নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এক সক্রিয় কর্মী।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত কর্মীর নাম আমির হোসেন।
তিনি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, যুব দলের স্থানীয় নেতা কামাল হোসেনের নেতৃত্বে প্রায় ৩০–৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল আমির হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। হামলার একপর্যায়ে মাথায় গুরুতর আঘাত করা হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মাথায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,“রাজনৈতিক মত প্রকাশ ও গণতান্ত্রিক প্রচারণাকে স্তব্ধ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই বর্বর হামলা চালানো হয়েছে। বিরোধী কণ্ঠ দমন করতে একটি মহল প্রকাশ্য সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি।”
তিনি আরও বলেন,“এই হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম আহত আমির হোসেনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও সাংগঠনিকভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, অভিযুক্ত যুব দল নেতা কামাল হোসেন বা তার পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
