আলমগীর হোসেন উপজেলা চেয়ারম্যান: পীর সেন্টুর জন্য কি মেয়র হবার পথ খুলল?

জল্পনা, কল্পনা শেষে বিতর্কিত দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান উপ-নির্বাচন শেষে নির্বাচিত হলেন দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিনোদন পত্রিকা আনন্দভূবনের সম্পাদক আলমগীর হোসেন। শতধা বিভক্ত দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন্দলকে পাস কাটিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। আর আলমগীর হোসেন তার নির্বাচনী প্রচারে যাকে সবচেয়ে কাছে পেয়েছেন তিনি ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি শফিকুল ইসলাম সেন্টু। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলমগীর হোসেন উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার ফলে শফিকুল ইসলাম সেন্টুর রাজনৈতিক ভাগ্যের দুয়ার নতুন করে উন্মেচিত হয়েছে বলে মনে করছেন দোহারের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেন্টুর এই উত্থানে আওয়ামী লীগের ডাকসাইটের অনেক রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ।

শফিকুল ইসলাম সেন্টু দোহারের রাজনীতিতে কোন নতুন নাম নয়। এক সময় ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা। তার কর্মীদের কাছে তিনি পরিচিত নিবেদিত নেতা হিসাবে। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণে তিনি নিজ দলেও  ছিলেন উপেক্ষিত। সেন্টুর উত্থান মুলত ২০০১ সালে বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার পর থেকে। সালমান এফ রহমানের একান্ত কাছের লোক বলে পরিচিত পান  সেন্টু।

২০০১ সালে আওয়ামী লীগ বিএনপি জামায়াত জোটের কাছে পরাজিত হয়ে বিরোধী দলের আসনে বসলে শুরু হয় আওয়ামী নেতা কর্মীদের উপর নির্যাতন। এই নির্যাতন থেকে বাদ  যাননি তৎকালীন ছাত্র নেতা শফিকুল ইসলাম সেন্টু। সালমান এফ রহমানের আশীর্বাদে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নির্বাচিত হন এবং তৎকালীন সরকার বিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতেই ছিলেন শফিকুল ইসলাম সেন্টু। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর সালমান এফ রহমানের জেলে যাওয়ার সাথে সাথে সেন্টুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ফিকে হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলেও সালমান এফ রহমান আগ্রহ হারান দোহার উপজেলা কেন্দ্রীক রাজনীতিতে। উপরন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খানের সাথে প্রথমে সুসম্পর্ক থাকলেও পরে মতবিরোধ ও দ্বন্দ্বে আর উত্তপ্ত সম্পর্কের জেরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতেই দোহারে অবাঞ্ছিত হয়ে পড়েন সেন্টু। দোহারে আসতে পারেন নি প্রায় ৫ বছর। উল্টো সাধারণ নেতাকর্মীরা তাকে ঢাকা থেকে বরণ করে আনার জন্য মোটর সাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে নবাবগঞ্জ হয়ে দোহারে প্রবেশ করার মুখে নবাবগঞ্জে বাধাপ্রাপ্ত হয়। পুলিশের সাথে সেই সংঘর্ষের কারনে দোহারে আসতে পারেন নি তিনি।

কিন্তু সময়ের পালাবদলে দোহার পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হন সেন্টু। মোটামুটি ভাবে শক্ত অবস্থানে চলে গিয়েছিলেন নির্বাচনের এক পর্যায়। কিন্তু আদালতের রায়ে নির্বাচন স্থগিত হলে সেই নির্বাচনে আপাতঃ থামে সেন্টুর রাজনৈতিক রথ। বরং সেই নির্বাচনের পর হটাৎ করেই সাধক ধারায় নিজেকে পরিচালনা করেন। উত্তর জয়পাড়ায় নিজের দরগা তৈরী করে “পীর” হিসাবে আবির্ভূত হন শফিকুল ইসলাম সেন্টু। অনেকে এখানেই শেষ দেখেছিলেন তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের।

কিন্তু রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। আর তাই সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান উপ-নির্বাচনে আবার রাজনৈতিক মঞ্চে একক আধিপত্য নিয়ে এবার হাজির প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও শেখ কামালের বন্ধু সালমান এফ রহমান। এতেই সাথে সাথে দোহারে তার একান্ত কাছের লোক বলে পরিচিত শফিকুল ইসলাম সেন্টুও হাজির হন প্রভাবশালী হিসাবে। ৯ বছর পর সালমানের আগমনী মঞ্চে পা ছুয়ে আশীর্বাদ নিয়ে দোহার উপজেলার রাজনীতির মঞ্চে এ এক নতুন সেন্টু। সালমান এফ রহমান মনোনিত আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলমগীর হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণায় সবচেয়ে এগুনো ব্যক্তি শফিকুল ইসলাম সেন্টু। দোহার উপজেলার প্রতিটি অলি-গলিতে ঘুরেছেন আলমগীর হোসেনকে নিয়ে। ফুলতলা থেকে নয়াবাড়ি আলমগীর হোসেনের সাথে সব সময় আনারসের পক্ষে ভোট চেয়েছেন। ফলে তার এই রাজনৈতিক তৎপরতায় সালমান এফ রহমানের কাছে আরো কাছে পৌছে যান “পীর” খ্যাত সেন্টু।

উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সালমান এফ রহমান দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন্দল দূর করে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ করে আওয়ামী লীগকে সাজানোর ঘোষণা বেশ কয়েকবারই দিয়েছেন নির্বাচনের সময়। সেই ঘোষণা মোতাবেক যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে হয়তো সালমান এফ রহমানের দোহারের এই রাজনৈতিক ঘুটি পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ঘুটি হিসাবে শফিকুল ইসলাম সেন্টুর আগমন ঘটতে পারে বেশ জোরেশোরে। আর এই পট পরিবর্তনে বড় রকমের একটা মার খেতে পারে দোহারে উপজেলা আওয়ামী লীগের একটা অংশ। যারা বিগত নির্বাচন গুলোতে প্রার্থী পছন্দ না হলেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। যাদের কারণে সম্ভবত  ২০০১ সালে সালমান এফ রহমানকে হারতে হয়েছে দুই হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে।

ডিসেম্বরেই সরকার মেয়াদ উত্তীর্ণ পৌরসভার নির্বাচনগুলো দ্রুত করার চিন্তা ভাবনা করছে। এই দিক থেকে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন প্রার্থীর নামের সাথে জনমনে গুঞ্জন দলীয় প্রার্থী হতে পারেন শফিকুল ইসলাম সেন্টুও। তবে সময়ই বলে দেবে কে হচ্ছেন দোহার পৌরসভায় নিশ্চিত প্রার্থী।

দারিদ্র্য বিমোচনে সরকার কাজ করছে: সালমা ইসলাম

ঢাকা-১ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেছেন, দারিদ্র্য বিমোচনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। যাতে দেশের সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। তারা পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দে চলতে পারে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১১টায় নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা ইউনিয়নের চরমধুচরিয়া আশ্রায়ন প্রকল্পের নবনির্মিত কমিউনিটি সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তবে তিনি এ কথা বলেন।

সালমা ইসলাম বলেন, দেশের প্রতিটি ভূমিহীন পরিবারের জন্য আশ্রায়ন প্রকল্পের ব্যবস্থা করেছে সরকার। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনকল্যাণে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

সালমা ইসলাম এ সময় নেতা-কর্মীদের নবাবগঞ্জের উন্নয়নে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলমতের বাইরে দক্ষ সমাজকর্মী ও সৎ মানুষকে নির্বাচিত করার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল আহসান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আব্দুল কাদির মিয়া, আগলা ইউপি চেয়ারম্যান আবেদ হোসেন, নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব মো. ইব্রাহীম খলিল, জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক জুয়েল আহমেদ, এমএ মজিদ প্রমুখ।

দোহার থানায় ভুয়া ওয়ারেন্ট: শাস্তি পেলেন আদাবর থানার এসআই

দোহার থানার নামে ভূয়া ওয়ারেন্ট বের করার ফলে ১০ দিনের বেতন কর্তন করা হয়েছে আদাবর থানার এসআই ইয়াদুল হকের।

ছেলের আকিকা অনুষ্ঠান থেকে ডেভেলপার ব্যবসায়ী শাহীন আহমেদকে কথিত ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আটক করেন পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ইয়াদুল হক। এরপর মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আশ্বাসে পাঁচ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন। কিন্তু ওয়ারেন্টে উল্লিখিত আসামি শাহীন ও তার বাবা সফিকুল হক এসআইকে ৫০ হাজার টাকা দেন। বাকি সাড়ে চার লাখ টাকা পরে পরিশোধ করবেন মর্মে লিখিতভাবে মুচলেকা দেন। এরপর কিছুদিন যেতে না যেতেই এসআই ইয়াদুল টাকার জন্য দফায় দফায় চাপ দিতে থাকেন। অনেকটা নিরূপায় হয়ে শাহীন আহমেদ ওয়ারেন্টে উল্লেখিত দোহার থানা ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা সম্পর্কে খোঁজ নিতে গেলেই থলের বেড়াল বেরিয়ে পড়ে।

প্রমাণ হয় ওয়ারেন্টটি আসলে ভুয়া। এভাবেই ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে শাহীন আহমেদ নামে এক ডেভেলপার ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের নামে হেনস্তা করেছেন এসআই ইয়াদুল। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত গড়িয়েছে। তদন্ত করেছে পুলিশ সদর দপ্তরও। এ বিষয়ে গত জুলাইতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দেশের শীর্ষ এক গোয়েন্দা সংস্থা মারফত তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরও ঘটনার সত্যতা পেয়ে এসআই ইয়াদুল হকের ১০ দিনের বেতন কর্তন করেছে।

ঘটনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদাবর থানার এসআই ইয়াদুল হক গেল বছরের ১৩ই নভেম্বর রাজধানীর আদাবর থানার নবোদয় হাউজিংয়ের ৬/এ সড়কের ৬ নং বাড়ি থেকে ‘ওয়ার্ল্ড টাচ ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট’ নামক ভবন নির্মাণকারী একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। শাহীন আহমেদকে আটক করা হলেও তাকে থানায় না নিয়ে এসআই ইয়াদুল তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘণ্টা খানেক ঘুরিয়ে মোহাম্মদপুরস্থ শিয়া মসজিদ সংলগ্ন ইমু মোটরস নামে একটি গাড়ি সার্ভিসিং সেন্টারে বসিয়ে রেখে শাহীন আহমেদ ও তার পিতা শফিকুল হককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আশ্বাসে ৫ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করে।

সে সময় ওই ব্যবসায়ী নগদ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে এবং দাবিকৃত বাকি টাকা পরবর্তীতে পরিশোধ করা হবে মর্মে মুচলেকা দিয়ে এসআই ইয়াদুলের হাত থেকে ছাড়া পান। পরে বাকি টাকার জন্য এসআই ইয়াদুলের চাপে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগীরা দোহার থানায় মামলার বিষয়ে খবর নিয়ে জানতে পারেন, এসআই ইয়াদুল কর্তৃক কথিত ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে দোহার থানায় বর্ণিত ভিকটিমের বিরুদ্ধে দায়ের করা ২৫নং মামলার কোন অস্তিত্ব নেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওই থানায় মোট মামলা হয়েছে মাত্র নয়টি। এ বিষয়ে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে অনুসন্ধান করে এসআই ইয়াদুল কর্তৃক প্রদর্শিত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সীল, স্বাক্ষর সবই ভুয়া মর্মে জানা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবেদনে মন্তব্য আকারে বলা হয়েছে, আদাবর থানার এসআই ইয়াদুল বর্ণিত ব্যবসায়ী শাহীন আহমেদ ও তার পিতার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজির জন্যই ওই ভুয়া ওয়ারেন্ট ইস্যু করে মর্মে প্রতীয়মান হয়। এ কারণে এস আই ইয়াদুল হক কর্তৃক ভুয়া ওয়ারেন্ট তৈরি করে শাহীন আহমেদ নামের ব্যবসায়ীকে আটক ও চাঁদাবাজির বিষয়টি তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে শফিকুল হক মুঠোফোনে মানবজমিনকে বলেন, পুরো ঘটনাটি আমি বলতে পারবো না। তবে এরকম একটি ঘটনা ঘটেছিল। এখন ঘটনাটি কি অবস্থায় আছে তা আমার ছেলে বলতে পারবে।

এদিকে দোহার থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে দায়ের হওয়া ২৫ নম্বর মামলায় বাবা-ছেলেকে আসামি দেখানো হলেও ওই মাসে দোহারে মামলা হয়েছে মাত্র ৯টি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের ১৯শে আগস্ট পুলিশের আইজির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য বলা হয়।

২৩শে সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ডিসিপ্লিন) মো. আলমগীর আলম ফিরতি এক চিঠিতে জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তা কর্তৃক বিষয়টি সম্পর্কে তদন্ত করানো হয়েছে।

একই বিষয়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন-তেজগাঁও) কর্তৃক অনুসন্ধানপূর্বক দায়িত্ব অবহেলার অপরাধে তার ১০ দিনের বেতন কাটার আদেশ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠি পেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন নতুন করে চিঠি দেয়ার প্রক্রিয়া করছে।

দোহারে ইয়াবাসহ ব্যবসায়ী আটক

ঢাকার দোহারে ৩০ পিচ ইয়াবা সহ  সোহেল (৩০) নামে এক মদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ । ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বাঁশতলা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকৃত সোহেল রাইপাড়া ইউনিয়নের নাগেরকান্দা গ্রামের  লাঁল মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, উপজেলা বাশতলায় এক ব্যাক্তি ইয়াবা বিক্রয় করতেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে  ইয়াবাসহ তাকে আটক করে দোহার থানায় নিয়ে আসা হয় ।  পরে মঙ্গলবার  বিকালে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল করিম ভূঁইয়া ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে সোহেলকে ১ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়ে জেলহাজতে প্রেরনের নিদের্শ দেন ।

