প্রবাসীদের জন্য অনলাইন ভোটিং পদ্ধতি উপস্থাপন

বিভিন্ন দেশে বসবাস করা দেড় কোটি বাংলাদেশি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজন। অনলাইন ভোটিং পদ্ধতির মাধ্যমে এটি করা সম্ভব বলে তাঁরা কারিগরি একটি ব্যবস্থাও তুলে ধরেন। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘আগামী নির্বাচনে প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ পদ্ধতি তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, দেড় কোটি প্রবাসীকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করে একটি দেশ এগোতে পারে না। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে।

গ্লোবাল বাংলাদেশিজ অ্যালায়েন্স ফর হিউম্যান রাইটস (জিবিএএইচআর) এ সেমিনারের আয়োজন করে। জিবিএএইচআরের আহ্বায়ক শামসুল আলম লিটনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমান, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

এ এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘প্রবাসীদের অনেক প্রত্যাশার মধ্যে একটি হলো ভোটাধিকার। দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা এই কাজগুলো অনেক দিন নিজের মতো করে করতে পারিনি। এখন পরিবেশ অনুকূলে, সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব।’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিক শফিক রেহমান বলেন, ‘দূতাবাসগুলো এই দেশে কী করে, সেগুলো প্রকাশ করেন। তারা গোয়েন্দাগিরি করে কার ওপরে? তারা কি তাদের সরকারের ওপর গোয়েন্দাগিরি করে? তা নয়। তারা গোয়েন্দাগিরি করে আমার-আপনার ওপর।’

ডেটা প্রকৌশলী রূপম রাজ্জাক অনলাইন এনরোলমেন্ট, কিয়স্ক বেজড ভেরিফিকেশন, কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসাইনমেন্ট, অনলাইন ভোটিং, ফিজিক্যাল প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে ব্যাখ্যা করেন।

অনলাইন ভোটিং পদ্ধতির নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলেন ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ও সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভোটিং পদ্ধতিটার নাম সিকিউর অনলাইন ভোটিং মেথড (এসওভিএম)।’

সেমিনারে মাল্টিফ্যাক্টর ভোটার ভেরিফিকেশন, এন্ড টু এন্ড এনক্রিপটেড, ব্লকচেইন ব্যাকড ভোট লেজার মাল্টিলিঙ্গুয়াল প্রসেস, ক্লাউড সিস্টেমের সিকিউরিটি মাল্টি রিজিয়ন ডেপলয়মেন্ট ফর হাই এভেইলেভিলিটি, রোলস বেজড এক্সেস কন্ট্রোল, ডেটা এনক্রিপশনের ওপর একটি স্লাইড উপস্থাপন করা হয়।

২০২৫ সালের শেষে বা ২০২৬ সালের প্রথমে নির্বাচন: ড. ইউনূস

যদি অল্প কিছু সংস্কার করে ভোটার তালিকা নির্ভুলভাবে তৈরি করার ভিত্তিতে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয় তাহলে ২০২৫ সালের শেষের দিকে বা ২০২৬ এর প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠান হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর)  মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।

ভাষণে তিনি বলেন, অনেক অস্ত্রকে সামনে রেখে খালি হাতে সম্মুখ সমরে লড়াই করে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতষ্ঠার উৎসবের দিন আজ। এই দিনে স্মরণ করি লক্ষ লক্ষ শহীদদের, অগণিত শিশু কিশোর, তরুণ তরুণী এ জনতার আত্মত্যাগকে। কিন্তু আমরা সেই অর্জনকে আমাদের দোষে পূর্ণতা দিতে পারিনি। সর্বশেষ এবং প্রচণ্ডতম আঘাত হানলো এক স্বৈরাচারী সরকার। সে প্রতিজ্ঞা করেই বসেছিল এদেশের মঙ্গল হতে পারে এমন কিছু সে অবশিষ্ট থাকতে দেবে না।

