সরকারি দপ্তরে শূন্য পদ সাড়ে ৪ লাখের বেশি, নিয়োগে ৫ বছরের পরিকল্পনা

দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সরকারি অফিসগুলোতে বর্তমানে সাড়ে লাখের বেশি পদ শূন্য রয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল সংক্রান্ত হালনাগাদকৃত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত ‘স্ট্যাটিসটিক্স অব পাবলিক সার্ভেন্টস ২০২৪’ অনুযায়ী এই চিত্র সামনে এসেছে। সরকারের এই বিপুলসংখ্যক শূন্য পদ পূরণে ইতোমধ্যেই স্বল্প দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

রোববার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ১১তম দিনে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের সরকারি অফিসগুলোতে বর্তমানে সর্বমোট শূন্য পদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে শূন্য পদের সংখ্যা ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, যা ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের আওতাভুক্ত। দ্বিতীয় শ্রেণিতে অর্থাৎ ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডে শূন্য পদ রয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ রয়েছে তৃতীয় শ্রেণিতে, যার পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং এগুলো ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণিতে অর্থাৎ ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ খালি রয়েছে। এর বাইরে অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক অন্যান্য ক্যাটাগরিতে আরও ৮ হাজার ১৩৬টি শূন্য পদ রয়েছে।

আব্দুল বারী আরও জানান, এই বিশালসংখ্যক শূন্য পদ পূরণের জন্য সরকার ইতোমধ্যেই ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি আগামী ১ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে পাঁচ লক্ষ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ’-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য প্রেরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে ইতোমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাঁচা-মরার ম্যাচে রাতে নামছে ইরান

মাঠের বাইরের ভূরাজনীতি, মার্কিন প্রশাসনের কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আর টেবিলের বাঁচা মরার সমীকরণ মাথায় নিয়েই আজ বেলজিয়ামের মুখোমুখি হচ্ছে ইরান। লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

গ্রুপ ‘জি’-এর প্রথম ম্যাচ শেষে চার দলেরই পয়েন্ট সমান হওয়ায় দ্বিতীয় ম্যাচটি তাই বেশ রোমাঞ্চের আভাস দিচ্ছে। একদিকে কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের দুঃস্বপ্ন তাড়া করে বেড়ানো বেলজিয়াম, অন্যদিকে মাঠের সমস্ত প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পার্সিয়ান স্টারদের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই।

মিসরের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের ১-১ গোলের ড্রকে অনেকেই দেখছেন ‘রেড ডেভিলস’দের চেনা সেই মন্থরতার পুনরাবৃত্তি হিসেবে। তবে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর রোমেলু লুকাকু বদলি হিসেবে নেমে যে ঝাঁজ দেখিয়েছেন, তাতেই মূলত স্বস্তি ফিরেছে বেলজিয়ান দলে। মিসরের আত্মঘাতী গোলে সমতা ফেরানো বেলজিয়াম এবার অল-আউট আক্রমণের পসরা সাজাতে প্রস্তুত। কেভিন ডি ব্রুইনা, জেরেমি দোকু আর থিবো কোর্তোয়াদের নিয়ে গড়া বেলজিয়ামের বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের শেষ প্রতিনিধিরা যেকোনো রক্ষণ ভাঙতে সক্ষম। ফরোয়ার্ড ডোডি লুকেবাকিও যেন সেই হুংকারই দিয়ে রাখলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের লক্ষ্য একটাই—তা হলো জয় লাভ করা। আমরা টুর্নামেন্টে যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের সর্বোচ্চটা দেব।’

ঠিক বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে ইরানকে লড়তে হচ্ছে ঘড়ির কাঁটার নিখুঁত হিসাব আর ক্লান্তিকর আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রার বিরুদ্ধে। মার্কিন প্রশাসনের কঠোর ২৪ ঘণ্টার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে মেক্সিকোর বেস ক্যাম্প থেকে উড়ে এসে ম্যাচ খেলেই ফিরতে হচ্ছে তাদের। কোচ আমির ঘালেনোই ক্ষোভ উগরে দিয়ে নিজেদের টুর্নামেন্টের ‘সবচেয়ে নিপীড়িত’ দল বললেও, মাঠের কৌশলে এক বিন্দুও ছাড় দিতে রাজি নন। তাই তাঁর কণ্ঠে ঝরল প্রত্যয়ী সুর, ‘আমরা শুধু জিততেই চাই না, আমরা মাঠে একটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিতে চাই।’ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রয়ে ক্রিস উডরা রক্ষণভাগের যে ফাটল ধরিয়েছিলেন, অধিনায়ক মেহেদি তারেমি ও মোহাম্মদ মোহেব্বিদের আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে তা বুজিয়ে দিতে চায় ইরান।

পরবর্তী রাউন্ডের টিকিটের জন্য দুই দলের সামনেই এখন ৪ পয়েন্ট ছোঁয়ার তাড়না। জয়ী দল এক লাফে নকআউটের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে, আর পরাজিত দলের বিদায়ঘণ্টা বেজে যাওয়াও অসম্ভব নয়। ইরানের তরুণ উইঙ্গার মোহাম্মদ মোহেব্বির চোখে এটি কেবল একটি সাধারণ ম্যাচ নয়, বরং টুর্নামেন্টে টিকে থাকার প্রধান পরীক্ষা। তাঁর ভাষায়, ‘এটিই টুর্নামেন্টে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার মূল প্রবেশদ্বার। নিজেদের সবটুকু বিলিয়ে দিতে হবে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’ মাঠের বাইরের শত বাধা আর মাঠের ভেতরের প্রত্যাশার চাপ—সব মিলিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে এক চরম রোমাঞ্চকর ফুটবলীয় নাটকের মঞ্চ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

