“সবুজে ছেয়ে যাচ্ছে মরুভূমি” হাদিসে যা বলা হয়েছে – বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

0

আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য। নির্ধারিত সময়ের পর আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী ধ্বংস করে দেবেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবেএকটি মাত্র ফুঁক; তখন জমিন পর্বতমালাকে উড়ানো হবে। মাত্র একটি আঘাতে সব চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে। ফলে সে দিন মহাপ্রলয় সংঘটিত হবে। আসমান বিদীর্ণ হয়ে যাবে। ফলে সেদিন তা হয়ে যাবে দুর্বল বিক্ষিপ্ত। ফেরেশতারা আসমানের বিভিন্ন প্রান্তে থাকবে। সেদিন তোমার রবের আরশকে আটজন ফেরেশতা তাদের ঊর্ধ্বে বহন করবে। সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোনো গোপনীয়তাই গোপন থাকবে না। (সূরা আল হাক্কাহ, আয়াত, ১৩১৮)

অপর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সেদিন জমিন ও পর্বতমালা প্রকম্পিত হবে এবং পাহাড়গুলো চলমান বালুকারাশিতে পরিণত হবে।’ (সূরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত, ১৪)।

কেয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার আগে বেশ কিছু আলামত প্রকাশ পাবে। যার মাধ্যমে বোঝা যাবে যে, কেয়ামত নিকটবর্তী।কোরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং হাদিসে কেয়ামতের আলামতগুলো বর্ণিত হয়েছে। আলামতগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, তীব্র ঠান্ডা ও দাবদাহসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যাপক হারে বেড়ে যাবে। এতে করে মাঠঘাট যেমন ফসলহীন হয়ে পড়বে; প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আবার মরু অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির কারণে ঘটবে এর উল্টোটা। বন্যার কবলে পড়ে বিপর্যস্ত হবে আরব অঞ্চল। পানির ছোঁয়ায় শুষ্ক মরুভূমি হয়ে যাবে সবুজ অরণ্যে।

হজরত আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে না যে পর্যন্ত সম্পদের প্রাচুর্য না আসবে। এমনকি কোনো ব্যক্তি সম্পদের জাকাত নিয়ে ঘুরবে কিন্তু নেয়ার মত লোক পাবে না। আরবের মাঠ ঘাট তখন চারণভূমি ও নদী-নালায় পরিণত হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস, ২২২৯)

হাদিস বিশারদদের মতে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের বর্ণনায় শুধু বর্তমান সৌদি আরব উদ্দেশ্য নয়। কোরআন-হাদিসের ভাষায় আরব বলে গোটা আরব উপদ্বীপকে বোঝায়। শুধু সৌদ রাষ্ট্রকে নয়। আরব উপদ্বীপকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ নিয়ে গঠিত ছিল, যা পরবর্তী সময়ে আলাদা আলাদা দেশে বিভক্ত হয়েছে।

আরব উপদ্বীপের দেশগুলো হলো, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত সাতটি স্বাধীন রাষ্ট্রের একটি ফেডারেশন আবুধাবি, আজমান, দুবাই, আল ফুজাইরাহ, রাআস আল খাইমাহ, আশ শারজাহ এবং উম্ম আল-কাইওয়াইন। আবুধাবি শহর ফেডারেশনের রাজধানী ও দুবাই দেশের বৃহত্তম শহর), ইয়েমেন ও ওমান।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেয়ামতের যেসব আলামতের বর্ণনা দিয়েছেন, তার মধ্যে বড় আলামতগুলো হলো- ইমাম মাহদির আত্মপ্রকাশ, মিথ্যুক দাজ্জালের আবির্ভাব, ঈসা আলাইহিস সালামের আগমন, ইয়াজুজ-মাজুজের আত্মপ্রকাশ, পূর্ব-পশ্চিম ও আরব অঞ্চলে বড় ধরণের তিনটি ভূমিধ্বস, বিশাল ধোঁয়া, পশ্চিম গগণে সূর্যোদয়, অদ্ভুত জন্তুর প্রকাশ, ইয়েমেন থেকে আগুন বের হয়ে মানুষকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। -(সহিহ জামে আস্-সগীর, হাদিস ৭৭৫২)।