তিনি বলেন, এ বছরের বিজয় দিবস বিশেষ কারণে মহা আনন্দের দিন। মাত্র ৪ মাস আগে একটি অসম্ভব সম্ভব হয়ে গেলো। দেশের সবাই মিলে একজোটে হুঙ্কার দিয়ে উঠলো। পৃথিবীর ঘৃণ্যতম স্বৈরাচারী শাসককে পালিয়ে যেতে বাধ্য করলো। আমাদের প্রিয় দেশকে মুক্ত করেছে ছাত্র জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থান। যে হাজার হাজার শহীদ এবং আহতদের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র জনতার অটুট ঐক্যের মাধ্যমে এই গণঅভ্যুত্থান সম্ভব হলো তাদের সবাইকে স্মরণ করি এবং আজ এবারের মহা বিজয়ের দিনে সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে তাদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম জানাই।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতের জন্য গণতন্ত্রের জন্য একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়তে ছাত্র জনতা স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে রক্ত দিয়ে ৪ মাস আগে নতুন বাংলাদেশের জন্য ছাত্র জনতা যে ঐক্য গড়ে তুলেছিল তা এখনও পাথরের মতো শক্ত আছে। মাত্র কয়েকদিন আগে জাতি আবারও গর্জে উঠে জাতি আবারও সেকথা জানিয়ে দিয়েছে। যখন পরাজিত শক্তি নড়েচড়ে উঠার চেষ্টা করেছিল সকল রাজনৈতিক দল এবং সকল ধর্মীয় শীর্ষ ব্যক্তিদের এবং ছাত্রদের সমাবেশের মাধ্যমে এককন্ঠে সজোরে ঘোষণা দিয়েছিল যে, আমরা যে নিরেট ঐক্যের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছি সেই ঐক্য আরও জোরদার হয়েছে।

ড. ইউনূস বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে আমরা অটুট আছি। বহির্বিশ্বে চাতুর্যপূর্ণ প্রচারণা দিয়ে যারা আমাদের দূরে সরানোর চেষ্টা করছে তারা দূরে সরাতে তো পারেইনি বরং জাতিকে স্বগৌরবে উচ্চকন্ঠে উজ্জীবিত করেছে। পরাজিত শক্তি তাদের পরাজয় কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। তারা প্রতিদিন দেশের ভেতরে এবং বাইর থেকে জনতার অভ্যত্থানকে ব্যর্থ করার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ে নানা ভঙ্গিতে তাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাচার করা হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থ তাদের দখলে রয়েছে। জাতীয় ঐক্য অটুট থাকলে তারা আমাদেরকে আমাদের লক্ষ্য অর্জন থেকে ব্যর্থ করতে পারবে না। সজাগ থাকুন নিজের লক্ষ্যকে জাতির লক্ষের সাথে একীভূত করুন। পৃথিবীর কোনো শক্তিই আমাদের লক্ষ্য অর্জন থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।

জাতির উদ্দেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এখন থেকে সবাই মিলে এমন একটা ঐতিহ্য সৃষ্টি করতে পারি যে স্থানীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে সব কেন্দ্রে প্রথমবারের ভোটাররা ১০০ শতাংশের এর কাছাকাছি সংখ্যায় ভোটদান নিশ্চিত করবে। এটা নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার সাহস করতে পারবে না।

ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, আমাদের সংস্কারের যে আকাঙ্ক্ষা সেটি বাস্তবায়নে প্রতিটি কমিশনই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের কথা আমি একটু আলাদাভাবে বলতে চাই, কেননা এই দুটি কমিশনের সুপারিশের ওপর প্রধানত নির্ভর করছে আমাদের আগামী নির্বাচন প্রস্তুতি ও তারিখ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ প্রসঙ্গে বড় খবর হলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়ে গেছে। কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এখন থেকে তাদের হাতে দায়িত্ব ন্যস্ত হলো ভবিষ্যৎ সরকার গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করার। তারা তাদের প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছেন। তাদের হাতে অনেক কাজ।

ড. ইউনূস বলেন, প্রথমে সবচেয়ে বড় কাজ ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা। এটা এমনিতেই কঠিন কাজ। এখন কাজটা আরো কঠিন হলো এজন্য যে গত তিনটা নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ করার সুযোগ ছিল না। ভোটার তালিকা যাচাই করার সুযোগ হয়নি কারোর। গত ১৫ বছরে যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য হয়েছে তাদের সবার নাম ভোটার তালিকায় তোলা নিশ্চিত করতে হবে। এটা একটা বড় কাজ। ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর এখানে গলদ রাখার কোনো সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন পর এবার বহু তরুণ তরুণী জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবে। অতীতে তাদেরকে সে অধিকার এবং আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। তাই এবারের নির্বাচনে তাদের ভোটদান একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। এই অভিজ্ঞতাকে মসৃণ করার সমস্ত আয়োজন করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের তরুণ তরুণী ভোটারেরা শতকরা ১০০ ভাগের কাছাকাছি সংখ্যায় ভোট দিয়ে একটি ঐতিহ্য সৃষ্টি করুক। নির্বাচন কমিশন এবং সকল সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার আহ্বান সবাই মিলে আমরা যেন এই লক্ষ্য অর্জনে নানা প্রকার সৃজনশীল কর্মসূচি গ্রহণ করি।