মাঠের বাইরের শত রাজনৈতিক বাধা আর মাঠের ভেতরের প্রত্যাশার চরম চাপ—সব মিলিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে এক রোমাঞ্চকর ফুটবলীয় নাটকের মঞ্চ এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত, যেখানে জয় ছাড়া অন্য কিছুই ভাবছে না দুই দল। গ্রুপের অপর ম্যাচে পরশু ভ্যাঙ্কুভারে মোহামেদ সালাহর মিসরের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড।

আওয়ামী লীগ একটি ‘মাফিয়া সংগঠন’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ‘মাফিয়া সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দলটি ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এই আশঙ্কায় সারা দেশে পুলিশকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সতর্কতা জারি করা আমাদের দায়িত্ব। ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি সংগঠন কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। পুলিশ বাহিনী সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।’

আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিকভাবে বলি, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি মাফিয়া সংগঠন। তারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। সে কারণেই সারা দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কোথাও যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সংঘাতের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুলিশ সদর দপ্তর দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজির কাছে একটি জরুরি বার্তা পাঠায়। সেখানে ‘প্রয়োজনীয় সতর্কতা’ ও ‘নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২৩ জুন আওয়ামী লীগ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করতে পারে। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অন্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে উত্তেজনা বা সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এবার নতুন দুই চমক নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

জে’ গ্রুপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে শেষ মুহূর্তের অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছে আর্জেন্টিনা। তবে পরবর্তী ম্যাচের আগে শুরুর একাদশ নিয়ে এখনো দুটি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেননি লিওনেল স্কালোনি—এমনটাই জানিয়েছে টিওয়াইসি স্পোর্টস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের একাদশ থেকে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও আক্রমণভাগে কিছু রদবদল দেখা যেতে পারে। থিয়াগো আলমাদার জায়গায় নিকোলাস গনসালেসকে নামানোর কথা ভাবছেন স্কালোনি। গতি ও সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত গনসালেস প্রতিপক্ষের হাইপ্রেসিং কৌশলে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গাগুলো কাজে লাগাতে পারেন বলে এই সিদ্ধান্ত নিতে চায় কোচিং স্টাফ।

আরেকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে। প্রথম ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকা লাউতারো মার্তিনেসের পরিবর্তে সুযোগ পেতে পারেন হুলিয়ান আলভারেস। দলের জন্য স্বস্তির খবর হলো, চোট থেকে প্রায় সেরে উঠেছেন গনসালো মন্তিয়েল। রোববার সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বেঞ্চে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। প্রয়োজন হলে ম্যাচেও নামতে পারেন এই ডিফেন্ডার, এমনটাই দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

রক্ষণ ও মাঝমাঠে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। গোলবারের নিচে থাকবেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রক্ষণভাগে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও ফাকুন্দো মেদিনার জায়গা প্রায় নিশ্চিত। মাঝমাঠে রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেস এবং আলেক্সিস মাক অ্যালিস্তারকে নিয়েই পরিকল্পনা করছেন স্কালোনি।

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে না খেলা লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নিকোলাস তালিয়াফিকোও ধীরে ধীরে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠছেন। অনুশীলনে ধারাবাহিক উন্নতি হতে থাকলে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাঁদেরও মাঠে নামাতে পারেন স্কালোনি।

সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। সে ম্যাচ জিতলে নকআউট পর্বের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

দোহারে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রশিবিরের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

দোহার প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের দোহার উপজেলা শাখার উদ্যোগে এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষার্থীদের সফলতা কামনায় দোয়া, শুভকামনা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু ফাত্তাহ মোহাম্মদ তূর্জ। তিনি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্র গঠন, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইব্রাহিম মাহমুদ, দোহার উপজেলা সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস আলীসহ স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয় এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও পরীক্ষায় সফলতার জন্য শুভকামনা জানানো হয়।

পরে পরীক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ সফলতা, দেশ-জাতির কল্যাণ এবং শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, পরীক্ষার্থীরা অধ্যবসায়, নৈতিকতা ও আল্লাহভীতির সমন্বয়ে নিজেদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

গাজওয়াতুল হিন্দ: শেষ জমানার মহাযুদ্ধ নিয়ে হাদিসের আলোয় তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

গাজওয়াতুল হিন্দ : একটি তাত্ত্বিক ও তথ্যবহুল আলোচনা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিশ্রুত গাজওয়াতুল হিন্দ কি অতি সন্নিকটে?

আজ আমরা গাজওয়াতুল হিন্দ বা হিন্দুস্তানের মহাযু*দ্ধ নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করব ইনশাআল্লাহ। এটা এমনই এক মর্যাদার্পূণ জি*হাদ, যে ব্যাপারে হাদিসে সুস্পষ্ট ফজিলত ও দিক-নির্দেশনা রয়েছে।

গাজওয়াতুল হিন্দ বলতে ইমাম মাহদি এবং ইসা আ.-এর আগমনের কিছু আগে অথবা সমসাময়িক সময়ে এই পাক-ভারত-বাংলাদেশে মুসলিম ও কাফিরদের মধ্যকার সংগঠিত যু*দ্ধকে বুঝায়। ‘গাজওয়া’ অর্থ যু*দ্ধ, আর ‘হিন্দ’ বলতে এই উপমহাদেশ তথা পাক-ভারত-বাংলাদেশসহ শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানকে বুঝায়।

আমরা প্রথমত এসংক্রান্ত কয়েকটি প্রামাণ্য হাদিস উল্লেখ করব। এরপর এর প্রেক্ষাপট, সময় ও অবস্থান র্নিণয় সম্পর্কে কিছু আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

১ নং হাদিস :

حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى الزَّمِنُ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ، عَنْ صُرَيْمٍ السَّكُونِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَتُقَاتِلُنَّ الْمُشْرِكِينَ، حَتَّى تُقَاتِلَ بَقِيَّتُكُمُ الدَّجَّالَ، عَلَى نَهْرٍ بِالأُرْدُنِّ، أَنْتُمْ شَرْقِيَّهُ وَهُمْ غَرْبِيَّهُ، وَمَا أَدْرِي، أَيْنَ الأُرْدُنُّ يَوْمَئِذٍ مِنَ الأَرْضِ.

