গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে চলছে ধর্মীয় বয়ান

0

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে জিকির আসকার, ইবাদত বন্দেগি ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে ইজতেমার দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত করছেন মুসল্লিরা। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ফজরের নামাজের পর বয়ান করেন পাকিস্তানের মাওলানা খোরশেদ আলম। বাংলা তরজমা করেন বালাদেশের মাওলানা উবায়দুর রহমান। আসরের পর অনুষ্ঠিত হবে যৌতুকবিহীন গণবিয়ে।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) ফজরের পর বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমান।

আখেরি মোনাজাতের আগে নসিহতমূলক বক্তব্য দেবেন মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা সাহেব। এরপর অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বাংলাদেশ মাওলানা জোবায়ের। ইজতেমায় অংশ নিতে বিভিন্ন দেশের বিদেশি মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে গিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। তারা তাদের জন্য নির্ধারিত তাঁবুতে অবস্থান নিয়ে ইবাদত, বন্দেগিতে দিন পার করছেন।

এদিকে, ইজতেমায় আগত চার মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বার্ধক্যজনিত ও অসুস্থ হয়ে তারা মারা যান বলে জানিয়েছেন ইজতেমার আয়োজকরা।

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়লো এক টাকা

দেশে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে এক টাকা বাড়ানো হয়েছে।

শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যা আগামীকাল শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতিমাসে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে প্রাইসিং ফর্মুলা অনুসরণ করা হয়। এ হিসেবে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ১০৪ টাকা হতে এক টাকা বৃদ্ধি করে ১০৫ টাকা। কেরোসিন ১০৪ টাকা হতে এক টাকা বৃদ্ধি করে ১০৫ টাকা করা হয়েছে। অপরদিকে, অকটেনের দাম ১২৫ টাকা থেকে ১২৬ টাকা ও পেট্রোলের দাম ১২১ টাকা থেকে ১২২ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বইমেলা শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা

0

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৫’। এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে সর্বোচ্চসংখ্যক ৭০৮টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে বিকেল ৩টায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. সরকার আমিন জানান, গতবারের মতোই অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে বইমেলার বিন্যাস। তবে এবার কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে মোট চারটি প্রবেশ ও বাহির পথ থাকবে। খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে। নারী-পুরুষের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ অন্যান্য পরিষেবা এবারও থাকছে। এ ছাড়া শিশুচত্বর মন্দির গেটে প্রবেশের ঠিক ডান দিকে বড় পরিসরে রাখা হয়েছে, যেন শিশুরা অবাধে বিচরণ করতে পারে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত বই সহজে সংগ্রহ করতে পারে।

বইমেলার সময়সূচি: আজ থেকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বইমেলা। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে ৮ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ছাড়া প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মেলা শুরু হবে সকাল ৮টায়। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

১৯ বছর পর দোহারে রুকন সম্মেলন

একটি আদর্শিক সমাজ গঠনে ইসলামী জীবন ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। আগামী দিনগুলোতে মানুষের নিকট ইসলামের সুমহান আদর্শ পৌছে দেওয়ার কাজ আঞ্জাম দিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের পর দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর প্রকাশ্যে রুকন সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দোহার উপজেলা শাখা। আজ শুক্রবার সকালে স্থানীয় মিলনায়তনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

দোহার উপজেলার সেক্রেটারী নুর-এ- আলম ঝিলুর সঞ্চলনায় ও দোহার উপজেলার আমির মহিউদ্দিন কামাল হোসেন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন বলেন, বিগত দিনে সৈরাচারী সরকার আমাদের ইসলামের দাওয়াত দিতে নানা প্রকার বাধা সৃষ্টি করেছে। নানা মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের দায়িত্বশীলদের সাথে অন্যায় অত্যাচার করেছে। এখন সময় এসেছে আমাদের দ্বীনী কাজ আরো জোরদার করতে। ছাত্রদের আন্দোলনের মাধ্যমেই আমাদের এ সময় এসেছে। সাধারণ মানুষকে নিয়ে ভাবতে হবে। আল্লাহ দ্বিন কায়েম করার দায়িত্ব সকল মুসলমানদের। আমাদের ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হবে। ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বিভিন্ন জাতিকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপরাধের ট্যাগ দেওয়া হয়েছে, তেমনি আমাদেরকেও রাজাকার বলা হয়েছে।