নতুন ভোটার ছাড়াও যাদের আগে থেকে ভোটার তালিকায় নাম থাকার কথা ছিল তারা ভোটার তালিকায় আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ মনোযোগ দিয়ে ভুয়া ভোটারদেরকে তালিকা থেকে বের করে দিতে হবে বলে জাতির উদ্দেশ্য বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবার আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে ভোট দেওয়া নিশ্চিত করতে চাই। অতীতে আমরা এ ব্যাপারে অনেকবার আশ্বাসের কথা শুনেছি। এই সরকারের আমলে এটা যেন প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হয় এটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। এর জন্য একটা নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, সবকিছুই সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এর সঙ্গে যদি আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে চাই, নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করতে চাই, তাহলে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিস্তৃতি ও গভীরতা অনুসারে নির্বাচন কমিশনকে সময় দিতে হবে।

প্রধান রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি সকল প্রধান সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে নির্বাচন আয়োজন করার ব্যাপারে বারবার আপনাদের কাছে আবেদন জানিয়ে এসেছি। তবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের কারণে আমাদেরকে যদি, আবার বলছি যদি, অল্প কিছু সংস্কার করে ভোটার তালিকা নির্ভুলভাবে তৈরি করার ভিত্তিতে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয় তাহলে ২০২৫ সালের শেষের দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়তো সম্ভব হবে। আর যদি এর সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত মাত্রার সংস্কার যোগ করি তাহলে অন্তত আরও ছয় মাস অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। মোটাদাগে বলা যায়, ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা যায়।

২০২৪ সালে জনগণ প্রকৃত বিজয়ের স্বাদ অনুভব করছে: উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম

0

দেশবাসীকে মহান বিজয় দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালের বিজয়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে জনগণ প্রকৃত বিজয়ের স্বাদ অনুভব করছে।

আজ সোমবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমরা স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সব শহীদদের। সেই সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদেরও আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। ১৯৭১ সালে আমাদের বিজয় আসলেও সেই স্বাধীনতা অরক্ষিত ছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছে।’

এ সময় ফ্যাসিজম ও আধিপত্যবাদ মুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ও জানান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা।

এর আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান উপদেষ্টা আসিফ ছাড়াও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

এদিন সকাল ৭টা ১২ মিনিটের দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ঢাকায় সফররত পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস হোর্তা। পরে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন প্রধান উপদেষ্টা।

অন্যদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ সময় পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। পরে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। সেই সঙ্গে বিউগলে করুণ সুর বেজে উঠে। এরপর স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপ্রধান।

এ শীতে শিশুর রোগবালাই এবং চিকিৎসা

শীতে শিশুর জ্বর কিংবা সর্দি-কাশি খুব সাধারণ একটি ঘটনা। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল সিরাপ, নাক দিয়ে পানি পড়ার জন্য হিস্টাসিন বা অ্যালাট্রল এবং কাশির জন্য সালবিউটামল সিরাপ বয়স অনুযায়ী খাওয়ালে শিশু সুস্থ হয়ে ওঠে। অনেকের অবশ্য তা লাগেও না। লবণ পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার এবং বুকের দুধ ও পর্যাপ্ত তরল খাবার খাওয়ালেই ভালো হয়ে যায়। বাসক পাতার রস এবং মধু এ ক্ষেত্রে ভালো কাজে দেয়। শীতে শিশুর যে ধরনের সর্দি-কাশি হয়, তার বেশিরভাগই ভাইরাসজনিত। এগুলোয় তেমন অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো দরকার পড়ে না। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে শিশুর উপকারের চেয়ে ক্ষতি হতে পারে বেশি।