অর্থ : সুরাইম রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিঃসন্দেহে তোমরা মুশরিকদের (মূর্তিপূজারীদের) বিরুদ্ধে যু*দ্ধ করবে; এমনকি এ যু*দ্ধে তোমাদের অবশিষ্ট মুজাহিদরা জর্ডান নদীর তীরে দাজ্জালের সঙ্গে যু*দ্ধে লিপ্ত হবে। এই যু*দ্ধে তোমরা পূর্ব দিকে অবস্থান করবে আর দাজ্জালের অবস্থান হবে পশ্চিম দিকে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানি না, সেদিন জর্ডান কোথায় অবস্থিত হবে?

সূত্র :

১. কাশফুল আসতার আন জাওয়াইদিল বাজ্জার : ৪/১৩৮, হা. নং ৩৩৮৭, প্র. মুআসাসাসতুর রিসালা, বৈরুত-

২. মাজমাউজ জাওয়ায়িদ : ৭/৩৪৮-৩৪৯, হা. নং ১২৫৪২, প্র. মাকতাবাতুল কুদসি, কায়রো-

মান :

এর সনদ বিশুদ্ধ।

২ নং হাদিস :

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ: أَنْبَأَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَيَّارٌ أَبُو الْحَكَمِ، عَنْ جَبْرِ بْنِ عَبِيدَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: وَعَدَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ الْهِنْدِ، فَإِنْ أَدْرَكْتُهَا أُنْفِقْ فِيهَا نَفْسِي وَمَالِي، وَإِنْ قُتِلْتُ كُنْتُ أَفْضَلَ الشُّهَدَاءِ، وَإِنْ رَجَعْتُ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ.

অর্থ : হজরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে হিন্দুস্তানের জি*হাদ সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদি আমি সে জি*হাদ পেয়ে যাই তাহলে আমি আমার জান-মাল সব কিছু তাতে ব্যয় করব। এতে যদি আমি শাহাদত বরণ করি তাহলে আমি হব সর্বশ্রেষ্ঠ শহিদ। আর যদি গাজি হয়ে ফিরে আসি তাহলে আমি হব (জাহান্নামের আগুন থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত আবু হুরাইরা।

সূত্র :

১. সুনানুন নাসায়ি : ৬/৪২, হা. নং ৩১৭৪, প্র. মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব-

২. আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি : ৯/২৯৭, হা. নং ১৮৫৯৯, প্র. দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত-

৩. মুসনাদু আহমাদ : ১২/২৮-২৯, হা. নং ৭১২৮, প্র. মুআসাসাসতুর রিসালা, বৈরূত-

৪. মুসতাদরাকুল হাকিম : ৩/৫৮৮, হা. নং ১৭৭৫/৬১৭৭, প্র. দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত-

৫. হিলইয়াতুল আওলিয়া : ৮/৩১৬, প্র. আস-সাআদা, মিসর-

৬. আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ : ১/৪০৯, হা. নং ১২৩৭, প্র. মাকতাবাতুত তাওহিদ, কায়রো-

মান :

এ বর্ণনাটির সনদ হাসান তথা উত্তম।

৩ নং হাদিস :

حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَالِمٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ الْوَلِيدِ الزُّبَيْدِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنْ لُقْمَانَ بْنِ عَامِرٍ الْوُصَابِيِّ، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى بْنِ عَدِيٍّ الْبَهْرَانِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: عِصَابَتَانِ مِنْ أُمَّتِي أَحْرَزَهُمُ اللهُ مِنَ النَّارِ: عِصَابَةٌ تَغْزُو الْهِنْدَ، وَعِصَابَةٌ تَكُونُ مَعَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ.

অর্থ : হজরত সাওবান রা. সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে হতে দুটি দলকে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। একটি দল, যারা হিন্দুস্তানের যু*দ্ধে শরিক হবে। আর দ্বিতীয় আরেকটি দল, যারা ইসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর সঙ্গে মিলে যু*দ্ধ করবে।

সূত্র :

১. মুসনাদু আহমাদ : ৩৭/৮১, হা. নং ২২৩৯৬, প্র. মুআসাসাসতুর রিসালা, বৈরূত-

২. সুনানুন নাসায়ি : ৬/৪২, হা. নং ৩১৭৫, প্র. মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব-

৩. আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি : ৯/২৯৭, হা. নং ১৮৬০০, প্র. দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত-

৪. আল-মুজামুল আওসাত : ৭/২৩, হা. নং ৬৭৪১ প্র. দারুল হারামাইন, কায়রো-

৫. আত তারিখুল কাবির : ৬/৭২-৭৩, জীবনী নং ১৭৪৭, প্র. দায়িরাতুল মাআরিফিল উসমানিয়্যা, হায়দারাবাদ-

৬. আল কামিল, ইবনে আদি : ২/৪০৮, জীবনী নং ৩৫১, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত-

মান :

এ হাদিসটি হাসান।

৪ নং হাদিস :

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا الْبَرَاءُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي خَلِيلِي الصَّادِقُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: يَكُونُ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ بَعْثٌ إِلَى السِّنْدِ وَالْهِنْدِ، فَإِنْ أَنَا أَدْرَكْتُهُ فَاسْتُشْهِدْتُ فَذَاكَ، وَإِنْ أَنَا فَذَكَرَ كَلِمَةً رَجَعْتُ وَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ قَدْ أَعْتَقَنِي مِنَ النَّارِ.

