বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হলেন তামিম

অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত সভাপতি হলেন তামিম ইকবাল। আজ (জুন) মিরপুর শেরে-বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে প্রথমে পরিচালক পদে বিপুল ভোটে জেতেন তিনি। এরপর পরিচালকদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেটার।

অবশ্য সভাপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন পড়েনি, তামিমই একমাত্র সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। যে কারণে তিনিই বিসিবির ১৮তম এবং নির্বাচিত ষষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। সহ-সভাপতি হয়েছেন আপতত একজন। তিনি ফাহিম সিনহা।

ঢাকার ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন তামিম। এই ক্যাটাগরি থেকে আরো জিতেছেন মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা: মাহবুব শামীম, সাকেফ আহমেদ সালাম।

ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে লড়েছেন মোট ১৬ জন। পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন ১২ জন। হেরে যাওয়া প্রার্থীরা হলেন বোরহানুল পাপ্পু, আমজাদ হোসেন, ফায়াজুর রহমান মিতু এবং ইমরোজ আহমেদ।

যেখানে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়েছেন তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২ ভোট পেয়েছেন সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং ইশরাফিল খসরু। এরপর মাসুদুজ্জামান ৭০ এবং ফয়সাল ইয়াসির পেয়েছেন ৬৮ ভোট।

বাজেট অধিবেশন চলবে ৯ জুলাই পর্যন্ত

আগামী ৯ জুলাই চলতি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষ হবে। বাজেটের ওপরে ৪০ ঘণ্টা সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আজ রোববার জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটির সভাপতি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটি সদস্য, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিরোধীদলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, বিরোধীদলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এবং মুহাম্মদ নওশাদ জমির।

বৈঠকে স্পিকারের বিশেষ আমন্ত্রণে অংশগ্রহণ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের কার্যাদি নিষ্পন্নের জন্য সময় বরাদ্দকরণ ও অধিবেশনের স্থায়িত্বকাল নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাজেট আলোচনার জন্য মোট ৪০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়।

সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ জুলাই দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তবে প্রস্তাব করা হয়, ২৭-৩০ জুন এ চারদিন প্রতিদিন দুবেলা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

প্রয়োজনে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবস সম্পর্কিত যেকোনো বিষয় পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারকে প্রদান করা হয়। এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ১৯১টি ও অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৩০৩৭টি প্রশ্নসহ মোট ৩২২৮টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। বিধি-৭১ এ মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ পাওয়া গেছে ৯৮টি এবং সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবের সংখ্যায় (বিধি-১৩১) ২৯৩টি নোটিশ পাওয়া গেছে।

আদ্-দ্বীনে মারা যাওয়া প্রতি শিশুর পরিবার পাবে ৮০ লাখ টাকা : শিশির মনির

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মারা যাওয়ার ঘটনায় প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগী পরিবার কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনায় এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এ তথ্য জানিয়েছেন।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য আগে ঘোষিত অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও বহাল থাকবে।

এর আগে শনিবার রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে মারা যাওয়া নবজাতকদের পরিবারকে আজীবন বিনা মূল্যে চিকিৎসাসহ ক্ষতিপূরণ, শিক্ষাসহায়তা এবং চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দীর্ঘমেয়াদে থাকার এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

পরিবারগুলো যেসব সুবিধা পাবে

আজীবন ফ্রি চিকিৎসা : ভুক্তভোগী পরিবারের বাবা, মা, ভাই-বোন ও সন্তানরা আজীবন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ওষুধ ছাড়া সব ধরনের চিকিৎসা বিনা মূল্যে পাবেন।

শিক্ষাসুবিধা : আদ্-দ্বীন পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ থাকছে। মেডিকেল কলেজ বা অধিক ব্যয়বহুল শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ বৃত্তি বা টিউশন ফি মওকুফের ব্যবস্থা থাকবে।

চাকরির সুযোগ : পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতা অনুযায়ী আদ্-দ্বীনে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে।

