মাহমুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

0

স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ আল-আমিন: প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে মাহমুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, এ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম বেপারী (পাবলিক প্রসিকিউটর ঢাকা জর্জ কোর্ট), এ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান বেপারী (ইনকাম ট্যাক্স)। ছিলেন সাস্থ্য সহকারী মোবারক বেপারী। দোহার এর ছাত্র প্রতিনিধি সোহেল বেপারী, মোহাম্মদ শহিদুল,মোহাম্মদ বিল্লাল,ইমরান বেপারি ,সজীব,আবু নাইম, মিজু,সোহরাব বেপারী,খালেক বেপারী,বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ৯টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার শুভ সূচনা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পর্দা ওঠে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন— “লেখাপড়া ও খেলাধুলা একে অপরের পরিপূরক। সুশিক্ষিত ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী জাতি গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম।”

তারা আরও বলেন, “ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ছাত্রদের অবদান অনস্বীকার্য। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।”

দিনব্যাপী আয়োজিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা দৌড়, লং জাম্প, উচ্চ লাফ, সহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে। বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেছে।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে দিনের অনুষ্ঠান পরিপূর্ণতা লাভ করে। পুরো আয়োজনটি ছিল আনন্দমুখর ও স্মরণীয়, যা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাস্তা আটকে দেয়াল, দোহারে দুই শতাধিক পরিবারের দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোটার: আল-আমিনঃ দোহার উপজেলার সুন্দরীপাড়া এলাকায় শত বছরের পুরনো রাস্তা আটকে দেয়াল নির্মাণ করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় দুই শতাধিক পরিবার। চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত দেয়াল অপসারণের দাবি জানান।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাস্তাটি অবমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ করে স্থানীয় শাহাবুদ্দিন চিশতি হিরু নিজ জমিতেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।

মানববন্ধনে সুন্দরীপাড়া ও শিলাকোঠা এলাকার দুই শতাধিক পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। তারা দ্রুত দেয়াল অপসারণ করে গ্রামবাসীর চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে জমির মালিক শাহাবুদ্দিন চিশতি হিরু জানান, “রাস্তার একটি অংশ রেখেই দেয়াল করা হয়েছে। পাশের জমি থেকে বাকিটা নিলেই কোনো সমস্যা থাকবে না।”

এখন গ্রামবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দ্রুত সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন।

নৌকা বাদ দিয়ে কারা অধিদপ্তরের নতুন লোগো

0

কারা অধিদপ্তরের লোগো পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন লোগোতে নৌকা প্রতীক বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই স্থানে যুক্ত করা হয়েছে চাবি ও ব্যাটনের (লাঠি) চিহ্ন। আজ রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কারা অধিদপ্তরের পূর্ববর্তী লোগো পরিবর্তন করে নতুন লোগো প্রতিস্থাপনের নির্দেশনা জারি করেছে। এখন থেকে নতুন লোগো ব্যবহৃত হবে।

পুরাতন লোগোতে দেখা যায়, উপরে শাপলা ও দুই পাশে পাট পাতা, মাঝে পালতোলা নৌকা এবং নিচে বি ডি জে লেখা। নতুন লোগোতে দেখা গেছে, মাঝে শুধু পালতোলা নৌকা বাদ দেওয়া হয়েছে।

পালতোলা নৌকা বাদ দিয়ে কারা অধিদপ্তরের চাবি ও ব্যাটনের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে।

কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

0

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ ও কুয়েতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি এবং তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইউএন-হ্যাবিট্যাটের যৌথ উদ্যোগে গত শুক্রবার কুয়েতের জাবরিয়া ব্লাড ব্যাংকে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন এবং ইউএন-হ্যাবিট্যাট জিসিসি আঞ্চলিক অফিসের হেড অফ মিশন ডক্টর আমিরা আল হাসান। এ সময় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই রক্তদান কর্মসূচি। কুয়েতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তরুণরা এবং প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা এতে অংশ নেন। রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন বলেন, “রক্তদান একটি মহৎ ও মানবিক কাজ। প্রবাসীদের এগিয়ে আসা উচিত, কারণ এটি শুধু অসুস্থ ব্যক্তির জীবন বাঁচায় না, বিদেশে বাংলাদেশের সুনামও বৃদ্ধি করে।”

