ইছামতি নদী

0

ইছামতি নদী, নবাবগঞ্জের প্রাণ, আজ নিথর, স্থবির। এই মরা নদী আজও ইতিহাসের গল্প বলে, তারই কিছু শুনব বলে।

“পশ্চিম ঢাকার নদীসমূহের মধ্যে ইছামতিই সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। মি. এ.সি. সেনের রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায়, এই নদী জাফরগঞ্জের দক্ষিণে হুরা সাগরের মোহনার বিপরীত দিকে নাতপুরের ফ্যাক্টরির নিকট হতে উৎপন্ন হয়ে মুন্সীগঞ্জের সন্নিকটবর্তী যোগিনীঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত। জাফরগঞ্জের উত্তরে ইছামতীর প্রবাহ নির্ণয় করা খুবই দুরূহ ব্যাপার।

মেজর রেনেলের জরিপের সময় গঙ্গানদী জাফরগঞ্জের নিকট দিয়েই প্রবাহিত হতো। ধলেশ্বরী তখন গঙ্গানদীর শাখানদী বলেই পরিচিত ছিল। এর প্রাচীন নাম ছিল গজঘাটা। এ প্রাবাহ এখন প্রায় শুষ্ক হয়ে গিয়েছে। এই নদীর উত্তরে একটা ক্ষুদ্র স্রোতস্বতী করতোয়া হতে বহির্গত হয়ে দিনাজপুরের মধ্য দিয়ে এসে ঢাকার ইছামতী নদী যে স্থানে শেষ হয়েছে, তার ঠিক বিপরীত দিকে ধলেশ্বরীর সাথে মিলিত হয়েছে। মেজর রেনেল তদীয় মানচিত্রে যেভাবে এ নদীকে অঙ্কিত করেছেন, তাহাতে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে, ঢাকার ইছামতী ও দিনাজপুরের ইছামতী অভিন্ন। করতোয়ার একটা শাখানদীই দিনাজপুরের মধ্য দিয়ে জাফরগঞ্জ হয়ে ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়েছে। ধলেশ্বরী নদী পরে উদ্ভুত হয়ে ইছামতীর মধ্য দিয়ে প্রাবহিত হয়ে উৎপত্তিস্থান হতে একে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। কার্তিকী পৌর্ণামাসিতে হিন্দুগণ করতোয়া নদীতে তীর্থস্থান করে থাকেন ঠিক ঐদিনেই পূর্ববঙ্গের নর-নারী ইছামতীর পঞ্চতীর্থঘাটে স্নান করিয়া পবিত্রতা লাভ করিয়া থাকেন। ইহা হতেও হৃদঙ্গম হয় যে, ঢাকার ইছামতী নদী পূন্যতোয়া-করতোয়া নদীরই একটা শাখা নদী।“
– ইছামতী, যতীন্দ্রমোহন রায়

ইছামতির দুটো উৎসমুখ ছিল, একটি কাশিয়াখালি/সোনাবাজুতে, অপরটি কার্তিকপুর বাজারের পাশে। দুটো মুখ এসে মিলিত হয়েছে বান্দুরায়, সেখানে একটি ত্রিমোহনী সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে কার্তিকপুর শাখাটি কৃত্তিম। গত শতকের শুরুতে বিশেষ প্রয়োজনে খাল কেটে পদ্মার সাথে সংযোগ করা হয়েছিল, পরে আবার কার্তিকপুর বাজারের ভেতর দিয়ে যাওয়া রাস্তা সেই মুখটি বন্ধ করে দেয়। এরপর ১৯৯৯ সালের দিকে পদ্মার প্রবল ভাঙনে নবাবগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশংকায় ১৪ কিলোমিটার বাঁধ দেয়া হয়, যেটি সোনাবাজু বেরিবাধ বা কাশিয়াখালি বেরিবাধ নামে পরিচিত। বাধটি ইছামতির এই মুখটিও একেবারে বন্ধ করে দেয়। ইছামতি উৎস হারিয়ে হ্রদে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে নদীতে পানি আসে সাবখালি-হযরতপুর খাল সহ আরও কিছু খালের মাধ্যমে।