ঘরে তালা দিয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার-২

ঢাকার দোহার উপজেলার ধীৎপুর এলাকায় চাঞ্চল্যকর একই পরিবারের ৫ জনকে রাতের আধারে ঘুমন্ত অবস্থায় বাড়িতে তালাবদ্ধ করে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ রুবেল (২১) ও তার প্রধান সহযোগী মোঃ রানা মাহমুদ (২৪) কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০।

গ্রেপ্তারকৃত মোঃ রুবেল উপজেলার ধীৎপুর এলাকার মোঃ সুলতান শেখ এর ছেলে ও প্রধান সহযোগী মোঃ রানা মাহমুদ একই এলাকার নুরু শেখ এর ছেলে।

শুক্রবার (১৯ জানুয়ারী) বেলা ১১ টার দিকে
মুন্সিগঞ্জের বালাশুর র‌্যাব ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব ১০ এর কোম্পানী কমান্ডার এএসপি- এ, কে এম কাউসার চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১০ জানান, গত ১৬ জানুয়ারি আনুমানিক রাত তিনটার দিকে দোহার উপজেলার ধীৎপুর এলাকায় বসবাসকারী শেখ জুলহাস উদ্দিন (৪৮), তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (৩৫), মেয়ে জান্নাত (১২), ছেলে জুনায়েদ (০৯) ও ভাতিজি তাবাসসুম (০৯) এই একই পরিবারের ৫ জনকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা হত্যার উদ্দেশ্যে জুলহাস উদ্দিনের বসবাসরত বাড়ীতে (টিনসেড বিল্ডিং) বাহির হতে তালাবদ্ধ করে ঘরের চতুর্দিকে পেট্রোল ঢেলে আগুন জালিয়ে দেয়। পরে আগুনের তাপে ও আশবাবপত্র পুড়ার বিকট শব্দে জুলহাস উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ সময় এরা প্রাণ বাচাঁতে ও আসবাবপত্র রক্ষা করার জন্য এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করে এবং দরজা খুলার চেষ্টা করে। কিন্তু কোন ভাবেই দরজা খুলতে না পেরে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে ডাক-চিৎকার করতে থাকে। পরে ডাক-চিৎকারের এক পর্যায় জুলহাস উদ্দিনের ছোট ভাই মুক্তার হোসেন (৩৮) ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বাথরুমের দেওয়াল ভেঙ্গে জুলহাস উদ্দিনসহ তাদের পরিবারের সবাইকে আগুনে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় জুলহাস উদ্দিনের ছোট ভাই ও স্থানীয় লোকজন দোহার থানা পুলিশ ও দোহার উপজেলা ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দিলে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

পরে জুলহাস উদ্দিনের ছোট ভাই ও স্থানীয় লোকজনদের সহযোগীতায় জুলহাস উদ্দিনসহ তার পরিবারের আহত সবাইকে চিকিৎসার জন্য দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে রেফার্ড করেন।

র‌্যাব-১০ আরও জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগি জুলহাস উদ্দিনের ছোট ভাই মুক্তার হোসেন (৩৮) বাদী হয়ে দোহার থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৬, তাং-১৬/০১/২০২৪ খ্রিঃ, ধারা-৩০৭/৪৩৬/৪২৭ দÐ বিধি।

এরই প্রেক্ষিতে অজ্ঞাতনামা আসামীদেরকে শনাক্ত করতে ও তাদেরকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গতকাল (১৮ জানুয়ারি) আনুমানিক রাত ৮ টার দিকে র‌্যাব-১০ এর আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা এবং র‌্যাব-৪ এর সহযোগীতায় রাজধানী ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে এ ঘটনার পরিকল্পনাকারী মোঃ রুবেল কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃত রুবেল এর দেয়া তথ্যমতে উপজেলার ধীৎপুর এলাকায় অপর একটি অভিযান পরিচালনা করে এবং সেখান থেকে এ ঘটনার প্রধান সহযোগী মোঃ রানা মাহমুদ গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-১০ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মোঃ রুবেল পেশায় একজন কাঠ মিস্ত্রি। সে ভুক্তভোগি জুলহাস এর দুঃসম্পর্কের মামা এবং সেই সুবাদে দীর্ঘদিন যাবৎ জুলহাসের বাসায় বসবাস করে আসছিল। কিন্তু রুবেল অত্যান্ত দুস্ট প্রকৃতির লোক হওয়ায় এবং তার কথাবার্তা ও চালচলন জুলহাস উদ্দিনের কাছে অপছন্দ হওয়ায় জুলহাস গত ১৩-১৪ দিন পূর্বে রুবেলকে তাদের বাসা থেকে চলে যেতে বলে। পরে রুবেল বাসা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে জুলহাসের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ায় এবং একপর্যায় রুবেল জুলহাসকে পরবর্তীতে দেখে নিবে বলে বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি দিয়ে জুলহাসের বাসা থেকে চলে যায়।

