যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শিশু হতাহত বাড়ছে, বিশ্ব নীরব!

যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শিশুদের হত্যার ঘটনা ও আহত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু বিশ্ব এই বিষয়টিতে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ভির্জিনিয়া গাম্বা। তিনি বিশেষভাবে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীরসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে গাম্বা জানান, ২০২৪ সালে যুদ্ধক্ষেত্রে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রধান দুটি রূপ হয়ে উঠেছে—স্কুল ও হাসপাতালে হামলা এবং শিশুদের হত্যা ও আহত করা।

গাম্বা আরও উল্লেখ করেন, বিমান হামলা, রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ এবং জনবহুল এলাকায় বিস্ফোরক অস্ত্র ব্যবহারের ফলে গাজা, অধিকৃত ফিলিস্তিন, ইসরায়েল, সুদান, লেবানন, মিয়ানমার এবং ইউক্রেনের মতো স্থানে মানবিক বিপর্যয় ঘটছে।

তিনি বলেন, এই শিশুদের কান্না যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সারা পৃথিবীতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ সময় বিশ্ব এই যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করছে।

গাম্বা এই পরিস্থিতিকে  ‘সম্মিলিত নৈতিকতার ওপর একটি কালো দাগ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, আমাদের অবশ্যই আরও ভালো করতে হবে।

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বজুড়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুদের রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

আজ থেকে শুরু ‘জেনারেশন বিটা’ প্রজন্ম

0

নতুন বছর শুরু হলো আজ বুধবার। এটা শুধু নতুন খ্রিষ্টীয় বছরই না, বিশ্বে বিশাল বদলও আসতে চলেছে। আজ থেকে যে শিশুরা জন্ম নিতে চলেছে, তারা একদম আলাদা হবে। ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে যেসব শিশু জন্মগ্রহণ করতে চলেছে, তারা হলো ‘জেনারেশন বিটা’। আগামী ২০২৫ থেকে ২০৩৯-এর মধ্যে যেসব শিশুর জন্ম হবে, সবাই জেন বিটা। আগামী ১৫ বছর ধরে যেসব শিশু জন্মাবে, তারাই জেন বিটা নামে পরিচিতি পাবে। ২০৩৫ সালের বিশ্ব জনসংখ্যা ১৬ শতাংশ হবে এ প্রজন্ম, এমনটাই মনে করছেন গবেষক মার্ক ম্যাকক্রিন্ডেল।

মার্ক হলেন সেই ব্যক্তি যিনি নামকরণ করেছিলেন আলফা প্রজন্মের। ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যারা জন্মেছে, তারা জেনারেশন আলফা। আবার ১৯৯৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে যাদের জন্ম, তারা জেন জেড, যাদের আমরা জেন-জি নামে চিনি। জেনারেশন বিটা প্রজন্ম প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হতে চলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর খুব বেশি নির্ভর করবে এই শিশুরা। পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য লড়াই বাড়বে। তারও সাক্ষী থাকবে এই  নতুন প্রজন্ম। বিশ্বে জনসংখ্যায় যে বদল আসবে, তাতে এ শিশুদের বড় ভূমিকা থাকবে।

কেন আলাদা জেনারেশন বিটা : দীর্ঘদিন ধরে সমাজ নিয়ে গবেষণা করছেন মার্ক ম্যাকক্রিন্ডল। তিনিই ‘জেনারেশন আলফা’ শব্দের প্রবক্তা। এবার ‘জেনারেশন বিটা’ সম্পর্কে মার্ক বলেছেন, গত ১৪ বছরে বিশ্বে যে শিশুরা জন্মগ্রহণ করেছে, তাদের চেয়ে আলাদা হবে নতুন প্রজন্ম। তাদের নানা ধরনের সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে। প্রযুক্তির সাহায্যও পাবে এই শিশুরা। এ প্রজন্মের শিশুরা সবচেয়ে বেশি দিন বাঁচবে। বিশ্বে এতদিন ধরে যত প্রজন্ম এসেছে, তার মধ্যে জেনারেশন বিটার-ই গড় আয়ু সবচেয়ে বেশি হতে চলেছে। ২০২৫ থেকে ২০৩৯ সালের মধ্যে যে শিশুরা জন্মগ্রহণ করতে চলেছে, তাদের মধ্যে অনেকেই সুস্থভাবে ২১০০ সাল পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। আগামী দিনে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি হতে চলেছে। প্রযুক্তিরও অনেক উন্নতি হবে। এরই ফলে জেনারেশন বিটার সন্তানরা অতীতের সব প্রজন্মের চেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকবে।

