আদ-দ্বীন হাসপাতালে এসির গ্যাস লিকেজে একসঙ্গে ১১ নবজাতক শিশুর মৃত্যু।

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে এগারো শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঠিক কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে থানা-পুলিশসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

আজ বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) গ্যাস লিকেজ থেকে একটি ওয়ার্ডে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ভোরের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে।

তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এগারো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশুদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে, আমিও সেখানে যাচ্ছি।

কোরবানির পশু জবাইয়ের দোয়া ও সঠিক নিয়ম

কোরবানির পশুর প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ তাআলা বান্দার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। তবে এই ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য পশু জবাইয়ের সঠিক নিয়ম জানা থাকা প্রয়োজন।

পশু জবাইয়ের মৌলিক শর্তসমূহ

পশু জবাই সহিহ্ বা শুদ্ধ হওয়ার জন্য প্রধান তিনটি শর্ত রয়েছে:

  • ১. জবাইকারী: ব্যক্তিকে অবশ্যই মুসলমান অথবা আহলে কিতাব ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হতে হবে।
  • ২. আল্লাহর নাম: জবাইয়ের শুরুতে অবশ্যই আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে নাম না বললে সেই পশু খাওয়া জায়েজ হবে না।
  • ৩. রগ কাটা: পশুর শ্বাসনালি, খাদ্যনালি ও দুই পাশের দুটি শাহরগের অন্তত তিনটি কেটে রক্ত প্রবাহিত করতে হবে।

কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া

পশুকে কিবলার দিকে মুখ করে শোয়ানোর পর এই দোয়া পাঠ করা উত্তম:

আরবি দোয়া:

إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا، وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، إِنَّ صَلَاتِي، وَنُسُكِي، وَمَحْيَايَ، وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ، وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ، وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ، اللَّهُمَّ مِنْكَ، وَلَكَ…. بِسْمِ اللهِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযি ফাত্বারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বা আলা মিল্লাতি ইবরাহিমা হানিফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকিন। ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। লা শারিকা লাহু ওয়া বিযালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমিন। বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া লাক।’

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আমার মুখমণ্ডল তাঁর দিকে ফিরাচ্ছি, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, ইবরাহিম (আ.)-এর মিল্লাতের ওপর, একনিষ্ঠভাবে এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু—সবকিছু আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক। তাঁর কোনো শরিক নেই। এরই জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর নামে, আল্লাহ সর্বমহান। হে আল্লাহ! (এই কোরবানি) তোমার পক্ষ থেকে এবং তোমারই জন্য।

তবে কেউ শুধু ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে নালিগুলো কেটে দিলেও কোরবানি শুদ্ধ হয়ে যাবে।

সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে জবাই করার ৫টি আদব

ইসলাম পশুদের প্রতি মানবিক হওয়ার নির্দেশ দেয়। পশুকে অহেতুক কষ্ট দেওয়া গুনাহের কাজ। জবাইয়ের সময় নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:

  • ১. ধারালো ছুরি: জবাইয়ের আগে ছুরি খুব ভালোভাবে ধার দিয়ে নিতে হবে, যাতে পশুর বেশি কষ্ট না হয়।
  • ২. পশুর চোখের আড়াল: একটি পশুর সামনে অন্য পশুকে জবাই করা যাবে না। এমনকি পশুর সামনে ছুরিতে ধার দেওয়াও মাকরুহ।
  • ৩. শোয়ানোর নিয়ম: পশুকে বাম কাতে কিবলামুখী করে শোয়াতে হবে।
  • ৪. অঙ্গহানি না করা: পশু পুরোপুরি নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া খসানো বা হাড় কাটা যাবে না।
  • ৫. পানি পান করানো: জবাইয়ের আগে পশুকে পর্যাপ্ত পানি পান করানো মুস্তাহাব।

কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের মাংস বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না; বরং তোমাদের তাকওয়া তাঁর কাছে পৌঁছায়।’ (সুরা হজ: ৩৭)

তাই সঠিক নিয়মে ও বিশুদ্ধ নিয়তে পশু জবাই করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ শিশুর মৃত্যু, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঠিক কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে থানা-পুলিশসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

আজ বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) গ্যাস লিকেজ থেকে একটি ওয়ার্ডে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ভোরের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে।

তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশুদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে, আমিও সেখানে যাচ্ছি।

কুরবানির চামড়া নিয়ে ইসলামের বিধান— যা বলেছেন বিশ্বনবি (সা.)

