স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা–০১ সংসদীয় আসনের দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগে চরম অনিয়ম, আইন লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এই আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে ই-মেইলযোগে পাঠানো অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা এবং সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রিত ও একতরফা নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চলছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ, অভিজ্ঞ ও পেশাগতভাবে যোগ্য বহু স্কুল, কলেজ এবং ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে পরিকল্পিতভাবে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিপরীতে, পূর্ববর্তী নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী এবং প্রকাশ্যভাবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষককে পুনরায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—যা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
অভিযোগে আরোও বলা হয়, অতীতের নির্বাচনে সততা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী কিছু প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়াই এবারের নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে অবনমিত করা হয়েছে। এটি প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রকাশ্য অপব্যবহার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বৈষম্যমূলক আচরণের স্পষ্ট উদাহরণ।
লিখিত অভিযোগে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের একতরফা ও পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া চলতে থাকলে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়বে এবং ভোটারদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার চরমভাবে হুমকির মুখে পড়বে।
তিনি অবিলম্বে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিল ও পুনর্বিন্যাসের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের উচ্চপর্যায় ছাড়াও সংশ্লিষ্ট আইনগত ফোরামে উপস্থাপন করা হবে।