ঈদ যাত্রায় সড়ক-রেল-নৌপথে নিহত ৪৩৮ জন

ঈদুল আজহার ঘরমুখো যাতায়াতে ১৫ দিনে সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহায় সারাদেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৪৪২টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৪০ জন আহত হয়েছেন।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর দুই ঈদে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করেন। ঈদকে কেন্দ্র করে ১০-১২ দিনের তৎপরতা নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষা ও যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। গণপরিবহন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন জরুরি। উন্নত বিশ্বের আদলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, মহাসড়ক থেকে ছোট যানবাহন পর্যায়ক্রমে অপসারণ, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন উচ্ছেদ করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ‘স্টার’ মানের সড়ক নিরাপত্তা করিডোর গড়ে তোলারও দাবি জানান তিনি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের সড়ক-মহাসড়কের বড় অংশে বৃষ্টির কারণে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তের কারণে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে। ভাঙাচোরা সড়ক, বিদ্যমান ত্রুটি এবং চালকদের আইন অমান্যের প্রবণতার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া চালক সংকটের কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন একজন চালক দিয়ে বিরামহীনভাবে পরিচালিত হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু বাস মালিক অতিরিক্ত মুনাফার আশায় আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়া ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন মেরামত ছাড়াই সড়কে নামিয়েছেন। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাল-বিল বা রাস্তার পাশে পড়ে যাওয়ার ঘটনা এবারের ঈদে বেশি দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। গত বছর ঈদুল আজহায় ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ও ১ হাজার ১৮২ জন আহত হয়েছিলেন। সে হিসেবে এবার সড়ক দুর্ঘটনা ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ঈদে ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত এবং ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

এ সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে ৮০ জন চালক, ৮৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৪৫ জন শিশু, ৬৬ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তিনজন শিক্ষক, একজন চিকিৎসক, তিনজন সাংবাদিক, একজন প্রকৌশলী এবং চারজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাস, ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ কার ও মাইক্রোবাস, ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ নছিমন-করিমন এবং ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ গাড়ির চাপা বা ধাক্কা, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষ এবং ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ অন্যান্য কারণে সংঘটিত হয়েছে।

এছাড়া মোট দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ আঞ্চলিক সড়ক ও মহানগর এলাকায়, শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে এবং ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, রোড সাইন ও রোড মার্কিংয়ের অভাব, সড়কে মিডিয়ান না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, উল্টো পথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, বিরামহীন ড্রাইভিং এবং বৃষ্টির কারণে সড়কে গর্ত সৃষ্টিকে দায়ী করেছে।

সংগঠনটি সুপারিশ করেছে— ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা, ফিটনেস ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন অপসারণ, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাশ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, দপ্তর সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বিটু, মনজুর হোসেন ইসা প্রমুখ।

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা-স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে।

ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।

এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে আলোচিত এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পরদিন ২০ মে (১৯ মে দিবাগত রাত) ১২টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।

এর আগে, গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য করেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়।

গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন আদালত। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ বসছে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন বসছে আজ রবিবার। ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের মূল সংসদকক্ষে বিকাল ৩টায় এই অধিবেশন শুরু হবে। এটি নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন।

এর আগে গত ৭ মে জাতীয় সংসদ সংসদ সচিবালয় জানায়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। রাষ্ট্রপতির এই আদেশ জারির পর সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে অধিবেশনটি যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে এই অধিবেশন শুরু হবে। মূলত এই অধিবেশনেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ ও পাস করার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য, প্রতিবছর জুন মাসে জাতীয় বাজেটের ওপর

আলোচনার জন্য সংসদ অধিবেশন বসে, যা বাজেট অধিবেশন হিসেবে পরিচিত। আসন্ন অধিবেশনে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিফলন হিসেবে নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে এবং এর ওপর সংসদ সদস্যরা বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নেবেন।

এর আগে গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে। যা শেষ হয় গত ৩০ এপ্রিল।

রামিসা হত্যা মামলা: মাত্র ১৯ দিনে শেষ বিচারকাজ, রায় আজ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ (রবিবার, জুন) ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রায় দেবেন।

গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে তদন্ত, চার্জশিট, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় মামলাটি দ্রুততম বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি নজির হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে ঘটনাটি ঘটে। ওই রাতেই রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়।

ঘটনার চার দিনের মাথায়, ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। চার্জশিটে ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন নির্ধারণ করেন।

ঈদের ছুটির পর ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরদিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে সাক্ষ্য পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানান। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ সোহেল রানার জন্য সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন এবং স্বপ্না আক্তারের ক্ষেত্রে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে শাস্তি প্রার্থনা করেন।

উল্লেখ্য, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে তাকে হত্যার পর মরদেহ নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকেই হেফাজতে নেওয়া হয়।

রাতের মধ্যে ১৮ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

দেশের ১৮ অঞ্চলের ওপর দিয়ে রাতের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ হাওআবয়া অধিদপ্তর। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে সংস্থাটি।

শনিবার (৬ মে) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুকের দেওয়া অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, আজ রাত ১টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিমি বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে সকালের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হয়েছে সরকারদলীয় এমপিদের সংসদীয় সভা

জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) বেলা ৩টায় সংসদ ভবনে এ সভা শুরু হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংসদীয় এ সভায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

