দোহারে সালমান এফ রহমানসহ ১৭৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0

news39.net: দোহার থানায় ঢাকা-১ সাংসদ সালমান এফ রহমানসহ ১৭৪ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। রোববার সকালে দোহার থানায় এ মামলা করা হয়। মামলার বাদী হয়েছেন দোহারের রামনাথপুর গ্রামের মো. শাজাহান মাঝি।

মামলায় সালমান এফ রহমান ছাড়াও দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, দোহার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক বেপারী, পৌর মেয়র আলমাছ উদ্দিন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন মিয়া, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন জালাল, দোহার পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার মাঝি, দোহার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. আলমাস, সাধারণ সম্পাদক রহমান আকন্দসহ দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রথমসারির নেতাকর্মীরা রয়েছেন। আছেন বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানও।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে বাদী ও তার স্বজন সোনিয়া আক্তার দোহার করম আলীর মোড়ে যান। এ সময় সালমান এফ রহমানের পরোক্ষ মদদে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অস্ত্র হাতে তাদের ওপর হামলা করে। এতে শাজাহান মাঝিসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। মামলায় হামলা জখম ও বিস্ফোরক ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে শাজাহান মাঝি বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে সন্ত্রাসীরা আমার ওপর হামলা করে। এ সময় আরও অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন।

সাধারণ ছাত্ররা এই বিষয়ে বলেন, আক্রান্ত মূলত হয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাই, মামলার বিষয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে প্রকৃত দোষীদের যারা বাদ পড়েছেন তারা তালিকাভুক্ত হতেন। একইসাথে, যারা অহেতুক মামলায় এসেছেন, তারা হয়রানি হতেন না। ৪ ও ৫ অগাস্টসহ ১৮,১৯ জুলাইয়ের ভিডিও দেখে ব্যবস্থা নিলে, মামলা আরও কার্যকর হতো।

দোহার থানার ওসি হারুন অর রশিদ বলেন, সালমান এফ রহমানকে প্রধান আসামি করে ১৭৪ জনকে এজাহার নামীয় ও ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

বন্যাদুর্গতদের পাশে দোহার নবাবগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা ফেনীর বন্যাদুর্গতদের উদ্ধারে কাজ করছে। ইতি মধ্যে দোহার থেকে গতবৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় ৫টি স্পিডবোট নিয়ে দোহার উপজেলার মৈনট ঘাট থেকে যাত্রা শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। বাকী যারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িত তারা গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন মসজিদ ও এলাকা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৮শত ১২ টাকা উঠিয়েছে বলে জানান পদ্মা কলেজের ইংরেজি প্রভাষক মু, তারেক রাজিব। তিনি জানান, বন্যাদুর্গতদের মধ্যে যাদেরকে দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন, এমন স্বজনদের আমাদের টিমের স্বেচ্ছাসেবকদের মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করছি। মোবাইল নাম্বার- ০১৭৮২৫৩১৯২৭। তিনি আরো বলেন আমরা আজ শনিবার বন্যাদুর্গতদের জন্য ১ হাজার প্যাকেট খাবার পাঠাবো যার মধ্যে থাকবে, চিরা,মুড়ি,চেনি,খেজুর, প্রয়োজনীয় ঔষধ,শিশু খাবারসহ ইত্যাদি খাবার থাকবে।

তিনি আরো বলেন, আজ শনিবার বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে গনত্রান সংগ্রহে কাজ চলছে আমাদের। আমরা এগুলো ট্রাকে করে আজ রাতে ফেনীতে পাঠিয়ে দিব।

স্পিডবোটের দায়িত্বে রয়েছে আদনান মাসুদ, মোয়াজ, আদর, সেতু, হান্নান, ফয়সাল, বাহালুলের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবক দল। আদনান মাসুদ জানান,  আমাদের ৫টি স্পিডবোট কাজ করছে। অতি বয়স্কদের লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে সতর্কতার সঙ্গে আমরা তাদেরকে উদ্ধার করছি।  শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধও সরবরাহ করছি। দোহার উপজেলার মৈনট ঘাট থেকে আমরা গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায়  রওনা দেই। এরপর নারায়ণগঞ্জ পাগলা থেকে পিকআপে কুমিল্লা বাইপাস হয়ে  নোয়াখালী ও ফেনীর দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছায়।

এরইমধ্যে আমরা ১,৫০০ লিটার তেল, শিশু খাবার, শুকনো খাবার, মেডিসিন বিতরণ করেছি। শিশু খাবার ও বিশুদ্ধ পানির বড় অভাব। এলাকায় যারা আছেন তারা না এসে এখানে যারা কাজ করছে তাদেরকে অর্থনৈতিক সাপোর্ট দেয়া গেলে বন্যাদুর্গতরা উপকৃত হবেন। নতুন করে যারা বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে ইচ্ছুক তারা আসলেও যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো দুরূহ। তাই সবাই যার যার এলাকা থেকে টাকা তুলে তাদের পরিচিত যারা এখানে এসেছে তাদের দিলে ভাল হয়।

বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৪৯ লাখ

0

বন্যায় দেশে এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কুমিল্লায় ৪, ফেনীতে ১, চট্টগ্রামে ৫, নোয়াখালীতে ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১, লক্ষ্মীপুরে ১ ও কক্সবাজারে ৩ জন রয়েছে।তিনি আরও জানান, ১১ জেলায় মোট ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৮ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৩৮ হাজার ১৫৯ জন।

এদিকে বন্যাকবলিত ৫ জেলার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে এলাকাগুলোর ছয়টি নদীর নয়টি স্টেশনের পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই পাঁচ জেলা হলো-মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম।

ইসলামি ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নবাবগঞ্জের ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ

0

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পর্ষদ ভেঙ্গে দেয়ার পর নতুন পর্ষদ গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ। তিনি ১৯৬০ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের বাগমারার ছোট রাজপাড়ায় তার জন্ম। তার আরেক ভাই হেদায়েতুল আল মামুন ছিলেন তথ্য সচিব এবং নবাবগঞ্জের এমপি আব্দুল মান্নানের পিএস।

ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ ২০১৬ সালে সোনালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর ৩ বছর পর ২০১৯ সালে রুপালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে ছিলেন। তার আগে কর্মসংস্থান ব্যাংকের এমডি ও অগ্রণী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ।

১৯৮৩ সালে অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে বি.কম (অনার্স) এবং ১৯৮৮ সালে আইবিএ থেকে ফিন্যান্স বিষয়ে এমবিএ ডিগ্রী লাভ করেন। এর আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসিতে বাণিজ্য বিভাগে মেধা তালিকায় তৃতীয় হন তিনি।

নতুন পর্ষদের পরিচালকরা হলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক খুরশীদ ওহাব, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আব্দুল জলিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক এম মাসুদ রহমান এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আব্দুস সালাম।
এর আগে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার ঘোষণা দেন গভর্নর।

নবাবগঞ্জে ২ ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা সকল জনপ্রতিনিধির

নবাবগঞ্জ উপজেলার দুই ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বুধবার দুপুরে লিখিত অনাস্থাপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান সোহেল এর বরাবর জমা দিয়েছেন দুই ইউনিয়ন পরিষদের সব জনপ্রতিনিধিরা।

বারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান এম এ বারী বাবুল মোল্লা ও শিকারীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলীমোর রহমান খান পিয়ারার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে লিখিত অনাস্থা দিয়েছেন তারা।

বারুয়াখালী ইউপি সদস্যরা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিধান থাকলেও তাদের স্বাক্ষর নিয়ে চেয়ারম্যান তার ছোট ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক ও চেয়ারম্যানের চাচা রাজ্জাক মোল্লাকে দিয়ে নামেমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেন। এছাড়া ভিজিডি, ভিজিএফ এর চাউল বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত ছিলেন। এমনকি ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন নির্দোষ মহিলা গ্রাম পুলিশকে চাকরিচ্যুতির হুমকি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন।

একই দিন উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলীমোর রহমান খান পিয়ারার বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন ইউনিয়ন পরিষদের সব সদস্য চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, নদী দখল ও পুকুর হতে বালু উত্তোলনের পাশাপাশি, বিচার সালিশির মাধ্যমে মোটা অংকের ঘুস গ্রহণ করতেন চেয়ারম্যান।

বন্যার্তদের উদ্ধারে দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে ৫টি স্পীডবোট নিয়ে যাত্রা ছাত্র আন্দোলনকারীদের  

0

news39.net: বৃহস্পতিবার বৈষম্য বিরোধী আন্দোল- দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকে ৫টা স্পীড বোট পাঠিয়েছে নোয়াখালী, ফেনী এবং কুমিল্লায় বন্যার্তদের উদ্ধারে। ৫টি বোটের সাথে রয়েছে আদনান মাসুদ, মোয়াজ, আদর, সেতু, হান্নান, ফয়সাল, বাহালুলের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবী দল। 

