দোহারের ৪০ টি পূজা মণ্ডপে শামীমা ইসলাম বিথীর সিসি ক্যামেরা উপহার

0

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ ঢাকার দোহার উপজেলার ৪০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা সরঞ্জাম সিসি ক্যামেরা বিতরণ করেছেন দোহার উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা ইসলাম বিথী।

২৯ সেপ্টেম্বর(বৃহস্পতিবার) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে দোহার উপজেলার ৪০ টি মন্ডপের প্রতিনিধিদের মাঝে এই সিসি ক্যামেরা তুলে দেয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোবাশ্বের আলম, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রজব আলী মোল্লা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুজাহার বেপারি, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা ইসলাম বিথী, দোহার উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অমিতাভ পাল অপু সহ উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপের প্রতিনিধিগণ।

যুক্তরাজ্য দোহার এ্যাসোসিয়েশনঃ সভাপতি শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক হাবিব হোসাইন

0

News39 foreign Desk:যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দোহার এ্যাসোসিয়েশনের নতুন নির্বাচন – ২০২২ এ নবনির্বাচিত সভাপতি হয়েছেন মোঃ শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক হাবিব হোসাইন । এই নির্বাচনের মাধ্যমে ২১ সদস্য বিশিষ্ট  পূর্ণাংগ কমিটি গঠিত হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর লন্ডনের স্থানীয় একটি রেস্টুরেণ্টে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়। সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হন সুতারপাড়ার কৃতি সন্তান জনাব শাহজাহান সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন জয়পাড়া সরকারি হাসপালাত সংলগ্ন এলাকার কৃতি সন্তান হাবিব হোসাইন।

নিউজ৩৯কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাধারণ সম্পাদক হাবিব হোসাইন বলেন, এটি একটি অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন। লন্ডনে বসবাসরত দোহারবাসীদের পাশে থেকে সকল কার্যক্রমে সহায়তা করবে এবং স্টুডেন্ট বা ব্যবসায়ী  হয়ে যারা আসবে তাদেরকেও সার্বিক সহযোগিতা আমরা করবো। এছাড়া যারা লন্ডনে আসতে চান, তাদের জন্য আমাদের সকল প্রকার সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে। তিনি কমিটির সকলের পক্ষে থেকে দেশে এবং বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী তথা দোহারবাসীদের নিকট দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সুতারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র কিনলেন চঞ্চল মোল্লা

0

ঢাকা দোহার উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র বিক্রি শুরু হয়েছে। এবং এই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২ নভেম্বর। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সুতারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন চঞ্চল মোল্লা। বুধবার দুপুরের দোহার উপজেলার নির্বাচনী অফিসার রেজাউল করিমের কাছ থেকে তিনি এই মনোনয়ন পত্র গ্রহণ করেন।

মনোনয়ন পত্র গ্রহণের সময় চঞ্চল মোল্লা বলেন, আমি জনগণের হয়ে কাজ করতে চাই, আমি জনগণের পাশে থাকতে চাই। আমি জনগণের সেবার জন্য আজকে ইউপি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র গ্রহণ করলাম। আমি আশা করি জনগন আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।
সে সময় তার সাথে এলাকার মুরব্বিগন উপস্থিত ছিলেন।

দোহারে পূজার বাজার জমজমাট

আর মাত্র কিছু দিন পর থেকেই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজারে শেষ সময়ে জমে উঠেছে পূজার শপিং। কেনাকাটার জন্য পোশাক ও প্রসাধনীর দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা। পূজাকে কেন্দ্র করে সকালে ও বিকেল থেকে সন্ধ্যায় মার্কেটে ভিড় জমে, কিন্তু ছুটির দিন গুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা সমাগম থাকে চোখে পরার মত। আবার বিক্রি বেশি করার জন্য বেবি শোপ,mbrella shopping, volantes shopping,Yodu গুলোতে ৫০-৭০% পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে।

