শোল্লায় বখাটেরা কেটে ফেলেছে শতাধিক লিচু গাছ

নবাবগঞ্জের শোল্লা ইউনিয়নের কোন্ডা এলাকায় একটি বাগানের প্রায় দুইশত লিচু গাছে কেটে ফেলেছে স্থানীয় বখাটেরা। বাগানের মালিক স্থানীয় কৃষক শাহজাহান মিয়া ও তার ভাই কামাল মিয়া ইতিমধ্যে নবাবগঞ্জ থানাকে লিচু গাছ কাটার বিষয়টি অবহিত করেছেন। 

লিচু বাগানের মালিক শাহজাহান মিয়া জানান, কিছু দিন পূর্বে স্থানীয় কিছু বখাটে তার বাগানে পেয়ারা নিতে আসলে তিনি না দিলে বাগানের ফসল বিনষ্ট করার হুমকি দেয় এবং সেই দিন রাতেই বখাটেরা তার বাগানের লিচু গাছ কেটে ফেলে বলে জানান শাহজাহান মিয়া।

এদিকে এই বখাটে দলের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এরা মাঝে মাঝেই ক্ষেত হতে ফসল চুরি করে এবং ক্ষেতে মাদক সেবন করে। তারা এলাকায় প্রচন্ড উৎপাত করলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কেউ নেই। 

কার্তিকপুরে বালু ব্যবসায়ীকে হাতুরি পেটা

দোহার উপজেলার কার্তিকপুরের বাস্তা গ্রামের কবিরাজ বাড়ি রাইসমিলের সামনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আজাহার দেওয়ান নামক এক বালু ব্যবসায়ীকে হাতুরি পেটা করেছে দুষ্কৃতিকারীরা। এসময় আজাহারের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

এদিকে আজাহারের উপর হামলার খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ দায়ের করেণ আহত আজাহারের স্ত্রী কুসুমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাসিনা বেগম। 

বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নেই দোহারে আরো ১০০ বাড়ি পদ্মায় বিলীন

নিউজ৩৯♦ দোহার উপজেলায় পদ্মার তীব্র ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে সুতারপাড়া ইউনিয়নের মেঘুলা বাজার এলাকা। পদ্মার তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে মেঘুলা বাজারসহ সুতারপাড়া ইউনিয়নের ১০ হাজার মানুষ। এরই মধ্যে পদ্মার কড়াল গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ১০০ বাড়ি।

পিছনে ফিরে গেলে ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে দোহারের বড় মাঠে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছিলেন দোহারকে তিনি পদ্মার গ্রাসের হাত থেকে রক্ষা করবেন, এবং ভাঙ্গন রোধে দোহারে বেড়িবাঁধ দেবেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই প্রতিশ্রুতেও আজ ধুলো পড়েছে। পদ্মার কড়াল গ্রাসে হারিয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম,  নিঃস্ব হয়েছে লাখো মানুষ। কিন্তু এই অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন পদ্মা বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন হয় নি। 

স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী তালুকদার মাহবুবুর রহমান থেকে শুরু করে সবাই পদ্মা বাঁধকে ইস্যু করে নির্বাচনী বৈতরনী পাড় হতে চেয়েছেন। কেউ কিছু করে নাই এখন আল্লাহর উপরই ভরসা। 

এরই মধ্যে পদ্মার হুমকির মুখে রয়েছে নারিশা বাজার, মেঘুলা বাজার, বাহ্রাঘাট, ধোয়াইর বাজার, বাহ্রা হাবিলউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়।  রয়েছে আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 

পদ্মা বাঁধের ব্যাপারে সালমা ইসলাম বলেন, ওয়াদা দিয়েছি আবার ভোটও নিয়েছি। কাজটা শুরু করতে পারছি না বলে এলাকার মানুষের কাছে যেতেও কষ্ট লাগে। তবে তিনি আবার দোষ চাপিয়েছেন ডি.ও. লেটারের উপরে। তিনি বলেন ডি.ও. লেটার সমস্যার সমাধান হলেই অতি দ্রুত কাজটি শুরু করা যাবে। ইতিমধ্যে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে মেঘুলা, নারিশা, নয়াবাড়িতে ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেড় শতাধিক পরিবার পদ্মার ভাঙ্গনে গৃহহারা হয়েছে। এছাড়া কাশিয়াখালি বেড়িবাঁধের উপর অবস্থিত বাহ্রাঘাট তীব্র ভাঙ্গনের উপর অবস্থিত রয়েছে। যেকোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে বাহ্রাঘাট। 