কুরবানি মুসলিম উম্মাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এ ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাকওয়া অর্জনের চেষ্টা করে। কুরবানির পশুর গোশতের পাশাপাশি এর চামড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত, যার ব্যবহারে ইসলামের রয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। অনেকেই না জেনে কুরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ নিজের প্রয়োজনে ব্যয় করেন কিংবা কসাইয়ের পারিশ্রমিক হিসেবে দিয়ে দেন, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে সঠিক নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরবানির চামড়া ব্যবহার, বিক্রি ও এর অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে সুন্দর নির্দেশনা দিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنْكُمْ

‘আল্লাহর কাছে পৌঁছে না কুরবানির পশুর গোশত কিংবা রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ: আয়াত ৩৭)

এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয়— কুরবানির প্রতিটি বিষয়ই ইবাদতের অংশ। তাই চামড়ার ব্যবহার ও এর অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও ইসলামের বিধান মেনে চলা জরুরি।

কুরবানির চামড়ার ব্যবহার

কুরবানিকারী ব্যক্তি চাইলে নিজের কুরবানির পশুর চামড়া নিজে ব্যবহার করতে পারবেন। চামড়া দাবাগাত করে তা ঘরের কাজে ব্যবহার করাও জায়েজ। ইসলামে এ বিষয়ে কোনো বাধা নেই।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

اِنْتَفِعُوا بِجُلُودِهَا وَلَا تَبِيعُوهَا

‘তোমরা কুরবানির পশুর চামড়া দ্বারা উপকৃত হও; তবে তা বিক্রি করে দিও না।’ (মুসনাদে আহমাদ)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, চামড়া ব্যবহার করা বৈধ এবং তা অপচয় না করে উপকারী কাজে লাগানো উত্তম।

কুরবানির চামড়া বিক্রির বিধান

কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করা জায়েজ। তবে চামড়া বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা কুরবানিদাতা নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করতে পারবেন না। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী এ অর্থ গরিব-মিসকিন ও অভাবীদের মাঝে বিতরণ করতে হবে।

হজরত আলি (রা.) বর্ণনা করেন—

أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ أَقُومَ عَلَى بُدْنِهِ وَأَنْ أَتَصَدَّقَ بِلُحُومِهَا وَجُلُودِهَا وَأَجِلَّتِهَا وَلَا أُعْطِيَ الْجَازِرَ مِنْهَا شَيْئًا

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন আমি কুরবানির পশুর গোশত, চামড়া ও আচ্ছাদন সাদকা করি এবং কসাইকে এর কোনো অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে না দিই।’ (মুসলিম ১৩১৭, বুখারি)

এ হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, কুরবানির পশুর চামড়া বা গোশত দিয়ে কসাইয়ের মজুরি দেওয়া জায়েজ নয়।

চামড়ার বিক্রিত অর্থ কারা পাবে

যারা জাকাত ও ফিতরা পাওয়ার উপযুক্ত, তারাই কুরবানির চামড়ার মূল্য পাওয়ার হকদার। বিশেষ করে—

তালিবুল ইলম যদি ইয়াতিম বা অভাবগ্রস্ত হয়, তাহলে তাকে কুরবানির চামড়ার অর্থ প্রদান করা অধিক সাওয়াবের কাজ। কারণ দ্বীনি শিক্ষার সহায়তা করাও একটি বড় নেক আমল।

চামড়া গোশত দিয়ে কসাইয়ের মজুরি দেওয়া যাবে না

অনেকেই কসাইয়ের পারিশ্রমিক হিসেবে গোশত বা চামড়া দিয়ে থাকেন। অথচ হাদিসে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে। কসাইয়ের মজুরি আলাদা অর্থ দিয়ে পরিশোধ করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ ছিল—