প্রচলিত ভুল ধারণা ভাঙলেন জাকির নায়েক: ধর্ষণ প্রমাণে চার সাক্ষী বাধ্যতামূলক নয়

বাংলাদেশে বর্তমানে ধর্ষণের ঘটনা একটি দুরারোগ্য সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। ইসলামী শরিয়া আইনের উদাহরণ টেনে অনেকেই অনেক সময় ধর্ষণের শিকার হওয়া একজন নারীর কাছে এটি প্রমাণ করার জন্য চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী দাবি করা এবং তারপর ধর্ষককে শাস্তি দেওয়ার বিধানের কথা বলে থাকেন। এই বিধানটি আসলেই কতটি যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে আলোচিত ইসলামী বক্তা জাকির নায়েকের কাছে প্রশ্ন করা হয়।

আন্তর্জাতিক ইসলামি স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেট টেলিভিশন হুদা টিভিতে প্রচারিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে ডা. জাকির নায়েককে জিজ্ঞেস করা হয়, ধর্ষণের শিকার হওয়া একজন নারীর কাছে এটি প্রমাণ করার জন্য চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী দাবি করা এবং তারপর ধর্ষককে শাস্তি দেওয়া অযৌক্তিক কি না।

উত্তরে ডা. জাকির নায়েক বলেন, অনেক মুসলিম ও অমুসলিমের মধ্যে একটি বড় ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, ইসলামি আইনে ধর্ষণ প্রমাণ করার জন্য চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মানুষ মূলত ব্যভিচার বা জিনার (সম্মতিপূর্ণ অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক) অভিযোগ প্রমাণের শর্তের সাথে ধর্ষণের বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলেছে।

ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নির্দোষ নারীর বিরুদ্ধে জিনা বা ব্যভিচারের অভিযোগ আনে, তবে তার অভিযোগ প্রমাণ করতে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হাজির করতে হবে। যদি সে চারজন সাক্ষী আনতে না পারে, তবে উল্টো অভিযোগকারীকে ৮০টি দোররা বা বেত্রাঘাত করা হবে। সুতরাং, এই চারজন সাক্ষীর শর্তটি কেবল ব্যভিচারের অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যদি কেউ দাবি করে যে অমুক পুরুষ বা নারী ব্যভিচার করেছে, তবে তা প্রমাণ করতে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী লাগবে।কিন্তু ধর্ষণের ক্ষেত্রে বিষয়টি মোটেও এমন নয়; কারণ ধর্ষণ এবং জিনা বা ব্যভিচার পুরোপুরি আলাদা বিষয়। জিনা বা ব্যভিচার সংঘটিত হয় উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতিতে, পক্ষান্তরে ধর্ষণের ক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্কটি একজনের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়।

এ ধরনের জোরপূর্বক অপরাধের শাস্তির ব্যাপারে ফকিহ বা ইসলামি আইনবিদগণ পবিত্র কোরআনের সুরা মায়েদার ৩৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দেন। যেখানে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং জমিনে ফাসাদ বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড, অথবা ক্রুশবিদ্ধকরণ, অথবা বিপরীত দিক থেকে হাত ও পা কেটে ফেলা, অথবা দেশান্তর/নির্বাসন।

কোরআনের এই আয়াতটিতে মূলত ‘হিরাবাহ’ বা নৈরাজ্য বা সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন অস্ত্রের মুখে বা ভয় দেখিয়ে কাউকে জিম্মি করা। ইসলামি আইনবিদদের মতে, ধর্ষণ জমিনে নৈরাজ্য বা সন্ত্রাস সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। কারণ ধর্ষণের ক্ষেত্রেও একজন নারীকে অস্ত্রের মুখে, ভয় দেখিয়ে বা যে কোনোভাবে বাধ্য করে জোরপূর্বক জিনা বা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।

ধর্ষণের অপরাধ যদি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্টভাবে প্রমাণি হয়, তবে অপরাধীর শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড (Capital Punishment)। হিরাবাহর ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণে চারজন সাক্ষীর কোনো প্রয়োজন নেই, দুইজন সাক্ষীই যথেষ্ট। এমন কি এই ক্ষেত্রে পরিস্থিতিগত বা পারিপার্শ্বিক প্রমাণও (Circumstantial Evidence) আমলে নেওয়া হয়। সমস্ত প্রমাণাদি বিবেচনা করে বিচারক যদি শতভাগ নিশ্চিত হন যে অভিযুক্ত ব্যক্তিটিই ধর্ষক, তবে সে মৃত্যুদণ্ড পাবে।