এ সময় তিনি সরকারের নিকট দাবি করেন , যে সকল ছাত্র-জনতা তাদের বুকের রক্ত দিয়ে দেশকে সৈরাচার মুক্ত করেছেন , তাঁদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদ হিসেবে ঘোষনা দেওয়া হোক।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিশেষ অতিথি ঢাকা জেলা সহ-কারী সেক্রেটারি এ বি এম কামাল হোসেন, ঢাকা জেলা কর্মপরিষদের আব্দুল কাদের, দোহার উপজেলার জামায়েত ইসলামি প্রতিষ্ঠা সভাপতি শফিউর রহমান, দোহার উপজেলা সেক্রেটারি নায়েবে আমীর মাওলানা দলিলুর রহমান, দোহার পৌরসভার সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনসহ দোহার উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নের আমীরগন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দোহার-নবাবগঞ্জ ছাত্র কল্যাণের কমিটি প্রকাশ

৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দোহার-নবাবগঞ্জ ছাত্রকল্যাণ পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি প্রকাশ করা হয়। প্রথমবারের মতো ছাত্রছাত্রীদের ভোটে কমিটি নির্বাচন করা হয়েছে।

নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয় মোঃ সাব্বির হোসেন
সহ-সভাপতি জর্জ জোসেফ রোজারিও প্লাবন, ইসরাত জাহান এশা, আবিদা সুলতানা, রায়ান হাসান সাকিব, মোঃ শাহাদাত, মোহাম্মদ শাকিল হোসেন,শেখ ইমু, উম্মে সালমা, তানজিনা আক্তার,মিলান বেপারী, নীলা আক্তার।

সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয় আল নূর খান।
এছাড়া যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হয় সপ্লব খান, সুমাইয়া মেহরিন, নিপা বিনতে ইউনুস, জেরিন নেহা, তাসমিয়া তাহসিন।

সাংগঠনিক সম্পাদক হয় শক্তি বিশ্বাস, তামিম ইকবাল, নাজলীন ইসলাম আশা, ইসরাত জাহান ইসা, আমেনা আক্তার,আফ্রিন সুলতানা।

কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয় রুনা ইসলাম।
প্রচার সম্পাদক সিয়াম হোসেন।

এদের মধ্যে সরাসরি স্টুডেন্টের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক কোষাধ্যক্ষ সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রচার সম্পাদক।
পদ পেয়েছেন সর্বমোট ৪৯ জন ছাত্রছাত্রী।

সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সাব্বির হোসেন বলেন,উক্ত কমিটিতে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। আশা করছি সবার পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে কমিটির সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হবো। দোহার নবাবগঞ্জ থেকে আগত শিক্ষার্থীদের সব সময় পাশে থাকব। সবার কাছে দোয়াপ্রার্থী।

সাধারণ সম্পাদক নুর খান বলেন, আমাদের দোহার নবাবগঞ্জের ছাত্রছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সু্যোগ করে দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। নিজস্ব পরিবহন করে খুব সহজে ঢাকার স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় যেতে পারবে তারা। বাড়ি থেকে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াতের অনুভূতি অন্যরকম। তাই আমি চাই যারা এইচএসসি পাশ করেছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় তাদের জন্য একটি বড় সুযোগ।

প্রতিবছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বিভিন্ন আয়োজন করে আসছে এই ছাত্রকল্যাণ।

দোহারে আরাফাত রহমান কোকো ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত 

মাহমুদুল হাসান সুমন, দোহার প্রতিনিধি :ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার জয়পাড়া কলেজ প্রাংগনে  জয়পাড়া যুব সংঘের উদ্যোগে শুক্রবার  আরাফাত রহমান কোকো ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। উক্ত খেলায় উপস্থিত থেকে খেলা উদ্বোধন ঘোষণা করেন পৌরসভার বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আবু কাউছার রিপন। উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মো:জুলহাস উদ্দিন,সাংবাদিক ও প্রভাষক  মাহমুদুল হাসান সুমন,ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান ঠান্ডু,শিপন খান,ব্যবসায়ী মো:জহিরুল ইসলাম প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।  আয়োজকদের পক্ষে মাসুদ রানা জনি ও মো:রফিক জানান,এই ফুটবল টুর্নামেন্টের  আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত।অনেক বছর ধরে আমরা আমাদের ক্লাবের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিলাম।এই খেলার মধ্য দিয়ে তরুনরা তাদের সময়ের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে পারবে বলে মনে করি।উক্ত খেলা শুরুর মধ্য দিয়ে এলাকায় উৎসাহ, উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অমর একুশে বইমেলা-২০২৫ চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

