কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত

কোরবানি শব্দটির অর্থ হলো নৈকট্য লাভ করা। উৎসর্গ করা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সঠিক সময়ে নির্ধারিত নিয়মে ও সময়ে মহান আল্লাহপাকের নামে হালাল পশু জবাই করাই হলো কোরবানি। কোরবানির প্রথা প্রথম জানা যায় আদম (আ.) এর যুগে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুহাম্মদ, তুমি তাদের কাছে আদমের দুই পুত্রের গল্প যথাযথভাবে শুনিয়ে দাও। গল্পটি ছিল এই, যখন তারা দুইজন আল্লাহর নামে কোরবানি পেশ করল, তখন তাদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে কোরবানি কবুল করা হলো, আরেকজনের কাছ থেকে কবুলই করা হলো না’ (সুরা মায়েদা-২৭)। কোরবানি হলো হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নাত। আল্লাহ বলেন, ‘হে বৎস আমি স্বপ্নে দেখি- আমি যেন তোমাকে জবাই করছি, বলো এ ব্যাপারে তোমার অভিমত কী? সে বলল, হে আমার আব্বাজান, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তা পালন করুন। অতঃপর তারা দুজনই আল্লাহর ইচ্ছার সামনে আত্মসমর্পণ করল এবং জবাই করার উদ্দেশ্য কাত করে শুইয়ে দিল। তখন আমি তাকে ডাক দিয়ে বললাম, ইবরাহিম তুমি অবশ্যই তোমার স্বপ্নকে সত্য প্রমাণ করেছো। নিঃসন্দেহে আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি। এটা ছিল তাদের জন্য একটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা মাত্র। আমি ছেলের পরিবর্তে একটা বড় কোরবানির জন্তু তাকে দান করলাম।’ (সুরা আস সাফফাত, আয়াত ১০২-১০৭)। সুবহানাল্লাহ। এই ছিল কোরবানির ইতিহাস। আল্লাহ রব্বুল আলামিন কোরআনের অন্য আয়াতে বলেন, ‘আপনি বলুন অবশ্যই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ, সবকিছুই মহান প্রতিপালকের জন্য’ (সুরা আনআম-১৬২)।

সুতরাং আমাদের মনে রাখতে হবে বড় পশু কোরবানি দেওয়ার মধ্যে কোনো বড়াই বা আত্মঅহমিকা নেই। কোরবানি হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। সুরা হজে আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক জাতির জন্যই আমি পশু কোরবানির এ নিয়ম করে দিয়েছি, যাতে করে সেই লোকেরা সেসব পশুর ওপর আল্লাহতায়ালার নাম নিতে পারে, যা তিনি তাদের দান করেছেন, তোমাদের মাবুদ হচ্ছেন একজন, অতএব তোমরা তাঁরই সামনে আনুগত্যের মাথা নত কর (আয়াত ৩৪)। ‘মনে রেখো আল্লাহর কাছে কিন্তু কখনো কোরবানির গোশত রক্ত পৌঁছায় না, বরং তার কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়াটুকু’ (আয়াত ৩৭)। সুতরাং সম্পদ বা টাকা পয়সার আধিক্যের জোরে বড় বড় পশু জবাই দিলে কোরবানি হবে না। কোরবানি হতে হবে তাকওয়াপূর্ণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোরবানির দিন পশু কোরবানির চাইতে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো আমল নেই। কেয়ামতের দিন জবাই করা পশুকে তার শিং ও খুরসহ হাজির করা হবে। কোরবানির পশুর রক্ত জমিনে পড়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা খোলা মনে এবং সন্তুষ্টচিত্তে কোরবানি কর’ (মিশকাত)।