দোহারে মহাত্মা গান্ধী

0

দোহারে মহাত্মা গান্ধী এসেছিলেন, এই ইতিহাস আজকের প্রজন্মের বেশিরগের কাছেই অজানা। তার নামে দোহারে আছে একটি আশ্রম আর নবাবগঞ্জে আছে একটি মাঠ। ১৯৪০ সালে দোহারের মালিকান্দায় গান্ধী সেবা সংঘের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই সভায় যোগ দিতে গান্ধী ২০ ফেব্রুয়ারী মালিকান্দা পৌঁছেন। সেখানে তিনি ২৫ তারিখ পর্যন্ত অবস্থান করেন।

Gandhi at Malikanda 2

মালিকান্দায় মহাত্মা গান্ধী গ্রামঞ্চল পরিদর্শন করেন, সম্মেলনে বক্তব্য দেন ও ছনের তৈরী একটি কুঁড়ে ঘরে ‘গান্ধী আশ্রম’ গড়ে তোলেন। এই ছবিতে মালিকান্দায় একটি সেতু পার হতে দেখা যাচ্ছে গান্ধীজিকে।

Gandhi at Malikanda

মালিকান্দায় তিনি গ্রামঞ্চল পরিদর্শন করেন, সম্মেলনে বক্তব্য দেন ও ছনের তৈরী একটি কুঁড়ে ঘরে ‘গান্ধী আশ্রম’ গড়ে তোলেন। এই ছবিতে মালিকান্দায় একটি সেতু পার হতে দেখা যাচ্ছে গান্ধীজিকেএখান থেকে তিনি চিঠিও লিখেছিলেন।

দোহার পৌরসভার ২ নাম্বার ওয়ার্ড: ইউপি’র সুবিধাও নেই

খালপাড়, বৌ-বাজার, এবং চর জয়পাড়ার কিছু অশং নিয়ে গঠিত দোহার পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড। এলাকাটিতে রয়েছে ২টি প্রাইমারি স্কুল ৫ টি মসজিদ এবং ৩ টি মন্দির। এই এলাকায় বসবাসকারী লোকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার।

এই এলাকার জনগণের অভিযোগ তারা পৌর এলাকায় বসবাস করেও পাচ্ছেন না কোন আধুনিক সুযোগ সুবিধা। এখানকার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। এখানে নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। অল্প বৃষ্টিতে বিভিন্ন রাস্তায় পানি জমে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় ২ নং ওয়ার্ডের জনসাধারণকে।

এলাকার অধিকাংশই রাস্তাই ভাঙা। দীর্ঘ সময়ে রাস্তাগুলোর করা হয় নি কোন সংস্কার। ভাঙা রাস্তায় ঝুকি নিয়ে, ঝাকিতে কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসীন্দাদের।

পৌরসভার অস্তিত্ব প্রকাশ হয় একমাত্র রাস্তার পাশে ঝুলে থাকা সড়কবাতিতে। সেই সড়কবাতিও অধিকাংশই জ্বলে না। সড়কবাতির জন্য টাকা দিয়েও সেবা মিলছে না।

এছাড়া ও এই ওয়ার্ডের রয়েছে মশার সমস্যা, তবে কখনো মশা নিধনে উদ্যোগ নেয়া হয় নি। এছাড়াও রয়েছে সুপেয় পানি, পাবলিক টয়েলেটসহ ইত্যাদি সমস্যা। নেই কোন খেলার মাঠ, ফলে স্থানীয় ছেলেরা অবসর কাটানোর জন্য বেছে নিচ্ছে নেশাকে। এলাকায় হচ্ছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। স্থানীয় বেশীর ভাগ যুবক ছুটছে মাদকের দিকে।

এসব ব্যপারে  নিউজ৩৯ থেকে ২নং ওয়ার্ডের কমিশনার আলমাস উদ্দিনের সাথে বেশ কয়েকেবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি।