0

হাতে বাকি ১ দিন, কাল শুক্রবার পেরোলেই পর্দা উঠবে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা ২০২৫ এর। তাই তো শেষ সময়ে নির্মাণশ্রমিক থেকে আয়োজক কমিটি কারোরই দম ফেলার ফুরসতটুকু যেন নেই। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও একাডেমি প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, জোরেশোরে চলছে প্রস্তুতি। অনেক স্টল তৈরির কাজ শেষে হয়েছে। আবার অনেকগুলোর কাজ সামান্য বাকি রয়েছে। কেউ স্টল সাজসজ্জার কাজ করছে। আবার কেউবা অবকাঠামো নির্মাণের কাজসহ হরেক রকমের কাজে ব্যস্ত। কাজে ভিন্নতা থাকলেও সকলের লক্ষ্য শুক্রবারের মধ্যে মেলার সব কাজ শেষ করা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: ‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অভ্যুত্থান পরবর্তী এবারের বইমেলা পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের শহিদদের নামে হবে সেই ভাগগুলো। এ ছাড়া মেলার বিশেষ আকর্ষণ থাকছে ‘জুলাই চত্বর’ যেখানে গণ-অভ্যুত্থানের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হবে। সেই সঙ্গে মেলার রং হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে লাল, কালো ও সাদা। যেখানে লাল বিপ্লবের প্রতীক, কালো শোকের এবং সাদা আশার। নতুন বাংলাদেশের নতুন আঙ্গিকের এবারের মেলা গত বছরের তুলনায় আকার বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। এবার ৫১টি প্রতিষ্ঠান বেড়ে ৬৯৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এবারের মেলায় বাংলা একাডেমিতে ১৩৯ ইউনিটে ৯২টি প্রতিষ্ঠান এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৯২০ ইউনিটে ৬০১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। যার ভেতরে প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৩৫টি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বইমেলা উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বইমেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ ছাড়া, একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহর অর্থাৎ সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বইমেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলার আয়োজনে থাকবে শিশুদের আয়োজন ‘শিশু প্রহর।’ বিগত বছরগুলোর মেলার মতো এবারও বাংলা একাডেমিসহ অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে।

অমর একুশে বইমেলা-২০২৫ পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব সরকার আমিন  বলেন, ‘একটি উৎকৃষ্ট ও আকর্ষণীয় বইমেলা উপহার দিতে প্রস্তুত রয়েছি এবং সেই লক্ষেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) এবারের বইমেলা ঘিরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, সেখানে মেলা সম্পর্কিত আরও বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।’

পুলিশি বর্বরতায় সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল: এইচআরডব্লিউ

0

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশি বর্বরতায় সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক রিপোর্টে এই তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া গত বছরের ওই আন্দোলনের সময় পুলিশের ভূমিকা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চেয়ে রাজনৈতিক নেতারা বেশি নির্ধারণ করে দিতেন বলেও রিপোর্টে উঠে এসেছে।

এমনকি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন ধরে দায়মুক্তির ব্যবস্থা থেকে উপকৃত হওয়া শক্তিশালী এবং রাজনৈতিক নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে অন্তর্বর্তী সরকার লড়াই করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া ডিরেক্টর ইলেইন পিয়ারসন বলেছেন, “গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে প্রায় ১০০০ বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এটি বাংলাদেশে অধিকার-সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সুযোগের সূচনা করেছে। কঠিন এই লড়াইয়ে জয়ের মাধ্যমে অর্জন করা সব অগ্রগতি হারিয়ে যেতে পারে যদি অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত এবং কাঠামোগত সংস্কার না করে। কাঠামোগত এমন সংস্কার করতে হবে যা ভবিষ্যত সরকারের যেকোনও দমন-পীড়নকে প্রতিরোধ করতে পারে।”