এরই মাঝে স্থানীয় ভাঙ্গন কবলিত লোকজন নিজেদের স্থাপনা সরাতে ছোটাছুটি শুরু করেছে। কেউ ব্যস্ত গাছপালা কাটতে। দুই একজন বাড়িঘড় ছেড়ে চলে যাচ্ছেন চিরদিনের মতো।

পদ্মায় বার বার ভাঙ্গনের শিকার কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ “২০০৮ সালে পদ্মা ভাঙ্গন রোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলাম, সাত বছরেও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয় নি, তাই আমরা লজ্জিত। ” 

জনসচেতনতায় নবাবগঞ্জ থানার ওসির উদ্যোগ

নিউজ৩৯♦ “আমি সচেতন হলে সমাজ সচেতন হবে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মসজিদে মসজিদে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন নবাবগঞ্জ থানার ওসি সায়েদুর রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ আগস্ট শুক্রবার নবাবগঞ্জের যন্ত্রাইল মসজিদে খুতবা পাঠের আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে জনসচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন নবাবগঞ্জ থানা ওসি। 

আর নবাবগঞ্জ থানার এই কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নবাবগঞ্জ উপজেলার সুশিল সমাজ। তারা এই কার্যক্রমকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহবান জানান এবং সামাজিক অবক্ষয় রধে প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ার আহবান জানান। তাছাড়া শুধু মসজিদ কেন্দ্রীক না থেকে অন্য ধরমালম্বীদের সচেতন করতে মন্দির ও গির্জাতেও এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানানো হয়। 

জানা যায়, পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের নির্দেশে উপজেলার প্রতিটি মসজিদে এ সচেতনতামুলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে নবাবগঞ্জ উপজেলা পুলিশ। 

বঙ্গবন্ধু হত্যার হুকুম দাতাদের বিচার করা হবে

নিউজ৩৯♦ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার করা হয়েছে কিন্তু হুকুম দাতাদের বিচার করা হয়নি। আগামীতে বঙ্গবন্ধুর হত্যার হুকুমকারীদের চিহ্নিত করে বিচার করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক। শুক্রবার বিকালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু এতে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন।

উপস্থিত ছিলেন সাবেক গণপরিষদ সদস্য সুবিদ আলী টিপু, সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার হারুন উর রশীদ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ, আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য আবদুল বাতেন মিয়া, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, সুরুজ আলম সুরুজ, ঢাকা মহানগর (দ:) কৃষকলীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মলরঞ্জন গুহ, আওয়ামী লীগ নেতা কাজী শওকত হোসেন শাহীন প্রমুখ।

ইছামতির ভাঙ্গন, মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা

নিউজ৩৯♦ ইছামতি নদী বাঁচাতে না পারলে বিপন্ন হতে পারে দোহার ও নবাবগঞ্জসহ ৪টি উপজেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষের জীবন। বিপর্যস্ত হবে কৃষি উৎপাদন। মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এ অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। এ নদী বাঁচাতে অবিলম্বে একটি স্লুইচ গেট নির্মাণ করা প্রয়োজন। ইছামতি নদী বাঁচাতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এলাকার লাখ লাখ মানুষ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

শনিবার ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের সঙ্গে তার কার্যালয়ে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন ইছামতি বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা।

মতবিনিময়কালে ইছামতি নদী বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামকে জানান, ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ, মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলা দিয়ে ইছামতি নদী প্রবাহিত। স্বাভাবিক পানির প্রবাহ না থাকায় ইরি মৌসুমে সেচ প্রকল্প মারাÍকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং গভীর নলকূপের ওপর এলাকাবাসীর নির্ভরশীলতা দিন দিন বাড়ছে। ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় আর পানযোগ্য পানিও পাওয়া যাবে না এ এলাকায়। 