পরবর্তীতে (১৬ জানুয়ারী) মঙ্গলবার মাঝরাতে জুলহাস ও তার পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পরলে রুবেল উক্ত বাসা থেকে বের করে দেওয়ার বিরোধের জের ধরে তার সহযোগী রানাসহ অন্যান্য সহযোগীদের সাথে নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে জুলহাসসহ তার পরিবারের সবাইকে বাড়ীর বাহির হতে তালাবদ্ধ করে বাড়ীতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিল এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর থেকে আসামীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল।

উল্লেখ, ঐসময় জুলহাসের ছোট ভাই মুক্তার হোসেন জানিয়েছিলেন, কে বা কাহারা শেষ রাতের দিকে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে তা আমরা জানিনা। তবে এই আগুন পেট্রোল দিয়ে ধরানো হয়েছে। কারণ হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে ৫টি ১০ লিটারের গ্যালন পাওয়া গেছে এবং সেগুলো থেকে পেট্রোলের গন্ধ আসছে।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন উর রশিদ বলেন, তাদেরকে আজ থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে আগীকাল তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে।

দোহারে বালুর ট্রাক উল্টে পথচারী নিহত

মাহমুদুল হাসান সুমন, রিপোর্টার, news39.net: দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী চালনায় চকে মর্মান্তিক এক সড়ক দূর্ঘটনায় এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম বাদশা মিয়া, বয়স আনুমানিক ৬৭/৬৮; উনি একজন চায়ের দোকানী। বাড়ী – রাইপাড়া ইউনিয়নের পোদ্দারবাড়ী গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং ক্ষতিগ্রস্ত দোকানী জানান, সকাল ৯টায় দোহার থেকে বালুভর্তি ২টি ট্রাক তীব্রগতিতে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতে করতে আসছিলো। চালনায় চকের দোহার প্রান্তে ওভারটেক করার মূহুর্তে ঢাকা মেট্রো ড – ১১৩৭২১ নম্বর গাড়িটি রাস্তার পাশের দোকানের কিছু অংশ এবং কারেণ্টের পিলার উপড়ে দিয়ে বিলে গিয়ে পড়ে। এসময় রাস্তার পাশে হাটতে থাকা বাদশা মিয়া ট্রাকের আঘাতে গুরুতর আহত হোন। তাকে তাতক্ষণিক, দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দূর্ঘটনার পর ট্রাকের ড্রাইভার এবং হেল্পার পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়।

ওয়াদামতো কাজ করে যাচ্ছি, শিগগির রেজাল্ট পাবেন : সালমান এফ রহমান

ঢাকা (দোহারনবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে আপনাদের কথা দিয়েছিলাম যে, দোহারনবাবগঞ্জ হবে বাংলাদেশের মধ্যে দুটি স্মার্ট উপজেলা। আমি আমার দেওয়া ওয়াদামতো কাজ করে যাচ্ছি, খুব শিগগির রেজাল্ট পাবেন।

গত সোমবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার দোহার উপজেলার বণিক সমিতি ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার, আর আমাদের প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন স্মার্ট সোনার বাংলা গড়া। আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

ফজিলতপূর্ণ কিছু সহজ আমল

0

কিছু আমল এমন আছে, যেগুলো করতে খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না, অনেক জ্ঞানের অধিকারীও হতে হয় না। কিন্তু এগুলোর ফজিলত অনেক বেশি। এগুলো বান্দার আমলনামাকে ভারী করে। যেমন—রাসুল (সা.) বলেছেন, যে লোক (একবার) বলে সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়াবিহামদিহী,  তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ লাগানো হয়। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৬৪)

আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে তাকে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বিষয় বাধা দিতে পারে না। (তাবরানি, হাদিস : ৭৫৩২, সহিহুল জামে, হাদিস : ৬৪৬৪)

প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার আয়াতুল কুরসি পড়তে ১৫ সেকেন্ডের বেশি সময় লাগার কথা নয়। আল্লাহ এতই মহান যে তিনি তাঁর বান্দার মাত্র ১৫ সেকেন্ডের আমলের বিনিময়ে তাকে জান্নাতের মেহমান বানিয়ে নেন।