দোহার-নবাবগঞ্জে কয়েন নিচ্ছে না কোন ব্যাংক: বিপাকে ব্যবসায়ীরা

সরকারী ভাবে ১,২,৫ টাকার কয়েন নিষিদ্ধ করা না হলেও মিথ্যা গুজবে ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার ব্যবস্যায়ীদের মাঝে এটি নিয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এছাড়াও কঠিন কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ভিক্ষুকরা। স্থানীয় ব্যাংক গুলো বলছেন, শুধু নোট টাকা জমা নিই, আর কয়েন টাকা শুধু জনগনের সুবিধার্থে সরবরাহ করি। কয়েন উৎপাদনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কোন দিনই জমা নেওয়া হয়না। কয়েন টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। দেশ ব্যাপী ধাতব কয়েক টাকা নিয়ে ভোগান্তি সৃষ্টির পর এবার ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলাতেও একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১,২,৫ টাকার ধাতব কয়েন নিচ্ছেন না দোকানিরা।

এ উপজেলায় ব্যাংকের স্থানীয় শাখা গুলোতেও কয়েন লেনদেন দেখা গেছে অনীহা। ফলে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আনন্দ বসত পয়সা জমিয়ে অভ্যাস্ত শিশুরাও। সম্প্রতি ধাতব কয়েন নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ শুধু কয়েন গুলো বিতরণ করা। নেওয়া বা  না নেওয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা তারা পাননি। গতকাল  দুপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর, বাগমারা বাজার, সাদাপুর বাজার,বান্দুরা বাজারসহ দু’উপজেলার বিভিন্ন স্থানে  ঘুরে দেখা যায়, কোনো দোকানদারেরাই একাধিক ১,২,৫ টাকার কয়েন নিচ্ছেন না। কয়েন টাকা না নেওয়ার বিষয়ে এসব দোকানীদের কাছে জানতে চাইলে, তারা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের অভিযোগের কথা বলেন, কোনো ব্যাংক কিংবা কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা কয়েন না নেওয়ায় চরম লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের। এসব ক্ষুদ্র ও বড় ব্যবসায়ীদের কাছে লক্ষ লক্ষ কয়েন টাকা দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকার ফলে তাদের মূলধনেও টান পড়েছে বলেও জানান।

 নবাবগঞ্জ উপজেলার  ব্যবসায়ী  মো. বাচ্চু মোল্লা জানান, ছোট বা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১০০ বা ২০০ টাকার সমপরিমাণ কয়েন না নিলে কেউ মালামাল নিতে চায় না। কিন্তু সেগুলো ব্যাংক বা কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা না নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তিনি। হাজার হাজার টাকার কয়েন জমা পড়ে আছে। স্থানীয় ব্যাংক বা কম্পানির এজেন্টরা এগুলো না নেওয়ায় ব্যবসা করে যা লাভ হচ্ছে, পড়ে থাকা কয়েনের কারণে তা ব্যবসায় কুফল দেখা যাচ্ছে। একই অবস্থা দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজারের পাইকারী ব্যাবসায়ী মো. কাশেম জানান, খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে মালামাল বেঁচতে লেনদেনে তাকে কয়েন নিতে হয়। সেগুলো ব্যাংক বা কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা না নেওয়ায় তিনিও বিপাকে পড়েছেন।

মেঘুলা বাজারের আরেক খুচরা দোকানী মো. আলী এবং কার্তিকপুর বাজারের মুদি দোকানী শাহিন জানান, তারা ১ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামের খুচরা মালামাল বিক্রি করেণ। এজন্য বাধ্য হয়েই কয়েন নিতে হয় কিন্তু এভাবে নিতে নিতে কয়েক হাজার টাকার কয়েন জমা হয়েছে। হাজার হাজার টাকা এসব কয়েন বড় কোনো কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ও কোনো ব্যাংক না নেওয়ায় তারাও বিপাকে পড়েছেন। বিভিন্ন দোকানদারদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এসব কয়েন নিয়ে কি করব তা বুঝতে পারছে না। তাদের কাছে অনেক টাকার কয়েন জমা পড়ে আছে। স্থানীয় ব্যাংক এগুলো না  নেওয়ায় তা এখন বলতে গেলে অচল।

অন্যদিকে কয়েন চলছে না গুজবে মাটির ব্যাংক বা (ঘট) ভেঙে জমানো মুদ্রা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শিশু কিশোর, ছাত্র/ছাত্রী ও গৃহবধূরা। নবাবগঞ্জ উপজেলার স্কুল পড়–য়া ছাত্রী সামিমা কাজী জানান, আমি আমার মাটির ব্যাংকে ১,২,৫ টাকার প্রায় ২ হাজার টাকা জমিয়েছি কিন্তু এ টাকা এখন কেউ নিতে চায় না। শুধু তাই নয় কয়েনের  টাকা কোনো ফকিরও নিতে চায় না। এদিকে ভিক্ষুকরাও পড়েছে চরম বিপাকে। সারাদিন ভিক্ষা করে দেড়/দুই শত টাকার জোগাড় হয়। যা দিয়ে বাজার থেকে চাল, ডাল, তরকারী কিনে সংসার চলে। তারা যে টাকা পায় তার সিংহ ভাগই কয়েন টাকা। যেগুলো বাজারের দোকানদাররাও নিতে চাচ্ছে না। বিধায় সারাদিন ভিক্ষা করেও  কেনাকাটা করতে পারছেনা তারা।

