নানা সংকটে নাজেহাল নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নবাবগঞ্জ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বর্তমানে নানা সংকট ও অনিয়ম থাকলেও দেখার কেউ নেই। ডাক্তার সংকটসহ এক্স-রে মেশিন অচল হয়ে পড়ায় গরিব রোগীরা পড়েছে বিপাকে। ফলে উপজেলাবাসী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ জনসংখ্যার জন্য উপজেলা পর্যায়ে একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির কর্মকর্তা ও ডাক্তারদের সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। নোংরা পরিবেশে রোগীদের চিকিত্সা দেয়া সুইপার, ঝাড়ুদার, আয়াদের দিয়ে গরিব রোগীদের ইনজেকশন পুশ করা হয়। সময়মতো ডাক্তার না থাকায় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা ওষুধ নেই বলে গরিব রোগীদের ধমক দেয়।

রোগীদের অভিযোগ, এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘদিন যাবত্ অকেজো হয়ে পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। রোগীদেরকে প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে চিকিত্সা নিতে হয়। এসব প্রাইভেট ক্লিনিকের সঙ্গে চিকিত্সকদের রয়েছে সখ্যতা। রোগী পাঠিয়ে তারা কমিশন নেন।

ঢাকা জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. জাকির হোসেন বলেন, নতুন এক্স-রে মেশিনের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা  কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। তবে অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুন নাহার কোনো তথ্য  দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

লটাখোলা ব্রীজ: ৫০ হাজার মানুষের দুঃখ

ঢাকার দোহার উপজেলার লটাখোলা করমআলীর মোড় সংলগ্ন একটি ব্রিজ দেবে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী। দোহার পৌরসভার অন্তর্গত পদ্মানদীর শাখা খালের উপর নির্মিত এই ব্রিজটির পিলারের মাটি সরে গিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। ফলে  উপজেলা সদরের সাথে ৪টি ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার লোক যোগাযোগে বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে আছে। আর এই ব্রিজটি অকেজো হওয়ায় খালের অন্য পাড়ের মানুষ উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ করছে প্রায় ৩/৪ কিলোমিটার ঘুরে।

উপজেলা সদরের সাথে মাহমুদপুর ও বিলাসপুর  ইউনিয়নের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এই ব্রিজটি। ফলে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চর অঞ্চলের সাধারন মানুষ আছে চরম ভোগান্তিতে। আর পিলারের নিচের মাটি সরে গিয়ে মাঝ খানে দেবে গিয়ে উচু নিচু হওয়ায় প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষ।

দোহার পৌরসভার এই ব্রিজটি নি¤œ মানের সামগ্রী দিয়ে নির্মান করায় এই করুন অবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন। দীর্ঘ দিনের এ সমস্যার কথা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও এমপির কাছে আবেদন করেও কোন ফল পায়নি  অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এ বিষয়ে পৌর মেয়র আ. রহিম মিয়া জানান, এটি আমাদের পৌরসভার মধ্যে পড়েনি। মাহমুদপুর ইউনিয়নের মধ্যে পড়েছে। তবে মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন ব্রিজটি পড়েছে দোহার পৌরসভার মধ্যে। আমাদের ইউনিয়নে পড়ার প্রশ্নই উঠেনা।

দোহার উপজেলার পৌরসভার অর্ন্তগত লটাখোলায় পদ্মা নদীর শাখা খালের উপর এই ব্রিজটি অকেজো থাকার ফলে খালের অন্য পাড়ের মানুষ উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ করছে প্রায় ২ কিলোমিটার ঘুরে। এই ব্রিজ দিয়ে দোহারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে শত শত শিক্ষার্থী। উপজেলা সদরে হাসপাতাল, ব্যাংক, বীমা, শপিংমল ও দোহার থানার অবস্থান হওয়ায় মানুষকে যেতে হচ্ছে শত দূর্ভোগের মাঝেও। তাই সাধারন মানুষ চায় এই দুর্ভোগের অবসান।

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: কুঠুরিতে সালমা ইসলাম

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, ঐক্যবদ্ধ ভাবে সকল সমস্যার সমাধান করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। শুক্রবার বিকাল ৫টায় নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কুঠুরি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় পার্টির কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