দুর্গাপূজার নতুন কাপড়, জুতা, প্রসাধনী কিনতে ফুটপাতসহ দোহার উপজেলায় বিভিন্ন শপিং সেন্টারে দেখা গেছে ভিড়। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকানিরা। ষষ্ঠী পর্যন্ত ক্রেতাসমাগম থাকবে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা। দোহার উপজেলার জয়পাড়া কাজী সুপার মার্কেট, আহাম্মেদ শপিং মল,বেগম আয়শা শপিং সেন্টার, পাপেল শপিং মল সেন্টার, পালকি শপিং মল,আয়োজন শপিং মল, সুমন বস্র বিতান,লন্ডন প্লাজা, নীল আঁচল,বেবি শোপ,তাজমহল গার্মেন্টস ইত্যাদিসহ অন্যান্য শপিং সেন্টারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বিক্রেতারা জানান, এবারের পূজার বাজারে মেয়েদের থ্রি-পিস, সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট-টপস, লেহেঙ্গা, বারবিকিউ শাড়ি, কাতান শাড়ি, সিল্ক্ক শাড়ির চাহিদা বেশি। ছেলেদের ফতুয়া, পাঞ্জাবি-পায়জামা, শার্ট, ফুলপ্যান্ট, টি-শার্ট ও জিন্স এবং বাচ্চাদের নানা রঙের পোশাকের সমাহার রয়েছে বিভিন্ন শপিংমলে। তবে গতবারের থেকে এবার বেচা কেনা একটু কম,তাছাড়া জামা কাপড় এর দামও বেশি।

জয়পাড়া বাজারে তাজমহল গার্মেন্টস মালিক সোহেল বলেন, আমরা ঈদের সময় সবচেয়ে বেশি জামা কাপড় বিক্রি করি। পূজায় তেমন বেশী জামা কাপড় বিক্রি হয় না। গতবারের থেকে এবার বেচা কেনা কম কারণ এবার জামা কাপড় এর দামও বেশি। জামা কাপড় এর দাম বেশী কেনো জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে ডলারের দাম বেশী সে জন্য জামা কাপড়ের দামও বেশি। যে গুলো ভারত থেকে আসে সে গুলো দাম বেশী পরে।

তিনি আরো বলেন, এবার পূজার জন্য আমরা সারারা,গারারা, ঝককান,ল্যান্সি স্কাট, লেহেঙ্গা ইত্যাদি উঠিয়েছি।

মেঘুলা বাজারের মৌ ফ্যাসনের পরিচালক আব্দুল হালিম বলেন, আমরা এবার নারীদের ফেন্সী কাতান, ডিজিটাল প্রিন্ট, বাচ্চাদের টপ, রাউন্ড ড্রেস, সামু সিল্ক্ক থ্রি-পিস বেশি বিক্রি করছি। দেড় বছর খারাপ গেছে, কয়েকদিন হয় বেচাকেনা শুরু হয়েছে।

জয়পাড়া বাজারের ভূতের গলির Export Fashion এর মালিক রাজীব আহমদ বলেন, এবারের পূজায় ছেলেদের জন্য নতুন ডিজাইনের ফুলহাতা ও হাফহাতা শার্ট এসেছে। তাছাড়া টি-শার্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি-পায়জামা ইত্যাদি বিক্রি হচ্ছে।

জয়পাড়া বাজারে শপিং করতে আসা সুমি পাল বলেন, গত বছর দুর্গাপূজায় আনন্দ কম ছিল কিছুটা করোনাভাইরাসের জন্য। এ বছর উৎসবমুখর পরিবেশে উৎসব উদযাপন করব।’ ক্রেতা হৃদয় শর্মা বলেন, ‘আমাদের সব চেয়ে বড় উৎসব হল দূর্গা পূজা। তাই এই পূজাকে কেন্দ্র করে এবার আমার পরিবারের জন্য কেনাকাটায় কোনো কিছু বাদ দেব না। পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুই কিনবো।

তিনি আরো বলেন, আমার জন্য বাকি রয়েছে প্যান্ট কেনা। মার্কেটে ঘুরছি, নতুন ডিজাইনের ভালো মানের প্যান্ট কিনতে চাচ্ছি পেলেই তা কিনবো।

মোল্লা সু স্টোরের মালিক সজীব মোল্লা জানান, গত বছর পূজার বাজারের চেয়ে এ বছর মোটামুটি ভালোই বেচাকেনা হচ্ছে। জুতার দাম মানের দিক থেকে কিছুটা কমবেশী।