এসময় তারা জানান, ঢাকা জেলার সবচেয়ে স্বচ্ছ পানির এ নদী নিয়ে সম্প্রতি এলাকার মানুষের মনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সচেতনতার অভাবে মৃত পশু, পাখি, বাজার, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্য, মানব বর্জ্য ও পলিথিন ইত্যাদি নদীতে ফেলে নদীর পানি দূষিত করা হচ্ছে। শুকনা মৌসুমে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সৈয়দপুর থেকে মানিকগঞ্জের চেরাগঘোনা পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার জলপথে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে একদিকে দখল হয়ে যাচ্ছে নদীর দুপাড়, অন্যদিকে সঠিক পানির প্রবাহের অভাবে নাব্য হ্রাস ও নদীর পানি দূষিত হচ্ছে।

নেতারা জানান, নবাবগঞ্জ উপজেলার কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধে নদীর মুখে প্রয়োজনীয় স্লুইচ গেট নির্মাণ করলেই জীবন্ত হয়ে উঠবে ৪টি উপজেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষের প্রাণের নদী ইছামতি। ফিরে আসবে দুপাড়ের প্রাণ চঞ্চলতা, ভরে উঠবে ফসলের মাঠ।

নেতারা জানান, ইছামতি নদী বাঁচাতে ও পরিবেশ রক্ষায় সকলেই অবদান রাখি স্লোগানে ইছামতি তীরের বাসিন্দারা প্রায় ৩ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সেমিনার, র‌্যালি, নৌ-র‌্যালি, ট্রাক র‌্যালি, মানববন্ধন, ব্যানার, পোস্টার, নাটক পথসভা করা হচ্ছে। এমনকি প্রাণের নদী ইছামতি শিরোনামে একটি প্রামাণ্য চিত্রও নির্মাণ করা হয়েছে। যা বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার করা হচ্ছে।

ইছামতি নদী বাঁচাও আন্দোলনের পক্ষে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিমানের সাবেক পরিচালক মাহমুদ আলী খান (টুলু), ওয়ারপোর সাবেক মহাপরিচালক মো. শাহজাহান, সিনিয়র এএসপি মো. আবদুল হাকিম, পায়রা বন্দরের পরিচালক (ফাইন্যান্স) রাফিউল ইসলাম, সফিউর রহমান তোতা, বীরেন্দ চন্দ্র পাল, মোতাহারুল ইসলাম খান, মোহাম্মদ আলী খান, শংকর সাহা, মো. মাসুম, লতিফা রহমান, সায়মা রহমান তুলি, মো. মনির হোসেন মো. জাহিবুল ইসলাম নান্টু, মো. জহির উদ্দিন আহমেদ, সুব্রত দাস, সজল দাসসহ অনেকে।

দোহারে ৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা

নিউজ৩৯♦ ঢাকার দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিন ছিল মঙ্গলবার। এদিন চারজন প্রার্থী উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিকালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আলমগীর হোসেন, বিএনপি সমর্থিত সিরাজুল ইসলাম ভুলু, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রজ্জব আলী মোল্লা ও মেহবুব কবির মনোনয়নপত্র জমা দেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা। 

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ভুলুর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনএর (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জোট) চেয়ারম্যান সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। অবশ্য এ সময় বিএনপির উপজেলা সভাপতি ও অঙ্গসংগঠনের কাউকে দেখা যায়নি।

দোহার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। 

নবাবগঞ্জে আত্মহত্যা

নিউজ৩৯♦ ঢাকার নবাবগঞ্জে গনেশ মন্ডল (২২) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুরে কান্দামাত্রা গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত গনেশ মন্ডল কান্দামাত্রা গ্রামের মনোরঞ্জের ছেলে। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার ভোরে গনেশ মন্ডল তার নিজ শোবার ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে সকালে পরিবারের লোকজন  ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরির্দশক ( এস.আই)  মো. বাছির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। পরে বিনা ময়না তদন্তে লাশটি পরিবারে কাছে হস্তান্তর করেন। 

