বাংলা সাহিত্যে ভ্রমণ কাহিনী

0

বাংলা সাহিত্যে ভ্রমণ কাহিনী, বাংলা ভাষায় ভ্রমণসাহিত্যের পরিভ্রমণই এই আলোচনার বিষয়বস্তু। বাংলা সাহিত্যের বয়স অনেক, কিন্তু শুরু দিকে কয়েক শতাব্দী সে কাটিয়েছে পদ্যে পদ্যে। গদ্যে ঢুকেছে ঢের পরে।

উপন্যাস লেখার আগে তার ঘটনা লেখকের জীবনে ঘটতে হবে এমন বেশিরভাগ সময় জরুরী না হলেও ভ্রমণ কাহিনী লেখার আগে লেখককে ভ্রমণ করতে হয়। বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী কোনটা তার আগের প্রশ্ন বাঙালী ভ্রমণ করা শুরু করেছিল কবে? সত্যি বলতে আমাদের ভ্রমণের ঐতিহ্য বা ইতিহাস খুব পুরোনো না। বিচ্ছিন্ন কিছু ভ্রমণ হলেও আধুনিক যুগের আগে বাঙালি তেমন ভ্রমণ করে নি। সম্ভবত প্রয়োজন হয় নি। বরং তাবৎ দুনিয়াই বাংলায় আসতে মুখিয়ে ছিল। তবে অবাক করার বিষয় যে বাংলায় ভ্রমণসাহিত্য গদ্যসাহিত্যের সমবয়সী।

বাংলার ধ্রুপদী সাহিত্যের অনেকেই ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন, অন্যান্য গদ্য সাহিত্যের তুলনায় সেটি কম বটে। আমাদের এই পুরো আলোচনায় ভ্রমণসাহিত্য বলতে শুধু ‘নন-ফিকশন’ বুঝব, কল্প-ভ্রমণ বা উপন্যাস নয়। যেমন ‘চাঁদের পাহাড়” একটা ভ্রমণ উপন্যাস, এটি আমাদের আলোচনায় আসবে না। যদিও আমাদের আলোচনার শিরোনাম বাংলা সাহিত্যে ভ্রমণ কাহিনী, তবু শুধু বাংলা ভাষায় সীমাবদ্ধ থাকব না, বাংলা অঞ্চলে বিদেশীদের ভ্রমণ ও বাঙালিদের বিদেশী ভাষায় লেখার অনুবাদকে আলোচনায় রাখব।

দেশী লেখকদের বাইরে আর এক ধরণের ভ্রমণবিত্তান্ত আমরা পেয়েছি। মধ্য যুগে ইবনে বতুনা, ফা শিয়েন, হিউয়েন সাং প্রমুখ বিদেশী অভিযাত্রীরা এ দেশে এসেছেন, সেই বিবরণ বইয়ে আবদ্ধ হয়েছে। তারপর উপনিবেশিক আমলে শাসকগোষ্ঠী তাদের প্রয়োজনে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেছেন গবেষণার প্রয়োজনে বা অন্য কোনো কারণে। তবে সেগুলো আমরা পেয়েছি অনুবাদের মাধ্যমে।

কালনা থেকে রংপুর: বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায় ৫৩ বছর বয়সে রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণ কাহিনী ‘কালনা থেকে রংপুর’। তিনি ১৮৪০ সালে লেখা তার রচনার কেনো নাম দেন নি, রোজনামচার (ডায়রি) ধাঁচে লিখেছেন। “কালনা থেকে রংপুর’ নামটি পরে দেয়া। ভ্রমণকাল ১৫ কার্তিক ১২৪৭ থেকে ১৪ অগ্রহায়ণ ১২৪৭ বঙ্গাব্দ (১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ)। সাতাশ দিনে নৌকাযোগে তিনি কালনা থেকে রংপুর গিয়েছিলেন। রচনায় ছেদ ও যতির ব্যবহার নেই, গদ্যে বিরামচিহ্ন প্রয়োগের রীতিও সে সময় শুরু হয় নি।

