দোহার নবাবগঞ্জে বিকাশে চাকরির সুযোগ

ঢাকার দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বিকাশ লিমিটেডের মার্চেন্ট পয়েন্টের জন্য মেসার্স প্রতিভা এন্টারপ্রাইজের অধীনে মার্চেন্ট ডেভলপমেন্ট অফিসারের চাকরির সুযোগ।

চাকরি পদঃ মার্চেন্ট ডেভেলপমেন্ট অফিসার(MDO)

চাকরির স্থানঃ দোহার এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা।

কাজের ধরন
১. প্রদত্ত রুট প্লান অনুযায়ী নির্ধারিত এলাকার প্রতিটি মার্চেন্ট পয়েন্ট ভিজিট করা।
২. নতুন মার্চেন্ট দোকান (একাউন্ট) তৈরি করা।
৩. মার্চেন্টকে মনিটরিং করা এবং মার্চেন্ট ভিত্তিক টার্গেট অর্জন করা।
৪. অফিসের ডিসিপ্লিন বজায় রাখা এবং মার্চেন্ট পয়েন্ট এবং বিকাশ টিমের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ ন্যূনতম এস.এস.সি পাশ।(SSC)

অন্যান্য যোগ্যতাঃ
১. এন্ড্রয়েড ফোন পরিচালনার দক্ষতা এবং নিজের অবশ্যই এন্ড্রয়েড ফোন থাকা লাগবে।
২.ভালো যোগাযোগের দক্ষতা এবং চাপের মধ্যে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

পারিশ্রমিকঃ
১. বেতন ১৩,৫০০/- (ফিক্সড ৯৪৫০/- এবং ৪০৫০/- কে পি আই TADA)
২. ইনসেন্টিভ বোনাস বিকাশের প্রনোদনা অনুযায়ী।
৩.ভালো কাজের উপর ভিত্তি করে পদন্নোতির সুযোগ।

বিঃদ্রঃ বাইকারদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

আপনি আগ্রহী হলে সিভি পাঠান,
যোগাযোগঃ 01949658649 অথবা 01896290897,01842971257
ইমেইলঃ [email protected]
ঠিকানাঃ হাজের ম্যানশন ৩য় তালা,রেজিয়া ক্লিনিকের অপরপাশে,ডাকবাংলা রোড,জয়পাড়া বাজার,দোহার,ঢাকা।

সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট প্রাপ্তির অধিকারকে স্বীকৃতি দিলো বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম কোনো দেশ হিসেবে প্রত্যেক নাগরিককে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সেবা প্রাপ্তির অধিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিলো বাংলাদেশ।

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি নীতি উপদেষ্টা ফাইজ তাইয়্যেব এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নাগরিকদের সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট প্রাপ্তির অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সব নাগরিককে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট প্রাপ্তির অধিকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২(ভ)-তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত ‌‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ থেকে বিতর্কিত সব ধারা বাদ দিয়ে ‌‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৪’ খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। অধ্যাদেশে প্রত্যেক নাগরিককে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সেবা প্রাপ্তির অধিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশের ২(ভ)-তে ইন্টারনেট প্রাপ্তির এ অধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের ১৭তম বৈঠকে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

এ বিষয়ে উপদেষ্টা ফাইজ তাইয়্যেব বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশটি সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও ভবিষ্যতমুখী। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও কারিগরি দিক দিয়েও সমৃদ্ধ। আইনটি মানবিক ও ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে ভুক্তভোগীকে পর্যাপ্ত সুবিধা দেবে। হয়রানির প্রশ্নে আদালতকে অবহিতকরণেও বাধ্যবাধকতা তৈরি করেছে। বিচারককেও পর্যাপ্ত স্পেস দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অনুমোদিত এ আইনের অধিকাংশ ধারাই জামিনযোগ্য করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের বিপরীতে শাস্তিকে কমিয়ে অর্ধেকে নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে।’

‘নিশ্চিত থাকুন, নতুন যে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ; এর মাধ্যমে সাইবার স্পেস যেমন সুরক্ষিত হবে, ঠিক তেমনি এটি আমাদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত করবে,’ যোগ করেন তথ্যপ্রযুক্তি নীতি উপদেষ্টা।