কিন্তু আমরা সবাই জানি যে যাদের অন্তরে শিরকের বিষ থাকবে মহান আল্লাহ তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। রাসুল (সা.) তাঁর সাহাবিদের এমন একটি দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যে আমলটি করতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড প্রয়োজন হয়।

এ ছাড়া আরেকটি এমন আমল আছে, যার মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডে সব কবিরা গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়া যায়।

জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যে লোক বলে, (আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি) ‘আল্লাহ তাআলার কাছে আমি ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, যিনি চিরজীবী, চিরস্থায়ী এবং আমি তাঁর কাছে তাওবা করি’, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যদিও সে রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে থাকে। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৭৭)

দোহারের হাসান মতিউর রহমানের গান ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে

ডেস্ক রিপোর্টারঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে হাসান মতিউর রহমানের লেখা “যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই” গানটি এ বছর ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন পাঠ্যসূচিতে যুক্ত করেছে “জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ”।

শিল্প ও সংস্কৃতি নামে পাঠ্য বইয়ে “শুধিতে হইবে ঋণ” অংশে এই গানটি যুক্ত করা হয়েছে।হাসান মতিউর রহমান ১৯৫৮ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের পূর্বধোয়াইর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মোহাম্মদ হাসানউদ্দীন, তিনি কলিকাতায় চাকরী করতেন এবং সংগীতের তার বিশেষ অনুরাগ ছিল যা তাকে বিশেষ ভাবে প্রভাবিত করেছে।

ফেসবুকে এক পোস্ট দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন গানের গীতিকার নিজেই। হাসান মতিউর রহমান লেখেন, “বছরের প্রথম দিনেই এমন একটি অর্জনের সংবাদ সত্যিই বিশাল। দেখে ভালো লাগল। চোখ পানিতে ভিজে গেল। আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। সেদিন সন্ধ্যায় হাফিজ বাউলার স্টুডিওতে এসে বইটি দিয়ে গেল গীতিকবি নীহার আহমেদ। মিষ্টি মুখ করাল আমাদের। সবাই সুন্দর থাকুন।”

১৯৯০ সালের দিকে সৃষ্ট গানটির সুর করেন মলয় কুমার গাঙ্গুলী।  গানটি প্রথম গেয়েছিলেনও তিনিই।

হাসান মতিউর রহমান সংবাদমাধ্যম সমকালকে বলেন, “১৯৯০ সালে ফ্রান্সে আওয়ামী লীগের একটা সম্মেলন হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই সম্মেলনে যাবেন। মলয় গাঙ্গুলী দাদা তার সফরসঙ্গী। আওয়ামী লীগ থেকে সিদ্ধান্ত হলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে দুটি গান করার। লেখার দায়িত্ব আমার ওপর। এই গানটি লিখতে গিয়ে ভোর হয়ে গেল, শব্দ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। হঠাৎ মনে হলো, যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই! সেটাই গানের প্রথম লাইন করলাম। এরপর লিখে ফেললাম আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার গানটি।”

তিনি বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গানটি এতটাই পছন্দ করেছিলেন যে পরে সাবিনা ইয়াসমিনকে দিয়ে গাইয়েছিলেন। সাবিনা ইয়াসমিন তার প্রিয় কণ্ঠশিল্পী। এমন একটা অমর সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

দোহারে শীতবস্ত্র বিতরণ

0

দোহারে অসহায় শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন নারিশা এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবির। তিনি সপ্তাহব্যাপী এ শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।

উপজেলার নারিশা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে বস্ত্র বিতরণকালে ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবির বলেন, শীতে হতদরিদ্ররা অনেক কষ্টে আছেন।  তাদের কষ্ট লাঘবে সমাজের বিত্তবান শ্রেণিকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তবেই সমাজ-রাষ্ট্রকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। তাহলে বাংলাদেশ হবে আগামী দিনে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার কাজে আসুন আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি।  আধুনিক উন্নত বাংলাদেশ গড়ি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, নারিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি লেবু খান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রাহুল দাস প্রমুখ।