পূজাকে কেন্দ্র করে স্বর্ন বিক্রি কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে জয়পাড়া বাজারের স্বর্ন পট্টির মিশু,শ্যামল পাল বলেন, পূজায় তেমন ভাবে স্বর্ন বিক্রি হয় না বা গহনার জন্য আসে না। আমরা সারা বছর যে ভাবে বিক্রি করি পূজার সময়ও তেমনি বিক্রি করি। ঠাকুরের গহনা আপনারা বানান কি না এমন প্রশ্ন করলে তারা বলেন, আমরা ঠাকুরের গহনা বানায়ই না এগুলো ঢাকা থেকে রেডি মেট কিনে আনা হয়।

দোহার থানার পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অমিতাভ পাল অপু জানান, এবার দোহার থানায় ৪০টি পূজা মন্ডবে পূজা উদযাপন হবে। জেলা প্রসাশক ও স্থানীও প্রসাশন আমাদের সার্বিক খোঁজ খবর রাখছেন। এবারি প্রথম সব মন্দিরে সিসি ক্যামেরা থাকছে।

পূজায় আইনশৃঙ্খলার বিষয় দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল জানান, সকল পূজা মন্ডবে সিসি ক্যামেরা থাকবে। পুলিশ সদস্য,র‍্যাব, আনসার ও গ্রাম পুলিশ পূজা মন্ডবে ২৪ ঘন্টা পাহাড়য় থাকবে। ধর্মীয় রক্ষার্থে আজানের সময় গান,ঢোল,তবলা ইত্যাদি বন্ধ রাখতে হবে। দোহার থানা পুলিশ সকলের পাশে আছে এবং থাকবে।

ইছামতি নদীতে বর্নিল নৌকা বাইচ; চ্যাম্পিয়ন লিটন এক্সপ্রেস, রানার্সআপ শেখবাড়ি

ইছামতি। নদীর বিভিন্ন স্থানে কচুরীপানার স্তুপ। এর মধ্যে আবার পানি কম। তবু জনগণকে বিনোদন দিতে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউথ ক্লাব আয়োজন করে বিশাল নৌকা বাইচ।শুক্রবার নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ মোল্লার সার্বিক সহযোগিতা ও পরিচালনায় দুই দিনের এ সমাপনী বাইচে চারটি নৌকা অংশ গ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করে। এতে আগলার লিটন এক্সপ্রেস চ্যাম্পিয়ন ও খানেপুরের শেখ বাড়ি রানার্স আপ হয়। শ্রীনগর আলমপুরের মামা ভাগিনা তৃতীয় ও খান বাড়ি চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে।
বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে বড় বড় বাইচের নৌকা ও মাঝি-মাল্লার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর ছন্দ মাতিয়ে তোলে ইছামতির দুই তীর। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার নারী পুরুষ এ দৃশ্য দেখতে ভিড় করে। শুক্রবার ঢাকার নবাবগঞ্জে ইছামতী নদীতে হয় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এ নৌ-র‌্যালি। বাইচে দুপুর থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থীরা ভিড় করে। আশেপাশ ও দূর-দূরান্ত থেকে নারী পুরুষসহ সব বয়সী মানুষ নৌকা বাইচ দেখতে নদীর তীরে জড়ো হন। বাইচে বিভিন্ন এলাকা থেকে সুসজ্জিত ঘাসী নৌকা অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাঝির কান্দার খান বাড়ি, শ্রীনগর আলমপুরের মামা ভাগ্নে,আগলার লিটন এক্সপ্রেস, খানেপুরের শেখ বাড়ি নৌকা অংশ গ্রহণ করে । প্রথমে শেখ বাড়ি ও খান বাড়ি টান দেয়। এতে শেখ বাড়ি জয়ী হয়। এরপর শেখ বাড়ি , লিটন এক্সপ্রেস ও মামা ভাগিনার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন টান দেয়। এ পর্যায়ে লিটন এক্সপ্রেস ১ম, শেখ বাড়ি ২য়, মামা ভাগিনা ৩য় স্থান অর্জন করে।
নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা সংগঠনের পক্ষ থেকে দুই দফা দাবির কথা জানান। ১. দ্রুত ইছামতী নদী সচল করতে সোনাবাজু বেড়িবাঁধে প্রয়োজনীয় জলকপাট স্থাপন
২. প্রতিটি জেলা উপজেলায় সরকারীভাবে নৌকা বাইচ আয়োজন করলে নৌকা বাইচ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় নৌকা বাইচ খুব সহসাই বিলুপ্ত ঘটবে।
সূত্র জানায়, ২০১০ সালে এই বাধে পর্যাপ্ত সুইচগেট, ইছামতী নদীর ৭২ কিলোমিটার খনন করার দাবি জানিয়ে স্বারক লিপি দিয়েছি। শুনেছি বেশ কিছু দূর এগিয়েছে। কবে তা আলোর মুখ দেখবে তা কেউ জানেনা। আমরা মাননীয় এমপি সালমান এফ রহমানের হস্তক্ষেপ কমানা করছি। তিনিই পারেন আমাদের এই সমম্যা সমাধান দিতে।
নৌকা বাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, একে অপরে বেশ কয়েকটি টান দিয়েছে। আমরা খুব আননৃদ পেয়েছি। এই ঐতিহ্য টিকে আজীবন।
নৌকাবাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, নবাবাগঞ্জে নৌকাবাইচের ঐতিহ্য প্রায় শত বছরের। এক দশক আগেও ইছামতী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুরো ভাদ্র্র্র্র মাসজুড়ে নৌকাবাইচ হতো। কিন্তু এখন নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকা ও কচুরিপানার কারণে বাইচে ভাটা পড়েছে। বেশ কয়েকটি পয়েন্টে কচুরীপানা থাকায় এ বছর নৌকা বাইচ আয়োজন করা গেল না। আর এজন্য দায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০০১ সালে ইছামতী নদীর উৎপত্তিস্থল কাশিয়াখীলীতে বেড়িবাঁধ দেয়া হয়। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের অদক্ষতা ও অপরিপক্কতায় বাঁধের ইছামতী-পদ্মা নদীর সংযোগ স্থলে জলকপাট (স্লুইস গেট) স্থাপন না করে অন্যত্র স্লুইসগেট স্থাপন করা হয়।