এক মিনিটে সিম নিবন্ধন

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অবৈধ সংযোগ বন্ধে ১৬ অক্টোবর থেকে একযোগে দেশের চলমান ১৩ কোটি মোবাইল ফোন গ্রাহকদের তথ্য নিবন্ধন ও হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়।

‘অবৈধ ও অনিবন্ধনকৃত সিম দেশ ও জাতীর জন্য বিপদজনক’ এই শিরোনামে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সব মোবাইল ফোন অপারেটর নেমে পড়েছে গ্রাহকদের তথ্য হালনাগাদ করতে। গ্রাহকরা ঘরে বসে খুব সহজেই বিনামূল্যে তাদের তথ্য হালনাগাদ করতে পারছেন।

সিমের তথ্য নিবন্ধন অথবা হালনাগাদ করতে চাইলে যে কোন মোবাইল অপারেটর থেকে মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম তারিখ, পূর্ন নাম লিখে পাঠিয়ে দিন ১৬০০ নম্বরে। ফিরিতি এসএমএস এর মাধ্যমে আপনার তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করে জানানো হবে।

Simআপনি আপনার পরিবারের সদস্যদের মূল্যবান সংযোগটি বন্ধ ও আইনি জটিলতার হাত থেকে রক্ষা পেতে দ্রুততার সাথে তথ্য হালনাগাদ নিশ্চিত করুন।

দোহার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড: নাগরীকদের অভিযোগই বেশি

দোহার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড লটাখোলা, চর লটাখোলার কিছু অংশ এবং বিলের পাড়ের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত। এ ওয়ার্ডে রয়েছে ২ টি উচ্চবিদ্যালয়, ১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ টি মাদ্রাসা, ৩ টি মসজিদ এবং একটি বাজার যা দোহারের অন্যান্য বাজার গুলোর চেয়ে বড়। জনসংখ্যা প্রায় তিন হাজার।

পৌরসভায় বসবাসকারী ১ নং ওয়ার্ডের জনগণের অভিযোগ তারা পৌরসভায় বসবাস করেও তেমন কোন সেবা পাচ্ছেন না। এই এলাকার প্রধান সমস্যা এখানে কোন ড্রেন নেই। ফলে বৃষ্টিতে হাটু পানি জমে যায় বেশীরভাগ রাস্তায়।  স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। এছাড়া ও এই ওয়ার্ডের রয়েছে মশার সমস্যা,সুপেয় পানির অভাব, পাবলিক টয়েলেটের অভাব, খেলার মাঠের অভাব, ভাঙ্গা রাস্তাসহ মাদকের মত ভয়াবহ সমস্যা।

এসব সমস্যার কথা শ্বীকার করে ১ নং ওয়ার্ডের কমিশনার বদরুল ইসলাম নিউজ৩৯-কে জানান,”হ্যা, আমার এলাকায় এসব সমস্যা রয়েছে। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করছি সমস্যাগুলোর সমাধানের। কিন্তু অনেক সময় অর্থ সংকটের কারণে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয় না। তবে আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যত তাড়াতাড়ি পাড়া যায় সমস্যাগুলোর সমাধান করতে”।

শোল্লায় চোলাই মদসহ আটক ২

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৩৬০ লিটার চোলাই মদসহ মো. সোহেল খান ও মো. আব্বাস নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের কোন্ডা এলাকার কালীগঙ্গা নদী পার হওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে উপজেলার কোন্ডা এলাকায় নদী পথে মাদক বেচাকেনার সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল নদী পথে আসা একটি ট্রলারে অভিযান চালায়। এ সময় তারা ট্রলারে থাকা ৩৬০ লিটার মদসহ সোহেল ও আব্বাসকে আটক করে তাদের থানায় নিয়ে আসে। তাদের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিউজ৩৯/নবাবগঞ্জ/ শোল্লায় চোলাই মদসহ আটক ২

দোহার-নবাবগঞ্জ গড়তে দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে হবে: সালমা ইসলাম

দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে আসুন নবাবগঞ্জ-দোহারের উন্নয়নে অংশ নেই। আলোকিত দোহার-নবাবগঞ্জ গড়তে সব রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি বুঝি না। দোহার-নবাবগঞ্জের দুখী মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। তাই সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে এক কাতারে রেখে আগামীর পথচলাই আমার লক্ষ্য।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় নবাবগঞ্জের বারুয়াখালী কুমার বাড়িল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় পার্টির কর্মিসমাবেশ ও যোগদান অনুষ্ঠানে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এ কথা বলেন।

বারুয়াখালী ইউপি’র সাবেক সদস্য এনায়েত মোল্লার সভাপতিত্বে দুর্গাপূজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে সালমা ইসলাম এমপি বলেন, বারুয়াখালী, জয়কৃষ্ণপুর, নয়নশ্রী ও শিকারীপাড়া ইউনিয়ন নবাবগঞ্জের অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত এলাকা বলে আপনারা দাবি করেছেন। আমি আপনাদের পাশে থেকে এসব এলাকায় রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে চাই।

বারুয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির কারণে করপাড়া থেকে ঘোশাইল পর্যন্ত তিন কিমি. পাকা রাস্তা দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বারুয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

দোহার পৌরসভা (শেষ পর্ব): উপসম্পাদকীয় – আব্দুর রহমান আকন্দ

0

প্রিয় পৌরবাসী, আরেকটি বিষয় আমার ভাবতে অবাক লাগে এই ২০১৫ সালে উপস্থিত হয়ে আমরা পৌরসভার রাস্তা নির্মাণ বা সংস্কার গুলো দেখলে দেখবো এগুলোর নাম দেয়া হয়েছে “পচার বাড়ির সামনে দিয়ে অমুকের বাড়ির পিছনের রাস্তা”। অথচ আমরা যদি একটু আধুনিক দৃষ্টি কোন থেকে দেখি তাহলে পৌরসভার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের  নামে যারা এখন ইন্তেকাল করেছেন তাদের নামে করা যায়। অথবা জাতির শ্রেষ্ট সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করা যায়। দোহার উপজেলা পৌর পরিষদকে বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তা তারাআমলে আনছে না। সুতরাং আমরা আমাদের বাপ দাদার নামে যে রাস্তার নামকরণ করে যাচ্ছি তা দেখার কেউ নাই।

একটি আধুনিক পৌরসভার জন্য অনেকগুলো জনকল্যান মুলক প্রতিষ্ঠান থাকতে হয়। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো দোহার পৌরবাসীর জন্য একটি কবরস্থান, বাস টার্মিনাল, পৌর খেলার মাঠ, পৌর মার্কেট, পৌর শিশু পার্ক, আবর্জনা নিষ্কাসনের স্থান, প্রতিটি ওয়ার্ডে সুনির্দিষ্ট কিছু স্থান যেখানে পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের অফিস থাকবে। কিন্তু প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও দোহার পৌরসভার আওতায় এগুলোর কিছুই নেই। আমি ব্যক্তিগত ভাবে দুইজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছিলাম এই ব্যাপারটা নিয়ে। তাদের বলেছিলাম এই সব প্রতিষ্ঠানের জন্য পরবর্তীতে জমি ক্রয় অসম্ভব হয়ে যাবে যদি এখইন জমি ক্রয় না করা হয়। তাই তাদের অনুরোধ করেছিলাম পৌরসভার খাস জমিগুলো কোন ব্যক্তিকে লিজ না দিয়ে তা পৌরসভায় স্থানান্তর করতে যা জনকল্যানের জন্য পৌরসভা ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমার এই পরামর্শ কারো কাছেই গ্রহনযোগ্য মনে হয় নি।