বিশ্বে বড় বদল আসছেজেনারেশন বিটার শিশুরা ‘জেন ওয়াই’-এর কম বয়সি এবং ‘জেন জেড’-এর বেশি বয়সি ব্যক্তিদের সন্তান। এ নতুন প্রজন্ম আগামী দিনে বিশ্বে অর্থনীতি, সংস্কৃতি, সমাজব্যবস্থায় বড় বদল আনতে চলেছে। সমাজে বদল, জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব জনসংখ্যায় বদল, দ্রুততর নগরায়ণের মতো সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করতে হবে জেনারেশন বিটাকে। কতটা আলাদা হবে বিটা বেবিদের জীবন? এই নতুন প্রজন্মের গোটা জীবনটাই প্রযুক্তি দিয়ে মোড়া হবে। ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি স্তরে ঢুকে পড়বে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। তারাই জীবন পরিচালনা করবে। – দ্য ইকোনোমিক টাইমস

‘সীমানা রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দেবে, এক ইঞ্চি মাটি হাতছাড়া করবে না’

0

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, সীমান্তে প্রতিপক্ষের কাছে কোনো অবস্থাতেই পিঠ প্রদর্শন না করার জন্য আমি তোমাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। দেশ মাতৃকার রক্ষায় তোমরা প্রয়োজনে জীবন দেবে, তবু দেশের এক ইঞ্চি মাটি হাতছাড়া হতে দেবে না।

আজ মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে অবস্থিত বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার ও কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে সুপরিচিত এ বাহিনী বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা এবং সীমান্ত ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের মহান দায়িত্ব অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সফলতার সঙ্গে পালন করে আসছে।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করতে চাই যে, তোমরা আমাদের হতাশ ও নিরাশ করবে না। জেনে রাখবা, তোমাদের দেওয়া নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাই দেশের মানুষের নির্বিঘ্ন ঘুম নিশ্চিত করবে। তোমরাই হবে আমাদের সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক।

অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ছুটির তালিকা প্রকাশ

0

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ২০২৫ সালের ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সাপ্তাহিক ছুটির বাইরে স্কুল বন্ধ থাকবে ৭৬ দিন।

গতকাল সোমবার রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মো. মিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত তালিকায় থাকা দীর্ঘ ছুটিগুলো হলো- পবিত্র রমজানের ছুটি শুরু হবে ২ মার্চ থেকে। ঈদুল ফিতর, জুমাতুল বিদা, স্বাধীনতা দিবসসহ কয়েকটি ছুটি মিলিয়ে সেসময় টানা ২৮ দিন স্কুল বন্ধ থাকবে। দীর্ঘ ছুটির পর ৮ এপ্রিল পুনরায় ক্লাস শুরু হবে।

ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশেও টানা ১৪ দিন স্কুলে ছুটি থাকবে। এ ছুটি শুরু হবে ৩ জুন, চলবে ২২ জুন পর্যন্ত। দুর্গাপূজায় এবার ৭ দিন ছুটি রাখা হয়েছে। অবশ্য এ ছুটির মধ্যে লক্ষ্মীপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজ দহমসহ বেশ কয়েকটি ছুটি পড়বে।

অন্যদিকে প্রতিবছরের মতো এবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের হাতে সংরক্ষিত তিনদিন ছুটি রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান যখন প্রয়োজনে এ ছুটিগুলো দিতে পারবেন। এর বাইরে বিভিন্ন জাতীয়, আন্তর্জাতিক দিবস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে নিয়ম মেনে ছুটি থাকবে।

 

‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে শহীদ মিনারে জড়ো হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

0

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। আয়োজন সফল করতে অনুষ্ঠান এলাকায় প্রস্তুতিও প্রায় শেষ করা হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে সরকার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক কমিটির দফায় দফায় বৈঠক ও নানা নাটকীয়তার পর গভীর রাতে সংবাদ সম্মেলন করে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) শহীদ মিনারে পূর্ব-ঘোষিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’ দেয়া হবে না বলেও জানানো হয়। তবে, মার্চ ফর ইউনিটি কর্মসূচি যোগ দিতে সারাদেশের ছাত্র জনতা ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের অনুরোধ করা হয়।

গভীর রাতে কর্মসূচি ঘোষণার কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও জেলাগুলো থেকে মানুষজন কিছুটা দেরিতে রওনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

