ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের পথে ড. মুহাম্মদ ইউনূস

0

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। নিরাপত্তা, গণমাধ্যমকর্মীসহ সব মিলিয়ে মোট ৫৭ জন প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন।

সফরকালে নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, নেপাল, ইউরোপীয় কমিশন প্রধান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নেই।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইউনূস-বাইডেন বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিকভাবে অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রতিকূলতার মধ্যে রয়েছে, সেটি নিয়ে বাইডেনের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন ড. ইউনূস।

এছাড়া ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত, রোহিঙ্গা সংকট, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমস্যা, সম্পদের অবৈধ পাচার রোধ, অভিবাসী অধিকার রক্ষার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

সফর শেষ করে প্রধান উপদেষ্টা নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার পথে রওনা হবেন ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে।

আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দিতে ঢাকায় চীনা মেডিকেল টিম

জুলাইআগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসা দিতে ঢাকায় এসেছে চীনের একটি জরুরি মেডিকেল টিম। রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছান তারা। 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেডিকেল টিমটিকে স্বাগত জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. শেখ ছাইদুল হক।

চীনা চিকিৎসক ডং কুইআনের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ঢাকায় এসেছে। প্রতিনিধিদলের বিশেষঅজ্ঞ চিকিৎসকরা পশ্চিম চীন হাসপাতালের। এটি চীনের সেরা হাসপাতালগুলোর মধ্যে একটি। চিকিৎসক দল প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশে অবস্থান করবে।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের সময় অনেক বেসামরিক লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাপকভাবে কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদার হিসেবে চীনা সরকার নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। চীনা জনগণও বাংলাদেশি জনগণের কষ্টের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানিয়েছে।

রাষ্ট্রতদূত বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের আমন্ত্রণে চীন সরকার বাংলাদেশে জাতীয় জরুরি মেডিকেল টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীনা বিশেষঅজ্ঞ চিকিৎসকরা আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেবেন। তারা আহতদের যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করবেন।

আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দিতে ঢাকায় চীনা মেডিকেল টিম

0

জুলাইআগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসা দিতে ঢাকায় এসেছে চীনের একটি জরুরি মেডিকেল টিম। রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছান তারা। 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেডিকেল টিমটিকে স্বাগত জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. শেখ ছাইদুল হক।

চীনা চিকিৎসক ডং কুইআনের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ঢাকায় এসেছে। প্রতিনিধিদলের বিশেষঅজ্ঞ চিকিৎসকরা পশ্চিম চীন হাসপাতালের। এটি চীনের সেরা হাসপাতালগুলোর মধ্যে একটি। চিকিৎসক দল প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশে অবস্থান করবে।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের সময় অনেক বেসামরিক লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাপকভাবে কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদার হিসেবে চীনা সরকার নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। চীনা জনগণও বাংলাদেশি জনগণের কষ্টের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানিয়েছে।

রাষ্ট্রতদূত বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের আমন্ত্রণে চীন সরকার বাংলাদেশে জাতীয় জরুরি মেডিকেল টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীনা বিশেষঅজ্ঞ চিকিৎসকরা আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেবেন। তারা আহতদের যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করবেন।

মানুষকে নিয়ে উপহাস ইসলামে নিষিদ্ধ

0

কাউকে উপহাস, ঠাট্টা, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা ইসলামে সম্পূর্ণ না-জায়েজ। আল্লাহপাক এটিকে অপচ্ছন্দ করেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মুমিনগণ কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে।

কোনো নারী অপর নারীকে যেন উপহাস না করে। কেননা সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এরূপ কাজ হতে তওবা না করে তারাই জালেম। ’ (সুরা হুজরাত-১১)।

কারো চলাফেরা,উঠাবসা,কথাবর্তা,অঙ্গভঙ্গি ইত্যাদি নিয়ে ব্যঙ্গ করা,কারো শারীরিক গঠন ও আকার-আকৃতি নিয়ে কটূক্তি করা তার কোনো কথা বা কাজের ওপর ঠাট্টা করা। চোখ, হাত-পা দ্বারা টিকা-টিপ্পনী মারা ইত্যাদি এ সকল জিনিস অন্তর্ভুক্ত।

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,“দুনিয়ায় যারা কাউকে নিয়ে উপহাস করে তাদের জন্য আখিরাতে জান্নাতের দরজা খোলা হবে এবং তাদেরকে জান্নাতের দিকে ডাকা হবে। কিন্তু তারা যখন কাছে এসে জান্নাতের দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে উদ্যত হবে তখনই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এভাবে বারবার তাদেরকে ডাকা হবে এবং প্রবেশ করতে গেলেই তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। একপর্যায়ে এভাবে করতে করতে সে নিরাশ হয়ে আর জান্নাতের দিকে ফিরে যাবে না। এভাবে দুনিয়ায় তার উপহাসের পরিণামে আখিরাতে তাকে নিয়ে এ ধরনের উপহাস করা হবে।