৭ জানুয়ারি লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা জিয়া

0

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ও যাত্রার তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ৭ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডন যাচ্ছেন তিনি।

আজ বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে রওনা হবেন বেগম খালেদা জিয়া । তার সফরসঙ্গী হিসেবে যাবেন ১৬ সদস্যের টিম।

তার সফরসঙ্গী হবেন বেগম জিয়ার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান, বিএনপির চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. মো. এনামুল হক চৌধুরী, তাবিদ মোহাম্মদ আওয়াল, ফখরুদ্দীন মোহাম্মদ সিদ্দিক, মো. শাহাবুদ্দীন তালুকদার, নুরুদ্দীন আহমাদ, মো. জাকির ইকবাল, মোহাম্মদ আল মামুন, শরিফা করিম স্বর্ণা, চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবিএম আব্দুস সাত্তার, মো. মাসুদুর রহমান, এসএম পারভেজ, ফাতেমা বেগম এবং রুপা শিকদার।

এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৯ ডিসেম্বর লন্ডন যেতে পারেন। এরপর আজ বুধবার ঘোষণা এলো বেগম জিয়া ৭ জানিয়ারি লন্ডন যাবেন।

৫ মাস পর ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করল ইসরাইল

প্রথমবারের মতো ইসরায়েল স্বীকার করেছে যে, তারা হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াকে হত্যা করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ তথ্য প্রকাশ করেছেন।

গত জুলাই মাসে তেহরানে একটি বাড়িতে লক্ষ্যবস্তু করে হানিয়াকে হত্যা করা হয়। তিনি ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে অবস্থান করছিলেন। এই হামলায় হানিয়ার দেহরক্ষীও নিহত হন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক বিবৃতিতে বলেন, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নেতৃত্বকেও ‘কতল’ করবে ইসরায়েলি বাহিনী।

বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হুতিদের ওপর কঠোরভাবে আঘাত হানব এবং তাদের নেতৃত্বকে কতল করব যেমনটা আমরা তেহরান, গাজা ও লেবাননে হানিয়া, (ইয়াহিয়া) সিনওয়ার ও (হাসান) নাসরুল্লাহর ক্ষেত্রে করেছি, ঠিক সেটাই আমরা হোদেইদা ও সানায় করব।’

এদিকে হুতিদের সামরিক বাহিনী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দুটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক টেলিভিশন ভাষণে জানান, আশকেলনের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একটি ড্রোন হামলা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তেল আবিব এলাকাতেও আরেকটি ড্রোন হামলা চালানো হয়।

পদ্মার ১৮ কেজির বোয়াল ৫২ হাজারে বিক্রি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ধরা পড়েছে ১৮ কেজি ওজনের বোয়াল মাছ। পরে মাছটি ৫২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।

আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে দৌলতদিয়া মৎস্য আড়তে মাছটি নিলামে বিক্রি হয়।

স্থানীয়রা জানান, মাছটি ধরা পড়ার পর দেখতে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। পরে আড়দে নিলামে ২ হাজার ৮৫০ টাকা কেজি দরে ৫১ হাজার ৩০০ টাকায় কিনে নেন চাঁদনী এন্ড মৎস্য আড়তের মালিক চাঁন্দু মোল্যা।

দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরি ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী চাঁদনী এন্ড আরিফা মৎস্য আড়তের মালিক চাঁন্দু মোল্যা বলেন, পদ্মা নদীতে সকালে জাল ফেলে কালাম হলদার। তার জালে মাছটি ধরা পড়ে। মাছটি বিক্রির উদ্দেশ্য নিয়ে আসলে নিলামে ২ হাজার ৮৫০ টাকা কেজি দরে ৫১ হাজার ৩০০ টাকায় কিনে নেই। পরে একজন মাছ ক্রেতার কাছে ২ হাজার ৯০০ টাকা কেজি দরে ৫২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছি।