মঙ্গলবার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নাটোর, নওগা, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি নিয়ে শহীদ মিনার এলাকায় আসতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। তাদের কোনো কোনো দলকে ঘটনাস্থলেই অবস্থান নিতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা কেউ কেউ আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলেও তাৎক্ষণিক ভাবে অবস্থান নিয়েছেন।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রস্তুতি শহীদ মিনার এলাকা

এর আগে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়ার পর মধ্যরাত থেকেই শহীদ মিনার এলাকায় পুরোপুরি প্রস্তুতি নিতে শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। সোমবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয় এই কর্মসূচিতে সারাদেশের দেড় থেকে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের সমাগম হবে। যে কারণে বিশাল এ আয়োজনের জন্য সাউন্ড সিস্টেম প্রস্তুতির কাজ শুরু হয় সোমবার সন্ধ্যা থেকেই।

মঙ্গলবার সকাল থেকে শহীদ মিনার এলাকায় চুড়ান্তভাবে সাউন্ড চেকিং, ক্যামেরা স্থাপন, ডিজিটাল মনিটর স্থাপনের কাজ চুড়ান্ত করতে দেখা গেছে। সকালের পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে কিছু প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হবে। যে কারণে বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দাও স্থাপন করা হয়েছে। সেগুলোর প্রস্ততিও নিতে দেখা যায় আয়োজক শিক্ষার্থীদের।

মঙ্গলবার ভোরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকেএকটি ভিডিও আপলোড করা হয়। শহীদ মিনারের কর্মসূচি ঘিরে শিক্ষার্থীদের ব্যানার ফেস্টুন আর পতাকা নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে দেখা যায়। ‘মুজিববাদ নিপাত যাক’, ‘দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা-ঢাক’, ‘বিপ্লবীদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না’, আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ এমন নানা প্লাকার্ড তৈরি করতেও দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।

জড়ো হতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা

গত রাতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে রওনা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। কোনো কোনো শিক্ষার্থীরা আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংলগ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলগুলোতে গিয়েছেন। সকাল নয়টার মধ্যে বেশিরভাগ বাসই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করে।

শুধুমাত্র যেসব বাসে আহত কিংবা অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আসবে সেসব বাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থাকতে পারবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, বাকি বাসগুলো থাকবে শেরে বাংলা নগরের পুরাতন বাণিজ্য মেলা এলাকায়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য সচিব তৌহিদ হোসেন সিয়াম জানিয়েছেন, তার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুপুর ১২টায় রওনা দেবে বেশ কয়েকটি বাস। এছাড়া ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে সকালেই এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসবেন শিক্ষার্থীরা।

ডিএমপির নির্দেশনা

শহীদ মিনারকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যানবাহনগুলোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ ডিএমপি। সোমবার সন্ধ্যায় ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান তিনটি নির্দেশনার কথা জানান।

১. গাবতলী হয়ে ঢাকা মহানগরে প্রবেশ করা যানবাহনগুলো মানিক মিয়া এভিনিউ ও আগারগাঁও এলাকার পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে পার্কিং করবে।

২. সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী দিয়ে প্রবেশ করা যানবাহনগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় পার্কিং করা যাবে।

৩. আব্দুল্লাহপুর হয়ে প্রবেশ করা যানবাহনগুলো ৩০০ ফিট এলাকায় পার্কিং করবে।

ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ঢাকা মহানগর এলাকা যানজটমুক্ত রাখতে এবং সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে শহীদ মিনারের অনুষ্ঠানে আসা সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

যেভাবেমার্চ ফর ইউনিটিঘোষণা

 শনিবার বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ দেয়ার কর্মসূচির আভাস দেন। পরদিন রবিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেন, ৩১শে ডিসেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘দেশে মুজিববাদী সংবিধানের কবর রচিত হবে’, এবং ‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে অপ্রাসঙ্গিক’ হয়ে পড়বে বাংলাদেশে। বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এর এক পর্যায়ে রবিবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের তরফ থেকে বলা হয়, ৩১শে ডিসেম্বরের কর্মসূচি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘প্রাইভেট ইনিশিয়েটিভ’, যা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

পরে সোমবার রাতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। এরপর শহীদ মিনারের কর্মসূচি বহাল রাখা হবে কী-না তা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। দফায় দফায় বৈঠক আর সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা আসে রাতে।

রাত প্রায় পৌনে দুইটায় জানানো হয়, মঙ্গলবার পূর্বঘোষিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’ দেবে না বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এর পরিবর্তে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