শরিয়তের পরামর্শ অনুযায়ী হৃষ্টপুষ্ট, বেশি গোশত, নিখুঁত, দেখতে সুন্দর পশু কোরবানি করা উত্তম। তাছাড়া কোরবানির পশু হতে হবে সব দোষ ত্রুটিমুক্ত। অসুস্থ বা খুঁতযুক্ত পশু কোরবানি করা উচিত নয়। গরু ও মহিষের দুই বছর এবং উটের বয়স পাঁচ বছর হতে হবে। তাহলে কোরবানি সঠিক হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছে না আসে’ (ইবনে মাজাহ)। কোরবানির মাংস কীভাবে বণ্টন করা হবে আল্লাহ পবিত্র কোরআনে তাও বলে দিয়েছেন, ‘অতঃপর জবাই শেষে তা যখন একদিকে পড়ে যায় তখন তোমরা তার গোশত থেকে নিজেরা খাও এবং আহার করাও ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্ত এবং যারা তোমার কাছে সাহায্যপ্রার্থী হয়’ (সুরা হজ-২২)। আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে কোরবানির গুরুত্ব বুঝে কোরবানি আদায় করার তৌফিক দান করুন।

♦ লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার

নবাবগঞ্জে গভীর রাতে অভিযান, ফসলি জমির মাটি কাটায় ২ জনের কারাদণ্ড

ঢাকার নবাবগঞ্জে ফসলি জমির মাটি কাটায় হাবিবুর রহমান (১৯) ও ইসতাক (১৯) নামে দুইজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের সোনাতলা-শেখরনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ সাজা দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আ. হালিম।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, শিকারীপাড়া ইউনিয়নের সোনাতলা-শেখরনগর এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রি করে আসছেন ওই এলাকার ইউসুফ, আজাদ ও বিল্লাল নামে তিন মাটিখেকো। তারা প্রতিদিন সারারাত ভেকু দিয়ে মাটি কেটে তা বিক্রি করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত ১টায় সেখানে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে হাবিবুর রহমান ও ইসতাক নামে দুইজনকে হাতেনাতে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ দিন করে কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আ. হালিম। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আ. হালিম জানান, উপজেলায় কৃষিজমির টপসয়েল রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নৌকা ডুবির ঘটনায় আতাউর রহমান নামের এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার

ঢাকার দোহার উপজেলায় জয়পাড়া বাজারে নৌকা ডুবির ঘটনায় আতাউর রহমান (৪৩) নামের এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত আতাউর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার সয়াগোলা সাতনাইল গ্রামের সবুর আলী মন্ডলের ছেলে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, জয়পাড়া বাজারের বড়মাঠ খেয়াঘাটে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩জুন) দুপুরে নৌকা দিয়ে নদী পার হওয়ার সময় নৌকা ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হন আতাউর। পরে আজ শুক্রবার বিকেলে জয়পাড়া আঙ্গিনা ঘাটে তার লাশ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে দোহার থানার (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, নিহতের পরিবাররের কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের জন্য পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

বাংলাদেশের পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে। তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ২৩ জুন অপরাহ্ন থেকে বিএ-২৯০২ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি, চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)-কে জেনারেল পদবিতে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক ওই তারিখ অপরাহ্ন থেকে ৩ বছরের জন্য সেনাবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

দোহারে ভূমি সেবা সপ্তাহ-২০২৪ এর উদ্বোধন

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ‘স্মার্ট ভূমিসেবা স্মার্ট নাগরিক’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় ঢাকার দোহার উপজেলায় ‘ভূমি সেবা সপ্তাহ-২০২৪’ উদ্বোধন করা হয়েছে। দোহার উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে ৮ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ‘ভূমি সেবা সপ্তাহ-২০২৪’ উদযাপন করা হবে। রবিবার (৯জুন) বিকালে র‌্যালি, আলোচনা সভার মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানের দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দোহার উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন।

সে সময় তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্মার্ট ভূমিসেবা মূল অংশীজন হিসেবে দেশের জনগণকে সম্পৃক্ত করা, স্মার্ট ভূমিসেবা বিষয়ে সবাইকে অবগত করা এবং ভূমি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবার মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, এসব আজ দৃশ্যমান।