শাম অঞ্চল ‘ফিলিস্তিন’ নিয়ে মুহাম্মাদ (সা.) এর ১০ ভবিষ্যদ্বাণী

0

মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র নগরী মক্কা এবং মদিনার পরে তৃতীয় পবিত্র ও ভালোবাসার স্থান শামদেশ। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে শামদেশকে কেন্দ্র করে। কুরআন-সুন্নায় বর্ণিত তৎকালীন সময়ে শামদেশ বলতে- বর্তমান সময়ের সিরিয়া, জর্ডান, লেবানন ও ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূখণ্ডকে বুঝানো হতো।

এ শামদেশকে কেন্দ্র করে যতগুলো তথ্য হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায়, সেই শামদেশের সীমানা অবশ্য আজকের সিরিয়া থেকে অনেক বিস্তৃত এবং বড় ছিল।

কুরআন-সুন্নায় বর্ণিত সিরিয়া, জর্ডান, লেবানন ও ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের সমন্বয়ে ছিল বিশ্বনবির সময়ের শামদেশ। অবশ্য সে সময়ের শামদেশের সবচেয়ে বড় অংশ বর্তমান সময়ের সিরিয়া হওয়ার কারণেই সিরিয়াকে শাম বলা হয়।

শামদেশের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য

যুগে যুগে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যত নবি-রাসুল সারা দুনিয়ায় এসেছিলেন, অধিকাংশ নবি-রাসুলই এসেছেন এ শামদেশে। আবার এ শামদেশ বা অঞ্চলই হবে কেয়ামতের ময়দান। কেয়ামতের দিন সব মানুষ এখানেই সমবেত হতে থাকবে।

শামদেশ সম্পর্কে বিশ্বনবির ভবিষ্যদ্বাণী

এ শামদেশ তথা সিরিয়া, জর্ডান, লেবানন ও ফিলিস্তিন অঞ্চল সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য ও বক্তব্য রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ কিছু তুলে ধরা হলো-

১. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালামের ঘোষণা, আমার উম্মাতের মধ্যে এক দল সব সময়ই হকের উপর বিজয়ী থাকবেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত মুগিরাহ ইবনে শোবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন, ‘কেয়ামত আসা পর্যন্ত আমার উম্মাতের এক দল সব সময়ই (সত্যের উপর) বিজয়ী থাকবে। আর তাঁরা হলেন বিজয়ী।’ (বুখারি)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘এ উম্মাতের কার্যকলাপ কেয়ামত অবধি কিংবা বলেছিলেন, মহান আল্লাহ্‌ তাআলার হুকুম আসা পর্যন্ত (সত্যের উপর) সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে।

অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যে একদল বা বিশেষ শ্রেণীর লোক থাকবে যারা সত্যের পথে লড়াই করতে থাকবে। তাদের সঙ্গে আল্লাহর সাহায্য থাকবে। আর তারা সত্যের পক্ষের সংগ্রামকে কেয়ামত না আসা পর্যন্ত অব্যাহত রাখবে। এ সংগ্রামী মানুষকে যারা ক্ষতি করতে চায়, কেউ তাদের কোনো ক্ষতিও করতে পারবে না।

হাদিসে উল্লেখিত যে দলটির কথা বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য পাবেন এবং সত্যের উপর অবিচল থাকবেন, তাদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরাম বলেছেন-

> এ দলটি শামদেশ অঞ্চলের অবস্থানকারী হবেন। আর তা হবে ঠিক কেয়ামতের আগ মহূর্তে। তাছাড়া তাবরানির এক বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সে দলটি থাকবে সিরিয়া বা শামে।

২. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় সিরিয়া ও ইয়ামেন সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবে দোয়া করেছেন-

اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا وَفِي يَمَنِنَا

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি শামেনা ওয়া ফি ইয়মানিনা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের শাম এবং ইয়ামেনে বরকত দান করুন।’

এ দোয়া শুনে উপস্থিত ব্যক্তিরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের নজদেও বরকত দান করুন’- আপনি এ দোয়াও করুন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কথা না শোনে আবারও শাম এবং ইয়ামেনের জন্য বরকতের দোয়া করলেন। এভাবে তৃতীয়বারও লোকেরা নজদের জন্য দোয়া করতে বললেন, আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম ও দ্বিতীয় বারের মতো একই দোয়া করলেন।

তারপর রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নজদ; সে স্থানে তো ফেতনা-ফাসাদ হবে; সেখানে তো হত্যা, মারামারি হবে; খুনাখুনি হবে; সেখানে ভূমিকম্প দেখা দেবে এবং সেখান থেকে শয়তানের আবির্ভাব হবে।