দোহার-নবাবগঞ্জ  উপজেলার সকল বাজারের প্রায় সব ব্যবসায়ীর কাছেই হাজার হাজার টাকার কয়েন জমা হয়ে আছে। স্থানীয় ব্যাংক বা কোম্পানি এসব না নেওয়ায় তারা চরম হতাশ প্রকাশ করেছেন। এ সকল ব্যাবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরকার যদি তড়িৎ এসব আদান-প্রদানের ব্যবস্থা না নেয় তাহলে ব্যবসায় অনেক অবনতি ঘটবে এবং মূলধন সংকটে পড়বে।

সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের নবাবগঞ্জ শাখা ম্যানেজার মো. আলমগীর হোসেন মিয়া জানান, গ্রাহকরা আমাদের কাছ থেকে কয়েন টাকা না নেওয়ায় আমরাও গ্রাহকদের কাছে থেকে নিচ্ছি না।

দোহার – নবাবগঞ্জে নাজমুল হুদাকে নিয়ে গুজবের পর গুজব

নাজমুল হুদা, এক আলোচিত – সমালোচিত রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের নাম। দোহার-নবাবগঞ্জ তথা ঢাকা জেলা সহ রাজনৈতিক জনপ্রিয় নাম। সব-সময় ই আলোচনায় থেকেছেন, বিভিন্ন কর্মকান্ডে সমালোচিতও হয়েছেন। দলীয় শৃলংখা ভংগের অভিযোগে বার বার দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন; আবার জনপ্রিয়তার কারণে দলেও ফিরে গেছেন। এমনকি নিজেও পদত্যাগ করেছেন। আবার দেখা গেছে তার নিজ হাতে গড়া বিএনএফ থেকেও বহিষ্কৃত হয়েছেন। তাকে নিয়ে দোহার – নবাবগঞ্জে গুজবের অন্ত নেই। এক গ্রুপ তা বিশ্বাস করে, অপর গ্রুপ তা হাওয়ায় উড়িয়ে দেয়। তবে আসলে কি ঘটতে যাচ্ছে নাজমুল হুদা কেন্দ্রিক দোহার – নবাবগঞ্জ রাজনীতিতে।

একের পর এক নাজমুল হুদাকে নিয়ে গুজবে উচ্চকিত দোহার-নবাবগঞ্জ বিএনপি। আজকে তিনি তারেক জিয়ার সাথে কথা বলেছেন, কালকে ম্যাডাম জিয়ার সাথে দেখা করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফিরছেন, আজ তারেক জিয়ার সাথে সিঙ্গাপুরে দেখা করে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলেছেন; এরকম এক পর এক গুজবে দিশেহারা দোহার-নবাবগঞ্জ বিএনপি। এক কথায় পুরো ঢাকা জেলা বিএনপি। ফলে একদিকে সর্ব সময়ে সুবিধাভোগী কিছু বিএনপি নেতা যেমন খুশিতে বগল বাজায় অপর দিকে দলের দুঃসময়ে দোহার-নবাবগঞ্জ বিএনপির হাল ধরে থাকা নেতারা আছেন চরম আতংক ও সংশয়ে। নাজমুল হুদা যদি দলে ফিরে আসেন তাহলে সেই বিএনপিতে কি তাদের জায়গা হবে নাকি হারিয়ে যাবেন নব্য চাটুকারদের ভীড়ে। কেননা নাজমুল হুদার দলত্যাগ; ঢাকা জেলা বিএনপিসহ এক কথায় মহানগর বিনেপি’তে এর আঁচ পড়ে। আন্দোলন সংগ্রামে সাংগাঠনিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ে বিএনপি।

গুজব রয়েছে তিনি দলের স্ট্যান্ডিং কমিটিতে ঢুকছেন; একই সাথে ফিরে পেতে পারেন ঢাকা জেলা বিএনপি’র সভাপতি পদ। আর তা না হলে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি বা সেক্রেটারী পদ। অথবা শুধুমাত্র ভাইস – চেয়ারম্যান পদ নিয়েই তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। এবার গুজব তারেক জিয়ার শ্বাশুড়ী’র মাধ্যমে তারেক – হুদা ফোনালাপ হয়েছে। আর এতে নাকি তিনি ফিরে পাচ্ছেন দলীয় শীর্ষ পদ।

একথা নিঃসন্দেহ যে দোহারের রাজনীতিতে নাজমুল হুদা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা। বিশাল জনগোষ্ঠির নিকট তিনি এখনো জনপ্রিয় তার উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য। কিন্তু বার বার বহিষ্কৃত ও নিজে দলত্যাগী এবং নতুন দল গঠনকারী এই নেতা – কে অনেকে সাবেক প্রেসিডেণ্ট  এরশাদের হটকারীতার সাথে তুলনা করে থাকেন।