সাদপন্থি মুখপাত্র মুয়াজ বিন নূর ৩ দিনের রিমান্ডে

0

সাদপন্থিদের মুখপাত্র মুয়াজ বিন নূরের (৪০) বিরুদ্ধে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে সংঘর্ষে তিন মুসল্লি নিহতের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই মামলায় রোববার সকালে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি ইসকান্দার হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত শুক্রবার ভোররাতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মুয়াজকে এজলাসে নিয়ে আসা হয়। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। তবে গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর আল মামুন শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাজধানী উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের নূর মোহাম্মদের ছেলে মুয়াজ। তিনি সাদপন্থিদের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত। জুবায়েরপন্থিদের দায়েরকৃত হত্যা মামলার ৫ নম্বর আসামি।

পুলিশ আরও জানায়, টঙ্গী ইজতেমা মাঠে তিন মুসল্লির নিহতের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়। এ মামলায় মুয়াজকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। তাকে শুক্রবার আদালতে হাজির করলে আদালত আজ রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছিল।

১৫ বাংলাদেশি নারী-শিশুকে ফেরত দিয়েছে ভারত

0

বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছে ১৫ বাংলাদেশি নারী-শিশু। ভারতে ২ বছর কারাভোগের পর তারা নিজ দেশে ফিরল।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে দশটায় ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন আনুষ্ঠানিকভাবে।

আজ শনিবার সকালে রাইটস যশোর নামে একটি এনজিও সংস্থা তাদের পরিবারের কাছে হস্থান্তরের জন্য থানা থেকে ছাড়িয়ে তাদের নিজস্ব সেল্টার হোমে নিয়ে গেছে।

ফেরত আসাদের মধ্যে নড়াইল, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানের ৯ জন নারী ও ৬ জন শিশু রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম আহমেদ জানান, গত আড়াই বছর আগে অর্থের বিনিময়ে ভালো কাজ দেওয়ার কথা বলে দালালরা তাদের ভারতের মুম্বাই শহরে পাচার করে দেন। পরে মুম্বাই রেল স্টেশনে তাদের রেখে পালিয়ে যান দালালরা। সেখান থেকে পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে নিয়ে যায়।

পরে আদালত তাদের ২ বছরের কারাদন্ড প্রদান করেন। সাজার মেয়াদ শেষে আইনী প্রক্রিয়ায় শুক্রবার রাত সাড়ে দশটায় ভারতীয় পুলিশ তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি আরও জানান, ইমিগ্রেশনে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় ১৫ জনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাইটস যশোর নামে একটি এনজিও সংস্থা তাদের পরিবারের কাছে হস্থান্তরের জন্য থানা থেকে ছাড়িয়ে তাদের নিজস্ব সেল্টার হোমে নিয়ে যায়।

নির্বাচনের পর নিজের নিয়মিত কাজে ফিরে যাবেন ড. ইউনূস

0

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজের নিয়মিত কাজে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।তিনি বলেন, ‘আমি আমার নিয়মিত কাজে ফিরে যেতে পারলে খুশি হব, যা আমি আমার সারা জীবন ধরে করেছি।’ গতকাল শুক্রবার যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

ড. ইউনূসের কাছে জানতে চাওয়া হয়, নির্বাচন আয়োজনের পর তিনি কী করবেন? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার চাকরি আসলে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমাকে জোর করে এ কাজে আনা হয়েছে। আমি আমার কাজ করছিলাম এবং তা উপভোগ করছিলাম। এ জন্য আমি প্যারিসে ছিলাম। সেখান থেকে আমাকে টেনে আনা হয়েছে অন্য কিছু করার জন্য। সুতরাং আমি আমার নিয়মিত কাজে ফিরে যেতে পারলে খুশি হব, যা আমি আমার সারা জীবন ধরে করেছি। আর তরুণরাও এটিকে ভালোবাসে। সুতরাং আমি আমার সেই দলে বা আন্দোলনে ফিরে যাব যেটা আমি সারা বিশ্বে তৈরি করেছি।’

