কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখায় দোহারে বিশিষ্টজনদের সম্মাননা প্রদান

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন – BHRC এর ৩৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে ঢাকার দোহার উপজেলায়। এসময় মানবাধিকার সুরক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সর্বমোট ৯ জনকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়। সংস্থার ঢাকা জেলা দক্ষিণ আঞ্চলিক শাখার জেনারেল সেক্রেটারি নাসিরুদ্দিন পল্লবের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার ১০ই জানুয়ারি দুপুর ১ টায় মানবাধিকার কমিশন এর ঢাকা জেলা দক্ষিণের আঞ্চলিক কার্যালয়ে কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রতিবারের ন্যায় এবারও সমাজের বিভিন্ন পেশায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিশেষ ভুমিকা রাখায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মানবাধিকার সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। এরা হলেন – সাংবাদিকতায় সাহসী ভূমিকা রাখায় দৈনিক আজকের পত্রিকার শরীফ হাসান, সমাজসেবায় মহিউদ্দীন মাদবর, আব্দুল মালেক দোহারী ও খোরশেদ আলম, মানবাধিকার সুরক্ষায় শেখ সোহেল রানা, সাইদুল ইসলাম, নাজমা বেগম ও রাশেদ খন্দকার এই সম্মাননা স্মারক পান। এছাড়াও, সফল মাদক অভিযান ও উদ্ধারকাজে বিশেষ ভুমিকা রাখায় দোহার থানার এএসআই নান্টু কৃষ্ণ মজুমদারকে সম্মাননা স্মারক দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

সভার সভাপতিত্ব করেন অত্র শাখার নির্বাহী সভাপতি হাফেজ কারী আব্দুল ওহাব দোহারী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগান্তর ও যমুনা টিভির সাংবাদিক আজাহারুল হক।

সভার পরিচালনা ও সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন অত্র শাখার জেনারেল সেক্রেটারী হাজী নাছির উদ্দিন পল্লব ।
আগত অতিথি ও মানবাধিকার কর্মীরা দিনটি উপলক্ষে বিশেষ তাৎপর্যপুর্ন বক্তব্য তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল হামিদ ইন্তাজি, মহিউদ্দীন মাদবর,আব্দুল মালেক দোহারী, মাহবুবুল আলম ফারুক,যুগ্ন সম্পাদক সেখ সোহেল রানা, সাইদুল ইসলাম, সামছুল হক, রফিকুল ইসলাম, মাঠ পরিদর্শক রাশেদ খন্দকার, মেহবুব হাসান কুতুব,তুষার,আজগর, মোশাররফ, মহিলা কর্মী নাজমা বেগম,সাবিনা জাছরিন,রুবিনা,রুশনাসহ প্রমুখ।

মধ্য জানুয়ারির মধ্যে ইভিএমের নতুন প্রকল্প পাশ না হলে ব্যালটেই ভোট : ইসি

0

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) বেগম রাশেদা সুলতানা বলেছেন, মধ্য জানুয়ারির মধ্যে ইভিএমের নতুন প্রকল্প পাশ না হলে ব্যালট পেপারে ভোট করতে প্রস্তুতি নিতে হবে। ইভিএমের নতুন প্রকল্প সঠিক সময়ে হলে ভালো। তবে সেটি না হলে যা আছে তা নিয়েই নির্বাচন করা হবে।

আজ রোববার (০৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় ইসি রাশেদা সুলতানা বলেন, মধ্য জানুয়ারির মধ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) নতুন প্রকল্প পাশ না হলে ১৫০ আসনে এই যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। ইভিএম প্রকল্প খুব একটা এগিয়েছে বলে মনে হয় না। এটা আসলে খুব বেশি এগোয়নি। প্রকল্পের অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহার করব বলে আমরা বলেছিলাম। এক্ষেত্রে প্রকল্প পাস না হলে আমাদের কাছে বর্তমানে যা আছে তাই দিয়েই ভোটগ্রহণের আয়োজন করব।

ইসি রাশেদা খাতুন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এসব বিষয়ে নীতি নির্ধারকদের (মন্ত্রণালয়/সরকার) সঙ্গে কথা হয়নি। এটার রীতিও নেই। ইসি হয়তো সচিবালয়ের সঙ্গে কথা বলবে। আমাদের সক্ষমতা যা আছে তাই করব। আমার জানা মতে, ৭০ থেকে ৮০টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করার মতো আমাদের সক্ষমতা আছে। বর্তমানে কী অবস্থায় আছে জানি না।