প্রিয় পৌরবাসী আপনারা লক্ষ করে থাকবেন দোহার পৌরসভার ভিতরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা চৌরাস্তা রয়েছে। যেমন বাশতলা থেকে করম আলীর মোড়, দোহার বাজার, কাজীর চর, জয়পাড়া কলেজ মোড় ইত্যাদি। এসব মোড় গুলোতে দুর্ঘটনা, যানজট ও অগোছালো গাড়ি পার্কিং সবসময় দেখা যায়। গত ৩ বছর অসংখ্যবার মেয়র ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে বলা হয়েছিল এই মোড় গুলোর মধ্যে মূরাল তৈরি করা হোক, এতে যেমন দুর্ঘটনা এড়ানো যেত সেই সাথে এই এলাকার সৌন্দর্যও বর্ধন হতো। এই প্রস্তাবটি আমি ৩ বছর আগে ব্যক্তিগত ভাবে উত্থাপন করলে অর্থের সংকটের কথা বলে বাড় বাড় এড়িয়ে যায় দোহার পৌরসভা। তখন আমি তাদের জয়পাড়া বাজারে অবস্থিত বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কাছে সহযোগিতা চাওয়ার প্রস্তাব করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে প্রাথমিক ভাবে মিটিং হলেও পৌর কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার অভাবের কারনে আলোর মুখ দেখে নি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি। এই মুরালগুলো স্থাপন করা হলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা এড়ানো যেত সেই সাথে পৌর এলাকার সৌন্দর্য বর্ধনও হতো। সেই সাথে মুরালগুলোতে এলাকার বিশিষ্ঠ ব্যক্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নাম করন করে তাদের সম্মানিতও করা যেত। যেমন নাম করন করা হয়েছিল দোহার বাজারের চত্ত্বরটি মরহুম কাজী আফতাব উদ্দিনের নামে।

অতীব দুঃখের বিষয় পৌর বাসীর সুযোগ সুবিধার দিকে পৌর কর্মকর্তাদের নজর দেয়ার কথা থাকলেও তারা নিজেদের দিকে বেশি নজর দিতে ব্যস্ত। পৌর সভার চাহিদা রাস্তাঘাট মেরামতকে উপেক্ষা করে পৌর কর্মকর্তাদের আরাম আয়েসের জন্য তৈরি করা হচ্ছে আরামদায়ক ইমারত এবং পৌর সভার জন্য তৈরি করা হচ্ছে গেট। যেখানে পৌরসভার মানুষের চাহিদা ও প্রাপ্তির মাঝে এতো পার্থক্য সেখানে পৌরসভার এমন কর্মকাণ্ড আমি মেনে নিতে পারি না।

সব শেষে আমার শেষ কথা, পৌরবাসী এই পরিষদের কাছ থেকে কতটুকু কি সুবিধা পেয়েছে তা আমি জানি না, তবে এতোটুকু জানি তাদের পৌরবাসীর সুবিধার দিকে নজর দেয়ার থেকে নির্বাচন ঠেকানোর দিকেই বেশি নজর।

আব্দুর রহমান আকন্দ
সাধারণ সম্পাদক
দোহার উপজেলা যুবলীগ
সর্বশেষ নির্বাচিত জিএস
জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদ ১৯৯৬

জয়পাড়া-মৈনট: সড়ক নয় যেন পুলসিরাত

ঢাকা-দোহার আন্তঃজেলা সড়কের জয়পাড়া থেকে মৈনট ট্রলারঘাট পর্যন্ত প্রায় ১০ কি.মি: রাস্তার বেহালদশা। এটাকে বর্তমানে সড়ক না বলে পুল সিরাত বলা যায়। এই বহুল ব্যবহৃত সড়কের পিচ ও ইটের খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর এ কারণে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। দীর্ঘদিন কোন সংস্কার না হওয়ায় স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির এ অবস্থায় প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোন নজরে না আসায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।