আদনান মাসুদ মানবজমিনকে বলেন,  আমাদের ৫টি স্পীড বোটের সাথে রয়েছে প্রায় ৩০টি লাইফ জ্যাকেট, শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ। দোহার উপজেলার ময়নট ঘাট থেকে দুপুর ১২টায়  রওনা দিয়েছি। আমরা প্রথমে নারায়ণগঞ্জ পাগলা পর্যন্ত যাবে। সেখানে থেকে পিকাপে কুমিল্লা বাইপাস হয়ে  নোয়াখালী ও ফেনীর দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এবং কুমিল্লা সদরে। এই মুহুর্তে, আমাদের অগ্রাধিকার ত্রাণের চেয়ে মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা, বিশেষ করে শিশু ও নারী। 

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি স্পীড প্রায় ৩০০ লিটার করে ১,৫০০ লিটার তেল নিচ্ছে। এরপর আছে ত্রাণ। বিশেষ করে শিশু খাবার, শুকনো খাবার, মেডিসিন। সবাই এগিয়ে এগিয়ে আসুন। 

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী এ আর শিপন বলেন, সেনাবাহিনী, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে সমন্বয় করে আমাদের টিম কাজ করবে। আমরা স্থানীয় জনগণ এবং নিজেদের প্রচেষ্টায় অনুদান সংগ্রহ করে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছি। 

দোহারে সড়ক দূর্ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু

news39.net: দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের ফুলতলা বাজারে বুধবার মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম তাসলিমা আক্তার। বাবার নাম – শেখ নুরুল হক। বাড়ি ঢালারপাড়, মুকসুদপুর; বয়স আনুমানিক ৫৫ বলে নিশ্চিত করেছেন নিহতের ভাগ্নে বিল্লাল হোসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ঘটিকায় তাসলিমা আক্তার ফুলতলা বাজারের রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এমন সময় স্বাভাবিক গতির একটি মোটরসাইকেলের সাথে তিনি ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পড়ে যান এবং মাথায় আঘাত পান। দ্রুত তাকে স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাক হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে বলেন। ঢাকায় নেয়ার পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। তার ১পুত্র এবং ১ কন্যা সন্তান রয়েছে।

নিহতের পরিবার এটিকে স্বাভাবিক দূর্ঘটনা মেনে নিয়ে কোন আইনি পদক্ষেপ নিবে না বলে জানা গিয়েছে।

সৌদি আরবে দোহার প্রবাসীর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু

আছিফ সজল: বিদ্যুপৃষ্ঠ হয়ে সৌদি আরবের জেদ্দায় মারা গেছেন একজন দোহার প্রবাসী। তিনি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের ঢালারপাড় গ্রামের কবির হোসেন বেপারির ছেলে। তার নাম সাব্বির হোসেন জিহাদ(২৪)। গতকাল শনিবার ১৮ আগস্ট জেদ্দায় কাজ করা অবস্থায় বিদ্যুৎ পৃষ্ঠ হয়ে মারা যান জিহাদ।

গতমাসের অর্থাৎ ১২ জুলাই ২০২৪ তারিখে ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের জেদ্দার পারি জমান জিহাদ। সদ্য পৃথিবীর মুখ দেখা সন্তানের মুখ দেখেই সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান জিহাদ। সন্তানের মুখ দেখে সৌদি পাড়ি জমানো জিহাদের ভাগ্য হলো না পুনরায় তার সন্তানের মুখ দেখার। তার আগেই তিনি পাড়ি জমালেন অনন্ত অসীমের পথে।

এদিকে জিহাদের লাশ দেশে আনা নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। লাশ ফেরত আনার ব্যাপারে পরিবার এখনো কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে নি পরিবার। লাশ দেশে আনার ব্যাপারে অর্থ ও প্রশাসনিক জটিলতা হয়ে দাড়িয়েছে মূল সমস্যা। সরকারি ব্যবস্থাপনায় তার লাশ দেশে আনার ব্যাপারে সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দোহারের জনসাধারণ।

জনতার এক শাখা থেকেই ২৭ হাজার কোটি টাকা লুট করেছেন সালমান

সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান রিমান্ডে গোয়েন্দাদের জেরার মুখে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিতে শুরু করেছেন। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দাদের তিনি বলেছেন তার অর্থ লোপাটের নানা কাহিনী। পাশাপাশি অর্থ লোপাটের চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বিভিন্ন ব্যাংকের নথি ঘেঁটে পাওয়া যাচ্ছে।