এখানে নাজদ বলতে যে অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে, অধিকাংশ ইসলামিক স্কলার নাজদ বলতে ইরাককে বুঝিয়েছেন। কেননা নাজদ বলা হয় উঁচু অঞ্চলকে। আবার সৌদি আরবের হেজাজকেও নজদ বলা হয়। তবে কানজুল উম্মালের বর্ণনায় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নজদ বলতে ইরাকের কথাই বলেছেন।

মূল কথা হলো-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বরকত ও কল্যাণ চেয়েছেন শামবাসীর জন্য। সেহিসেবে শাম অঞ্চল বা সিরিয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রিয় ভূখণ্ড।

৩. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে হাওয়ালা রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন, ‘যখন তুমি দেখবে খেলাফত কোনো পবিত্র ভূমিতে অবতরণ করেছে বা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখন তুমি মনে করবে যে, কেয়ামত খুব সন্নিকটে এসে গেছে।’ (আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমাদ)

এ হাদিসে উল্লেখিত পবিত্র ভূমি সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ বলেছেন, ‘এ পবিত্র ভূমি বলতে শাম অঞ্চল বা সিরিয়া। উল্লেখিত হাদিসের পর্যালোচনা করলেই তা প্রমাণিত হয়ে যায়।

৪. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিরিয়াকে মুসলিম বিশ্বের হৃদপিণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন বা মন্তব্য করেছেন।’ (তিরমিজি) অর্থাৎ শামের লোকেরা যখন খারাপ হয়ে যাবে। মন্দ এবং খারাপ দিক যখন সিরিয়া বা শামের লোকদেরকে আক্রমণ করবে বা খারাপে পরিণত হবে; তখন তোমরা ধরে নেবে যে, পৃথিবীর কোনো অঞ্চল বা ভূখণ্ডে মুসলমানদের মধ্যে আর কোনো কল্যাণ অবশিষ্ট নেই।

অর্থাৎ হৃদপিণ্ডের মতো সিরিয়া বা শাম অঞ্চলের মানুষের মধ্যে যখন পছন ধরবে তখন পুরো দেহে তথা গোটা মুসলিম বিশ্বের পছন ধরে গেছে বলে মেনে নিতে হবে। এ হাদিসেও সিরিয়া বা শামদেশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

৫. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একটা সময় আসবে যখন গোটা বিশ্বে বড় বড় যুদ্ধ দেখা দেবে তখন নওমুসলিমদের একটি দল আল্লাহর পক্ষে, সত্যের পক্ষে আল্লাহর দ্বীনের জন্য সংগ্রাম করতে থাকবে। ওই সময় আধুনিক যত অস্ত্র-শস্ত্র থাকতে তা নিয়েই তারা সজ্জিত থাকবে। আর সত্যের পক্ষে লড়াই করতে থাকবেন। (ইবনে মাজাহ)

সুতরাং চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে আল্লাহ তাআলার বিশেষ সাহায্য ও অনুগ্রহ পাওয়ার কথা ঘোষিত হয়েছে। আর তা আসবে সিরিয়া নামক দেশের দামেস্ক শহরে।

৬. হজরত নাওয়াস ইবনে সামআন রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার দাজ্জাল প্রসঙ্গে দীর্ঘ ও বিশদ আলোচনা করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি বললেন, কেয়ামতের আগে হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম যে আসমান থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করবেন। তিনি যে স্থানে অবতরণ করবেন মূলত সিরিয়ার দামেস্ক নাম শহরে পূর্ব অঞ্চলে উঁচু এবং সাদা মিনারায়। তিনি অবতরণ করে দুনিয়াতে আসবেন এবং সারা দুনিয়ায় তাণ্ডব চালানো দাজ্জালের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করবেন। আর সিরিয়ার ‘লুদ’ নামক স্থানে তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন।’ (মুসলিম)

একজন মুসলমানের কাছে শাম অঞ্চল যে তাৎপর্যপূর্ণ তা পরিস্কারভাবে এ হাদিসের মাধ্যমে সুস্পষ্ট।

৭. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কেয়ামতের আগে ইয়ামেনের হাজরামাউত নামক শহরে আগুনের তাপ দেখা দেবে, আগ্নেয়গিরি দেখা দেবে। আর সে আগুন মানুষকে ধাওয়া করতে থাকবে।

