বাংলাকে একটি মটর সাইকেল, রানারআপ নাফিজ নাঈম এক্সপ্রেসকে ফ্রিজ ও মামা ভাগিনাকে টেলিভিশন দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার জনগণকে বিনোদন দিতে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের দত্তখন্ড গ্রামবাসীর উদ্যেগে এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৮টি ঘাসী নৌকা অংশ গ্রহণ করে।
প্রথম পর্বে টান দেয় সোনার বাংলা বনাম বলধারার ঐতিহ্য টান দেয়। এতে সোনার বাংলা বিজয়ী হয়।নাফিজ নাইম এক্সপ্রেস বনাম গোলাডাঙ্গার নয়নমনি টান দেয়। এতে নাফিজ নাইম এক্সপ্রেস জয়ী হয়। মামা ভাগ্নে বনাম শিকদার বাড়ি নৌকার মধ্যে টান দেয়। এতে মামা ভাগ্নে জয়ী হয়। রিফাইতপুর যুব সংঘ বনাম রাজহংসের মধ্যে টান হয়। এতে রিফাইতপুর যুব সংঘ জয়ী হয়।
চুড়ান্ত টান দেয় সোনার বাংলা, নাফিজ নাইম এক্সপ্রেস
মামা ভাগিনা ও রিফাইতপুর যুব সংঘ। এতে ১ম সোনার বাংলা, ২য় নাফিজ নাইম এক্সপ্রেস, ৩য় মামা ভাগিনা হয়।

মাঝি-মাল্লার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর ছন্দ মাতিয়ে তোলে কালগঙ্গা নদীর দুই তীর। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার নারী পুরুষ এ দৃশ্য দেখতে ভিড় করে। বাইচে দুপুর থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থীরা ভিড় করে। আশেপাশ ও দূর-দূরান্ত থেকে নারী পুরুষসহ সব বয়সী মানুষ নৌকা বাইচ দেখতে নদীর তীরে জড়ো হন। বাইচে বিভিন্ন এলাকা থেকে সুসজ্জিত ঘাসী নৌকা অংশগ্রহণ করে।

নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলা উপজেলায় সরকারীভাবে নৌকা বাইচ আয়োজন করার আহ্বান জানান। এটি করতে পারলে নৌকা বাইচ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় নৌকা বাইচ খুব সহসাই বিলুপ্ত ঘটবে।

নৌকা বাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, একে অপরে বেশ কয়েকটি টান দিয়েছে। আমরা খুব আনন্দ পেয়েছি। এই ঐতিহ্য টিকে থাক আজীবন।
নৌকাবাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, আজ কালিগঙ্গা নদীতে দত্তখন্ড বাসাীর উদ্যেগে এবং নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি পরিচালনায় এ বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। খুব ভালো মতো বাইচ হলো। তিনি বলেন,
নবাবাগঞ্জে নৌকাবাইচের ঐতিহ্য প্রায় শত বছরের। এক দশক আগেও এই অঞ্চলে বিভিন্ন পয়েন্টে পুরো ভাদ্র্র্র্র মাসজুড়ে নৌকা বাইচ হতো। কিন্তু এখন নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ও কচুরিপানার কারণে বাইচে ভাটা পড়েছে। বেশ কয়েকটি পয়েন্টে কচুরীপানা থাকায় এ বছর নৌকা বাইচ আয়োজন করা যায়নি । আর এজন্য দায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০০১ সালে ইছামতী নদীর উৎপত্তিস্থল কাশিয়াখীলীতে বেড়িবাঁধ দেয়া হয়। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের অদক্ষতা ও অপরিপক্কতায় বাঁধের ইছামতী-পদ্মা নদীর সংযোগ স্থলে জলকপাট (স্লুইস গেট) স্থাপন না করে অন্যত্র স্লুইসগেট স্থাপন করা হয়।