সালমা ইসলাম বলেন, একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দেশের সাধারণ মানুষ। যেখানে পুলিশের নিরাপত্তা নেই, সেখানে আমাদের সাধারণ জনগণের কি অবস্থা হবে। তাই একটি সুন্দর সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। অনেক জীবনের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সেই স্বাধীনতার সুফল পেতে আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে।

সালমা ইসলাম আরও বলেন, নবাবগঞ্জের অবহেলিত এ অঞ্চলের মানুষের যে কোনো উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে আছি এবং থাকব। কোনো সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু ক্ষতি করতে চাইলে আমাকে জানাবেন।

জাতীয় পার্টির নেতা আবদুল মালেক মোল্লার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার নুরুল আনোয়ার বেলাল, জুয়েল আহমেদ, জাহাঙ্গীর চোকদার, আসাদুজ্জামান চৌধুরী রানা প্রমুখ।

জামশায় বসেছে লালন মেলা

মানিকগঞ্জের জামসায় বসছে লালন মেলা। এই উপলক্ষে দূর দুরান্ত থেকে মানিকগঞ্জের জামসা বাজারে এসে জরো হচ্ছে সাধুরা। সেই জন্য জামসা বাজারে জ্বলছে ধামের যজ্ঞ। যজ্ঞের চারদিকে বসে আছেন নানা বয়সের প্রায় তিন শতাধিক সাধু-সন্ন্যাসী। কেউ জটাধারী, কারও পরিধানে লাল গেরুয়া। আবার কেউ ত্রিশুলের মাথায় কুমণ্ডল বেঁধে যজ্ঞের সামনে বসে আছেন। তাদের একটাই লক্ষ্য- সাধুসঙ্গ করে মুক্তির পথ খুঁজে পাওয়া।

কার্তিকের লক্ষ্মীপূর্ণিমার প্রথম দিন (২৯ অক্টোবর) থেকে বসেছে সাধু সঙ্গের এ মেলা। চলবে পনেরদিন (১৩ নভেম্বর) পর্যন্ত। দিনে দূর থেকে সাধুদের সুর-লহরি পুরোপুরি শোনা না গেলেও সন্ধ্যার পর যজ্ঞের সামনে থেকে উচ্চ স্বরে ভেসে আসে সাধু-ভক্তের কলতান।

সাভার-মানিকগঞ্জ-নবাবগঞ্জের সীমানা ঘেঁষে যাওয়া জামশা কালিগংগা নদীর ব্রিজ পেরুলেই জামশা সরু রাস্তা। ভ্যান, রিকশা, নছিমন, করিমন, অটোরিকশায় পুরো রাস্তা ঠাসা। পায়ে হাঁটা মানুষেরও কমতি নেই। সাধুদের ধাম যজ্ঞে যাওয়ার রাস্তাই এটি। ভিড়ের কারণে ভ্যান ছাড়তে হলো নদীর ঘাট থেকেই। প্রায় অর্ধমাইল হাঁটতে হয় সাধুর মেলায় যেতে। জামশা বাজরের কাছে আসতেই বাঁশির সুর লহরি শোনা গেল। সঙ্গে ঢোলের শব্দও। সব মিলে ভাব-তরঙ্গের মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাঁশির সুর যেন বলতে চাইছে ‘লালন বলে, লালন বলে’। অমন সুরে সুর মেলাচ্ছেন হেঁটে চলা সাধু ভক্তরাও। যেন সবাই দোহারি, সবাই সাধক বনে যেতে চাইছে। নিশানা জামশা সাধুর মেলা।

আজ থেকে ৪২ বছর আগে এমনি দিনে ধরা থেকে বিদায় নিয়েছিলেন দুর্গা ও রাধা নামের দুই সাধু। তারাই প্রথম আয়োজন করেন সাধুদের মিলন মেলা। দুর্গা ও রাধা সাধুর তিরোধান উপলক্ষে মানিকগঞ্জের সিংগাইর দক্ষিণ জামশা হাটের বট তলায় প্রতিবছর আয়োজন করা হয় সাধুর মেলার। এরই ধারাবাহিকতায় লক্ষ্মীপূর্ণিমার দিন থেকে (২৯ অক্টোবর-থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত) ১৫ দিন ধরে চলে সাধুর মেলা। শুধু সাধুদের মেলা নয়। এ উপলক্ষে যাত্রাগান, পুতুল নাচ, সার্কাসসহ নানা পন্যের দোকানপাট বসে। ভাঙা-গড়া মিলে প্রায় ১ মাস থাকে মেলা।

