পতাকা হোক চির অম্লান, সমুন্নত

379

আজ ২রা মার্চ ‘পতাকা দিবস’। ১৯৭১ সালের এই দিনে ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের’ ব্যানারে ডাকসুর সহসভাপতি আ,,ম আব্দুর রব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রসমাবেশে মানচিত্র অংকিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রস্তাবিত পতাকা উত্তোলন করেন। এর পূর্ব ১ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নির্দেশে ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী, সেক্রেটারী শাজাহন সিরাজ, ডাকসুর সহসভাপতি আ,,ম আব্দুর রব এবং ডাকসু সেক্রেটারী আব্দুল কুদ্দুস খান মাখন এ চার নেতা মিলে এক বৈঠকে ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিসদ’ গঠন করেন। আর এ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদই পরিবর্তীতে ‘স্বাধীনতার ইশতেহার’ ঘোষনা করে। এদিকে ১মার্চ পাকিস্থানী সামরিক জান্তা অনির্দিষ্ট কারনে হঠাৎ করেই জাতীয় অধিবেশন বন্ধ ঘোষনা করেন; এতে পূর্ব পাকিস্থানের স্বাধীনতার দাবী ক্রমান্বয়েই জোরালো হতে থাকে।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ এর প্রাদেশিক নির্বাচন ও যুক্তফ্রন্ট গঠন, ১৯৬২ এর হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৬ এর ৬দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার এবং বন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তিদান, ৬৯ এর গনঅভ্যুথান, ৭০এর সাধার নির্বাচন সহ ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ১৯৯০ এর সৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি জাতীয় আন্দোলনে আমাদের ছাত্র সমাজ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। আজ যারা জাতীয় নেতৃবৃন্দ তারা প্রায় সবাই ছাত্র রাজনীতির ফসল। তবে কেন আজ ছাত্র রাজনীতি অপরাজনীতির শিকার?

একসময় মেধবী, বুদ্ধিদীপ্ত, প্রগতিশীল ছাত্ররা স্বক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতি করে জাতীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহন করত।কিন্তু আজ ছাত্র রাজনীতি মানেই দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি, সন্ত্রাস, টেন্ডার, চাঁদাবাজী। দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র রাজনীতির প্রাণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্র সংসদ ডাকসুকে স্বক্রিয় করা যায় নি। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিলেও, তা তারা রাখেনি। এছাড়া প্রায় প্রতিটি ছাত্র সংগঠনেই বয়ষ্ক নেতৃত্ব তারুন্যকে সামনে এগিয়ে আসতে বাধা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে কোন নির্বাচন না হওয়ায়, দলীয়, অন্তকোন্দল জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব তৈরিতে তীব্র সংকট সৃষ্টি করছে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতির সুষ্ঠু পরিচালনা এবং ছাত্র সংসদ সহ ছাত্র সংগঠনগুলোর সময় মত নির্বাচন এদেশে আবারও নতুন নতুন তরুন্যদীপ্ত মেধাবী নেতা তৈর করবে; বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিনত করবে। অন্যথায়, জাতি কি তীব্র নেতৃত্ব সংকটের দিকে এগিয়ে যাবে?

ছাত্র রাজনীতির সুষ্ঠু ধারার মাধ্যমেই পতাকা হোক চির অম্লান, শ্বাশত।

Comments

comments