ঠাট্টা-বিদ্রুপ এতটাই নিকৃষ্ট কাজ যে মহানবী (সা.) এই কাজকে ‘দূষণ সৃষ্টিকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো এক সময় মহানবী (সা.)-কে আমি জনৈক ব্যক্তির চালচলন নকল করে দেখালাম।

তিনি বলেন, আমাকে এই পরিমাণ সম্পদ প্রদান করা হলেও কারো চালচলন নকল করা আমাকে আনন্দ দেয় না। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! সাফিয়্যা তো বামন নারী লোক, এই বলে তিনি তা হাতের ইশারায় দেখালেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তুমি এমন একটি কথার দ্বারা বিদ্রুপ করেছ, তা সাগরের পানির সঙ্গে মেশালেও ওই পানিকে দূষিত করে ফেলতো। (তিরমিজি, হাদিস : ২৫০২)।

অনেকে ঠাট্টা-বিদ্রুপকে এতটাই হালকা বিষয় মনে করে যে কখনো কখনো ধর্ম নিয়েও বিদ্রুপাত্মক উক্তি করে বসে, কোনো ধার্মিক বা আলেমকে পেলে ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন বিদ্রুপাত্মক উক্তি করে বসে, যা অত্যন্ত ভয়ংকর বিষয়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য অসার বাক্য ক্রয় করে এবং আল্লাহর প্রদর্শিত পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে, তাদের জন্য আছে অবমাননাকর শাস্তি। ’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ৬)।

আবারও ৫ দিনের রিমান্ডে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক

0

কোতোয়ালি থানার বৈদেশিক মুদ্রার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুর রহমান এই আদেশ দেন।

এদিন এই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. রাশিদুল হাসান।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক মো. সজীব মিয়া বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গোপন সূত্রে জানতে পারেন নিউমার্কেট থানার হত্যা মামলায় জড়িত আসামিরা সদরঘাট ২নং মসজিদ সংলগ্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধভাবে নিজ হেফাজতে রেখে লেনদেন করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টাকালে তাদের সঙ্গীয় অফিসারদের সহায়তায় হাতে-নাতে আটক করেন। পরে তারা তাদের নাম-ঠিকানা জানায়। আটকের পর আসামি আনিসুল হকের কাছে থাকা ব্যাগে রক্ষিত ১৭ হাজার ৫৯২ ইউএস ডলার, ৭২৬ সিঙ্গাপুর ডলার এবং সালমান এফ রহমানের কাছ থেকে ১২ হাজার ৬২৪ ইউএস ডলার, ৬২০ ফ্রান্সের মুদ্রা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাড়ে ৮ হাজার মুদ্রা, ১১ হাজার ৬৫০ সোদি রিয়াল, ৭৭৯ সিঙ্গাপুর ডলার, ১৫০ পাউন্ড ও ১৩৩২ ইউরো এবং বাংলাদেশি ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। আসামিদের জব্দকৃত বৈদেশিক মুদ্রার বিষয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বললে তারা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দেন।

বেক্সিমকোর সালমানসহ ২৮ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৭ মামলা সিআইডির

0

রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১০০০ কোটি টাকা) বিদেশে পাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমানসহ ২৮ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা করেছে সিআইডি।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও বিধি মোতাবেক পরিচালিত সিআইডির অনুসন্ধানে সালমান এফ রহমান (বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান) এবং তার ভাই এ এস এফ রহমান (বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান) এর স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বেক্সিমকো গ্রুপের মালিকানাধীন মোট ১৭টি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ২০২১ সাল হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জনতা ব্যাংক পিএলসি লোকাল অফিস শাখা, দিলকুশা, মতিঝিল হতে ৯৩টি এলসি/সেলস কন্ট্রাক্ট (বিক্রয় চুক্তি) গ্রহণপূর্বক এর বিপরীতে পণ্য রপ্তানি করে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও রপ্তানিমূল্য প্রায় ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মূদ্রায় প্রায় ১০০০ কোটি টাকা) বাংলাদেশে আনয়ন না করে বিদেশে পাচারের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ১. অ্যাডভেঞ্চার গার্মেন্টস লিমিটেড, ২. অ্যাপোলো অ্যাপারেলস লিমিটেড, ৩. অটাম লুপ অ্যাপারেলস লিমিটেড, ৪. বেক্সটেক্স গার্মেন্টস লিমিটেড, ৫. কসমোপলিটান অ্যাপারেলস লিমিটেড, ৬. কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেড, ৭. এসেস ফ্যাশন লিমিটেড, ৮. ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাপারেলস লিমিটেড, ৯. কাঁচপুর অ্যাপারেলস লিমিটেড, ১০. মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেড, ১১. পিয়ারলেস গার্মেন্টস লিমিটেড, ১২. পিঙ্ক মেকার গার্মেন্টস লিমিটেড, ১৩. প্ল্যাটিনাম গার্মেন্টস লিমিটেড, ১৪. স্কাইনেট অ্যাপারেলস লিমিটেড, ১৫. স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেড, ১৬. আরবান ফ্যাশনস লিমিটেড ও ১৭. উইন্টার স্প্রিন্ট গার্মেন্টস লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে প্রায় ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশ মুদ্রায় প্রায় ১০০০ কোটি টাকা) মূল্যমানের পণ্য সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে।

বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পণ্য রপ্তানি করার পর রপ্তানিমূল্য ৪ মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন করার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও যথাসময়ে রপ্তানি মূল্য বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন না করে সালমান এফ রহমানসহ বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যান্য স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত অর্থ বিদেশে পাচার করার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিদেশে রপ্তানি হওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ পণ্যই বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং এ এস এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমান দ্বয়ের যৌথ মালিকানাধীন RR Global Trading (FZE) এর শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব এর ঠিকানায় রপ্তানি করা হয়েছে। এছাড়া জার্মানি, নেদারল্যান্ড, ইউকে, তুরস্ক, শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশেও পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে রপ্তানি মূল্য বাংলাদেশে আনয়ন না করে উক্ত আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে বিদেশে পাচার করেছেন।

আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বিদেশে টাকা পাচারের অসদুদ্দেশ্যে নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পণ্য রপ্তানি করে ইচ্ছাকৃতভাবে রপ্তানিমূল্য প্রত্যাবাসন না করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ২(শ) এর (১৪) ও (২৬) ধারায় সম্পৃক্ত অপরাধ করে, যা একই আইনের ৪(২)/৪(৪) ধারা মোতাবেক দণ্ডনীয় অপরাধ। বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমান এবং তার সহযোগীরা তাদের ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সহযোগিতায় বিদেশে অর্থপাচার করেছে মর্মে অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হওয়ায় ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, সিআইডি মতিঝিল থানা, ডিএমপি-তে ১৭টি মামলা রুজু করেছে।

এছাড়া সালমান এফ রহমান এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ও বেনামে প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণপূর্বক বিদেশে পাচার এবং অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে পৃথক অনুসন্ধান কার্যক্রম ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, সিআইডি-তে চলমান রয়েছে।

সাভারের  আশুলিয়ায় শ্রমিকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

0

সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে দুটি কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২০ জন শ্রমিক। আজ মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় মাসকট গার্মেন্ট লিমিটেড নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানার সামনে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত রোকেয়া বেগম (৩৫) আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার মাসকট গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার সহকারী সেলাই মেশিন অপারেটর।তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা সদরের গুদারহাট গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, আজ সকালে মাসকট শ্রমিকরা কাজ না করে কারখানার বাইরে চলে যায়। এ সময় সামনে থাকা রেডিয়্যান্ট গার্মেন্টসের কাজ বন্ধ করতে মাসকট কারখানার শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। একপর্যায়ে দুই গার্মেন্টসের শ্রমিকরাই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

ছবি: সংগৃহীত

এতে ইটপাটকেলের আঘাতে মাসকট কারখানার রোকেয়া বেগম নামে এক শ্রমিক নিহত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের আরো অন্তত ২০ শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সকালে মাসকট কারখানার শ্রমিকরা তাদের সামনের সম্ভবত রেডিয়্যান্ট নামে একটি কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয় পক্ষের ইটপাটকেলের আঘাতে এক নারী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

0

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম মৃত্যুর পূণ্যময় দিন। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল অর্থাৎ আজকের এই দিনে তিনি আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩ বছর বয়সে একইদিনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নামে পরিচিত। ৫৭০ সালের এই দিনে (১২ রবিউল আউয়াল) আরবের মক্কা নগরীর সভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর জন্মের আগে গোটা আরব অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। ওই সময় আরবের মানুষ মহান আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল। আরবের সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা। এ যুগকে বলা হতো ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’র যুগ।
তখন মানুষ হানাহানি ও কাটাকাটিতে লিপ্ত ছিল এবং মূর্তিপূজা করত। এই অন্ধকার যুগ থেকে মানবকুলের মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দুনিয়ায় প্রেরণ করেন।