মেলার প্রথম দিন থেকেই সাধক-বাউলের পদচারণায় ভরে ওঠেছে কালীগঙ্গার তীর। কোনো বাধাই পথ রুদ্ধ করতে পারেনি সাধক-আশেকানদের। সব জঞ্জাল পায়ে মাড়িয়ে শত শত সাধক-সন্ন্যাসী মিলে এক মহামিলনে রূপ নিয়েছে জামশা হাটের বটতলাকে। পুরো জামশা হাট এলাকা হয়ে ওঠেছে সাধকের তীর্থস্থান।

সাধুর মেলা ঘিরে চাকুরিয়া, ভূরাখালি, উত্তর জামশা, দুধঘাটা, বনপালিনসহ জামশা বাজারের আশপাশের গ্রামের পায় প্রতিবাড়িতেই এ উপলক্ষে আত্মীয়-অনাত্মীয় অতিথিদের আগমন ঘটে উল্লেখ করার মত। বিশেষ করে এসময় নব-জামাইদের আনাগোনা বেড়ে যায়।

৬৫ বছর বয়সী আনন্দ সাধু বলছিলেন, ‘প্রায় বিয়াল্লিশ বছর ধরে সাধুর মেলায় (ধাম যজ্ঞে) আসি। দুর্গা ও রাধা সাধুর ধামে সদাই কিনে মন ভরে না। যতই আসি, তৃষ্ণা ততই বাড়ে। এ তৃষ্ণা মেটাবার নয়। এ দুজনের বাণীতে মুক্তি মেলে। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে আত্মাকে শিশুরূপ দিতে তারা পথ দেখিয়েছেন। মুক্তির তাড়না অনুভব করে তাদের দেখানো পথেই হাঁটতে চেষ্টা করছি।’

ধাম যজ্ঞকে ঘিরে সাধু-সন্ন্যাসির গুচ্ছ গুচ্ছ আড্ডাও কম নয়। এসব আড্ডা থেকে ঢোল বাজিয়ে গান গাইছেন তারা। ‘অনুরাগ নইলে কী আর সাধন মেলে…।’ আবার কেউ কেউ গাইছে, ‘খুঁজে ফিরেছেন ‘মানুষ রতন’, যাকে কখনও ‘মনের মানুষ’, ‘পড়শী’ ‘অচিন পাখি’ আবার কখনও ‘সহজ মানুষ’ বলে ডেকেছেন লালন ফকির।

লালন ভক্তরাও ‘মনের মানুষ’ খুঁজে ফিরতে দিশেহারা। পরনে সফেদ লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া। নারীদের বসনেও সাদার ছড়াছড়ি। এরা জাতে বিশ্বাসী নয়। সাদায় জাত চেনা যায় না। সাদায় রঙ থাকে না, হিংসা থাকে না। সাদাতেই কালো দূর হয়।

এমনটিই মনে করেন ৭০ বয়সের সাধক শচীন চন্দ্র পাল। তিনি এসেছেন সিরাজগঞ্জ থেকে। তিনিও প্রায় তিন ১২ বছর ধরে এ ধামে আসেন। বলছিলেন, ‘এমন সাধুসঙ্গ দুনিয়ার আর কোথাও মেলানো ভার। সাধুসঙ্গ আমাদের পথ দেখিয়েছে। ও পথেই মুক্তি।’

শচীর সাধকের মতো জয়গুন পাগলী, ইউসুফ সাধু, মো. আব্দুল গফুর, হিসাব আলী, শহীদ পাগল, জালাল পাগলসহ প্রায় তিন শতাধিক সাধু-ভক্ত মনের মানুষ খুঁজে ফিরছেন। সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, মানিকগঞ্জ, দোহার, কেরানীগঞ্জসহ সারাদেশ থেকে এ মেলায় আসা সাধুরা খুঁজছেন নিজেকে, নিজের আত্মাকে। যে আত্মায় ভর করে আছে পরমাত্মা। পরমাত্মার দর্শন মানেই তো মনের মানুষের সঙ্গে মহামিলন। এমন মিলন-সাধনায় সাধকেরা তাই সর্বহারা।

কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরায় ‘তৈরি’ হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ফোন