চিকিৎসকের কাছে যখন যাবেন : ঘরোয়া চিকিৎসায় বেশিরভাগ সর্দি-জ্বর ভালো হয়ে যায়। সর্দি বা জ্বরের বাইরে শিশু দ্রুত শ্বাস নিলে (নবজাতকের জন্য মিনিটে ৬০, ১ বছর পর্যন্ত ৫০, এরপর মিনিটে ৪০ বারের বেশি শ্বাস নিলে); বুক নিচের দিকে দেবে গেলে; টানা কয়েক দিন বেশি বেশি জ্বর থাকলে; খুব দুর্বল হয়ে পড়লে এবং খুব বেশি কান্নাকাটি করলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

বিপদ চিহ্ন : শিশু অচেতন হয়ে গেলে; খিঁচুনি হলে; কিছুই খাওয়ানো না গেলে বা যা কিছুই খাক, সঙ্গে সঙ্গে বমি করে ফেলে দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

পরামর্শ : শিশুর শ্বাসনালি অতি সংবেদনশীল। তাই শীতে হাঁপানির প্রকোপ বাড়ে। এ রোগ প্রতিরোধে বাসায়, শোবার ঘরে কার্পেট রাখবেন না। লোমযুক্ত চাদর, কম্বল ব্যবহার করবেন না। হাঁপানি নিরাময়ে সালবিউটামল সিরাপ এক বছরের নিচের জন্য আধা চামচ আর এক বছর থেকে পাঁচ বছরের জন্য এক চামচ করে দিনে তিনবার খাওয়াতে পারেন।

শিশুর ত্বক ও শ্বাসতন্ত্র নাজুক ও অপরিণত। তাই শিশু তাপ ধরে রাখতে পারে না। সহজে ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এ সময় তাই তাকে পর্যাপ্ত শীতের কাপড় পরাতে হবে। তবে এর মানে এ নয়, শিশুকে নাক-মুখ বন্ধ করে, শক্ত করে মুড়িয়ে দিতে হবে। শীতের কাপড় যেন আরামদায়ক হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শীতে ঘাম কম হওয়ায় শিশুর প্রস্রাব বেশি হয়। এ জন্য নবজাতকের কাঁথা ভিজে যাচ্ছে কিনা বা একটু বড় শিশুর প্যান্ট ভিজছে কিনা, তা খেয়াল রাখতে হবে। অনেকে বেশি প্রস্রাব করছে দেখে শিশুকে বুকের দুধ ও তরল খাবার খাওয়ানো কমিয়ে দেন। এটি ভুল পদক্ষেপ, যা করা উচিত নয়। এতে কিডনিসহ অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।

শীতে শিশুর কোমল ত্বকের যত্নে অবশ্যই ভালো মানের লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। শুধু মুখে নয়, সারা শরীরে। শিশুকে পর্যাপ্ত সময় রোদে রাখতে হবে। শীতে গোসল করতে বাধা নেই। কুসুম গরম পানি দিয়ে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে পারেন। অনেকে গোসলের আগে সর্ষের তেল মাখিয়ে দেন। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, অবশ্য ক্ষতিও নেই। তবে গোসল করানোর সময় কানে যাতে পানি না ঢোকে, খেয়াল রাখতে হবে। শরীর ভালোভাবে মুছে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিভিন্ন ঋতুর মতো শীতেও শিশুর নানা রোগ হতে পারে, এটির বিশেষ কোনো ব্যাপার নয়। এ জন্য দুশ্চিন্তারও কারণ নেই।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, শিশু হৃদরোগ বিভাগ

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।

সিরিয়া সম্পর্কে যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন মহানবী (সা.) 

