মন্তেরেই স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজানোর পর গ্যালারিতে জাপানি দর্শকদের হর্ষধ্বনি। অন্যদিকে তিউনিসিয়ার কয়েকজন ফুটবলারকে দেখা গেছে মাথা নিচু করে থাকতে। যে হাজারতম ম্যাচ জিতলে ইতিহাসের পাতায় নাম উঠে যায়, জাপান সেই ম্যাচ জিতল হেসেখেলে। তিউনিসদের ৪-০ গোলে হারিয়ে মাইলফলকের ম্যাচটা জাপান রাঙাল নিজেদের মতো করে।
বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচ বলে কথা। জাপান-তিউনিসিয়া ম্যাচ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। এই উপলক্ষটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে জাপান। তিউনিসিয়ার জালে গুনে গুনে চার গোল দিয়েছেন জাপানিরা। জাপান যেখানে উৎসবে ব্যস্ত, তিউনিসিয়া তখন হতাশ। টানা দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল তিউনিসদের। সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে হেরে যাওয়া তিউনিসিয়াকে আজ ৪-০ গোলে হারিয়েছে জাপান। টুর্নামেন্টে দুই ম্যাচে এক গোলের বিপরীতে তিউনিসরা হজম করেছে ৯ গোল।
ম্যাচের ৪ মিনিটেই জাপান এগিয়ে যায়। সেই গোলটাও হয়েছে অসাধারণ। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে জাপানের মিডফিল্ডার কেইতো নাকামুরা এগোতে থাকেন তিউনিসিয়ার রক্ষণদুর্গে। শেষ মুহূর্তে গিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে পাস আদান-প্রদান করেছেন। দারুণ এক ভলিতে ফিনিশিং টাচ দিয়েছেন দায়চি কামাদা। তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডারদের জটলা ভেঙে দুর্দান্ত গোল দেওয়ার পর কামাদার উদ্যাপন থামায় কে! কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে মোবাইল ফোনে কল দেওয়ার ভঙ্গি করেছেন। তাঁকে জড়িয়ে ধরে উদ্যাপন শুরু করেন সতীর্থরাও। গ্যালারিতে থাকা ‘ব্লু সামুরাই’ দর্শকেরা তখন মুহুর্মুহু করতালি দিতে থাকেন
১০ মিনিটে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ করেই ফেলেছিল জাপান। তিউনিসিয়ার রক্ষণদুর্গ ভেদ করে চলে গিয়েছিলেন জাপানের ডিফেন্ডার তাকেহিরো তোমিয়াসু। তবে পোস্টের কাছ থেকে দারুণভাবে নিশ্চিত গোল প্রতিহত করেন তিউনিস গোলরক্ষক আয়মান দাহমেনে। দ্বিতীয় গোল পেতে জাপানের বেশি সময় লাগেনি। ৩১ মিনিটে কো ইতাকুরার কাছ থেকে পাস রিসিভ করে আয়েসা উয়েদা লক্ষ্য বরাবর এগোতে থাকেন। তিউনিস ডিফেন্ডার মোনতাসার তালবি পিছিয়ে গেলে যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, সেই সুযোগে গোল করেন উয়েদা।
প্রথমার্ধে বলতে গেলে তিউনিসিয়া একটা সুযোগই তৈরি করতে পেরেছে। ৩ মিনিটে তিউনিস ডিফেন্ডার হানিবাল মেজব্রি বল তুলে মেরেছেন বারের ওপরে দিয়ে। এ ছাড়া পুরো সময়ে জাপান আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। এশিয়ার দলটি প্রথমার্ধ শেষ করে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরুর ২০ মিনিটের মধ্যে তিন ফুটবলারকে বদলি করেও কোনো সুফল পায়নি তিউনিসিয়া। এমনকি ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও তিউনিসদের সফল হতে দেননি জাপানি ডিফেন্ডাররা। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে জাপান পেয়ে যায় তৃতীয় গোল। আও তানাকার পাস প্রথমে চলে যায় উয়েদার কাছে। উয়েদা এরপর ফ্লিক করলে সেটা চলে যায় জুনিয়া ইতোর কাছে। ফিনিশিং টাচ দিয়েছেন ইতো। মন্তেরেই স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন দেখা যায় জাপানি সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।
শেষ মুহূর্তে এসে জাপান দিয়েছে চতুর্থ গোল। ৮৩ মিনিটে কাইসো সানু বাতাসে ভাসিয়ে পৌঁছে দেন উয়েদার কাছে। তখন ডি বক্সের ভেতরে থাকা উয়েদা তখন হেডে লক্ষ্যভেদ করেন। ম্যাচে এটা তাঁর দ্বিতীয় গোল। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে ৪-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জাপান।
তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শেষ বত্রিশের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে জাপান। ‘এফ’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার প্রথম দুইয়ে থাকা নেদারল্যান্ডস, জাপান দুই দলেরই পয়েন্ট চার। গত রাতে সুইডেনকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে ডাচরা। তিন পয়েন্ট নিয়ে তিনে সুইডেন।