শুধু নাম লিখতে পারে সুমন। কিন্তু কাজ তার ইঞ্জিনিয়ারের। হাতের নিমিষেই তৈরি করছে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলফোন। রাজধানী লাগোয়া কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরায় সুমনরাই তৈরি করছে চীনের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলফোন সেট। গায়ে লাগানো থাকছে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের নাম ও স্টিকার। মোবাইলফোন তৈরির কারিগর মো. সুমন। জিঞ্জিরার বাসস্ট্যান্ড মোবাইলফোন মার্কেটের মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কারিগর। মোবাইলফোনের নামীদামি ব্র্যান্ডের খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় রাজধানীর গুলিস্তান পাতাল মার্কেট ও হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজায়। খরিদ করা এই যন্ত্রাংশ দিয়ে এখানে নিমিষেই তৈরি হচ্ছে অবিকল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল। তারপর এসব মোবাইলফোন চলে যাচ্ছে রাজধানীর কিছু মার্কেটে। বিক্রি হচ্ছে চীনের ফোন হিসেবে। সুমন জানায়, ৭ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। যে কোন মোবাইলফোনের সার্ভিসিং করা তার কাছে কোন ব্যাপার নয়। এমনকি নতুন যন্ত্রাংশ দিয়ে যে কোন কোম্পানির অবিকল মোবাইলফোন তৈরি করাও তার নিত্যনৈমিত্যিক কাজ। প্রথমে এই পেশায় যখন পা রাখে, তখন বিনা বেতনে কাজ করতো। ৭ বছরের ব্যবধানে এখন নামীদামি কারিগর। স্থানীয় ভাষায় এসব কারিগরদের বলা হয় ইঞ্জিনিয়ার। নিমিষেই তৈরি করে ফেলে যে কোন ধরনের মোবাইলফোন সেট। এসব কারিগরের তৈরি করা মোবাইল দেখে চেনার কোন উপায় নেই যে এটা আসল নাকি জিঞ্জিরার তৈরি। সুমন বলেন, আমাদের দোকান মালিক গুলিস্তানের ফোন মার্কেট থেকে মোবাইলের ক্যাসিং, ব্যাটারি, চার্জারসহ নানা পার্টস কিনে আনে। এছাড়া, বাজার থেকে অর্ডার দিয়ে তৈরি করে প্যাকেজিং প্যাকেট ও ওয়ারেন্টি-গ্যারান্টি কার্ড। তারপর বাসায় বসে কারিগর রেখে ফিটিং করা হয়। এছাড়া, যে টুকটাক মালামাল লাগে তা নিজেরাই বানিয়ে ফেলার মতো কারিগরও আমাদের আছে। তিনি আরও জানান, এগুলো সরাসরি বানানো যায় না। কারণ বিভিন্ন সময় বাজারের দোকানগুলোতে অভিযান চলে। আপনি নিতে চাইলে কমপক্ষে ২০০ সেটের অর্ডার দিতে হবে। এর বাইরে কেউ কাজ ধরবে না। তিনি বলেন এই মোবাইলগুলো বানাতে সাধারণত মার্কেটের দামের চেয়ে অর্ধেক খরচ হয়। আর নামীদামি ব্র্যান্ড হলে ব্যবসায়ীরা অনেক লাভ করতে পারে। তবে এটায় অনেক ঝুঁকি থাকে। জিঞ্জিরার কাঠুরিয়া এলাকার গুলশান হলের পাশে আরেকটি মোবাইলফোন মার্কেট। গত সোমবার এই মার্কেটের নিচে খাবার হোটেলে বসে কথা হয় হোটেলের এক কর্মচারী জসীম উদ্দিনের সঙ্গে। মোবাইল তৈরির বিষয়ে কথা ওঠাতেই জানতে চায় আমি কোন ডিলার কিনা? কৌশলে তার কাছে নতুন দোকানদার বলে পরিচয় দিয়ে জানতে চাই বিস্তারিত। তখন জসীম উদ্দিন জানান, এই মার্কেটেও মোবাইল ফোন তৈরি হয়। তবে এখানের চেয়ে বেশি তৈরি হয় মূল জিঞ্জিরাতে। বাসস্ট্যান্ড এলাকা হল মূল জিঞ্জিরা। জসীম জানায়, এই মার্কেটসহ জিঞ্জিরার কয়েকটি মার্কেটে এমন কারিগর আছে, যারা ঢাকা থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ কিনে এনে এখানে ফিটিং করে। তবে সরাসরি মোবাইল তৈরি করে না। কারণ মোবাইলের খুচরা যন্ত্রাংশ তো আর বাংলাদেশে তৈরি হয় না। গত সপ্তাহের শুক্রবার জিঞ্জিরার কাঠুরিয়া এলাকার এক চায়ের দোকানদার