রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত হয়েছেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামের সাঈদ মোল্লা (৩৫)। তিনি ১৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় রাশিয়া গিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, যুদ্ধের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
সাঈদ মোল্লা আনসের মোল্লার ছেলে এবং তার ৭ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি স্থানীয়ভাবে হারু মোল্লা নামে পরিচিত ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাঈদ মোল্লা এই বছরের ৭ মে দোহার উপজেলার ইকরাশি এলাকার জুলহাস নামক এক দালালের মাধ্যমে রাশিয়া যান। যাওয়ার ৪-৫ দিন পর মেডিকেল হওয়ার পর তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জানানো হয়, তাকে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে আটক রাখা হয়েছে।
সাঈদের পরিবার জানায়, ৩০ বাংলাদেশিকে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে সাঈদ মোল্লা যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হয়। ১৩ জুন দিবাগত রাত ১টার দিকে সাঈদের মৃত্যুর খবর পান তার স্ত্রী রেশমা বেগম।
সাঈদের মা মিনি বেগম কান্না করে বলেন, “এই ছেলের সংসারেই আমার খাবার হতো। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারের কাছে আমার দাবি, ছেলে আমার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”
স্বজনরা সাঈদের মৃত্যুর সঠিক তথ্য, লাশ দেশে ফেরত আনা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন বাংলাদেশি কীভাবে যুদ্ধের ময়দানে পৌঁছালেন।