দোহারের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র জয়পাড়া হাট-বাজার। প্রতিদিনের বাজার ছাড়াও সাপ্তাহিক হাটের দিন দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ও ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থেকে শত শত ব্যবসায়ীরা এ হাটে আসেন। গাড়ীতে চলাচলকারী যাত্রীরা গর্তে উঠানামা করার সময়ে প্রায়ই আহত হন। গর্তে চাকা আটকে গিয়ে বিকল হয়ে গাড়ীর ইঞ্জিন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংস্কারের আশ্বাসের নামে কালক্ষেপন করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। একই অবস্থা ঢাকা দোহার সড়কের মেঘুলাবাজার, নারিশা, বাঁশতলা, কার্তিকপুর, চরকুশাই, জয়পাড়া বাজার , থানার মোড়সহ অর্ধশতাধিক স্থানের।

ঢাকা যাতায়াতের প্রধান এ সড়কটি দীর্ঘদিনেও সংস্কার কাজ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে দোহারসহ আশপাশের উপজেলার বাসিন্দাদের। দ্রুত এ রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।

দোহার পৌরসভা (২য় পর্ব): উপসম্পাদকীয় – আব্দুর রহমান আকন্দ

0

কিছু মনে না করলে দোহার পৌরসভা নিয়ে বর্তমানে যে আইনী জটিলতা আছে তার দায়ভার অনেকটা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার উপরও বর্তায়। জানি না এর জন্য নাজমুল হুদার কী লাভ হয়েছে। তবে আইনের আশীর্বাদপূষ্ট ১৫ বছরের অভিজ্ঞ(!) মেয়র আব্দুর রহিম মিয়া কিন্তু সব সময় ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকেই দায়ী করে থাকেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর  সরকারের সহযোগিতায় আর্থিক অনুদান, লোকবল ও অবকাঠামোগত ভাবে অনেক সহযোগীতা পেয়েছে দোহার পৌরসভা। যাই হোক অতীতকে পিছনে ফেলে আমরা কিভাবে এই পৌরসভার আইনী জটিলতা শেষ করে সামনের দিকে অগ্রসর করতে পারি সেদিকে দৃষ্টি রাখা জরুরি।

একটি পৌরসভার সাধারণ নাগরিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি অবশ্যই পৌরসভার নজর রাখতে হবে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এর মধ্যে অন্যতম। যা বিগত ১৫ বছরে এই পৌরসভা করতে পারে নি। অথচ পার্শ্ববর্তি থানা নবাবগঞ্জের আগলা ইউনিয়ন একটি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় এই ইউনিয়নের বেশিরিভাগ বাসিন্দাকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের আওতায় নিয়ে এসেছে। ১৫ বছরের অভিজ্ঞ পৌর পরিষদকে অনুরোধ করবো লজ্জাকে উপেক্ষা করে তাদের পরামর্শ গ্রহন করার জন্য।

গ্যাস সরবরাহ আধুনিক পৌরসভার একটি অন্যতম চাহিদা। এই দাবির যৌক্তিকতা হচ্ছে ঢাকার অতি সন্নিকটে দোহার অবস্থিত। তবে এটি একটি জাতীয় সমস্যা বলে দোহার পৌরবাসীর কিছু করার নেই বলে পৌরবাসী এই বিষয়টি সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখেন।

যাইহোক প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার যে ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকা দরকার তা লিখতে গেলে যে কতবার “নাই” শব্দটি লিখতে হবে তাই নিয়ে আমি নিজেই লজ্জিত।

বিগত দুই বছর আগে মহাজোট সরকার পৌরবাসীর পৌরসভার সুবিধা প্রদানের জন্য যে দোহার পৌরসভার বাজার উন্ননের প্রকল্পের মাধ্যমে জয়পাড়া বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করে এবং ব্যবসায়ীদের জন্য একটি পৌর মার্কেট নির্মিত হয়েছে এবং পৌরসভার রাস্তায় ব্যবহার করার জন্য ১২শত বাতির ব্যবস্থা করে।