মো. নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে জানান, এখানকার কারিগররা যে নকল মোবাইলফোন তৈরি করতে পারে বা করে, সেটা কখনও স্বীকার করবে না। আপনাকে কারো মাধ্যমে যেতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, দুই একটা সেটের জন্য তারা কাজ ধরেন না। অনেকগুলো সেটের অর্ডার দিলে তারা কাজ করে দেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিঞ্জিরার আগানগর, বাঁশপট্টি, কাঠপট্টি, থানাঘাট, ফেরিঘাট, বাসস্ট্যান্ড মার্কেট ও গুলশান সিনেমা হলের সামনে হাবীব কমপ্লেক্সসহ এই এলাকার কিছু বাসাবাড়িতে তৈরি হয় এসব পণ্য। স্যামসাং, লিনোভো, এইচটিসি, লাভা, মাইক্রোম্যাক্স, পাইলট, সিনিজু, রিগ্যাল, আই ফোন, ম্যাক্সিমাস ও জেটিইসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের নকল কারখানা এখানে। পরে গোপনে এই পণ্যগুলো ছড়িয়ে দেয়া হয় মার্কেটে। ঢাকার পাইকারি মোবাইল মার্কেট বলে পরিচিত গুলিস্তানের পাতাল মার্কেট ও হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, একাধিক দোকানে মোবাইলের ক্যাসিং, ব্যাটারি, চার্জারসহ নানা খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রি হচ্ছে। এত পরিমাণ খুচরা যন্ত্রাংশ কারা কেনে জানতে চাইলে গুলিস্তান পাতাল মার্কেটের বিক্রেতা বলেন, এটা সার্ভিসিংয়ের মেকাররা কিনে নিয়ে যায়। মানুষের মোবাইল সেটের এসব যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে এগুলো দিয়ে সেটার সার্ভিসিং করে। এছাড়া, ঢাকার বাইরের কিছু ব্যবসায়ী আমাদের কাছে এই মালামালের অর্ডার দেয়। এখান থেকে কিনে নিয়ে তারা কি করে সেটা আমরা জানি না। আমাদের কাজ শুধু চায়নার এই সামগ্রীগুলো এনে দেয়া। সেটা আমরা করি। শুধু মোবাইলফোন নয়, জিঞ্জিরার আগানগর, বাঁশপট্টি, থানাঘাট, ফেরিঘাট এলাকার বাসাবাড়িতে গোপনে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট কারখানা, যেখানে তৈরি হচ্ছে ফ্লাক্স, ওয়াটার হিটার, শ্যাম্পু, সাবান, আফটার শেভ লোশন, ত্বকে ব্যবহারের ক্রিমসহ বিদেশী জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নকল পণ্য। চায়না ফ্লাক্স তৈরিতে শুধু রিফিল (ফ্লাক্সের ভেতরের কাচের অংশ) বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বাকিগুলো জিঞ্জিরাতেই বানানো হয়। ফ্লাক্সের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বানানোর মতো মেশিন এই পল্লীর অনেকেরই রয়েছে। এখানে কারিগররা সেগুলো তৈরি করে ফিটিং করে। পরে বাজারে ছেড়ে দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে একটা ফ্লাক্সের বডি বানাতে ১০ থেকে ১২ টাকা খরচ পড়ে। আর রিফিল বাইরে থেকে আনতে খরচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা। সবমিলে একটা ফ্লাক্স ১০০ টাকার ভেতরে প্রস্তুত করা যায়। যা বাজারে কমপক্ষে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া সিলভারের কাঁচামাল কিনে এনে এখানে তৈরি হয় পাতিল, কড়াই ও বিভিন্ন ধরনের কিচেন সামগ্রী। জানা যায় রাজধানীঘেঁষা কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকায় ছোট-বড় দুই হাজার কারখানা রয়েছে। দেশজুড়ে একই আদলের শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে ৪০ হাজারেরও বেশি। এমনকি জিঞ্জিরার কারিগরদের কাছে কোন জিনিস ফেলনা থাকছে না। ভাঙা হাঁড়ি, কাচ, ছেঁড়া জুতা, বিনষ্ট করা বোতল-প্যাকেট এসব দিয়েও তৈরি করছে নজরকাড়া ও তাক লাগানো সব জিনিসপত্র।