এ সময় তিনি আরো বলেন, স্মার্ট সেবার অংশ হিসেবে দোহার উপজেলায় সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই নামজারীগুলো অনলাইনে হয়ে যাচ্ছে। সেইসাথে শতভাগ ভূমি উন্নয়ন করও আদায় হয়েছে। বিদেশিরা যে ভাবে ভূমি সেবা পায় সেই লক্ষ আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম খলিল সবুজ, প্রকল্প অফিসার আবু সাঈদসহ আরও অনেকে।

ঝুলে আছে ৬ লাখের বেশি এনআইডি সংশোধনের আবেদন 

সারা দেশে ৬ লাখের বেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন ঝুলে আছে। আজ সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) সম্মেলনকক্ষে ‘এনআইডি সংশোধনের আবেদনসমূহ ক্যাটাগরিকরণ ও দ্রুত নিষ্পত্তি’ শীর্ষক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এ তথ্য জানান ইসি সচিব শফিউল আজিম।

লিখিত বক্তব্যে ইসি সচিব জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র নাগরিকদের অতিগুরুত্বপূর্ণ দলিল। বিভিন্ন কারণে কিছু কিছু জাতীয় পরিচয়পত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে। সংশোধনের আবেদনের তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে।

তিনি জানান, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন কারণে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় এনআইডি সংশোধনের আবেদন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যথাসময়ে নিষ্পন্ন করা সম্ভব হয় না। এমনকি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আবেদনগুলো অনিষ্পন্ন রয়েছে।

গত ৫ জুন পর্যন্ত এনআইডি সংশোধনের অনিষ্পন্ন ও প্রক্রিয়াধীন আবেদনের সংখ্যার মধ্যে অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা—‘ক’ ক্যাটাগরিতে ৪০ হাজার ৭২৮, ‘ক-১’ ক্যাটাগরিতে ৩৮৯, ‘খ’ ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ৩ হাজার ৪১২, ‘খ-১’ ক্যাটাগরিতে ৬৩২, ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৭, ‘গ-১’ ক্যাটাগরিতে ২৮১ এবং ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে ৪ হাজার ৮১৮, ক্যাটাগরি পেন্ডিং রয়েছে ৪৫ হাজার ৮৭৪টিসহ মোট ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৬১টি।

প্রক্রিয়াধীন আবেদনে সেন্ট ব্যাক টু সিটিজেন আবেদনের সংখ্যা ৯৮ লাখ ৪৫৮। তদন্ত চাওয়া হয়েছে ৭৫ হাজার ৭৮১টি আবেদনের, ইন্টারভিউর জন্য ২৫ হাজার ৪৮৪টি, অন্যান্য তথ্য চাওয়া ৩৯ হাজার ১৮০টি আবেদনসহ মোট ২ লাখ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৩টি আবেদন রয়েছে।

ইসি সচিব শফিউল আজিম জানান, এনআইডি সংশোধনের এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে বিদ্যমান ক, খ, গ ও ঘ—এই চার ক্যাটাগরির স্থলে ক, ক-১, খ, খ-১, গ, গ-১ ও ঘ—এই সাত ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধনকারী কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়িয়ে সহকারী উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের যুক্ত করা হয়েছে।

এ সময় ইতিমধ্যে ইসির এক মাসিক সমন্বয় সভায় এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য পাওয়া বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন সচিব। এর মধ্যে অনলাইনে দাখিলকৃত আবেদন পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ক্যাটাগরি-সম্পন্ন, ক্যাটাগরি করার পর সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করবেন।

কর্মশালা উদ্বোধনের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এনআইডি ছাড়া এখন কিছুই করা যায় না। এনআইডি সেবা দিতে যেন বিলম্ব না হয়। নাগরিকেরা এই সেবা নিতে এসে যেন হয়রানি বা বিড়ম্বনার শিকার না হয়।’