আর যদি বিচারক শতভাগ নিশ্চিত হতে না পারেন, তবে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কিছু নমনীয় শাস্তি দেওয়া যেতে পারে; যেমন কারাদণ্ড, দোররা মারা বা অন্য কিছু। তবে এই ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের জন্য কোরআনে মৃত্যুদণ্ড বা ক্রুশবিদ্ধকরণের মতো কঠোর শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিচারক যদি মনে করেন সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন, তবে অপরাধীকে ক্রুশবিদ্ধও করা যেতে পারে। ক্রুশবিদ্ধ করার দুটি উপায় রয়েছে; একট হলো তাকে প্রথমে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে লাশটি জনসম্মুখে কোনো খুঁটিতে ঝুলিয়ে রাখা যাতে মানুষ তা দেখে শিক্ষা নিতে পারে, অথবা জীবন্ত অবস্থায় খুঁটিতে বেঁধে রাখা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। এ ছাড়া শাস্তির অন্যান্য উপায়ের মধ্যে রয়েছে বিপরীত দিক থেকে হাত ও পা কেটে ফেলা (যেমন ডান হাত ও বাম পা) অথবা নির্বাসন ও কারাদণ্ড। কিন্তু অপরাধ যদি নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়, তবে শাস্তি কেবলই মৃত্যুদণ্ড এবং এই ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণই যথেষ্ট, চারজন সাক্ষীর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ইমাম মালেক (রহ.) ও ইমাম শাফেঈর (রহ.) অভিমত হলো, ধর্ষককে নির্ধারিত শারীরিক শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারীকে তার মর্যাদা অনুযায়ী উপযুক্ত মোহর বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং সুফিয়ান সাওরীর (রহ.) মতে, অপরাধীর জন্য নির্ধারিত আইনি শাস্তিই যথেষ্ট, আলাদা কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রয়োজন নেই। মতামত ভিন্ন হলেও ধর্ষণের ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষী যে কোনো শর্ত নয়—এ ব্যাপারে সবাই একমত। এ ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক প্রমাণই যথেষ্ট।

স্বয়ং রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগে মদিনায় একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল, যা সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজায় বর্ণিত হয়েছে। এক নারী অন্ধকার রাতে মসজিদের দিকে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। পথে এক ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হয়ে তাকে ধর্ষণ করে। নারীটি চিৎকার ও সাহায্য প্রার্থনা করতে থাকেন, কিন্তু ধর্ষক অপরাধ শেষে পালিয়ে যায়। এরপর অন্য এক ব্যক্তি সেই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী নারী তাকে বলেন যে একজন তার সম্ভ্রমহানি করে ওই দিকে পালিয়ে গেছে। সেই ব্যক্তি তখন ধর্ষককে ধরার জন্য তার পিছু নেন।

এদিকে ওই নারী অন্য একদল মানুষের কাছে গিয়ে তার সাথে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনার কথা বলেন। তখন সেই লোকেরা গিয়ে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে ধরে রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দরবারে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী নারীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ওই ব্যক্তিকে দেখে বলেন, ‘হ্যাঁ, এই লোকটাই আমাকে ধর্ষণ করেছে।’ কিন্তু সে প্রকৃত অপরাধী ছিল না। যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে যাবেন, তখন প্রকৃত অপরাধী নিজে থেকে সামনে এগিয়ে আসেন এবং বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আমি তাকে ধর্ষণ করেছি।’তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দোষ লোকটির কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তাকে ছেড়ে দেন। ভুক্তভোগী নারীকে বলেন, ‘তুমি চলে যাও, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করেছেন।’ কারণ ভুলবশত তিনি প্রথম ব্যক্তিকে ধর্ষক মনে করেছিলেন, তার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না বা তিনি স্বেচ্ছায় এটি করেননি। আর যিনি প্রকৃত ধর্ষক ছিলেন এবং নিজে এসে অপরাধ স্বীকার করেছিলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এই ঘটনা থেকে আমরা জানতে পারি যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিন্তু ভুক্তভোগী নারীর কাছে ধর্ষণ প্রমাণের জন্য চারজন সাক্ষী দাবি করেননি। এই ক্ষেত্রে পরিস্থিতিগত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণই যথেষ্ট ছিল, যদিও রায় কার্যকরের আগেই প্রকৃত অপরাধী নিজে এসে দোষ স্বীকার করে তওবা করেছিল।

সুতরাং, রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমল থেকেই এটি স্পষ্ট যে, ইসলামে ধর্ষণ প্রমাণের জন্য চারজন সাক্ষী আনা বাধ্যতামূলক নয়। এটি কিছু মানুষের ভুল ধারণা। ধর্ষণের ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদিই যথেষ্ট এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য অপরাধের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে, অন্যথায় অপরাধের সন্দেহ বা অস্পষ্টতার মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি কিছুটা শিথিল হতে পারে।