মানচিত্র থেকে পদ্মায় হারিয়ে যাবে দোহার; তবুও বেড়িবাঁধের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হবে না

আবু নাইম তাইমিয়া, নিউজ৩৯ ♦ নবাব সিরাজদৌল্লার সাথে বিশ্বাশঘতক রাজা রায়বল্লভের সকল কীর্তি নাশ করেছিল প্রমত্তা পদ্মা। তাই তার নাম হয়েছিল কীর্তিনাশা। সেই পদ্মা আবারো ধারন করেছে ভয়াবহ সে রুপ। আজ পদ্মা সত্যিই কীর্তিনাশা। গত চার দিনে দোহারে বিলীন হয়েছে ২০০ ঘরবাড়ি। মেঘুলা বাজারের ব্রীজের কাছে চলে এসেছে পদ্মা।

এভাবে চললে হয়তো এ বর্ষায় মেঘুলা বাজার ইতিহাস হবে। হারিয়ে যাবে, তলিয়ে যাবে পদ্মায় সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহি এই জনপদ। গতবছর হারিয়ে গেছে রাণিপুর ও পশ্চিমচরের ৮০ শতাংশ। হারিয়ে গেছে ধুলশরা, নয়াবাড়ি; হারিয়ে যাচ্ছে বাহ্রা । দিন দিন ছোট থেকে ছোট হয়ে যাচ্ছে দোহার।

এভাবে চললে আর দোহার-ঢাকা রাস্তা যে’টি বাধ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা যে কোন স্থানে ভেঙে গেলে; দ্রুত তলিয়ে যাবে দোহার। বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাবে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশী মুদ্রা অর্জনকারী দেশের এই জনপদ। দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মায় বিলীন হচ্ছে। নয়াবাড়ি আর নেই বললেই চলে। চার দিনে তীব্র ভাঙনে পদ্মায় ১০০ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে।

এলাকাবাসী দাবি করেন, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে দোহারে এক জনসভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাঙন ঠেকাতে পদ্মা রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আবার ক্ষমতায় আসার পর আজ অবধি নদীপারের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয় নি।

স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল বিশ্বাস বলেন, ‘শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান, সাবেক গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী তালুকদার মাহবুবুর রহমান, এবং বর্তমান সাংসদ সালমা ইসলামসহ সবাই আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু কেউই কাজ করে দেখাচ্ছেন না। এখন সৃষ্টিকর্তার ওপরই সব ছেড়ে দিয়েছে এলাকার মানুষ।’

হুমকির মধ্যে রয়েছে নারিশা বাজার, বাহ্রা ঘাট, ধোয়াইর বাজার, ঐতিহ্যবাহী বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা। এ ব্যাপারে স্থানীয় সাংসদ সালমা ইসলাম বলেন, ‘ওয়াদা দিয়েছি, ভোট নিয়েছি। কাজটা শুরু করতে না পারায় ওই এলাকার মানুষগুলোর কাছে যেতেও কষ্ট লাগে। তবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও জলবায়ু তহবিল থেকে দোহারের পদ্মা রক্ষায় বেড়িবাঁধ তৈরি করতে একটি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব কাজটি করতে চাই এবার এবার হয়তো করতে পারবো।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় নারিশা ইউনিয়নের রানীপুর, মধুরখোলা, পশ্চিমচরসহ  নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বাহ্রাঘাট ও ধোয়াইর এলাকাযয় গত শনিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় একশ ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ নিয়ে চলতি বছর দের শতাধিক পরিবার ভাঙনের কবলে পড়ে সব হারিয়েছেন। আতংকে রাতে ঘুমাতে পারছেন না এলাকার মানুষ। আবার অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন অনেকে। এছাড়া দোহার কাঁশিয়াখালী বেড়িবাঁধের বাহ্রাঘাট এলাকা হুমকির মুখে রয়েছে।