 সালমান এফ রহমান শুধু জনতা ব্যাংকের এক শাখা থেকেই ঋণের নামে বের করে নিয়েছেন প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। যা ওই শাখার মোট ঋণের ৬৫ শতাংশ। এসব ঋণের অধিকাংশই ছিল বেনামি। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোগে বেনামি ঋণগুলো তার নামে সংযুক্ত করেছে। জনতা ব্যাংকের নথি ঘেঁটে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যাংকার বলেন, বেনামি ঋণের জনক ছিলেন সালমান এফ রহমান। যা ধীরে ধীরে পুরো ব্যাংক খাতে ছড়িয়ে পড়ে। এখন প্রায় সব অসাধু ব্যবসায়ীর বেনামি ঋণ আছে। বেনামি ঋণকে পিতৃপরিচয়হীন সন্তানের সঙ্গে তুলনা করা হয়। অবৈধ সন্তানের বাবা যেমন খুঁজে পাওয়া যায় না, তেমনি বেনামি ঋণের সুবিধাভোগীকে সাদা চোখে দেখা যায় না।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাতে লুটপাটের বেশির ভাগই বেনামি ঋণ। অর্থাৎ ঋণ নেন একজন, ভোগ করেন অন্যজন। প্রকৃত সুবিধাভোগী থাকেন সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত সব ধরনের বেনামি ঋণ খুঁজে বের করা। তা না হলে ব্যাংক খাত টিকবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে বেক্সিমকো গ্রুপ এবং গ্রুপ সম্পর্কিত মোট ৩২টি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৬ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। এসব ঋণের বেশির ভাগই নেওয়া হয় ২০২১, ২২ ও ২৩ সালে। এর মধ্যে অ্যাডভেঞ্চার গার্মেন্টস ৬০৯ কোটি, অ্যাপোলো অ্যাপারেলস ৭৯৮ কোটি, অটামলুপ অ্যাপারেলস ৮২২ কোটি, বে সিটি অ্যাপারেলস ৮৯২ কোটি, বেক্সিমকো লিমিটেড ২ হাজার ২১৬ কোটি, বেক্সিমকো পিপিই ২৬ কোটি, বেক্সিমকো ফ্যাশনস ৯৩৬ কোটি, বেক্সটেক্স গার্মেন্টস ৮৮৫ কোটি, কসমোপলিটান অ্যাপারেলস ৯৬১ কোটি, কজি অ্যাপারেলস ৯০৬ কোটি, ক্রিসেন্ট ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন ১ হাজার ৬৯০ কোটি, এসকর্প অ্যাপারেলস ৮১৯ কোটি, অ্যাসেস ফ্যাশনস ১ হাজার ৭৫৮ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাপারেলস ১ হাজার ২৫০ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাপারেলস ইউনিট-টু ৬৪৯ কোটি, কাঁচপুর অ্যাপারেলস ৭৫৯ কোটি, মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস ৭৩২ কোটি, নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ ১ হাজার ৬৮৬ কোটি, পিয়ারলেস গার্মেন্টস ৯৬০ কোটি, পিংক মেকার অ্যাপারেলস ৯০২ কোটি, প্লাটিনাম গার্মেন্টস ৮৩৭ কোটি, শাইনপুকুর গার্মেন্টস ৩৩৩ কোটি, স্কাই নেট অ্যাপারেলস ৭৩৮ কোটি, প্রিংফুল অ্যাপারেলস ৭৬০ কোটি, আরবান ফ্যাশনস ৭০৪ কোটি, হোয়াইট বে অ্যাপারেলস ৮৮৫ কোটি, ইউন্টার স্প্রিন্ট গার্মেন্টস ৭৭২ কোটি, ইয়োলো অ্যাপারেলস ১ হাজার ৫০ কোটি, ক্রিসেন্ট অ্যাকসেসরিজ ৯৬ কোটি, আর আর ওয়াশিং ৯৭ কোটি, এসকর্প এলপিজি ১১ কোটি ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ৩৬০ কোটি টাকা। এসব ঋণের বেশির ভাগই বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ছিল। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক এগুলোকে বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে দেখায়।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, তিনি তো এখন মানুষ খুনের অভিযোগে জেলে আছেন। আর্থিক অপরাধের জন্যও তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। আবার এ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের এমডি, পর্ষদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকও জড়িত। কারণ এত টাকা এক শাখা থেকে কারও অগোচরে বের করেননি। সবাই জানেন। সুতরাং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সবার শাস্তি হওয়া উচিত। তার আগে টাকা আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। জামানত থেকে থাকলে সেটা বাজেয়াপ্ত করতে হবে। আর শুধু এক শাখা নয়, আরও কোথা থেকে কত টাকা নিয়েছেন, সেসব বের করতে হবে।

নবাবগঞ্জ পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগ

নবাবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান পদত্যাগ করেছেন। রোববার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যা দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রোববার সকালে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানে এসে আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে স্কুলের শিক্ষার্থীরা সকল ক্লাস বর্জন করে মাঠে জড়ো হতে থাকে এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জানায়।

একপর্যায়ে আব্দুল মান্নান ব্যক্তিগত সমস্যা কারণ হিসেবে দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা কাজী মেহেদী হাসান তপু জানান, দুর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতি করেছেন। তাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করেছেন।