ইসি এ বিষয়ে আরও বলেন, ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের লক্ষ্যে সরকারের কাছে আট হাজার ৭১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার নতুন একটি প্রকল্প প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই প্রস্তাব এখনো পাস হয়নি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আরপিও বিল আকারে রেডি করছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে আমাদের কাছে পাঠাবে বলে জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

শীতের সকালে গোসল করে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

ঢাকার নবাবগঞ্জে সকালে গোসল করতে নেমে ঠান্ডায় মো. ফজল খান বেপারী (৪৫) মারা গেছেন।

গতকাল শনিবার সকাল ৭টায় উপজেলার ইছামতি নদীতে গোসল করতে নামলে প্রচণ্ড শীতে ঠান্ডা পানিতে তার মৃত্যু হয় বলে তার পরিবার জানায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজল খান বেপারী কলাকোপার বড় সমসাবাদ এলাকার সামছুল হকের মেঝ ছেলে।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানায়, ফজল দীর্ঘসময় মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি করেছেন। বেশ কয়েক বছর হলো বাঁশ ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যাবসা করে আসছিলেন। শনিবার সকালে ইছামতি নদীতে গোসল করতে নামলে প্রচণ্ড শীতের কারণে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই কাজী নাসের বলেন, বিষয়টি পুলিশকে কেউ অবগত করেনি। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

ঢাকা জেলা চ্যাম্পিয়ন নবাবগঞ্জ উপজেলা ফুটবল দল

শেখ কামাল ২য় যুব গেমস ঢাকা জেলার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নবাবগঞ্জ উপজেলা ফুটবল দল।

ফাইনাল খেলায় ধামরাই উপজেলাকে ট্রাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে নবাবগঞ্জ উপজেলা ফুটবল দল জয় লাভ করে ।

গতকাল শনিবার কেরানীগনঞ্জের আগানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

খেলার নির্ধারিত সময়ে গোল শূন্য ড্র থাকায় ট্রাইব্রেকার ৪-৩ গোলে জয়লাভ করে নবাবগঞ্জ উপজেলা ফুটবল দল।

পরে খেলোয়ারদের সাথে চ্যাম্পিয়ন দলের পুরস্কার গ্রহণ করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান। এ খেলা  সময়  বিভিন্ন নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।

নবাবগঞ্জে গাঁজা বিক্রি-সেবনের অপরাধে নবাবগঞ্জে ৯ জনের কারাদণ্ড

ঢাকার নবাবগঞ্জের পুরাতন বান্দুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবন ও বিক্রির অপরাধে ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আ হালিম তাদের এ দণ্ড দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জসিম, রাসেল, সজিব, মইনুল, আবেদ আলী, টিটু, পাশা ও মহসিন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানা গেছে, উপজেলার পুরাতন বান্দুরা এলাকায় বৃহম্পতিবার বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর বিভিন্ন ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় গাঁজা সেবন, বিক্রি ও রাখার অপরাধে জসিম ও রাসেলকে তিন মাস করে বিনাশ্রমে কারাদণ্ড এবং সজিব, মইনুল, আবেদ আলী, টিটু, পাশা ও মহসিনকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

অভিযানে পরিচালনায় ঢাকা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ছিলেন।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আ হালিম জানান, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঐতিহ্য হারিয়ে ধুঁকছে দোহার ও নবাবগঞ্জের তাঁতশিল্প

একসময় মাকুর (তাঁত বোনার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রবিশেষ) খটখট শব্দে মুখর থাকত দোহার ও নবাবগঞ্জের জনপদ। এই দৃশ্য এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। হাতে টানা তাঁতের জায়গা দখলে নিয়েছে পাওয়ার লুম বা বিদ্যুৎ–চালিত তাঁত। সেই সঙ্গে তাঁত বোর্ডের ঋণ বিতরণে বৈষম্য, সুতা ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বন্ধ হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী হস্তচালিত তাঁতশিল্প।

নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শংকরদিয়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব রফিক মিয়া একসময় তাঁতের কাজ করতেন। টানা লোকসানের কারণে এই পেশা ছেড়ে এখন তিনি ভ্যানগাড়ি চালান। রফিক মিয়া বলেন, ‘আমার বাপ–দাদার ১৪ডা তাঁত ছিল। লুঙ্গি বুনতে খরচ বেশি ও লোকসান হয়। আট-দশ বছরে সব তাঁত হারাইয়া গেছে। তাঁতে যদি পেটে ভাত না দেয়, তাইলে তাঁত বুইনা কী করমু। পোলাপান লইয়্যা তো বাঁচতে অইবো। তাই বাধ্য হইয়া অহন ভ্যানগাড়ি চালাই।’