এই উদ্যোগটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রকাশ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে সুদৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেরও প্রতিফলন।

বিশ্ববাজারে সোনার দামে নতুন রেকর্ড, বাংলাদেশেও দাম বৃদ্ধি

বিশ্ববাজারে সোনার দাম নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স সোনার দাম ২,৮০০ ডলার ছুঁয়েছে। এই বৃদ্ধির প্রভাবে বাংলাদেশের বাজারে সোনার দামও বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এর তথ্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯১ টাকা, ২১ ক্যারেট সোনার দাম ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩০৬ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১ লাখ ১৬ হাজার ৮২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বৃদ্ধির পেছনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের প্রতি আগ্রহকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের বাজারে আরও দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

দোহার ও নবাবগঞ্জে প্রথমবারের মতো ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’ উদযাপন 

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায়ও প্রথমবারের মতো ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার দোহারের জয়পাড়া কলেজ ও নবাবগঞ্জ উপজেলার শহীদ মিনারে আলোচনা সভা ও হিজাব বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দোহার নবাবগঞ্জ নারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও দোহার নবাবগঞ্জ নারী কল্যাণ সমিতির সভানেত্রী মাসুমা বিল্লাহ তার বক্তব্যে হিজাব বিদ্বেষের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “আমাদের চারপাশে যদি কোনো হিজাব বিদ্বেষী থাকেন, তাদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই। দোহার ও নবাবগঞ্জে হিজাব বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিয়ে কটুক্তি করা হলে আমরা এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করব। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে আমাদের বোনরা হিজাবের কারণে বৈষম্যের শিকার হলে আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।”

প্রধান আলোচক হিসেবে জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহকারী অধ্যাপক পারভীন আক্তার হিজাবকে নারীদের স্বাধীনতা, ঐক্য ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে হিজাব দিবসের মতো সুন্দর প্রোগ্রাম আয়োজনের জন্য দোহার ও নবাবগঞ্জ নারী কল্যাণ সমিতির সকল সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই। হিজাব শুধু একটি পোশাক নয়, এটি নারীদের আত্মমর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রকাশ।”

আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে হিজাব বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হিজাবের প্রতি সম্মান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নারীদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এই অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে হিজাবের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি এবং হিজাব বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি নারীদের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি মাস

0

বছর ঘুরে আবার এলো ফেব্রুয়ারি। বাঙালির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মাসটির পরিচিতি ‘ভাষার মাস’ হিসাবে। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবসকে ঘিরে প্রতিবছর এ মাসের শুরু থেকেই নানা কর্মসূচির আয়োজন হয়ে থাকে। ৭২ বছর আগে, ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে রাজপথে প্রাণ উৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই সব আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি, এসব আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য।

‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের এমন ঘোষণা এ দেশের সাধারণ মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। বাংলা ভাষার সমান মর্যাদার দাবিতে পূর্ব বাংলার মানুষ রাজপথে নেমে পড়েন। দেশের প্রতিটি শহর-বন্দরে চলতে থাকে মিটিং-মিছিল। কিন্তু এই আন্দোলন দমনে নেমে পড়ে তৎকালীন সরকার। ঢাকা শহরে নিষিদ্ধ করা হয় মিছিল-সমাবেশ। কিন্তু ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে রাস্তায় নামে প্রতিবাদী জনতা।

সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীরা মিলে ১৪৪ ধারা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি এলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে নিহত হন সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ নাম না-জানা আরও অনেকে।

পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষার জন্য এমন মহান আত্মত্যাগের ঘটনা বিরল। বাংলার দামাল সন্তানদের এই আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর। এদিন ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে দিনটি এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারিভাবে পালিত হয়।

আজ ১ ফেব্রুয়ারি ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারসহ রাজধানী ও বিভিন্ন জেলা শহরে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

আসন্ন রমজানের সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ

আসন্ন রমজানের সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। গত ২৭ জানুয়ারি ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১৪৪৬ হিজরির রমজান মাসের সাহরি ও ইফতারের এই সময়সূচি চূড়ান্ত করে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে আগামী ২ বা ৩ মার্চ। তবে রমজান শুরুর সময় ২ মার্চ ধরে ঢাকার সাহরি  ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বিনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক সরকার সরোয়ার আলম সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সময়সূচি অনুযায়ী, ২ মার্চ প্রথম রমজানে ঢাকায় সাহরির শেষ সময় ভোররাত ৫টা ৪ মিনিট ও ইফতারির সময় ৬টা ২ মিনিট।

তবে দূরত্ব অনুযায়ী ঢাকার সময়ের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৯ মিনিট পর্যন্ত যোগ করে ও ৯ মিনিট পর্যন্ত বিয়োগ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ সাহরি ও ইফতার করবেন বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে জানা গেছে।

দেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলার সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন দ্বিনি দাওয়াত বিভাগের কর্মকর্তারা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫, নেবে ১৫২ জন

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ৩ ক্যাটাগরির পদে ১৫২ জনকে নিয়োগের লক্ষ্যে এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ০৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হবে। আবেদন করা যাবে আগামী ০৫ মার্চ পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

পদের সংখ্যা: ০৩টি

লোকবল নিয়োগ: ১৫২ জন

পদের নাম: জুনিয়র অপারেটর জিএসই (ক্যাজুয়াল)

পদসংখ্যা: ৮১টি

শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি অথবা সমমান পাস।

অন্যান্য যোগ্যতা: বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি কর্তৃক পেশাদার লাইসেন্স থাকতে হবে। যানবাহন চালনায় তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

পদের নাম: জুনিয়র মেকানিক জিএসই

পদসংখ্যা: ৪১টি

বেতন: ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা

শিক্ষাগত যোগ্যতা: মেকানিক্যাল/মেকাট্রনিকসে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকতে হবে।

পদের নাম: জুনিয়র ইলেকট্রিশিয়ান জিএসই

পদসংখ্যা: ৩০টি

বেতন: ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা

শিক্ষাগত যোগ্যতা: ইলেকট্রিক্যাল/ইলেকট্রনিকস/পাওয়ার/মেকাট্রনিকসে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা

বয়সসীমা: সব পদে বয়সসীমা ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে সর্বনিম্ন ১৮ বছর এবং সর্বোচ্চ ৩২ বছর হতে হবে।

আবেদন ফি: পরীক্ষার ফি বাবদ প্রতিটি পদের জন্য ১১২ টাকা টেলিটক প্রিপেইড মুঠোফোন নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের শেষ সময়: মার্চ ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণে যেভাবে রাজি হয়েছিলেন ড. ইউনূস

0

ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর আগস্ট নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ . মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব পাওয়া, কেন দায়িত্ব নিলেন, কীভাবে দেশ পরিচালনা করতে চানএসব বিষয় নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূস। 

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা সুইজারল্যান্ডের দাভোস সফর করেন। তখন ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রধান পররাষ্ট্র ভাষ্যকার গিডেয়েন র‌্যাচম্যানের উপস্থাপনায় পডকাস্টে অংশ নেন। ‘র‌্যাচম্যান রিভিউ’ নামের ওই পডকাস্টের কথোপকথন লিখিত আকারে বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়।

