স্টাফ রিপোর্টারঃ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের এক আতঙ্কের নাম বাদল কোম্পানি। সে নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক প্রচার ও ঢাকা জেলা কৃষকলীগের সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। বিগত আওয়ামী সরকারের ছত্রছায়ায় এতদিন বহু অত্যাচার ও নিপিড়ন করে ত্রাসের রাজ্য কায়েম করেছিল বাদল। এমন কি গত স্থানীয় নির্বাচনের আগে শিকারীপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলিমোর রহমার খান পিয়ারাকে বেধড়ক মারধর করে। টাকা দিয়ে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে ফসলি জমির মাটি উত্তোলন করে কোটি টাকার মালিক হয়ে যায় সে। বাড়িতে বহুতল দালান আর গাড়ি করে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই। গত স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করে বর্তমান চেয়ারম্যানের বিপক্ষে। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে সে প্রতিশোধ নিতে বর্তমান সময়কে বেছে নিয়েছে। সংখ্যালঘু বাড়িতে আক্রমন করে বাড়ি ভাঙচুর করেছে। বাবু দিলীপ কুমার ঘোষের বাড়িতে আক্রমন করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। বর্তমান চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় ও চেয়ারম্যানকে মারার হুমকি দিয়ে আসে। চেয়ারম্যান বাড়িতে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যায়। হাগ্রাদী বাজারে গিয়ে ফার্মেসীতে আক্রমন করে ডাঃ বোরহান উদ্দিনকে ব্যাপক মারধর করে আহত করে। সে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সরাসরি জড়িত না থাকার পরও তার প্রতি আক্রমন করে। বাদলের নেতৃত্বে হাগ্রাদী গ্রামের দানেশ মিয়ার ছেলে আব্দুল আওয়াল, বাবুলের ছেলে মোঃ বাঁধন, সুরুজ মিয়ার ছেলে রবিউল সরাসরি মারামারিতে অংশ নেয় ও ভাংচুর করে। গতকাল সরকারের পতন হওয়ার পরপরই সে এই আক্রমন করে। এলাকার গন্যমান্য মুরব্বিরা জানান, আমাদের এলাকা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মুক্ত ছিল এবং সংখ্যালঘুরা সব সময় নিরাপদে ছিল। সাম্প্রতিক সম্প্রীতি বজায় ছিল যা বাদল পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করেছে। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে নৈরাজ্যমূলক পরিবেশ ও ত্রাসের সৃষ্টি করেছে। আমরা এর বিচার চাই।
দোহার থানা পাহারা দিচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীরা
ঢাকার দোহার থানা পাহারার দায়িত্ব পালন করছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। গতকাল সোমবার তাণ্ডবের পর থানা থেকে আসামি দের ছাড়িয়ে নিয়ে যান যার যার দলের লোক জন। পরে রাতে পুলিশ থানা ছেরে পালিয়ে জান। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছে তারা।
ঢাকা জেলা যুবদল নেতা শিপন মোল্লা বলেন, ‘থানার ভেতরে ভাংচুর হয়েছে। পুলিশ না থাকায় থানা যেহেতু অরক্ষিত তাই আজ সকাল থেকে আমরা এখানে থানা পাহাড়ার দায়িত্ব পালন করছি।’
বিএনপি কর্মি সুমন মোল্লা বলেন, মোট ২০ জন বিএনপির নেতাকর্মীরা এখানে দায়িত্ব পালন করছি। আজ মঙ্গলবার থানার প্রবেশ পথে আমরা সকাল থেকে বসে পাহাড়া দিচ্ছি।
এলাকাবাসী জানান, গতকাল রাতে বেশ কয়েকজন মানুষ দোহার থানায় মটরসাইকেল নিয়ে এসে আক্রমণ করলে প্রাণ রক্ষার্থে পালিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় হামলাকারীরা থানায় ভাংচুর চালায়।
দোহারে ত্রিমুখী সংঘর্ষ: সাংবাদিকসহ আহত প্রায় ৩০