দোহারে নদী ভাঙ্গন রোধে সেনাবাহিনী

ঢাকা দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের বিলাশপুর গ্রামের পদ্মা নদীর তীর ভাঙ্গনের দেখা গিয়েছে। গত চার দিন ধরে এই নদীর পাড় ভেঙে পরতেছে। এই নদী ভাঙ্গা রোধে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি টিম। তেমনি নদী ভাঙ্গের কথা বলেন বিলাশপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ। তারা বলেন, আমাদের নদী ভাঙ্গার কথা শুনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী,পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ চোকদার আসে পরিদর্শনের জন্য। তারা দেখে আমাদের আশ্বাস দেন নদী ভাঙ্গা রোধ করতে। তারা যখন চলে যায় তখন আমি ঘরে ঘুমাতে যাই। কিন্তু কিছু সময় পরই আবার নদী ভাঙ্গা শুরু হয়।

আমি তখন দুপুরে আমাদের পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম তখন আমার দেবর এসে বলতেছে ভাবি আপনার ঘর তো নদীতে ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে । তখন আমি তার কথা শুনে দ্রুত আমাদের ঘরে দিকে যাই তখন দেখি একটা পানির গোলা এসে ঘরের কিছু অংশ ভেঙে নিয়ে গেল। তখনি আমরা বাড়ির সবাই মিলে হাতাহাতি করে ঘর ভেঙে নিয়ে কিছুটা রক্ষা করি। এমনি কান্না বিজরিত কন্ঠে নদীতে বিলিন হয়ে যাওয়া ঘটনা গুলো বলেন ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের রহিমা বেগম (৫৬)। তিনি আরো বলেন, আমাদের টাকা পয়সা নেই যে অন্য স্থানে গিয়ে জায়গা কিনে ঘরবাড়ি করবো। তাই এখন সরকারের কাছে আমাদের দাবি এই নদীতে বাঁধ দিয়ে আমাদের শেষ ভিটামাটি টুকু রক্ষা করে।