কেয়ামতের আগ মুহূর্তে সেই পরিস্থিতি আসলে করণীয় কী হবে? সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাহাবায়ে কেরাম দিকনির্দেশনা চেয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন- ‘তোমরা শামদেশ তথা সিরিয়ায় গিয়ে আশ্রয় নেবে।’

হাদিসের অন্য বর্ণনায় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যখন তিন (সিরিয়া, ইয়ামেন এবং ইরাকে) স্থানে এক সঙ্গে যুদ্ধ চলবে, তখন এক সাহাবি জানতে চাইলেন। হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে কোন পক্ষের হয়ে লড়াই করার নির্দেশ করবেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তুমি শামের হয়ে তথা সিরিয়ার হয়ে লড়াই করবে। যদি শামের পক্ষে লড়াই করার সামর্থ্য না থাকবে তবে ইয়ামেনের পক্ষে লড়াই করবে। এ হাদিস থেকে সুস্পষ্ট যে, শামের গুরুত্ব অনেক বেশি।

৮. কেয়ামতের আগে যে আগ্নেয়গিরি দেখা যাবে, যে আগুনের তাপ দেখা দেবে, সে আগুন মানুষকে ধাওয়া করতে থাকবে। সারা পৃথিবীর মানুষকে ধাওয়া করতে করতে থাকবে। মানুষকে ধাওয়া করতে করতে একটা সময় এক জায়গায় একত্রিত করবে। আর সেটি হলো সিরিয়া। পিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভাষায়- ‘আরদুল মাহশারে ওয়াল মানশার’ অর্থাৎ সিরিয়াই হবে কেয়ামতের ময়দান। কেয়ামতের সময় মানুষ সারা পৃথিবী থেকে এসে এ শাম অঞ্চলেই একত্রিত হতে থাকবে। (মুসনাদে আহামদ)

৯. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য হাদিসে ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর ফেরেশতারা শাম অঞ্চলের উপরে তাদের ডানা বিছিয়ে দিয়ে আছেন। অথবা ডানা বিছিয়ে রাখবেন।’

১০.  অন্য এক হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর স্বপ্নে বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, ‘একবার আমি শুয়েছিলাম। দেখলাম আমার মাথার নিচ থেকে আল্লাহর কিতাবকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো। আর সেটাকে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন আমি তাকিয়ে দেখতে থাকলাম, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?

দেখলাম একটা আলোকরশ্মি চলে যাচ্ছে। যেতে যেতে  সেটা শাম অঞ্চল তথা সিরিয়ার ভূমি পর্যন্ত চলে গেল। আর সেটা সেখানেই অবতরণ করল। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘যখন সারা পৃথিবীতে ফেতনা ফাসাদে ভরে যাবে তখন ঈমানের ঠিকানা হবে শাম বা সিরিয়া অঞ্চল আর ঈমানদারদের শেষ আশ্রয়স্থলও হবে শাম বা সিরিয়া অঞ্চল।

উল্লেখিত হাদিস থেকে একটি বিষয় সুস্পষ্ট যে, কেয়ামতের আগ মুহূর্তে পবিত্র নগরী মক্কা-মদিনা থেকেও ঘটনাবহুলস্থানে পরিণত হবে শামদেশ তথা- কুরআন-সুন্নাহর পরিভাষায়, সিরিয়া, জর্ডান, লেবানন ও ফিলিস্তিন অঞ্চল। আর এ স্থানগুলো মর্যাদাও অনেক বেশি।

লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে-

হাদিসে বর্ণিত সেই শামদেশে সীমাহীন অত্যাচার নির্যাতন চলছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কসাইখানায় পরিণহ তচ্ছে শামদেশ তথা সিরিয়া, ফিলিস্তিন। এ দেশগুলো নিরীহ নারী-পুরুষসহ শিশুদের উপর চলছে মারাত্মক নির্যাতন। এসব মানুষের রক্তকে হালাল মনে করে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। এসব অঞ্চলের নারী-পুরুষ ও শিশুদের কান্না ও রোনাজারিতে ভারি হয়ে ওঠছে সেখানকার আকাশ-বাতাস। অত্যাচারীদের নির্যাতনে বয়ে চলছে রক্তের নদী।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর অপরাগ অবস্থানকে ক্ষমা করুন। শামদেশ তথা নির্যাতিত জনপদ সিরিয়া, ফিলিস্তিনসহ সব মুসলিম অঞ্চলকে হেফাজত করুন। সব অপরাগতার কারণে আল্লাহর আজাব ও গজব থেকে মুসলিম উম্মাহকে হেফাজত করুন।  আমিন।