প্রথম বাংলা উপন্যাস ‘ফুলমণি ও করুণার বিবরণ‘ লিখেছেন হ্যানা ক্যাথেরিন ম্যলেন্স নামে একজন বিদেশী মিশনারী, লেখা হয় ১৮৫২ সালে। এই বাবদে দেখা যাচ্ছে বাংলা ভ্রমণসাহিত্যের বয়স বাংলা উপন্যাসের চেয়ে বেশি। বাংলা গদ্য সাহিত্য শুরু হয় ভ্রমণ কাহিনী দিয়ে বললে কি বেশি হবে? ‘ফুলমণি ও করুণার বিবরণ’-কে সফল উপন্যাস বলা হয় না।  বাংলা ভাষায় প্রথম সফল উপন্যাস আলালের ঘরের দুলাল লেখা হয় ১৮৫৮ সালে। তবে প্রথম বাংলা গদ্য লেখা হয়েছিল বহু আগে, দোম আন্তোনিও ব্রাহ্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ নামের একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তিনি মারা যান ১৬৯৫ সালে।

পালামৌ: সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পালামৌ’ হল বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় ও প্রথম “সফল” ভ্রমণকাহিনী। তিনি ঝাড়খণ্ডের পালামৌ ভ্রমণ করার বহুদিন পর ‘পালামৌ লেখেন। ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় মোট ছয় কিস্তিতে এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮০ থেকে ১৮৮২ সালের মধ্যে।

পদ্যসাহিত্যে কিছু প্রাচীন ভ্রমণবৃত্তান্ত পাওয়া যায়, তবে তার কতটা বাস্তব আর কতটা কল্পনা তা নিশ্চিৎ হওয়া যায় না।

কাশ্মীর কুসুম: লিখেছেন রাজেন্দ্র মোহন বসু, প্রকাশকাল ১৮৭৫ খ্রি.।

A Journey to Lhasa and Central Tibet: শরচ্চন্দ্র দাশ (১৮৪৯-১৯১৭ খ্রি.) রচিত একটি বইয়ের অনুবাদ সম্প্রতি হইচই ফেলেছে। ১৮৮১ সালে প্রকাশিত A Journey to Lhasa and Central Tibet বইটি সম্প্রতি শরচ্চন্দ্র দাস : নিষিদ্ধ তিব্বতে প্রথম বাঙালি নামে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও তিনি তিব্বতে প্রথম বাঙালি নন, তবু অনুবাদের শিরোনামের নিকেশ দেয়া হয়েছে এই বলে যে তিনি তিব্বত নিষিদ্ধ হবার পরের প্রথম বাঙালি ভ্রমণকারী। তার অগ্রজ বিক্রমপুরের অতীশ দিপঙ্কর। এর আগেও বইটি ‘তিব্বত ভ্রমণবৃত্তান্ত’ নামে অনুদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা না হলেও বাঙালি ভ্রমণকারী হিসেবে এই বই আগ্রহের তালিকায় আছে।

বিলায়েতনামা: এটাও আরেকটি অনুবাদ, ভ্রমণকারী ও লেখক বাঙালি, মির্জা শেখ ইতিসামুদ্দিন। ফারসি ভাষায় প্রথম রচিত ১৭৭৯ খ্রি., বইয়ের নাম ‘শিগার্ফ-নামা-এ-বিলায়েত’ (বিলাতের আশ্চর্য দৃশ্যাবলি)। নদীয়ার পাঁচনুরে জন্মগ্রহণকারী ইতিসামুদ্দিনই প্রথম বাঙালি যিনি প্রথম বিলেত ভ্রমণ কাহিনী লিপিবদ্ধ করেন। আবু মহামেদ হবিবুল্লাহ ১৯৮১ সালে প্রকাশ করেন। যদিও এটি আক্ষরিক অনুবাদ নয়, “মূলানুবাদ”।

দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় ফ্রান্সিস বুকানন (১৭৯৮) – ফ্রান্সিস বুকানন
বইটির মূল ইংরেজির লিংক

ইংলন্ডে বঙ্গমহিলা: লেখিকা কৃষ্ণভাবিনী দাস, ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত। এটি বাংলাসাহিত্যে মহিলা লিখিত প্রথম ভ্রমণ কাহিনী।