যেকোন পৌর এলাকাকে পরিকল্পিত ভাবে গড়ে তোলার জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান থাকা উচিৎ। মাস্টার প্ল্যান একটি পরিকল্পিত পৌরসভা গড়ে তোলার জন্য অতীব জরুরি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আজ ১৫ বছর হয়ে গেলেও দোহার পৌরসভা আজও একটি মাস্টার প্ল্যান আলোর মুখ দেখাতে পারে নি। শুধু হই, হচ্ছে বলে গড়িয়ে গেছে ১৫ বছর সময়। জানিনা বর্তমান পৌর মেয়র ও তার পরিষদ এর কি জবাব দেবেন। কারণ জনগন তাদের নির্বাচিত করেছিল ৫ বছরের জন্য। আজ ১৫ বছর অতিবাহিত হলো কিন্তু সেদিক থেকে মনে হচ্ছে জনগনের কাছে তাদের জবাবদিহিতা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ না। এক যুগের বেশি সময় ধরে নির্বাচনবিহীন ভাবে দায়িত্বে থাকা এই পৌরসভার পরিষদের বিরুদ্ধে আমরা এই প্রশ্ন করতেই পারি। তাই পৌর পরিষদের উচিৎ অতি দ্রুত এই মাস্টার প্ল্যান সম্পন্ন করে এই মাস্টার প্ল্যান কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া। যেকোন প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী পৌরসভার ভিতরে তিন থেকে চার লেনের রাস্তা থাকতে হয়। যেমন ৬০ ফুট থেকে ৮০ ফুট পরিমান সুপ্রশস্থ রাস্তা, এছাড়া যেকোন দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য প্রধান সড়ক থেকে বাড়ি পর্যন্ত ১২ থেকে ১৫ ফুট প্রশস্থ রাস্তার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এর কোনটা আমাদের এই পৌরসভায় আছে কিনা তা আমার জানা নেই। মাস্টার প্ল্যান নাই বলে অপরিকল্পিত ভাবে যে যার মতো ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন বলে জয়পাড়া বাজারে এখন সব সময় যানজট লেগেই থাকে। এর কারন অপ্রশস্থ রাস্তা ও পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রন না থাকা। যে স্থাপনা গুলো এখন তৈরি হয়েছে তা ভাঙ্গা সম্ভব হচ্ছে না যে কারনে প্রতিনিয়তই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে দোহার পৌরবাসী।

আমি ব্যক্তিগতভাবে দোহার পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহিম মিয়া, নির্বাহী প্রকৌশলী ও কয়েকজন কাউন্সিলরকে অনুরোধ করেছিলাম যেহেতু জয়পাড়া বাজারের এই অবস্থা তাই বিকল্প হিসাবে বাশতলা থেকে করম আলীর মোড় হয়ে থানার মোড় হয়ে কাজীর চর পর্যন্ত রাস্তায় এখনও যেহেতু বড় কোন স্থাপনা তৈরি হয় নি তাই এই রাস্তাটাকে ৮০ ফুট প্রশস্থ করার পরিকল্পনা এখনই নেয়া উচিৎ।  এবং রাস্তার মাঝখানে আধুনিক ডিভাইডার স্থাপন করে দোহারে আধুনিক সড়ক ব্যবস্থা চালু করা হোক। তাই অবিলম্বে সড়ক ও জনপদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা প্রশাসন সহ সকলের সাথে আলোচনা করে রাস্তার ধারে নির্দিষ্ট পরিমান স্থান রেখে স্থাপনা তৈরি করার জন্য কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করা দরকার। পাশাপাশি যে সকল রাস্তার পাশে অবস্থিত খাল ও নালা দখল করে অবৈধ দখলদাররা ভরাট করে বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছেন সে সকল মৃত ও ভরাট খান দখল মুক্ত করে ৬০ ফুট প্রশস্থ রাস্তা করা সম্ভব। যা ভবিষত প্রজন্মের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কারন আগামী ২০ বছর পর দোহার পৌরসভার চিত্র হয়তো এমন থাকবে না। এর জনসংখ্যা হবে দ্বিগুন। অতএব জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে যদি এখনই কোন পরিকল্পনা না নেয়া হয়।

আব্দুর রহমান আকন্দ
সাধারণ সম্পাদক
দোহার উপজেলা যুবলীগ
সর্বশেষ নির্বাচিত জিএস
জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদ ১৯৯৬

প্রথম পর্ব