দোহার বিএনপির দুঃসময়ে যিনি হাল ধরে ছিলেন, দলের প্রতি যিনি সবসময়ে আনুগত্য প্রকাশ করেছেন  দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দীন আহমেদ এর মতো এমন নিবেদিত প্রাণ নেতা-কর্মিরা যারা ব্যক্তি নয়, সর্ব সময় দলের সাথে থেকেছেন। এক এগারো সময়ে নির্যাতন, মামলা বা রিমান্ডের শিকার হয়েছেন যারা বিএনপি ছেড়ে কোথায় যান নি, যদিও এমন অনেক প্রস্তাব ছিল বিএনপি ছাড়লে আর্থিক ও প্রশাসনিক সহযোগীতা পাবেন। কিন্তু দলকে সংগঠিত রাখতে, জাতীয়তাবাদী চেতনা সমুন্নত রাখতে  তারা  ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ফলে নাজমুল হুদা যখন নতুন দল গঠন করলো দোহার উপজেলা বিএনপির অনেক নেতাকর্মী তার পদাংক অনুসরন করে বিএনপিতে ছাড়লেও দলের দুঃসময়ে সাহাবুদ্দীন আহমেদ, ডালু খন্দকার বা সিরাজুল ইসলাম ভুলুর মতো লোকেরা ধরেছিলেন দোহার বিএনপির হাল। যদিও এসব কমিটিতে ছিল হুদা অনুসারী কিন্তু বিএনপি পন্থী নেতা-কর্মী।

কোনভাবেই যেন হুদার প্রচ্ছন্ন প্রভাব থেকে বের হতে পারছিলেন না তারা। অবঃশেষে দোহার উপজেলা নির্বাচনে স্পষ্টত দু;ভাগ হয়ে গেল বিএনপি। সেখানে ব্যাঃ হুদার ইমেজ কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করলেন তার অনুজ ও ঢাকা জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি কামরুল হুদা এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শামীমা রাহিম। এরপরই মূল দল থেকে দূরত্ব বাড়তে থাকে হুদাপন্থীদের। এতে সংকটে পড়ে আন্দোলনে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়া দোহার – নবাবগঞ্জ বিএনপি।

সেই সব ত্যাগী নেতা-কর্মিরা দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করে পরম মমতায় আগলে রাখেন দোহার নবাবগঞ্জ বিএনপি। সীমিতি পরিসরে নেতা বিহীন বিএনপি কোনরকমে নামকাওয়াস্তে চালিয়ে যেতে থাকেন দলীয় কর্মসূচী। অনেক নেতা – কর্মি আটক হলেও অদৃশ্য কারনে হুদাপন্থীরা রয়ে যান থানা পুলিশের নাগালের বাহিরে। বর্তমানে দোহার উপজেলা বিএনপি মোটামুটি গুছিয়ে আনলেও কয়েক দিন পর পর নাজমুল হুদাকে দলে যোগদানের গুজব তাকে এবং দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্গখলাকে বার বার করছে আঘাত। ফলে কোন ভাবেই সুসংগঠিত করতে পারছেন না দোহার উপজেলা বিএনপি।

বাংলাদেশ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি সম্ভাব্য দোহার-নবাবগঞ্জের আগামী দিনের নেতা  ভিপি কামাল এই বিষয় নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি।

এদিকে দোহার-নবাবগঞ্জ বিএনপির আরেক কাণ্ডারি নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নির্বাহী খন্দকার আবু আসফাকও কয়েকদিন পর পর নাজমুল হুদাকে নিয়ে সংগঠিত এইসব গুজব নিয়ে বিরক্ত। তার মতে এতে তার নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এক সময়ের নাজমুল হুদার গ্রুপের অন্যতম শক্তিশালী এই নেতাও নাজমুল হুদা বিএনপি ছেড়ে গেলেও তিনি দল ছাড়েন নি। যদিও তিনি একসময় চেয়েছিলেন নাজমুল হুদা দলে ফিরে আসুক কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বার বার বিএনপিকে ক্ষতিগ্রস্থ করে যাওয়া নাজমুল হুদাকে নিয়ে তিনি আর চিন্তা করেন না। বরং কয়েক দিন পর পর নাজমুল হুদাকে নিয়ে বেরোনো রং মাখানো বিভিন্ন অতি রঞ্জিত নিউজ নিয়ে তিনি দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।

খন্দকার আবু আশফাক, নাজমুল হুদার বিএনপিতে যোগ দান গুজব প্রসংগে বলেন, দোহার – নবাবগঞ্জ বিএনপি খন্দকার আবু আশফাকের নেতৃত্ব বর্তমানে সুসংগঠিত আছে। দলের চেয়ারপার্সন তাকে দলে নিলে আমরা তাকে স্বাগত জানাবো । তবে সেক্ষেত্রে দলীয় নেতা-কর্মিদের মাঝেতো উস্মা থাকবেই। নেতা-কর্মিদের মাঝে যে দূরত্ব রয়েছে সেটা হুদা ভাইকে – ই মেটাতে হবে।

