বাংলা ভাষায় রচিত চীন ভ্রমণ কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বই।

১. মাও সে-তুঙ এর দেশে

লেখক: মাওলানা ভাসানী
বইয়ের লিংক: https://rkmri.co/eSeeAoS2emMT/

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ১৯৬৩ সালে তৃতীয়বারের মতো চীন সফর করেন সাত সপ্তাহের জন্য। মূলত এই সফরের ওপর ভিত্তি করেই বর্তমান গ্রন্থটি লিখিত। গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৮ সালে। এত দীর্ঘ সময় পরে আবার তা গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হলো। বিপ্লবের চৌদ্দ বছরের মাথায় চীনে যে মহারূপান্তর ঘটছিল তাকে মওলানা ভাসানী যেভাবে দেখেছেন, তাঁর ভাষায়, ‘চীন’ শুধু মাত্র একটা দেশ নয়। চীন মহাদেশ। বাহাত্তর কোটি মানুষের একশ’ চুয়াল্লিশ কোটি কর্মঠ হাত এক অসাধ্য সাধন করেছে। তাদের বাহুর সঞ্চালন, সমাজতান্ত্রিক চেতনায় সমৃদ্ধ মনন দুনিয়ার বুক থেকে মানুষের মহৎ মর্যাদার পক্ষে কলঙ্ককর সকল অচলায়তনকে মুছে ফেলার অঙ্গীকারে দৃপ্ত। আফিমের খোয়াবীতে নিষ্প্রভ চোখে আজ অতন্দ্র প্রহরার দৃষ্টি। নেশায় নির্বীর্য বাহু আজ দুরূহতম অস্ত্র এবং জটিলতম যন্ত্র নির্মাণে ব্যস্ত। এই পর্যবেক্ষণ থেকে একদিকে যেমন মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক চিন্তাকে বোঝা যায় তাঁর স্বমহীমায়, অন্যদিকে বর্তমান চীনের গতি-প্রকৃতির সাথে মিল-অমিলটাও পাঠক মিলিয়ে নিতে পারেন সহজেই। সে দিক থেকে এই গ্রন্থের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম। রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য তো বটেই, সমাজ রূপান্তরের পাঠে। আগ্রহী সকলেরই এই গ্রন্থটি অবশ্যপাঠ্য।

অন্য খবর  বাংলাদেশকে নিয়ে চীন-ভারত দ্বন্দ্ব: কী ঘটছে নেপথ্যে?

২. নয়াচীনে এক চক্কর

লেখক: প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ
বইয়ের লিংক: https://rkmri.co/2AAy2yIpMRM5/

ইবরাহীম খাঁ (ফেব্রুয়ারি ১৮৯৪ – ২৯ মার্চ ১৯৭৮) উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক। ইবরাহীম খাঁ স্মৃতিকথা, শিক্ষা-সাহিত্য-ধর্ম-বিষয়ক প্রবন্ধ, নাটক, ভ্রমণ কাহিনী, রসরচনা, গল্প, উপন্যাস, ইতিহাস ও জীবনচরিত, শিশু সাহিত্য, পাঠ্য বই ও অনুবাদ মিলিয়ে শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন।

৩. আমার দেখা নয়াচীন

লেখক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
বইয়ের লিংক: https://rkmri.co/oRe3Teo5ITE0/

বঙ্গবন্ধুর ১৯৫২ সালের রাজনৈতিক জীবনের প্রথমদিকে গণচীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা একটি ডায়েরির পুস্তকি রূপ।
১৯৫২ সালের ২-১২ই অক্টোবরে গণচীনের পিকিংয়ে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করা হয় যেখানে ভারত ও পাকিস্তানের ডেলিগেটরাও অংশ নেন। সেই সম্মেলনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও আতাউর রহমান, মানিক মিয়া, খন্দকার মো. ইলিয়াসসহ বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণ করেন। এটি বঙ্গবন্ধুর প্রথম চীন সফর। এই সফরে চীনের অবিসংবাদিত নেতা মাও সে তুং এর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের দেখা হয়। এসময় তিনি চীনের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন। এছাড়াও ১৯৫৭ সালে শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ-এইড দফতরের মন্ত্রী থাকাকালে পাকিস্তান সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বার চীন ভ্রমণ করেন। চীন ভ্রমণের এসব অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি একটি ডায়েরি লেখেন যেখানে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান ও চীনের রাজনৈতিক-আর্থসামাজিক অবস্থার তুলনা, কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের চর্চা প্রভৃতি বিষয়াদি প্রাঞ্জলভাবে আলোচনা করেন। তিনি তাঁর এই লেখার নাম দেন নয়া চীন ভ্রমণ। এ ডায়েরিটিই ‘আমার দেখা নয়া চীন ‘ নামে বই আকারে প্রকাশ করা হয়।

অন্য খবর  তীব্র গরমে ‘ফেসকিনিস’ ফ্যাশনে ঝুঁকছেন চীনারা

৪. হিকমতে চীন

লেখক: বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
বইয়ের লিংক: https://rkmri.co/leEI5eee0lAl/

৫. সাক্ষাৎ চীন পরিচয় ইউনান ভ্রমণ-দর্শন

লেখক: শিশির ভট্টাচার্য্য (সম্পাদক)
বইয়ের লিংক: https://rkmri.co/0eeR3EoeIAIA/

চীন সরকারের আমন্ত্রণে আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউট থেকে চীন ভ্রমণে গিয়েছিলেন পাঁচ জন। তাদের কয়েকজনের লেখা ভ্রমণকাহিনির সংকলন এই বই।

৬. ঘুরে এলাম চীন

লেখক: রেজাউল ইসলাম
বইয়ের লিংক: https://rkmri.co/Me2A2Me2IImN/

আপনার মতামত দিন