অর্থ : হজরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার সত্যবাদী বন্ধু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বর্ণনা করতে বলেছেন, এ উম্মতের মধ্যে সিন্ধু ও হিন্দুস্তানের দিকে একটি যু*দ্ধাভিযান পরিচালিত হবে। (আবু হুরাইরা রা. বলেন,) আমি যদি সে যু*দ্ধ পেয়ে যাই, অতঃপর যু*দ্ধ করতে করতে শহিদ হয়ে যাই তাহলে তো আমি মহাসৌভাগ্যবান। আর যদি আমি গাজি হয়ে ফিরে আসি তাহলে আমি হব মুক্তিপ্রাপ্ত আবু হুরাইরা। আল্লাহ আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তিদান করেছেন।

সূত্র :

মুসনাদু আহমাদ : ১৪/৪১৯, হা. নং ৭১২৮, প্র. মুআসাসাসতুর রিসালা, বৈরূত-

মান :

এ বর্ণনাটির সনদ জইফ।

৫ নং হাদিস :

حَدَّثَنَا أَبُو الْجَوْزَاءِ أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ – وَكَانَ مِنْ نُسَّاكِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ – قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ قَالَ: حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ كِنَانَةَ بْنِ نُبَيْهٍ مَوْلَى صَفِيَّةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ غَزْوَةَ الْهِنْدِ، فَإِنْ أُدْرِكْهَا أُنْفِقْ فِيهَا نَفْسِي وَمَالِي، فَإِنْ قُتِلْتُ كُنْتُ كَأَفْضَلِ الشُّهَدَاءِ، وَإِنْ رَجَعْتُ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ.

অর্থ : হজরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে হিন্দুস্তানের জি*হাদ সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমি যদি সে জি*হাদ পেয়ে যাই তাহলে তাতে আমি আমার জান-মাল সব কিছু ব্যয় করব। এতে যদি আমি শাহাদত বরণ করি তাহলে আমি হব সর্বশ্রেষ্ঠ শহিদের ন্যায়। আর যদি গাজি হয়ে ফিরে আসি তাহলে আমি হব (জাহান্নামের আগুন থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত আবু হুরাইরা।

সূত্র :

আল-জিহাদ, ইবনু আবি আসিম : ২/৬৬৮, হা. নং ২৯১, প্র. মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম, মদিনা-

মান :

এ বর্ণনাটি জইফ।

৬ নং হাদিস :

حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ صَفْوَانَ، عَنْ بَعْضِ الْمَشْيَخَةِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَذَكَرَ الْهِنْدَ، فَقَالَ: لَيَغْزُوَنَّ الْهِنْدَ لَكُمْ جَيْشٌ، يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ حَتَّى يَأْتُوا بِمُلُوكِهِمْ مُغَلَّلِينَ بِالسَّلَاسِلِ، يَغْفِرُ اللَّهُ ذُنُوبَهُمْ، فَيَنْصَرِفُونَ حِينَ يَنْصَرِفُونَ فَيَجِدُونَ ابْنَ مَرْيَمَ بِالشَّامِ. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: إِنْ أَنَا أَدْرَكْتُ تِلْكَ الْغَزْوَةَ بِعْتُ كُلَّ طَارِفٍ لِي وَتَالِدٍ وَغَزَوْتُهَا، فَإِذَا فَتْحَ اللَّهُ عَلَيْنَا وَانْصَرَفْنَا فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرِّرُ، يَقْدَمُ الشَّامَ فَيَجِدُ فِيهَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ، فَلَأَحْرِصَنَّ أَنْ أَدْنُوَ مِنْهُ فَأُخْبِرُهُ أَنِّي قَدْ صَحِبْتُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَضَحِكَ، ثُمَّ قَالَ: هَيْهَاتَ هَيْهَاتَ.

অর্থ : আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিন্দুস্তানের যু*দ্ধের আলোচনার প্রাক্কালে বলেছেন, অবশ্যই তোমাদের একটি দল হিন্দুস্থানের সাথে যু*দ্ধ করবে। আল্লাহ সেই দলের যো*দ্ধাদের সফলতা দান করবেন এবং তারা হিন্দুস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানদের শিকল/বেড়ি দিয়ে টেনে আনবে। আল্লাহ তাআলা সেই দলের যো*দ্ধাদের ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর মুসলিমরা যু*দ্ধ থেকে ফিরে এসে ইসা ইবনে মারইয়াম আ.-কে সিরিয়ায় পেয়ে যাবে। হজরত আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, আমি যদি গাজওয়াতুল হিন্দে অংশগ্রহণের সু্যোগ পাই তাহলে আমি আমার নতুন পুরাতন সব সম্পদ বিক্রি করে দেবো এবং এতে অংশগ্রহণ করব। এরপর যখন আল্লাহ তাআলা আমাদের বিজয় দান করবেন এবং আমরা যুদ্ধ থেকে ফিরে আসব তখন আমি হব (জাহান্নামের আগুন হতে) মুক্তিপ্রাপ্ত আবু হুরাইরা, যে সিরিয়ায় গিয়ে ইসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর সাথে মিলিত হবে। হে আল্লাহর রাসুল, আমার খুব আকাঙ্ক্ষা যে, আমি ইসা আ.-এর নিকটবর্তী হয়ে তাঁকে বলব যে, আমি আপনার সংশ্রবপ্রাপ্ত একজন সাহাবি। তিনি বলেন, এতে রাসুলুল্লাহ সা. মুচকি মুচকি হাসতে লাগলেন এবং বললেন, সে (যু*দ্ধ) তো অনেক দেরি! অনেক দেরি!!

সূত্র :

আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ : ১/৪০৯, হা. নং ১২৩৬, প্র. মাকতাবাতুত তাওহিদ, কায়রো-

মান :

এ সনদটি জইফ।

৭ নং হাদিস :

حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، عَمَّنْ حَدَّثَهُ عَنْ كَعْبٍ، قَالَ: يَبْعَثُ مَلِكٌ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ جَيْشًا إِلَى الْهِنْدِ فَيَفْتَحُهَا، فَيَطَئُوا أَرْضَ الْهِنْدِ، وَيَأْخُذُوا كُنُوزَهَا، فَيُصَيِّرُهُ ذَلِكَ الْمَلِكُ حِلْيَةً لَبَيْتِ الْمَقْدِسِ، وَيُقْدِمُ عَلَيْهِ ذَلِكَ الْجَيْشُ بِمُلُوكِ الْهِنْدِ مُغَلَّلِينَ، وَيُفْتَحُ لَهُ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، وَيَكُونُ مَقَامُهُمْ فِي الْهِنْدِ إِلَى خُرُوجِ الدَّجَّالِ.