শরিফ, আল-আমিন, মো সোহেল, আশিক, ফয়সাল, news39.net: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ আন্দোলনে ত্রিমুখী সংঘর্ষে হয়েছে ঢাকার দোহারে। আহত হয়ে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নিয়েছেন আনুমানিক ৩০ জন। আহতদের তালিকায় রয়েছে প্রেসক্লাব সদস্যবৃন্দ, দোহার উপজেলা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ অসংখ্য আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। আহতদের মধ্যে ১জন নিজেকে গুলিবিদ্ধ বলে দাবী করেছেন। তিনি রাইপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা রাজীব মোল্লা। এদিকে, রাজীব মোল্লা শিক্ষার্থীদের গুলি করতে গিয়ে নিজে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, আহত পাচজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান দোহার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা । তবে, দোহার জেনারেল হাসপাতাল এবং জয়পাড়া ক্লিনিকে কেউ চিকিৎসা নেয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আহতদের মধ্যে রয়েছে দোহার প্রেসক্লাবের কয়েকজন সদস্য, এছাড়াও যাদেরকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছেন তারা হল লটাখোলা গ্রামের সেলিম বেপারীর ছেলে জাহিদ (২০), লক্ষী প্রসাদ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা রাজিব মোল্লা(৩৮), লটাখোলার আয়ুব আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ, তানিয়া, আঁখি। রবিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দোহার উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জসিম উদ্দিন।
এছাড়াও সংঘর্ষের সময় ৫টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আটকের বিষয় দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশীদ বলেন, দুই পক্ষের সংর্ঘষের সময় আমরা কিছু লোক হেফাজতে রেখেছি । তারা ছাত্র হলে আমরা তাদেরকে ছেড়ে দিবো। মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে তিনি।
কোটা আন্দোলনে নিহত রাকিবের মায়ের আর্তনাদ
আমার বাবাকে কারা এভাবে দুনিয়া থেকে নিয়ে গেল তাদের কি বিচার হবে না? এ কথা বলেই বারবার আর্তনাদ করছিল নিহত রাকিবের মা সুইটি আক্তার। আমার বাবার লাশটাও গ্রামে আনতে দেয়নি ওরা। এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন কোটা আন্দোলনে নিহত নির্মাণ শ্রমিক রাকিবের মা সুইটি আক্তার।
নবাবগঞ্জ উপজেলার কামারখোলা গ্রামে মো. রাকিবের (২৩) বাড়ি। সেখানে গিয়ে এমনই দৃশ্য দেখা যায়। গত ১৯ জুলাই রাকিবের গলায় গুলিবিদ্ধ হলে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান। সেখানে তার লাশ ফেলে রাখা হয়। পরের দিন ২০ জুলাই সন্ধ্যায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্ত করে।
এর দুই দিন পর ২২ জুলাই পরিবারের কাছে লাশ স্থানান্তর করা হয়। এ সময় পুলিশ তাদের লাশ নিয়ে দ্রুত সরে যেতে বলে। ৩০ মিনিটের মধ্যে লাশ দাফনের জন্য বলা হয়। নিরুপায় হয়ে লাশ আর নবাবগঞ্জ আনতে পারেনি। পরে গাজীপুরের সখীপুরেই তাড়াহুড়া করে লাশ দাফন করা হয়।
প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। সন্তানদের আঁকড়ে ধরেই জীবন চলছিল তার। তিন ছেলে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খান সুইটি। নিরুপায় হয়ে গাজীপুরে আশ্রয় নেন। সেখানে কখনো পোশাক শিল্পে আবার কখনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে ছেলেদের ভরণপোষণ করে জীবন চালান স্বামী পরিত্যক্তা এই গৃহবধূ। নিহত রাকিব তার দ্বিতীয় সন্তান। রাকিবের উপার্জনেই সংসার চলত সুইটি আক্তারের। ছেলের অনুরোধেই কয়েক বছর আগে সুইটি চাকরি ছেড়ে দেন। রাকিবই ছিল তার সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম।