“আফটার দ্য মনসুন রেভোলিউশন: এ রোডম্যাপ টু লাস্টিং সিকিউরিটি সেক্টর রিফর্ম ইন বাংলাদেশ” শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে যে— অতীতে কীভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নিরাপত্তা বাহিনী সবসময় রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এইচআরডব্লিউকে বলেছেন, তারা বিশ্বাস করেন— জুলাই-আগস্টের গণবিদ্রোহের সময় অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকেই এসেছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করি, অস্থিরতার সময় পুলিশের ভূমিকা মাঠপর্যায়ের অফিসারদের চেয়ে রাজনৈতিক নেতারাই বেশি নির্ধারণ করে দিতেন।”

অন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তা এইচআরডব্লিউকে বলেছেন, তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সিনিয়র অফিসারদের লাইভ সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে দেখেছেন এবং প্রতিবাদকারীদের গুলি করার জন্য অফিসারদের সরাসরি এমনভাবে নির্দেশ দিতে দেখেছেন যেন “তারা কাউকে ভিডিও গেমে গুলি করার নির্দেশ দিচ্ছেন।”

অন্য একজন অফিসার বলেছেন, “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদেরকে কঠোর হতে এবং ‘নৈরাজ্য ছড়ানো কোনও অপরাধী’কে রেহাই না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারা স্পষ্টভাবে ‘গুলি করো’ শব্দটি ব্যবহার করেননি, তবে তাদের নির্দেশাবলী স্পষ্ট ছিল: সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করুন, আপনি যা প্রয়োজন মনে করেন তা করুন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিন।”

তিনি এইচআরডব্লিউকে বলেন, আন্দোলনের সময়কার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানকে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন, যিনি জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে তিনি বুঝতে পেরেছেন।

অন্য একজন বলেছেন, “আমি অফিসারদের আন্দোলনকারীদের অত্যাবশ্যক ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখেছি… অনেক ক্ষেত্রে, অফিসারদের জীবন বিপদে না থাকলেও আমি তাদেরকে তাজা গোলাবারুদ ব্যবহার ও গুলিবর্ষণ করতে দেখেছি।”

এদিকে বলপূর্বক গুমের সাথে জড়িত কর্মকর্তারা এইচআরডব্লিউকে আরও বলেছেন, শেখ হাসিনা বা তার সরকারের সিনিয়র সদস্যরা এই ধরনের অসংলগ্ন আটকের বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং কিছু ক্ষেত্রে হাসিনা সরাসরি বলপূর্বক গুম বা হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা এইচআরডব্লিউকে বলেছেন, আবদুল্লাহিল আমান আজমির আটক এবং গোপন আটককেন্দ্রে থাকা অবস্থায় তার স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার বিষয়ে হাসিনা সরাসরি অবগত ছিলেন। তিনি বলেন, আজমি সাবেক সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তার সহকর্মী হওয়ায় তিনি শেখ হাসিনার কাছে তাকে (আজমিকে) মুক্তি দেওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবার তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন হাসিনা।

তিনি এইচআরডব্লিউর কাছে দাবি করেছেন, হাসিনা এমনকি আজমিকে হত্যা করার পরামর্শও দিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমি তা করিনি। কিন্তু আমি তার মুক্তির বিষয়ে (হাসিনার কাছে) আবেদন করা বন্ধ করে দিয়েছিলাম।”

অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমার ১০-১১ বছরের চাকরি জীবনে, আমি র‌্যাবের হাতে গুম ও হত্যার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। এগুলো বাস্তব। র‌্যাব যে গুম ও ক্রসফায়ারে জড়িত তা পুলিশ সদর দপ্তরের বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বা বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া অসম্ভব।”

এইচআরডব্লিউ মীর আহমেদ বিন কাসেমের (আরমান) সাক্ষাৎকার নিয়েছে যাকে ২০১৬ সাল থেকে জোরপূর্বক নিখোঁজ অবস্থায় রাখা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, তিনি এমন একজন অফিসারের মুখোমুখি হয়েছিলেন যিনি তাকে বলেছিলেন— যখন তিনি তার ইউনিটে যোগদান করেন তখন তাকে জানানো হয়েছিল, আরমান, আজমি এবং হুমাম কাদের চৌধুরীকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে এবং বন্দি করে রাখা হয়েছে। এবং তাদের মুক্তির যে কোনও সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনাকেই নিতে হবে।

আজমি, হুম্মাম এবং আরমান সকলেই বিশিষ্ট বিরোধী রাজনীতিবিদদের সন্তান বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, “এছাড়াও নিরাপত্তা বাহিনী জোপূর্বক গুমের বিষয়ে নতুন গঠিত তদন্ত কমিশনের তদন্তে বাধা দিচ্ছে বলে উদ্বেগজনক ইঙ্গিত রয়েছে। কমিশনের সদস্যরা বলেছেন, তারা বেআইনিভাবে আটকের আটটি নতুন স্থান শনাক্ত করেছেন। গোপন এই আটকস্থানের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রমাণাদি নিরাপত্তা বাহিনী ধ্বংস করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে বলেও উদ্বেগ রয়েছে।”

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছে। এইচআরডব্লিউ জুলাই এবং আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে দায়ের করা আটটি ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর) পর্যালোচনা করেছে, যার মধ্যে হাসিনা ও আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসহ ২৯৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছেন ৬০০ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থায় পদ্ধতিগত বাধার কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রতিশোধের বিরক্তিকর পরিচিত প্যাটার্ন পুনরায় আবির্ভূত হয়েছে, আর এবার সেটি আওয়ামী লীগ সমর্থকদের লক্ষ্য করে “

“উদাহরণস্বরূপ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে প্রথম দুই মাসে হত্যা, দুর্নীতি বা অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে কয়েক হাজার লোকের বিরুদ্ধে, প্রধানত আওয়ামী লীগের সদস্যদের বিরুদ্ধে এক হাজারের বেশি পুলিশ মামলা দায়ের করা হয়েছে,” প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এদে আরও বলা হয়েছে, “আওয়ামী লীগের চার শতাধিক মন্ত্রী ও নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় অভিযোগকারীরা জানতেন না কাদের আসামি করা হচ্ছে।”

আটটি মামলার পাঁচজন বাদী এইচআরডব্লিউকে বলেছেন, তারা মামলা দায়ের করার সময় আসামি হিসাবে কাকে নাম দেওয়া হয়েছিল তা তারা জানেন না। তারা বলেন, পুলিশ বা স্থানীয় রাজনীতিবিদরা তাদের কাগজপত্রে সই করতে বলেছেন।

দুই বাদী এইচআরডব্লিউকে বলেছেন, আওয়ামী লীগের বিরোধিতাকারী স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা তাদের পুলিশ রিপোর্টে স্বাক্ষর করতে বলেছিলেন, যদিও তারা নিশ্চিত নন যে তারা কার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিপুল সংখ্যক “অজ্ঞাত” লোকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করে চলেছে। এর মাধ্যমে কার্যত পুলিশকে প্রায় যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে এবং বারবার আটক ব্যক্তিদের পুনঃগ্রেপ্তার করার ক্ষমতা দেয় যদিও তারা কোনও মামলায় আসামি না হযেও থাকে।”

এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, মনসুন বা বর্ষা বিপ্লবের সময় হাসিনা সরকারকে নিজেদের রিপোর্টিংয়ে মাধ্যমে সমর্থন করার জন্য পুলিশ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনছে। গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত, কর্তৃপক্ষ বর্ষা বিপ্লবের বিষয়ে প্রতিবেদন করার জন্য কমপক্ষে ১৪০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করেছে। এইচআরডব্লিউ আমজাদ হোসেন এবং নিজাম উদ্দিন নামে দু’জন স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর সাথেও কথা বলেছে, যারা ছাত্র বিক্ষোভের সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন এবং ছাত্র বিক্ষোভকারী ওয়াসিম আকরামকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।