অর্থ : হজরত কাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জেরুজালেমের একজন বাদশাহ হিন্দুস্তানের দিকে একটি সৈন্যদল পাঠাবেন। সৈন্যদল হিন্দুস্তানের ভূমি জয় করে তা পদানত করবে। এর অর্থ-ভাণ্ডার দখল করবে। তারপর বাদশাহ এসব ধনদৌলত বাইতুল মুকাদ্দাসে সাজিয়ে রাখবেন। সৈন্যদলটি হিন্দুস্তানের রাজাদের শিকল দিয়ে বেঁধে বন্দি করে তাঁর নিকট উপস্থিত করবে। প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সকল এলাকায় তাঁর বিজয়ার্জন হবে। দাজ্জালের আবির্ভাব পর্যন্ত তাঁরা হিন্দুস্তানেই অবস্থান করবেন।

সূত্র :

আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ : ১/৪০৯, হা. নং ১২৩৫, প্র. মাকতাবাতুত তাওহিদ, কায়রো-

মান :

এটার সনদ জইফ।

৮ নং হাদিস :

حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ جَرَّاحٍ، عَنْ أَرْطَاةَ، قَالَ: عَلَى يَدَيْ ذَلِكَ الْخَلِيفَةِ الْيَمَانِيِّ الَّذِي تُفْتَحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةُ وَرُومِيَّةُ عَلَى يَدَيْهِ، يَخْرُجُ الدَّجَّالُ وَفِي زَمَانِهِ يَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، عَلَى يَدَيْهِ تَكُونُ غَزْوَةُ الْهِنْدِ، وَهُوَ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ، غَزْوَةُ الْهِنْدِ الَّتِي قَالَ فِيهَا أَبُو هُرَيْرَةَ.

অর্থ : হজরত আরতাত রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ইয়ামানি খলিফার নেতৃত্বে ইসতামবুল ও রোম (ইউরোপ) বিজয় হবে, তাঁর সময়েই দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে, তাঁর যুগেই ইসা ইবনে মারইয়াম আ. অবতরণ করবেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই হিন্দুস্তানের যু*দ্ধ সংঘটিত হবে। তিনি হবেন হাশিমি বংশের লোক। গাজওয়াতুল হিন্দ বলতে ঐ যু*দ্ধ উদ্দেশ্য, যে ব্যাপারে আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেছেন।

সূত্র :

আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ : ১/৪১০, হা. নং ১২৩৮, প্র. মাকতাবাতুত তাওহিদ, কায়রো-

মান :

এটার সনদ জইফ।

গাজওয়াতুল হিন্দের হাদিসগুলোর সম্মিলিত মান :

উপরিউক্ত হাদিসগুলোর কিছু সহিহ, কিছু হাসান এবং কিছু জইফ। তবে এ জইফগুলো একটিও মারাত্মক নয়; বরং সবগুলোই সহনীয় পর্যায়ের। সবগুলো সনদ একসাথে করলে সম্মিলিতভাবে গাজওয়াতুল হিন্দের হাদিস সহিহ (বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত) বা কমপক্ষে হাসান (উত্তম সূত্রে বর্ণিত) পর্যায়ের বলে সাব্যস্ত হয়।

এজন্যই শাইখ আলবানি রহ. সুনানে নাসায়িতে বর্ণিত গাজওয়াতুল হিন্দের হাদিসটিকে সহিহ বলে আখ্যায়িত করেছেন। (দেখুন, সুনানুন নাসায়ি : ৬/৪২, হা. নং ৩১৭৫, প্র. মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব) আর সিলসিলাতুস সহিহা-তে এর সনদকে জাইয়িদ বা হাসান বলে অভিহিত করেছেন। (দেখুন : সিলসিলাতুল আহাহাদিসিস সহিহা : ৪/৫৭০, হা. নং ১৯৩৪, প্র. মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ) এছাড়াও শাইখ শুআইব আরনাওত রহ. মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত উক্ত হাদিসকে হাসান বলে অভিহিত করেছেন। (দেখুন, মুসনাদু আহমাদ : ৩৭/৮১, হা. নং ২২৩৯৬, প্র. মুআসাসাসতুর রিসালা, বৈরূত)

গাজওয়াতুল হিন্দের হাদিসগুলোর সারমর্ম :

এ মর্মে বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে আমরা যে বিষয়গুলো জানতে পারি, তা হলো-

১. এটা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সা. কর্তৃক প্রতিশ্রুত একটি যু*দ্ধের ভবিষতবাণী, যা শেষ জমানায় ঘটবে।

২. যু*দ্ধটি হবে হিন্দুস্তানে, যা পাক-ভারত-বাংলাদেশসহ শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানকে বুঝায়।

৩. যু*দ্ধটি হবে হিন্দুস্তানের মুশরিক তথা মূর্তিপূজারী হিন্দুদের সাথে।

৪. এ যু*দ্ধে সর্বাত্মকভাবে নিজের জান-মাল সব কিছু ব্যয় করে অংশগ্রহণ করা উচিত; যেমনটি আবু হুরাইরা রা. বলেছেন; এমনকি তিনি এ যু*দ্ধ শেষ জমানায় হবে জেনেও তাতে শরিক হয়ে ইসা আ.-এর সাথে সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছিলেন।

৫. এ যু*দ্ধে মুসলমানদের বিজয় অর্জন হবে এবং মূর্তিপূজারী রাষ্ট্রপ্রধানদের হাতে পায়ে শিকল পরিয়ে বন্দি করে নিয়ে আসা হবে।