একের পর এক কয়েক দিন পর পর নাজমুল হুদার বিএনপিতে যোগদানের খবর নিয়ে তোলপাড় দোহার-নবাবগঞ্জের বিএনপি।

এদিকে দোহারে নাজমুল হুদার বিএনপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে সংশয়ে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোহার বিএনপি’র শীর্ষ এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতা বলেন, “ নাজমুল হুদা বিএনপি’কে যে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে সময়ের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বিএনপি ও দোহার-নবাবগঞ্জ বিএনপি সে ক্ষতি পুষিয়ে ঊঠলেও এখন আবার হটাৎ করে তার বিএনপিতে যোগদানের গুজব দোহার-নবাবগঞ্জ বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের যারা দলের দুঃসময়ে বিএনপির হাল ধরে ছিলেন তাদের শুধু হতাশই করছে না সুবিধাভোগী কিছু বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য বিএনপিকে আবার টেন্ডারবাজদের দলে পরিনত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।  ফলে একদিকে বিএনপির দুঃসময়ে ব্যক্তিপূজা না করে আমরা দলের সাথে থেকেছিলাম যেমন আতংকিত ঠিক তেমনি ভাবে টেন্ডারবাজ সুবিধাভোগী নেতারা যারা ব্যক্তিপুজোর রাজনীতি করে তারা উৎফুল্ল। এই ভাবে তো একটা দল চলতে পারে না। দলে এতদিন পরে তাদের পরিচয় কি হবে আর আমাদের – ই বা কি হবে। কে কাকে মূল্যায়ন করবে। ”

ব্যরিষ্টার নাজমুল হুদা যেসময় দল থেকে বের হয়ে যায়  সেসময় দোহার-নবাবগঞ্জ বিএনপি হয়ে পড়েছিল অভিভাবক শুন্য। ফলে কোন্দল মুক্ত দোহার-নবাবগঞ্জ বিএনপি বা বৃহত্তর ঢাকা জেলা বিএনপিতে সৃষ্টি হয় শুন্যতা। ফলে এক সময়ের ঐক্যবদ্ধ বিএনপি হয়ে পড়ে ৪ থেকে ৫ গ্রুপে বিভক্ত। ফলে বিভিন্ন সময় আন্দোলন সংগ্রামে কোন ভূমিকাই রাখতে পারে নি বিএনপির এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটি। ফলে বিএনপির এই বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত করে দুর্বল করার দায় ও ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে নিতে হবে বলে মনে করেন বর্তমানে দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের  নেতা কর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোহার এর বিএনপির এক ইউনিয়ন পরিষদ সভাপতি ক্ষোভের সাথে নিউজ৩৯কে বলেন, আমরা এক সময় দাদা বলতে অন্তপ্রান ছিলাম। তার জন্য আমরা যেকোন কিছু করতে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু তিনি একের পর এক আত্মঘাতি ও বিএনপিতে ভাঙ্গন ধরানোর জন্য প্রথমে বিএনএ পরে বিএমপি গঠন করেন। ফলে তিনি স্থানীয় নেতা কর্মীদের মাঝে সৃষ্ঠি করেছেন হতাশা। ফলে তার জায়গা তিনি তার কিছু চটুকার ছাড়া দলের সবার কাছে হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি দোহারে আর বিএনপির জন্য কোন বড় ফ্যাক্টর না।

দোহার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাসুদ পারভেজ নিউজ৩৯কে বলেন, গত কয়েক দিন ধরে দাদা(নাজমুল হুদা) দলে ফিরছেন বলে গুজব থাকলেও এর কোন ভিত্তি তিনি খুজে পান নি, আর তার ফিরে আসার সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে। তবে তিনি যদি ফিরে আসেন সিনিয়র নেতা হিসাবে আমরা তাকে স্বাগত জানাবো, তবে উনি ফিরে আসলেন আবার পরিস্থিতি অনুসারে বের হয়ে গেলেন এবং নতুন দল খুললেন সেটা তো মেনে নেয়া যায় না। তাছাড়া বিএনপির নেতা কর্মীরা এখন আর কোন ব্যক্তির অনুসারী নয়। তারা দলের অনুসারী, দাদাকে যদি দল মনে করে নিবে। তবে দলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে আমরাও তাকে মেনে নিবো।

২৪ দিনেও খোঁজ মেলেনি আফসানার

নিখোঁজের ২৪ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো সন্ধান মেলেনি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বিলপল্লী গ্রামের প্রবাসী মো: জুয়েল মণ্ডলের স্ত্রী আফসানার আক্তার মঞ্জুরার। ঘটনার পরের দিন আফসানার শ্বশুর মো: আওলাদ নবাবগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ কোনো কূলকিনারা করতে না পারায় পরিবারের লোকজন উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ দিকে মোবাইল ফোনে আফসানার মুক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