কথোপকথনে ড. ইউনূস বলেন, আমি যখন প্রথম ফোনকল পাই, তখন আমি প্যারিসের হাসপাতালে ছিলাম। আমার ছোট্ট একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তখন তারা (ছাত্রনেতারা) ফোন দিল। যদিও আমি বাংলাদেশে কী ঘটছে, সেসব খবর প্রতিদিন মোবাইল ফোনে দেখতাম। তখন তারা বলল, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) চলে গেছেন। এখন আমাদের সরকার গঠন করতে হবে। দয়া করে, আমাদের জন্য সরকার গঠন করুন।’ আমি বলেছিলাম, না, আমি সেই ব্যক্তি নই। আমি এর কিছুই জানি না। আমি এর সঙ্গে যুক্ত হতেও চাই না।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আমি তাদের কাউকেই চিনতাম না। কখনো তাদের সম্পর্কে শুনিনি। কাজেই আমি তাদের বিকল্প কাউকে খোঁজার বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। তাদের বলেছিলাম, বাংলাদেশে অনেক ভালো নেতা আছেন। তোমরা তাদের খুঁজে নাও। তারা বলছিল, ‘না, না, না, আপনাকেই থাকতে হবে। আমরা কাউকে পাইনি।’ আমি বলেছিলাম, জোরালো চেষ্টা করো। তারা বলল, ‘আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নেই।’ তখন বলেছিলাম, অন্তত একটা দিন চেষ্টা করো। না পেলে ২৪ ঘণ্টা পর আমাকে আবার ফোন করো।

তিনি বলেন, ছাত্রনেতারা আমাকে আবারও ফোন করল। বলল, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু সম্ভব হয়নি। আপনাকে অবশ্যই দেশে ফিরতে হবে।’ শেষ পর্যন্ত আমি বললাম, দেখো, তোমরা রাজপথে জীবন দিয়েছো। প্রচুর রক্তক্ষয় হয়েছে। তোমরা সম্মুখসারিতে আছো। যেহেতু তোমরা এসব করতে পেরেছ, এখন ইচ্ছা না থাকলেও তোমাদের জন্য আমারও কিছু করা উচিত। আর এটাই সেই সময়। সরকারের সংস্কার করতে হবে। আমি রাজি। তোমরা কি একমত? তারা আর কোনো কথা বলেনি।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ঘণ্টা দুয়েক পর হাসপাতালের একজন নার্স এলেন। তিনি আমাকে একটি ফুলের তোড়া উপহার দিলেন। আমি বললাম, এটা কেন? তখন ওই নার্স বললেন, ‘আপনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, আমরা এটা জানতাম না।’ আমি বললাম, এটা আপনি কোথা থেকে জানলেন? তখন তিনি বললেন, ‘সব গণমাধ্যমে, সব টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার হচ্ছে, আপনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।’ আমি বললাম, আমি আপনার কাছ থেকেই এটা জানলাম।

তিনি আরও বলেন, এরও ঘণ্টা দুয়েক পর ওই বোর্ড সদস্যরাদসহ হাসপাতালের প্রধান আসেন। তারা ফুলের তোড়া দিয়ে নতুন ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে আমাকে শুভেচ্ছা জানান। সঙ্গে এটাও বলেন যে বিকেলের আগে আমাকে হাসপাতাল ছাড়ার বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হবে না।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমি পরিচালককে বলি, ওরা আমাকে চাইছে। দেশে যেতে বলছে। ভ্রমণের জন্য আপনি কি আমাকে প্রস্তুত করে দিতে পারেন? তিনি বললেন, ‘অবশ্যই, আপনার কথা আমাদের মানতে হবে। আপনি একজন প্রধানমন্ত্রী। আপনার নিরাপদ যাত্রার জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দেব। প্রয়োজনীয় ওষুধসহ সবকিছু দেব। সার্বক্ষণিক যোগাযোগে থাকব।

তিনি বলেন, এর কয়েক ঘণ্টা পর, সকালে ফরাসি সেনাবাহিনীর বড় একটি দল আমাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে আসে। এটাই ছিল দেশে ফেরার আগের ঘটনাবলি।