৬. গাজওয়াতুল হিন্দে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদেরকে ইসা আ.-এর সাথে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং উভয় দলের একই মর্যদার কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

৭. এ যু*দ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদেরকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।

৮. এ যু*দ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদেরকে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন।

৯. এ যু*দ্ধের শহিদগণ হবেন শ্রেষ্ঠ শহিদদের অন্তর্গত।

১০. এ যু*দ্ধ রাসুল সা.-এর যুগের অনেক পরে দাজ্জাল আবির্ভাবের পূর্বে শেষ জমানায় সংঘটিত হবে।

১১. এ যু*দ্ধ জেরুজালেম থেকে ইমাম মাহদির নেতৃ্ত্বে পরিচালিত হবে।

১২. এ যু*দ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদের মধ্য হতে যারা গাজি হয়ে ফিরবেন তারা ইসা আ.-এর সাথে দাজ্জালের বিরূদ্ধে সংঘটিত যু*দ্ধে শরিক হবেন।

এ যু*দ্ধ কোথায় এবং কবে হবে?

‘আল-হিন্দ’ দ্বারা ভৌগলিকভাবে দুটি স্থানকে নির্দেশ করে। এক : ইরাকের বসরা নগরী; যেমন শাইখ মাশহুর হাসান স্বীয় ‘আল ইরাক ফি আহাদিসা ওয়া আসারিল ফিতান ওয়াল মালাহিম’ গ্রন্থে বলেন, ‘হিন্দ’ বলে কখনো কখনো ইরাকের বসরা নগরীকেও বুঝানো হয়ে থাকে। দুই : ভারত উপমহাদেশ, যা ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা নিয়ে গঠিত। হাদীসে বর্ণিত ‘আল হিন্দ’ বলতে সকল উলামায়ে কেরাম এ দ্বিতীয় অর্থ তথা ভারত উপমহাদেশই উদ্দেশ্য নিয়েছেন। তাই ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ আমাদের এ ভুখণ্ডেই সংঘটিত হবে। আর হাদিসের ভাষ্যানুসারে এর প্রতিপক্ষ দলটি হবে হিন্দুরা।

এ যু*দ্ধ পূর্বে হয়ে গেছে নাকি অদূর ভবিষ্যতে হবে এ নিয়ে উলামায়ে কিরামের মাঝে কিছুটা মতানৈক্য পাওয়া যায়। কতিপয় উলামায়ে কিরামের মতে এ যু*দ্ধ বনি উমাইয়ার শাসনামালে মুহাম্মাদ বিন কাসিম রহ.-এর ভারত বিজয়ের মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে গেছে। কারও মতে সুলতান মাহমুদ গজনবি রহ.-এর ভারত অভিযানের দ্বারাই এ যু*দ্ধ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু গাজওয়াতুল হিন্দের সবগুলো হাদিস সামনে রাখলে প্রতিভাত হয় যে, এ যু*দ্ধ এখনও হয়নি; বরং ইসা আ.-এর আগমনের কিছু কাল পূর্বে ইমাম মাহদির নেতৃত্বে এটা সংঘটিত হবে এবং এ যু*দ্ধের গাজিরাই সিরিয়ায় গিয়ে ইসা আ.-এর সাথে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যু*দ্ধ করবে।

শাইখ হামুদ তুওয়াইজিরি বলেন :

وما ذكر في حديث أبي هريرة رضي الله عنه الذي رواه نعيم بن حماد من غزو الهند؛ فهو لم يقع إلى الآن، وسيقع عند نزول عيسى ابن مريم عليهما الصلاة والسلام إن صح الحديث بذلك.

অর্থ : নুআইম বিন হাম্মাদ কর্তৃক বর্ণিত আবু হুরাইরা রা.-এর হাদিসে যে গাজওয়াতুল হিন্দের কথা এসেছে তা এখনও সংঘটিত হয়নি। এ হাদিসটি সহিহ হলে সত্বরই তা ইসা আ.-এর অবতরণের সময়কালে সংঘটিত হবে।

সূত্র :

ইতহাফুল জামাআহ : ১/৩৬৬, গাজওয়াতুল হিন্দসংক্রান্ত অধ্যায়, প্র. দারু সামিয়ি, রিয়াদ-

শাইখ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ বলেন :

الذي يبدو من ظاهر حديث ثوبان وحديث أبي هريرة ـ إن صح ـ أن غزوة الهند المقصودة ستكون في آخر الزمان ، في زمن قرب نزول عيسى بن مريم عليهما السلام ، وليس في الزمن القريب الذي وقع في عهد معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه

অর্থ : সাওবান রা. ও আবু হুরাইরা রা. এর হাদিস সহিহ হয়ে থাকলে এর স্পষ্ট ভাষ্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, কাঙ্খিত গাজওয়াতুল হিন্দ শেষ জমানায় ইসা আ.-এর অবতরণের নিকটবর্তী সময়ে সংঘটিত হবে। মুআবিয়া রা.-এর যুগের কাছাকাছি সময়ে যে সকল যু*দ্ধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলো নয়।

সূত্র :

ইসলাম সুওয়াল ও জাওয়াব : প্রশ্নোত্তর নং ১৪৫৬৩৬-

বর্তমান পরিস্থিতি :

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভবিষ্যতবাণী অনুযায়ী খোরাসান (বর্তমান আফগানিস্থান) থেকে কালিমাখচিত কালো পতাকাধারীদের উত্থান এবং তাদের কাশ্মীর পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া, পূর্বপ্রস্তুতি হিসাবে ভারতের কাশ্মীর সীমান্তে সাত লক্ষ সেনা মোতায়েন, পাক-ভারত-বাংলাদেশের হকপন্থী দলগুলোর সুদৃঢ় অবস্থান, পানি নিয়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের সাথে ভারতের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, বাবরি মসজিদ ধ্বং*স এবং মুসলিমদের নির্যাতন নিয়ে ভারতের ভেতরে মুসলিমদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ, সেভেন সিস্টারস বা ভারতের সাতটি অঙ্গরাজ্যের স্বাধীনতার দাবি নিঃসন্দেহে ভারত বিভক্তি এবং আশু সে মহাযু*দ্ধেরই ইঙ্গিত বহন করে।