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আশ্বস্ত করছি যে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দেবে না। তরুণেরা ধর্ম নিয়ে নিরপেক্ষ। তারা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়। এই তরুণেরা পুরো বিশ্ব পরিবর্তন করতে পারে। এটা শুধু এক দেশ বা আরেকটি দেশ পরিবর্তনের বিষয় না। বাংলাদেশ যা করেছে এটি একটি উদাহরণ যে তরুণরা কত শক্তিশালী।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের উচিত তাদের প্রতি মনোযোগ দেওয়া। বিশেষ করে তরুণীদের ওপর। তারা বাংলাদেশের অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের উচিত তরুণ-তরুণীদের ওপর মনোযোগ দেওয়া যাতে তারা নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। তাদের সুযোগ এসেছে। তাদের সক্ষমতাও রয়েছে। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তিন তরুণ আমার ক্যাবিনেটে আছেন। তারা দুর্দান্ত কাজ করছে। তারা সক্ষম। এই তরুণেরা গত শতাব্দীর তরুণ নয়। তারা এই শতাব্দীর তরুণ। তারা অন্যান্যদের মতোই সক্ষম।’

বৈষম্যহীন দেশ বিনির্মাণের প্রত্যাশা

0

বিজয়ের তিপ্পান্ন বছর পেরিয়ে চুয়ান্নতে পদার্পণ করল বাংলাদেশ। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে অহংকার ও বীরত্বের গৌরবময় দিন এই ১৬ ডিসেম্বর। কারণ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনকে নির্যাতনের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে অর্জিত হয় মহান বিজয়। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল শোষণ-বৈষম্যমুক্ত ন্যায়নিষ্ঠ সমাজ ও দেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু দেশের বিশিষ্টজনরা আক্ষেপের সঙ্গে বলেছেন, স্বাধীনতার এত বছরেও আমাদের প্রত্যাশিত রাষ্ট্র গঠিত হয়নি। যে কারণে ১৯৯০ ও ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়ে জনআকাক্সক্ষার দেশ গঠন করার অঙ্গীকার করেছে এ দেশের মানুষ।

জনআকাক্সক্ষার সেই শোষণ-বৈষম্যমুক্ত গণতান্ত্রিক আগামীর বাংলাদেশ গঠন করার প্রত্যাশায় নানা আয়োজনে আজ উদযাপিত হবে বিজয় দিবস। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষ বিজয় উদযাপনের

অংশ হিসেবে আলোচনাসভা, ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি, আনন্দ-শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন। অন্যদিকে দেশের বিশিষ্টজনরা দৈনিক আমাদের সময়ের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথাও বলেছেন।

রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের ভয়ংকর অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের রূপান্তর ঘটাতে হবে উল্লেখ করে ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, আমাদের প্রত্যাশা হবে পুরনো শোষণ ও নিপীড়নমূলক শাসনব্যবস্থার অবসান করে জনগণের অভিপ্রায় ভিত্তিক জনগণের জন্য জনগণের প্রয়োজনে এবং জনগণের কর্তৃত্বে প্রজাতন্ত্র নির্মাণ করা। প্রজাতন্ত্রের নামে নির্বিচারে মানুষ হত্যা, নির্বাচনে প্রতারণা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের ভয়ংকর অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের রূপান্তর ঘটাতে হবে। নতুবা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়বে। দুনিয়া কাঁপানো অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের রাষ্ট্র বিনির্মাণের যে অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনো হীনস্বার্থে বিনষ্ট হতে দেওয়া যায় না।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী তিমির নন্দী বলেন, যে লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন ও দুই লাখ মা-বোন নির্যাতিত হয়েছেন, তা যেন বৃথা না যায়- বিজয় দিবসে এটাই প্রত্যাশা করি। আমরা যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভুলে না যাই।