وَلَا أُعْطِيَ الْجَازِرَ مِنْهَا شَيْئًا

‘কসাইকে যেন কুরবানির পশুর কোনো অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে না দেওয়া হয়।’ (মুসলিম ১৩১৭)

ইসলামের মূল শিক্ষা

কুরবানির মূল উদ্দেশ্য শুধু পশু জবেহ নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই কুরবানির চামড়াও যেন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং এর মাধ্যমে গরিব-দুঃখী মানুষের উপকার হয়— ইসলাম সে দিকনির্দেশনাই দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ

‘তোমরা কখনো পূর্ণ নেকি অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা নিজেদের প্রিয় বস্তু আল্লাহর পথে ব্যয় কর।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ৯২)

কুরবানির পশুর চামড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত। এটি অপচয় করা কিংবা এর অর্থ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যয় করা ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক নয়। বরং চামড়া নিজে ব্যবহার করা অথবা বিক্রি করে এর অর্থ গরিব, ইয়াতিম ও দ্বীনি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করাই উত্তম আমল। কুরবানির প্রতিটি বিষয় যেন সুন্নাহ অনুযায়ী সম্পন্ন হয়— সেটিই একজন মুমিনের দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরবানির চামড়ার যথাযথ ব্যবহার ও এর হক আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগে গড়া ‘হজ-কুরবানি’র হৃদয়ছোঁয়া ইতিহাস: ড. মিজানুর রহমান আজহারী

পৃথিবীর বুকে এমন কিছু দৃশ্য আছে, যা কেবল চোখে দেখা যায় না; হৃদয় দিয়েও অনুভব করতে হয়। তেমনই এক মহিমান্বিত দৃশ্য ও অনিন্দ্য সুন্দর অনুভূতির নাম—হজ। যেখানে মুছে যায় ভাষা, বর্ণ, দেশ, জাতি আর আত্মপরিচয়ের সব ব্যবধান। মানুষ ফিরে আসে তার রবের দরবারে। বিস্তীর্ণ আসমানের সামিয়ানার নিচে, শুভ্র ইহরামের সরল আবরণ গায়ে জড়ো হয় লাখো লাখো মুসলিম। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে আকাশ-বাতাস। তখন মনে হয়, মানবসভ্যতার সব পথ এসে যেন মিলিত হয়েছে এই রব্বে কা’বার ছায়াতলে।

‎হজ কেবল একটি ইবাদত-ই নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ সম্মিলনও বটে। এখানে রাজা-প্রজা আর সাদা-কালো, সব একই কাতারে মিশে যায়। সকল কণ্ঠে একই ঘোষণা—আমরা তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছি, হে আল্লাহ! আমাদের মালিক তুমি, আমাদের আশ্রয় তুমি, আমাদের প্রত্যাবর্তনও তোমারই দিকে।

‎হজের এই মহিমান্বিত রূপের নেপথ্যে রয়েছে এক মহামানবের দীর্ঘ সংগ্রাম। আছে অটল বিশ্বাস আর হৃদয়বিদারক ত্যাগের এক অসাধারণ ইতিহাস। তিনি হলেন আল্লাহর খলিল, মুসলিম জাতির পিতা নবী ইবরাহিম আলাইহিস সালাম।

তার জীবন ছিল পরীক্ষা দিয়ে ঘেরা। তাওহিদের ডাক দেওয়ার অপরাধে তাকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডের ভেতর। চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা, কাফেরদের নিষ্ঠুর উল্লাস, আর মাঝখানে অবিচল নবী ইবরাহিম। নির্ভিক তার মন। আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসায় টইটম্বুর হৃদয়। দেখিয়ে দিলেন তিনি—যার পাশে আল্লাহ আছেন, দুনিয়ার কোনো আগুনের কী সাধ্য যে তাকে স্পর্শ করে!