বর্তমানে এই উপমহাদেশের মূর্তিপূজারী ভূখণ্ডের মুসলিমপ্রধান ভূখণ্ডের ওপর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনের অব্যাহত প্রচেষ্টা দেখলে বুঝা যায় যে, এটি খুব সত্বরই চূড়ান্ত সংঘাতময়রূপ ধারণ করবে এবং এখানকার ইসলামকে টিকিয়ে রাখতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভবিষ্যতবাণী অনুসারে উম্মতের একটি দলকে এদিকে অগ্রসর হতে হবে। এটি ঘটবে সেই সমসাময়িক সময়ে, যখন সমগ্র দুনিয়াতে ইসলামের ক্রান্তিলগ্নে বৈশ্বিক শাসনব্যশাসনব্যবস্থা খিলাফতের আদলে সাজাতে আল্লাহ তাআলা ইমাম মাহদিকে প্রেরণ করবেন, যার খিলাফতের সপ্তম বছরে দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং দাজ্জালের সাথে মহাযু*দ্ধের নেতৃত্ব দিতে ইসা আ.-এর আগমন ঘটবে। গাজওয়াতুল হিন্দের সময় অবশ্যই পাক-ভারত-বাংলাদেশের মুসলিম নামধারী মুনাফিকরা আলাদা হয়ে যাবে। তারা হয়তো কাফিরদের পক্ষে যোগ দিবে অথবা পালিয়ে বেড়াবে। এই ভয়ংকর রক্তক্ষয়ী যু*দ্ধে মুসলিমরা জয়ী হবে এবং তারা ফিলিস্তিনের বাইতুল মুকাদ্দাসে গিয়ে ইসা আ.-এর সাথে মিলিত হবে।

সারকথা :

গাজওয়াতুল হিন্দের প্রকৃত সময় এবং অবস্থা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। আমরা কেবল হাদিসের আলোকে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ঘটনা সম্পর্কে নিজেদেরকে সচেতন এবং প্রস্তুত করতে পারি। সার্বিক বিচারে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, এ যু*দ্ধ খুবই সন্নিকটে। কেননা, এ যু*দ্ধের সাথে ইমাম মাহদি ও ইসা আ.-এর সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিফহাল যারা, তারা ভালো করেই জানেন যে, বর্তমানে তাগুতি শক্তিগুলো আসন্ন মহাযু*দ্ধের জন্য কী পরিমান প্রস্তুতি গ্রহন করছে! অথচ আমরা মুসলিমরাই একমাত্র জাতি, যারা কিনা আজও এ সম্পর্কে গাফিল ও চরম উদাসীন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে এত করে সতর্ক করে দিয়ে গেছেন, যার কারণে তাগুতরা পর্যন্ত সতর্ক হয়ে গেছে, আর আমরা হতভাগার দল আজও আমাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িত।

হে আমার প্রিয় ভাই, ঘুম থেকে এবার জাগো। একবার চেয়ে দেখো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভবিষ্যতবাণী ও বর্তমানের ভয়ংকর পরিস্থিতি। এখনই যদি সতর্ক না হও তাহলে ঘুম থেকে জেগে দেখবে তোমরা শিয়রে অস্ত্র হাতে তাগুতের বাহিনী দণ্ডায়মান। হে আমার দ্বীনের বন্ধু, এখনই সময় সজাগ হওয়ার, প্রস্তুতি নেওয়ার। অসময়ে তোমার দৌঁড়ঝাপ তোমার কোনো কাজে আসবে না। সত্যের বাহিনী তোমার অপেক্ষায় আছে। সাড়া দাও তাদের ডাকে; নইলে আর সময় পাবে না। হে আল্লাহ, তুমি মুসলিমবিশ্বের এ বিনাশী নিদ্রা টুটে দাও। তাদের অন্তর্চক্ষু খুলে দাও। আশু বিপদ অনুধাবনের শক্তি দাও। আল্লাহ, আমাদের রক্ষা করো, হিম্মত দাও, তাওফিক দাও। (আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন)

বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে জাপানের চার গোল, তিউনিসিয়ার বিদায়

মন্তেরেই স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজানোর পর গ্যালারিতে জাপানি দর্শকদের হর্ষধ্বনি। অন্যদিকে তিউনিসিয়ার কয়েকজন ফুটবলারকে দেখা গেছে মাথা নিচু করে থাকতে। যে হাজারতম ম্যাচ জিতলে ইতিহাসের পাতায় নাম উঠে যায়, জাপান সেই ম্যাচ জিতল হেসেখেলে। তিউনিসদের ৪-০ গোলে হারিয়ে মাইলফলকের ম্যাচটা জাপান রাঙাল নিজেদের মতো করে।

বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচ বলে কথা। জাপান-তিউনিসিয়া ম্যাচ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। এই উপলক্ষটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে জাপান। তিউনিসিয়ার জালে গুনে গুনে চার গোল দিয়েছেন জাপানিরা। জাপান যেখানে উৎসবে ব্যস্ত, তিউনিসিয়া তখন হতাশ। টানা দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল তিউনিসদের। সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে হেরে যাওয়া তিউনিসিয়াকে আজ ৪-০ গোলে হারিয়েছে জাপান। টুর্নামেন্টে দুই ম্যাচে এক গোলের বিপরীতে তিউনিসরা হজম করেছে ৯ গোল।