0

সম্প্রতি সিরিয়ার জালেম শাসক বাশার আল আসাদের পতন হয়েছে। তিনি সিরিয়া ছেড়ে পালিয়েছেন। সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দামেস্ক থেকে সরে গেছেন। সেখানে সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাই রাজধানী দামেস্কের রাস্তায় নেমে উল্লাস করেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীরা। রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ। তাদেরও উল্লাস করতে দেখা যায়। তারা ‘আসাদ পালিয়ে গেছেন’, ‘হোমস মুক্ত’ এবং ‘সিরিয়া দীর্ঘজীবী হোক’ বলে স্লোগান দেন। পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতা ও সংস্কৃতির দেশ সিরিয়া। এই অঞ্চলটি ইসলামপূর্ব যুগ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এই ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেছেন অংখ্য নবী। তারা বসবাসও করেছেন এখানে। হজরত ইব্রাহিম (আ.) নিজ সম্প্রদায়ের বিরোধিতার মুখে পড়ে আল্লাহর আদেশে সিরিয়া ভূমিতে হিজরত করেন। এখানে জন্মগ্রহণ করেন ঈসা (আ.)।

হজরত মুসা (আ.) হিজরত করে আগমন করেছিলেন এখানে। সিরিয়া তৎকালীন সময়ে শাম বলে পরিচিত ছিল। বর্তমান সিরিয়া, ফিলিস্তিন, লেবানন, জর্দান সবই এই শাম ভূমির অন্তর্ভুক্ত। এই শামের সঙ্গে ভবিষ্যতের ও কেয়ামতপূর্ব অনেক ঘটনাও জড়িত রয়েছে। এখানে ইমাম মাহাদির হাতে বায়আত, ঈসা (আ.)-এর আগমন, দাজ্জালের হত্যাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। কিছু বরকতপূর্ণ ও পবিত্র ভূমির উল্লেখ রয়েছে হাদিসে। এর মধ্যে সিরিয়াও রয়েছে। দেশটি ইতিহাসের অগণিত ঘটনার সাক্ষী। বর্তমান সিরিয়া, জর্দান, লেবানন ও পূর্ণ ফিলিস্তিন হচ্ছে প্রাচীন শাম রাজ্য বা মুলকে শাম। এই অঞ্চলকে বলা হয় নবী-রাসুলদের ভূখণ্ড। এই শামের সঙ্গে ভবিষ্যতের ও কেয়ামতপূর্ব অনেক ঘটনাও জড়িত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) শামের ব্যাপারে বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। এ বিষয়ে হাদিসের বিবরণী উল্লেখ করা হলো। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, হিজরতের পর আরেকটি হিজরত দ্রুতই সংঘটিত হবে। তখন ভূপৃষ্ঠের সর্বোৎকৃষ্ট মানুষ হবে তারাই, যারা ইব্রাহিম (আ.)-এর হিজরত ভূমিতে (শাম দেশে) অবস্থান করবে। আর গোটা পৃথিবীতে সর্ব নিকৃষ্ট মানুষরাই অবস্থান করবে। তাদের ভূমিগুলো তাদের নিক্ষেপ করবে।

আল্লাহ তাদের অপছন্দ করবেন। তাদের ফেতনার আগুন বানর ও শূকরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখবে (তাদের দুশ্চরিত্রের কারণে তারা যেখানেই যাবে, সেখানেই ফেতনা লেগে থাকবে)। (আবু দাউদ) ইবনে হাওয়ালা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ইসলামি বাহিনী শিগগিরই কয়েকটি দলে দলবদ্ধ হবে। একটি দল শামে, একটি ইয়েমেনে ও অন্য একটি ইরাকে। ইবনে হাওয়ালা (রা.) জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি সেই যুগ পাই, তাহলে আমি কোন দলটিতে যোগদান করব, তা বলে দিন। রাসুল (সা.) বলেন, তুমি শামের বাহিনীতে থাকবে, কেননা তা আল্লাহর পছন্দনীয় ভূমির একটি, সেখানে তিনি তার সর্বোৎকৃষ্ট বান্দাদের একত্র করবেন। যদি তুমি তাতে যোগদান না করো, তাহলে তুমি ইয়েমেনের বাহিনীকে গ্রহণ করো। আর তোমরা শামের কূপ থেকে পানি গ্রহণ করো। কেননা আল্লাহ আমার জন্য অর্থাৎ আমার উম্মতের জন্য শাম ভূখণ্ড ও তার বাসিন্দাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। (আবু দাউদ) শুরাইহ ইবনে উবাইদ (রহ.) বলেন, হজরত আলী (রা.) ইরাকে অবস্থানরত অবস্থায় তাকে শামবাসীদের ব্যাপারে বলা হলো, আপনি তাদের ওপর অভিশাপ করুন! তখন তিনি বলেন, না, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, শাম ভূখণ্ডে আবদালরা (আল্লাহর ওলিদের বিশেষ দল) থাকেন, তারা ৪০ জন থাকেন, যখনই তাদের থেকে একজন মারা যান, আল্লাহ তার স্থানে অন্য একজনকে রাখেন। তাদের বরকতে বৃষ্টি হয় এবং শত্রুর ওপর জয়লাভ হয়। ভবিষ্যতে তাদের অসিলায় শামবাসীদের থেকে আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে। (মুসনাদে আহমদ) মুয়াবিয়া ইবনে কুররা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যখন শামভূমি ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, তখন তোমাদের মধ্যেও কোনো কল্যাণ থাকবে না। আর আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে, তাদের যারা ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তারা কেয়ামত পর্যন্ত তাদের ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। (জামে তিরমিজি) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, মহাযুদ্ধের সময় মুসলিমদের ছাউনি হবে ‘গোতা’ শহরে, যা দামেস্ক শহরের পাশে অবস্থিত।