রাকিব ঢাকা জেলার সাভার নর্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি গ্রিল কারখানায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ১৯ জুলাই বিকালে কাজ শেষে সহকর্মীদের সঙ্গে ভাড়া বাসা সখীপুরে ফিরছিলেন রাকিব। এ সময় মিছিল থেকে ছোড়া গুলিতে মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
নিহতের ছোট ভাই মো. সাকিব বলেন, আমাদের কেউ নাই। উপরে আল্লাহ ও আমার মা-ই ভরসা। আমার ভাইকে যারা গুলি করেছে তাদের বিচার চাই। আমার ভাই তো কোনো অপরাধ করেনি।
নবাবগঞ্জ ও দোহারে শোকের মাতম, দুবাইয়ে নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধার দাফন
দুবাই আজমান শহরে গাড়ি বিস্ফোরণে নিহত ৫ রেমিট্যান্স যোদ্ধার লাশ নবাবগঞ্জ উপজেলার একই গ্রাম বালেঙ্গা ৪ জনের লাশ দোহার বাজারে ১ জনের লাশ পৌঁছলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তাদের নিজ নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটায় নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বালেঙ্গা গ্রামে লাশের অপেক্ষায় শত শত মানুষের ভিড়। ৪ জনের লাশবাহী ৪টি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স দেখামাত্র মানুষের চোখে মুখে কান্নার প্রতিধ্বনিতে এই এলাকার পরিবেশ কালো মেঘে ঢেকে যায়।
৭ জুলাই দুবাই আজমান শহরে গাড়ি বিস্ফোরিত হওয়ার ঘটনায় নিহতরা হলেন, নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বালেঙ্গা গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে মো. রানা (৩০), আবদুল হাকিমের ছেলে মো. রাশেদ (৩২), শেখ ইরশাদের ছেলে মো. রাজু (২৪), শেখ ইব্রাহিমের ছেলে ইবাদুল ইসলাম (৩৪) ও দোহার বাজার এলাকার মো. মঞ্জুরের ছেলে মো. হীরা মিয়া (২২)। পাঁচজনই একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।
বেলজিয়াম ও ইইউয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত “শোষিতের” পক্ষে
বেলজিয়াম ও লুকসাম্বার এবং ইউরোপিয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের মিশন প্রধান মাহবুব হাসান সালেহ ‘শোষিতের’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে টুইট করেছেন।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে তিনি লেখেন, ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত চতুর্থ জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, ‘বিশ্ব আজ দু’ভাগে বিভক্ত। শোষক আর শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে’।
বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত দ্বিতীয়বার লেখেন, ‘আমি শোষিতের পক্ষে।’
তিনি এমন সময় লিখছেন, যখন বাংলাদেশে এক সপ্তাহের কম সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার দলীয় নেতা কর্মী সঙ্গে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে ২১০ জনের অধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দেশজুড়ে সেসব হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আন্দোলন চলছে।
সালেহ বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোম্যাসি অ্যান্ড ট্রেড সম্পন্ন করেন।
এছাড়া সালেহ ১৬তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস ব্যাচের ফরেন সার্ভিস শাখায় যোগদান করেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে, তিনি ফ্যাবিও ম্যাসিমো কাস্টালডো আয়োজিত বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সরকারের মানবাধিকার রেকর্ড রক্ষা করেন । ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে চীনা মিশনের প্রধান ফু কং -এর সাথে দেখা করেন এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন।
নবাবগঞ্জে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