সম্প্রতি দেখা যায়, ঢাকার নবাবগঞ্জের বারুয়াখালী, শিকারীপাড়া, জয়কৃষ্ণপুর ও নয়নশ্রী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে এখনো কিছু পরিবার তাঁতশিল্পকে আঁকড়ে ধরে জীবনসংগ্রাম করছেন। দোহার উপজেলার জয়পাড়া, লটাখোলাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লুঙ্গি তৈরির সুতা ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাঁতিরা এখন আর লুঙ্গি বুনছে না। অনেক তাঁতি পরিবার জীবন–জীবিকার তাগিদে পেশা পরিবর্তন করে বিভিন্ন পেশায় সম্পৃক্ত হয়েছেন। তাঁতের কাজ না থাকায় অনেকে তাঁত সরিয়ে অন্যত্র ফেলে রেখেছেন। তাঁতগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।

তাঁতশিল্প এলাকাগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, তাঁতশিল্পীরা কয়েক বছর আগেও যেমন উৎফুল্ল চিত্তে শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, গায়ের চাদর, বিছানার চাদরসহ নিত্যব্যবহার্য কাপড় তৈরি করতেন,এখন আর আগের মত সে পরিস্থিতি দেখা যায় না । আর আগের মতো হাতে বোনানো শাড়িগুলো চোখে পরে না। বিদ্যুতের তাঁতের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে হস্তচালিত এই তাঁতকে। তার ওপর মহাজনের সুদ-দাদন আর কাপড়ের দামের চেয়ে কাঁচামালের উচ্চমূল্য অস্তিত্বসংকটে ফেলেছে এ শিল্পকে। এসব কারণে হস্তচালিত তাঁত দিন দিন কমছে। তাই দিন দিন এই তাঁতশিল্পের কর্মগুলো ক্রমাশয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ।

তাঁতশিল্প নিয়ে দোহার উপজেলার উত্তর জয়পাড়া এলাকার বাসিন্দা আতর আলী বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় ১৮ হাজারের বেশি তাঁতি ছিল। কমতে কমতে জয়পাড়া এলাকায় প্রায় দুই হাজার তাঁতি ছিল। এখন মাত্র চার–পাঁচজন তাঁতি তাঁত বোনে।’

দোহার নবাবগঞ্জ উইভার্স কো-অপারেটিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি হুমায়ুন কবীর জানান, তাঁদের সমিতির আওতাভুক্ত ১৭ হাজার তাঁতি পরিবার রয়েছে। দিনদিন সুতা ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁতিরা পেশা বদল করছেন। বঙ্গবন্ধুর সময় আগে এই সমিতির মাধ্যমে তাঁতিদের রং ও সুতাসহ অন্যান্য কাঁচামাল দেওয়া হতো। বর্তমানে এসব অনুদান দেওয়া বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড দোহার বেসিক সেন্টারের সহকারী কর্মকর্তা আবুল হাসেম বলেন, তাঁতিদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সুযোগ–সুবিধা দেওয়ার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিওনেটাল ইনকিউবেটর ও নতুন অপারেশন থিয়েটার পুনঃস্থাপন

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার মান উন্নত ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে আল্ট্রাসনোগ্রামের পাশাপাশি নবজাতক কম ওজনের মারাত্মক রোগের শিশুদের উন্নত সেবার জন্য নিওনেটাল ইনকিউবেটর স্থাপন করা হয়েছে।

গতকাল (৬ জানুয়ারী ) দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থাপন করে চিকিৎসাসেবা শুরু করা হয়েছে। অপর দিকে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য একই ভবনে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার পুনঃস্থাপনের মধ্যদিয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চিকিৎসাসেবার নতুন দুয়ার খুলে গেল।