গাবতলীতে রাতভর জড় হচ্ছে কোরবানির গরু-ছাগল

কোরবানির ঈদের বাকি আর মাত্র ছয় দিন। রাজধানীর বৃহত্তম স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীতে রাতভর আসছে কোরবানির গরু-ছাগল। মধ্যরাতেও হাটে চলছে বেচা-কেনা। অনেকেই আগেভাগে কিনে নিচ্ছেন কোরবানির পশু।

রাজধানীর গাবতলীর পশুর হাটে ঢাকার আশপাশের এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে কিছুটা মুনাফার আশায় তারা গাবতলী হাটে আসছেন। রাতে মহাসড়ক ফাঁকা থাকায় ট্রাকে ট্রাকে ঢুকছে গরু। এখনও গাবতলীতে বেচা-কেনা তেমন জমে ওঠেনি। তবে অনেকে মধ্যরাতে এসে হাটে ঘুরছেন ,পশু দেখছেন, দরদাম করছেন।

প্রতিটি উটের দাম চাওয়া হচ্ছে ৭০ লাখ টাকা। দাম শুনে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ক্রেতারা। তবে উট দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন হাজারো মানুষ। কেউ কেউ উটের সাথে ছবি তুলছেন। কেউবা উটগুলোকে একটু ছুঁয়ে দেখছেন।

হাট কর্তৃপক্ষ বলছেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে হাটের প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। আগামী বুধবার থেকে পুরোদমে জমে উঠবে গাবতলীর এই পশু বিক্রির হাট। রাজধানীর বৃহৎ এই হাটে এবার ১০ লাখের বেশি পশু বিক্রির লক্ষ্য ঠিক করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন,গাবতলীর পশুর হাট পুরোপুরি জমে উঠতে আরও দুই-একদিন লাগবে। আর বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে বসবে মোট ২২টি কোরবানির পশুর হাট।

দেশে বাড়ছে নীরব ঘাতক রাসেল ভাইপারের সংখ্যা

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় নানা রকম বিষাক্ত সাপের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। রাসেল ভাইপারের বাংলা নাম চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া। বাংলাদেশে অল্প যে কয়েকটি সাপ অত্যন্ত বিষধর, তার মধ্যে এটি একটি। অন্যান্য সাপ মানুষ দেখে দূরে সরে থাকলেও, রাসেল ভাইপার সাপ উল্টো অতর্কিতে এসে মানুষকে আক্রমণ করে। ফসলের মাঠে, ঝোপে-ঝাড়ে যারা কাজ করতে যাচ্ছেন, তাদের অনেকের মৃত্যুর খবরও আসছে। অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির এই সাপ বাংলাদেশ থেকে বহু আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে মনে করা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এর অবাধ বিচরণ ভাবিয়ে তুলছে বিশেষজ্ঞদের। সবচেয়ে বিপজ্জনক ভারত থেকে আসা চন্দ্রবোড়া বা রাসেল ভাইপার সাপ।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় ভয়ঙ্কর এই সাপের উপদ্রব বেড়েছে উদ্বেগজনকহারে। রাসেল ভাইপার নামক বিষধর সাপের আক্রমণে আতঙ্কে দিন পার করছেন জনসাধারণ। বিশেষ করে পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় ঢাকা, মাওয়া, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনার রূপপুর, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, মাদারীপুরের শিবচর, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ সহ চরাঞ্চলের মানুষ এই সাপের ছোবলে একাধিক মানুষ মারা যাচ্ছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর অন্তত ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন এবং এদের মধ্যে ছয় হাজার মানুষ মারা যান।