ম্যাচের ৪ মিনিটেই জাপান এগিয়ে যায়। সেই গোলটাও হয়েছে অসাধারণ। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে জাপানের মিডফিল্ডার কেইতো নাকামুরা এগোতে থাকেন তিউনিসিয়ার রক্ষণদুর্গে। শেষ মুহূর্তে গিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে পাস আদান-প্রদান করেছেন। দারুণ এক ভলিতে ফিনিশিং টাচ দিয়েছেন দায়চি কামাদা। তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডারদের জটলা ভেঙে দুর্দান্ত গোল দেওয়ার পর কামাদার উদ্‌যাপন থামায় কে! কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে মোবাইল ফোনে কল দেওয়ার ভঙ্গি করেছেন। তাঁকে জড়িয়ে ধরে উদ্‌যাপন শুরু করেন সতীর্থরাও। গ্যালারিতে থাকা ‘ব্লু সামুরাই’ দর্শকেরা তখন মুহুর্মুহু করতালি দিতে থাকেন

১০ মিনিটে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ করেই ফেলেছিল জাপান। তিউনিসিয়ার রক্ষণদুর্গ ভেদ করে চলে গিয়েছিলেন জাপানের ডিফেন্ডার তাকেহিরো তোমিয়াসু। তবে পোস্টের কাছ থেকে দারুণভাবে নিশ্চিত গোল প্রতিহত করেন তিউনিস গোলরক্ষক আয়মান দাহমেনে। দ্বিতীয় গোল পেতে জাপানের বেশি সময় লাগেনি। ৩১ মিনিটে কো ইতাকুরার কাছ থেকে পাস রিসিভ করে আয়েসা উয়েদা লক্ষ্য বরাবর এগোতে থাকেন। তিউনিস ডিফেন্ডার মোনতাসার তালবি পিছিয়ে গেলে যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, সেই সুযোগে গোল করেন উয়েদা।

প্রথমার্ধে বলতে গেলে তিউনিসিয়া একটা সুযোগই তৈরি করতে পেরেছে। ৩ মিনিটে তিউনিস ডিফেন্ডার হানিবাল মেজব্রি বল তুলে মেরেছেন বারের ওপরে দিয়ে। এ ছাড়া পুরো সময়ে জাপান আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। এশিয়ার দলটি প্রথমার্ধ শেষ করে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরুর ২০ মিনিটের মধ্যে তিন ফুটবলারকে বদলি করেও কোনো সুফল পায়নি তিউনিসিয়া। এমনকি ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও তিউনিসদের সফল হতে দেননি জাপানি ডিফেন্ডাররা। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে জাপান পেয়ে যায় তৃতীয় গোল। আও তানাকার পাস প্রথমে চলে যায় উয়েদার কাছে। উয়েদা এরপর ফ্লিক করলে সেটা চলে যায় জুনিয়া ইতোর কাছে। ফিনিশিং টাচ দিয়েছেন ইতো। মন্তেরেই স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন দেখা যায় জাপানি সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।

শেষ মুহূর্তে এসে জাপান দিয়েছে চতুর্থ গোল। ৮৩ মিনিটে কাইসো সানু বাতাসে ভাসিয়ে পৌঁছে দেন উয়েদার কাছে। তখন ডি বক্সের ভেতরে থাকা উয়েদা তখন হেডে লক্ষ্যভেদ করেন। ম্যাচে এটা তাঁর দ্বিতীয় গোল। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে ৪-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জাপান।

তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শেষ বত্রিশের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে জাপান। ‘এফ’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার প্রথম দুইয়ে থাকা নেদারল্যান্ডস, জাপান দুই দলেরই পয়েন্ট চার। গত রাতে সুইডেনকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে ডাচরা। তিন পয়েন্ট নিয়ে তিনে সুইডেন।

দোহারে পুলিশি অভিযানে যুবলীগ নেতাসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

ঢাকা প্রতিনিধি: ঢাকার দোহার থানা এলাকায় রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে যুবলীগ নেতাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২১ জুন) রাতে দোহার থানার এসআই মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, এসআই মোঃ সজিব হোসেন এবং এএসআই সোহরাব হাসান তালুকদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১ জন ডাকাত দলের সদস্য, ৪টি ওয়ারেন্টের আসামি, ৩ জন সাজাপ্রাপ্ত (বডি) আসামি, ১ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য এবং ১ জন ভ্রাম্যমাণ আসামি রয়েছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন:
১. লিটন মোল্লা (২০): পিতা-সালাম মোল্লা, সাং-কুতুবপুর।
২. মোঃ সালাম মিয়া (৪৭): (কোষাধ্যক্ষ, বিলাসপুর ইউনিয়ন যুবলীগ), পিতা-মৃত ইব্রাহিম হাওলাদার, সাং-কুলছড়ি।
৩. রনি: পিতা-মোঃ সালাম, সাং-নাগেরকান্দা।
৪. আকলিমা: পিতা-আয়ুব আলী, সাং-দক্ষিণ শিমুলিয়া।
৫. হাজী মোঃ আবুল কালাম: পিতা-মৃত নুরু মুন্সি, সাং-দক্ষিণ শিমুলিয়া।
৬. দেলোয়ার হোসেন (২৪): পিতা-আবুল কালাম, সাং-মধুর খোলা।

দোহার থানা পুলিশ জানায়, রোববার রাত ১০টা থেকে সোমবার ভোর ৪টা পর্যন্ত থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ১০

রাজধানীর কলেজ গেট এলাকায় মিছিল ও বিক্ষোভ করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রোববার মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

সকালে কলেজ গেট এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করলে সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ তাঁদের ধাওয়া দিয়ে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মোহাম্মদপুর, আদাবর ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, তাঁদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সারা দেশে বর্ষণের আভাস, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

দেশের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় মৌসুমী বায়ু এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত লঘুচাপের বর্ধিতাংশের প্রভাবে আগামী ৫ দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এমনটাই পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় এবং দেশের অন্যত্র মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য এলাকায় মৌসুমী বায়ু দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

আজ ২১ জুন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এ সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

২২ জুন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিন সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

২৩ জুন সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এদিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

২৪ জুন সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া চতুর্থ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এদিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

২৫ জুন সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া পঞ্চম দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, এ সময়ের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।