ঢাকার নবাবগঞ্জে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরে বেসরকারি ক্লিনিক ‘নিউ লাইফ মেডিকেল সার্ভিস সেন্টার’-এ শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে।
নবজাতকের বাবা ইমরান হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ডা. শামীমা নাসরিনের অবহেলায় আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী শারমিন গর্ভবতী থাকায় গত সোমবার ওই ক্লিনিকে ডা. শামীমা নাসরিনকে দেখাই। তিনি সিজারের পরামর্শ দেন। এরপর শুক্রবার সকালে ক্লিনিকে আসার পর সিজার করা হয়। এ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক শামীমা নাসরিন বলেন, বাচ্চার অবস্থা বেশি ভালো না। পরে তিনি নিজেই শিশু বিশেষজ্ঞকে নবজাতক দেখান।’
এই ক্লিনিকের শিশু বিশেষষ্ণ ডা. চৌধুরী মোহাম্মাদ ফোয়াদ গালিব বলেন, নবজাতকের যে পরিমাণ নিঃশ্বাস নেওয়ার কথা তা ছিল না। এরপর ২০ মিনিট পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা করে টিউব স্থাপন করে চিকিৎসা প্রদান করেও হার্টবিড বাড়ানো সম্ভব হয়নি।
নিউ লাইফ মেডিকেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আউয়াল হোসেনের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, নিউ লাইফের পরস্পর দুটি মৃত্যুর ঘটনা আমি শুনেছি। তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সিজার বন্ধের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত সপ্তাহে এই নিউ লাইফ মেডিকেলে কৈলাইলের দড়িকান্দা গ্রামের বাসিন্দা তানিয়া আক্তারকে সিজারের পর তিনি মারা যান।
১০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির চেয়ে একটি জীবন বেশি মূল্যবান: সালমান এফ রহমান এমপি
অনলাইন ডেস্ক,news39.net: “১০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির চেয়ে একটি জীবন বেশি মূল্যবান,” বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বেসরকারি টেলিভিশনে Independent টিভির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় আমাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু ২০০ প্রাণের যে ক্ষতি সেটা কিন্তু আরও বড় ক্ষতি। এই প্রাণ আর ফেরত পাওয়া যাবে না, যাই হোক না কেন। এটা কিন্তু অনেক দুঃখজনক। এই পরিবারগুলো যা হারিয়েছে, যে ক্ষতি সেটা কোনোভাবেই পূরণ করা যাবে না। আমি তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাই। আমি যেটা বুঝতে পারছি, শিক্ষার্থীরা বিচার চায়। বিচার তো আমরাও চাই।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলতে প্রস্তুত আছেন। তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে কাজ চলছে। সমস্যা হলো, ওদের মধ্যে ঐক্যটা পাচ্ছি না। প্রধানমন্ত্রী ওদের সঙ্গে দেখা করতে চান। তিনি মনে করেন ওরা উনারই ছেলে-মেয়ে। এখন তো অনেক তথ্য বের হচ্ছে। একটা ইনফরমেশন ব্ল্যাক আউট হয়েছিল। এখন অনেক তথ্য বের হচ্ছে। শিগগিরই ছাত্র ও জনগণ তা বুঝতে পারবে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকেও যদি কোনো ভুল হয় সেটা শোধরানোর কাজ হবে। আমি বলব, রাস্তায় না থেকে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান আসুক।’
সহিংসতার বিষয়ে আগাম তথ্য না থাকাকে গোয়েন্দা ব্যর্থতা বলা হবে কিনা জানতে চাইলে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘যখন এ ধরনের পরিকল্পনা হয় বা ষড়যন্ত্র হয়, এটা কিন্তু গোপনে হয়। যতোই আমার গোয়েন্দা সংস্থা থাকুক। আমরা তদন্ত করছি, কারা করেছে। তবে এর পেছনে অনেক শক্ত হাত আছে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘জামায়াত–শিবির–বিএনপি তারা তো সামনেই চলে এসেছে। আমি বলছি, তাদের পেছনেও কেউ আছে। আমি বলতে চাই, তাদের পেছনে একটি শক্তিশালী হাত আছে। সেটা আমাদের বের করতে হবে। এটা নিয়ে আমি কমেন্ট করতে চাই না। তদন্ত শেষ হোক। আমরা জানাবো।’