নিম্নবর্তী কোনও পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করবেন না: কামড়ের স্থান থেকে চুষে বিষ বের করে আনার চেষ্টা করা। কামড়ের স্থান আরও কেটে বা সেখান থেকে রক্তক্ষরণ করে বিষ বের করে আনার চেষ্টা করা। বরফ, তাপ বা কোনও ধরনের রাসায়নিক কামড়ের স্থানে প্রয়োগ করা। আক্রান্ত ব্যক্তিকে একা ফেলে যাওয়া। কামড়ের স্থানের গিঁটের কাছে শক্ত করে বাঁধা। এর ফলে বিষ ছড়ানো বন্ধ হবে না এবং আক্রান্ত ব্যক্তি পঙ্গুও হতে পারেন।

রাসেল সাপের কামড়ে কেউ আক্রান্ত হলে করণীয় কী?

যেকোনো সাপে কাটলে ওঝার কাছে যাওয়া যাবে না। কারণ ওঝারা বিষ নামাতে পারেন না। রাসেল ভাইপার শতকরা ৯৯ ভাগ কামড়েই এরা বিষ প্রয়োগ করে। তাই কবিরাজের কাছে না গিয়ে ১০০ মিনিটের মধ্যে অ্যান্টিভেনম দিতে হবে। সাপে কামড়ানোর পরবর্তী ১০০ মিনিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে অ্যান্টিভেনম পুশ করলে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা ৯৯%। রাসেল ভাইপারের বিষে আক্রান্ত ব‍্যক্তির কামড় খাওয়া হাত বা পা ফুলে ওঠে। তাই হাত-পায়ে আংটি, বালা বা ব্রেসলেট জাতীয় কিছু থাকলে সাথে সাথে খুলে দিতে হবে। নাহলে ফোলা হাত থেকে আংটি-চুড়ি-ব্রেসলেট খোলা সম্ভব হবে না। রাসেল ভাইপারসহ ভাইপার জাতীয় সাপ হেমোটক্সিন বিষধারী যা রক্তের উপর প্রভাব ফেলে। রক্ত জমাট বাঁধতে না পেরে অনবরত ক্ষরিত হয়৷ তাই এ জাতীয় সাপের ছোবলে একদমই বাঁধন দেওয়া যাবে না। নইলে পচন ধরা আরও সহজ হয়ে যাবে ৷

নবাবগঞ্জে মাঠ দিবস পালন

ঢাকা (দোহার-নবাবগঞ্জ)ঢাকার নবাবগঞ্জে এস.এম.এপি প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে রেড লেডি পেঁপে চাষের ওপর মাঠ দিবস পালন করা হয়েছে।

শনিবার (৮ জুন) পাড়াগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জাইকা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) ঢাকা জোনের কেরানিগঞ্জ এরিয়ার পাড়াগ্রাম শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন – কেরানীগঞ্জ এরিয়ার ম্যানেজার মো. শামীম খান।

রিকের পাড়াগ্রাম শাখার শাখা ব্যবস্থাপক আ. রহিমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা ও মানিকগঞ্জ জোনের এটিও মো. সুমন আকবার, পাড়াগ্রাম শাখার এবিএম মো. আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছিলেন – পাড়াগ্রাম শাখার ক্রেডিট অফিসার মো. রাকিব, মো. আউয়াল, ইব্রাহিম ও রুবিনা।

আমাদের দেশে প্রচলিত কিছু কুসংস্কার যা অনেরকেই জানা নেই

ছোটখাটো বিষয়ে যেসব কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে, তাতে আপাতদৃষ্টিতে তেমন কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না দেখা গেলেও আসলে মানবজীবনে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব আছে। কুসংস্কারের প্রভাবে মনে যে সংকীর্ণতা দেখা দেয়, তা প্রতিফলিত হয় তার আচরণে, তার কাজকর্মে। যেমন অজপাড়াগাঁয়ে এমন ধারণা আছে, ঘুম থেকে উঠে কিছু কিছু মানুষের মুখ দেখলে দিন খারাপ যায়। এর ফলে সৃষ্টি হয় মানুষে মানুষে বিভেদের আর শত্রুতার। তবে শুধু আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশেই যে কুসংস্কারের জয়জয়কার তা কিন্তু নয়, শিক্ষাদীক্ষায়, সভ্যতায় সমৃদ্ধ অনেক জাতির মাঝেও কুসংস্কারের অস্তিত্ব রয়েছে।

 

আমাদের সমাজে প্রচলিত  কুসংস্কার

১) পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পূর্বে ডিম খাওয়া যাবে না। তাহলে পরীক্ষায় ডিম (গোল্লা) পাবে।

২) নতুন স্ত্রীকে দুলা ভাই কোলে করে ঘরে আনতে হবে।

৩) দোকানের প্রথম কাস্টমর ফেরত দিতে নাই।

৪) নতুন স্ত্রীকে নরম স্থানে বসতে দিলে মেজাজ নরম থাকবে।

৫) বিড়াল মারলে আড়াই কেজি লবণ দিতে হবে।

৬) ঔষধ খাওয়ার সময় ‘বিসমিল্লাহ বললে’ রোগ বেড়ে যাবে।

৭) জোড়া কলা খেলে জোড়া সন্তান জন্ম নিবে।

৮) রাতে নখ, চুল ইত্যাদি কাটতে নাই।

৯) চোখে কোন গোটা হলে ছোট ছেলে বাচ্চাদের লিঙ্গ চোখে ছোয়ালে সুস্থ হয়ে যাবে।

১০) ভাই-বোন মিলে মুরগী জবেহ করা যাবে না।

১১) ঘরের ময়লা পানি রাতে বাইরে ফেলা যাবে না।

১২) ঘর থেকে কোন উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর পেছন থেকে ডাক দিলে যাত্রা অশুভ হবে।

১৩) ব্যাঙ ডাকলে বৃষ্টি হবে।

১৪) কুরআন মাজীদ হাত থেকে পড়ে গেলে আড়াই কেজি চাল দিতে হবে।

১৫) ছোট বাচ্চাদের দাঁত পড়লে ইঁদুরের গর্তে দাঁত ফেলতে বলা হয়, দাঁত ফেলার সময় বলতে শিখানো হয়, “ইঁদুর ভাই, ইঁদুর ভাই, তোর চিকন দাঁত টা দে, আমার মোটা দাঁত টা নে।”

১৬) মুরগীর মাথা খেলে মা-বাবার মৃত্যু দেখবে না।

১৭) বলা হয়, কেউ ঘর থেকে বের হলে পিছন দিকে ফিরে তাকানো নিষেধ। তাতে নাকি যাত্রা ভঙ্গ হয় বা অশুভ হয়।

১৮) ঘরের ভিতরে প্রবেশ কৃত রোদে অর্ধেক শরীর রেখে বসা যাবে না। (অর্থাৎ শরীরের কিছু অংশ রৌদ্রে আর কিছু অংশ বাহিরে) তাহলে জ্বর হবে।

১৯) রাতে বাঁশ কাটা যাবে না।

২০) রাতে গাছের পাতা ছিঁড়া যাবে না।

২১) ঘর থেকে বের হয়ে বিধবা নারী চোখে পড়লে যাত্রা অশুভ হবে।

২২) ঘরের চৌকাঠে বসা যাবে না।

২৩) মহিলাদের মাসিক অবস্থায় সবুজ কাপড় পরিধান করতে হবে। তার হাতের কিছু খাওয়া যাবে না।