দোহারের মিজানুর রহমান জনতা ব্যাংকের নয়া মহাব্যবস্থাপক

দোহারের শিমুলিয়া গ্রামের মোঃ মিজানুর রহমান জনতা ব্যাংকের সিইও এন্ড এমডি সচিবালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক থেকে সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে ব্যাংকের নতুন মহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করেছেন। মোঃ মিজানুর রহমান ১৯৮৮ সালে জনতা ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন।

মোঃ মিজানুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিদ্যায় স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি চাকরি জীবনে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন শাখা ও কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতালিস্থ জনতা ব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানী এসআরএল-এর ব্যবস্থাপকসহ উক্ত কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ব্যাংকক, শ্রীলংকা এবং গ্রীসে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন টেনিং, সেমিনার ও দাপ্তরিক কাজে ভ্রমণ করেন।

তিনি ঢাকার দোহার উপজেলার উত্তর শিমুলিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

নবাবগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির ২ নারী সদস্য আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় চালককে অজ্ঞান করে অটোরিকশা চুরির চেষ্টাকালে অজ্ঞান পার্টির দুই নারী সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার দুপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত নারীরা হচ্ছে, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গাপড়া গ্রামের সুলতান মোল্লার মেয়ে নাজমা ও শরীয়তপুরের পালং থানার বগাদি গ্রামের তৈয়ব আলীর মেয়ে হ্যাপি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুই নারীসহ ৪ যাত্রী নিয়ে প্রবেশ করে। এরপর গাড়িচালককে ঘিরে যাত্রীরা কিছু বলতে থাকে। একপর্যায়ে ওই দুই নারী সিএনজিচালককে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে নীরব স্থানে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর গাড়িচালক অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতাল ফটকে এসে পড়ে যান। উপস্থিত জনতা তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। জনতা তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহভাজন ২ নারীকে আটক করলে পুরুষ ২ যাত্রী পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আটককৃতদের পুলিশে সোপর্দ করেন।

ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌরুটঃ অকেজো নবাবগঞ্জেরটিও

নামেই ল্যান্ডিং স্টেশন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় রাজধানী ঢাকার চারদিকে বৃত্তাকার নৌরুটের ১৪টি ল্যান্ডিং স্টেশনের মধ্যে ১০টি অবৈধ দখলে। অন্য চারটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অবৈধ দখলে থাকা ১০টি বিভিন্ন কাজে ভাড়া দিয়ে একটি চক্র প্রতিমাসে হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েক লাখ টাকা। চক্রটি আবার কোনোটিতে রেস্তোরাঁ, শুটিং স্পট ও পিকনিক জোন হিসেবে ভাড়া দিয়ে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে রাজধানীর যানজট কমাতে নৌরুটটি তেমন ভূমিকা রাখতে পারেনি। এ ছাড়া শিন্নীরটেক, বছিলা, আমিনবাজার, নবাবগঞ্জ ল্যান্ডিং স্টেশনও ব্যবহারের অনুপযোগী। রক্ষণাবেক্ষণ না করায় বছিলা ঘাটটি ভেঙে গেছে।

নবাবগঞ্জের নৌরুটের পন্টুনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। আমিনবাজার ঘাটের ভবনটিকে কর্মচারীদের থাকার ঘর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর শিন্নীরটেক ল্যান্ডিং স্টেশন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে চলে যায় মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের দখলে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, নৌপথ ব্যবহার করে যাতে রাজধানীর সর্বত্র সহজেই পণ্য ও যাত্রী পরিবহন করা যায়, সে উদ্দেশে এ প্রকল্পটি বিগত ২০০০ সালের তৎকালীন সরকার হাতে নিয়েছিল। কিন্তু এসব ল্যান্ডিং স্টেশন (নৌঘাট) ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন জোড়ালোভাবে শুরু করা যায়নি। আশুলিয়া সেতুর উচ্চতা কম হওয়ায় পণ্যবাহী কার্গো চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। আর গাবতলী থেকে সদরঘাট পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনের ওয়াটার বাস সার্ভিসের সেবাটি নামে মাত্র চালু রয়েছে। এভাবেই প্রকল্পটি এখন ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম। সরেজমিন নৌঘাট পরিদর্শনে গিয়ে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। আবার পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ বিভাগের (আইএমইডি) সমাপ্ত প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনের খসড়ায় বিভিন্ন অসংগতির কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এ প্রকল্পটি শুরু করে ২০০০ সালে। শেষ হয় ২০১৩ সালের জুন মাসে। শিগগিরই প্রকল্পটির প্রভাব মূল্যায়নের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে আইএমইডি। আইএমইডির সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকার বলেন, প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পর জনগণের কতটা কাজে লাগছে, তা দেখতেই সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করা হলেও তা জনগণের তেমন কাজে লাগছে না। এতে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দোহার উপজেলায় কৈশোর কালীন স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ উদযাপন  