মধ্যরাতের ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সদস্য সচিব আরিফ সোহেল, সাবেক সমন্বয়ক সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ের শুরুতে সারজিস আলম বলেন, আমাদের ‘প্রক্লেমেশন অফ জুলাই রেভ্যুলেশনে’র ডিমান্ডকে ধারণ করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ একটি জায়গায় এনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ঘোষণাপত্রটি আসা উচিত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়টি অনুভব করেছে। এটি একটি লিখিত ডকুমেন্ট হিসেবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা উচিত। রাষ্ট্র যখন দায়িত্ব নিয়ে নেয় তখন আমরা এটিকে সাধুবাদ জানাই।

এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব আরিফ সোহেল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, এই ঘোষণাপত্র প্রণয়নের ঐতিহাসিক দায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দানকারী সংগঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর বর্তায়। নানা প্রতিকূতলা সত্ত্বেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এই ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র প্রণয়ন ও ঘোষণার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, আমাদের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের মধ্যে স্বতস্ফূর্ত ইতিবাচক সাড়া সঞ্চারিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র তৈরি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩১শে ডিসেম্বর মঙ্গলবার বেলা তিনটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো।

২০ জানুয়ারি থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু

আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আলী নেওয়াজ বলেন, আমরা আশা করছি ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে এ কার্যক্রম শুরু করতে পারব। ইতোমধ্যে আমরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ৫ জানুয়ারির মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ করতে পারব। যারা এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন তারা মাঠের যে জনবল বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

তিনি আরও বলেন, ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এটি আমরা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেব। জনগণ এটা দেখার সুযোগ পাবেন। সেখান থেকে যদি কেউ বাদ পড়ে থাকেন তাহলে তাদের দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির একটা ব্যবস্থা করা হবে। দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির পর ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ কাজ আমরা প্রতি বছরই করে থাকি। এটাকে আমরা চব্বিশের হালনাগাদ ও পঁচিশের ভোটার তালিকা হিসেবে গণ্য করব।

আগাম এক বছরের তথ্য সংগ্রহ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শুধু পঁচিশ সালের তথ্য সংগ্রহ করব না। একইসঙ্গে ছাব্বিশ সালের ১ জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ হবে তাদের তথ্যও সংগ্রহ করব। তাদের আমরা ২০২৬ সালের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করব। তবে তারা পঁচিশ সালের কোনো নির্বাচনে ভোটার হিসেবে গণ্য হবেন না।

দেশের সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা যখন বাড়ি বাড়ি যাবেন তখন তাদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন।

রমজানে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ

0

আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য ও পণ্য সরবরাহে শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চারটি বিভাগের ৩১টি জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হয়ে তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেন।

ভিডিও কনফারেন্সে তিনি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, কৃষি পণ্য সংরক্ষণ, সার সরবরাহ এবং শিল্প এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কর্মকর্তারা এই ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন। কনফারেন্সে ১৯ জন বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ পুলিশ প্রধান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তা বক্তব্য রাখেন।

কনফারেন্সর সমাপনী বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও মতামত আগামীদিনে সরকারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। এটা আমার জন্য প্রথম সুযোগ ছিল আপনাদের সঙ্গে কথা বলার। অনেক কিছু শিখলাম, অনেক বিষয়ে নিজেকে অবহিত করলাম। এটা আমাদের কাজে সহায়ক হবে।’

তিনি বলেন, ‘সামনেই রমজান আসছে , রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার মূল্যের দিকে আপনারা বিশেষভাবে নজর রাখবেন। শুধু বাজার মূল্য নয়, জিনিসপত্র আনা নেওয়া আরও কীভাবে সহজ করা যায় সে বিষয়েও কাজ করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার যে ১৫টি কমিশন গঠন করেছে তার মধ্যে বেশ কয়েকটি কমিশন খুব শীঘ্রই তাদের রিপোর্ট প্রদান করবে। এসব প্রতিবেদনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে, নাগরিকদের সঙ্গেও আলোচনা হবে। এর মধ্যে দিয়ে দেশে নির্বাচনের একটি আবহও তৈরি হবে।’

রিপোর্টের প্রতিক্রিয়া কি হবে সে বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা, যাতে করে শান্তিপূর্ণভাবে সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করা যায়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ। তিনি জানান, শীঘ্রই প্রধান উপদেষ্টা বাকি চার বিভাগের ৩৩টি জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে একই ধরনের ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেবেন।