২৪) বিধবা নারীকে সাদা কাপড় পরিধান করতে হবে।

২৫) ভাঙ্গা আয়না দিয়ে চেহারা দেখা যাবে না। তাতে চেহরা নষ্ট হয়ে যাবে।

২৬) ডান হাতের তালু চুলকালে টাকা আসবে। আর বাম হাতের তালু চুলকালে বিপদ আসবে।

২৭) নতুন কাপড় পরিধান করার পূর্বে আগুনে ছেক দিয়ে পড়তে হবে।

২৮) নতুন কাপড় পরিধান করার পর পিছনে তাকাইতে নাই।

২৯) বৃষ্টির সময় রোদ দেখা দিলে বলা হয় শিয়ালের বিয়ে।

৩০) আশ্বিন মাসে নারী বিধবা হলে আর কোন দিন বিবাহ হবে না।

৩১) খানার পর যদি কেউ গা মোচড় দেয়, তবে বলা হয় খানা না কি কুকুরের পেটে চলে যায়।

৩২) রাতের বেলা কাউকে সুই-সূতা দিতে নাই।

৩৩) গেঞ্জি ও গামছা ছিঁড়ে গেলে সেলাই করতে নাই।

৩৪) খালি ঘরে সন্ধ্যার সময় বাতি দিতে হয়। না হলে ঘরে বিপদ আসে।

৩৫) গোছলের পর শরীরে তেল মাখার পূর্বে কোন কিছু খেতে নেই।

৩৬) মহিলার পেটে বাচ্চা থাকলে কিছু কাটা-কাটি বা জবেহ করা যাবে না।

৩৭) পাতিলের মধ্যে খানা থাকা অবস্থায় তা খেলে পেট বড় হয়ে যাবে।

৩৮) কোন ব্যক্তি বাড়ি হতে বাহির হলে যদি তার সামনে খালি কলস পড়ে যায় বা কেউ খালি কলস নিয়ে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে তখন সে যাত্রা বন্ধ করে দেয়, বলে আমার যাত্রা আজ শুভ হবে না।

৩৯) ছোট বাচ্চাদের হাতে লোহা পরিধান করাতে হবে।

৪০) রুমাল, ছাতা, হাত ঘড়ি ইত্যাদি কাউকে ধার স্বরূপ দেয়া যাবে না।

৪১) হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে ভাগ্যে দুর্ভোগ আছে।

৪২) হাত থেকে প্লেট পড়ে গেলে মেহমান আসবে।

৪৩) নতুন স্ত্রী কোন ভাল কাজ করলে শুভ লক্ষণ।

৪৪) পাখি ডাকলে বলা হয় ইষ্টি কুটুম (আত্মীয়)আসবে।

৪৫) কাচা মরিচ হাতে দিতে নাই।

৪৬) তিন রাস্তার মোড়ে বসতে নাই।

৪৭) খানার সময় যদি কারো ঢেকুর আসে বা মাথার তালুতে উঠে যায়, তখন একজন আরেকজনকে বলে, দোস্ত তোকে যেন কেউ স্মরণ করছে বা বলা হয় তোকে গালি দিচ্ছে।

৪৮) কাক ডাকলে বিপদ আসবে।

৪৯) শুঁকুন ডাকলে মানুষ মারা যাবে।

৫০) পেঁচা ডাকলে বিপদ আসবে।

৫১) তিনজন একই সাথে চলা যাবে না।

৫২) দুজনে ঘরে বসে কোথাও কথা বলতে লাগলে হঠাৎ টিকটিকির আওয়াজ শুনা যায়, তখন একজন অন্যজনকে বলে উঠে “দোস্ত তোর কথা সত্য, কারণ দেখছস না, টিকটিকি ঠিক ঠিক বলেছে।”

৫৩) একজন অন্য জনের মাথায় টোকা খেলে দ্বিতীয় বার টোকা দিতে হবে, একবার টোকা খাওয়া যাবে না। নতুবা মাথায় ব্যথা হবে/শিং উঠবে।