দোহার উপজেলায় কৈশোর কালীন স্বাস্থাসেবা ও প্রচার সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে প্রেস ও এডভোকেসি সভার আয়োজন করে দোহার উপজেলা এম,আই,এস ইউনিট। সকাল ১০ টায় উপজেলা কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরুল করিম ভুইঞা। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলার চেয়ারম্যান আলমগির হোসেন,এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান  মাসুদ পারভেজ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার জসিম উদ্দিন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, ডাক্তার আ.ন.ম. মোস্তফা কামাল মজুমদার।

এসময় বক্তারা বলেন”আগে দোহারে সামাজিক সচেতনতার অভাবে শিশু ও মায়ের মৃতুর হার অনেক বেশী ছিল বর্তমানে এর সংখ্যা অনেক কমেছে,আশা করা যায় অতি দ্রুত আমরা দোহারে সকল জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারবো।

জুম্মার দিন ও নামাজের ফজিলত

0

জুমু’আর ‍দিনের মর্যাদা: হযরত আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনযির (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, জুমু’আর দিন সকল দিনের সরদার। আল্লাহর নিকট সকল ‍দিনের চেয়ে মর্যাদাবান। কোরবানীর দিন ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়ে বেশী মর্যাদাবান।

আবু হুরাইরা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমরা শেষে এসেছি কিন্তু কেয়ামতের দিন সকলের আগে থাকবো। যদিও অন্য সকল জাতিগুলো (ইহুদী ও খৃষ্টান) কে গ্রন্থ দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে, আমাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছে তাদের পরে। অত:পর জেনে রাখো এই (জুমার) দিনটি আল্লাহ আমাদের দান করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে আমাদের সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। আর অন্য লোকেরা এ ব্যাপারে আমাদের পিছনে আছে। ইহুদীরা জুমার পরের দিন (শনিবার) উদযাপন করে আর খৃষ্টানেরা তার পরের দিন (রবিবার) উদযাপন করে। (বর্ণনায়: বুখারী ও মুসলিম)

আসুন আমরা জুম্মার দিনে আগে ভাগে মসজিদে যাই, আমি আপনি যদি একটু আগে ভাগে মসজিদে যাই তবে এর জন্য অনেক ফজিলত রয়েছে। হাদিসে আছে জুম্মার দিনে আগে ভাগে মসজিদে গেলে দান-খয়রাত বা পশু কুরবানী করার সমতুল্য সওয়াব পাওয়া যায়। আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত এক হাদীসে রাসুল (সাঃ) বলেছেন,

 “যে ব্যাক্তি জু’আর দিন ফরজ গোসলের মত গোসল করে প্রথম দিকে মসজিদে হাজির হয়, সে যেন একটি উট কুরবানী করল, দ্বিতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি গরু কুরবানী করল, তৃতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ছাগল কুরবানী করল। অতঃপর চতুর্থ সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে গেল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। আর পঞ্চম সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। অতঃপর ইমাম যখন বেরিয়ে এসে মিম্বরে বসে গেলেন খুৎবার জন্য, তখন ফেরেশতারা লেখা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যায়।” (বুখারীঃ ৮৮১, ইফা ৮৩৭, আধুনিক ৮৩০)

যে ব্যাক্তি আদব রক্ষা করে জুম’আর সালাত আদায় করে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য পুরো এক বছরের রোজা পালন এবং রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার সমান সওয়াব লিখা হয়।