তবে এই পরীক্ষাই তার শেষ পরীক্ষা নয়। বরং আরও বেদনাবিধুর পথ উন্মুক্ত হলো তার সামনে। আল্লাহর আদেশে তিনি আপন স্ত্রী হাজেরা ‘আলাইহাস সালাম এবং শিশু পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামকে রেখে এলেন এক নির্জন মরুপ্রান্তরে। চারদিকে জনমানবহীন উপত্যকা, নেই পানি, নেই খাদ্য, নেই কোনো দৃশ্যমান সহায়।

একজন পিতা হিসেবে এ দৃশ্য কতটা কঠিন ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা সহজ নয়। কিন্তু নবীর হৃদয় ছিল আল্লাহর নির্দেশের সামনে সম্পূর্ণ নত। তিনি জানতেন, যে রব আদেশ করেছেন, তিনিই খুলে দেবেন রিজিকের দরজা।

‎সেই নির্জন প্রান্তরে হাজেরার (আলাইহাস সালাম) সাফা ও মারওয়ার মাঝে ছুটে চলা কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না। তা ছিল এক মায়ের হৃদয়-চেরা আকুতি। রব্বে করীমের প্রতি তার এক অনুগত বান্দীর নির্ভরতার অমর স্মৃতিকথা। আর শিশু ইসমাইলের (আলাইহিস সালাম) পায়ের কাছে যখন বয়ে গেল জমজমের ধারা, তখন মরুভূমির বুকেই উন্মোচিত হলো বারাকাহর এক চিরন্তন দরজা। নীরব আর জনমানবহীন মরুপ্রান্তর পরিণত হলো তাওহিদের কেন্দ্রভূমি, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের কিবলায়।

‎এরপর এল আরেক অগ্নিপরীক্ষা—যা মানব-ইতিহাসে ত্যাগের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) স্বপ্নে নির্দেশ পেলেন প্রিয় পুত্রকে কোরবানি করার। একদিকে সন্তানের প্রতি গভীর ভালোবাসা, অন্যদিকে রবের আদেশ। পাহাড়ের চেয়েও দৃঢ় ইমানী শক্তি নিয়ে তিনি পুত্রকে জানালেন আল্লাহর নির্দেশের কথা।

ইসমাইল আলাইহিস সালামও ছিলেন আদর্শ সন্তান। তাঁর কণ্ঠেও ফুটে উঠল রবের প্রতি আত্মসমর্পণের বাণী—আব্বাজান, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তা-ই করুন; ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন। ‎এ কেবল পিতা-পুত্রের নিছক কোন ঘটনা নয়। এটি ছিল ইমান আর তাওয়াক্কুলে পরিপূর্ণ এক মহাসমুদ্র, যেখানে আল্লাহর আদেশের সামনে মাথা নত করেছে দুনিয়াবি ভালোবাসা।

ছুরি প্রস্তুত, পুত্র শায়িত, পিতা দৃঢ় সংকল্পে অগ্রসর। ঠিক সেই মুহূর্তে নেমে এলো আল্লাহর কুদরত। ইসমাইল আলাইহিস সালামের পরিবর্তে কোরবানি হয়ে গেল দুম্বা। আর মানুষের জন্য প্রস্ফুটিত হলো এক মহান শিক্ষা—আল্লাহ তা’আলা রক্ত চান না। তিনি চান হৃদয়ের অদৃশ্য তাকওয়া। বান্দার পরিপূর্ণ আনুগত্য ও আত্মসমর্পণই তার সর্বোত্তম যোগ্যতা।

সূত্র: শনিবার (২৩ মে ২০২৬) সুপরিচিত আলেম ও ওয়ায়েজ ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে।

বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করল কলম্বিয়া, অধিনায়ক রদ্রিগেজ

জেমস রদ্রিগেজকে অধিনায়ক করে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া। ৩৪ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডারের সঙ্গে কলম্বিয়া দলে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের উইঙ্গার লুইস দিয়াজ। কিছুদিন আগেও গুঞ্জন উঠেছিল প্রাণঘাতী পেশিক্ষয় রোগে ভুগছেন জেমস রদ্রিগেজ, তবে সেই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিলেন অভিজ্ঞ এই তারকা।

কলম্বিয়া বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

গোলরক্ষক

কামিলো ভার্গাস, আলভারো মনতেরো ও ডেভিড ওসপিনা।

রক্ষণভাগ

দাভিনসন সানচেজ, জন লুকুমি, ইয়েরি মিনা, উইলার দিত্তা, ড্যানিয়েল মুনিওজ, সান্তিয়াগো আরিয়াস, জোহান মোহিকা ও ডেইভার মাচাদো।