আর্য্যাবর্ত্তে বঙ্গমহিলা: লেখিকা প্রসন্নময়ী দেবী, প্রকাশকাল ১৮৮৮ খ্রি.।

আমার ইউরোপ ভ্রমণ: ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যয় ১৮৮৮ খ্রি. বিলেত গিয়েছিলেন সরকারি কাজে। সেই ভ্রমণ নিয়ে তিনি ইংরেজিতে A Visit to Europe শিরোনামে ১৮৮৯ সালে বই প্রকাশ করেন। ১৯৮২ সালে ‘আমার ইউরোপ ভ্রমণ’ নামে সেই বইয়ের অনুবাদ প্রকাশ করেন পরিমল গোস্বামী।

ইউরোপ পরিভ্রমণ: রমেশচন্দ্র দত্ত

জলধর সেন: জলধর সেনের ভ্রমণ বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা মোট ৯টি। বইগুলো হল ‘প্রবাসচিত্র’ (১৮৯৯ খ্রি.) ‘হিমালয়‘ (১৯০০), ‘পথিক’ (১৩০৮ বঙ্গাব্দ), ‘হিমাচল বক্ষে’ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), ‘হিমাদ্রি’ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), ‘দশদিন’ (১৩২৩ বঙ্গাব্দ/১৯১৬ খ্রি.)।

ইংলন্ডে সাত মাস: জগৎমোহনী চৌধুরী (১৯০২)

সচিত্র ভারত প্রদক্ষিণ: ১৯০৩ সালে দুর্গাচরণ রক্ষিত রচিত বইয়ে বৃত্তান্তের পাশাপাশি  রয়েছে ১৮টি ছবি যা সে সময়ের জন্য দুর্লভ সংযোজন।

উত্তরখণ্ড পরিক্রমা বিদ্যাবিনোদ রচিত তীর্থভ্রমণ বিবরণ যার প্রকাশকাল ১৯১২ সাল। এই রকম আরও কিছু তীর্থভ্রমণ বিবরণ আছে।

হিমালয় ভ্রমণ: লেখক শুদ্ধানন্দ ব্রহ্মচারী (১৯১২)।

তুরস্ক ভ্রমণ: ইসমাইল হোসেন সিরাজীর লেখা ‘তুরস্ক ভ্রমণ‘ (১ম খণ্ড) প্রকাশিত হয় ১৯১৩ সালে, কিন্তু ২য় খণ্ড লিখিত হলেও আর প্রকাশিত হয় নি।

বঙ্গমহিলার জাপান যাত্রা: হরিপ্রভা তাকেদা (১৯১৫)। ১৯০৭ খ্রি. জাপানি যুবক তাকেদার সাথে হরিপ্রভার বিয়ে হয় ঢাকায় এবং তিনি স্বামীর সাথে জাপান যান ১৯১২ খ্রি.। সেই জাপানে বসবাসের অভিজ্ঞতা সংবলিত অনবদ্য গ্রন্থ ‘বঙ্গমহিলার জাপান যাত্রা’।

আমার য়ুরোপ ভ্রমণ: এটি অনুবাদ, ১৯১৫ সালে বর্ধমানের মহারাজা মহতাবচাঁদ বাহাদুর রচিত ‘Impressions’ বইয়ের অনুবাদ  প্রকাশ করেন জলধর সেন।

নরওয়ে ভ্রমণ: বিমলা দাশগুপ্তা (১৯১৫)!

পারস্যে বঙ্গ রমণী: শরৎরেণু দেবী (১৯১৬)

জাপান ভ্রমণ: অবলা বসু (১৯১৬)

ভ্রমণকারী বন্ধু হইতে প্রাপ্ত: লেখক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। ৭ পৌষ ১২৬১ বঙ্গাব্দ থেকে এই শিরোনামে পূর্ববঙ্গের ভ্রমণবৃত্তান্ত প্রকাশ করেন ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার সম্পাদক ও কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। এটি বই হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল কিনা বা আজ পাওয়া যাবে কিনা সেই সুলুক সন্ধান করতে হবে।

হেজাজ ভ্রমণ: বাংলাদেশের স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ খানবাহাদুর আহ্‌ছানউল্লাহ ১৯২০ সালে হজ শেষে ১৯২১ সালে প্রকাশ করেন তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী ‘হেজাজ ভ্রমণ’।

ভূ-প্রদক্ষিণ: চন্দ্রশেখর সেন  ১৮৮৯ সালে বেরিয়ে নানা দেশ ঘুরে এসে বইটি প্রকাশ করেন।

দু চাকায় দুনিয়া – বিমল মুখোপাধ্যায়, দুই বিশ্বযুদ্ধের মাঝে ১৯২৬ সালে বিমল মুখোপাধ্যায় বেরিয়েছিলেন বিশ্বভ্রমণে – আরব, ইরান, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, চিন, হং-কং, ভিয়েতনাম মিলিয়ে সমস্ত বড় দেশ গুলি ঘুরে দেশে ফেরেন ১৯৩৭ সালে। তবে বই প্রকাশে অনেক দেরি করেছেন। ভ্রমণ শেষ করার ৫০ বছর পর ১৯৮৬ সালে বইটি প্রকাশ করেন। বর্তমানে বইটির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ পাঠকদের।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

১. য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্র (১৮৮১)
২. য়ুরোপ-যাত্রীর ডায়রি (১৮৯২)
৩. জাপানযাত্রী
৪. পশ্চিমযাত্রীর ডায়রি
৫. জাভা-যাত্রীর পত্র
৬. রাশিয়ার চিঠি
৭. পারস্যে
৮. পথের সঞ্চয় ইবুক

মুসাফির -চৌধুরী শামসুর রহমান, ১৯২০ সালের দশকে বাড়ি থেকে পালিয়ে বোম্বে পর্যন্ত ভ্রমণ

মহাপ্রস্থানের পথে – প্রবোধকুমার সান্যাল

রামনাথ বিশ্বাস: এক বিস্ময়কর অভিযাত্রী। ১৮৯৪ সালে হবিগঞ্জের বানিয়াচং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩১ সালে সাইকেলে চড়ে প্রথম ভ্রমণে তিনি মালয়, শ্যাম, ইন্দোচীন, চীন, কোরিয়া, জাপান হয়ে কানাডায় পৌঁছান। ১৯৩৪ সালে তিনি গ্রামে ফিরেন। দ্বিতীয়বার বিশ্বযাত্রায় (১৯৩৪-৩৬) তিনি আফগানিস্তান, পারস্য, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, তুরস্ক, বুলগেরিয়া, যুগোস্লাভিয়া, হাঙ্গেরী, অস্ট্রিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, জার্মানি, হল্যান্ড, বেলজিয়াম, ফ্রান্স হয়ে, ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড বৃটেন পৌঁছান। তৃতীয়বার বিশ্বযাত্রায় (১৯৩৬-৪০) কেনিয়া, উগান্ডা, নায়াসাল্যান্ড, রোডেসিয়া হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছান। এখান থেকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। দেশভাগের পরও তিনি নিজ গ্রাম বানিয়াচঙ্গেই থেকে যান, পরে পাঁকাপাকিভাবে ভারত চলে যান। তার বইগুলো:

  • অন্ধকারের আফ্রিকা
  • আজকের আমেরিকা
  • যুযুৎসু জাপান
  • তরুণ তুর্কী
  • দুরন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা
  • নিগ্রো জাতির নতুন জীবন
  • প্রশান্ত মহাসাগরে অশান্তি
  • বেদুইনের দেশে
  • ভবঘুরের বিশ্বভ্রমণ
  • ভিয়েতনামের বিদ্রোহী বীর
  • মাউ মাউএর দেশে
  • মালয়েশিয়া ভ্রমণ
  • লাল চীন
  • বিদ্রোহী বলকান
  • সর্ব্ব-স্বাধীন শ্যাম
  • হলিউডের আত্মকথা
  • ট্যুর রাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড উইদাউট মানি (Tour Round The World Without Money)
  • নাবিক
  • সাগর পারের ওপারে
  • আগুনের আলো
  • মুক্ত মহাচীন
  • দ্বিচক্রে কোরিয়া
  • পৃথিবীর পথে
  • ফ্রান্সে ভারতীয় ভূপর্যটক
  • মরণ বিজয়ী চীন
  • আমেরিকার নিগ্রো
  • আফগানিস্থান

অন্নদাশঙ্কর রায়:
১. পথে প্রবাসে – ইউরোপ – ভ্রমণকাল – প্রকাশকাল ১৯৩১
২. জাপানে – জাপান – ভ্রমণকাল ১৯৫৭ – প্রকাশকাল ১৯৫৯
৩. চেনাশোনা – প্রকাশকাল ১৯৭৫

