২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে হতাশাজনক ড্র করায় ভক্তদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। কোচ কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের এমন মন্থর ও ছন্দহীন শুরু ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
ম্যাচটিতে ব্রাজিলের জয় না পাওয়ার মূল কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের দুর্বলতা
ম্যাচে ব্রাজিলের মিডফিল্ড বা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ একেবারেই দুর্বল ছিল। খেলোয়াড়রা বারবার বল পজিশন হারাচ্ছিলেন এবং মরক্কোর প্রেসিং ফুটবলের সামনে অসহায় হয়ে পড়েন। এছাড়া রাইট-ব্যাক পজিশনে রক্ষণাত্মক দুর্বলতা বেশ স্পষ্ট ছিল।
২. ফিনিশিংয়ের চরম ব্যর্থতা
খেলার ৩২ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত গোলে ব্রাজিল সমতায় ফিরলেও, পরবর্তীতে গোল করার মতো একাধিক সুযোগ তারা হাতছাড়া করে। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের চূড়ান্ত ফিনিশিং দক্ষতার অভাবে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায়নি সেলেসাওরা।
৩. খেলোয়াড়দের স্নায়ুচাপ ও শুরুতেই গোল খাওয়া
কোচ আনচেলোত্তি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, ম্যাচের শুরুতে খেলোয়াড়রা ভীষণ নার্ভাস বা স্নায়ুচাপে ভুগছিলেন। ম্যাচের শুরুতেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে সম্পূর্ণ ছন্দ ফিরে পেতে দলটিকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
৪. নেইমারের অনুপস্থিতি ও অতিরিক্ত চাপ
ইনজুরির কারণে দলের প্রাণভোমরা নেইমার মাঠে না থাকায় ব্রাজিলের আক্রমণভাগ কিছুটা ছন্নছাড়া দেখিয়েছে। ভিনিসিয়ুস গোল করলেও জাতীয় দলের জার্সিতে বাড়তি প্রত্যাশার চাপ খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক খেলায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন কোচ।
৫. মরক্কোর শক্তিশালী প্রতিরোধ
মরক্কো বর্তমানে ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত দল। ব্রাজিলের বিপক্ষে তারা কোনো প্রকার ভয় না পেয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে এবং ম্যাচের অধিকাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল।
কোচ কার্লো আনচেলোত্তি এবং ভিনিসিয়ুস অবশ্য ভক্তদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রথম ম্যাচেই কোনো দল নিখুঁত হয়ে ওঠে না এবং টুর্নামেন্ট যত গড়াবে, ব্রাজিল নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরবে।
ব্রাজিল দলের এই ড্রয়ের পেছনে আপনি মূলত কোন দুর্বলতাটিকে সবচেয়ে বড় কারণ মনে করছেন? এছাড়া পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নেইমারের ফেরা দলের পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলবে বলে আপনার মনে হয়?