মিডফিল্ডার

রিচার্ড রিওস, জেফারসন লেরমা, কেভিন কাস্তানো, হুয়ান কামিলো পোর্তিয়া, গুস্তাভো পুয়ের্তা, জন আরিয়াস, হোর্হে কারাসকাল, হুয়ান ফার্নান্দো কুইন্তেরো, জেমস রদ্রিগেজ (অধিনায়ক) ও জামিন্তন কাম্পাস।

আক্রমণভাগ

হুয়ান কামিলো হার্নান্দেজ, লুইস দিয়াজ, লুইস সুয়ারেজ, কার্লোস আন্দ্রেস গোমেজ ও জন কর্দোবা।

প্রসঙ্গত, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার পর, লাতিন আমেরিকার দেশটি আবারও ফিরেছে বিশ্বকাপে। ১৭ জুন গ্রুপ ‘কে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে প্রথমবারের মতো খেলতে আসা উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া। এরপর গ্রুপ পর্বে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ কঙ্গো ও পর্তুগাল।

পবিত্র হজ আজ, ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর আরাফাত

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন আজ। আরাফাতের ময়দানে সমবেত হতে শুরু করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো হজযাত্রী। তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’ যার অর্থ, ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই; সব প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব একমাত্র তোমারই।

গতকাল থেকেই শুরু হয়েছে হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। মক্কা থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরের তাঁবুর নগরী মিনা ভরে ওঠে সাদা ইহরামে আবৃত আল্লাহর মেহমানদের পদচারণায়। সেখানে ইবাদত ও প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে রাত কাটিয়ে মঙ্গলবার ফজরের পর হাজিরা রওনা হয়েছেন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে।

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজগুলোর একটি হলো আরাফাতে অবস্থান, যাকে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ বছর বিশ্বের নানা দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি মুসল্লি হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে সমবেত হয়েছেন। ভাষা, বর্ণ ও দেশের ভিন্নতা ভুলে সবাই এক কাতারে মিলিত হয়েছেন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায়।

ঐতিহাসিক এই আরাফাতের ময়দান মুসলিমদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রায় ১৪০০ বছর আগে এখানেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। আজও সেই ময়দানজুড়ে দিনভর দোয়া, জিকির, তিলাওয়াত ও আত্মসমর্পণের আবহ বিরাজ করবে।

আরাফাতে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে আজ হজের খুতবা প্রদান করা হবে। খুতবা ও নামাজের মধ্য দিয়ে হাজিরা কাটাবেন দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করে তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত ও কল্যাণ প্রার্থনা করবেন।

ধর্মীয় বর্ণনায় আরাফাতের দিনের দোয়ার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসর নামাজ আদায় করবেন এবং সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গভীর বিনয় ও আবেগে নিজেদের পাপমুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনায় মগ্ন হবেন। নিজেদের পাশাপাশি পরিবার, আত্মীয়স্বজন, দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনাও করবেন তারা।

হাদিসে আরাফাতের দিনের মর্যাদা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্ণনা রয়েছে, এ দিনে আল্লাহ অসংখ্য মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন এবং হাজিদের জন্য রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেন।

সূর্যাস্তের পর হজযাত্রীরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার পথে রওনা হবেন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন ও পাথর সংগ্রহের পর ১০ জিলহজ আবার মিনায় ফিরে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। পরে কাবা শরিফ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈর মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে পূর্ণতা পাবে পবিত্র হজের এবারের যাত্রা।

আরাফার রোজা কবে ২০২৬? সঠিক তারিখ, ফজিলত ও আমল

আরাফার রোজা কবে ২০২৬: ২০২৬ সালে পবিত্র হজ ও আরাফার দিন সৌদি আরবে ২৬ মে (মঙ্গলবার) পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে জিলহজ মাসের তারিখ নির্ধারিত হয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে বাংলাদেশে ২৭ মে (বুধবার) জিলহজ মাসের ৯ তারিখ বা আরাফার দিন হতে পারে। ইসলামি স্কলারদের মতে, তারিখের এই মতপার্থক্য এড়াতে এবং পূর্ণ সওয়াব নিশ্চিত করতে বাংলাদেশীদের জন্য ২৬ ও ২৭ মে (মঙ্গলবার ও বুধবার) উভয় দিনই নফল রোজা রাখা সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম।