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যে সহিংস হয়ে উঠবে তা ধারণাতেও ছিল না জানিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘যে অবস্থা দেখেছি, এটা আমার জন্য একটা লার্নিং এক্সপেরিয়েন্স। একটা ষড়যন্ত্র কীভাবে প্লে আউট হয়। কোটা আন্দোলন, এটা ছাত্রদের ন্যায্য দাবি। তারা এই দাবি আগেও তুলেছিল। সরকার কিন্তু ২০১৮ সালে বাতিল করে দেয়। আমি মনে করি মেধাবীদেরই চাকরি দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, আমার নিজের প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো, আইএফআইসি নতুন চাকরির সময় বলে দিয়েছি সবাইকে, যে মেধার ওপরই চাকরি হবে। সমাজে থাকলে তো তদবির থাকেই। আমি বন্ধু–বান্ধব, আত্মীয় স্বজনদেরও বলেছি, আমাদের একটা প্রসেস আছে সেটার মধ্য দিয়ে আসলে চাকরি হবে।’
শিক্ষার্থীদের অহিংস আন্দোলনকে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এটা স্পষ্ট যে খুবই পরিকল্পিতভাবে এই আন্দোলনকে টেক ওভার করে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এটা এখন ক্রিয়ার। আমি মনে করি, ছাত্ররাও ডেফিনেটলি এটাকে সমর্থন করে না। তারা নিজেরাই বলেছে, এটার সাথে নেই। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, জনগণও কিন্তু এটাকে সমর্থন করে না। কিন্তু এমন পরিকল্পিত করা হচ্ছে, যখনই আমরা একটা ধাপে সলিউশন করতে চাই, তখনই ঘটনা ঘটানো হয়। এতে এক কদম সামনে গেলে, দুই কদম পেছনে যেতে হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আন্দোলনের শুরুতে শিক্ষার্থীরাই ছিলেন। এখনও তারা আছে বুঝলাম। তাহলে হঠাৎ অন্যরা ঢুকলো কীভাবে? যখন শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে আসে, তখন তাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পেছনের জঙ্গিরা সামনে চলে আসে। তখন বিপজ্জনক অবস্থা হয়ে যায়। পরিকল্পনা এত সূক্ষ্ম। অনেক তরুণ যারা শিক্ষার্থী না, যেন কিশোর গ্যাং, বা বস্তির বেকার। এখন যদি আপনি দেখেন, সেটা শিক্ষার্থী না সন্ত্রাসী এটা বোঝা কঠিন হয়ে যায়। ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সন্ত্রাসীরা মিশে যায়। যখন সন্ত্রাস শুরু করে তখন পার্থক্য করা মুশকিল হয়ে যায়।’
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে দেরি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি এটাতে একমত তবে আমি এটাকে বিলম্ব করব না। তবে যদি জানতাম এ ধরনের পরিকল্পনা আছে, তাহলে অন্যভাবে এটা হ্যান্ডেল করতাম। ছাত্রদের দাবি যেটা ছিল, তারা কিন্তু সংস্কার চেয়েছে। বাতিল নয়। আমাদের সমস্যা হলো এটা ছিল বিচারাধীন। এখন যদি কমিশনও করা হয় সেটা আদালত অবমাননা হয়। যদি আমরা বুঝতাম, তাহলে অন্য কিছু….। আমি বলব না, আমাদের ভুল হয়নি। কিন্তু বিষয়টা এতো ফাস্ট মুভিং হয়েছে। কল্পনাই করতে পারি নাই। এটা যে সরকার পতনের আন্দোলন হবে এটা ভাবিই নেই।’
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমরা কিন্তু খুবই অস্বাভাবিক সময় পার করেছি। প্রায় ২০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এটা কিন্তু আমরা কল্পনাও করতে পারি না। বিটিভি, মেট্রোরেল, সেতুভবনে হামলা। ছাত্র আন্দোলন যখন এই আন্দোলন শুরু করেছে, তখন যদি আমরা এটা বলতাম কেউ বিশ্বাস করত না। আপনিও হাসতেন। এত প্রাণ যাবে কেউ কি মনে করেছিল? এখন তো হয়ে গেছে। আমাদের পেছনে না তাকিয়ে সামনে তাকানো উচিত।’