এটি শামের উৎকৃষ্ট শহরগুলোর একটি। (আবু দাউদ) অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, অচিরেই তোমরা শাম বিজয় করতে পারবে, যখন তোমাদের সেখানে বসবাসের এখতিয়ার দেওয়া হবে, তোমরা দামেস্ক নগরীকে বাসস্থান বানাবে। কেননা তা যুদ্ধকালীন মুসলিমদের আশ্রয়স্থল হবে। আর তাদের ছাউনি হবে সেই দেশের একটি ভূমি, যাকে ‘গোতা’ বলা হয়। (মুসনাদে আহমদ) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, খোরাসান ভূমি থেকে কালো পতাকাবাহী দল বের হবে, তাদের কোনো কিছুই রুখতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তা ‘ইলিয়া’ তথা জেরুজালেমে স্থাপন না করে। (জামে তিরমিজি) যুগে যুগে সেই আব্বাসীয় খেলাফতের শুরুর লগ্ন থেকে অনেকেই নিজেদের ওই দল বোঝানোর জন্য কালো পতাকা নিয়ে অভিযানে নেমেছে। কেউ বা নিজেকে ইমাম মাহদিও দাবি করে বসেছে। এসব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বরং ওই দলের ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে আল্লাহই ভালো জানেন, তারা কোন যুগের ও কারা হবে।

উম্মে সালামা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, মুসলমানদের একজন খলিফার ইন্তেকালের পর মতানৈক্য হবে। তখন মদিনাবাসীর একজন ব্যক্তি (মতানৈক্য এড়িয়ে যাওয়ার জন্য) মক্কায় চলে আসবেন। অতঃপর মক্কাবাসী অনেক লোক তার কাছে আসবে এবং তাকে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঘর থেকে বের করে এনে মাকামে ইব্রাহিম ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে তার হাতে বাইয়াত হবে। (তিনিই হলেন ইমাম মাহদি) তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য শাম থেকে একটি (বাতেল) দলকে পাঠানো হবে। তবে তারা মক্কা-মদিনার মধ্যবর্তী বাইদা নামক স্থানে পৌঁছলে ভূমিধসে আক্রান্ত হবে। উম্মে সালামা (রা.) বলেন, আমি জানতে চাইলাম, হে আল্লাহর রাসুল! তাদের মধ্যে যদি কেউ এমন হয় যে, সে এই দলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেনি; বরং তাদের জোরপূর্বক নেওয়া হয়েছে, তাদেরও কি এ শাস্তি দেওয়া হবে? তখন রাসুল (সা.) ইরশাদ করলেন, হ্যাঁ, সবাই ভূমিধসে পতিত হবে, যদিও কেয়ামতের দিন যার যার নিয়তের ওপর ফায়সালা করা হবে। (সহিহ মুসলিম) যখন মানুষ তা দেখবে, তখন ইমাম মাহদির কাছে শামের আবদালরা ও ইরাকের উৎকৃষ্ট মানুষের দল আসবে। অতঃপর তারা মাকামে ইব্রাহিম ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে তার হাতে বাইয়াত হবে। অতঃপর কুরাইশ বংশের জনৈক ব্যক্তির উদ্ভব হবে, কালব গোত্র হবে তার মাতুল গোত্র। সে তাদের মোকাবিলায় একটি বাহিনী পাঠাবে। যুদ্ধে ইমাম মাহদির অনুসারীরা কালব বাহিনীর ওপর বিজয়ী হবে। এ সময় যারা কালবের গনিমত নিতে উপস্থিত হবে না, তাদের জন্য আফসোস! মাহদি গনিমতের সম্পদ বণ্টন করবেন এবং নবী (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী মানুষের মধ্যে কার্য পরিচালনা করবেন। আর ইসলাম সারা পৃথিবীতে প্রসারিত হবে। অতঃপর তিনি সাত বছর অবস্থান করার পর মারা যাবেন। আর মুসলিমরা তার জানাজার নামাজ পড়বে। ইমাম আবু দাউদ (রহ.) বলেন, কেউ কেউ হিশাম থেকে বর্ণনা করে বলেন, ৯ বছর অবস্থান করবেন। (মুসতাদরাকে হাকেম) নাউওয়াস ইবনে সামআন (রা.) সূত্রে বর্ণিত, একটি হাদিসে দাজ্জাল সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘দাজ্জাল ইরাক ও শামের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে বের হবে এবং ডানে-বাঁয়ে গোটা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করতে থাকবে। তাই হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ইমানের ওপর অটল থাকবে।’ দীর্ঘ হাদিস বর্ণনার একপর্যায়ে নবী (সা.) বলেন, দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে দাজ্জালের অনিষ্টতার পর আল্লাহ ঈসা (আ.)-কে পাঠাবেন। তিনি দামেস্কের পূর্ববর্তী এলাকার শুভ্র মিনারের কাছে আসমান থেকে দুজন ফেরেশতার কাঁধে চড়ে অবতরণ করবেন। তখন তার শ্বাস-প্রশ্বাস যে কাফেরের গায়ে লাগবে, সে মারা যাবে। আর তার দৃষ্টিসীমার শেষ প্রান্তে গিয়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস পড়বে। তিনি দাজ্জালকে তালাশ করবেন। অতঃপর শামের বাবে লুদ নামক স্থানে তাকে হত্যা করবেন। (সহিহ মুসলিম)