অন্য দিকে নদীতে ঘর ভেঙে বিলিয়ন হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে থাকা হাজেরা বেগম (৬৩) বলেন, আমার তেমন কেউ নাই আমি আমার মেয়েদের নিয়ে কোন মতে ঘরে বসবাস করিতেছি। আর দুই চার চাপ মাটি ভেঙে পড়লেই আমার ঘরবাড়ি নদীতে ভেঙে পড়বে। এমনই আমার সংসার এখন চলতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। ঈদ ও অন্য অন্য সময় মানুষেরা ত্রাণ দেয় কিন্তু এখন তো কিছু দেয় না। তাই আমার ঘরবাড়ি নদীতে ভেঙে নিয়ে গেলে আমার আর কিছু থাকবে না।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের বিলাশপুর ঘাট থেকে বেশ কিছু দূর পর্যন্ত নদীর পাড় ভেঙে পড়তেছে। প্রতিনিয়ত ঐ নদীর পাড়ের লোকজন আতঙ্কে রয়েছে এই বুঝি ঘর ভেঙে নদীতে বিলিন হয়ে যাবে। নিজেদের ঘর রক্ষায় আবার অনেকেই বাঁশ দিয়ে বাঁধ দিয়েছেন। তবে নদীর ঘাটে একটি ড্রেজার ও নদীর মাঝে একটি কাটার দেখা যায়। এছাড়াও মুসলেম,বাবলু,ইসলাম,দুদু মিয়া, ওয়াসিম মাদবর,আয়ুব খা,জুলহাস, জাহিদসহ বেশ কয়েক জনের ঘরে ভেঙে নদীতে বিলিন হয়ে গিয়েছে।

ঐ স্থানের বাসিন্দা আলমগীর জানান, আমরা বেশ কয়েক বছর আগে যখন গোছল করতে যেতাম তখন নদীর ঘাটে যেতে সাইকেল লাগতো আবার অনেকেই হেঁটে যেতো। কিন্তু এখন নদী ভাঙ্গতে ভাঙতে এত কাছে চলে এসেছে যে বাড়ি রক্ষা করাই মুসকিল হয়ে পড়ছে।

নদী ভাঙ্গার বিষয়ে ঐ স্থানের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, এই নদী ভাঙ্গার একমাত্র কারণ হল ড্রেজার। কারণ দিনে ড্রেজার ব্যবসাইরা দেখায় তারা অন্য বোট দিয়ে এনে মাটি অন্য স্থানে ফেলে। কিন্তু রাত হলেই তারা সেই ড্রেজারের পাইপ নদীতে নামিয়ে দিয়ে মাটি তুলে। আর এ কারনেই নদী ভাঙ্গে এখন বাড়ি ঘর ভেঙতেছে। কারা করছে এ ধরনের কাজ তা জানতে চাইলে তিনি বলেন দলীয় লোকজনই করতেছে নাম জানতে চাইলে তিনি তা বলেনি। আমরা এখন এর সমাধান চাই এমপি মহোদয় সালমান এফ রহমানের কাছে।

দোহার উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, মঙ্গলবার রাতে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান ঐ স্থান থেকে বরিশালের বানারিপাড়া কুমারের পাড় এলাকার মৃত ওলিউল্লাহর ছেলে আরিফুল ইসলাম (২২), একই এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মোঃ ঈমাম হোসেন(৩২), মৃত আরেক আব্দুর রশিদের ছেলে ইউসুফ(২৮), লক্ষীপুর কমলনগর এলাকার সেলিমের ছেলে মোঃ ইব্রাহিম( ৩৬) ও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এলাকার হাজী মোহাম্মদ মনির হোসেনের ছেলে মোঃ আবুল হোসেন(৫২) আটক করেন। পরে আটককৃতদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে মোট এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে দুটি ড্রেজারকে জব্দ করে দোহার কুতুবপুর নৌ- পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়।

দোহার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলম বলেন, নদী ভাঙ্গা কথা শুনে আমি সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পরিদর্শনের জন্য পাঠিয়েছি। তাড়া অতিদ্রুত কাজ শুরু করবে। ইতিমধ্যে বিলাশপুর গ্রামে পদ্মা নদী ভাঙ্গান রোধে সেনাবাহিনীর জিও ব্যাগ ফেলানো শুরু করেছে।