পুলিশের মধ্যে অপরাধীদের বিচার অবশ্যই নিশ্চিত করা হবে : প্রধান উপদেষ্টা

0

পুলিশের মধ্যে যারা অপরাধী তাদের অবশ্যই বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ’২৪ এর অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেই কাজ করতে হবে পুলিশকে।

সোমবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় ঢাকাসহ সব বিভাগের কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ কার্যালয় থেকে অংশ নিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রম সফল করতে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সবার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তাই মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের মনোযোগী হতে হবে। মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনই আসল সরকার।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, পুলিশের যারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বিতরণের নির্দেশনা দেন তিনি।

ইসলামে সমাজসেবা ও সমাজকল্যাণ

0

সমাজসেবা বা সামাজিক কার্যক্রম একটি কল্যাণমূলক কাজ। দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সমাজসেবা সর্বজন সমর্থিত  ও স্বীকৃত একটি মহত্ কর্ম হিসেবে পরিগণিত। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে সমাজসেবা ইবাদত বলে গণ্য। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী ব্যক্তি ও তার পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে সহায়তা দানের লক্ষে গৃহীত ও সংগঠিত কাজের সমষ্টিকে সমাজসেবা বলা হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও সমস্যা প্রতিরোধকল্পে গৃহীত ও সংগঠিত যাবতীয় কর্মকাণ্ড সমাজসেবার অর্ন্তভুক্ত। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে সমাজসেবার পরিধি আরো ব্যাপক। দরিদ্র ও নিরীহ মানুষকে সাহায্য করা, ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্তকে খাদ্য ও পানীয় দান, বিধবাকে সাহায্য করা, অসুস্থ বা অসমর্থ মানুষের সেবা করা, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দান, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দান, অসচ্ছ মানুষের দারিদ্র বিমোচন, মানুষের সুবিধার জন্য রাস্তা-ঘাট ও সেতু নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশের উন্নয়ন, সস্ত্রাস নির্মূল, সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা ইত্যাদি প্রতিটি কাজ সমাজসেবার অর্ন্তগত।  মহান আল্লাহ এসব কর্মকে ঈমানদারদের জন্য একান্ত করণীয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সত্কর্ম ও আল্লাহ ভীতির কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমা লঙ্ঘের কাজে পরস্পরকে সহযোগীতা কর না।’ (সূরা মায়েদা : ২)

মানবজাতির পথপ্রদর্শক মুহাম্মদ (সা.) নবুয়তের আগে ও পরে এ মহান কাজে তত্পর ছিলেন। মহানবী (সা)-এর বয়স তখন ২৫ বছর। তিনি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করা, সাহায্যপ্রার্থীকে সহযোগীতা করা, মজলুমকে সাহায্য করা, জুলুমকারীকে শায়েস্তা করা এবং দেশে শান্তি বজায় রাখার জন্য গঠন করেন কল্যণসংস্থা ‘হিলফুল ফুজুল।’ ৪০ বছর বয়সে মহানবী (সা) হেরা গুহায় নবুয়ত লাভ করলেন। এ সময় তিনি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বাড়িতে আসেন এবং স্ত্রী খাদিজা (রা)-এর কাছে তাঁর জীবন নিয়ে শঙ্কার কথা জানালেন। খাদিজা (রা) স্বামীকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ‘আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে কখনোই অপমানিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করেন, অসহায়-দুর্বলের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সাহায্য করেন। মেহমানের সমাদর করেন এবং দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন।’

খাদিজা (রা)-এর এই কথার মাধ্যমে মহানবী (সা)-এর সেবাকর্ম সম্পর্কে জানা যায়, যা তিনি প্রতিনিয়ত সম্পন্ন করতেন।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মানবগোষ্ঠীর সেবার ওপরও জোর তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। কোরআনের ভাষ্য হচ্ছে, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে ও কোনো কিছুকে তাঁর সঙ্গে শরিক করবে না এবং মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করবে। নিঃসন্দেহে আল্লাগ দাম্ভিক ও অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না, যারা কৃপণতা করে, মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন, তা গোপন করে।’ (সুরা আন-নিসা, হাদিস : ৩৬-৩৭)

মহানবী (সা) সামাজিক সেবাকে জেহাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি একদা বলেন, ‘যারা বিধবা এবং গরীবের উন্নতির জন্য কাজ করে তারাই যেন আল্লাহর পথে জেহাদের মতোই কাজ করল।’ তিনি বলেন, ‘তোমরা দান কর, সাহায্য কর এবং নিজেদের আগুন থেকে রক্ষা কর, সে দিন পর্যন্ত যখন তোমরা সামান্যতম সময়ও পাও।’