সাত বছর পর সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন খালেদা জিয়া

0

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রায় সাত বছর পর আগামী ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র সমাবেশটি আয়োজন করছে মুক্তিযোদ্ধা দল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন বেগম খালেদা জিয়া। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো সমাবেশে অংশ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

দলটির সূত্রে জানা গেছে, শনিবার গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। তারা খালেদা জিয়াকে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানান। তিনি প্রাথমিকভাবে সমাবেশে থাকার সম্মতি দিয়েছেন।এ ছাড়া রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘আল্লাহ ম্যাডামকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখলে তিনি সমাবেশে যেতে পারেন।’

বিএনপির মিডিয়া সেলের সূত্রে জানা গেছে, সব শেষ ২০১৭ সালে ১২ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়া। আর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের মামলায় কারাগারে যাওয়ার আগে ৬ ফেব্রুয়ারি গুলশানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ১৮ হাজার ভারতীয়কে বহিস্কার করছে

ভারতকে ‘অসহযোগিতাকারী’ দেশের তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। সাধারণত এ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাসন প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। আইসিইর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ১৮ হাজার ভারতীয়সহ ১.৪৫ মিলিয়ন অনিবন্ধিত অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের পরিকল্পনা করেছে। এ তালিকায় ভারত ছাড়াও রয়েছে ভুটান, কিউবা, ইরান, পাকিস্তান, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলা।

আইসিই বলেছে, এ দেশগুলো সাক্ষাৎকার পরিচালনা, সময়মতো ভ্রমণ নথি সরবরাহ করা ও নির্ধারিত ফ্লাইটে তাদের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন সহজতর করার মতো মূল প্রক্রিয়াগুলোতে সহায়তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় ৯০ হাজার ভারতীয়কে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টাকালে আটক করা হয়েছে।

যদিও অনেক ভারতীয় অভিবাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের অবস্থা নিয়মিত করার চেষ্টা করছেন, তবে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি অবৈধ অভিবাসীর দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে হন্ডুরাস। দেশটির দুই লাখ ৬১ হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীন ৩৭ হাজার ৯০৮ জন অবৈধ অভিবাসী নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। আর ভারত রয়েছে ১৩তম অবস্থানে।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ

0

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এ আদেশ দেন।

এ নথি জব্দের আবেদন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। আদালতে দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর (পিপি) সালাউদ্দিন ইস্কান্দার কিং শুনানি করেন।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান ও কন্যা সাফিয়া তাসনিম খানসহ ১০ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুদক আসাদুজ্জামান খান কামালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা করেন। তাদের বিরুদ্ধে মোট ৭৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার পর গত ৪ নভেম্বর আসাদুজ্জামান খান কামালের নয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করেন আদালত। এতে ১২ কোটি ১১ লাখ ৯৪ হাজার ১৮০ টাকা রয়েছে।

সাংবাদিকতা করতে গিয়ে অনেকে দালালি করেছেন: প্রেস সচিব

0

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে অনেকে দালালি করেছেন মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় অন্তর্বর্তী সরকার এক ইঞ্চিও আটকাবে না।’

আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘নতুন বাংলাদেশ গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, ‘জুলাইয়ের ১৪ তারিখ থেকে আগস্টের ৫ তারিখ পর্যন্ত একটা ভয়াবহ সময় পার করেছি। আমরা ট্রমার মধ্যে ছিলাম। মুখটাকে বন্ধ করতে যা ইচ্ছা তাই করেছে। অনেকে তাদের দালাল হিসেবে কাজ করেছে। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে অনেকে দালালি করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘অনেক সাংবাদিক কিন্তু স্বৈরাচারের সঙ্গে তেলযুদ্ধে পারেননি। কম তেল হলেই আউট। ১৫টি বছর আমরা এভাবে কাটিয়েছি।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে কোনো গণমাধ্যমকর্মী যাতে আহত না হন। যারা সংবাদপত্র চালান তাদের একটা বড় দায় রয়েছে। মালিকপক্ষ সাংবাদিকদের সেফটি ইকুইপমেন্ট পর্যাপ্তভাবে দেন না। ভিজে যে রিস্ক নিয়ে সংবাদ কাভার করেন, সে রিস্ক কেউ নেয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো প্রতিবেদককে যেন সেফটি গিয়ার বাদে সংবাদ কাভার করতে না হয়। বাংলাদেশের সবাই যেন প্রত্যেকটা ঘটনা রিস্ক ফ্রি ওয়েতে কাভার করেন।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হচ্ছে ফ্রিডম অব প্রেস, স্পিচ, অ্যাসোসিয়েশন যেন নিশ্চিত করা হয়। কারও স্বাধীনতায় আমরা এক ইঞ্চি আটকাবো না।’

সিরিয়াজুড়ে হামলার পর দামেস্কের কাছাকাছি ইসরায়েলি বাহিনী

0

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটিতে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সিরিয়ায় অন্তত ৩১০ বার হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে অধিকৃত গোলান মালভূমির কাছে সিরিয়ার ভুখণ্ড দখল করেছে ইসরায়েল। এ ছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট দখল করা অব্যাহত রেখেছে। 

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সিরিয়ার নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী দামেস্কের কাছাকাছি পর্যন্ত পৌঁছেছে। সূত্র বলছে, একটি ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অনুপ্রবেশ দামেস্কের প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে পৌঁছেছে।

সিরিয়ান একটি নিরাপত্তা সূত্র বলছে, ইসরায়েলি সেনারা সিরিয়ায় দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কাতানায় পৌঁছেছে। তবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ইসরায়েলি বাহিনী। শুধু ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সিরিয়ার সংঘাতে নিজেকে জড়াবে না। বাফার জোন দখল করাকে নিজেদের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।

সিরিয়ায় ইসরায়েলের এমন অনুপ্রবেশের নিন্দা জানিয়েছে মিশর, কাতার এবং সৌদি আরব। সৌদির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইসরায়েলের এমন কার্যকলাপ সিরিয়ার নিরাপত্তা স্থাপনের সুযোগকে ধ্বংস করছে।

এদিকে ইসরায়েল বলছে, তারা কয়েকদিন সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়ে যাবে। তবে ইসরায়েল জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলকে জানিয়েছে, তারা সিরিয়ার সংঘাতে হস্তক্ষেপ করবে না। ইসরায়েল বলেছে, তারা নিরাপত্তা রক্ষায় সীমিত এবং সাময়িক পদক্ষেপ নিয়েছে।