আমজাদ হোসেন এইচআরডব্লিউকে বলেছেন, “সেদিন (১৬ জুলাই) আমরা কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওয়াসিমের মরদেহসহ আরও তিনজনের লাশ নিয়ে সাহায্য করছিলাম যারা বিক্ষোভের সময় নিহত হয়েছিলেন। এমনকি আমরা জানাজার জন্য মৃতদেহ নিতেও পরিবারকে সাহায্য করেছি। যখন আমি ওয়াসিম হত্যা মামলার তালিকাভুক্তদের মধ্যে আমার নাম খুঁজে পাই, আমি হতবাক হয়ে যাই। সেদিন আমি হাসপাতালেই ছিলাম এবং এতো এতো হতাহত ছাত্রকে হাসপাতালে নিয়ে আসায় বাড়তি সময়ও ডিউটি করেছিলাম। আমি কখনোই কোনও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। এখন আওয়ামী লীগের অনেক লোকের সঙ্গে আমার নাম খুঁজে পাচ্ছি আমি। পুলিশের সাথে যোগাযোগ করার সাহস পাইনি। আপনি পুলিশকে জানেন। আমি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে থানায় গেলে, আমার কথা শোনার আগেই তারা আমাকে গ্রেপ্তার করবে।”

এইচআরডব্লিউ এর এই প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারকে আইন প্রয়োগের তত্ত্বাবধানে থাকা কর্মীদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাঠামোগত সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

এছাড়া প্রসিকিউশন এবং বিচার বিভাগ যাতে নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত থাকে তা নিশ্চিত করার জন্যও সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থা।

নবাবগঞ্জে সাংবাদিক নাজমুলকে কুপিয়ে জখম

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আমাদের সময়ের দোহার নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি সাংবাদিক নাজমুল হোসেন অন্তরকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের ডাকাতবাড়ি নামক সেতুর উপরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নাজমুল হোসেন অন্তর নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের খানেপুর গ্রামের মো. মানিক বেপারীর ছেলে। তিনি আমাদের সময়ের দোহার নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি, চ্যানেল ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ও নববাংলা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত।

জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিক নাজমুল হোসেন অন্তর মোটরসাইকেলযোগে দোহার উপজেলার একটি নিউজ প্রোগ্রাম ও ওয়াজ মাহফিলের প্রোগ্রাম শেষে নিজ বাড়ি খানেপুর যাওয়ার পথিমধ্যে ডাকাতবাড়ি নামক সেতুর উপরে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে, পায়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিক নাজমুলের সাথে থাকা মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, নগদ টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরে রাতেই তাকে তার পরিবারের লোকজন নবাবগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা গুরুতর দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

রবিবার (২৬ জানুয়ারি ) দুপুরে সাংবাদিক নাজমুলের ভাই নয়ন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমার ভাইয়ের (সাংবাদিক নাজমুল) মোটরসাইকেলটি উপজেলার দেওতলা স্কুলের পাশে ইছামতি নদীর পাড় থেকে পুলিশ উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ থানায় নিয়ে গেছেন। বর্তমানে ভাইয়ের অপারেশন করার জন্য হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে দোহার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম বলেন, নাজমুলের ভাই ও আত্মীয়ের সাথে কথা হয়েছে। ২ জন ছিলো বলে জানা গেছে। মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি ডাকাতি নয় পূর্ব শত্রুতা বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান চলছে। নাজমুল একটু সুস্থ হলে ওর সাথে কথা বলে আরো ক্লিয়ার হওয়া যাবে।

দোহারে ছাত্রদল আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি : গিয়াস আহাম্মেদ

ঢাকার দোহার উপজেলায় বাশতলা এলাকায় আহলে বাইত ফাউন্ডেশনের এর পক্ষ থেকে গরীব ও অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে নাগেরকান্দায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদের নিজ বাড়ীতে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

এসময় তিনি বলেন, “যখন দোহারে কোন ছাত্রদল ছিল না তখন আমরা দোহারে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করেছি। পরে আমরা বিএনপির হয়ে কাজ করি।”

শিপন মোল্লার সঞ্চলনায় বিতরণ সময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেচ্ছাসেবক দলের ক্রীড়া সম্পাদক জিল্লুর রহমান, দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মেছের, দোহার প্রেসক্লাবের সাবেক প্রতিষ্ঠা সভাপতি সাইফুদ্দিন ফনু প্রমুখ।