আরাফার রোজা কবে ২০২৬

আরাফার রোজা রাখার তারিখ নিয়ে আমাদের দেশে প্রতি বছরই একটি ধোঁয়াশা তৈরি হয়। আমরা কি সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে যেদিন হাজীরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন সেদিন রোজা রাখব? নাকি আমাদের দেশের চাঁদ দেখা অনুযায়ী ৯ জিলহজ তারিখে রাখব?

ওলামায়ে কেরামের গবেষণায় এখানে দুটি মত পাওয়া যায়:

  1. হাজীদের অবস্থানের দিন (আরাফার ময়দান কেন্দ্রিক): অনেক আলেমের মতে, আরাফার রোজা মূলত আরাফাতের ময়দানে হাজীদের অবস্থানের সাথে সম্পৃক্ত। তাই পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, হাজীরা যেদিন আরাফাতে থাকবেন সেদিনই রোজা রাখা উচিত। ২০২৬ সালের সম্ভাব্য ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিনটি হলো ২৬ মে, মঙ্গলবার (যা বাংলাদেশে সম্ভবত ৮ জিলহজ হবে)।
  2. নিজ দেশের তারিখ অনুযায়ী (জিলহজ কেন্দ্রিক): অন্য স্কলারদের মতে, ইসলামি শরীয়ত চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। ‘ইয়াওমে আরাফা’ বা আরাফার দিন মূলত জিলহজ মাসের ৯ তারিখকেই বোঝায়। তাই নিজ দেশের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী যেদিন ৯ জিলহজ হবে, সেদিনই রোজা রাখতে হবে। বাংলাদেশে এই দিনটি হতে পারে ২৭ মে, বুধবার

কোন দিনটি বেছে নেবেন?

যেহেতু কোনো মতের পক্ষেই সুস্পষ্ট ও সরাসরি কোনো হাদিস নেই (উভয়টিই গবেষণামূলক), তাই সবচেয়ে টেকসই এবং নিরাপদ আমল হলো উভয় দিন রোজা রাখা। জিলহজ মাসের প্রথম ৯ দিনই নফল রোজা রাখা মুস্তাহাব। তাই আপনি যদি ২৬ মে এবং ২৭ মে (মঙ্গলবার ও বুধবার) দুই দিনই রোজা রাখেন, তবে নিঃসন্দেহে আপনার আরাফার রোজা আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

আরাফার রোজার বিশাল ফজিলত মর্যাদা

সারা বছরের যেকোনো নফল রোজার চেয়ে আরাফার দিনের রোজার মর্যাদা সবচেয়ে বেশি। সহীহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, নবী কারীম (সা.) এই রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলেছেন:

  • দুই বছরের গুনাহ মাফ: আরাফার দিনের একটি রোজার বিনিময়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বান্দার এক বছর পূর্বের এবং আগামী এক বছরের (অগ্রিম) ছোটখাটো গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন।
  • জাহান্নাম থেকে মুক্তি: বছরের অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় এই দিনে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।
  • শ্রেষ্ঠ দোয়া কবুলের দিন: আরাফার দিনের দোয়াকে সারা বছরের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দোয়া হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

(নোট: এই রোজাটি শুধুমাত্র তাদের জন্য, যারা হজে যাননি এবং নিজ নিজ দেশে অবস্থান করছেন। হাজীদের জন্য আরাফার রোজা রাখা মুস্তাহাব নয়।)

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ আমল

জিলহজ মাসের প্রথম দশক (১-১০ তারিখ) ইবাদতের বসন্তকাল। এই দিনগুলোর নেক আমল আল্লাহর কাছে জিহাদের চেয়েও বেশি প্রিয়। এই দশকে যে আমলগুলো বেশি বেশি করা উচিত:

  • নফল রোজা: সম্ভব হলে ১ থেকে ৯ জিলহজ পর্যন্ত প্রতিদিন রোজা রাখা। অন্তত ৮ ও ৯ জিলহজ রোজা রাখা।
  • তাকবির, তাহমিদ তাহলিল: চলতে-ফিরতে, বাজারে বা ঘরে বেশি বেশি পাঠ করা— আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ’
  • আরাফার দিনের শ্রেষ্ঠ দোয়া: আরাফার দিন বেশি বেশি এই জিকিরটি পড়া: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলক ওয়া লাহুল হামদ, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’
  • চুল নখ কাটা থেকে বিরত থাকা: যারা কোরবানি করার নিয়ত করেছেন, তারা জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত শরীরের অবাঞ্ছিত পশম, চুল এবং নখ কাটা থেকে বিরত থাকবেন।
  • রোজাদারকে ইফতার করানো: আরাফার দিন প্রচুর মানুষ নফল সিয়াম পালন করেন। এ দিন অন্য রোজাদারকে ইফতার করালে সমান সওয়াব পাওয়া যায়।

১. আরাফার রোজা কি একটি না দুটি?

উত্তর: আরাফার রোজা মূলত একটি। তবে ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার ভিন্নতার কারণে তারিখ নিয়ে কনফিউশন তৈরি হয়। তাই সতর্কতা হিসেবে স্কলাররা নিজ দেশের ৮ ও ৯ জিলহজ মিলিয়ে মোট দুটি রোজা রাখার পরামর্শ দেন।

২. আরাফার রোজা যদি শুক্রবার পড়ে, তবে কি রাখা যাবে?

উত্তর: শুধু জুমার দিন (শুক্রবার) এককভাবে নফল রোজা রাখতে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে। তবে দিনটি যদি আরাফার দিন হয়, তবে শুক্রবার হলেও রোজা রাখা জায়েজ। কারণ আপনি শুক্রবার হিসেবে নয়, বরং আরাফার দিন হিসেবে রোজাটি রাখছেন।

৩. যারা কোরবানি করবেন না, তারা কি চুল-নখ কাটা থেকে বিরত থাকবেন?

উত্তর: এই নিয়মটি মূলত তাদের জন্য যারা কোরবানি করবেন। তবে কোনো কোনো আলেমের মতে, কোরবানি করার সামর্থ্য না থাকলেও জিলহজের প্রথম ১০ দিন চুল-নখ না কেটে ঈদের দিন কাটলে কোরবানির সওয়াব পাওয়া যেতে পারে।

৪. কিস্তিতে কোরবানির পশু বা পণ্য কিনলে কি গুনাহ হবে?

উত্তর: না। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট মূল্যে এবং নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তিতে কিস্তিতে কেনাবেচা করা সম্পূর্ণ হালাল, যদি সেখানে কোনো লুকানো সুদ বা ইন্টারেস্ট না থাকে।

রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী পেলেন রামিসা হত্যার আসামি

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহকে স্টেট ডিফেন্স ল’ ইয়ার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

রবিবার (২৪ মে) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত এ আদেশে বলা হয়, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর-১৩৯০/২০২৬-এ আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহকে স্টেট ডিফেন্স ল’ ইয়ার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৩

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় একটি প্রাইভেট কারের তিন যাত্রী আহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) ভোররাতে দোগাছি ও সমষপুর এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত চালকের নাম মো. হোসেন (৩৫)। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার বেলগাছি মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, রাত ২টার দিকে দোগাছি সেনা ক্যাম্পের সামনে দুটি মালবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এসময় এক ট্রাকচালক গুরুতর আহত অবস্থায় গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, রাত ৩টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের সমষপুর যাত্রী ছাউনির সামনে মাওয়ামুখী লেনে বাস-প্রাইভেট কার-বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটে। এতে প্রাইভেট কারের তিন যাত্রী আহত হন। আহতরা হলেন, মোহাম্মদ তৌফিক সিদ্দিক (বগুড়া), সিনতিয়া (ফরিদপুর) ও হামিদা (সিরাজগঞ্জ)।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর এক্সপ্রেসওয়ের উভয় স্থানে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে ভোররাত থেকে কয়েক ঘণ্টা যাত্রী ও পরিবহন চালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। বর্তমানে নিহতের মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পৃথক ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।