নিখোঁজ আফসানার ভাই জাহিদ জানান, নিখোঁজের পাঁচ দিন পর একটি মোবাইল ফোন থেকে জানানো হয় আফসানকে ফেরত পেতে হলে রাতের মধ্যেই ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। মুক্তি পণের টাকা রাতের মধ্যে না পেলে আফসানাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। ওই দিন রাতেই আফসার ভাই মুক্তিপণের ২০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। এর পর থেকেই নম্বরটি বন্ধ রয়েছে জানান আফসানার ভাই জাহিদ।

জানা যায়, দুই বছর আগে নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়নের বিলপল্লী গ্রামের মো: আওলাদ হোসেনের ছেলে কাতার প্রবাসী জুয়েল মণ্ডলের সাথে কেরানীগঞ্জের হজরতপুর উত্তর বালুরচর গ্রামের আফসানা আক্তারের বিয়ে হয়। আফসানা বিয়ের পর থেকে বাবার বাড়িতে থাকতেন। গত ১১ অক্টোবর আফাসানা শ্বশুরের অসুস্থতার খবর শুনে কেরানীগঞ্জ বাবার বাড়ি থেকে সকালে নবাবগঞ্জে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। সর্বশেষ পরিবারের লোকজনের সাথে দুপুর ১২টার দিকে কথা হয় তার। তখন আফসানা উপজেলার বান্দুরা বাজার ব্রিজে ছিল বলে জানায় সে। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক বাছির জানান, নিখোঁজের পর থেকেই আমরা ঘটনাটি উদঘাটনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

শেষ হলো নুরুল্লাহপুর ফকির বাড়ির হাওয়াই শিন্নি

অবশেষে তিন দিনের জারি ও বাউল গানের পর শেষ হলো দোহারের সুন্দরীপাড়ার নুরুল্লাহপুর দরবার শরিফের তিন দিনের হাওয়াই শিন্নির উৎসব। দূর দুরান্ত থেকে শিষ্যদের পদপভারে মুখরিত নুরুল্লাহপুর দরবার শরিফের এই উৎসবের শেষ হয় মঙ্গলবার রাতে। আজকে থেকে আবার খালি হতে শুরু হয়েছে নুরুল্লাহপুর দরবার শরিফ। আবার মাঘ মাসের পূর্ণিমার সময় বাৎসরিক ওরশ শরিফের সময় আবার শিষ্য পদভারে জমে ঊঠবে নুরুল্লাহপুর দরবার শরিফ।

মুলত মাঘ মাসের বাৎসরিক ওরশকে কেন্দ্র করে জমে ঊঠে নুরুল্লাহপুর দরবার শরিফ। এছাড়াও কার্তিক মাসেও একবার জমে ঊঠে মিলন মেলা। গরুর দড়ি ছেড়া প্রতিযোগীতা থেকে শুরু করে ছোট মেলা ও রাতে বাউল গানের আসর বসে নুরুল্লাহপুর ফকির বাড়িতে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয় নি। তিন দিন আগে শুরু হওয়া এই হাওয়াই শিন্নি উপলক্ষে দূর দুরান্ত থেকে ফকির বাড়িতে এসে উপস্থিত হতে থাকে নুরুল্লাহপুর ফকির বাড়ির শিষ্যরা।  ফকির বাড়ির পীরদের সন্তুষ্ট করার জন্য নিয়ে আসে বিভিন্ন উপহার। ফকির বাড়িতে চলে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান।

কালকে রাতে সকল আচার অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আজ দলে দলে নুরুল্লাহপুর ছাড়ছেন ভক্তরা। আবার মাঘ মাসে পূর্ণিমায়  তারা ফিরে আসবেন নুরুল্লাহপুর ফকির বাড়ির দরবারে।

নবাবগঞ্জে সাপের ছোবলে যুবকের মৃত্যু

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় সাপের কামড়ে সুকুমার ঘোষ (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত সুকুমার ঘোষ উপজেলার সিংহড়া গ্রামের মৃত গোরাঙ্গ ঘোষের ছেলে। শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে সুকুমার সিংহড়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথে একটি ঝোঁপের পাশে প্রস্রাব করার সময় সাপ তার ডান পায়ে ছোবল দেয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা শেষে মধ্য রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। শনিবার সকালে থেকেই তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

দোহার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আটক

দোহার উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মবিনুর রহমান (৪৭) কে গ্রেফতার করেছে দোহার থানা পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে রাইপাড়া ইউনিয়নের পালামগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত মবিনুর রহমান মাস্টার বরিশাল জেলার কোতয়ালী থানার সাগনদী গ্রামের মোদাচ্ছের হোসেনের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি জামায়াত ইসলাম বাংলাদেশের সদস্য এবং  দোহার থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক। দোহার উপজেলায় নানা রকমের নাশকতা ও রাষ্ট্র বিরোধী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দোহার থানায় দুটি মামলা রয়েছে।