ইয়োরোপা: দেবেশ দাস (১ সেপ্টেম্বর, ১৯১১ – ১৯৯৮)

সৈয়দ মুজতবা আলী

সত্যি ভ্রমণকাহিনী: সতীনাথ ভাদুড়ীর ভ্রমণ কাহিনী, প্রকাশিত সেপ্টেম্বর, ১৯৫১।

ইব্রাহিম খাঁ:

৩. পাকিস্তানের পথে-ঘাটে
বুদ্ধদেব বসু
  • সব-পেয়েছির দেশে (১৯৪১) – শান্তিনিকেতন নিবাসের বিবরণ
  • জাপানি জর্নাল (১৯৬২)
  • দেশান্তর (১৯৬৬)

শেখ ওয়াজেদ আলি

  • পশ্চিম ভারত (১৯৪৮)
  • মোটর যোগে রাঁচী সফর (১৯৪৯)
জসীম উদ্‌দীন
জার্মানির কিল শহরে (১৯৭৫) – বেগম মমতাজ জসীম উদ্‌দীন, এই বইটার সাথে কবি জসীম উদদীনের বইটির সাথে লিংক আছে। কবি গিয়েছিলেন জার্মানিতে, ন্যাশনালি নামে এক প্রতিষ্ঠানের নিমন্ত্রণে, গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছিলেন, ছেলের পরিবারের সাথে সময় কাটিয়েছিলেন। সেখানে কিছুদিন পর যোগ দিয়েছিলেন তার স্ত্রী। সেই একই ভ্রমণে কবিপত্নীর লেখা সংক্ষিপ্ত বই।
আ. ন. ম. বজলুর রশীদ
  • দ্বিতীয় পৃথিবীতে (১৯৬০)
  • পথ বেঁধে দিল (১৯৬০)
  • দুই সাগরের দেশে (১৯৬৭)
  • পথ ও পৃথিবী (১৯৬৭)

মস্কোতে কয়েকদিন (১৯৫৯): তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ (১৯৬৬) – শহীদুল্লা কায়সার
বুলগেরিয়া ভ্রমণ (১৯৭৮): ড. মো: এনামুল হক
উগান্ডা ভ্রমণ : স্মৃতির সোনালি পৃষ্ঠা(১৯৭৯) – রওশন আরা হাফিজ কাক্কু
বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন – মুহম্মদ আবদুল হাই
হুমায়ূন আহমেদ
বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন – মুহম্মদ আবদুল হাই
সোভিয়েতের দিনগুলো: বেগম সুফিয়া কামাল
শাহী এলাকার পথে পথে: নীলিমা ইব্রাহিম
অন্য পৃথিবী: আবুল ফজল শামসুজ্জামান
অভিযাত্রিক: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সাত সাঁতার – জহুরুল হক, আমেরিকা ভ্রমণ
প্রেম যেখানে সর্বস্ব (সৈয়দ আলী আহসান)

বন্দর থেকে বন্দরে (সানাউল হক)

ডাক দিয়ে যায় হাভানা – মামুনুর রশীদ

রনবীর বিশ্ব দর্শন ও রম্যকথন – রনবী

গজমোতির দেশ আইভরিকোস্ট – কাজি জহিরুল ইসলাম

সূত্র:

১. ড. মোহাম্মদ আলী খান, বাংলা ভ্রমণসাহিত্যের গোড়ার কথা

এইচএসসির ফলাফল নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয়

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। সব ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে এ ফল প্রকাশ করা হবে।

আজ বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক তপন কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, এইচএসসি ফল প্রকাশের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এবার যেসব বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলোর খাতা মূল্যায়ন করে এবং বাকি বিষয়গুলোতে এসএসসির নম্বর ম্যাপিং করে ফল প্রকাশ করা হবে।

তপন কুমার সরকার আরও বলেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৩০ জুন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়।

এরপর জুলাইয়ের ১৬ তারিখ পর্যন্ত পরীক্ষা ঠিকঠাকভাবেই সম্পন্ন হয়। কিন্তু কোটা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে ১৮ জুলাইয়ের পরীক্ষা এবং পরে ২১, ২৩ ও ২৫ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত হয়। এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনা সরকার।

সামগ্রিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে বাকি পরীক্ষাগুলোর তারিখ বেশ কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়।

সবশেষ নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১১ আগস্ট। এর মধ্যে পরীক্ষার্থীরা স্থগিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। ২০ আগস্ট সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবনের নিচে বিক্ষোভ করেন তারা। পরবর্তীতে এসব পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি বোর্ড ও মাদরাসা বোর্ডের অধীনে মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ জন অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কানাডায় আরও ভিসা দেওয়ার অনুরোধ ড. ইউনূসের

0

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সাথে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সংক্ষিপ্ত বৈঠকে, দুই নেতা বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ককে দৃঢ়করণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশের তরুণদের সমর্থন করার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় ড. ইউনূস বিগত শাসনব্যবস্থা কীভাবে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে তা বর্ণনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কানাডা সরকারের সমর্থনের জন্য কানাডার প্রশংসা করেন। তিনি কানাডাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আরও ভিসা দেওয়ার অনুরোধ জানান।

প্রধান উপদেষ্টা জুলাই বিপ্লব চলাকালীন ও এরপরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আঁকা দেয়ালচিত্রের ছবি-সংবলিত ‘দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ শীর্ষক আর্টবুক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে উপহার দেন।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো। তিনি বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আরও দুই মামলায় গ্রেফতার সালমান-দীপু মনি-আনিসুল ও পলক 

0

আরও দুই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনি, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে।

বৈষম্যবিরোরধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে বাড্ডা থানা এলাকায় সোহাগ মিয়া ও হাফিজুল শিকদারকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে আলাদা দুই মামলায় নতুনভাবে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা নাগাদ, কারাগার থেকে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। সেই আবেদনটি মঞ্জুর করেন আদালত।

তবে, নির্দেশনার বিরুদ্ধে জামিন আবেদন করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী। কিন্তু সেই আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

ইউনূস-বাইডেন বৈঠক নিয়ে যা বলছে হোয়াইট হাউস

0

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক . মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দুই নেতার মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

পরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বৈঠকের বিষয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি (রিড আউট) প্রকাশ করে হোয়াইট হাউস।

এতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সাম্প্রতিক নিয়োগের অভিনন্দন জানাতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আজ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠক করেছেন।

এতে আরও বলা হয়েছে, উভয় নেতা যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যার ভিত্তি অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং উভয় দেশের জনগণের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধন।

রিড আউটে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন দুই সরকারের (উভয় দেশের) মধ্যে আরও সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশের নতুন সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে অব্যাহত মার্কিন সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।

এছাড়া এই বৈঠকের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ এবং ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি ‘পূর্ণ সহযোগিতার’ আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

কীভাবে বাংলাদেশের ছাত্ররা আগের স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং জীবন দিয়েছে, সেটি জো বাইডেনের কাছে বর্ণনা করেছেন ড. ইউনূস। দেশ পূণর্গঠনে তার সরকার জোরালোভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা দরকার হতে পারে বলে প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

জো বাইডেন বলেছেন, দেশের জন্য যদি ছাত্ররা এভাবে ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, তাহলে তাদের দেশের জন্য আরও কিছু করা উচিত।

এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীরা যেসব দেয়াল চিত্র এঁকেছিল, সেসবের ছবি সংবলিত “দ্যা আর্ট অব ট্রায়াম্ফ” নামের একটি বই প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে উপহার দেন প্রধান উপদেষ্টা।

গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর জয়পাড়া

0

লং মার্চ টু ঢাকা ২০২৪ এর আগস্ট ৬ তারিখ থেকে এগিয়ে ৫ তারিখে নিয়ে আসা হয়। সকাল থেকে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় জানা যাচ্ছিল না খবর। দুপুরে খবর আসে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছে। বিকেল ৩ টায় সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন। সেই সময়ই দোহারের সদর এলাকা জয়পাড়ায় বিজয় মিছিলের ডাক দেয়া হয়। ছাত্র ও জনতা জড়ো হতে থাকে জয়পাড়ার প্রধান সড়কগুলোতে।

গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর জটলা, ছোট ছোট মিছিল আর স্লোগানে মুখরতি হতে থাকে জয়পাড়া। জয়পাড়ার রতন চত্ত্বর কেন্দ্রে পরিণত হয়। এই দিনের ছবি নিয়ে এই গ্যালারি-