৬ সমন্বয়ক ডিবি হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, যখন তারা কথা বলছিলেন। আইনমন্ত্রী তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যখন কথা বলছিলেন, তখন তাদের কয়েকজন ভাবছিলেন হেফাজত দরকার। তারা অবশ্য এখন বলছেন যে এটা বলে নি। আমার কাছে এখন এটার গুরুত্বও নেই। তারা এখন তাদের পরিবারের কাছে আছেন। এটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, সামনে যে চ্যালেঞ্জ এটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, দাবি মেনে নেওয়া পরেও কেন আন্দোলন চলছে। যখন দাবি আমরা মেনে নিয়েছি, তখন আন্দোলন কেন? প্রত্যেকবার নতুন দাবি আসছে। আমি চাই এবং বিশ্বাস করি, জনগন ও ছাত্রছাত্রীরাও, কোটা আন্দোলনের আগে আমরা যে জায়গায় ছিলাম, আমাদের সেই জায়গায় চলে যাওয়া উচিত, যাতে দেশটা যেভাবে সামনে যাচ্ছিল সেভাবে যেতে পারে।’
হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়া ইরানে নিহত
হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়া ইরানের রাজধানী তেহরানে নিহত হয়েছেন বলে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
ইরানি মিডিয়া অনুযায়ী, হামাস প্রধানের মৃত্যুর ঘটনা তেহরানেই ঘটেছে। ইসমাইল হানিয়া মঙ্গলবার তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে গিয়েছিলেন।
হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত। হামাস দাবি করেছে ‘তেহরানে তার বাসভবনে একটি বিশ্বাসঘাতক ইহুদি হামলায়’ হানিয়া নিহত হয়েছেন।
ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তেহরানে তার বাসভবনে হানিয়া এবং তার এক নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হয়েছেন।
এই বছর হামাসের রাজনৈতিক প্রধান হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হন ইসমাইল হানিয়া। ২০১৭ সাল থেকে হামাসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী হানিয়া গাজা, ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং প্রবাসে হামাসের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। গত দুই বছর ধরে তিনি তুরস্ক ও কাতারে বিভিন্ন সময় থেকেছেন।
৫৮ বছর বয়সী হানিয়া হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আহমেদ ইয়াসিনের ডানহাত ছিলেন। আহমেদ ইয়াসিন ২০০৪ সালে একটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন।
২০০৬ সালে ফিলিস্তিনি সংসদ নির্বাচনে হামাসের আশ্চর্যজনক বিজয়ের সময় হানিয়া সংগঠনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেন। ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহ পার্টিকে পরাজিত করেছিল হামাস।
সাত দিনের মধ্যে কারফিউ উঠে যাবে: সালমান এফ রহমান
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, ‘কারফিউ প্রতিদিনই শিথিল হচ্ছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।’ রবিবার (২৮ জুলাই) আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা বলেন তিনি।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খাত সংশ্লিষ্টদের আজকের মধ্যে ক্ষতির পরিমাণ লিখিত আকারে দিতে বলেছি।
আগামীতে উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে ব্যবসায়ীরা আলাদা ইন্টারনেট চেয়েছেন।’
মতবিনিময় সভা শেষে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমরা ৫টা সমস্যা চিহ্নিত করতে পেরেছি।
সেটা সমাধান করা যেতে পারে। এছাড়া ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে সমস্যার কথা ব্যবসায়ীরা আজকের বৈঠকে জানিয়েছেন।’
যাতে ব্যবসাটা চলতে পারে। নিজস্ব একটা ইন্টারনেট তৈরি করা যায় কি না, সেটার একটা সাজেশন এসেছে।’
সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলমসহ দেশের শীর্ষ শিল্প গ্রুপের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