তওবা করার নিয়ম

0

মানুষ শয়তানের ধোকায় পড়ে গুনাহের কাজে জড়িয়ে পড়ে। তবে মহান আল্লাহ তায়ালা গুনাহ করা মানুষদের আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করছ, তোমার আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল। পরম দয়ালু।’ (সূরা জুমা, আয়াত, ৫৩)।

যখন একজন মুসলিম গুনাহ করে ফেলে, তখন তার প্রথম কাজ হলো— তওবা করা। তাওবা মানে গুনাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করা। আল্লাহর কাছে ফিরে আসা। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা যদি পাপাচার করতে, এমনকি তোমাদের পাপ আকাশের সীমা পর্যন্ত পৌঁছে যেত, অতঃপর তোমরা তওবা করতে; তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের তওবা কবুল করবেন’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস, ৪২৪৮)।

তওবা করার নিয়ম হলো- যেসব গুনাহ করেছেন তার ওপর অনুতপ্ত হওয়া আব্যশক এবং ভবিষ্যতে আর কখনো গুনাহ না করার করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। এর জন্য তওবার নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়াও উত্তম।

এই নামাজ অন্যান্য নামাজের মতোই। শুধু নামাজ পড়ার শুরুতে তওবার নিয়ত করে নিতে হবে। যেমন, নিয়তের সময় এভাবে বলবেন যে, হে আল্লাহ ! আমি দুই রাকাত তওবার নামাজ পড়ছি, আপনি নামাজ কবুল করুন। এরপর নামাজের বাকি কাজগুলো অন্য নামাজের মতোই হবে। এতে আলাদা কোনো নিয়ম নেই। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হৃদয়ে দোয়া করতে হবে, গুনাহ থেকে মাফ চাইতে হবে।

তবে তওবা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোনো মানুষের সঙ্গে অন্যায় করা হলে বা অন্যায়ভাবে কারো হক নষ্ট করলে তার কাছে মাফ চেয়ে নিতে হবে। কারণ, যার হক নষ্ট করা হয়েছে, তার কাছে মাফ না চাওয়া পর্যন্ত তওবা কবুল হবে না। তার হক আদায় ও তার নিকট মাফ চাওয়া তওবা কবুলের পূর্বশর্ত। (তিরমিজি, হাদিস. ৪০৬, শরহুন নবভি : ১৭/৫৭, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ২/২৩৯)

দোহারে কৃষক লীগ নেতাকে হাতুড়িপেটা

ঢাকার দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক লীগ নেতা তারা মিয়াকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেছেন নয়াডিঙ্গি গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে মো. সোহাগ। পূর্ব বিরোধের জের ধরে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনা ঘটে।

তারা মিয়া বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান ভুক্তভোগী তারা মিয়ার পরিবারের সদস্যরা।

আহত তারা মিয়া নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাহ্রা নয়াডিঙ্গি এলাকার জয়েদ আলী ফকিরের ছেলে।

আহত তারা মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, সোহাগের বিভিন্ন অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় তিনি আমার ওপর এ হামলা চালিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি দুপুরে জয়নালের মোড় নামক একটি স্থানে পরিবারে জন্য বাজার করতে গেলে হঠাৎ পেছন থেকে সোহাগ হাতুড়ি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে সোহাগ পালিয়ে। সংবাদ পেয়ে আমার পরিবারের লোকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

দোহার উপজেলা কৃষক লীগ সূত্র জানায়, আহত তারা মিয়া নয়াবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক লীগের ৫নং ওয়ার্ডের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত দায়িত্ব পালন করছেন।

আহত তারা মিয়ার স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, জয়নালের মোড়ে আমার স্বামীকে সোহাগ হাতুড়ি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তার চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। আমার স্বামী এমনিতেই অসুস্থ মানুষ, যদি মারা যেত তাহলে আমি ছোট বাচ্চা নিয়ে কোথায় যেতাম বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

এ বিষয়ে দোহার থানার ওসি হারুনুর রশিদ মোবাইল ফোনে জানান, দোহার থানায় এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ এখনো হয়নি। অভিযোগ করলে তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।