৫৪ বছরেও গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়তে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, আমরা যে যুদ্ধ করলাম, এর কারণ ছিল ওই সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা পূর্ব পাকিস্তানে বৈষম্যের শিকার ছিলাম। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ৫৪ বছরেও আমরা সেই গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়তে পারিনি। সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের আগে নব্বইয়ে গণ-অভ্যুত্থানেরও অন্যতম দাবি ছিল বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ে তোলা। এবারের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার হবে আমরা একটা অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ে তোলা। সে জন্য একটি নীতিনিষ্ঠ রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বলেন, এবারের বিজয় দিবস আমাদের জন্য অনেক প্রত্যাশার এবং সম্ভাবনার। গত দেড় দশক ধরে জাতি ফ্যাসিবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট ছিল, সেখান থেকে মুক্ত হতে পেরেছি আমরা। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলÑ সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে একটা বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা। মুক্তিযুদ্ধের সেই আকাক্সক্ষার আলোকে রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ার সুযোগ এসেছে। দল-মতের পার্থক্য সত্ত্বেও যদি আমরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সমন্বয়ে যদি আগামীর বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে পারি, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে রাষ্ট্র হিসেবে সামনে আরও সম্ভাবনা তৈরি হবে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে এই অন্তর্বর্তী সরকারকে সব রাজনৈতিক দল সহযোগিতা করবে এবং আগামীর বাংলাদেশ গড়তে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।

দিনের শুরুতেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, পরে প্রধান উপদেষ্টা শ্রদ্ধা জানাবেন। বিএনপি দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনাসভার আয়োজন করেছে। তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ইসলামী আন্দোলন জমায়েত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সকালে জাতীয় পার্টির আলোচনাসভা হবে। এ ছাড়া সিপিবি, গণতন্ত্রমঞ্চ, বামজোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো নানা কর্মসূচি পালন করবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শিরোনামে সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে। এতে দেশের গুণী শিল্পীরা গান পরিবেশন করবেন।

প্রবাসীদের জন্য অনলাইন ভোটিং পদ্ধতি উপস্থাপন

বিভিন্ন দেশে বসবাস করা দেড় কোটি বাংলাদেশি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজন। অনলাইন ভোটিং পদ্ধতির মাধ্যমে এটি করা সম্ভব বলে তাঁরা কারিগরি একটি ব্যবস্থাও তুলে ধরেন। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘আগামী নির্বাচনে প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ পদ্ধতি তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, দেড় কোটি প্রবাসীকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করে একটি দেশ এগোতে পারে না। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে।

গ্লোবাল বাংলাদেশিজ অ্যালায়েন্স ফর হিউম্যান রাইটস (জিবিএএইচআর) এ সেমিনারের আয়োজন করে। জিবিএএইচআরের আহ্বায়ক শামসুল আলম লিটনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমান, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

এ এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘প্রবাসীদের অনেক প্রত্যাশার মধ্যে একটি হলো ভোটাধিকার। দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা এই কাজগুলো অনেক দিন নিজের মতো করে করতে পারিনি। এখন পরিবেশ অনুকূলে, সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব।’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিক শফিক রেহমান বলেন, ‘দূতাবাসগুলো এই দেশে কী করে, সেগুলো প্রকাশ করেন। তারা গোয়েন্দাগিরি করে কার ওপরে? তারা কি তাদের সরকারের ওপর গোয়েন্দাগিরি করে? তা নয়। তারা গোয়েন্দাগিরি করে আমার-আপনার ওপর।’

ডেটা প্রকৌশলী রূপম রাজ্জাক অনলাইন এনরোলমেন্ট, কিয়স্ক বেজড ভেরিফিকেশন, কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসাইনমেন্ট, অনলাইন ভোটিং, ফিজিক্যাল প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে ব্যাখ্যা করেন।

অনলাইন ভোটিং পদ্ধতির নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলেন ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ও সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভোটিং পদ্ধতিটার নাম সিকিউর অনলাইন ভোটিং মেথড (এসওভিএম)।’

সেমিনারে মাল্টিফ্যাক্টর ভোটার ভেরিফিকেশন, এন্ড টু এন্ড এনক্রিপটেড, ব্লকচেইন ব্যাকড ভোট লেজার মাল্টিলিঙ্গুয়াল প্রসেস, ক্লাউড সিস্টেমের সিকিউরিটি মাল্টি রিজিয়ন ডেপলয়মেন্ট ফর হাই এভেইলেভিলিটি, রোলস বেজড এক্সেস কন্ট্রোল, ডেটা এনক্রিপশনের ওপর একটি স্লাইড উপস্থাপন করা হয়।