মহানবী (সা.) অতি অল্প বয়সেই আল্লাহর প্রেমে অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই তিনি হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। ২৫ বছর বয়সে মহানবী বিবি খাদিজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি নব্যুয়ত লাভ বা মহান রাব্বুর আলামিনের নৈকট্য লাভ করেন।

পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণিত আছে, ‘মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না’। এসব কারণে এবং তৎকালীন আরব জাহানের বাস্তবতায় এ দিনের (পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর) গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে আজ সরকারি ছুটি। দিনটি উপলক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন।

যথাযথ মর্যাদায় ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবী (সা.) এর ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এ উপলক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

দোহারে সাংবাদিক কাজী জুবায়েরের উপর হামলা

0

ঢাকার দোহার উপজেলার সাবেক দোহার প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক ও চ্যানেলে এস এর সাংবাদিক কাজী যুবায়ের আহমেদের উপর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩ টার দিকে রাইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত সাংবাদিক কাজী যুবায়ের আহমেদ বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস এর দোহার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তার সম্পাদক।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়া নিয়ে ইউপি মেম্বার ঝরনা বেগম ও লিটন মেম্বার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিলো। এ ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহ করতে সাংবাদিক কাজী জুবায়ের আহমেদ সেখানে গেলে রাইপাড়া ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি আমির শিকদার, তৌহিদসহ বেশ কয়েকজন কাজী জুবায়েরের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে গুরুত্বর আহত করে। তার সাথে থাকা ২২ হাজার ৫ শ’ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ সময় তার ডাক চিৎকারে স্থানীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক কাজী জুবায়ের আহমেদ বলেন, আমি সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমির শিকদারের নেত্বতে তৌহিদুল ইসলাম, রমজান খান, লিটন মেম্বারের ভাই কবিরসহ একদল সন্ত্রাসী কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার উপর অর্তকিত হামলা চালায়। আমি আমার উপর হামলার বিচার চাই।

এবিষয়ে দোহার প্রেসক্লাব ও নিউজ৩৯ তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এ বিষয়ে দোহার থানার (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, এ ঘটনায় দোহার থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে সাফি মুদ্দাসির খান জ্যোতি গ্রেফতার

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের ছেলে সাফি মুদ্দাসির খান জ্যোতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকার আশুলিয়া থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা জেলা পুলিশ। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার এসপি আহম্মদ মুঈদ।

জানা যায়, সাফি মুদ্দাসিরকে মেসার্স তিতাস বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নামে একটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বানিয়ে রাখেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই প্রতিষ্ঠানের নামেই চলত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি। টেকনাফের মিঠাপানির ছড়া ১নং প্লটে ৫ দশমিক ৫০৬৪ একর জমি কেনা হয়। তাছাড়া লেঙ্গুরবিল মৌজায় একই কোম্পানির নামে লম্বরি ২নং পর্টে কোম্পানির নামে কেনা জমির মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা।

জানা যায়, রাজধানীর পুরো ধানমন্ডি এলাকায় ছিল তার একচ্ছত্র আধিপত্য। ধানমন্ডি এলাকা বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের জন্য বিখ্যাত। আর এসব রেস্টুরেন্ট দেওয়ার জন্য সাফি মুদ্দাসিরকে দিতে হতো ১ থেকে ২ কোটি টাকা। টাকা দিলে কোনো রকম যাচা-বাছাই ছাড়াই মিলত লাইসেন্স। আর লাইসেন্স করতে বাবার প্রভাব খাটাতেন তিনি। শুধু তাই না এসব রেস্টুরেন্ট থেকে যেসব চাঁদা নেওয়া হতো তাও একহাতে সামলাতেন সাফি মুদ্দাসির।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে শুধু রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকেই প্রতিদিন দেড় কোটি টাকার চাঁদা তোলা হত। ফুটপাতে ব্যবসা, বাজার, মাদক ব্যবসায়ী ও আবাসিক হোটেল থেকে উঠানো হতো এসব চাঁদা। এ টাকা মন্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মন্ত্রীর এপিএস মনির হোসেনসহ আরও দুইজনকে। এই টাকার মোটা অংশ পেতেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। পাশাপাশি এই টাকার একটা ভাগ পেতেন তার ছেলে।

এছাড়াও, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীতে যেসব নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য হতো তার মোটা অংকের ভাগ পেতেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আর এসব একহাতে নিয়ন্ত্রণ করতেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএস মনির। তিনি একটা অংশ সাবেক মন্ত্রী ছেলে সাফি মুদ্দাসিরকেও দিতেন।