দোহার থানার সামনে পুলিশের সতর্ক অবস্থান
দোহার থানার সামনে পুলিশের সতর্ক অবস্থান
উপজেলা মার্কেটের উপর আওয়ামী লীগের এক নেতার ব্যানার ছিল, সেটি ছিড়ে ফেলে ছাত্ররা
উপজেলা মার্কেটের উপর আওয়ামী লীগের এক নেতার ব্যানার ছিল, সেটি ছিড়ে ফেলে ছাত্ররা
ছাত্র-জনতার উল্লাস
ছাত্র-জনতার উল্লাস
ছাত্র-জনতার উল্লাস
ছাত্র-জনতার উল্লাস
ছাত্র-জনতার "রতন ভাষ্কর্য্য" ভাঙা শুরু করে
ছাত্র-জনতা “রতন ভাষ্কর্য্য” ভাঙা শুরু করে
ছাত্র-জনতার উল্লাস
ছাত্র-জনতার উল্লাস
ছাত্রদের ফটোশুট
ছাত্রদের ফটোশুট
রতন ভাষ্কর্য্য ভাঙা হচ্ছে
রতন ভাষ্কর্য্য ভাঙা হচ্ছে
রতন ভাষ্কর্য্য ভেঙে ফেলার পর
রতন ভাষ্কর্য্য ভেঙে ফেলার পর

 

সকালে ঘুম থেকে উঠেই ক্লান্ত লাগে কেন?

0

সকালে ঘুম থেকে উঠার পরই অনেকের বেশ ক্লান্ত লাগে। সারারাত ঘুমের পর তো শরীর ও মন সতেজ হওয়ার কথা। কিন্তু বিপরীতে ক্লান্ত লাগে। এমনটা মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। শরীরে রোগ বাসা বাঁধলে অনেক সময় এরকম হয়ে থাকে। এবার তাহলে জেনে নেয়া যাক কেন ঘুম থেকে উঠার পরই শরীর ক্লান্ত লাগে।

কেন এমন হয়ে থাকেএর সরাসরি উত্তর হচ্ছে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব। প্রতিদিন রাতে অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। এর থেকে কম পরিমাণে ঘুম হলে সকালে ক্লান্তি লাগে। এ কারণে সারাদিন অলসতাভাব থাকে শরীরে।

কেবল ৮ ঘণ্টা ঘুমই নয়। এর ধরণও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হালকা ঘুম, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো অভ্যাস থাকলে বিশ্রামে ঘাটতি হয়। শরীর সুস্থ ও ভালো রাখতে গভীর এবং নিরবিচ্ছিন্নভাবে ৮ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন।

ঘুমের পরিমাণ বাড়াতে পারেন যেভাবে: প্রথমেই ঘুমের সময় নির্ধারণ করতে হবে। যেকোনো উপায়ে অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। সকালে ঘুম ভাঙার অ্যালার্মের মতো রাতেও ঘুমানোর সময় নির্ধারণ করে নিন। নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগেই ঘুমিয়ে পড়ুন। এতে ঘুম ভালো হবে।

আধুনিক যুগে স্মার্ট ডিভাইসও ঘুমে ব্যঘাত ঘটানোর কারণ। এ জন্য শোয়ার আগে অন্তত ২ ঘণ্টা স্মার্টফোন ব্যবহার করবেন না। প্রয়োজনে বিছানা থেকে দূরে রাখুন। টেলিভিশন বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে চোখ রাখবেন না।

শোয়ার দেড় থেকে দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন। ব্যস্ত শিডিউলে সেটি সম্ভব না হলেও হালকা ও সহজতর খাবার খেয়ে নিন। খাওয়ার পর বিছানায় বসে গল্পের বই পড়ুন। ধীরে ধীরে ঘুম আসবে। কানে হেডফোন লাগিয়ে পছন্দের গান শুনতে পারেন। তবে শুয়ে ফোন ব্যবহার করবেন না।

এমন অনেকেই আছেন যারা তাড়াতাড়ি শুয়ে পরারও পরও ঘুম আসে না। এমনটা হলে প্রতিদিন এক্সারসাইজ করুন। এতে স্ট্রেস যেমন কমবে, তেমনি তাড়াতাড়ি ঘুমও আসবে।