দোহারে বিপুল পরিমাণে মাদক উদ্ধার

0

ঢাকার দোহার উপজেলায় মাদক নিরসনে দোহার থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল এর নেতৃত্বে এএসআই নান্টু কৃষ্ণ মজুমদার ও সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় নবাবগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকা হতে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ইখতিয়ার হোসেন আখতারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার দক্ষিণ জয়পাড়া বড় মাঠ সংলগ্ন খেয়া ঘাটের পাশের নদীর পাড় হতে ১০০০ (এক হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।

দোহার থানার এসআই এনামুল হক বাদী হয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। পরে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল নূর তারেক।

দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল জানান, গ্রেফতারকৃত ইখতিয়ার দীর্ঘদিন ধরে দোহার-নবাবগঞ্জে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা তাকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করি। মাদক নিরসনে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নারিশা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সম্মেলনে ব্যানার নিয়ে বিভ্রান্তি

0

নিউজ৩৯ঃ দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সম্মেলনের ব্যানার বিভ্রান্তি এবং সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যানার নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন নারিশা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ।

ব্যানারে বিশেষ অতিথি হিসেবে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম রয়েছে নুরুল ইসলাম বেপারী। অথচ নুরুল ইসলাম বেপারী হলেন দোহার উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি। আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন নুরুল হক বেপারী। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, বিষয়টি প্রিণ্টিংজনিত অনিচ্ছ্বাকৃত ভুল। এটি নিয়ে আসলে মাতামাতির কিছু নেই। বিষয়টি সবাই সাধারণ ভুল এবং ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন বলে প্রত্যাশা করি।

আজ দোহারের বাস্তায় জনপ্রিয় বক্তাদের নিয়ে ওয়াজ মাহফিল

0

২৩ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার দোহারের বড় বাস্তা যুব সমাজের ৩য় বার্ষিক ওয়াজ মাহ্ফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন জনপ্রিয় বক্তা মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিক (কুয়াকাট)।

বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবে মাওলানা মাহফুজুর রহমান জাবের (কুয়াকাটা) এবং হাফেজ ক্বারী আব্দুল ওয়াহাব দোহারী।

মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন।

ওয়াজ মাহ্ফিলের সভাপতিত্ব করবে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার।

মাহ্ফিল পরিচালনা করবে মুফতি হাসান মাহমুদ খান।

ওয়াজ মাহফিলে দোহার উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছে বড় বাস্তার যুবসমাজ।

দোহারে বিরল প্রজাতির প্রাণী উদ্ধার

ঢাকার দোহার উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ এলাকা থেকে বিরল প্রজাতির একটি নিশাচর প্রাণী গন্ধ গোকুল উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় এক ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে গন্ধ গোকুলটি উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হন্তান্তর করেছে।

স্থানীয়রা জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে দোহার উপজেলা রায়পাড়া ইউনিয়নের শওকত আলী রতনের বসতবাড়ির টিনেরচালার উপর বসা অবস্তায় দেখতে পায় প্রানিটিকে। সেখানে বেশ কিছু সময় অবস্থান করার পর প্রথমে ৯৯৯ ও পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে তিনি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। পরে প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে প্রাণীটিকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হলে দোহার উপজেলা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এসে প্রায় ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে দুপুর ১টার দিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাণীটিকে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা গন্ধ গোকুলের কাপড়ের শিকার হন ।

দোহার ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন অফিসার তামিম হাওলাদার জানান, খুব সঙ্কীর্ণ জায়গা থেকে আমরা এই প্রাণিটিকে উদ্ধার করেছি। এটি আমাদের টিমের জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এতে একজন সদস্য সামান্য আহত হয়েছে। প্রার্থী সম্পদের কর্মকর্তারা গন্ধ গোকুলটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে বন বিভাগের কাছে হন্তান্তর করা হবে বলে জানান তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলম জানান, ধারণা করা হচ্ছে প্রাণীটি অন্য প্রাণীর দ্বারা আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। যে কারনে সে নীরিবিলি জায়গা বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী আমরা প্রাণীটিকে উদ্ধার করে অবমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবো। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা লুবনা জাহান নিশাত, আব্দুর রহমান, মামুন সরকার ও ফিরোজ আলম প্রমুখ।