মহানবী (সা.) তাঁর অনুসারীদের বিভিন্ন সময় দান ও বদান্যতা সমপর্কে উত্সাহিত করতেন। তিনি আরো বলেছেন, ‘যে কেউ কোনো ঈমানদারের দুঃখ দূর করবে আল্লাহ বিচারের দিন তার একটি কষ্ট লাঘব করে দেবেন। যে কেউ কোন গরীব বা অভাবি মানুষের অভাব দূর করবে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার অনেক সমস্যা দূর করে দেবেন। যে কেউ কোনো মুসলমানকে আশ্রয় দেবে আল্লাহ এখানে ও পরপারে তাকে আশ্রয় দেবেন। যে তার ভাইকে সাহায্য করে আল্লাহও তাকে সাহায্য করবেন।’ (সহিহ বুখারি)

সমাজসেবামূলক কাজ পরকালে অনেক মূল্যবান আমল হিসেবে বিবেচিত হবে বলে রাসুল (সা.) মন্তব্য করেছেন। তিনি সাহাবিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি কি তোমাদের রোজা, নামাজ ও সদকার চেয়ে মর্যাদাবান আমলের সংবাদ দেবো?’ সাহাবিরা বলেন, হ্যাঁ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মানুষের মধ্যে সমঝোতা করে দেওয়া। কেননা, মানুষের মধ্যকার বিশৃঙ্খলা ধ্বংসাত্মক।’ (মুসনাদে আহমদ : ২৭,৫০৮)
সমাজসেবার অন্যতম একটি কাজ রোগীর খোঁজ-খবর নেওয়া। মহানবী (সা.) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি কোনো রোগীকে দেখতে যায়, আসমানে তখন একজন প্রার্থনাকারী প্রার্থনা করতে থাকে, তুমি সুখী হও, তোমার পথচলা বরকতময় হোক, তুমি জান্নাতে স্থান লাভ কর।’ (মুসনাদে আহমদ : ১৪১২)

জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রকাশ হবে ৩১ ডিসেম্বর

0

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ৩১ ডিসেম্বরজুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রপ্রকাশ করবে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ওইদিন বেলা ৩টায় ঘোষণাপত্রটি পাঠের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে গতকাল রাতে জাতীয় নাগরিক কমিটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক নেতা বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ৩১ ডিসেম্বর ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করবে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ওইদিন বেলা ৩টায় ঘোষণাপত্রটি পাঠের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে গতকাল রাতে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক নেতা বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেছেন।

নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘৩১ ডিসেম্বর “প্রোক্লেমেশন অব জুলাই রেভল্যুশন” ঘোষণা করা হবে। এটি গণ-অভ্যুত্থানের একটি দালিলিক প্রমাণ। কোটা আন্দোলন থেকে কীভাবে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, কেন মানুষ জীবন দিয়েছে সবকিছু উঠে আসবে তাতে। এছাড়া প্রোক্লেমেশন অব রিপাবলিকও ঘোষণা করা হবে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য ও সমর্থকরা গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই ৩১ ডিসেম্বরের এ আয়োজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা শুরু করেছেন। ‘নাউ অর নেভার (এখন নয়তো কখনো নয়)’ স্লোগান লিখে পোস্ট দিচ্ছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী অনেকেই।

এর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া লিখেছেন, ‘৩১ ডিসেম্বর, শহীদ মিনার। ৩৬ জুলাই এসে মিলিত হোক ৩১ ডিসেম্বরে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘কমরেডস, ৩১ ডিসেম্বর! নাউ অর নেভার।’ অপর এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এটা মুজিববাদের কবরের ঘোষণা।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম বলেন, ‘জুলাইতে আমরা খুনি হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আমাদের আন্দোলনে সে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে পতিত স্বৈরাচার এ আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। সুতরাং এ আন্দোলনকে সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে লেজিটিমেসি দিতে প্রোক্লেমেশনের দরকার, যাতে পতিত স্বৈরাচার চব্বিশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ না পায়। এছাড়া রাজনৈতিক পালাবদলে চব্বিশকে অস্বীকার করে বিপ্লবীদের যাতে হয়রানি না করতে পারে সেজন্যও প্রোক্লেমেশন জরুরি।’