চা, কফি, সিগারেট ইত্যাদি জাতীয় খারাপ বিষয়গুলো এড়িয়ে চলুন। আর সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। ঘুমের এক ঘণ্টা আগে অতিরিক্ত পানি পান করবেন না। এতে মাঝ রাতে প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙবে আপনার।

উপরের এসব নিয়ম মানার পরও যদি রাতে ঘুম না হয় বা শরীর ক্লান্ত লাগে, তাহলে বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশ্বজুড়ে ১৫৩টি গবেষণা পর্যালোচনায় জানা গেছে, ঘুম কম হওয়ার কারণে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং মোটা হওয়ার মতো সমস্যা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া জরুরি।

মাত্র একদিনে লেবাননে ৮০০ স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা

0

মাত্র একদিনে লেবাননে ৮০০টি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তাদের হামলায় এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ মানুষ নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের

ইসরায়েলি বিমান বাহিনী বলেছে, তারা লেবাননে ৮০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তারা জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবানন ও বেকা এলাকায় হিজবুল্লাহর ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে’ ডজনখানেক যুদ্ধবিমানের অংশগ্রহণে এসব হামলা হয়েছে।

সোমবার লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় প্রায় ৩০০ মানুষ নিহত হন। আহত হন আরও সাত শতাধিক মানুষ। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফিরাস আবিয়াদ বলেছেন, ইসরায়েলি বোমা হামলায় বাড়িঘর, চিকিৎসা কেন্দ্র, অ্যাম্বুলেন্স ও পলায়নরত মানুষের গাড়ি টার্গেট করা হয়েছে। তাদের হামলায় ২১ শিশু, ৩৯ জন নারী ও দুজন চিকিৎসকসহ অন্তত ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন।

দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে মুহুর্মুহু রকেট ছুড়েছে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদল হিজবুল্লাহ। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে ইরানপন্থী গোষ্ঠীটি।

প্রায় এক বছর ধরে সীমান্তে পাল্টিপাল্টি হামলা করে আসছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধা ও ইসরায়েলি সেনারা। তবে সম্প্রতি গাজা থেকে নিজেদের যুদ্ধের মূল ক্ষেত্র লেবাননে বদলি করার ঘোষণা দেয় নেতানিয়াহু সরকার। এই ঘোষণার পর থেকেই দেশটিতে একের পর এক ভয়াবহ হামলা করে আসছে ইসরায়েলি সেনারা।

দোহারে বালু উত্তোলনকারী ৩টি কাটার জব্দ

0

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা পদ্মা নদীর চর থেকে খনন যন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলার সময় তিনটি কাটার জব্দ করা হয়েছে। দোহার থানার নৌ পুলিশের এসআই মোঃ রাসেলের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় খননযন্ত্রসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়।

সোমবার ভোররাতে৪ টার দিকে নারিশা পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে এই তিনটি কাটার জব্দ করা হয়।

এই বিষয়ে দোহার থানার নৌ পুলিশ পরিদর্শক মো: রাসেল news39.net কে জানান, আজ সোমবার ভোর রাতে নারিশা পদ্মার চরে অভিযান চালিয়ে তিনটি কাটারের সাথে ছয়জন লেবারকে আটক করি। এই কাটারের কোন কাগজপত্র তারা দেখাতে পারিনি তাই আমরা তাদেরকে মেরিন কোর্ট  (BIWTA) নিয়ে এসেছি মামলা দেওয়ার জন্য। যে লেবারদের ধরা হয়েছে, তাদের নাম ঠিকানা যাচাই বাছাই করে পরবর্তী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব আমরা।

ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় নিহত আরও ৪০ ফিলিস্তিনি

0

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বর্বর হামলা থামেছেই না। গাজাজুড়ে বেশ কয়েকটি জায়গায় হামলা চালিয়ে আরও ৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। গাজায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৪১ হাজার ৪৩০ জনের বেশি। গতকাল রবিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় কমপক্ষে আরও ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ হাজার ৪৩১ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরলস এই হামলায় আরও অন্তত ৯৫ হাজার ৮১৮ জন ব্যক্তিও আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ৪০ জন নিহত এবং আরও ৫৮ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন। কারণ, উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মনে করছে, গাজা উপত্যকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০ হাজারেরও বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছেন। মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।