নবাবগঞ্জ উপজেলার জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল নবাবগঞ্জের কোনো রোগী যেন বিশেষ চিকিৎসা ছাড়া ঢাকায় যেতে না হয়। বর্তমান সরকারের বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান এমপি’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দিনে দিনে পাল্টে যাচ্ছে নবাবগঞ্জবাসীর চিকিৎসাসেবার চিত্র। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং উন্নত সেবা দেয়ার লক্ষ্যে এমপির নির্দেশে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখন থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বল্প খরচে অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, এক্স-রে ও রক্তের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুব্যবস্থা হওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষের সবচেয়ে বড় উপকার হয়েছে। সেই জন্য এমপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আগত রোগীরা।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জানান, আমাদের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এমপি মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যে সকল অভাব ছিল তা দিন দিন দূর হচ্ছে। নবাবগঞ্জবাসীর বিশেষ চিকিৎসা ছাড়া ঢাকা যেতে হবে না। এক্স-রে, ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাফি, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা, নিওনেটাল ইনকিউবেটর ব্যবহার অনেক ব্যয়বহুল হলেও নবাবগঞ্জবাসী বিনা খরচে পাচ্ছেন। যা বাংলাদেশের সরকারিভাবে অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কল্পনা করতে পারেনি। উন্নত ২টি অপারেশন থিয়েটারে বিশেষ কিছু অপারেশন ছাড়া অনেক অপারেশন করা সম্ভব।

পরিত্যক্ত অপারেশন থিয়েটার পুনঃস্থাপনের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. নাজমুল হক খান, ঢাকা সিভিল সার্জন ডা. মইনুল স্যার ও ডাক্তার সুলতানুল মালিহা নাজনীনের সহযোগিতায় কাজটি করতে পারায় তাদেরকে ধন্যবাদ জানান। নিওনেটাল ইনকিউবেটর, পরিত্যক্ত অপারেশন থিয়েটার পুনঃস্থাপনের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল্লাহিল আজম বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

মন্তব্য করুন

দোহারে তিন ছিনতাইকারী গ্রেফতার

ঢাকার দোহার উপজেলায় পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে উপজেলার সোনার বাংলা এলাকা থেকে ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে নগদ চার লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, ৭টি অ্যানড্রোয়েট মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করেছে দোহার থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মেঘুলা শিবু ডাক্তারের বাড়ির ভাড়াটিয়া সুশীল রাজবংশীর ছেলে রমন রাজবংশী (১৯), একই এলাকার জালাল শেখের ছেলে ইয়াসিন (১৯) ও সোনার বাংলা গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে নয়ন (১৯)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৪ জানুয়ারী) দিবাগত রাতে দোহার থানা ওসি মোঃ মোস্তফা কামাল এবং ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম এর নির্দেশনা অনুযায়ী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মোঃ এনামুল হক খান ও এএসআই নান্টু কৃষ্ণ মজুমদারসহ সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তা অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইয়ের তিন মাস পর ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে চার লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, ৭টি অ্যানড্রোয়েট মোবাইল ফোন ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করেছে দোহার থানা পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারী) সকালে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে ৩৯৪ ধারায় মামলা করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় দোহার থানা ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানান, ১৪ অক্টোবর দোহারে জয়পাড়ায় সুশীল পাল নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী রাতে তার দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফেরার সময় উপজেলার খারাকান্দা এলাকায় এলে আগ থেকে ওঁত পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা তাকে অতর্কিত ভাবে হামলা করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় দোহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সুশীল পাল। সেই মামলা তদন্তের মাধ্যমে ছিনতাই ঘটনার তিন মাস পর ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। পরে মামলা দিয়ে তাদের আদালতে প্রেরন করা হয়।

দোহারে প্রথম নবাবী কাচ্চি উদ্ধোধন

ঢাকার দোহার উপজেলায় এই প্রথম নবাবী কাচ্চি দোকান চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারী) বেলা ১২ টার দিকে জয়পাড়া কলেজ মার্কেটের দক্ষিণ পাশে উপজেলা মার্কেটের নিচ তলায় ” নবাবী কাচ্চি” নামে এ দোকান উদ্ধোধন করা হয়।

দোহারে এই প্রথম কাচ্চি দোকান চালু করায় সকাল ১২ টার পর থেকে দেখা যায় ক্রেতাদের ভিড়। নতুন হওয়ায় ক্রেতারাও বলছেন কাচ্চির মান অনেক ভালো ও খেতে অনেক সুস্বাদু।