৫৪) ভাত প্লেটে নেওয়ার সময় একবার নিতে নাই।

৫৫) নতুন জামাই বাজার না করা পর্যন্ত একই খানা খাওয়াতে হবে।

৫৬) নতুন স্ত্রীকে স্বামীর বাড়িতে প্রথম পর্যায়ে আড়াই দিন অবস্থান করতে হবে।

৫৭) পাতিলের মধ্যে খানা খেলে মেয়ে সন্তান জন্ম নিবে।

৫৮) পোড়া খানা খেলে সাতার শিখবে।

৫৯) পিপড়া বা জল পোকা খেলে সাতার শিখবে।

৬০) দাঁত উঠতে বিলম্ব হলে সাত ঘরের চাউল উঠিয়ে তা পাক করে কাককে খাওয়াতে হবে এবং নিজেকেও খেতে হবে।

৬১) সকাল বেটা ঘুম থেকে উঠেই ঘর ঝাড়– দেয়ার পূর্বে কাউকে কোন কিছু দেয়া যাবে না।

৬২) রাতের বেলা কোন কিছু লেন-দেন করা যাবে না।

৬৩) সকাল বেলা দোকান খুলে যাত্রা (নগদ বিক্রি) না করে কাউকে বাকী দেয়া যাবে না। তাহলে সারা দিন বাকীই যাবে।

৬৪) দাঁড়ী-পাল্লা, মাপার জিনিস পায়ে লাগলে বা হাত থেকে নিচে পড়ে গেলে সালাম করতে হবে, না হলে লক্ষ্মী চলে যাবে।

৬৫) শুকরের নাম মুখে নিলে ৪০দিন মুখ নাপাক থাকে।

৬৬) রাতের বেলা কাউকে চুন ধার দিলে চুন না বলে ধই বলতে হয়।

৬৭) বাড়ি থেকে বের হলে রাস্তায় যদি হোঁচট খেয়ে পড়ে যায় তাহলে যাত্রা অশুভ হবে।

৬৮) কোন ফসলের জমিতে বা ফল গাছে যাতে নযর না লাগে সে জন্য মাটির পাতিল সাদা-কালো রং করে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

৬৯) বিনা ওযুতে বড় পীর (!!) আবদুল কাদের জিলানীর নাম নিলে আড়াইটা পশম পড়ে যাবে।

৭০) নখ চুল কেটে মাটিতে দাফন করতে হবে, কেননা বলা হয় কিয়ামতের দিন এগুলো খুঁজে বের করতে হবে।

৭২) মহিলাগণ হাতে বালা বা চুড়ি না পড়লে স্বামীর অমঙ্গল হবে।

৭৩) স্ত্রীগণ তাদের নাকে নাক ফুল না রাখলে স্বামীর বেঁচে না থাকার প্রমাণ।

৭৪) দা, কাচি বা ছুরি ডিঙ্গিয়ে গেলে হাত-পা কেটে যাবে।

৭৫) গলায় কাটা বিঁধলে বিড়ালের পা ধরে মাপ চাইতে হবে।

৭৬) বেচা কেনার সময় জোড় সংখ্যা রাখা যাবে না। যেমন, এক লক্ষ টাকা হলে তদস্থলে এক লক্ষ এক টাকা দিতে হবে। যেমন, দেন মোহর (কাবীন) এর সময় করে থাকে, একলক্ষ এক টাকা ধার্য করা হয়।

৭৭) বন্ধু মহলে কয়েকজন বসে গল্প-গুজব করছে, তখন তাদের মধ্যে অনুপস্হিত কাউকে নিয়ে কথা চলছে, এমতাবস্থায় সে উপস্থিত হলে, কেউ কেউ বলে উঠে “দোস্ত তোর হায়াত আছে।” কারণ একটু আগেই তোর কথা বলছিলাম।

৭৮) হঠাৎ বাম চোখ কাপলে দুখঃ আসে।

৭৯) বাড়ী থেকে কোথাও জাওয়ার উদ্দেশে বেড় হলে সে সময় বাড়ির কেউ পেছন থেকে ডাকলে অমঙল হয়।

৮০) স্বামীর নাম বলা জাবে না এতে অমঙল হয়।

৮১) বাচুর এর গলায় জুতার টুকরা জুলালে কারো কু দৃস্টি থেকে বাচা জায়।