আউস বিন আউস আস সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “জুমা’আর দিন যে ব্যাক্তি গোসল করায় (অর্থাৎ সহবাস করে, ফলে স্ত্রী ফরজ গোসল করে এবং) নিজেও ফরজ গোসল করে, পূর্বাহ্ণে মসজিদে আগমন করে এবং নিজেও প্রথম ভাগে মসজিদে গমন করে, পায়ে হেঁটে মসজিদে যায় (অর্থাৎ কোন কিছুতে আরোহণ করে নয়), ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কোন কিছু নিয়ে খেল তামাশা করে না; সে ব্যাক্তির প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য রয়েছে বছরব্যাপী রোজা পালন ও সারা বছর রাত জেগে ইবাদত করার সমতুল্য সওয়াব।” (মুসনাদে আহমাদঃ ৬৯৫৪, ১৬২১৮)

আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন আমরা যখন মসজিদে যাই তখন সেখানে তিন ধরনের মানুষ দেখতে পাই, যা হুজুর (সা:) এর নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়:

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, জুম’আর সালাতে তিন ধরনের লোক হাজির হয়। (ক) এক ধরনের লোক আছে যারা মসজিদে প্রবেশের পর তামাশা করে, তারা বিনিময়ে তামাশা ছাড়া কিছুই পাবে না। (খ) দ্বিতীয় আরেক ধরনের লোক আছে যারা জুম’আয় হাজির হয় সেখানে দু’আ মুনাজাত করে, ফলে আল্লাহ যাকে চান তাকে কিছু দেন আর যাকে ইচ্ছা দেন না। (গ) তৃতীয় প্রকার লোক হল যারা জুম’আয় হাজির হয়, চুপচাপ থাকে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কারও ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে আগায় না, কাউকে কষ্ট দেয় না, তার দুই জুম’আর মধ্যবর্তী ৭ দিন সহ আরও তিনদিন যোগ করে মোট দশ দিনের গুনাহ খাতা আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেন।” (আবু দাউদঃ ১১১৩)

যে সকল মসলমান জুম’আর নামাজ অত্যন্ত আদবের প্রতি লক্ষ্য রেখে আদায় করে, সেই সকল আদায়কারীদের জন্য দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময় গুনাহের কাফফারা স্বরূপ। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “পাঁচ বেলা সালাত আদায়, এক জুম’আ থেকে পরবর্তী জুম’আ, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজানের মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে যাওয়া সকল (সগীরা) গুনাহের কাফফারা স্বরূপ, এই শর্তে যে, বান্দা কবীরা গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে।” (মুসলিমঃ ২৩৩)

জুমু’আর দিনে কিছু করণীয় কাজ নিচে দেয়া হলো:

১, ফজরের আগে গোসল করা।

২, ফজরের ফরজ নামাজ়ে সূরা সাজদা [সিজদা] ও সূরা দাহর/ইনসান তিলাওয়াত করা।

৩, উত্তম পোষাক পরিধান করা।

৪, সুগন্ধি লাগানো।

৫, প্রথম ওয়াক্তে মসজিদে যাওয়া।

৬, সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা।

৭, মসজিদে গিয়ে কমপক্ষে দুই রাকা’আত সুন্নত আদায় করা।

৮, ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসা।

৯, মনযোগ দিয়ে খুৎবাহ শোনা। খুৎবাহ চলাকালীন সময়ে কোন ধরনের কোন কথা না বলা; এমনকি কাউকে কথা বলতে দেখলে তাকে কথা বলতে বারণ করাও কথা বলার শামিল।

১০, দুই খুৎবাহর মাঝের সময়ে দু’আ করা।

১১, অন্য সময়ে দু’আ করা। কারণ এদিন দু’আ কবুল হয়।

১৩, রসূলের উপর সারাদিন বেশী বেশী দরূদ পাঠানো।

জুমু’আর দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য:

১, এই দিনে আদম (আ:)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে।

২, এই দিনে আল্লাহ্ তা’আলা  আদম (আ:)-কে দুনিয়াতে নামিয়ে দিয়েছেন।

৩, এই দিনে আদম (আ:) মৃত্যুবরণ করেছেন।

৪, এই দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যে সময়ে হারাম ছাড়া যে কোন জিনিস প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা প্রদান করেন।

৫, এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে। তাই আসমান, যমীন ও আল্লাহর সকল নৈকট্যশীল ফেরেশতা জুমু’আর দিনকে ভয় করে।

(ইবনে মাজাহ্, মুসনাদে আহমদ)