দোকানের আপনারা যা পাচ্ছেন, নবাবী বাশমতি চালের খাশির কাচ্চি ফুল -৩৬০ টাকা। খাসির কাচ্চি হাফ -১৮০ টাকা। গরুর তেহারী ফুল-২০০ টাকা হাফ ১০০ টাকা। মোরগ পোলাও ফুল -২৮০ টাকা ও হাফ ১৪০ টাকা। ভূনা খিচুড়ি (গরুর) ফুল ১৬০ টাকা ও হাফ – ৮০ টাকা। বোরহানি প্রতি গ্লাস -৪০ টাকা ও ১ লিটার ১৬০ টাকা দরে পাওয়া যাবে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে তারা দিচ্ছে “নবাবী লাচ্চা সেমাই “

দোকানী মালিক মোঃ লিটন (৩০) বলেন, এই প্রথম আমরা দোহারে “নবাবী কাচ্চি” উদ্বোধন করলাম। আমরা এখানে টাটকা খাসির মাংসের ভালো মানের কাচ্চি দিচ্ছি। এখানে আমরা দুপুর ১২ টার পর থেকে দোকান চালু করেছি। এখন থেকে সকাল ৮ থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত নবাবী কাচ্চি পাওয়া যাবে। প্রথম অবস্থায় আমরা ক্রেতাদের অনেক সাড়া পাচ্ছি। আশা করি এভাবেই সাড়া পেলে আমাদের দোকানের মান বাড়বে। আমরা চেস্টা করবো সব সময় ভালো সার্ভিস দেওয়ার। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন ।

শৈত্য প্রবাহে কাপছে দোহার- নবাবগঞ্জ

শৈত্য প্রবাহের চাদরে ঢেকে আছে দোহার-নবাবগঞ্জ। শৈত্য প্রবাহের মাত্রা বেশি হওয়ায় যেন কাপছে দোহার – নবাবগঞ্জের মানুষ। নভেম্বরের শুরুতে কম শীত থাকলেও এখন জানুয়ারিতে এসে শীত ও প্রচণ্ড কুয়াশা দেখা যায়। এমন শৈত্য প্রবাহের জন্য মানুষের ঘর থেকে বের হতেই কষ্ট হয়ে যায়। সবচেয়ে কষ্টে আছে দোহার – নবাবগঞ্জ এর বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শ্রমজীবী মানুষ। দিন আনতে কস্ট হয়ে যাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষের।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে কানাডায় বাংলাদেশী আবহাওয়াবীদ মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত দোহার – নবাবগঞ্জ এর উপর শৈত্য প্রবাহ এবং ঘন কুয়াশার প্রভাব থাকবে। এরপর ধীরে ধীরে তা কমে আসবে।

দোহারের জয়পাড়া বাজারের নিয়মিত রিক্সাচালক মনির হোসেন (৩২) বলেন, শীতে হাত পা বরফ হইয়া যাইতাছে। কি করুম? রিক্সাতো চালাইতে হইবো। আজ ২ টা পর্যন্ত সারা দিনে মাত্র ২০০ টাকা আয় করতে পারছি। শীতের কারণে মানুষ রিক্সায়ও তেমন উঠতে চায় না। তারমধ্যে আবার সপ্তাহে রিক্সার কিস্তি দিতে হয়।

এই শৈত্য প্রবাহে দোহার – নবাবগঞ্জে কমে গিয়েছে রাস্তায় মানুষের আনাগোনা। বাজারে বেচা-বিক্রি বেড়েছে গরম পোশাকের। শৈত্য প্রবাহে রাস্তায় সকল জীবিকার পেশাজীবী মানুষেরা বের হয়েছে একটু রয়ে সয়ে। তবুও থেকে নেই রুটি রুযির সংস্থান। সারাদিন দেখা মেলেনি সূর্যের। এদিকে সকলের আতংক রাতে বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা। জীবিকা নির্বাহ করার জন্য ছবিতে দুপুর ১:৩০ মিনিটে তোলা।

শীতে জয়পাড়া বাজার

নবাবগঞ্জ চৌরাস্তার রিক্সা চালক সিরাজ (৫২) বলেন, এই শীতের মধ্যে রিকশা চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে তবুও কি করার সংসারের খরচ চালাতে রাস্তায় বের হতে হয়। গরমের দিনে সকাল ছয়টা বাজে বের হয়ে যাইতাম রিক্সা নিয়া এখন শীতের এই সময় রোদ নাই। গরমে এই বেলা ২টা পর্যন্ত ৫০০ টাকা আয় করা হইয়া যাইতো কিন্তুু এখন প্রচুর শীত পড়ার কারণে ১৫০ টাকা কামাইতে পারছি এই বেলা।