স্রোতের চাপে যেকোনো সময় বাঁধ ধসে পড়তে পারে। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাঁধ এলাকার কয়েক হাজার পরিবার। সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ স্থাপনা সরাতে ছোটাছুটি করছেন। কেউ ঘরবাড়ি সরানোর কাজে ব্যস্ত। কেউ আবার গাছপালা কাটছেন। দু-একজন চলে যাচ্ছেন অজানা গন্তব্যে।

ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকজন জানান, পানি বেড়ে যাওয়ায় গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে পদ্মা হয়ে ওঠে অনেক আগ্রাসী। বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর কাছাকাছি যাঁদের ঘরবাড়ি, তাঁরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ঘরবাড়ি ও মূল্যবান জিনিস সরিয়ে নিচ্ছেন।

পদ্মায় বার বার ভাঙ্গনের শিকার নায়াবাড়ীর বাসিন্দা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে দোহারে তাঁর নির্বাচনী সভায় দোহার- নবাবগঞ্জবাসীকে পদ্মার ভাঙন রোধে বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সাত বছরেও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয় নি। এ বিষয়ে আমরা জনগণের কাছে লজ্জিত।’

নির্মল রঞ্জন বলেন, বাঁধ নির্মাণে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে চেষ্টা-তদবির করছেন। দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘দোহারে পদ্মার ভাঙন নিয়ে আমরা সত্যিই আতঙ্কিত। বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) জানানো হয়েছে।’

পদ্মায় বাধ নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামকারী তরুণদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সংগঠন দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেণ্টের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, “আমরা বাধের দাবীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। মিছিল মিটিং করেছি। সকল মিডিয়ায় তা প্রচার করেছি। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে ডকুমেণ্টরি নির্মাণ করে সারা দোহারে প্রদর্শন করেছি এবং এখনো করছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা সর্বদা আহবান জানাচ্ছি। আজ দোহারবাসীর একটাই দাবী- বাধ চাই। বর্ষা আসবে, নদীর পাড় ভাঙবে আর আমরা প্রতিশ্রুতি শুনবো তা হতে পারে না। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই এবং জানাতে হবে, আমাদের বাচাতে পদ্মায় বাধ চাই। রাজনীতিবীদদের কাছে অনুরোধ দোহার বাচলে আপনারাই মন্ত্রী বা এমপি হবেন। দয়া করে ব্যবস্থা নিন। মানুষের পাশে দাঁড়ান। বর্তমানে আপদকালীন হোক; সেক্ষেত্রে বুয়েট বা সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর বা নদী বিশেষজ্ঞদের আনা যেতে পারে অস্থায়ী ব্যবস্থা কার্যকরণে।”

নবাবগঞ্জে আওয়ামী নেতার ভাই এর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ চাপা দেয়ার চেষ্টা

নিউজ৩৯.নেট ♦ নবাবগঞ্জে এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাই এর বিরুদ্ধে ২য় শ্রেণীর ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাই হওয়ার কারনে ৯ দিন পরও আদালতে কোন অভিযোগ দায়ের করা হয় নি। এতে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট বাড়ির পাশে ইছামতি নদীতে গোসল করার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা পান্নুর ভাই স্থানীয় জুয়াড়ি আয়নাল (৪৫) তাকে ধর্ষণ করে। শিশুটি অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে শিশুটির স্বজনরা তাকে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য খুরশিদ আলম, ধর্ষকের ভাই পান্নুসহ স্থানীয় একটি চক্র গ্রাম্য সালিসির নাটক সাজিয়ে ধর্ষককে জুতা পেটা করে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়। 

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য খুরশেদ আলমের সাথে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি। সম্ভব হয় নি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সালিসির অন্যতম সদস্য ধর্ষক আয়নালের ভাই পান্নুর সাথে যোগাযোগ। এদিকে ঘটনা ঘটিয়ে আত্মগোপনে আছে ধর্ষক পান্নু। 

এদিকে আয়নালের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও এ রকম এলাকায় এরকম তিনটি ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে আয়নালের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে।