বিদ্যুতের দাম বাড়ল প্রায় ২০ শতাংশ

এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ১ দশমিক ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটির পরামর্শে বিদ্যুৎ বিভাগ সোমবার দাম বৃদ্ধির এই প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে পাঠিয়েছে। তবে রীতি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো কমিশনের কাছে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়ে থাকে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে প্রস্তাব পেলে তা আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ (পিডিবি) বিতরণ কোম্পানিগুলো প্রস্তাব পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুসারেই এটি তৈরি করছে। চলতি সপ্তাহেই সেগুলো বিইআরসিতে পাঠানো হতে পারে। এরপর বিইআরসি গণশুনানি করে দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেবে। জুনের শুরুতেই নতুন দর কার্যকর হতে পারে।

জ্বালানি আমদানি ব্যয়ে ঊর্ধ্বগতি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের বড় ব্যবধান এবং ভর্তুকির বাড়তি চাপ সামাল দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে সরকার। ওই কমিটির পরামর্শেই বিদ্যুৎ বিভাগ প্রস্তাব দিয়েছে। পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিমও বলেছেন, তারা প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এর ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও নতুন চাপ তৈরির শঙ্কা রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ১.৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে ব্যবহারভিত্তিক স্তর অনুযায়ী ভিন্ন হারে মূল্য সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে লাইফলাইন বা স্বল্প ব্যবহারকারী গ্রাহকদের (৭০ ইউনিট পর্যন্ত) আপাতত এই বাড়তি চাপের বাইরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়।

বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা দামের তুলনায় প্রায় ৫ টাকা ৫০ পয়সা বেশি। এই ঘাটতির কারণে ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আরও প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে এ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ দিয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের বড় অংশ আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এছাড়া অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি উৎপাদনে না থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এসেছে বড় স্বস্তির খবর। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ বাংলাদেশে ডিজিটাল মাধ্যমে দেখার সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে। দেশের অন্যতম ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক আসন্ন বিশ্বকাপের ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব অর্জন করেছে।

এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’র মাধ্যমে দেশের দর্শকরা বিশ্বকাপের সব ম্যাচ সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরটি ঘিরে বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যে যে সম্প্রচার-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ছিল, এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে তার অনেকটাই দূর হলো।

বুধবার বাংলালিংক তাদের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলালিংক গ্রাহকরা নির্দিষ্ট ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহার করে টফি প্ল্যাটফর্মে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো দেখতে পারবেন।

বাংলালিংকের করপোরেট ও নিয়ন্ত্রক বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা তাইমুর রহমান বলেন, বিশ্বকাপের ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব অর্জনের মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগীর জন্য আন্তর্জাতিক মানের স্ট্রিমিং সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক সক্ষমতা এবং টফির প্রযুক্তিগত অবকাঠামো দর্শকদের নিরবচ্ছিন্ন ম্যাচ উপভোগের অভিজ্ঞতা দেবে।

তবে টেলিভিশন চ্যানেলে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে আপাতত ডিজিটাল মাধ্যমেই বিশ্বকাপ দেখার নিশ্চয়তা পেলেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। যৌথভাবে আসরটির আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। এবারই প্রথম বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেবে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নতুন এই ফরম্যাটে আরও বেশি ম্যাচ ও বাড়তি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবল।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেন জাপানের মিতসুই অ্যান্ড কোম্পনির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সিইও মাকাতো সাতো।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে জাপানের অন্যতম বৃহৎ ট্রেডিং ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোম্পনির একটি প্রতিনিধি দল।

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। মিতসুই বৈশ্বিক পর্যায়ে লজিস্টিকস, অবকাঠামো, ধাতু, জ্বালানি এবং খাদ্য বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, বৈঠকে খাদ্য, কৃষি, জ্বালানি ও আইসিটিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়, বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে এবং বিদেশিদের বিনিয়োগ আকর্ষণ ও সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সেবা ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’-এর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়।

সাক্ষাৎকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

মিতসুইয়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাকাতো সাতো। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া প্যাসিফিক বিজনেস ইউনিটের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার তাকানোবু মুরায়ামা, মিতসুই বাংলাদেশের কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনইচিরো কাওয়ামোতো এবং ঢাকা শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান।

ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় ও চিকিৎসকের ফি মওকুফের নির্দেশ

ডেঙ্গু চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ সিট ফাঁকা রাখা এবং টেস্টে ৮০ শতাংশ ছাড়ের নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন ওষুধ প্রয়োগ বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও গাইডলাইন বিষয়ক সভায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, প্যাথলজি, বেসরকারি হাসপাতাল, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে ডেঙ্গু মোকাবেলার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সংকটের বিষয়টি উঠে আসে। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে ১০ শতাংশ বেড ফাঁকা রাখতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গুর টেস্টে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে হবে। শুধু ওষুধ ও খাবারের খরচ রোগী বহন করবে। ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে।

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনায় ওষুধ প্রয়োগে যথাযথ নিয়ম অনুসরণের নির্দেশনাও দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, বর্তমানে ডেঙ্গুর কোনো ভ্যাকসিন আন্তর্জাতিকভাবে সার্বজনীন স্বীকৃতি পায়নি। এ কারণে দেশে এখনই ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালুর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে কঠোরভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। কারও বাসার ছাদ বা আশপাশ অপরিচ্ছন্ন থাকলে এবং সেখানে মশার লার্ভা পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হবে।

চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড, মিলবে বিএমইটি’র সেবাও

প্রবাসীদের জন্য একক ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্ড চালু হলে আলাদা করে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) কার্ডের প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

আজ মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কার্ড হলে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। এতগুলো আলাদা কার্ডের প্রয়োজন নেই। আমরা চাই, একটি কার্ডের মাধ্যমেই প্রবাসীরা সব ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

মন্ত্রী জানান, শুধু রেমিট্যান্স যোদ্ধারাই নয়; ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রবাসী কার্ডটি ক্রেডিট কার্ডের মতো কাজ করবে এবং এর মাধ্যমে ডিজিটাল পরিচয়, ব্যাংকিং সুবিধা, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সরকারি সেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এখনো চূড়ান্ত সুবিধাগুলো নির্ধারণ করিনি। তবে কীভাবে সহজে রেমিট্যান্স পাঠানো যায়, ব্যাংকিং গেটওয়ে কীভাবে কাজ করবে এবং কারেন্সি সংক্রান্ত সুবিধা কীভাবে দেওয়া যায়—এসব বিষয় নিয়ে কাজ চলছে।

আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ভূমি সংক্রান্ত সেবা ও হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিক সুবিধা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা যেন ভূমি অফিসে বা হাসপাতালে গিয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার পান, সেই ব্যবস্থা করতে চাই।’

এদিকে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সোমবার জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার থেকেই এই সেলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রবাসীরা সরাসরি কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। খুব শিগগিরই অভিযোগ পাঠানোর পদ্ধতি প্রকাশ করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের এ সেল গঠন করা হয়েছে। এতে আইন, কল্যাণ, সেবা ও এনফোর্সমেন্ট শাখার কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অন্যদিকে মালয়েশিয়াগামী হাজারো কর্মীর শেষ মুহূর্তে বিদেশ যেতে না পারার ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের দুর্ভোগ, বিমানের টিকিট সংকট এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কারসাজির অভিযোগ তদন্তে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব এজেন্সি কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়েও টিকিট দিতে ব্যর্থ হয়েছে বা প্রতারণা করেছে, তদন্ত শেষে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলাও করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরও কতজন কর্মী আটকা পড়েছেন, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার।

তিনি জানান, মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে, যাতে বিশেষ বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পুনরায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় অথবা সময়সীমা বাড়ানো যায়। কোনো সিন্ডিকেট বা প্রভাবশালী চক্রের কাছে সরকার মাথা নত করবে না। অভিবাসন খাতকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএমইটির কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

দেশজুড়ে গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন, ৩৫-৩৭ ডিগ্রি তাপমাত্রায় অতিষ্ঠ ঢাকা, দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষ।

দেশজুড়ে তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাজধানী ঢাকা, দোহার ও নবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এর সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল থেকে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরম বিরাজ করে। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া অনেক মানুষকে বাইরে বের হতে দেখা যায়নি। খোলা আকাশের নিচে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক ও দিনমজুরদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।
দোহার ও নবাবগঞ্জেও একই চিত্র দেখা গেছে। দিনের বেশির ভাগ সময় রোদের তীব্রতা ও গরমে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বাজার, সড়ক ও জনসমাগমস্থলগুলোতে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই ছায়াযুক্ত স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা যায়।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহের প্রভাব রয়েছে। একই সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। তবে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে কোথাও কোথাও বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমাতে পারে।

এদিকে চিকিৎসকরা অতিরিক্ত গরমে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, হালকা ও সুতির পোশাক পরিধান করা এবং দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

নয়াদিল্লিতে ৮ জুন শুরু হচ্ছে বিজিবি-বিএসএফের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন ৮ থেকে ১১ জুন ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে সীমান্তসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে।

সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর ও যৌথ নদী কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা থাকবেন।

অন্যদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেবে। তাদের দলে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করবেন।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে সম্মেলনে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাফলংয়ে পানিতে ডুবে পর্যটকের মৃত্যু

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ে পানিতে ডুবে ইমতিয়াজ হোসেন রাহী (১৬) নামের এক পর্যটক মারা গেছে।

গত সোমবার (১ জুন) বিকেল ৪টার দিকে জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় ডুবুরি দল ও পুলিশ। নিহত ওই পর্যটক চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানার ফতেহাবাদ গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে রাহীসহ ১২ জনের একটি দল জাফলংয়ে বেড়াতে আসে। বিকেলের দিকে রাহীসহ কয়েকজন মিলে জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকায় গোসলে নামে। গোসলের একপর্যায়ে রাহী স্রোতের টানে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ডুবুরিদের জানান। তারা ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে নিখোঁজের দুই ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে উদ্ধার করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে ওই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঈদের আমেজে দোহার-নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জে নির্বাচনী উত্তাপ

শরিফ হাসান, মো আল-আমিন, আশিক হোসেন, আমিনুল ইসলাম | দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ:
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র এখন উৎসবের আমেজ। তবে এবারের ঈদে পশুর হাটের প্রচারণার পাশাপাশি এক ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক তৎপরতা জনমনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তিন উপজেলার প্রতিটি মোড়, হাট-বাজার, রাস্তার পাশ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এখন ছেয়ে গেছে বাহারি ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার আর তোরণে। এসব প্রচারণার সিংহভাগই এসেছে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষ থেকে।

স্থানীয়রা জানান, কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় নির্বাচনি হাওয়া জোরালো হচ্ছে। যারা আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা এই উৎসবকে নিজেদের জানান দেওয়ার ‘মোক্ষম সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন। ব্যানারে ঈদের শুভেচ্ছার আড়ালে নিজেদের ছবি ও রাজনৈতিক পরিচয় ফুটিয়ে তুলে ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছেন তারা।

প্রার্থীরা তাদের ডিজিটাল ব্যানার ও ফেস্টুনগুলো দীর্ঘস্থায়ী ও সুরক্ষিত রাখতে কাঠের ফ্রেমে বন্দি করে গাছ কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঝুলিয়ে দিচ্ছেন। এই প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দোহারের জয়পাড়া ও লটাখোলা জমিদার বাড়ি এলাকার ফ্রেম প্রস্তুতকারী ব্যবসায়ীরা এখন চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কারিগরের তথ্যমতে, ব্যানারের আকারভেদে ফ্রেমের দাম নির্ধারিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৩×২ ফিট ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১০×৫ ফিট সাইজের ফ্রেম ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। রানা নামে একজন কারিগর জানান, ঈদের সময় যত এগিয়ে আসছে, অর্ডার ততই বাড়ছে। দিন-রাত কাজ করেও চাহিদা মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

ডিজিটাল ব্যানারের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘স্পন্সরড’ ভিডিও বার্তার মাধ্যমেও চলছে শুভেচ্ছা বিনিময়। চা-দোকান থেকে সামাজিক আড্ডা—সবখানেই কোরবানির পশুর দামের পাশাপাশি আগাম নির্বাচনি প্রচার ও প্রার্থীদের নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

তবে যত্রতত্র তোরণ ও ব্যানার টাঙানোর ফলে জনভোগান্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রচারণা অবশ্যই সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হওয়া উচিত, যাতে উৎসবের আমেজে সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ঈদুল আজহা মূলত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাঠের লড়াইয়ের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করে দিচ্ছে। একদিকে পশুর হাটের হাঁকডাক, অন্যদিকে হবু প্রার্থীদের জনসংযোগের ছক—সব মিলিয়ে দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের এই জনপদে এখন কোরবানির পশুর পালের পাশাপাশি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আগাম নির্বাচনী আমেজ।

নবাবগঞ্জ ও দোহারে নতুন পুলিশ সুপার: কাজের মাধ্যমেই পুলিশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে

মাহমুদুল হাসান সুমন: ঢাকা জেলার নবাগত পুলিশ সুপার শামিমা বলেছেন, পুলিশের প্রতি মানুষের যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, তা দূর করে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে কাজের মাধ্যমেই। জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৬ মে) নবাবগঞ্জ থানা পরিদর্শনে এসে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পরিদর্শন করেন। পরে বিকেলে দোহার থানা পরিদর্শন করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপরাধ সংগঠিত হতে দেওয়া হবে না। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সুপার জানান, অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সাভারে তিনজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত এবং একজন ওসিকে ক্লোজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের মূল কাজ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ সহ্য করা হবে না। সেবার মান বাড়িয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।

এসময় আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাটে নিরাপত্তা জোরদার, ছিনতাই ও দস্যুতা প্রতিরোধে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি থানার বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কেও খোঁজ-খবর নেন।
এসময় বিশুদ্ধ পানির জন্য সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন দোহার সার্কেলের জ্যেষ্ঠ এএসপি শামীম হোসেন, নবাবগঞ্জ থানার ওসি আবু হানিফ, দোহার থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক, ঢাকা দক্ষিণ ডিবির ওসি সফিকুর রহমান এবং ট্রাফিক দক্ষিণের পরিদর্শক শহিদুল ইসলামসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা।